সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
আজ থেকে তিন বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল সৈকত মুখোপাধ্যায়ের 'ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ'। সোশ্যাল মিডিয়া আলোড়িত হয়েছিল সেই বইয়ের গল্পগুলোতে অন্ধকারের নানা রঙ, রূপ ও ঘনত্বের প্রদর্শনী দেখে। কিন্তু 'ডার্ক ফিকশন' বা 'আঁধারের আখ্যান' বাংলা সাহিত্যে আছে অনেকদিন ধরে। সমরেশ বসু'র 'বিবর' থেকে শুরু করে তিলোত্তমা মজুমদারের 'প্রহাণ' হয়ে তেমন সাহিত্য যুগে-যুগে আমাদের আলোড়িত ও স্তম্ভিত করেছে, বিবমিষার উদ্রেক করেছে, অসহায় ক্রোধে দগ্ধ করেছে... তারপর আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে অসাড় করে দিয়েছে। ঠিক কী দিয়ে সাহিত্যের আর পাঁচটা ঘরানা থেকে আলাদা হয়ে যায় 'ডার্ক ফিকশন'? প্রথমত, এতে অলৌকিক থাকে না। পরাবাস্তবতার ছায়াপাত ঘটলে তা ডার্ক ফ্যান্টাসি হয়ে ওঠে ঠিকই। তবু তা আর পাঁচটা অতিপ্রাকৃত ভয়ের গল্পের থেকে একেবারেই আলাদা হয়। দ্বিতীয়ত, এতে আতঙ্কের উৎস হল মানুষ। এ-লেখারা মানুষী ষড়রিপুর আর দুর্বলতার কথা বলে। এখানে একান্ত মানুষী ক্ষুধা আর শোষণের ফলে চরিত্রদের শরীর থেকে জীর্ণ বসনের মতো খসে পড়ে মনুষ্যত্ব। তৃতীয়ত, সত্যের সঙ্গে সামান্য সম্পর্ক রেখেও এরা আদতে কাল্পনিক। কিন্তু সেই ভাবনা আপনাকে স্বস্তি দেবে না। বরং প্রতিনিয়ত এরা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে, কী ঘটতে পারে আপনার প্রিয়জনেদের সঙ্গে, বা আপনার সঙ্গে! সায়ন্তনী এই ডার্ক ফিকশন আগেও লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যে নিজের শক্তিশালী লেখনী ও মননের চিহ্ন তিনি রেখেছিলেন যে 'নন্দিনী', 'ছায়াগ্রহ' বা 'জিঙ্গল বেল' দিয়ে, সেগুলোও অন্ধকারেরই আখ্যান। সেই ধারাতেই সায়ন্তনী আবার আমাদের সামনে দিয়ে প্রবাহিত করলেন এক ঘোর তমসাচ্ছন্ন প্রবাহ— যাতে ডুবে যায় পঞ্চমীর চাঁদ... চিরতরে। সেই প্রবাহের উৎস আমাদের মন, চেতনা, বোধি। একটি অতি-সংক্ষিপ্ত 'ভূমিকা'-র পর যে-সব গল্প এই বইয়ে স্থান পেয়েছে তারা হল~ ১) চার নম্বর ২) অ্যালঝাইমার ৩) বাঘিনি ৪) বিশ্বস্ত সঙ্গী ৫) বোমা ৬) গোপন দরজা ৭) গুংগার গাছ ৮) যে ফিরে এসেছিল ৯) জলের দাগ ১০) কাঠিবাবু ১১) খাদ ১২) খুনির আঙুল ১৩) লোকটা বড্ড ভুলো ১৪) মেগালোম্যানিয়াক ১৫) ওস্তাদ ১৬) পোশাক ১৭) রিঙ্গা রিঙ্গা রোজেস ১৮) সীতা ১৯) টিক-টক এই গল্পগুলোতে আশার আলো নেই। যখন এই গহন অন্ধকারের মধ্যে ঝলসে উঠেছে এক চিলতে মানবিকতা, তখনও তা দেখিয়ে দিয়েছে আশেপাশের ঘনায়মান অন্ধকারকেই। এ-বই শুধুই ডুবে যাওয়ার গান শোনায়। এ-বই শুধুই আপনাকে খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড় করায়... আর চাঁদ ডাকে, "আয় আয় আয়।" পড়তে পারেন, কিন্তু ঠিক কেন বইটা পড়বেন— তা কি বুঝতে পারলেন, হে পাঠক? পড়বেন, যাতে আয়নায় আপনাকে অন্তত এই বইয়ের চরিত্রগুলোর থেকে অন্যরকম লাগে। বইটি সুমুদ্রিত। হয়তো প্রতিটি গল্পের সঙ্গে একটি অলংকরণ বা মোটিফ থাকলে এদের অভিঘাত আরও বাড়ত। আরও ভালো হত যদি এই লেখাগুলোর প্রথম প্রকাশের উল্লেখ থাকত— তাতে সায়ন্তনী'র লেখার ক্রমবিবর্তনের একটি ছবিও আমাদের সামনে ফুটে উঠত। একটি বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। বইয়ের গল্পগুলো একবারে পড়বেন না, প্লিজ। এরা অত্যন্ত সুলিখিত হলেও ধারে ও ভারে আর পাঁচটা লেখার থেকে আলাদা। তাই অল্প-অল্প করে পড়বেন, কেমন!
