Jump to ratings and reviews
Rate this book

মিরিয়াঃ যোদ্ধাকুমারীর খোঁজে

Rate this book
সপ্ত ডাইনীসংঘের প্রধান দৈববাণী করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকরের আগমণের। যার জন্মে নির্ধারিত হয়েছিল পুরো একটা জাতির ধ্বংস। এখন সর্বত্র অভিশপ্ত দল কাটারমেনোসের রাজত্ব। সাতটি রাজ্যের জগৎ সপ্তরাজ্য ধুঁকছে। প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন না দেবতারাও।
মুক্তি খুঁজতে পথে নামলো ছোট্ট একটা দল। উদ্দেশ্য সম্রাটের শেষ বংশধরকে খুঁজে পাওয়া। উদ্ধার করা সেই দৈববাণী, যা ছড়িয়ে দেয়ার আগেই হারিয়ে গিয়েছিলো ডাইনী গুহা।
তারপর?
এই গল্প যোদ্ধা কুমারীর। যাকে খুঁজছে সবাই।
এই গল্প প্রতিশোধের আগুনে পোড়া এলফ ডাইনী এলেনার।
ভালোবাসায় উন্মাদ হতে চলা ডেলিয়া, রক্তদানব আলেক, দায়িত্ব আর কর্তব্যের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত লেনোরা, ছেলেমানুষি করা ডাফ্নি, অল্প বয়সেই একটা দলের নেতৃত্ব পাওয়া আরিয়া, রাজপ্রাসাদের সুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন ও এডোনিস- এই গল্প তাদের।
স্বল্পভাষী ক্যালিডা, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সাথে যুদ্ধরত রাজকুমার আরশান, দুঃস্বপ্ন দেখা অভিশপ্ত রাজা, আত্মোৎসর্গ করা আন্দ্রিয়া, ওরাও আছে গল্পে।

320 pages, Hardcover

First published February 25, 2022

5 people are currently reading
34 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (18%)
4 stars
24 (55%)
3 stars
8 (18%)
2 stars
2 (4%)
1 star
1 (2%)
Displaying 1 - 22 of 22 reviews
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews216 followers
February 4, 2024
বই: মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারীর খোঁজে
লেখক: সুজানা আবেদীন সোনালী
জনরা: ফ্যান্টাসি
প্রচ্ছদ: লর্ড জুলিয়ান
প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনা
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০
মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০/-

❝পরিবার হচ্ছে একটি বৃত্তের মতো। সবাই মুখোমুখি থাকে। কেউ কাউকে পিঠ দেখায় না। বুক পেতে একে অন্যের আঘাত নেয়।❞

অতীতের একটা দৈববাণী এতো ভয়াবহ হবে যে ধ্বংস করে দিবে সপ্তরাজ্য! আজও যেন অনেকের বিশ্বাস হতে চায় না। পরিবারের এক ভাই যখন অন্য ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে মৃত্যুকে আপন করে নেয় কিন্তু অন্যজন হাত মেলায় বিপক্ষদলের সাথে তখন কি মাফ করা যায়? ছোট্ট জাদুকর কেন আপনজনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল? অভিশপ্তদের রাজা ব্রেইডেন কেন শুধু তার প্রতিই সদয় ছিল?

গুজব বা আশার বাণী যেটাই হোক না কেন অনেকেই বিশ্বাস করে রক্তাক্ত অন্ধকার দূর করতে ফিরে আসবে সম্রাট আলভার ও সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানা কন্যা আলভিয়ানা। জাদুর বেগুনি রং ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র আবার। রক্ত শপথের ডাকে সাড়া দিয়ে আবার একত্রিত হবে সপ্তরাজ্য। আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করবে যোদ্ধা, পরী, এলফ, ড্রাগন, অতিপ্রাকৃত, জাদুকর সকলেই। বিজয় ছিনিয়ে আনবে যোদ্ধাকুমারী আলভিয়ানা মিরিয়া...!!! ধ্বংস হবে নির্দয় ব্রেইডেন ও তার অভিশপ্ত রাজ্য!

আলভিয়ানার দৈববাণী এখন শ্রেফ কিংবদন্তিই মনে হয়। জীবনের প্রতি বিরক্ত, হতাশ হয়ে বেরিয়েছে একদল। দলনেত্রী আরিয়া, রক্তদানব আলেক, দুই জমজ ভাই এডোনিস ও বেনেডিক্টাস এবং দুই জমজ বোন ক্যালিডা ও ডাফনি। বেশ কয়েকবছর ধরেই তারা ঘুরছে আর খুঁজছে মুক্তির পথ। ডাইনি এলেনা দলে যোগ দেওয়ার পর নতুন হিসাব কষতে বসে তারা। আলভিয়ানা না হোক কিন্তু জ্ঞান রাজ্য ও জিউস রাজ্যের যুবরাজকে অপহরণ করে যদি আবার যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করা যায় তো মন্দ কি। অভিযানে বেড়িয়ে পড়লেও ফলাফল নিয়ে সন্দিহান সবাই। কাটারমেনোস রাজ্যে লেনোরাকে বন্দী করে বছরের পর বছর ধরে চালানো হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন। কিন্তু কেন?

আমার ধৈর্য্য খুবই কম তাও যদি হয় বইয়ের ক্ষেত্রে তাহলে আরও কম। যদি জানতাম সিরিজের প্রথম বই মিরিয়ার কাহিনী অসমাপ্ত তাহলে এখন পড়তাম না। সিরিজ শেষ হলে বা দু-তিনটা বই আসার পর পড়তাম। যোদ্ধাকুমারীর খোঁজে বইয়ের নাম হলেও যোদ্ধাকুমারী কে এটাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ৩২০ পৃষ্ঠা ৩দিন ধরে পড়ার পরও যখন দেখি কনফিউজড বুঝতেই পারছেন মনের অবস্থা কি! বইটা পড়েছে এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে দেখি ওনারাও কনফিউজড মিরিয়া কে! বিভিন্নজনের বিভিন্ন যুক্তি। লেখিকা ইচ্ছে করে এমন গোলকধাঁধা করেছেন কিনা জানি না। তবে আমার এমন অস্পষ্ট ও দ্বিধান্বিত সমাপ্তি ভালো লাগে নাই। পরবর্তী বইয়ে কী চমক আছে জানতে এখনও আগ্রহী। সবচেয়ে বেশি জানতে চাই, মিরিয়া আসলে কে?

কাহিনী শুরু যুদ্ধের ময়দানে বিধ্বংসী এক অঙ্গীকার দিয়ে। এই অধ্যায়টাই আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। তারপরের কাহিনী ধীরে ধীরে এগিয়েছে। ফ্যান্টাসি বইয়ে সাধারণত স্লো নাহলে ওয়ার্ড বিল্ডিং খুব একটা ভালো হয় না। তাই স্লো হলেও বইয়ের চরিত্রায়ন ফ্লো ধরে রেখেছে। কিন্তু ১৫০ পৃষ্ঠা পড়ার পড়ও যখন দেখি কাহিনী তেমন এগোয়নি কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম। অনেক সময় এমনও হয়েছে যখন একই পরিস্থিতি বিভিন্ন চরিত্রের জবানিতে বর্ণনা করা হয়েছে। দেবদেবী হিসেবে গ্রিক মিথের দেবতা-দেবীদের দেখা যাবে। সপ্তরাজ্য সৃষ্টির পিছে আছে এক একজন দেবদেবীর অবদান। আছে তাদের নিয়ে কিছু গল্প। বইয়ে মিষ্টি একটা অংশ হলো আলভিয়ানাকে লেখা সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার চিঠি। জন্মের আগে বাবা ও ভাইয়ের আবেগ দেখে মনে হচ্ছিল যদি গল্পটা এমন না হতো। যদি একটা সুখী পরিবার হতো! রহস্যময় জাদুকরী বেশ কিছু রাজ্যের কথা বলা হলেও জাদুর উপস্থিতি ছিল অল্পই। বেশ কিছু সংলাপ দুর্বল মনে হয়েছে যেন বেশ নাটুকে। বইয়ের প্লট নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কিন্তু উপস্থাপনার জন্য শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েছি।

প্রতি অধ্যায়ে প্রতিটা চরিত্রের জবানিতে আলোচনা থাকলেও গোলমাল পাকিয়ে ফেলেনি। চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েন, ব্যাকস্টোরি নিয়ে মোটামুটি একটা ধারনা দেওয়া হয়েছে। সব চরিত্রই যেন কমবেশি রহস্যে আবৃত! থালিয়া, ইকারাস ও লিলিয়ানার দৃশ্য অনেক কম হলেও ভাইবোনের খুনসুটি, ভালোবাসা, দুষ্টুমি, আবেগ ভালো লেগেছে। তেমনি ক্যালিডা ও ডাফনির প্রতি আলেকের ভাইয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ভালো লেগেছে। আরিয়া, এডোনিস, বেনেডিক্টাস, এলেনা চরিত্রগুলোও প্রিয়। সবচেয়ে বেশি বিরক্তিকর চরিত্র যুবরাজ আরশানকে মনে হয়েছে। নিজে কি চায় যেন নিজেই বুঝে না। হঠাৎ করে আলভিয়ানাকে ভুলে ক্যালিডার প্রেমে ডুবে যাওয়াটা কেমন জানি খাপছাড়া লেগেছে। এর থেকে ক্যালিডা ও বেনেডিক্টাসের সম্পর্কটা মিষ্টি। ডাফনির মাধ্যমে জীবনী শক্তিতে ভরপুর একটা চরিত্র দেখানোর চেষ্টা করা হলেও কিছু জায়গায় অতিমাত্রায় বাচ্চামো আচরণ বিরক্তিকর লেগেছে। লেনোরা ও জেফিরা এখনও ধোঁয়াশা। ব্রেইডেন, এপোলিয়নের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম।

