বিরূপ পরিবেশে থাকতে থাকতে একটা সময় মানুষ সেই পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যায়। একজন নেককার মানুষও কোনো কারণে কিছুদিন গুনাহের পরিবেশে থাকলে ধীরে ধীরে এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। পর্দানশীন মানুষ বেপর্দা পরিবেশে অবস্থান করলে তার পর্দা-অনুভূতি লোপ পেতে থাকে। একসময় সব স্বাভাবিক মনে হয়। ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশেও যখন একজন মানুষ সময় কাটাতে থাকে, ধীরে ধীরে অশ্লীলতা, মিউজিক ইত্যাদিতে সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাজা অনুভূতিও দ্রুতই মরে যায়।স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সাথে এতদিনের সম্পর্কের পর এখন নতুন করে আমাদের ভাবতে হবে—স্মার্টফোন কি বাস্তবেই আমার জন্য জরুরি? কতটা জরুরি? নিজের সাথে বোঝাপড়া করতে হবে—আমার সন্তানের হাতে কেন আমি এই ভয়াবহ ডিভাইস তুলে দিচ্ছি, যেখানে কিশোর-তরুণদের বড় অংশ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত? একান্ত যারা অনলাইন-কেন্দ্রিক পেশায় জড়িত, তারা ছাড়া বাকিরা নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দুনিয়া-আখিরাত নিরাপদ রাখতে চাইলে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চিন্তা করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। কারণ, এই আত্মঘাতী অভ্যাস আমাদের ঈমান ও চরিত্রকে শেষ করে ফেলছে। রক্ষণশীলতা আর পবিত্রতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই বইতে বিভিন্ন সময় আমাদের চিন্তার দুয়ারে আঘাত করা সমস্যাগুলোকে বিন্যস্ত করে তুলে ধরা হয়েছে কেবল। এতে এমন কিছু হয়তো পাওয়া নাও যেতে পারে, যা আমরা মোটেই জানি না। তবে একসাথে পুরো আলোচনাটা হয়তো আমাদের কিছুটা হলেও ভাবাবে।
স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই।এই নিয়ে ৩বার পাঠ করলাম।সহজ ভাষায় অনেক সুন্দরভাবে বইটি লেখা হয়েছে। আসক্তি থেকে মুক্তির অনেক বই আছে পাওয়া যায় বাজারে কিন্ত এই বইটি একটু ভিন্ন ধাঁচের।আপনি বই পড়লে আশা করি ইনশাআল্লাহ অনেক বেশি উপকার পাবেন।
শেষের পৃষ্টার একটা কথা মনে খুবই দাগ কেটেছে:- হযরত মাওলানা মুশতাকুন্নবী সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর এক বয়ানে বলেছেন,(যার সারাংশ,) আমার কেন যেন মনে হয়,হাশরের ময়দানে আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষকে শুধু এ জন্য ক্ষমা করে দেবেন যে,এই মানুষটা স্মার্টফোন ব্যবহার না করে বাটনফোন (ফিচার ফোন) ব্যবহার করত।
গত বছর প্রকাশ পাওয়া বইগুলোর মধ্যে অন্যতম আন্ডাররেটেড বই। এইটার যতটা প্রচার হওয়া দরকার ছিল, ততটা হয়নি। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বই, ছোট, এক বসায় শেষ করার মতো। ফোনের আসক্তি কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এক বসায় পড়ে ফেলার মতো ছোট্ট একটা বই। খুব বেশি একটা তথ্যসমৃদ্ধ না হলেও স্মার্টফোন আসক্তির ভয়াবহ দিকগুলো ছোট পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু,
দিনশেষে যুদ্ধটা নিজের সাথেই। ইচ্ছাশক্তি, চেষ্টা আর দুআ করে যাওয়াটা রুটিন করে না চালিয়ে গেলে পা পিছলাতে বাধ্য।
বইয়ের শেষ পৃষ্ঠার যে লেখাটা বইটা কিনতে উদ্বুদ্ধ করেছিল সেটা দিয়ে শেষ করছি:
হযরত মাওলানা মুশতাকুন্নবী সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর এক বয়ানে বলেছেন (সারাংশ): 'আমার কেন যেন মনে হয়, হাশরের ময়দানে আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষকে শুধু এজন্য ক্ষমা করে দেবেন যে, এই মানুষটা স্মার্টফোন ব্যবহার না করে বাটন ফোন ব্যবহার করতো।'
কল্পিত কারাবাস, মানে স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আদলে চার হাত পা বন্দি করে বসে থাকা। অনলাইনের জগৎটাই যেন হয়ে গেছে এখন বাস্তব জগৎ,আর বাস্তব জগৎ মুখ থুবড়ে পড়েছে হুমকির মুখে! . বইটিতে লেখক তার প্রথমদিককার ফ্লাপে তুলে ধরেছেন স্মার্টফোন নিয়ে আমাদের সমাজের রেগুলার অনেক বাস্তব চিত্র। যেগুলোকে এখন কোন কল্পকাহিনী বললে রীতিমতো ভুল হবে। তারপর তিনি উল্লেখ করেছেন এর ক্ষতি সম্পর্কে। . নেক সুরতে শয়তান কিভাবে আমাদের এই ইন্টারনেট, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ধোকা দিয়ে যাচ্ছে সেগুলোর উপরও রয়েছে লেখকের বিশদ আলোচনা। . ধাপে ধাপে তিনি এই ক্ষতির মুখ থেকে নিষ্পত্তির পথও বাতলে দিয়েছেন। বলেছেন, ইন্টারনেটের বাইরেও আপনার একটি জগৎ আছে। খুব দরকার না হলে স্মার্টফোন ছাড়াও বাচা যায়, মুক্ত ভাবে শ্বাস নেয়া যায়। . ফেইসবুকিং,লাগাম ছাড়া ইউটিউব কিভাবে আপনার চিন্তাধারাকে অকোজো আর মনকে বিক্ষিপ্ত করছে তার খুব চমৎকার বর্ণনা আছে বইটিতে। .
সর্বোপরি বইটি খুবই সমসাময়িক যুগোপযোগী একটি বই। বিশেষ করে এই লকডাউনের সময়ে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি স্ক্রিন অ্যাডিকশানে পরে গেছি। সব কাজ বন্ধ করে এখন শুধু এই স্মার্টফোন কেন্দ্রিক হয়ে গেছি। সেই ক্ষেত্রে বলব এই বইটি অবশ্য পাঠ্য। পরিসর ছোট কিন্তু আপনার আমার জন্য খুব খুব দরকারি।
Smartphone & Internet connection, that's almost everything we just need to lead our daily life. We spent almost half of our days using these two things. But we don't sit to think for a moment if we need them or not. Sometimes these are necessary but most of the times these are just our idle time.
We have to be careful while using these two necessary evil. Else we'll be out of their control.
মোবাইল ফোনে,ইন্টারনেটের আসক্তি আমাদের প্রোডাক্টিভিটিকে একদম নষ্ট করে দিচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো আমরা যে ইন্টারনেটের কারণে অনেক অমূল্য সময় নষ্ট করছি তার জন্য কোনো আফসোসও আমাদের মধ্যে কাজ করে না।বইটি আমাদের মধ্যে সে আফসোস সৃষ্টি করবে।