অন্ধকারের ধরণ অনেক। কখনো পাতলা, কখনো গাঢ়। কখনো কয়লা-আঁচে ব্যবহৃত উনুন-তলের কালো। কাঠিন্য ও কষ্টের আবেশে, খেয়ালখুশি পাল্টে যাওয়াতেই যেন আঁধারের পরিচয়। এই জিনিস, ঠিক হরর কি থ্রিলারের কাঠখোট্টা সংজ্ঞায় মানিয়ে যায় না। এ জিনিস আরও নিবিড়। আরও অনেক বেশি ভয়াল। তাই এই ধূসর আলোহীন ট্রাফিক পয়েন্টে, একজন গুণী লেখিকার অনুপ্রবেশ বরাবরই ওয়েলকাম। দিনশেষে, বাংলা ভাষায় 'ডার্ক ফিকশন' লিখতে চান অনেকেই, তবে সাফল্যের হিসেবটা আজও একান্তই হিট-ওর-মিস।
সায়ন্তনী পূততুন্ডের সাথে আমার সম্পর্ক খুব একটা সরলরৈখিক নয়। ওনার একটি বই ভালো লাগলেই, পরবর্তীটি আরামসে ডোবায়। ওনার কলমে শেষ পড়েছিলাম 'সর্বনাশিনী'। অধিরাজের সেই হাস্যকর উপন্যাসটি। তবে, সমস্ত ভালো-লাগা ও না-লাগার মাঝেই, মানতে ক্ষতি নেই, যে ওনার গদ্যগুণ ভীষন পরিপক্ব। টানটান টেনশন ও কাব্যিক গদ্যে, নিজের সমস্ত লেখাই প্রায় ঘাড় ধরে পাঠককে পড়িয়ে নিতে জানেন লেখিকা।
আলোচ্য বইটির আবেদনও ঠিক এখানে। সব মিলিয়ে উনিশটি ছোট-বড় লেখা। এদের মাঝে প্রায় চার-পাঁচটি এর আগে অডিও স্টোরিতে শুনেছি। ইউটিউবে লেখিকার শাসন নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। যারা জানেন, তারা জানেন। তবে অ্যাস ইউজুয়াল, ছাপার অক্ষরেই এসব লেখার প্রকৃত বোর্ড-এক্সাম! বইটি পড়ে কিছু নতুন ভালো গল্পও যেমন আবিষ্কার করলাম, তেমনই পুরোনো কটা লেখাকে ঝালিয়ে নিলাম দিব্যিসে।
দেব-সাহিত্য-কুটিরের ছাপায় কোনো গাফিলতি নেই। প্রায় শুদ্ধ বানানে পুরো বইটিকে পরিষ্কার অক্ষরে পরিবেশনা করেছেন ওনারা। পড়তে ব্যাঘাত ঘটে না একেবারেই। তবে, বিশ্রী প্রচ্ছদ ও অলংকরণের অভাব, বইটিকে ঝিমিয়ে তোলে কতকটা। অন্ধকারের বইতে এতোটা ভিসুয়াল আধার আশা করে যাইনি বুঝি।
এনিওয়েজ, গপ্পো দিয়ে কথা। আসল অগ্নিপরীক্ষা ওটাই। বইয়ের কোনো গল্পেই কোনো ধরাবাধা জরের সাহায্য নেননি লেখিকা। হরর, থ্রিলার, সামাজিক, কমিডিক... সব নিয়েই সাজিয়েছেন বইটি। প্রতিটির অন্তরেই রোমশ একটি মাকড়শার যাতায়াতের পথ প্রশস্ত করেছেন সাগ্রহে। এতে বইটি প্রায় আড়াইশো পৃষ্ঠার কাছাকাছি এসে পৌঁছলেও, সংকলনটি ভুগেছে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে।
তাই উনিশের বদলে, বইতে বারোটা সংঘবদ্ধ গল্প থাকলে অনেক বেশি খুশি হতাম। সেই ক্ষেত্রে, হয়তো বা মনে হতো না, যে স্রেফ লেখিকার এক-কুড়ি গল্পের একটি সাধারণ সংকলনকে...ডার্ক ফিকশনের জমাটি কালেকশন হিসেবে মার্কেট করা হচ্ছে। সিনিক্যাল মন, বোঝেনই তো। এই আরকি। তবুও বলবো, সময় পেলে পড়তেই পারেন। দুর্বল, অতিনাটকীয় লেখাগুলি নিজ-দক্ষতায় এড়িয়ে গেলেন নাহয়। চমৎকার কটা গল্পের হদিশ পাবেন, এই ভরসা দিচ্ছি। ষড়রিপুর দিব্যি!
This book is based on dark friction. The main theme is based on some real issues of today's society basically some psychological matters. Each stories are unique and are the fact of mind of a normal person. These stories are not frictional but the author try to explain the real issues as we think in a unconscious mind or the behaviour which is quite common.
Let me explain :-
As a person tried to revenge from his beloved wife unconsciously by continuously hearing that he is stupid. Or a small little girl is brutally beaten by her father for uploading a selfie in a site without knowing that this is a porn site which is loaded by a family member. Or the girl child is neglected by family members but when a teacher tried to explain that goddress sita is also a girl ,then they accept the girl but the father murdered that girl expecting god ram will come after this activity in a village. Or a person loses his memory and never go back to his home. In the end the author explained that he met in a accident and lost his life but believe that he is alive now.
The real image of today's society is beautifully explained with proper narration and an amazing writing skill by the author.
I complete this book in very short time period but my suggestion is try to read slowly as the stories will really affect in mind.