কয়েকটা বানান ভুল চোখে পড়েছে। বইয়ের প্রোডাকশন বেশ ভালোই। সুন্দরী রাজকুমারী, সাদা নেকড়ে, ফিনিক্স পাখি ও বেগুনি রঙের প্রচ্ছদটা স্নিগ্ধ সুন্দর।
Profile Image for Asraful Shumon.
Author 18 books120 followers
April 27, 2022
সত্যি বলতে, বইটার ফাইনাল ভার্শান পড়ার পর আমি বেশ চমকে উঠেছিলাম। সে খুব দ্রুত শেখে, ত্বরিত গতিতে উন্নতি করার ক্ষমতা রাখে। বইটির প্লট বেশ ভালো, জগত চিত্রায়ন চমৎকার আর চরিত্রায়নে সে তার সর্বোচ্চটাই দিয়েছে। বইতে কোনো হার্ড ম্যাজিক সিস্টেম নেই, যা আছে তা হলো সফট ম্যাজিক। জাদু এখানে কেবল বিস্ময়কর, ব্যাখ্যাতীত এক শক্তির নাম। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা থাকতে পারে, তবে সর্বোপরি সফট ম্যাজিক। আর জাদুর সাথে জগতের মেলবন্ধনটা ভালোই করেছে।

সুজানার এমনিতেও গ্রিক মিথের প্রতি দুর্বলতা আছে। আর আছে আর্টেমিস এবং এপোলোর প্রতি দুর্বলতা। তার প্রতিফলনও গল্পে বেশ প্রকট। গ্রিক মিথ থেকে ইন্সপিরেশন নিয়ে বাংলায় হাই/এপিক লিখতে দেখিনি এর আগে। সেই হিসেবে এই ধারণাটা একদমই নতুন। গল্পে এডভেঞ্চার আছে বেশ। আছে একশন সিকোয়েন্স। প্রফেসি। ক্ষমতার দখল এবং স্বাধীনতা লাভের প্রচেষ্টা। আছে ভাই-বোনদের মারামারি (লেখিকা এটা পছন্দ করে বেশ)। আবারো বলছি--এবং পইপই করে বলছি--ডাফনি বেশি লাফায় (এই ক্যারেক্টারটাকে প্রথম ভার্শানে অত পছন্দ ছিলো না। ফাইনাল ভার্শানে তার পাগলামিগুলার কারণে পছন্দ হয়ে যায়)। এর বাইরে আরিয়া, লেনোরা এবং আরশানকে ভালো লেগেছে। ব্রেইডেন এন্টাগনিস্ট হলেও সে কিন্তু পুরোপুরি ডার্ক না। গ্রে ক্যারেক্টার। টিপিক্যাল হু-হু-হা-হা-এবার-তোর-কী-হবে-রে-সুন্দরী টাইপ ভিলেন না। এবং সে একজন মাল্টিডাইমেনশনাল ক্যারেক্টারও বটে। বইটার ডেভেলপমেন্টাল এডিটিং করেছি যেও দুই বছর হয়ে গেছে, এত কিছু মনে নাই, তাই তাকে রাউন্ড ক্যারেক্টার করা হয়েছিলো কি না বলতে পারছি না (ডেভেলপমেন্টাল এডিটিং করেছি মানে গল্পের স্ট্রাকচার আর টেকনিক্যাল ইস্যু নিয়ে সম্পাদনা করেছি। বানান, যতি চিহ্ন, টাইপো ইত্যাদি ঠিক করার ক্রেডিট পুরোপুরি তাহমিদের) তবে এটুকু জানি, ব্রেইডেন ভবিষ্যতে একজন শক্তপোক্ত রাউন্ড ক্যারেক্টারে পরিণত হবে। এপোলিয়ন আরেকজন চরিত্র যার মোটিভ বোঝা বেশ কষ্ট। রহস্যময় চরিত্র, যাকে গ্রে ক্যাটাগোরিতেই ফেলি আমি। এইটা হলো আরেকটা ওয়েল রাউন্ডেড ক্যারেক্টার, যার সম্পর্কে পরের বইতে আরো এক্সপ্লোর করা হব��। (আমার কেন যেন প্রটাগনিস্টদের চেয়ে এন্টাগনিস্টদের বেশি ভালো লাগে। বেশিরভাগ গল্পের প্রটাগনিস্টই কেন যেন মাথায় তেল দেয়া ভালো ছেলে টাইপ হয়। ওয়েল রাউন্ডেড, মাল্টিডাইমেনশনাল এন্টাগনিস্টরা হয় ব্যাড এস)।

শেষের দিকের ফাইটটা দুর্দান্ত। ঐ অংশ থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোই একটানে উপভোগ করার মতো। শেষে কিছু টুইস্ট আছে ভালো লাগার মতো। আর আছে কিছু খোলাসাহীন রহস্য। সেই রহস্য আরো কিছুকাল রহস্যই থাকবে (যতদিন না সুজানার মন চাইবে)।

এ বছর তো ইতোমধ্যেই অনেকগুলো ফ্যান্টাসি এলো। এদের ভেতর আবার হাই/এপিক যেমন আছে তেমনি আরবান, কন্টেম্পোরারিও আছে। মিরিয়া, রাজকীয় উৎসর্গ, যুদ্ধের সহস্র বছর পরে এগুলো সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে লেখা। আশিয়ানী ইদের পর নয়, বরং ঈদের পর আসবে, বাঁধাইয়ে আছে এখন। এটা পোর্টাল ফ্যান্টাসি। প্রাইমারি-সেকেন্ডারি দুই জগতই সমানতালে এক্সপ্লোর করা হয়েছে। ব্যাক-ফোরথ-ব্যাক-ফোরথ থ্রু এ পোর্টাল। এর বাইরে বিষবার্তা, আফারীত ২ নামে দুইটি বইয়ের নাম শুনেছি, যেগুলো সম্ভবত প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে লেখা। নাবিদের কহশিমিয়ান ২ বেরিয়েছে বই মেলায়। আর মেলার বেশ আগে শরীফ ভাইয়ের প্রলয় হুঙ্কার বেরিয়েছে। আমার এই কটার নামই মনে পড়ছে। সংখ্যাটা তো কম না। একসময় ফ্যান্টাসি ট্যাগ দেয়াটাই রিস্কি ছিলো, এখন লোকে বুক ফুলিয়ে বলে বেড়াচ্ছে, হ্যাঁ, এটা ফ্যান্টাসি। আমি ফ্যান্টাসি লেখক। কোনো সমস্যা? পরিবর্তনটা চোখে পড়ার মতো।

এই বছরটাকে বোধহয় আমরা ফ্যান্টাসির বছর হিসেবে ঘোষণা দিতে পারি, কী বলেন?
Profile Image for Jheelam Nodie.
314 reviews11 followers
March 19, 2022
অবশেষে শেষ করলাম দুই বছর ধরে অপেক্ষার তালিকায় থাকা বই মিরিয়া। এই বছরের লিস্টে প্রথমেই ছিলো বইটির নাম, আর দেশীয় মৌলিক ফ্যান্টাসি বলে তো উৎসাহ ছিলো আরো বেশি। কিন্তু সত্যি বলতে প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ওয়ার্ল্ডবিল্ডিংয়ে বেশ নতুনত্ব ছিলো, কিন্তু ম্যাজিক সিস্টেমটাকে অতটা বিকশিত লাগেনি। সফট ম্যাজিক সিস্টেম বলেই হয়তোবা। চরিত্রদের মাঝে একমাত্র লেনোরা এবং থালিয়াকেই শক্তিশালী লেগেছে। অবতরণিকা অধ্যায়টা পড়ে প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিলো, কিন্তু পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে কেন যেন মন বসাতে পারি নি। ডিটেলিংয়ের অভাবেই হয়তোবা। বিশেষ করে প্রথম ১৫০ পেজ ভীষণ স্লো। ফ্যান্টাসি উপন্যাস স্লো হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু চরিত্রদের সাথে একাত্ম হতে না পারায় বেশি স্লো লেগেছে। ইকারাস, ইউডোরা, লিলিয়ানাকে স্বল্প উপস্থিতিতে যতটা আকর্ষণীয় লেগেছে ততটাই বিরক্তিকর লেগেছে ডাফনিকে। আর গম্ভীর ঘটনার মাঝে হঠাত বাচ্চাদের মতন দুষ্টামি ভালো লাগে নি। প্রেমটাও মনে হয়েছে যেন হঠাত করে কাহিনীর ভেতরে চলে এসেছে। তবে সবচেয়ে দূর্বলতা ছিলো সংলাপ আর যুদ্ধের দৃশ্যগুলিতে। কিছু কিছু জায়গায়, বিশেষ করে যুদ্ধের দৃশ্যগুলিতে ডাফনির বর্ণনায় বারবার 'তিড়িংবিড়িং করে লাফানো' উপমার ব্যবহার ভীষণ দৃষ্টিকটু লেগেছে। এই কারনে ডাফনি চরিত্রেত ওপরে বিরক্তি আরো বেড়েছে।
আলভিয়ানাকে ঘিরে রহস্যটা ভালো লেগেছে, সাথে ভালো লেগেছে ব্রেইডেনকে। বারেবারে ন্যারেটর পরিবর্তনে মাঝে মাঝেই খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। তবে শেষটা চমৎকার ছিলো। সিকুয়েলের ইংগিত দিয়েছেন লেখিকা।
যতটা আশা নিয়ে পড়তে বসেছিলাম, ততটা প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ হয়নি, কিন্তু সাহস করে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে বাংলায় মৌলিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস লেখবার জন্য লেখিকাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। প্রথম দিকের লেখার মাঝে বেশ জড়তা থাকলেও শেষের অধ্যায়গুলিতে বেশ পরিণত হয়েছে লেখা। বিশেষ করে কন্যার প্রতি লিলিয়ানার চিঠিটা পড়ে চোখে পানি এসে গিয়েছিলো প্রায়। আর পরিশিষ্ট পড়ে আরো পড়বার ইচ্ছা জাগছে মনে।
আশা করি লেখিকা তার সীমাবদ্ধতাগুলি কাটিয়ে উঠে আরো সুন্দর এবং পরিণত একট সিকুয়েল উপহার দেবেন। এই প্রত্যাশায় সিরিজের পরবর্তী বইয়ের প্রতীক্ষায় রইলাম।
Profile Image for রোকেয়া  আশা.
5 reviews1 follower
March 28, 2022
#বুক_রিভিউ
#মিরিয়া_যোদ্ধাকুমারির_খোঁজে

