Jump to ratings and reviews
Rate this book

এটাই সায়েন্স: বাংলাদেশের অজানা কিছু গবেষণার গল্প

Rate this book

160 pages

Published February 1, 2021

5 people are currently reading
88 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
41 (57%)
4 stars
28 (39%)
3 stars
2 (2%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews
6 reviews5 followers
February 9, 2021
কঠিন করে বৈজ্ঞানিক লেখা সহজ। কিন্তু সহজ করে বিজ্ঞান নিয়ে লেখা দূরহ কাজ। আর এমনভাবে বিজ্ঞান নিয়ে লেখা, যাতে বেখেয়ালি পাঠক বুঝবেই না, সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছে? অতি, অতি কঠিন কাজ। পরিভাষার অভাবে বাংলায় সেটা আরেকটু কঠিন হয়ে যায়। হাসান উজ-জামান শ্যামল সেই কঠিন কাজটা খুব সহজে করেছে।

শ্যামলের লেখা যারা পড়েছেন বা ভিডিও দেখেছেন, সবাই আমার সাথে একমত হবেন, তার লেখা আর কথা, দুটোই প্রাঞ্জল। তাই তার লেখা বই যে সুখপাঠ্য হবে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। তার সাথে বোনাস, বইটা বাংলাদেশের গবেষণা নিয়ে, এবং শুধু বিজ্ঞান নিয়ে না, মানুষের কল্যাণের জন্য বিজ্ঞান নিয়ে।

প্রথমে করোনাভাইরাস দিয়ে শুরু করে “মানুষের বিজ্ঞান” জনস্বাস্থ্য আর পানির সাথে আমাদের পরিচয় করায়। তারপর কলেরা নিয়ে “ওলাইচন্ডির বিপদসংকেত”। আমার ছোটবেলায় যে রোগে বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হতো, সেই রোগের নাম আজকালকার ছেলেমেয়েরা হয়তো জানেই না। হিমালয়ের তাপমাত্রা, বরফ গলা আর বাংলাদেশে নদীর পানির প্রবাহ হিসাব করে দুই-তিন মাস আগেই বলে দেয়া সম্ভব, কোথায় কলেরা আসতে পারে। এই ধাঁধার সমাধান কীভাবে করলেন বিজ্ঞানীরা?

বাংলাদেশে আর্সেনিক সমস্যা নিয়ে পরের অধ্যায়, “পাতালের দানব”। এই দানবকে জাগিয়ে তুলেছি আমরাই, আর তার ফল ইতিহাসের সবচাইতে বড় গণবিষপ্রয়োগ। (the largest mass poisoning of a population in history)

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বাদুড়ের লালা আর মল-মূত্র পরীক্ষা করে চলেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে সময় ও টাকার অপচয় বলে মনে হলেও, বাদুড় থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমনের ব্যাপারে তারা কয়েক বছর থেকে সাবধান করে আসছিলেন, ক্ষমতায় যারা আছেন তারা পাত্তা দেন নি। বাংলাদেশেও এই রকম আপাতদৃষ্টিতে মাথামুন্ডহীন গবেষণা হয়েছে, যার সুফল আমরা পেয়েছি কলেরা প্রতিরোধে। সেই বর্ণনা আছে “শাড়ি বনাম ওলাইচন্ডি” তে। চাঁদপুরের একটা গ্রামে মানুষকে কলসির মুখে পুরানো শাড়ি পেঁচিয়ে পুকুরের পানি ফিল্টার করা শিখিয়ে দিয়ে দেখা গেল কলেরার হার অনেক কমে গিয়েছে।

বিজ্ঞানের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের অভ্যাস অনেক সময় ভাল কাজের বিপক্ষে যায়। গ্রামের বা শহরের নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য মাঠে বা নদীর পাড়ে মলত্যাগ করা সহজ। কিন্তু সেই জন্য পানি দূষিত হয়, অন্য রোগ ছড়ায়। কিন্তু এই অভ্যাস ভাঙ্গা যাবে কীভাবে? সেটা জানতে হলে পড়ূন “শৌচ সমাচার”।

বাঘের দুধ আর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা—টাকা থাকলে প্রথমটা পাওয়া যায়, দ্বিতীয়টা তত সহজ না। এই চমকপ্রদ কথা আছে “রোহিঙ্গাদের পানি”তে। এই অধ্যায় কিসের উপরে, আশাকরি অনুমান করতে পারছেন।

ফেইসবুক “বিজ্ঞানীরা বলেন” ধরনের উপদেশ দিয়ে ভর্তি, কিন্তু কোন বিজ্ঞানী বলেন, কোথায় বলেন, সেই সম্পর্কে কোন তথ্য থাকে না। তার সাথে যদি যোগ হয় জনপ্রিয় টিভি প্রোগ্রাম, ইউটিউব সেলেব্রিটি বা অন্য কোন জনপ্রিয় মানুষ যার কথা লাখ লাখ মানুষ মেনে চলে? তাহলে ভুল কথায় বিশ্বাস করে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। “ট্যাবলয়েড সায়েন্স” অধ্যায়ে গনমাধ্যম আর সোশাল মিডিয়ার প্রভাবে সত্যিকারের বিজ্ঞান চাপা পড়ে যাওয়া নিয়ে বলা হয়েছে, এবং কীভাবে বিজ্ঞানের ভাষা বুঝবেন, কীভাবে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করবেন, কীভাবে ফেইক নিউজ বুঝতে পারবেন, তা বলা হয়েছে।

বইটা শেষ হয়েছে যারা প্রযুক্তি, বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের সাথে জড়িত, তাদেরকে সাধারনের জন্য বোধগম্য ভাষায় নিজের বিষয় নিয়ে লেখার আহ্বান জানিয়ে। পরিশিষ্ঠে আছে বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে কীভাবে বিজ্ঞানের ওপর আরো জানতে পারবেন, তার দিকনির্দেশনা।

বাংলাদেশে যারা বিজ্ঞান নিয়ে লেখেন, তারা কেন লেখেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ। তারা সেলেব্রিটি হওয়ার জন্য লেখেন না, তারা টাকা কামানোর জন্য লেখে্ন না। তারা বিজ্ঞানকে সত্যি ভালোবাসেন, এবং পরের প্রজন্মের কাছে সেই ভালবাসা পৌছে দিতে চা্ন বলে লেখেন। এই বইও সেই তাড়না থেকেই লেখা। *

বাসায় পড়ুয়া স্কুলছাত্রছাত্রী থাকলে তাদের জন্য এই বই আমি নিশ্চিন্তে সুপারিশ করব। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন বয়সের জন্য এই বই? বিজ্ঞান নিয়ে কৌতূহল আছে, এমন সপ্তম-অষ্টম শ্রেণীর বাচ্চারাও এই বই পড়ে আনন্দ পাবে এবং শিখবে, এবং উপরের দিকে বয়স বা জ্ঞানের কোন সীমারেখা নেই। আশাকরি বইটা নতুন পাঠকদের বিজ্ঞান অনুরাগী করে তুলতে সাহায্য করবে।

বই পাওয়া যাবে রকমারি থেকে। https://rokomari.com/book/208592/etai...
Profile Image for Ahmed Aziz.
386 reviews70 followers
December 7, 2021
জনস্বাস্থ্যর মত এরকম জটিল ব্যাপার নিয়ে বাংলায় এত সুন্দরভাবে আর সহজ ভাষায় যে বই লেখা যায় তা এই বই না পড়লে বিশ্বাসই হত না৷ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে সাগরে শ্যাওলার পরিমাণ আর নদীর স্রোতের উপর ভিত্তি করে কলেরা মহামারির পূর্বাভাস, পুরনো শাড়িকে চারভাঁজ করে কলসের মুখে ছাকনি বানিয়ে কলেরা মোকাবিলা, গভীর নলকূপ বসিয়ে পানিতে বিষাক্ত আর্সেনিকের সাথে লড়াই, মানুষকে লজ্জা দিয়ে ১০০% মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত পয়নিষ্কাশন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা, কলেরা জীবানুর বাহক সনাক্তকরণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ল্যাট্রিন আর নলকূপের নিরাপদ দূরত্বের গবেষণা এরকম দেশীয় বড় বড় সমস্যার ইনোভেটিভ এবং খুবই সহজ সব সমাধানের বর্ণনা। দেশীয় বিজ্ঞানীদের চুপিসারে এরকম নিরলস গবেষণার ফলে যে আমরা কত ভয়াবহ সব বিপদ এত ভালো ভাবে মোকাবিলা করছি ভাবতেই অবাক লাগে।
Profile Image for Akash Saha.
156 reviews26 followers
March 20, 2021
এটাই সায়েন্স !
The song of our unsung heros!

