সময় নষ্ট! হুদাই.... ভালো তো লাগে নাই, উল্টা মেজাজ খারাপ হচ্ছে। বাড়তি নেকু নেকু কথাবার্তা! লেখকের সব বইতেই কেনো, একটা ছেলেকে নিয়ে দুইটা মেয়ের মধ্যে নীরব মারামারি চলে? এ জিনিসটা বুঝতে পারতেছি না।আজব! আর সব বইয়ের টপিক সেই ঘুরেফিরে একই। আর কিছু নাই?
নিজের অনুভূতিকে সাইডে রেখে যদি শুধুমাত্র উপন্যাসের ব্যাপারে বলি তবে শেষ চিঠি নিঃসন্দেহে একটি শিক্ষনীয় উপন্যাস। যার মূল ম্যাসেজ তো এটাই- পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা করো।
কিন্তু উপন্যাসটি শেষ হতে হতে আমাদেরকে আরো একটি ম্যাসেজ দিয়ে যায়, আর তা হচ্ছে- যা আমাদের তা কখনোই আমাদের ছেড়ে যাবে না, আমরা তা থেকে যতই দূরে যাবার চেষ্টা করি না কেন। আর যা আমাদের না তা কখনোই আমরা পাবো না, আমরা তা পাবার যতই আশা করি না কেন।
★কাহিনি সংক্ষেপঃ মিজান সাহেবের বাড়ির প্রত্যেকেই দ্বীনদার সুধু তার বড় মেয়ে নওশিন এর ব্যতিক্রম। সে একজন আধুনিকা তরুনী। সে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তার ধারণা ইসলামে নারীদের পর্দার বিধান, মাহরাম ছাড়া বাহিরে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা এসব স্বাধীনতাবিরোধী নিয়ম। তার মা বাবা তাকে প্রায়ই বোঝায় এসব বিধানের যথার্থতা ও উদ্দেশ্য যা নারীকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি সম্মানিতও করে। কিন্তু সে তার গতানুগতিক চিন্তাধারা পোষনের জেদ বহাল রাখে। এরমধ্যে সে একটি বাজে ছেলের সাথে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে যায় । যা তাকে ইসলাম থেকে আরো কয়েক ক্রোশ দূরে নিয়ে যায়। নওশিনের বান্ধবীরা তাকে অনেক সাবধান করার পরও সে সোহেল নামক বাজে ছেলেটিকে পরিত্যাগ করতে রাজি হননি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ওই বাজে ছেলেটির আসল রুপ তার সামনে খোলাসা হয়ে যায়। এবং বাবা মায়ের পছন্দের ছেলে আহসান,যে কিনা একজন আলেম হওয়ার পাশাপাশি একজন বিখ্যাত লেখক,তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আহসান তার অতীত সম্পর্কে সবকিছু জানতো,এবং সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলো যে নওশিনকে সে এই কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো কিন্তু বিপত্তি ঘটলো বিয়ের ঠিক একুশ দিন পর। নওশিন রাগ করে একা একা বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম করে কোথায় যেনো হারিয়ে যায়? সবাইই ধরে নিয়েছে ও আর কখনো ফিরবেনা। এদিকে আহসানের সাথে সায়মা নামক আরেক মেয়ের বিবাহ ঠিক করা হয়। নওশিনের হারিয়ে যাওয়ার রহস্যা কি ছিলো?সে কি সত্যিই চলে গেছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে?
★পাঠ্যপ্রতিক্রিয়াঃ এটি লেখকের প্রকাশিত ২য় উপন্যাস। উপন্যাসটিতে লেখক বর্তমান প্রেক্ষাপটের বাস্তবিক চিত্র তুলে ধরেছেন। নারীদের পর্দা করার যথার্থতা এবং না করার কুফল খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের নওশিন চরিত্রটি আদতে একজন ভালো মানুষ হলেও পাশ্চাত্য পরিবেশ ও হারাম সম্পর্কের সংস্পর্শ তাকে ইসলাম নামক শান্তি থেকে বিমুখ করে চলছিলো। আহসান চরিত্রটি ভালো লেগেছে। ধৈর্যশীল,উদার মনের একজন মানুষ। আহসান ও তার ছোট বোনের খুনশুটিপূর্ন মুহুর্তগুলো ভালো লেগেছে।
লেখক গল্পটায় বেশকিছু টুইস্ট দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু সে টুইস্টগুলো উপভোগ করতে পারিনি কারণ পরবর্তীতে কি হবে না হবে সেটা প্রেডিক্ট করা যাচ্ছিলো। তবে লেখক এই ছোট্ট উপন্যাসটিতে বেশ কিছু শিক্ষনীয় মেসেজ দিয়ে গেছেন। (যেহেতু পিডিএফ পড়েছি তাই ছবি সংগ্রহ করা)