বই: মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারির খোঁজে
লেখক: সুজানা আবেদীন সোনালী
প্রচ্ছদ: লর্ড জুলিয়ান
জনরা: হাই ফ্যান্টাসি ও অ্যাডভেঞ্চার
নির্ধারিত মলাট মূল্য/ফিক্সড প্রাইজ: ৩৫০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০

ব্লার্ব:
ইস্কাইরোস এপ্টাডাস প্রধান দৈববাণী করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকরের আগমণের। যার জন্মে নির্ধারিত হয়েছিল পুরো একটা জাতির ধ্বংস। এখন সর্বত্র অভিশপ্ত দল কাটারমেনোসের রাজত্ব। সাতটি রাজ্যের জগৎ সপ্তরাজ্য ধুঁকছে। প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন না দেবতারাও।
মুক্তি খুঁজতে পথে নামলো ছোট্ট একটা দল। উদ্দেশ্য সম্রাটের শেষ বংশধরকে খুঁজে পাওয়া। উদ্ধার করা সেই দৈববাণী, যা ছড়িয়ে দেয়ার আগেই হারিয়ে গিয়েছিলো ডাইনী গুহা।
তারপর?
এই গল্প যোদ্ধা কুমারীর। যাকে খুঁজছে সবাই।
এই গল্প প্রতিশোধের আগুনে পোড়া এলফ ডাইনী এলেনার।
ভালোবাসায় উন্মাদ হতে চলা ডেলিয়া, রক্তদানব আলেক, দায়িত্ব আর কর্তব্যের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত লেনোরা, ছেলেমানুষি করা ডাফনি, অল্প বয়সেই একটা দলের নেতৃত্ব পাওয়া আরিয়া, রাজপ্রাসাদের সুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন ও এডোনিস- এই গল্প তাদের।
স্বল্পভাষী ক্যালিডা, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সাথে যুদ্ধরত রাজকুমার আরশান, দুঃস্বপ্ন দেখা অভিশপ্ত রাজা, আত্মোৎসর্গ করা আন্দ্রিয়া, ওরাও আছে গল্পে।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
হাই ফ্যান্টাসি যারা লেখে তাদের ব্যাপারে আমার ভেতরে ভেতরে একধরনের জেলাসি কাজ করে। মানে, সেকেন্ডারি একটা ওয়ার্ল্ড ডেভেলপ মানুষ করে কীভাবে? কল্পনা এত বিস্তৃত করা ভীষণ কঠিন লাগে আমার। লেখিকা এই জায়গায় সফল।

সপ্তরাজ্যের ওয়ার্ল্ড বিল্ডআপের ডিটেইলিংটা বেশ ভালো। LOTR এর মিডল আর্থের কথা তো এই সিরিজের ফ্যানরা সবাই জানি, মিরিয়ার এই সপ্তরাজ্যও সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড হিসেবে পারফেক্ট। সাতটা রাজ্যের ভিন্ন being, তাদের কাস্টম, জেমস্টোন, সবকিছুর ডিটেইলিং ভালো ছিল, কিন্তু এই ডিটেইলিং কিন্তু কোথাও বাড়তি কথাও মনে হয়নি।

এবারে প্লটের দিকে আসি, একদম ঝরঝরে একটা স্টোরিটেলিং; একজন দৈববাণী করা হিরোর জন্য অপেক্ষা, তাকে খোঁজা- মোটামুটি কমন প্লট আর্কিটাইপ হলেও প্লটটা ইটসেল্ফ ইউনিক। স্টোরিও একইরকম ইউনিক।

গল্পের মেজর কয়েকটা প্লট টুইস্ট ছিল, একদমই আনপ্রেডিক্টেবল। আমি কয়েকটা জায়গা আগে থেকে একটুআধটু বুঝতে পারলেও মেজর টুইস্টগুলো আগে বুঝি নাই।🤐

চরিত্রদের নিয়ে যদি কথা বলি, প্রায় সব চরিত্রেরই গল্পে কনট্রিবিউশন ভালো ছিল (এক্সেপ্ট ফর আন্দ্রিয়া, ওর কনট্রিবিউশন আরেকটু ডিটেইলে দেখালে ভালো হতো বলে আমার মনে হয়।)
আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় চরিত্র জেফ, ডাফনি, আর লিলিয়ানা (হ্যাঁ সব মেয়ে, এবং আমি ডাফনি।)
স্বল্প উপস্থিতির মধ্যেও থালিয়া আর লিলিয়ানা বেশ শক্তিশালী হয়ে নিজেদের চরিত্র ফুটিয়ে গেছে। জেফ বেশ পরে আসলেও তার নিঃশব্দ উপস্থিতি দারুণ পাওয়ারফুল ছিল।
মনোযোগ দিয়ে পড়লে অবশ্য এই চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়েই অনেক স্পয়লার বুঝে ফেলা সম্ভব।
আলেকও আমার আরেক পার্সোনাল ফেভারিট।
আমি সেকেন্ড পার্টে এপোলিয়ন আর হটশট ব্রেইডেনের আরও বেশি স্ক্রিনটাইম আশা করছি।

এই গল্পে য��দ্ধ আছে, রাজনীতি আছে, প্রেম আছে, প্রতারণা আছে, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, মানসিক দোদুল্যমানতা আছে- মিরিয়া আমার কাছে একটা ফ্যান্টাসির চাইতেও আরও বেশি কিছুই মনে হয়েছে।

সমালোচনাঃ দুইটা জায়গায় বেটার করা যেত।
১. সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে পাওয়ার লিমিটেশন আর পাওয়ার স্কেল দেখানোটা আমার কাছে জরুরি লাগে। এখানে দুয়েকটা ক্যারেক্টার বাদে বাকিদের পাওয়ার লিমিটেশন সেভাবে আসে নাই। যেই being দের কথা আসছে- যোদ্ধাদের লিমিটেশন এমনিও বোঝা যায়। কিন্তু ডাইনি, পরী, এল্ফ, ড্রাগন- এদের লিমিটেশন আর মেজর ক্যারেক্টারদের পাওয়ার স্কেল আরেকটু স্পষ্ট করলে বেটার হতো।
২. বহু জায়গাতেই ক্রিয়াপদগুলোর শেষে ো-কার ছিল, আর কিছু জায়গায় ছিল ো-কার বাদে। মিশ্র বানানরীতি একটু সমস্যাজনক। আশা করি পরের মুদ্রণে (যেটা আমার বিশ্বাস এ বছরই দরকার হবে) জিনিসটা ঠিক করে ফেলা হবে।

ওভারঅল, বইটা আমার কাছে বেশ সুখপাঠ্য ছিল। বাংলা ভাষায় হাই ফ্যান্টাসি আসছে, এবং বেশ ভালো কাজ হচ্ছে, এটা এমনিতেও দারুণ ব্যাপার।
হাইলি রেকমেন্ডেড।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫

হ্যাপি রিডিং!
2 reviews1 follower
August 24, 2022
লেখিকার প্রথম ফ্যান্টাসি উপন্যাস হিসেবে বেশ ভালো লিখেছে। ফ্যান্টাসি উপন্যাসে প্রথম অংশ বইয়ের ওয়ার্ল্ড বিল্ড-আপ করতে সময় নেয়, এই বইটিও ঠিক তেমন, প্রথম ১০০ পেইজ একটু স্লো হলেও পরবর্তী বইটি বেশ ভালো গতিতে এগিয়েছে। যদিও কখনও রিভিউ দিই নি কোন বইয়ের। এইবইটি ১০ এ ৭.৫ প্রাপ্য।
Profile Image for Kazi Hasan Jamil.
61 reviews21 followers
July 17, 2023
জাদুরাজ্যে জন্ম নেবে এক মায়াবী রাজকুমার,
রূপ-গুণ সব পাবে যে সোনালীচুলো এক দেবতার,
নীল সাগরের তীব্র নীল যখন তার সেই চোখেতে কষ্ট আঁকে,
সামর্থ্যের তরবারি তখন আসবে তার আঙুলের ফাঁকে।
হবে যুদ্ধ, সংঘর্ষ,
রক্তাক্ত হবেন রক্ষাকর্তা,
হারাবে শাসনকারী পাথর,
ডুবে যাবে সবকিছু এক ঘোর আঁধারে।