এটাই সায়েন্স ! Public health, সোজা বাংলায় যাকে বলে জনস্বাস্থ্য নিয়ে লিখা একটি অসাধারণ বই৷ public health এর নাম শুনলে অনেক শিক্ষিত (?) মানুষও মুখ বেকায়, মেডিকেল সেক্টরে ডাক্তাররা পাবলিক হেলথ বলতে ভাবে ডায়রিয়ায় ডাক্তার। আর মেডিকেলের থার্ড ইয়ারে এই পাবলিক হেলথের ডেফিনেশন জীবন ঝালাপালা করে দেয়।

কিন্তু পাবলিক হেলথ যে এত অভাবনীয় বিষয়, এত বিশাল,এত ইন্টারেস্টিং এবং চ্যালেঞ্জিং - এটা জানতে হলে পড়তে হবে শ্যামল ভাই এর 'এটাই সায়েন্স ! ' বইটি। ভাইয়ের লিখালিখির সাথে পরিচয় ২০২০ সালের মাঝামাঝি, করোনা নিয়ে তখন প্রথম কিছু লিখা দেখি। এত সহজ ভাষায় সুন্দর করে.. বিজ্ঞান বুঝিয়ে দেয়া আসলেই খুবই চমকপ্রদক। তারপর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর হাতে পেলাম বইটি। প্রফের রিটেনের আগে সাগরসম পড়ার মধ্যেই অল্প অল্প করে পড়ে ফেললাম বইটি, এখন শত ব্যস্ততার মাঝেও বসলাম রিভিউ লিখতে।

বইটি আসলে কয়েকটি গল্প,কিন্তু গল্পগুলো কিছু অসাধারণ পরিশ্রমী কিছু পাগল বিজ্ঞানীর, যারা সবসময় থেকে যান পর্দার আড়ালে। কলেরা, আর্সেনিক, স্যানিটারি ল্যাট্রিন সহ কিছু দৈনন্দিন জীবনের কিছু সমস্যা,যেগুলো নিয়ে আমরা কখনো মাথা ঘামাই না, কিন্তু লার্জ স্কেলে দেশের অনেক মানুষের এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হয়। এগুলোর সমাধানে এগিয়ে আসেন কিছু বিজ্ঞানী, যারা সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন। তারা এগিয়ে এসেছেন এমন সব প্রযুক্তি নিয়ে,যেগুলো সবাই বুঝতে পারবে, সহজে ব্যবহার করতে পারবে। পর্দার পিছনের মানুষগুলো কখনো মিডিয়ার লাইমলাইটে আসে না,নিজেদের মতো কাজ করে যান।এটাই সায়েন্স ! এ এই রকম গল্প আর গল্��ের পিছনের একরাশ মেধাবী মুখের কথাই এসেছে বারবার।

পাবলিক হেলথ বলতেই সবার মনে প্রথমেই আসে icddr,b এর কথা। icddr,b এর প্রতি সবসময়ই একটা ফ্যাসিনেশন ছিল, বইটা পড়ে মুগ্ধতা আরো অনেকখানি বেড়ে গেল। বাংলাদেশের হেলথ সেক্টরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এই পাবলিক হেলথ। এটাই সায়েন্স ! বইটি আরেকটু বড় হলে আরও ভালো লাগতো, শেষ করার পর মনে হয়েছে,এত দ্রুত কেন শেষ হল।

বাইন্ডিং ও প্রচ্ছদ অনেক সুন্দর। শ্যামল ভাইকে ধন্যবাদ তার লেখাগুলো বই এর মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য।

