ফ্ল্যাপে লেখা- ছেলেবুড়ো সবাই যখন স্কুল মাঠে জলকেলি করছেন তখন সেখানে একজন উপস্থিত নেই। তিনি হলেন হেড স্যার সাবের আহমেদ। তিনি নরেন বাবুকে খুঁজতে বের হয়েছেন। এ অতি আনন্দের মুহুর্তে তিনি স্কুলে আসেননি। এটা খুবই অস্বাভাবিক। তাঁর হাতেই আবুল হাশেম গড়ে উঠেছে। খুঁজতে খুঁজতে তিনি নরেন বাবুকে আবিষ্কার করলেন গ্রামের বিখ্যাত 'ঝিল্লা' পুকুরে। অদ্ভুত ব্যাপার হল তিনি পুকুরের মাঝে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর টাক মাথায় চাঁদের আলো চিকচিক করছে। সাবের সাহেব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, নরেন বাবু, আপনি এইখানে কি? জানেন না আবুল হাশেম বোর্ডে পঞ্চম হয়েছে? সবাইতো আপনাকে খুঁজছে।
নরেন বাবু কেমন ঘোরের মধ্যে উত্তর দিলেন। 'স্যার, চাঁদের আলো খাই। পানিতে দাঁড়াইয়া এ আলো খাইতে বড়ই সুস্বাদু।' তারপর গানে টান দিলেন।
'লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে না গো না, চাঁদ নয়, আমার বন্ধু এসেছে।'
হেড মাস্টার সাহেব গভীর বিস্ময়ে অংকের পণ্ডিতের দিকে তাকিয়ে রইলেন। সে রাতেই নরেন স্যারের মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেলো।
উপন্যাসিকাটি একটি বড়সড় ধাঁধাঁর মতো। প্রতি পৃষ্ঠায়ই চমক। একটানে পড়ে ফেলা দুষ্কর নয়। কলেবরের কল্যানেও সেটা সত্যি।
কিন্তু, বাদল সৈয়দ খুব মানবিক একটি আইডিয়াকে মনে হল পৃথিবীর নানা কোনে নিয়ে অনেক বেশি পেঁচিয়ে ফেলেছেন। এতোটাই যে, শেষের যুক্তিযুক্ত পে ব্যাকও স্বস্তি দেয় না। আর অধ্যায়গুলো বা পরিচ্ছেদগুলো খুব ছোট এবং সেটুকুর মধ্যে প্রায় পর্বতসম তথ্য ঠেসে ঢোকানোর ফলে কিছুই তলিয়ে বোঝার সময় হয় না। অনেকটা সংবাদপত্রের শিরোনাম পড়লে ভাসা ভাসা যেই ধারনা হয়, সেরকম একটা ধারনায় ঢুকতে না ঢুকতেই আরেকটি এসে হাজির হয়ে গোটা কাহিনীই শেষ হয়ে যায়।
শুরুটা আমাদের পরিচিত হুমায়ূন আহমেদের তৈরী জগতে নিয়ে যায়। কারন, গ্রামের মেধাবী অথচ অপ্রকৃতস্থ অংকের শিক্ষক, যিনি জোছনা খান, রাতবিরেতে বাড়িতে বাড়িতে দরজা ধাক্কিয়ে জোছনা দর্শনের দাওয়াত দেন, এরকম চরিত্র কেউ তৈরি করলেই হুমায়ূনকে ‘হোমেজ’ দেয়া হয়ে যায়। আর এতে দোষের কিছু নেই। বাংলাদেশের শক্তিশালী ও জনপ্রিয় এই লেখকের প্রভাব সচেতনভাবে না কাটিয়েও দারুন কিছু উপহার দেয়া যায়, এটা বিশ্বাস করি। আবার, এটাও বুঝি যে, সাবধান না হলে নিজস্বতা হারিয়ে হুমায়ূনের কপি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায় না।
শুরু এবং শেষ চমৎকার, কিন্তু, দুটোর সংযোগ পথটি অতো চমৎকার লাগলো না। বাদল সৈয়দের ‘জলের উৎস’ বেশ প্রমিসিং ছিল, নিখুঁত না হলেও। এই বইয়েও সেই বইয়ের মতো তাঁর লেখনীতে এক ধরনের সততা ও চেষ্টা আছে, যা ভালো লাগে।
খুব মিশ্র অনুভূতি নিয়ে শেষ করলাম। আশা করব, এরপর তাঁর আখ্যানের পরিধি তিনি বাড়িয়ে তুলবেন, এবং পাঠককে এরকম ছেঁড়া ছেঁডা় ঘটনা জোড়া লাগাতে বাধ্য করবেন না। কারন, এই অস্ত্রটি এক্ষেত্রে ঠিক কাজ করে নি। আমি মনে মনে চাচ্ছিলাম, তিনি মূল চরিত্র ও প্লটের আরো গভীরে আমাকে নিয়ে যাবেন, তা হয় নি। আশা করি তাঁর পরের উপন্যাসে আমার এই আক্ষেপ মিটবে।