.
◑ কাহিনী সংক্ষেপ:
.
জিউস রাজ্য, এলফ রাজ্য, পরী রাজ্য, অতিপ্রাকৃত রাজ্যের মতো মোট সাতটি রাজ্য নিয়ে গঠিত যোদ্ধা সাম্রাজ্যের সম্রাট আলভার এবং সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার দূরদর্শী শাসনামলে শান্তিতেই দিন কাটছিল সপ্তরাজ্যের অধিবাসীদের। তবে সপ্তরাজ্যের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল ভয়ঙ্কর কালো মেঘ। ইস্কাইরোস এপ্টাডাস প্রধান পাইথিয়া থালিয়া দৈববাণী করলেন তার ভাই জাদুকর রাজ্যের রাজা ইকারাস এবং রাণী ইউডোরার সন্তান হিসেবে জন্ম নিবে সোনালীচুলো দেবতা স্বরুপ সর্বাকালের সর্বশেষ্ঠ জাদুকর এপোলিয়ান। যে হবে যোদ্ধা জাতির ধ্বংসের কারণ। যার আগমনে পতন ঘটে যোদ্ধা সাম্রাজ্যের। ক্ষমতার রদবদল হয়, সর্বত্র শুরু হয় কাটারমেনোসের রাজত্ব যাদের অভিশপ্ত হিসেবে কপালে মোহরাঙ্কিত করেছিল অলিম্পাসবাসী দেবতাগণ। সাতটি রাজ্যের জগৎ সপ্তরাজ্য ধুঁকছে। প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন না দেবতারাও।
.
এসময় এসেছিল আরো একটি দৈববাণী। যেখানে বলা হয়েছিল সম্রাট আলভার ও সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার অনাগত কন্যাই হবে সপ্তরাজ্যের রক্ষাকর্তা। যুবরাজ্ঞী আলভিয়ানা হবে যোদ্ধা দেবী আর্টেমিসের অবতার। যে প্রতিশোধ নিবে যোদ্ধাদের হয়ে; যার আহ্বানে একত্রিত হবে সপ্তরাজ্যবাসী প্রাচীন রক্ত শপথের ক্ষমতায়। কিন্তু সেই দৈববাণী ছড়িয়ে পড়ার আগেই হারিয়ে যায় ডাইনীগুহাসহ ইস্কাইরোস এপ্টাডাস সংঘের প্রধান পাইথিয়া থালিয়া এবং সংঘের বাকি সদস্যসহ সেই দৈববাণীও। ফলে ছড়াতে পারেনি এই দৈববাণী, অথচ দৈববাণী সম্পর্কে অনেক মানুষ না জানলে বা বিশ্বাস না করলে সেই দৈববাণী ফলার সম্ভাবনা কমে যায়। অনেকেই আলভিয়ানাকে এখন এক কিংবদন্তী বলে, বিশ্বাস করতে পারে না তার অস্তিত্বে।
.
সপ্তরাজ্যকে অভিশপ্ত কাটারমেনোসদের রাজত্ব থেকে মুক্ত করতে পথে নামলো তিনজন মানবকন্যা, একজন এলফ ডাইনী, একজন রক্তদানব এবং দুইজন পরী ভাই এর বিচিত্র দল। যাদের উদ্দেশ্য হারিয়ে যাওয়া ডাইনী গুহা ও হারানো দৈববাণী খুঁজে বের করে ছড়িয়ে দেওয়া। যোদ্ধা রাজকুমারী আলভিয়ানাকে খুঁজে বের করা।
.
এই গল্প যোদ্ধাকুমারীর, যাকে খুঁজছে সবাই। এই গল্প প্রতিশোধের আগুনে পোড়া এলফ ডাইনী এলেনার। ভালোবাসায় উন্মাদ হতে চলা ডেলিয়া, রক্তদানব আলেক, দায়িত্ব আর কর্তব্যের মাঝে দ্বিধাগ্ৰস্ত লেনোরা, ছেলেমানুষি করা ডাফনি, অল্প বয়সেই একটা দলের নেতৃত্ব পাওয়া আরিয়া, রাজপ্রাসাদের সুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন ও এডোনিস - এই গল্প তাদের।
.
স্বল্পভাষী ক্যালিডা, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সাথে যুদ্ধরত রাজকুমার আরশান, দুঃস্বপ্ন দেখা অভিশপ্ত রাজা, আত্মোৎসর্গ করা আন্দ্রিয়াও আছে গল্পে।
.
◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া:
.
মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে সিরিজের প্রথম বই। সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড যোদ্ধা সাম্রাজ্য বা সপ্তরাজ্যকে ঘিরেই পুরো বই রচিত। বইয়ের আগ্রহ জাগানিয়া অবতরণিকার পর ঘটনা প্রবাহ বেশ স্লো হয়ে যায়। সাথে চরিত্রগুলোর সাথে রিলেট করতেও কিছুক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এর কারণ এটা সিরিজ প্রথম বলেই হয়তো। যেহেতু মিরিয়া একটি সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড বেজড ফ্যান্টাসি বই তাই লেখিকার মস্তিষ্কে তৈরী হওয়া কল্পিত এই জগৎ কে একটি যথাযথ এবং বাস্তবিক আকৃতি দিতে একটু বেশি শব্দই ব্যবহার করতে হয়েছে। বর্ণনার মাধ্যমে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো তুলে ধরতে হয়েছে যেন পাঠকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সম্পূর্ণ সপ্তরাজ্য। আবার ফ্যান্টাসি বই হওয়ায় প্রতিটা চরিত্রেরই একটা পেছনের গল্প ছিল। এসব কারণে প্রায় প্রথম দেড়শো পেইজ কিছুটা স্লো ছিল। স্লো থাকলেও কোনো অতিরঞ্জিত বা অপ্রয়োজনীয় ঘটনা ছিল না। ওয়ার্ল্ড বিল্ড আপ এবং চরিত্রায়নের কারণে এই সময়টা ছিল প্রয়োজনীয়। এরপরেই বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাজলের বিভিন্ন অংশের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চরিত্রগুলো যায়গামতো আসতে থাকে।
.
পুরো উপন্যাসজুড়ে অলিম্পাসবাসী দেব-দেবীর উপস্তিতির কারণে খুব সহজেই লেখিকার গ্রিক মিথলজির প্রতি দুর্বলতার বিষয়টা বোঝা যায়। গল্পে উঠে আসে দেবরাজ জিউস, যোদ্ধা দেবী আর্টেমিস, জ্ঞানের দেবী এথেনা, দৈববাণীর দেবতা এপোলো, দেবতা ক্রোনাসের কথা। লেখিকা সুনিপুণ ভাবে ফ্যান্টাসি গল্প এবং গ্রিক মিথলজির সমন্বয় ঘটিয়েছেন যা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
.
বইয়ে শাসনকারী পাথর, ছদ্মবেশী জাদুমন্ত্র, অস্তিত্ব লুকানোর জাদুমন্ত্র সহ এলফ, ডাইনী, পরীর মতো বিভিন্ন ম্যাজিক্যাল ক্রিয়েচার এবং ম্যাজিক সিস্টেমের ইঙ্গিত দিয়েছেন লেখিকা। কিন্তু ম্যাজিক সিস্টেমের কোনো জোরালো এক্সিকিউশন চোখে পড়েনি৷ তবে বোঝা যাচ্ছে সিরিজের পরবর্তী বইয়ে বেশ বড় একটা অংশজুড়ে ম্যাজিক বা জাদুর ভূমিকা থাকবে এবং ম্যাজিক সিস্টেমটাও সুচারু ভাবে ফুটে উঠবে।