Waiting for the next book.
Profile Image for Monif Chowdhury.
162 reviews12 followers
July 12, 2021
বিজ্ঞানভিত্তিক আর্টিকেলগুলো আমার বেশ ভালোই লাগে পড়তে। কাটখোট্টা শব্দ ও পরিসংখ্যানের জটিলতা এড়িয়ে খুব সুন্দর ও সহজভাবে বিজ্ঞানের নানান বিষয় সম্পর্কে জানার ও বোঝার জন্য এদের জুড়ি নেই। মাত্র শেষ করে ওঠা এটাই সায়েন্স বইটিও আমার কাছে সেরকমই সুখপাঠ্য তবে বিশাল আর্টিকেল মনে হয়েছে, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের প্রাণে হওয়া পানিবাহিত রোগ সম্পর্কিত নানান গবেষণার গল্প, এদের সম্ভাবনা ও জটিলতা নিয়ে আলোচনা ও কীভাবে একটি পৃথিবীব্যাপী মহামারী সাধারণ মানুষের মূলধারার বিজ্ঞান আলোচনার বিষয়বস্তু রাতারাতি পাল্টে দিল।
লেখকের আইসিডিডিয়ার,বির অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি শুরু করেছেন তার বইয়ের প্রথম অংশ। ওলাইচন্ডীর বিপদসংকেত অধ্যায়ে তিনি বলেছেন মরণব্যাধি কলেরা সম্পর্কে কীভাবে আগে থেকেই বিপদসংকেত দেয়ার বুদ্ধিটা বের করেছিলেন একদল বিজ্ঞানী। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সমুদ্রে শ্যাওলার সালোকসংশ্লেষণের হারের সাথে আদতে হিমালয়ের পাদদেশে বাতাসের তাপমাত্রার তথ্য কীভাবে মিলিয়ে আমরা কলেরার প্রকোপের ব্যাপারে আগে থেকেই জানতে পারি তা বুঝতে হলে আপনাকে এই অধ্যায়টা অবশ্যই পড়তে হবে।
এরপরের অধ্যায়েই লেখক শুরু করেছেন এক দানবের গল্প যার ঘুম ভাঙানোর দায় বর্তায় আমাদের ওপরেই। মাটির নিচে এক ভয়ানক দানবের বাস জানেন তো? সত্তুরের শতকে পানবাহিত রোগ-শোকের হাত থেকে বাঁচতে পরিষ্কার পানির খোঁজে পাতালের বুকে খোড়া হয়েছিল কোটি কোটি গর্ত, নলকূপে ছেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
দানব অবশ্য দেখছিল একগাদা জানালা মর্ত্যে উঠে আসার জন্য !
পাতালের দানব অধ্যায়ে লেখক গল্প শুনিয়েছেন সেই দানবের গল্প যাকে আমরা এখন আর্সেনিক নামে চিনি। আর্সেনিক কী করে আমাদের মাটির নিচে এসে জমা হল এবং কীভাবেই বা পানির সাথে মিশে গেল সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানি কী করে পরীক্ষা করা হল এবং কী কী পদক্ষেপ গ্রহন করলে আর্সেনিক সমস্যার সমাধান করা যাবে তা চমৎকারভাবে তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা সহকারে ব্যাখা করেছেন লেখক। আবার সমস্যার সমাধান কী করে নতুন সমস্যার জন্ম দিল তাও জানা যাবে এই অধ্যায়ে।
পরের অধ্যায়ে আবারো কলেরার জীবাণুর কথা ফিরে এসেছে তবে কিছুটা রয়ে সয়ে। শাড়ি বনাম ওলাইচণ্ডী অধ্যায়ে লেখক শুরু করেছেন গবেষণার গুরুত্ব দিয়ে। দীর্ঘ ষোলো বছর চায়নায় একগাদা বাদুরের ওপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা আমদের কী উপকার করেছেন সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মূল বিষয় ছিল, বিজ্ঞানীরা যা কিছু নিয়েই গবেষণা করুক না কেন সেটা কোনো না কোনো কাজে লাগেই। যেমন, চায়নার বাদুড়ের ওপর হওয়া গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা আমাদের গত এক দশক আগে থেকেই করোনা ভাইরাস মহামারীর ব্যাপারে সতর্ক করে আসছিলেন, এটা কি আপনারা কেউ জানতেন? আমিও জানতাম না। দেশীয় পটভূমিতে লেখক উল্লেখ করেছেন কলেরার জীবাণু পানিতে কার সাথে থাকে সেটা বের করার জন্য গবেষণার কথা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে, কী দরকার বাপু এ নিয়ে গবেষণা করার? তারচে’ বরং বের করার চেষ্টা কর কীভাবে একে প্রতিরোধ করা যায় সেটা নিয়ে।
কিন্তু এই চমৎকার গবেষণার ফল কিন্তু অনেকবছর পর ঠিকই কাজে লেগেছিল। কলেরা থেকে বাঁচতে খুবই সাধারণ একটা আইডিয়া ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে একটী পয়সাও খরচ হয়নি। সেই আইডিয়াতে কাজে লেগেছিল কলেরা জীবাণূ পুকুরে কাদের মাঝে থাকে সে ব্যাপারে গবেষণা।
লেখকের এই অধ্যায়টা মনে হয়েছে সবচেয়ে যত্ন করে লেখা। গবেষণার গুরুত্ব অংশটুকু পাঠকরা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন। এমনকি কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্পেস রিসার্চ করার প্রয়োজন কী সেটার উত্তরও নিজেই দিতে পারবেন। সামানু শাড়ির ব্যবহার কীভাবে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে ভূমিকা রাখল সে অংশটুকু অনেক রোমাঞ্চকর। বিজ্ঞানীদের সুপারহিরো মনে হয়। এখানে উল্লেখিত কলেরার জীবাণুর হোস্ট খুঁজতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার সম্ভবত এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর অংশ, কারণ এখানে আমরা দেখি সামান্য কিছু জীবাণূ, প্লাঙ্কটন ল্যাবে চাষ করতে গেলে কী পরিমাণ ঝামেলা পোহাতে হয় এবং কী কী জটিলতার মোকাবেলা করতে হয় সেসব নিয়ে আলোচনা আমার মনে হয় সাধারণ পাঠকদের কিছু হলেও বিজ্ঞানের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেবে, এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীদের কোনো গবেষণার কথা সামাজিক মাধ্যমে দেখলে হাহা দেয়ার আগে সামান্য চিন্তা করবে। তবে তার আগে সেসব মানুষের কাছে বইটি পৌছাতে হবে বৈকি !
শৌচ সমাচার হচ্ছে আমার সবচেয়ে প্রিয় অধ্যায়। লেখকের সতর্কীকরণ উপেক্ষা করে অধ্যায়টি আমি পড়েছি দুপুরের খাবারের সময়ই। ঘেন্না লাগেনি, বরং মজা পেয়েছি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থা জানেন? কত শতাংশ মানুষ খোলা মাঠে হাগে তা জানেন? তার বিপরীতে আমাদের দেশে কী তেমন চোখে পড়ে খোলা মাঠে হাগা? পড়ে না। কেন বলুন তো?
দাড়ান দাড়ান, লেখকের মত আমি এত বিনয়ী নই বলেই মলত্যাগের সভ্য জগতের ভাষা পরিহার করার আগে সতর্ক করার জন্য বা ক্ষমা চেয়ে একটা প্যারাগ্রাফ অপচয় করিনি। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনে আমি জানিয়ে রাখি মলত্যাগের পরিবর্তে এই এক হাগা শব্দের কারণেই বাংলাদেশের মানুষ খোলা আকাশের নিচে মনের সুখে প্রাকৃতিক কাজ সারতে ঘেন্না করেন। কীভাবে? তা জানতে বইটি পড়ুন।
সত্য বলতে, এই অধ্যায়টা আমার সবচেয়ে পছন্দের হওয়ার পেছনে কারণ হল ডক্টর কমল করের চমৎকার টেকনিক কাজে লাগানোর উপায়। সারা বাংলাদেশ ঘুরে তিনি মানুষের মনে খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করার প্রতি ঘৃণা জন্মাতে পেরেছিলেন বলেই আজ তার টেকনিক কাজে লাগাচ্ছে বিশ্বের অর্ধশত দেশ।
এই অধ্যায়ে ডক্টর কমল করের গ্রামবাসীর সাথে কখোপকথনের যে অংশ লেখক তুলে ধরেছেন তা বেশ মজার ভঙ্গিতে লেখা হয়েছে। আরেকটি বিষয় যেটি লেখক এই অধ্যায় এবং গত অধ্যায়ে পরিষ্কার করেছেন তা হল, রোগ বালাই রোধে নতুন পদ্ধতি শুধু আবিষ্কার করলেই হয় না, সেই পদ্ধতি একইসাথে সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে সাধারণ মানুষের যদি সামান্য সমস্যাও হয় বা দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ বিপত্তিও তারা অনুভব করে তাহলে তাদের দ্বারা সেটা অনুসরণ করানো কখনোই যাবে না। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টির দিকে আমাদের সম্মানিত বিজ্ঞানীরা নজর দিতে পেরেছেন বলেই কলেরা, টাইফয়েড বা ডায়েরিয়ার মত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
পরবর্তী অধ্যায়ে রোহিঙ্গাদের পানি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই যে আমাদের ছোট্ট দেশের ছোট্ট অংশে লাখ দশেক রোহিঙ্গা শরণার্থী আছেন তাদের কলেরা হয় না কেন? গাদাগাদি পরিবেশ, পানি সমস্যা, এক বাথরুম হাজারজন ব্যবহার করা, সবই তো কলেরা হওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে?
আমাদের বিজ্ঞানীরা অতি চালাকির সাথে আগেই অনুমান করতে পেরেছিলেন এমন কিছু হতে পারে, তাই শুরুতেই ধরে ধরে সবাইকে ���্যাক্সিন দেয়ানো হয়েছিল, যার ফলে কলেরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।
এই যে একটি ক্ষুদ্র জায়গায় অনেক মানুষের বসতি, এই জায়গা বিজ্ঞানীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখানের পানির ওপর গবেষণা করলেন বহুদিন। উদ্দেশ্য, পিট ল্যাট্রিনের ব্যবহার কী ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে কীনা তা বের করা। সেই গবেষণার গল্প পাবেন আপনি এই অধ্যায়ে।
ট্যাবলয়েড বিজ্ঞান অধ্যায়ে এসেছে কী করে খবরের চ্যানেল দেখার ওপর নির্ভর করতে পারে মহামারীতে আপনার মৃত্যুর ঝুঁকি। অবাক হবেন না, তবে মিডিয়া যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বেশ বড় প্রভাব রাখে তা বলাই বাহুল্য। সেই মিডিয়াতেই যদি প্রচার করা হয় করোনা ভাইরাস এতটাও খারাপ কিছু না, হালকা সর্দি জ্বরের মত, তাহলে যারা এই চ্যানেলের প্রচার দেখবে তাদের দৈনন্দিন জীবনে কীরূপ প্রভাব পড়বে?
তারা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন না, মাস্ক পড়বেন না, হাত ধোবেন না। এরফলে তাদের এলাকায় তারা করোনা আরো ছড়িয়ে দেবে। এর বিপরীতে যদি মিডিয়াতে করোনা ভাইরাসকে গুরুত্ব দেয়া হয় তাহলে আপনি এসব করবেন না, আপনার এলাকায় সংক্রামণের হার কমে যাবে অনেকখানি।
লেখক এই অধ্যায়ে গুরুত্ব দিয়েছেন মিডিয়া ও করোনায় মৃত্যুর হারের মাঝে কোনো যোগসূত্র আছে কীনা তা নিয়ে হওয়া গবেষণা। আমাদের দেশেই করোনার শুরুতে অনেকেই প্রচার করেছিলেন করোনা এতটাও ভয়াবহ না। সেটা কতজন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে, তা কী তারা জানেন? অথচ এনাদের মাঝে আছেন অনেক ডাক্তার, ধর্মীয় বক্তা ও সেলেব্রিটি। অথচ তাদের কারো উক্ত বিষয়ে কথা বলার মত যথেষ্ট জ্ঞান, পড়াশোনা বা গবেষণা নেই। বইটি পড়ে পরবর্তীতে পাঠকরা হয়তো যে কারো কথা শোনার আগে ভাববেন।
লেখক তার বইটি শেষ করেছেন বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে সকল গবেষকদের উদ্দেশ্য করে। আপনি অণুজীব, উদ্ভিদ, পানি, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, নৃ, সমাজ ইত্যাদি যা কিছুই নিয়ে গবেষণা করছেন না কেন তা নিয়ে লিখুন। আপনারা লিখলেই দেশের মানুষের বিজ্ঞানচিন্তার উন্নতি ঘটানো সম্ভব। বিজ্ঞানীদের নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করা জাতি থেকে বিজ্ঞানী তৈরী জাতিতে পরিণত করা সম্ভব।
এছাড়াও লেখক ছোট্ট করে আলোচনা করেছেন কীভাবে বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালগুলো কাজ করে এবং সেগুলো কীভাবে লেখা হয় আর কী কী জটিলতা থাকে। তিনি খোঁজ দিয়েছেন কীভাবে গবেষণাপত্র পড়তে হয় তা নিয়ে চমৎকার আর্টিকেল।
পরিশেষে বলতে চাই, বিজ্ঞানের নানাবিধ গবেষণার গল্প নিয়ে লেখা বই এমন চমৎকার করে উপস্থাপন করা যায় তা লেখক বেশ পারদর্শীতার সাথেই দেখিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে এটা এই ধাঁচের প্রথম বই হলেও এটাই শেষ নয় সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাকি গবেষকদের। আর পাঠক হিসেবে আমদের দায়িত্ব বইটি পড়ার, ছড়িয়ে দেয়ার।

(সমাপ্ত)
মনিফ শাহ চৌধুরী
Profile Image for Tariqul Dipu.
46 reviews10 followers
April 27, 2021
আধুনিক বিশ্বসভ্যতায় সমসাময়িক বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় বাঙালিদের অবদান কিরকম বা কতটুকু সেটা নিয়ে জানবার কৌতূহল ছিল অনেকদিন ধরেই। পত্র পত্রিকায় প্রায়ই অনেক দেশি বিজ্ঞানীদের গৌরবময় অর্জনের ব্যাপারে নিউজ আসলেও এ সম্পর্কে একসাথে একত্রে জানার মত কোন কনসাইজ বই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ফেসবুকে এই বইয়ের লেখকের প্রোফাইল টা ফলো করতাম অনেকদিন ধরে। লেখক তার প্রোফাইলে প্রায় সময়ই জনস্বাস্থ্য বা পাবলিক হেলথে আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানীদের অনেক গবেষণাকর্ম বা অর্জন নিয়ে লেখালেখি করতেন। সেইসব পোস্ট পড়ে লেখকের প্রথম বই "এটাই সায়েন্স" পড়ার আগ্রহ জাগে। এবার দেশে ঘুরতে আসার পরে করোনা সংক্রান্ত জটিলতায় আমার রিটার্ন ফ্লাইটটি পিছিয়ে যায়। তাই এই বাড়তি অবসর সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্য বইটা অর্ডার করে ফেলি প্রকাশিত হবার কিছুদিনের মাঝেই।
এই বইয়ে লেখক অন্তত দেশীয় বিজ্ঞানীদের জনস্বাস্থ্য খাতে অনেকগুলো সফল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখা গবেষণাকর্মের বৃত্তান্ত ও তার বাস্তব প্রায়োগিক ব্যাবহার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখক নিজে যেহেতু বেশ অনেকদিন আইসিডিডিআর,বি তে চাকরি ও গবেষণা করেছেন তাই এই বইয়ের বেশিরভাগ গবেষণা উপাখ্যানই তার প্রাক্তন কর্মস্থল সম্পর্কিত। লেখার ধরণ ও বর্ণনা খুবই ঝরঝরে, আকর্ষণীয়, সহজবোধ্য আর প্রাঞ্জল। বইটা পড়ে খুবই ভালো লেগেছে। অন্তত দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে দেশীয় বিজ্ঞানীদের কাজকারবার সম্পর্কে কিছুটা জানা গেল (দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস থাকার পরও এই বইয়ে উল্লেখিত অনেক গবেষণাকর্ম সম্পর্কেই আগে কিছুই জানতাম না), যেইসব গবেষণার ফলাফল এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই অনুসরণ আর ইমপ্লিমেন্ট করা হচ্ছে। লেখককে অভিবাদন। আশা করি সামনে বিজ্ঞানের অন্যান্য ফিল্ডে আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানীদের অবদান নিয়ে আরও বই লেখা হবে। আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানীদের সফল গবেষণা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের আরও বেশী করে জানানো উচিত।