বাদল সৈয়দের প্রত্যেকটা বই আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়ি। 'আমার মুক্তি ওই আকাশে' এর শুরুতে সেই আগ্রহ আক্ষরিক অর্থেই আকাশ স্পর্শ করে গিয়েছিল। তবে বরাবরের মতো তার উপন্যাস নিয়ে সেই একই অভিযোগ: কিছুদূর এগোনোর পর একেকটা ছোট ছোট অধ্যায় শুধুমাত্র কাহিনি সংক্ষেপের মতো হয়ে চোখের সামনে আসতে থাকে। সেই গল্পগুলো আরও বিস্তৃতভাবে জানতে চাওয়ার আক্ষেপ ভোলা কঠিন হয়ে যায়।
লেখক তার সহজাত ভঙ্গিতে এই গল্পটিকে বাংলাদেশের ছোট্ট একটা গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ভবন, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হয়ে নাসা পর্যন্ত ঘুরিয়ে নিয়ে এসেছেন। সিডনি শেলডনের বইয়ের মতো ক্ষমতাশালী চরিত্র আর আন্তর্জাতিক চক্রান্তের উপস্থিতি লেখকের বিভিন্ন বইয়ে আগেও দেখেছি। এই কাজটা তিনি বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিতে করেন। ফ্ল্যাপ পড়ে বোঝার উপায় নেই, তবে শুরু আর শেষের সংযোগ ঘটাতে যে কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তাকে টানটান থ্রিলার বলা চলে অনায়াসে। অথচ শেষপর্যন্ত, আমার মুক্তি ওই আকাশে ভীষণ মানবিক এক উপাখ্যান; মানুষের আবেগ আর প্রতিদানের গল্প।
বাদল সৈয়দের সিগনেচার উক্তির সাথে মিলিয়ে বলতে বাধ্য হতে হয়, 'আসুন মায়া ছড়াই।'
অসাধারণ ! শুরুটা খুব সরল, নির্মল, প্রশান্ত। পরিচিত গ্রাম বাংলার সরল মায়াভরা রূপ। "A real hero never gives up- so Fight Tight" -- মানুষ চাইলে নিজের ভেতরের সম্ভাবনার আগুন জ্বালিয়ে, অপমান কে কচ্ছপের কামড়ের মতো জিদে পরিণত করে, কিভাবে নিজের লক্ষ্যের শিখর এ পৌঁছাতে পারে এবং তার বড় ধরনের মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা বাদল সৈয়দ স্যার এর সব লেখাতেই উল্লেখ্যযোগ্য। "তোমাকে উড়তে হবে আরো অনেক ওপরে, যেখানে চাঁদের কণা ইচ্ছে করলেই হাতের মুঠোয় নিয়ে খেলা যায়! " গল্পঃ এগুতে থাকে ..... বইয়ের almost 50% শেষ হলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়, নতুন মোড় ! গুপ্তসংঘ , Conspiracy, secret agents - What not !! Mind Blasting !! Awesome ! Holy Cow! বরাবরের মতো মারাত্মক মারাত্মক সব ইনফরমেটিভ তথ্য উপাত্তে ভর দিয়ে কাহিনী এগুতে থাকে! Book-tags কম পড়ে যায়! শেষটা এত্ত এত্ত অন্যরকম ! পুরো গল্পটা এক বসাতে শেষ না করে উঠা যায় না! শুরুর সাথে শেষটা এত creamy mellow হয়ে যাবে যে শেষ করে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকতে হয়, ভাবতে হয় ! ভারী লাগে ! এখানেই পাঠকের পূর্ণতা! শেষ করবো চমৎকার ১টা quote দিয়ে (বই থেকেই নেওয়া):: "We will act alone, we were caught alone and everyone of us have to die alone !"
খাপছাড়া ইনফরমেশনে ভর্তি ৯৪ পৃষ্ঠায় কোন গভীরতা ছিলনা। ছিলনা পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা। ছিল শুধু একটির পর একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা ও পৃথিবীর সমস্ত বিগ ফোর্সের বাহার যা লেখকের সাহিত্য রচনার অক্ষমতায় আরও দুর্বলতা পেয়েছে মাত্র।