.
তবে বিভিন্ন অধ্যায়ে হুটহাট ন্যারেটর বা স্টোরিটেলার চেঞ্জ হওয়ার কারণে মাঝে মাঝেই খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। কখনো কখনো বুঝতে সমস্যা হচ্ছিলো আসলে কোন চরিত্রটা এই অধ্যায়ে ন্যারেটর এর ভূমিকা পালন করছে, নাকি এখানে স্বয়ং লেখিকাই বর্ণনা করছেন সবকিছু। এটা এখন অনেকেই করছে তবে এই বিষয়টা আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। আবার ডাফনির বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রে লেখিকার বার বার "তিড়িং বিড়িং লাফানো" শব্দগুচ্ছ কিংবা ডাফনির এই সবসময় লাফিয়ে বেড়ানো আচরণট চোখে লেগেছে।
.
সবমিলিয়ে মিরিয়ার সাথে একটা চমৎকার সময় কেটেছে। সুজানা আবেদীন সোনালী রচিত "মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে" বাংলা ফ্যান্টাসি সাহিত্যের এক দারুণ সংযোজন। সবশেষে আপনি যদি ফ্যান্টাসি প্রেমী হয়ে থাকেন, থাকে গ্রিক মিথলজির প্রতি আগ্রহ, হারিয়ে যেতে চান ���িংসা, প্রতিশোধ, যুদ্ধ এবং ভালোবাসার মতো শুদ্ধতম অনুভূতিতে তবে বইটি আপনার জন্য।
.
◑ চরিত্রায়ন:
.
উপরের কাহিনী সংক্ষেপ পড়লে খুব সহজেই অনুমান করা যায় বইয়ে লেখিকা অসংখ্য চরিত্রের অবতারণা করেছেন। এবং পাঠ প্রতিক্রিয়া অংশে বলেছি লেখিকা প্রত্যেকটা চরিত্রকে নিজস্বতায় বিকশিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। ব্যাকস্টোরির মাধ্যমে প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের অতীত তুলে ধরেছেন। আবার গল্পে খুব কম সময় থেকেও সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানা, রাণী বেলাডোনা, পাইথিয়া থালিয়ার জোরালো ভূমিকা লক্ষণীয়। বলা যায় ডাফনির কথা যে পুরো বই জুড়ে ছিল তার দলের প্রাণশক্তি হিসেবে। সাথে নিজের শিশুতোষ কাজের জন্য হয়েছে দলের সদস্যদের বিরক্তিতে ভ্রুকুটির কারণ। এই চরিত্রটা বেশ ভালো লেগেছে, অনেকের কাছে ডাফনির যেকোনো পরিস্থিতিতে শিশুতোষ আচরণ বিরক্তিকর লাগতে পারে তবে এটা আমি উপভোগ করেছি।
.
সিরিজের প্রথম বই হওয়ায় বেশ কিছু চরিত্র নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। যেমন কাটারমেনোস রাজ ব্রেইডেন, অনেকটাই গ্রে ক্যারেক্টার। এছাড়া লেনোরা, ক্যালিডা, প্রতিষ্ঠাতা প্রাচীন রাণী এরা প্রত্যেকেই যেনো একেকটা রহস্য। এরপর বলা যায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকর রাজা এপোলিয়ানের কথা। এই চরিত্রটার কর্মকাণ্ডই অনেকটা ঘোলাটে। রহস্যমানব হিসেবে রেখে দিয়েছেন লেখিকা। সবশেষে বলা যায় যাকে নিয়ে এই পুরো উপখ্যান, আলভিয়ানা মিরিয়া, এই চরিত্রটাকে ঠিক খোলাসা করেননি লেখিকা। যেটা পাঠ বইটা পড়লেই বুঝতে পারবে।
.
◑ লেখনশৈলী:
.
মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে তরুন লেখিকা সুজানা আবেদীন সোনালীর প্রকাশিত দ্বিতীয় বই। তবে বইটি পড়ার সময় পাঠক বুঝতে পারবে না যে এটা লেখিকার দ্বিতীয় বই। শব্দচয়ন, বাক্য গঠন থেকে শুরু করে সবকিছুই লেখিকা বেশ যত্নের সাথে করেছেন। যথাযথ শব্দচয়নের মাধ্যমে বজায় রেখেছেন দৈববাণীর গাম্ভীর্যতা। যা দৈববাণীর ওজন বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এবং আলভিয়ানার কাছে মা সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার লেখা চিঠি এই বইয়ের সবথেকে সুন্দর অংশগুলোর একটি। মেয়ের কাছে মায়ের চিঠি। চিঠির মাধ্যমে লেখিকা প্রতিটা আবেগ, অনুভূতিকে স্পর্শ করেছেন। মায়ের মমতার পাশাপাশি দেখিয়েছেন একজন প্রজাপ্রিয় সম্রাজ্ঞীর দায়বদ্ধতা।
.
◑ বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন ও অন্যান্য:
.
বইয়ে বানান ভুল চোখে পড়েনি তেমন। পাশাপাশি আশরাফুল সুমন কর্তৃক বইয়ের সম্পাদনার কারণে বইটা এতো পরিপক্কতার সাথে পাঠকদের কাছে এসেছে।
.
বইয়ের এই চমৎকার প্রচ্ছদটি করেছেন লর্ড জুলিয়ান। দৃষ্টিনন্দন নামলিপি ও প্রচ্ছদের কৃতিত্ব তারই। আর বইয়ের প্রোডাকশনও মোটামুটি ভালোই ছিল।
.
◑ পছন্দের অংশ:
.
✰ যার কাছে মনের সব কথা তা যেমন সমস্যাই হোক খুলে বলা যায়, এবং তার বলা কথায় সেই সমস্যাগুলোকে তুচ্ছ মনে হয়... সেই তো বন্ধু! আর মায়ের চাইতে নিঃস্বার্থ কোনো প্রার্থী হতে পারে সেই পদের জন্য?
.
✰ পরিবার হচ্ছে একটি বৃত্তের মতো। সবাই মুখোমুখি থাকে। কেউ কাউকে পিঠ দেখায় না। বুক পেতে একে অন্যের আঘাত নেয়।
.
✰ আমাদের প্রত্যেকের ভেতর নিজস্ব ও ভয়ংকর দানব আছে, একাধিক। সেই দানবগুলোর সাথে আমাদের নিজেদেরই লড়তে হয়। প্রতিনয়ত। কারণ তাদের সমাপ্তি নেই। শুরু আছে। আছে স্থায়িত্ব। আর হিংস্রতা। তাই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাদের। কখনও আমরা হিমশিম খেয়ে যাই।
.
✰ যখন কারও মনে হবে তার প্রতিটা আবেগ অনুভূতি ধরে ফেলার মতো এবং সেগুলোর যত্ন নেয়ার মতো কেউ একজন আছে, তখন তার বিরক্তি কিংবা রাগ কোনটাই কাজ করবে না। কাজ করবে গর্ব, মায়া। এবং কিছুক্ষেত্রে ভালোবাসা।
.
✰ প্রিয়জনকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করার মাঝেও ভীষণ শান্তি আছে। তাই তো মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শুধুমাত্র প্রিয়জনদের রক্ষার্থে খোলা অস্ত্রের সামনে বুক পেতে দেয় মানুষ। নিজের মৃত্যুতে কিনে নেয় অন্যের জীবন।

.
◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.২/৫
.
◑ বই পরিচিতি:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
➠ বইয়ের নাম: মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে
➠ লেখক: সুজানা আবেদীন সোনালী
➠ জনরা: হাই ফ্যান্টাসি, মিথলজিক্যাল ফ্যান্টাসি
➠ প্রকাশকাল: ২০২২
➠ প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনা
➠ প্রচ্ছদশিল্পী: লর্ড জুলিয়ান
➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০
➠ মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
March 27, 2022
#মিরিয়া_যোদ্ধাকুমারির_খোঁজে
#বুক_রিভিউ

বই: মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারির খোঁজে
লেখক: সুজানা আবেদীন সোনালী
প্রচ্ছদ: লর্ড জুলিয়ান
জনরা: হাই ফ্যান্টাসি ও অ্যাডভেঞ্চার
নির্ধারিত মলাট মূল্য/ফিক্সড প্রাইজ: ৩৫০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০

ব্লার্ব:
ইস্কাইরোস এপ্টাডাস প্রধান দৈববাণী করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকরের আগমণের। যার জন্মে নির্ধারিত হয়েছিল পুরো একটা জাতির ধ্বংস। এখন সর্বত্র অভিশপ্ত দল কাটারমেনোসের রাজত্ব। সাতটি রাজ্যের জগৎ সপ্তরাজ্য ধুঁকছে। প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন না দেবতারাও।
মুক্তি খুঁজতে পথে নামলো ছোট্ট একটা দল। উদ্দেশ্য সম্রাটের শেষ বংশধরকে খুঁজে পাওয়া। উদ্ধার করা সেই দৈববাণী, যা ছড়িয়ে দেয়ার আগেই হারিয়ে গিয়েছিলো ডাইনী গুহা।
তারপর?
এই গল্প যোদ্ধা কুমারীর। যাকে খুঁজছে সবাই।
এই গল্প প্রতিশোধের আগুনে পোড়া এলফ ডাইনী এলেনার।
ভালোবাসায় উন্মাদ হতে চলা ডেলিয়া, রক্তদানব আলেক, দায়িত্ব আর কর্তব্যের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত লেনোরা, ছেলেমানুষি করা ডাফনি, অল্প বয়সেই একটা দলের নেতৃত্ব পাওয়া আরিয়া, রাজপ্রাসাদের সুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন ও এডোনিস- এই গল্প তাদের।
স্বল্পভাষী ক্যালিডা, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সাথে যুদ্ধরত রাজকুমার আরশান, দুঃস্বপ্ন দেখা অভিশপ্ত রাজা, আত্মোৎসর্গ করা আন্দ্রিয়া, ওরাও আছে গল্পে।

পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
এই লেখিকার লেখা আগে পড়া হয়নি। সত্যি বলতে প্রথম দিকে মনে হয়েছিল লেখা মনে ধরবে তো? সংকোচবোধ ছিল। আমি তো ফ্যান্টাসি লাভার পাঠক। মনে না ধরলে কী পড়ব না? আমি পাঠক এমন না যে, না পড়ে সিদ্ধান্ত নেবো বইটা ভালো না খারাপ। লেখা ভালো না মন্দ। হ্যাঁ, বইটার প্রতি অন্য রকম একটা টান ছিল। দেশীয় ফ্যান্টাসি বলে কথা। তার উপর লেখিকার প্রথম ফ্যান্টাসি। যখন বইটা খুললাম সকল আগ্রহের তৃষ্ণা মিটিয়ে তখন চোখ জ্বলজ্বল করছিল। প্রথম কয়েক পাতা পড়ে হিরের মতো চকচক করছিল। কী পড়ছি আমি? এটাও সম্ভব? প্রথমে পড়ে মনে হচ্ছিল বিদেশি কোনো টপ ক্লাস ফ্যান্টাসি পড়ছি। একবারের জন্য মনে হয়নি এটা দেশীয়। কিন্তু এটা দেশীয় আর নতুন কোনো লেখিকার লেখা। গল্পের ভিতরে ডুব পাড়িয়ে ছেড়েছে লেখিকা তার লেখা দিয়ে। শব্দের ব্যবহার লেখায় অমায়িক। মন ছু্ঁয়ে দিয়েছে। একটা পাতাও নেই বোরিং লাগবে। লেখাগুলো আমাকে টেনে নিয়ে গেছে অপর পাতায়। শব্দের বুনন বলা যায় এক কথায় দারুণ। একেকটা চরিত্র ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। ডাফনি, ক্যালিডা, লেনোরা, আরশান, আরিয়া, এলেনা ইত্যাদি যাবতীয় চরিত্রে কারো কোনো কমতি নেই। সবাই সবার জায়গায় পার্ফেক্ট। মনে হচ্ছিল তারাই বাস্তব আর আমি কোনো গল্প। এতোটা পার্ফেক্ট করে সাজানো। মুভি দেখলেও চোখের সামনে এতো ডিটেইলিং ভাবে ভাসে না সব। গল্পে কিন্তু পরিবেশের দিক থেকে ডিটেইলিং গুলো বেশ ভালো ছিল। বিশেষ করে ফাইটসিন গুলো লেখিকা যেভাবে তুলে ধরেছেন মনে হচ্ছিল কোনো ফ্যান্টাসি মুভি বা সিরিজ দেখছি চোখের সামনে। পড়া ও দেখা দুটোই ভালো ভাবে হয়ে গেছে। গল্পের মধ্যে আমার পছন্দের চরিত্র লেনোরা, ক্যালিডা আর ডাফনি। গল্পের ভিতরে এর বেশি কিছু বলতে চাই না। বলতে গেলে কিছুই বলতে চাই না। যদি বলে দেই পড়ে মজা পাবেন না, পড়ার আগ্রহ কমে যাবে। আমি চাই আপনি পড়ুন। আমি বলব, ফ্যান্টাসি পাঠকদের জন্য মাস্টরিড এই "মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারির খোঁজে।" এটা লিখতেও কম সময় যায়নি লেখিকার। এত সময়কে কাজে লাগিয়ে দারুণ কিছু তৈরি করেছে পাঠকদের জন্য। সামনের এর দ্বিতীয় পার্ট আসবে। আমি তো অধির আগ্রহে বসে আছি পরেরটার জন্য।

সমালোচনা:
খারাপ লাগার মতো কোনো দিক খুঁজে পাইনি। সমালোচনার জন্য কোনো দিক পেলাম না। এডাল্ট কিছু নেই। সর্ব বয়সের পাঠকের জন্য বই এটা। বানান ভুল নেই ততটাও। থাকলেও চোখে ধরার মতো না। বইয়ের সম্পাদক আশরাফুল সুমন বেশ ভালো কাজ করেছেন। বলতে গেলে বইয়ের পরিপূর্ণতার কয়েকধাপ তার হাতেই হয়েছে।

প্রচ্ছদ:
বইয়ের প্রচ্ছদটা দারুণ। মনে ধরার মতো। মনোমুগ্ধকর। জুলিয়ান ভাইয়ের কাজ কখনো খারাপ৷ হয় না। সুতরাং তার কাজ নিয়ে কখনো সন্দিহান নই আর না হব কখনো।

প্রডাকশন:
বইয়ের প্রডাকশন বেশ ভালো হয়েছে। আরেকটু ভালো হতেও পারত। তবুও, বলবো বেশ ভালো। মাঝারি বইয়ের জন্য প্রডাকশন প্রকাশী ভালোই দিয়েছে।
1 review1 follower
April 2, 2022
মিরিয়া বইটি নিয়ে ফ্যান্টাসি লেখক সমাজে অনেক 'আদিখ্যেতা' জারি রয়েছে বলে কথা উঠেছে। এই আদিখ্যেতা, বা আমার মতে সমাদর এর কারণ কী হতে পারে? বলছি।

মিরিয়া বিগিনার লেভেলের ফ্যান্টাসি পাঠকদের জন্য একটা অনবদ্য কাজ। যার আবেদন হারিয়ে যাবে না বোদ্ধা ও ঝানু ফ্যান্টাসি রিডারদের কাছেও। আমি আজকে পোস্টে আমার কাছে এবং আমার নন-ফ্যান্টাসি রিডার বান্ধবীর কাছে মিরিয়া কেন ভালো লেগেছে তা নিয়ে কথা বলব।

আমার বান্ধবীর ভাষায়, আমার ইউজুয়াল ফিকশন গল্প থেকে মিরিয়াতে ট্রাঞ্জিশন খুব সহজ হয়েছে। মিরিয়াতে আমার এটেনশন বজায় রাখার জন্য এনাফ ড্রামা এবং হিউম্যেন এলিমেন্টস আছে। প্রফেসি, ম্যাজিক সিস্টেম, রাজ্য ইত্যাদি বুঝতে এবং কাহিনীর ফ্লো বুঝতেও সুবিধা হয়েছে যা টিপিক্যাল অনুবাদ বইয়ের ক্ষেত্রে আমার বুঝতে কষ্ট হয়। তবে মিরিয়া পড়ার পর আমার গেম অফ থোন্স পড়তে অনেক সুবিধা হয়েছে। এবং এরপর হুইল অফ টাইম ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমার কাছে কোন কোন ব্যপার ভালো লেগেছে তা বলার আগে একটু এই ব্যাপারটা এপ্রিশিয়েট করে নেই৷ আমরা সবাই জেকে রাওলিং এর কাছে কমবেশী গ্রেইটফুল আমাদের ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডে একটা স্মুথ এন্ট্রির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। কোনো লেখা যতোটা বোধগম্য, লেখকের সম্ভবত ততোবেশী কষ্ট করতে হয়েছে সেই বাক্যগঠনে, সেই শব্দচয়নে। সাবলীলতা কোনো বড় উপন্যাস প্রজেক্টের একটা কষ্টকর কাজ। এরসাথে যদি যোগ হয় নতুন একটা জনরায় একটা ডেমোগ্রাফিকে ইন্ট্রোডিউস করিয়ে দেওয়ার প্রেশার... আমরা পাতি লেখকগণ জানি এরকম কতো আনফিনিশড প্রজেক্ট আমাদের পড়ে আছে। কারণ এমন প্রজেক্ট অনেক বেশি শ্রমের, যার পারিশ্রমিক বেশীরভাগ সময়ে অধরাই রয়ে যায়। বেশীরভাগ সময়েই আমরা যাস্ট গিভ আপ করি আর বলি, ইজ দিজ ইভেন ওর্দ ইট?
থ্যাংকিউ লেখিকা সুজানা আবেদীন সোনালি। থ্যাংকিউ প্রজেক্টতা কন্টিনিউ করে পাঠকদের হাতে এনে দেওয়ার জন্য।


এছাড়াও আমার ক্যারেক্টার ডাইভারসিটি পছন্দ হয়েছে। আরিয়ার মতো রেস্পন্সিবল ক্যারেক্টার থেকে, ডাফনির মতো সাহসী রেকলেস এবং ক্যালিডার মতো মিস্টেরিয়াস ক্যারেক্টার, লেনোরা ও এলেনার মতো কনফিউজিং ক্যারেক্টার সহ আরো অনেক আমেজিং সেন্ট্রাল ফিমেল ক্যারেক্টার উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ লেখিকাকে।

একটা ছোট কোয়েশশান দিয়ে শেষ করি। ডাফনিকে ছেলে হিসেবে কল্পনা করলে ডাফনির কোয়ালিটি গুলোকে কেমন মনে হয়? চার্মিং? না আরো ইরিটেটিং? মিরিয়ার জন্য অনেক শুভকামনা। পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায়।
Profile Image for Umama Turna.
81 reviews28 followers
June 21, 2024
I've just recently started exploring Bengali contemporary works, especially Fantasy. And honestly? This book surprised me.

There are very few works of high fantasy in Bengali, and most of them are either poorly written, full of plot holes or just pure garbage. So i didn't have much high expectations about Miriya.

But as I delved deeper into the plot and got acquainted with the characters, I realized that the writer must be quite well versed in high Fantasy and is a genuine talent. Not only did she create a wonderful, detailed world with lots of intricacies, but she was also very thorough about creating each character, as well as setting up the relationships amongst them.

Overall, i loved the plot, liked most of the characters (and disliked a few of them), loved the rich history or backdrop, and enjoyed the journey. Perhaps a few things were lacking and a few things seemed repetitive or unnecessary but they weren't too big of an issue.

📌 My Rating:
Compared to Bengali works of fiction - this is a hidden gem. 5/5

Compared to international fantasy works - still good enough. A formidable, worthy read. 4/5.