আমি বইটা কিনি রকমারি থেকে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আমার হাতে আসা কপিটায় বইয়ের ১২৯ থেকে ১৪৪ পর্যন্ত পৃষ্ঠাগুলো (সেই জায়গায় ৯৭ থেকে ১১২ পর্যন্ত পৃষ্ঠা গুলো দ্বিতীয়বার ঢুকিয়ে দেয়া ) নেই। এটা অবশ্য বইয়ের প্রকাশক, বাঁধাইকারক আর তাদের কেয়ারলেসনেসের দায়। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কারণে এমনিতেই দেশের সমকালীন লেখকদের বই কেনার/পড়ার সুযোগ হয় না। তার মাঝে বইয়ের পেজ বাঁধাই নিয়ে এইরকম খামখেয়ালিপনা আর দাঁয়সারা মনোভাব খুবই অপ্রত্যাশিত আর হতাশাজনক। আশা করি ভবিষ্যতে প্রকাশক আর রকমারি এ ব্যাপারে আরও সতর্ক হবে।
Profile Image for Rownok Shahariar.
25 reviews5 followers
May 14, 2021
বিজ্ঞানীদের কাজ সম্পর্কে হালকা একটা আঁচ পেয়েছিলাম সামির মুনতাজিদের বই পড়ে, তবে সেটা ছিল বিজ্ঞানীদের কিছু কান্ডকারখানা নিয়ে মজার একটা বই'। তবে এটাই সায়েন্স' বইটা অনেকটা ভিন্নধর্মী। বাংলাতে সম্ভবত প্রথম বই এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও যে গবেষণার কাজ করে, তাও জনস্বাস্থ্যের ওপর, তা সত্যিই অবাকজনক। দেশে এত বিশাল বিশাল কর্মযজ্ঞ, ভয়ংকর পানিবাহিত রোগের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য লড়াই, সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী করার কিছু গল্প🙂


ওলাইচন্ডির বিপদসংকেত দেশের মহামরি কলেরার বিপদসংকেত সম্পর্কে জানাবে। জলবায়ু, বা সমুদ্রের সাথেও রোগজীবাণু ছড়ানোর সম্ভবনা থাকে আর বের করার উপায়গুলো মন কেড়েছে। তারপর আর্সেনিকের বিরুদ্ধে এক যাত্রার কথা, নলকূপ থেকে যার অবস্থান মানুষের দেহে এসেছে। পাতল দানব অধ্যায়টা এইবিষয়ের ওপর।

এরপরের অধ্যায়টা আমার প্রিয়, শাড়ি বনাম ওলাইচন্ডি। কীভাবে সামান্য শাড়ি মানুষের জীবন রক্ষায় কাজে এল, আর মহামারির কারণ খুঁজে বের করা, কৃত্রিম উপায়ে জীবনু বৈজ্ঞানিক উপায় অনুকরণের মাধ্যমে সনাক্ত করনের গল্প।

শৌচ সমাচারটা দেশীয় বিজ্ঞানীদের সফলতার শিকড়ে পৌঁছানোর গল্প। কীভাবে মানুষের মাঝে এতটা সচেতনতা সম্ভব হলো, খালি জায়গায় মলত্যাগ করা থেকে প্রায় শতভাগ টয়লেট ব্যবহারকারীতে নেওয়ার অর্জনের গল্প।


শেষের দুই অধ্যায় বিজ্ঞানকে জানা, বোঝা এবং ভুল শুদ্ধ কী সেটা সম্পর্কে অবগত করাবে। সংবাদ পত্রের হেডলাইন, কিংবা কারও কথা থেকে বিজ্ঞান সম্পর্কে জানা যায় না। বিজ্ঞান জানার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম, পিয়ার রিভিউড পেপার, য���চাইয়ের উপায় সহ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা আছে।


সবশেষে এটাই বলব, কঠিন বিজ্ঞানকে সহজ উপায়ে বোঝানো এবং জনস্বাস্থে দেশীয় বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা সাধারণ মানুষের অগোচরে থেকে যায়। গবেষণার অপ্রতুলতা থাকার পরও দেশীয় বিজ্ঞানীদের কাজ সত্যিই প্রসংশনীয়। গ্রুপে ভিডিয়ো ও লেখার মাধ্যমে লেখকের সাথে পরিচয়, কিছুটা চমক থাকবে তা আশা করছিলাম। 
Profile Image for Partha Sarker.
15 reviews
April 9, 2021
হাসান উজ জামান শ্যামল ভাইয়ের ফেসবুকে লেখালেখির সাথে গত বছর থেকেই পরিচিত। আমার দুই একজন বন্ধুকে উনার লেখা প্রায়ই শেয়ার দিতে দেখতাম। করোনা ভাইরাস সংকট সহ বিভিন্ন বিষয়ে উনার সহজ ভাষায় লেখা দারুন লাগত। এরমাঝেই জানতে পারি উনার একটা ইউটিউব চ্যানেল ও আছে, যেটাতেও কিছু দারুন কনটেন্ট আছে। স্বাভাবিক কারণেই “এটাই সায়েন্স” বইয়ের ঘোষণা শোনার পর বইটা পড়ার জন্যে মুখিয়ে ছিলাম।

বইটার প্রচ্ছদ সুন্দর। ফার্স্ট এডিশন হওয়া সত্ত্বেও কোন বানান ভুল চোখে পড়ল না। আর লেখার ভাষা খুবই প্রাঞ্জল, কখনো একঘেয়ে লাগে নাই। আর এই কারণেই বোধ হয় বইটা পড়তেও খুব একটা সময় লাগে নি।

বইয়ের বিষয়বস্তু ও দারুন। বিজ্ঞানের “গ্ল্যামারাস” ফিল্ডগুলোর বাইরে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের ভেতর আগ্রহ তৈরি করাটা সোজা মনে করি না। কিন্তু লেখক কাজটা ভালো করেই করতে পেরেছেন বলে মনে করি। আর দেশের মানুষকে বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে আরো সচেতন করার ক্ষেত্রে এই ধরনের বই খুবই কাজ আসবে।

একটা ভুল চোখে পড়ল বইয়ে। ফেলুদা সিরিজের বোম্বাইয়ের বোম্বেটে গল্পের রেফারেন্স টানা হইছে বইয়ের “মানুষের বিজ্ঞান” অধ্যায়ে। ফেলুদার সিরিজের গল্পের যে স্মাগলার এর কথা টানা হয়েছে উনি আসলে ফিল্ম প্রডিউসার ছিলেন, ডিরেকটর না। যাকগে এটা তেমন কিছু না।

শেষকথা, দারুন একটা বই। যেকোনো বিজ্ঞান আগ্রহী মানুষের বইটা পড়া উচিত বলে মনে করি।
Profile Image for Abidur Rahman.
4 reviews
April 3, 2021
শ্যামল ভাইয়ের পোস্টগুলো প্রথম পড়ি প্রায় এক বছর আগে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার পোস্টগুলো এত সহজভাবে অনেক জটিল বিষয় আলোচনা করে, দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়। তাই তার বইও যে একইরকম সুখপাঠ্য হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না।

এটাই সায়েন্স । বইটার নামটা শুনতে প্রথমে একটু অদ্ভুত হলেও পড়া শেষে মনে হয় নামটা ঠিকই আছে। সায়েন্স বলতে অনেক কিছুই বোঝানো যায়, গবেষণাগারের বিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিভিন্ন "আশ্চর্য তথ্য"। কিন্তু এই বইটার মূল আলোচনা হচ্ছে বিজ্ঞান কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কাজে লাগানো হয়, তা নিয়ে। তাই এখানে মূল আলোচনার বিষয় জনস্বাস্থ্য, আরো নির্দিষ্ট করে বললে পানি ও এ সংক্রান্ত বিষয়।

বিজ্ঞান আসলে কোনো রহস্যময়, জাদুমন্ত্র জাতীয় কিছু না, বরং আমাদের জীবনের সাথে খুব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর সেই বিজ্ঞানকে আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে হলে বিজ্ঞানীদের শেষমেশ মাঠে নামতে হয়, তাদের গবেষণা বাস্তবজীবনে বাজিয়ে দেখতে। সে দেখাই শেষ না, এই গবেষণার ফলাফল জনসাধারণ যেন তাদের জীবনে আসলেই ব্যবহার করে, সেটা নিশ্চিত করাও আরেকটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এগুলো হয় কীভাবে? সে প্রশ্নের উত্তরই পাওয়া যাবে এই বইতে।

তবে এই বইতে আমার সবচেয়ে পছন্দের অংশটা এর শেষ অংশ। আমাদের অনেকেরই বিজ্ঞানের খবরাখবর পাওয়ার উৎস হলো বিভিন্ন জনপ্রিয় পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। কিন্তু হেডলাইনে চমক আনতে গিয়ে গবেষণার মূল তথ্যটাই যেন হারিয়ে যায় এই নিউজগুলো থেকে। তাহলে আমাদের করণীয় কী, আর বিজ্ঞান সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো উৎস কী? জানতে হলে চোখ রাখতে হবে পরিশিষ্ট অংশে।

শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী যে কারো জন্য এই বইটি পড়ার মতো একটি বই।

পুনশ্চ : এই করোনাকালে বই কিনতে বইমেলায় না গিয়ে বাসায় বসে অনলাইনে অর্ডার করুন।
Profile Image for Hridoy Hoque.
Author 2 books47 followers
November 25, 2021
নাম: এটাই সায়েন্স (বাংলাদেশের অজানা কিছু গবেষণার গল্প)
লেখক: হাসান উজ-জামান শ্যামল
ধরন: বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য
প্রকাশনী: অধ্যয়ন
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০
মলাট মূল্য: ৩০০
ISBN: 978-984-8072-78-3

"বিজ্ঞান অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষাগারে শেষ হয় না। বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে শুরু হয়। এর শেষ কখনো হয় হাটের মাঝে, জনমানুষের ভিড়ে।" – হাসান উজ-জামান শ্যামল

"স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল"– এ কথা আমরা শুনেছি, পড়েছি কিংবা ছোটবেলায় পরীক্ষার খাতায়, বিশেষ করে ভাবসম্প্রসারণে লিখেছিও৷ সেখানে অবশ্য স্ব কিংবা একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যটাকেই প্রাধান্য দিয়ে গুরুত্ব বোঝানো হয়। কথা অসত্য নয়৷ প্রত্যেকে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে মাথা ঘামালে যার যার অবস্থান থেকে সকলের স্বাস্থ্যের একটা বিহিত হয় বটে। কিন্তু, সকলের মধ্যে নিজেরাও তো অন্তর্ভুক্ত! তাছাড়া, মোটের ওপর কোনটা স্বাস্থ্য আর কোনটা অস্বাস্থ্য? অমুক বিষয়টায় স্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর কিছু হবে কি-না? এর বৈজ্ঞানিক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আমার-আপনার মতো সাধারণ মানুষ বা জনসাধারণ কতটুকুই বা বুঝি? তবে কি আমাদের মতো জনসাধারণের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবার মতো কেউ নেই? আছে, আছে। আপনার-আমার নির্বিশেষে মানুষের জন্য বিজ্ঞানের এই দিকটার নাম জনস্বাস্থ্য। এ হলো মানুষের বিজ্ঞান! বইটা থেকেই তুলে ধরি—

"বিজ্ঞানের এই যে একটা দিক, যেমন: করোনাভাইরাসের বিস্তার, গতিপ্রকৃতি, অসুখের সম্ভাবনা নিয়ে এরকম আরো যত ধরনের প্রশ্ন শুনেছেন বা শুনছেন, এই সমস্ত আলোচনার জন্য বিজ্ঞানের একটা বেশ বড়সড় শাখা বরাদ্দ আছে। এর নাম জনস্বাস্থ্য। ইংরেজিতে পাবলিক হেলথ। খালি করোনাভাইরাস নয়, সাধারণভাবে মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যত ধরনের প্রশ্ন আপনার মাথায় আসে, ক্যান্সার থেকে শব্দদূষণ পর্যন্ত সমস্ত এখানকার আলোচনা। এক কথায় বলতে গেলে, জনস্বাস্থ্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে পৃথিবীর মানুষের শরীর-মন সহি সালামতে রাখার চেষ্টা করা।"

একদম উপরে বইয়ের ধরণ কিংবা এতটুকু পড়ে আশাকরি বুঝতেই পারছেন আলোচ্য "এটাই সায়েন্স" বইটি বস্তুত জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি বই। তার সহিত নামের সাবটাইটেল আমাদের জানান দেয় যে, বইতে আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া অজানা কিছু গবেষণার গল্প তথা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণার রোমাঞ্চকর কিছু গল্প স্থান পেয়েছে।

মানুষের মন স্বভাবতই কোনো কিছু করার পেছনে কারণ খুঁজতে চায়৷ ফলে কেউ বই পড়তে বসলে বা চাইলে পড়ার করাণ জানতে চাওয়াই স্বাভাবিক। এই কারণের জবাব যখন বইতেই দেয়া থাকে তখন তার গ্রহণযোগ্যতা হালকা বৃদ্ধি পায়। বইয়ের মোটামুটি শুরুর দিকেই লেখক তার কারণের উত্তর এবং বইতে আলোচ্য বিষয়ের অতি সংক্ষিপ্ত বিবরণ একত্র করেই দিয়েছেন। লেখাটি উদ্ধৃত না করে পারছি না।

"আপনার হাতের এই বইটার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার আমার মধ্যে একটা ছোট্ট বিষয়ে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করা। বিজ্ঞানের মজা পেতে হলে যে আপনাকে আকাশের নক্ষত্র নিয়ে ভাবতে হবে, তা নয়। রহস্য কোয়ান্টাম জগতে আছে বৈকি, কিন্তু মাটি-মানুষের জীবনেও আছে। দেশের পুকুর-নদী খাল বিলের মধ���যে যে অসম্ভব ছোট্ট কিছু জীব প্রত্যেক বছর একদম ঘড়ি ধরে আমাদের আক্রমণ করে, তার গল্পে যথেষ্ট মজা আছে। মাটির মধ্যে লুকানো এক বিষ, যা কিনা চুঁইয়ে চুঁইয়ে আমাদের খাবার পানিতে প্রতিনিয়ত মিশে যায়, তার সাথে আমাদের সংগ্রামের গল্পেও রোমাঞ্চ আছে। মজাটা সবচেয়ে বেশি হয় তখন, যখন দেখা যায় আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা হাজার প্রতিকূলতার মধ্যেও গোয়েন্দার মতো বুদ্ধি খাটিয়ে অসম্ভব জটিল সমস্যার সমাধান বের করে আনছেন। সবই মোটামুটি এখানে আমাদের গল্পগুলোর বিষয়বস্তু।"

বৈঠকি ঢঙে লেখা এ বইতে গল্পগুলোর আগে ও পরে বইতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে৷ বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের নাম "শুরুর কথা"। বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এ অধ্যায়ে লেখক বিজ্ঞান বিষয়টা সম্পর্কে সহজ করে বুঝিয়েছেন৷ টেনেছেন সক্রেটিসের গল্প ও আমাদের শাকিব খানের অভিনয়ে বিখ্যাত ডায়লগ, "এই যে মাথায় ওপর ফ্যান ঘুরছে, এটাই সায়েন্স"। তবে বইটির মূল একটি ভিত্তি হলো দ্বিতীয় অধ্যায়টি। অধ্যায়ের নাম "মানুষের বিজ্ঞান"। এখানেই মূলত লেখক জনস্বাস্থ্য কি ও কেন, এর বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক গুরুত্ব নির্বিশেষে, এ বই লেখার উদ্দেশ্য ইত্যাদি ব্যখ্যা করেছেন৷ তারপর এসেছে গল্প, বিজ্ঞানের গল্প, আমাদের বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের গল্প, আশার গল্প, আশঙ্কার গল্প, গৌরবের গল্প, জীবন বাঁচানোর গল্প। প্রতিটি গল্পের বিষয়, উপাদান আমাদের আপন, চিরচেনা! গল্পের সাথেই যেনো আমরা ছিলাম ল্যাবের ভেতর, যেনো উপস্থিত ছিলাম মাঠপর্যায়ের গবেষণাগুলোতেও! টাইম ট্রাভেলের মতো করে যেনো ইতিহাস ভ্রমণ করে এলাম৷ এ হলো লেখকের বর্ণনার ক্ষমতা। বর্ণনায় বোরিং হবার উপায় নেই। এসব ঐতিহাসিক আখ্যান বাদেও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যামূলক আলোচনায় লেখক তার হাল ধরে ছিলেন। মাঝে মাঝে বিনোদন দেয়ার বিষয়টাও আনন্দদায়ক। এই যেমন—

"এমনিতে বাদুড় মোটামুটি বনের প্রাণী। এক ব্যাটম্যান ছাড়া সচরাচর গুহার মধ্যে গিয়ে বাদুড়দের গুঁতোনোর কারো অত ঠেকা নেই।"

অথবা,

"আপনি যদি নিত্যদিন আপনার খাদ্যনালীকে আগুনের মত তাপ দিতে থাকেন, তাহলে একদিন না একদিন তো সে বিদ্রোহ করে বসতেই পারে।"

বিনোদন বাদ দিলাম৷ বিজ্ঞানের বই। তা, বৈজ্ঞানিক আলোচনায়? এর উত্তর হলো "প্রাঞ্জল"! শব্দটা বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমতালে বিদ্যমান! বৈজ্ঞানিক আলোচনার এই প্রাঞ্জলতা কিংবা সহজবোধ্যতার ক্ষেত্রে দুটো প্যারা উদ্ধৃত করছি।

"পোলিও কিংবা গুটিবসন্তের মতো এমন কিছু ভয়াবহ অসুখ আছে যেগুলোকে আমরা টিকার আঘাতে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। এর কারণ গুটিবসন্তের টিকা একবার যার গায়ে পড়বে, বাকি জীবন তার আর বসন্তের ভয় নেই। এভাবে প্রত্যেকটা মানুষ যদি টিকা নাও পায়, মোটামুটি আশি শতাংশ লোক পেয়ে গেলেই রোগ আর সেরকম ছড়াতে পারবে না। গুটিবসন্ত যাকে ধরতে যাবে, তাকেই দেখবে টিকা দেওয়া। আপনার দেহে যদি বসন্তের টিকা দিয়ে রাখেন, তাহলে বাকি জীবনের জন্য আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাটা প্রস্তুত হয়ে থাকবে। এরপর ভাইরাসটা দেহে ঢোকামাত্র প্রতিরক্ষা কোষগুলোর তৎপরতায় সে একদম ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। এভাবে ছাড়াতে না পেরে এক পর্যায়ে সে নিশ্চিহ্ন হতে বাধ্য হবে। এজন্যই আজকাল আর কেউ গুটি বসন্তের টিকা নেয় না।"

অথবা,

"বিজ্ঞান গবেষণা জিনিসটাকে আপনারা দুই মাত্রাঅলা একটা জীব হিসেবে কল্পনা করে নিতে পারেন। এই মাত্রাদু'টো হল পরিধি আর গভীরতা। পরিধি মানে অনেক অনেক জিনিস নিয়ে গবেষণা করা। যেমন: আপনি যদি পুরো বাংলাদেশের প্রত্যেকটা গাছ নিয়ে একটা গবেষণা করেন, তার পরিধি হবে ব্যাপক। গভীরতা নির্ভর করে আপনি কী ধরনের তদন্ত করছেন তার ওপর। ধরুন আপনি গবেষণা একটা গাছ নিয়েই করলেন, কিন্তু সেই গাছের জন্ম, বয়স, পাতার সংখ্যা, ডালের সংখ্যা, কোষের বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি হাজারটা প্রশ্নের উত্তর আপনি বের করে ফেললেন। এরকম গবেষণার গভীরতা হবে অনেক বেশি, যদিও পরিধি হবে কম– শুধু একটা গাছ।"

এবার প্রাঞ্জলতা ও সহজবোধ্যতার দিকটা নিজেরাই বিবেচনা করুন। বেগ পাওয়ার অবকাশ নেই।

বইটি বিজ্ঞানের বা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বটে। তবে আগাগোড়াই যে শুধু এ দুই বিষয় দিয়েই ভরপুর তেমনটি হয়। সিংহভাগ এরূপ ভরপুর বটে। তবে প্রসঙ্গক্রমে স্থান পেয়েছে সাহিত্য ও ইতিহাস। বইয়ের কৃতজ্ঞতা অংশ, প্রথম অধ্যায়ের সক্রেটিসের গল্প, পরের অধ্যায় সহ ভেতরের কিছু অংশে এসেছে সত্যজিতের চরিত্র ও গল্প, এসেছে প্রাসঙ্গিক ইতিহাস। এই দু' বিষয় যোগে একটা ছোট উদ্ধৃত দেয়া যায়। রাগ করবেন না, শেষ উদ্ধৃতি।

"এমনিতে যদি আপনি কাউকে আর্সেনিক মাপার পরীক্ষাটা করতে দেখেন, আপনি হয়তো ব্যাপারটার মধ্যে একটা জাদুমন্ত্রের গন্ধ পাবেন। এটার সাথে ওটা মিশিয়ে অমুক রঙ বানানো হচ্ছে। রসায়ন শাস্ত্রের শুরুই আসলে এভাবে হয়েছিল। এটা-ওটা মিশিয়ে সোনা কিংবা অমরত্ব লাভের প্রচেষ্টা থেকে। সে 'আলকেমির' সাথে আজকের যুগের আর্সেনিক পরীক্ষাটার ফারাক কোথায়? সত্যজিৎ রায় তাঁর প্রফেসর শঙ্কু সিরিজের এক গল্পে প্রাচীন এক সংস্কৃত পুথি থেকে সোনা তৈরির উপায় উল্লেখ করেছেন- 'তাম্র সিসা কিংবা পিতল জারিত করিয়া ভস্ম করিয়া লইবে মৃত্তিকা তে……"

সত্যজিতের এই গল্পের নাম "শঙ্কুর সুবর্ণ সুযোগ"। ইচ্ছে করেই পুরো প্যারা উদ্ধৃত করলাম না। আসলে এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা বা প্রাসঙ্গিক করে তোলার গুণ প্রশংসনীয়। উপরের উদ্ধৃত অংশে ইতিহাস ও সাহিত্যের একাত্মতা আবার এর সাথে জনস্বাস্থ্য আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা থাকায় তুলে ধরলাম। এদিকে দ্বিতীয় অধ্যায়ে সত্যজিতের "বোম্বাইয়ের বোম্বেটে" গল্পের একাংশ দিয়ে গবেষণাগার ও বাস্তব জীবনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এক অসাধারণ দিক উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানোর উপায় নিঃসন্দেহে সেই সত্যজিৎ গল্প পাঠকের দিক থেকে লেখক ও বিজ্ঞানের অসাধারণ যোগসূত্র।

অনেক বকে ফেলেছি। অনিচ্ছাসত্ত্বেও শেষ দিকটায় চলে যাই।

বইয়ের ভেতরে আমাদের বিজ্ঞানীদের গল্পগুলো যেনো বাস্তব জীবনের গোয়েন্দা গল্প। আর আমাদের বিজ্ঞানীরা এক এক জন গোয়েন্দা! সাধারণ বিষয়কে অসাধারণ ভাবে দেখে তা থেকে অমূল্য বিষয় উদ্ধার করে আনার মুন্সিয়ানা সর্বত্রই বিদ্যমান। একই কথা বড়ো বা কঠিন বৈজ্ঞানিক ব্যাপারকে ঘরের ভেতর নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও সত্য৷ গল্পগুলো থেকে আমি আলাদা করে কিছু বলছি না। কারণ এগুলো না পড়লেই নয়৷ তাছাড়া, লেখক গবেষক হওয়ার সুবাদে নিজেও এসবের কিছুর সাথে জড়িত ছিলেন। আসলে এসব গল্পের বা গবেষণার বিষয় ও ইতিহাস পাঠের এক আশ্চর্য অনুভূতি আছে৷ এই যে পানি, পানিবাহিত রোগ, পানি ব্যবস্থা ও শৌচাগারের মতোন বিষয় বিষয়, যারা আসলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এতো ঘনিষ্ঠ যে এদের নিয়ে আমাদের নিজেদের খুব একটা মাথা ব্যাথা হয় না বা চিন্তায় সচরাচর স্থান পায় না। এসব বিষয়গুলোর সাথে বিজ্ঞানের গবেষণা ঘিরে যে আনন্দের বা মজার এতো বিষয় আছে তা এসব গবেষণার গল্প না পড়লে আলাদা ভাবে নজর কাড়বে না।

গল্প পর্বের শেষের বিষয় গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে লেখক আমাদের গবেষকদের উনাদের নিজের গবেষণা নিয়ে লেখালেখির আহবান জানিয়েছেন। বুঝিয়েছেন জনসাধারণে বিজ্ঞানের অবস্থা বা দশা, বিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের মতো জনসাধারণের জানার উপায় ইত্যাদি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

বইটা আসলে বার্গার কিংবা স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টস এর বিখ্যাত ক্রেবিপ্যাটির মতো। উপযুক্ত জাগায় সুস্বাদু। নামে বার্গার বা বিজ্ঞান। ভেতরে আছে বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, তথ্যপূর্ণ আলোচনা, গবেষণার গল্প-প্রক্রিয়া ও পরিশেষে সমাজের বিজ্ঞানের অবস্থা ও আমাদের বিজ্ঞান বা বিজ্ঞান জানার প্রক্রিয়া বিষয়ক আলোচনা। সব মিলিয়ে শেষমেশ কিন্তু বিজ্ঞানই!

পরিশেষে, আপনার যদি জনস্বাস্থ্য বিষয়ে আগ্রহ থাকে, আগ্রহ থাকে সমাজের আশেপাশের বিজ্ঞান কিংবা আপন বা মানুষের বিজ্ঞান ঘিরে, আগ্রহ থাকে কাঠখোট্টা বৈজ্ঞানিক আলোচনা এড়িয়ে গল্প বা বৈঠক ছলে স্বাস্থ্য বা জনস্বাস্থ্য কিংবা এদেশেই এদের বিজ্ঞানীদের হাতে ঘটা কিছু যুগান্তকারী দুঃসাহসিক গবেষণা নিয়ে জানার, তবে হাসান উজ-জামান শ্যামলের "এটাই সায়েন্স" হতে পারে এ বিষয়ে একটি আদর্শ পাঠ।

লেখকের পরবর্তী সকল বইয়ের জন্য শুভকামনা। সকল বাঙালি বিজ্ঞানপ্রেমির ঘরে উনার বইপত্র শোভা পাক এটাই কামনা।

হৃদয় হক
২৫/১১/২০২১
চট্টগ্রাম
Profile Image for K.M Shariat Ullah.
17 reviews5 followers
June 3, 2021
বইটা খুলতেই চোখে বাধে উৎসর্গ অংশ। তার বাবা-মাকে  বইটা উৎসর্গ করার পদ্ধতিটা ছিলো সবার থেকে আলাদা। বইটার নামের মতই উৎসর্গের অংশটা খুবই ইন্টারেস্টিং ছিলো। ভাবলাম মুখবন্ধ অংশে এরকম ইন্টারেস্টিং কিছু আছে কিনা, কারণ সচরাচর বইয়ের মুখবন্ধ পড়ি না, যদি না কারণ থাকে। পাতা উল্টাতেই আবার তার জীবনে ঘটে যাওয়া ও বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত কিছু ঘটনা টুকে দিলেন মুখবন্ধ অংশে। কাহিনীগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং।

এরপর গেলাম মূল বইয়ে। বইটার একটি পাতাও যে রসে ভরা ছিলো না, তা প্রমাণ করা অসম্ভব। বইয়ের পাতায় পাতায় বিজ্ঞান (বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানের ব্যাপারটা) তুলে ধরেছেন নানা মজার কাহিনী ও সহজবোধ্য ভাষায়।