📌TLDR:

Things I loved about the story
- Rich world-building
- A balanced mix of characters
- The mystery surrounding Alviana
- The group and their journey (LOTR vibes!)
- Discreet magic
- The confused, innocent, good-boy prince trope
- A certain backstabbing (was unexpected)
- The Sphinx with it's riddles was a classic addition
- The ending! (although it was more of a *beginning*)

Eagerly waiting for the next part. I have SO many unanswered questions!!
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
180 reviews50 followers
October 3, 2023
Harry Potter এর মত একটা magical universe create করার সুন্দর চেষ্টা। পৌরাণিক চরিত্র দের এন্ট্রি নেয়ার ব্যাপার টা ভাল্লাগছে। Greek Mythology এর God দের নিয়ে idea থাকলে সুবিধা হবে পড়তে। শুরুতে character গুলির Who's who খুঁজে বের করতে খুব ঝামেলা লাগছে। কিন্তু একটা সময় full scenario টা picture করা গেছে, তখন থেকে ভালো। শুরুতে অনেক slow read। Bored হয়ে রেখে দিছিলাম। পরে কি মনে করে আবার শুরু করে আস্তে আস্তে শেষ করে ফেললাম। 4 stars for the efforts। অনেক pain নিয়ে চিন্তা ভাবনা না করে লিখলে এমন কিছু বের করা সম্ভব হয় না। All the best to the writer for future endeavours.
Profile Image for Tanzil Saad.
95 reviews1 follower
April 16, 2022
3.75/5

শর্ট ইম্প্রেশন


অসাধারণ! বাংলা ভাষায় এরকম হাই ফ্যান্টাসি পড়ছি মনেই হয়নি। খুবই ভালো লেগেছে।
নিজের কল্পনায় এরকম বিশাল এক জগৎ তৈরি করা চাট্টিখানি কথা নয়। পুরো এক পৃথিবী তৈরি করতে হয়েছে লেখিকাকে। কাজটা নিপুণভাবে করার জন্য লেখিকার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। প্রথম থেকে একদম শেষ পর্যন্ত রহস্যের সুক্ষ্ম জালে আটকে ছিলাম মনে হলো।

বলতেই হবে সপ্তরাজ্যের অলিখিত ইতিহাস নিয়ে সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম অনেক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব। সেটাও বেশ আমোদিয় হবে।

লেখিকার নিজের গুণে হোক বা আশরাফুল ভাইয়ের সম্পাদনার হাতের জন্যই হোক, ভীষণ ম্যাচিউর হাতে লেখা বলে মনে হয়েছে পুরো বই। মনেই হলো না লেখিকার বই সংখ্যা মাত্র দুটি। লেখার মাধ্যমে আবেগ ফুটিয়ে তোলা আমার ভীষণ পছন্দের একটা বিষয়। যেমন, একই বাক্য দুবার করে লেখা। এতে করে আবেগটুকু নিংড়ে দেয়া যায়। অবশ্য সবাই সেটা করতে পারেনা। শেষমেশ রিপিটেশনের জন্য পাঠক বিরক্ত হয়। এখানে লেখিকা ভালো কাজ দেখিয়েছেন। বিরক্ত খুব একটা হইনি। কুডোস টু ইউ বোথ।

যেহেতু সিরিজ হবে তাই, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশ ধীর গতির মনে হয়েছে। বইয়ে প্রচুর ডিউস এক্স মেশিনার ব্যবহার প্রথমদিকে দৃষ্টিকটু লাগলেও আস্তে আস্তে তা সয়ে এসেছে। আর সবার এতো ভালবাসা আর আবেগ! :')

কাহিনির খাতিরে তা মেনে নেয়া যায়।

শেষমেশ, পরবর্তী বই তাড়াতাড়ি আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। শুভ কামনা রইলো।
2 reviews
July 20, 2023
ফ্যান্টাসি একটা সুন্দর জনরা। এ নিয়ে আরও কাজ হওয়া উচিৎ। মিরিয়ার সঙ্গ উপভোগ করেছি আমি।
Profile Image for Tasmin Nisha.
163 reviews5 followers
June 7, 2023
গল্পের শুরু হয় সোনালি চুলের এক মেয়ের অগণিত লাশের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকার মাধ্যমে। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে তৈরি, তার চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

সপ্তরাজ্যে অশান্তি বিরাজ করছে। পাইথিয়া থালিয়া বিধ্বংসী দৈববাণীর ফলের কথা জানতে পেরে অস্থির হয়ে উঠছে। ভবিষ্যৎদৃষ্টি নিয়ে বেড়ে ওঠা এই যোদ্ধা নিজের জ্ঞানের প্রতি আজ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। দৈববাণী না ছড়ানোর জন্য পাইথিয়া তার ভাই ইকারাস ও বোন লিলিয়ানাকে স��থে নিয়ে যজ্ঞ পালন করার পরিকল্পনা করলো। যজ্ঞ পালনের সফলতার উপর নির্ভর করছে পুরো রাজ্যের অস্তিত্ব। কিন্তু যজ্ঞ পালনে তারা ব্যর্থ হয়, কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করে দৈববাণী ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো রাজ্যে। দৈববাণী কার্যকর হতে শুরু করে দিয়েছে।


তার ঠিক দুই যুগেরও বেশি সময় পর আবির্ভাব ঘটে বেশ কিছু চরিত্রের। লেনোরা না জানি কত বছর ধরে ব্রেইডেনের হাতে বন্দী। যোদ্ধা রাজ্যের শেষ বংশধর সে। অ��েকেই মনে করে লেনোরাই সম্রাট আলভারের শেষ বংশধর, সেই
আলভিয়ানা অথবা মিরিয়া যার আগমন ঘটবে কাটারমেনোসদের মতো অভিশপ্তদের হাত থেকে সপ্তরাজ্যকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে, অনেকের বিশ্বাস আলভিয়ানার হাতেই পতন ঘটবে ব্রেইডেনের। তবে আলভিয়ানার আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা তা নিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ। অন্যদিকে আরিয়াদের ছয় জন বিশিষ্ট ছোট্ট দলটা এক গোপন উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়েছে, তারা খুঁজে বেড়াচ্ছে যোদ্ধাকুমারী আলভিয়ানাকে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে এলেনা নামক এলফ বা ডাইনী, এলেনা দলটিকে সাহায্য করতে চায়, তাদের প্রথম কাজ ডাইনী গুহা খুঁজে বের করা।


এদিকে ব্রেইডেনের কন্যা ডেলিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে জিউস রাজ্যের যুবরাজ আরশান। যদিও আরশান দ্বিধান্বিত এই সম্পর্ক নিয়ে, দুই যুগ আগে আলভিয়ানার সাথে হয়ে যাওয়া বাগদান তাকে আজও ভাবায়। তার দ্বিধা পুরোপুরি মুছে যায় যখন সে প্রথম দেখায় আরেকজনের প্রেমে পড়ে যায়। পুরো রাজ্যে ত্যাগ করে সেও যোগ দেয় আরিয়াদের দলের সাথে। ব্রেইডেন বিচলিত হয়ে দেখা করতে যান এক বিশেষ কারো সাথে , আলভিয়ানার আগমন নিয়ে সেও শঙ্কিত। সপ্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে অন্ধকার রাজ্য টাইটাসের আগমনের খবর, অশুভ দানবী মিডিউলার সন্তান খুব শীঘ্রই আসবে।


বইটার পিছনে বেশ ভালো পরিমাণ শ্রম দিয়েছেন লেখিকা বলতেই হয়। এক‌ বসায় উপভোগ করার মতো বই। এই বইয়ের দ্বিতীয় খন্ড আসবে বলে লেখিকা বেশ কিছু অংশ ধোঁয়াশায় রেখেছেন। তবে শেষে যোদ্ধাকুমারীর নাম উল্লেখ করলে ভালো হতো, কেননা এই চরিত্রকে ঘিরেই তো পুরো বইটা। বইয়ের একদম প্রথম অংশের সেই যোদ্ধা কে? পাইথিয়ার দেখা দৈববাণী ছড়িয়ে পড়ার জন্য কে বিশ্বাসঘাতকতা করলো? এই ব্যাপারগুলো ঘোলাটে থেকে গেল। প্রচ্ছদের প্রশংসা অবশ্যই করতেই হয়, বইটা মূলত কেনা হয়েছে প্রচ্ছদের লোভে পড়ে সাথে গল্প ভালো লাগাটা বোনাস পয়েন্ট। আশা করি মূল কাহিনী গুলিয়ে ফেলার আগেই লেখিকা দ্বিতীয় অংশ খুব দ্রুত পেশ করবেন।
Profile Image for Aadrita.
276 reviews228 followers
June 13, 2022
অবশেষে প্রায় দুবছর ধরে উইশলিষ্টে থাকা মিরিয়াঃ যোদ্ধাকুমারীর খোঁজে পড়লাম। সত্যি বলতে যতটা আশা নিয়ে পড়তে বসেছিলাম তার পুরোটা পূরণ না হলেও বইটা আশা মিটিয়েছে অনেকখানিক৷

কাহিনী শুরু হয় এক দৈববাণীর মাধ্যমে, যা অদূর ভবিষ্যতে সপ্তরাজ্য ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়। আরেকটি ভবিষ্যতবানী ধ্বংসের পর ত্রাণকর্তারূপে এক যোদ্ধাকুমারীর আগমনের আশা দেখায়।

প্রায় দুই দশক পরে, পতন ঘটেছে যোদ্ধারাজ্যের, চলছে অভিশপ্ত কাটারমেনোস বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব। এর সমাধান খুঁজতে পথে নামে যোদ্ধা, এলফ, পরী, রক্তদানব, ডাইনী নিয়ে গড়ে ওঠা এক দল৷ হারিয়ে যাওয়া যোদ্ধাকুমারীকে খুঁজে বের করে হোক অথবা অন্য কোনো উপায়ে হোক, সপ্তরাজ্যের মুক্তিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।

প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার খুবই আকর্ষণ জাগানিয়া ছিলো। কিন্তু এরপর বইতে মনোযোগ ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কাহিনীর বিন্যাস, লেখনী বা চরিত্র কোনোটাই আগ্রহ ধরে রাখতে বিশেষ কাজে আসছিলো না। বাংলা ফ্যান্টাসীর প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণেই হয়তো পড়া থামাইনি। তবে বইয়ের শেষ তৃতীয়াংশ এই অভিযোগ মিটিয়ে দিয়েছে। চমৎকার কিছু রহস্যের উন্মোচন, নতুন রহস্য আর অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে লেখিকা পরবর্তী খন্ডের জন্য আগ্রহ বাড়িয়ে দিলেন অনেকখানি।