বইয়ের কিছু ভিন্ন ধর্মী বৈশিষ্ট্য বলি:

১) বই লেখকের নিজের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নিজের পরিচিত অনেক গবেষকের গবেষণার ফলাফল দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত আমরা পপ সায়েন্সের বইতে পাই না। এধরনের বই আমি সর্বশেষ যেটি পড়েছি তা ছিলো স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর 'অব্যক্ত'।

২) বইটি পুরাই বিজ্ঞান থ্রিলার বলা যায়। কারণ যখনই লেখক বলছিলেন সারাদেশে কলেরা ছেয়ে গেছে, ৪২% মানুষের ঘরে টয়লেট নাই, আর্সেনিকে মানুষ মারা যাচ্ছে তখনই সুপারম্যানের মতো উদয় হতেই আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা। পশ্চিমের বিজ্ঞানীরা যেসকল বিষয়ে চিন্তা করতে করতে টাক হয়ে গেছেন, সেখানে আমাদের  দেশের বিজ্ঞানীরা নিত্য দিনের ব্যবহার্য বস্তু থেকেই তার সমাধান বের করে আনলেন। যেমন শাড়িকে ছাকনি হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন ও এটিকে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা, শুধু ল্যাবেই নয়, মানুষের সাথে মাঠ পর্যায়ে কথা বলে কীভাবে তাদেরকে খোলা জায়গায় মল ত্যাগের ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা ইত্যাদি। এগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আমরা কতোই না ভুল জানি, আসলে তাদেরকে আমরা জানিই না।

৩) রসে ভরপুর বই। বইয়ের আনাচে কানাচে ভরে আছে নানা রসে।

৪) বইয়ের ভাষা অত্যন্ত সহজবোধ্য। অনেকে একে জীববিজ্ঞান বিষয়ক একটি বই মনে করতে পারেন। আসলে এটি বাংলাদেশের কয়েকজন সুপার বিজ্ঞানী ও তাদের নানা রোমাঞ্চকর গবেষণা নিয়ে রচিত।

৫) বইয়ের শেষে গবেষণাপত্রের রেফারেন্স। এটা বাংলা ভাষায় বইগুলোতে খুবই কম পাওয়া যায়।

আমার উত্তেজনা:

বইটাতে যতবার চাঁদপুর, মতলব কিংবা আইসিডিডিআর, বি এর নাম উল্লেখ হচ্ছিলো ততবার শরীরটা একটা কাঁপুনি দিয়ে উঠছিলো। কারণ চাঁদপুর আমি থাকি আর মতলব আমি ছিলাম। এখানে যে এতো গবেষণা হচ্ছে ও এতো রোমাঞ্চকর গবেষণা হচ্ছে তা আমার নিজেরই জানা ছিলো না। মতলবে থাকতে কয়েকবারই ICDDR,B তে যাওয়া হয়েছে। তবে তখন ছোটো ছিলাম।

বইয়ে যখন আর্সেনিক ও কলেরার সমস্যা গুলো আলোচনা করা হচ্চিলো ও নানা পরীক্ষার কথা বলা হচ্ছিলো তখন আমার শৈশবের নানা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। কারণ আমি যখন ক্লাস ৩-৪ এ তখন আমার চোখের সামনে এসকল কাজ মাঠপর্যায়ে হতে দেখেছি।

শৌচ সমাচার পড়তে বসে ভাইয়ের যে লেখাটি সবার আগে আসল তা হলো খাবার খাওয়ার সময় এটি পড়বেন না। তখন আমার মুখে একচামচ সেমাই ঢুকিয়েছি। এখন বের করি কীভাবে বলুন তো?

লেখক যে কারণে শৌচ সমাচার পড়ার সময় খাবার খেতে নিষেধ করেছেন সেটি না হলেও হাসতে হাসতে সেমাই আটকে যেতে নিয়েছিলো গলায়। এটা পড়ে যদি আপনার হাসি না পায়, তাহলে আপনি বাংলাই বুঝেন না।

লেখকের অনেকগুলো ভিডিয়ো দেখার সুবাদে কন্ঠ মাথায় ভাসে। তাই যখন বইটা পড়ছিলাম তখন লেখকের  কণ্ঠস্বর মাথায় ভাসছিলো।

অনান্য যেকোনো বই পড়ার সময় ভুল খুজি। তবে এ বইয়ের প্রথম দুই পেইজেই লেখকের সাথে পাঠকের যে একটা মিল বন্ধন তৈরি হয়ে গেছে, তার ফলে আর কেউই এতে ভুল খুজতে যাবে না। সবাইই এঞ্জয় করবে।

আপনাদের সকলেরই একটা মাস্ট রিড বই বলে আমি মনে করি।
Profile Image for Apu Das.
6 reviews9 followers
June 4, 2021
"এটাই সায়েন্স", নামটা শুনলেই মনে পরে অভিনেতা সাকিব খানের কথা। তবে পুরো বইটির নাম শুনলে ধারনা করতে পারবেন বইটি সম্পর্কে। বইটির পুরো নাম হল "এটাই সায়েন্স: বাংলাদেশের অজানা কিছু গবেষণার গল্প"। তারমানে বইটি হচ্ছে বাংলাদেশের অজানা কিছু গবেষণার গল্প নিয়ে। হ্যাঁ, আসলেই তাই।

আসলে গবেষণা বলতে আমরা কি বুঝি? আমরা অধিকাংশই গবেষণা বলতে মনে করি, গবেষণা বুঝি খুব বড় কোন বিষয় নিয়েই করতে হবে। গবেষণা হতে হবে মহাবিশ্ব, ব্ল্যাকহোল কিংবা মাটি খুঁড়ে অতীত আবিস্কার বা ভবিষ্যত জীবন সহজ করার জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কার। যেখানে গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে এপ্রন পরে অণুবীক্ষণযন্ত্রে চোখ দিয়ে কিছু নিয়ে গবেষণা করছেন। কিন্তু লেখক এখানে, এই বইয়ে, যেই বিষয়ে গবেষণার কথা বলেছেন তা হচ্ছে জনস্বাস্থ্য (Public health)। আর তাও বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের কিছু গবেষণা নিয়ে। এখানে তিনি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের কিছু গবেষণা খুবই সহজ, প্রাঞ্জল তবে ইন্টারেস্টিং ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

বইটিতে একে একে কলেরা, আর্সেনিক, স্যানিটারি ল্যাট্রিন সহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু সমস্যা এবং সেসব সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা যেভাবে কাজ করেছেন তা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। তবে এসব গবেষণা সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে গেছে। মিডিয়ার লাইমলাইটে আসে নি, যারা কাজ করেছে। এছাড়া জনস্বাস্থ তথা বিজ্ঞানের প্রসারে গনমাধ্যম এবং সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন।

বইটি তিনি শেষ করেছেন বিজ্ঞান ও গবেষণার সাথে জড়িতদের প্রতি আহ্বান দিয়ে, তাদেরকে জনসাধারনের জন্য বোধগম্য ভাষায় নিজের বিষয় নিয়ে লেখার আহ্বান জানিয়ে। আর পরিশিষ্ঠে আছে বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে কীভাবে বিজ্ঞানের ওপর আরো জানতে পারবেন, তার দিকনির্দেশনা। বইয়ের বাইন্ডিং ও প্রচ্ছদও খুবই সুন্দর।
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
April 11, 2022
প্রথমত বইটার ভাষা খুবই সাবলীল। মনে হবে কোন ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়ছি।
দ্বিতীয়ত , বইটাতে খুব চমৎকার গবেষণার কথা এসেছে, এত চমৎকার কাজ যে আমাদের দেশেই হচ্ছে, এটা জানতে পেরে যুগপৎ অবাক ও গর্বিত হয়েছি।
আর শেষের দিকে লেখক দারুণ কাজ করেছেন, কিভাবে বিজ্ঞানের নামে আমাদের মিডিয়া অপবিজ্ঞান সেটা তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষণাপত্র কিভাবে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের স্বাদ দিতে পারে সেটাও উল্লেখ করেছেন।

সবশেষে বলব, এইরকম বই আরও অনেক দরকার। এদেশের বিশাল জনগোষ্টির মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে একটা তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের ভাব আছে। এর প্রধান কারন হল, বিজ্ঞানের গবেষণাগুলা সম্পর্কে মানুষ সহজে জানছে না। মিডিয়াও চমকপ্রদ না হলে এগুলা ফোকাসে আনছে না। তাই দেশের মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করার দায়িত্বের কিছুটা গবেষকদেরও নিতে হবে। বেশী করে পপ-সায়েন্সের বই লিখতে হবে, বাংলায় যেটা প্রায় অপ্রতুল।
আশা রাখি, হাসান উজ-জামান শ্যামল স্যারের কাছ থেকে আমরা ভবিষ্যতে আরও অনেক লেখা পাব যা পাঠককে যেমন বিজ্ঞানমনস্ক করবে সাথে অন্য গবেষকদেরও লেখক হতে অনুপ্রাণিত করবে।
Profile Image for Hasin Farabi.
9 reviews
July 25, 2024
এটাই সায়েন্স বাংলাদেশের গবেষকদের গবেষণা নিয়ে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী বই । কেন ব্যতিক্রম ? কারণ হলো বইয়ের বিষয় ও এর সহজ উপস্থাপন । বইয়ে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণার কথা লেখক সুন্দর ভাবে সরল ভাষায় পাঠকদের জানাতে ও বোঝাতে চেয়েছেন । বিভিন্ন অজানা কিন্তু যুগান্তকারী গবেষণা ও এসব গবেষণার পেছনে থাকা আসল নায়ক অর্থাৎ গবেষকদের কথা বইয়ে উঠে এসেছে যা সকলের জানা প্রয়োজন বলে মনে করি । বইটি বোঝার জন্য কোন বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন নেই অর্থাৎ সকলেই পড়তে ও পড়ে বুঝতে পারবে বলে মনে করি । বইয়ের পরিশিষ্টতে বিজ্ঞান সম্পর্কে জানার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যা হয়ত অনেকের কাজে লাগবে বলে মনে করি ।

বইটি হার্ডকভার । প্রচ্ছদটিও বেশ দৃষ্টিনন্দনীয় । বইয়ের ভেতর লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক বেশ অনেকগুলো ছবি যুক্ত করা আছে ।

পাঠানুভূতি : এককথায় বলতে গেলে খুবই চমৎকার ও ইন্টারেস্টিং একটা বই । পড়ার সময় আলাদা রকম থ্রিল পেয়েছি । লেখকের বর্ণনাভঙ্গি খুবই ভালো লেগেছে । পড়ার সময় ফ্লো হারায়নি অর্থাৎ এক বসায় পড়ে ফেলা যায় এমন একটা বই । বইটা সুযোগ পেলে সকলকেই পড়ার জন্য সাজেস্ট করব
Profile Image for Shikhor.
8 reviews
Read
October 27, 2022
আপনার এলাকার মানুষ টিভিতে নিউজ দেখলেন, এই নিউজ দেখার কয়েকমাসের ভেতর আপনার এলাকার শত শত মানুষ মারা গেলো। আপনি বুঝলেন ওই খবর দেখার কারণে এলাকার শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

জ্বি, এটাই সায়েন্স।

আবার, যে অভিশাপের কারণে মানুষের ঠোট রক্তশূন্য নীল হয়ে যায়, চোখ কোটরে ফেরত যায়, দেহের প্রতিটা অঙ্গ শুকিয়ে রীতিমতো কুকড়ে ওঠে,যার ফলে একসময় সপ্তাহের ভিতর গ্রামকে গ্রাম মরদেহ দিয়ে ছেয়ে যাচ্ছিলো , সেই ওলাবিবির (কলেরা) পদার্পণের খবর বঙ্গোপসাগরের শ্যাওলার পরিমাণ থেকে বের করা সম্ভব।

জ্বি,এটাই সায়েন্স।

বলা দুটি বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা দেওয়া উৎকৃষ্ট হবে জেনেও আমি এই দুটি বিষয়ের ব্যাখ্যা বই পড়ে জেনে নেবার জন্য ই বাদ রেখে গেলাম।

সাকিব খানের পদ্ধতি অনুসরণ করে লেখক, "এই যে ফ্যান ঘুরছে, এটাই সায়েন্স" - বলতে যাননি। কে জানে এর ফলে হয়তো সাকিব খান এসে লেখকের নামে কপিরাইটের মামলা দিয়ে বসলো। তাইই লেখক নিজের মতো করে তার বই এ পাবলিক হেল্থ বা জনস্বাস্থ্যের বিজ্ঞান সম্পর্কে লিখে গেছেন "এটাই সায়েন্স"।

বই এর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ঠিক প্রতিটা প্রবন্ধ পড়ার ক্ষেত্রেই অনুভূতি ভিন্ন ভিন্ন ছিলো। বই এর শুরু সক্রেটিসের কাহিনী দিয়ে। এরপর ভেতর ওলাইচন্ডীর কাহিনী পড়া শেষে পাতালের দানব সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জনস্বাস্থ্য ব্যাপারে আগ্রহ আরো বাড়তে থাকলো। পাতালের দানব হিসেবে লেখক অভিহিত করেছেন "আর্সেনিক" পদার্থটিকে। এই আর্সেনিকের কারণে একসময় বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় 43 হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছিলো। এই অবস্থা সম্পর্কে WHO'র একজন রিপোর্টারের উক্তি হলো "the largest mass poisioning of a population in history" । ঠিক কিভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর গবেষণা চালিয়েছেন সেইসব গল্প লেখক আমাদেরকে জানিয়েছেন।

"বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য রোল মডেল" - এই উক্তিটা অকপটে যে বিষয় ও অর্জন সম্পর্কে বলা যায় সেই শৌচাগার সম্পর্কিত গবেষণার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা আছে। এক্ষেত্রে ডক্টর কমল করের যে পদ্ধতির মাধ্যমে পুরো দেশজুড়ে খোলা জায়গায় মলত্যাগ আজ শুন্যে নামানো সম্ভব হয়েছে সেটা অবশ্য ই আশ্চর্য রকমের সিম্পল কিন্তু ইউনিক ছিলো। এই পদ্ধতিটা এতো দ্রুত মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে পেরেছিলো যা অবিশ্বাস্য ই বটে!
সার্বিকভাবে বইটা মূলত বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের গবেষণা নিয়ে রচিত যদিও চীনদেশের বিজ্ঞানীদের গবেষণার কথা এখানে ছিলো যার মাধ্যমে তাঁরা অনেক আগে থেকেই করোনা ভাইরাসের মতো কোনোকিছুদ আগমনের জন্য মানুষকে সাবধান করেছিলেন। এই বই পড়ার আগে হয়তো জনস্বাস্থ্য ব্যাপারটাতে যে গবেষণাগুলো হয় সেগুলো ও এতো ইন্টারেস্টিং হতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যাপারটা নিজেই এতো চমৎকার হতে পারে এই সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিলোনা। এখন নিঃসন্দেহে আমি বলতে পারি শৌচাগার, সাধারণ টিউবয়েলের পানি সম্পর্কিত গবেষণাগুলো আমার জন্য অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং এবং এটার গুরুত্ব আর বলতে!
আরেকটা চমৎকার ব্যাপার হলো লেখক বই এ ব্যবহৃত তথ্য গুলো যে সকল গবেষণাপত্র থেকে নেওয়া সবগুলোর তথ্যসোর্স রেখে দিয়েছেন অধ্যায় শেষে যার জন্য তাঁকে অতিরিক্ত ধন্যবাদ। সবিশেষে জনস্বাস্থ্য ব্যাপারে কাজ করার পর্যন্ত একটা ইচ্ছা আমার গড়ে উঠেছে এই বইটি পড়ে যার পিছনে লেখকের লিখনশৈলীর বড়সড় হাত আছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
24 reviews
August 25, 2023
এই বইটার আগে মুক্তিযুদ্ধের একটা বই পড়ছিলাম। তারপর এটা পড়তে পড়তে মনে হল আমাদের দেশের সিংহভাগ অ/অল্প শিক্ষিত মানুষদের নিয়ে কাজ করাও এক ধরনের যুদ্ধ। আর দেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে চাকুরির সুবাধে খানিকটা জানি সে যুদ্ধ কতখানি কঠিন। সেই যুদ্ধের বেশ কিছু গল্প পড়লাম লেখকের সুলেখনিতে। আমাদের বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও সফলতার কথা লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন। আসলেই এই গল্পগুলো আরো বেশি বেশি সামনে আশা দরকার।
Profile Image for Arnab.
5 reviews1 follower
April 2, 2021
This book is based on some research on public health in Bangladesh.Not bad at all.if you are interested in research,this book can be for you.happy reading
Profile Image for Tareq R..
11 reviews2 followers
July 11, 2021
গবেষণা কিভাবে করা হয় তার একটা ধারণা সহজেই পাওয়া যায় এই বই থেকে । তাছাড়া বাংলাদেশের কিছু গবেষণা কিভাবে করা হয়েছিলো, গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল থেকে সমস্যা সমাধান করতে গেলে আবার নতুন কি সমস্যা তৈরি হয়, সেই সমস্যার সমাধান গবেষণা করে কিভাবে পাওয়া যায় , সেরকম কিছু গল্প এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
2 reviews1 follower
March 30, 2021
বিজ্ঞান বলতে আমরা যেখানে মহাবিশ্ব কিংবা প্রাচীন বিশ্বের কিংবা ভবিষ্যতে আবিষ্কার হতে পারে এমন বিষয়ক আকর্ষণীয় সব আলোচনাকে বুঝি, সেখানে বইটি বিজ্ঞানের এক নতুন ধারার সাথে পরিচয় করে দেয়। সেটা হল জনস্বাস্থ্য।

বিজ্ঞানের এই ব্যাপারটাকে সবাই সমাজ বিজ্ঞান বা পানসে কোনো ব্যাপার বলে এড়িয়ে চলেন। কিন্তু লেখকের লেখনিতে, এই ব্যাপারগুলো যে কতটা মজাদার আর আকর্ষণীয়রূপে প্রকাশ পেয়েছে তা পুরো বই জুড়েই অনুভব করা গেছে। বাংলাদেশের গবেষকদের এই সেক্টরে একের পর এক সমস্যার সমাধান করা কোনো পদার্থবিজ্ঞানীর প্রকৃতির সহস্য উন্মোচন করার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

শেষে লেখকের একটা অনুরোধ, যারা বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছে তারা যেন তাদের স্ব স্ব ফিল্ডের গল্পগুলো সবাইকে বলে এবং তাতে অবশ্যই একটা পজিটিভ ইফেক্ট দেখা যাবে আমাদের দেশের বিজ্ঞান চর্চায়।
Displaying 1 - 19 of 19 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.