এবার আসি ফ্যান্টাসীর এলিমেন্টের দিকে। ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বেশ বড় পরিসরের এবং ডিটেইলড। সাত রাজ্য, তাদের অধিবাসী সবার কথাই পুরো বইয়ে বিভিন্ন জায়গায় উঠে এসেছে। তবে একটা ওয়েল ডিফাইনড ম্যাজিক সিস্টেমের অনুপস্থিতিটা বেশ খোঁচাচ্ছিল। হয়ত সামনে ম্যাজিক সিস্টেম নিয়ে আরো কাজ দেখতে পাবো।

বিচিত্র সব চরিত্রের সমন্বয়ে এগিয়ে গিয়েছে বইয়ের কাহিনী। আছে নির্ভরশীল যোদ্ধা ও দলের প্রধান আরিয়া, যে কিনা শত ঝামেলার মাঝেও কখনও কখনও তার ভেতরের বাচ্চামি দেখিয়ে ফেলে। আছে সদা চঞ্চল ডাফনি, যার সার্বক্ষনিক বাচ্চামো কিছুটা বিরক্তিরই উদ্রেক ঘটায়। এরপর সবথেকে পছন্দের শান্তশিষ্ট ঠান্ডা মাথার ক্যালিডা। নিজের অতীত নিয়ে ভুগতে থাকা রহস্যময় জেফিরা। সারাজীবন বন্দীশালায় কাটানো লেনোরা। এই দলের মধ্যে যে কেউ হতে পারে যোদ্ধাকুমারী। যোদ্ধাকুমারীর পরিচয় এই বইতে পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি তবে পাঠক পুরো বই খেয়াল করে পড়লে এই পাঁচ জনের কে যোদ্ধাকুমারী তা নিয়ে নিজ ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারবেন। আর বইয়ের ভূমিকায় যোদ্ধাকুমারীকে খুঁজে বের করার এই মজাদার চ্যালেন্জই পাঠকের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন লেখিকা। এছাড়াও দলের বাকি সদস্যরা কোমল হৃদয়ের অধিকারী রক্তদানব আলেক, পরী দুই ভাই এড ও বেন, ভালোবাসার টানে ঘরছাড়া যুবরাজ আরশান ও তার সেনাপতি কার্লোস সবাই নিজ গুনে গুণান্বিত। এতসব চরিত্রের মাঝে কোন একটি চরিত্র বিকাশ লাভ করতে পারেনি যা কিনা স্বাভাবিক তবে সব চরিত্রের নিজস্বতা বজায় রাখতে সফল লেখিকা।

পরিশেষে, হাই ফ্যান্টাসীর নিয়মিত পাঠকরা হয়তো বইটা খুব বেশি উপভোগ করবেন না, তবে এই জনরার নতুন পাঠকদের জন্য বেশ চমৎকার একটা বই। শুধুমাত্র আগ্রহ জাগানিয়া এন্ডিংটার জন্যই পরবর্তী খন্ডের অপেক্ষায় থাকলাম। লেখিকার জন্য শুভকামনা।
Profile Image for Fareya Rafiq.
75 reviews1 follower
June 27, 2023
"আমাকে একটু স্বাধীনতা দাও
শুধু একটু...
ঠিক যতটুকু স্বাধীনতা আমাকে ডানা দেবে,
উড়িয়ে নিয়ে যাবে অনেক দূরে।"

হাই-ফ্যান্টাসি জনরার সাথে আমার কোথায় যেন লোককথার রাজা-রানীর গল্পগুলোর মিল মনে হয়। আর সে কারণেই খুব একটা পড়া হয় না। এদিকে বাংলা সাহিত্যেও মৌলিক হাই-ফ্যান্টাসি জনরার আনাগোনা কম। যদিও রাজা-রানীর গল্প থেকে মেলা আলাদা আর বাংলায় এখন কিছু কিছু লিখা হচ্ছে৷
মিরিয়া বইটা প্রাপ্তি হয়েছিল প্রিয় এক বন্ধুর কল্যাণে। বইটার প্রচ্ছদটা মূলত আকর্ষণ করেছিল বেশি। কিন্তু পড়ার আগে পর্যন্ত ঠিক করে জানতাম না বইটা যে আগাগোড়া ফ্যান্টাসি।
বইয়ের কাহিনী শুরু হয় এক যুদ্ধের দৃশ্য দিয়ে। যদিও এই দৃশ্যপটের সাথে আমিনুল ইসলামের "যুদ্ধের সহস্র বছর পর" বইয়ের প্রারম্ভ কিংবা ড্যান ব্রাউনের "ইনফার্নো" এর কিছুটা মিল আছে বলে মনে হয়েছে, লেখিকা তারপরই দৃশ্যপট পালটে গল্পের ক্ষণিকের মিলসূত্রের ইতি টেনে দিয়েছেন।
বইটা মেলা আগ্রহ নিয়ে শুরু করলেও অর্ধেক বই শেষ করে ফেলার পরও কাহিনী কি ঘটছে বুঝতে না পারায় বিরক্তি ধরে যাচ্ছিল। তার সাথেই ঘনঘন বক্তার পরিবর্তনে মনে হচ্ছিল কাহিনী ধীর হয়ে গেছে। যদিও শেষের দিকে কিছুটা গতি ফিরে এসেছে।
বইটা পড়তে গিয়ে আরেকটা ব্যাপার অপূর্ণ মনে হয়েছে। সম্পাদক বলেছেন, তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন লেখিকার থেকে সর্বোচ্চ ভালোটা বের করতে। কিন্তু পরিবেশ ও চরিত্রায়নে�� ক্ষেত্রে কেন যেন মনে হয়েছে লেখিকা তার সর্বোচ্চটা দেননি। চরিত্র বর্ণন আরেকটু ভালো হতে পারতো। তাছাড়া ডাফনির অতিরিক্ত চঞ্চলতাও ভালো লাগে নি। ১৭/১৯ বছরের একটা মেয়ে এতটাও চঞ্চল হয় না, যেমনটা ডাফনিকে উপস্থাপন করা হয়েছে৷
শেষ যেই দিকটা খারাপ লেগেছে সেটা হলো যুবরাজ আরশানের ক্যালিডার প্রতি অতিরিক্ত দুর্বলতা। মনে হচ্ছিল এডভেঞ্চার বাদ দিয়ে প্রেমকাহিনী পড়তে বসে গেছি।
এত খারাপের মাঝে যে দিকটা ভালো লেগেছে সেটা হলো শেষদিকের যুদ্ধের দৃশ্যায়ন। লেখিকা শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে শেষে বেশ সাবলীলতা দেখিয়েছেন যুদ্ধের দৃশ্যের মাধ্যমে। এদিকে আবার ক্যালিডা চরিত্রটাকেও আমার দারুণ লেগেছে। ডাফনির তুলনায় সমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও পরিপক্ব মনে হয়েছে। বাংলায় এই নতুন ধারায় লিখায় প্রচেষ্টার জন্য লেখিকাকে সাধুবাদ জানাই। লেখিকা যেভাবে পরিসমাপ্তি টেনেছেন তাতে ধারণা করা যাচ্ছে বইটার পরবর্তী অংশ আসবে। আশা করা যাচ্ছে, লেখিকা পরবর্তী বইতে আরো ভালো করবেন।

বইঃ মিরিয়া
ধরণঃহাই-ফ্যান্টাসি
লেখিকাঃ সুজানা আবেদীন সোনালী
প্রকাশকঃ সতীর্থ প্রকাশনী
Profile Image for Sumaiya Snigdha.
24 reviews25 followers
March 29, 2024
ফ্যান্টাসি জনরার বই বরাবরই আমার পছন্দের 😊😊
প্রথমে বিরক্তি লাগলেও!! যত বেশি ক্যারেক্টার বিল্ড আপ হয়েছে, ততবেশি চরিত্রগুলোর সাথে জড়িয়ে গেলাম, চরিত্রগুলোকে ভালো লাগতে লাগলো, বেশ বড়সড় কলেবরে লেখিকার চরিত্রগুলোকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন 💙
সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার দিক হলো ---চরিত্র গুলোর অনুভূতি এত সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে 😇😇😇
আরিয়া, লেনোরা, আরশান,এড,বেন, ক্যালিডা, লিলিয়ানা -আলভার, বেনাডোনা, আর অবশ্যই ডাফনি,এত মজার একটা ক্যারেক্টার 😁 পরিশেষে লিলিয়ানার চিঠি আলভিয়ানার উদ্দেশ্যে🥹
বইয়ের নামকরণের মাহাত্ম্য পরিশেষে গেলেই বোঝা যাবে 🥰 সব মিলিয়ে অসম্ভব ভালো লেগেছে 🤗🤗
অবশ্যই মিরিয়ার পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষায় রইলাম 😁 & লেখিকার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা 😇🥰
Profile Image for Md. Shahedul Islam  Shawn.
188 reviews3 followers
August 17, 2024
প্রচ্ছদ সুন্দর, গল্পধারাও মোটামুটি। কিন্তু লেখা বাজে, আরো সহজ করে ও লেখা যায়। ন্যাকামি মনে হয় একটু বেশি হয়েছে। কিছু কিছু লেখা কয়েকবার রিপিটেড।

লেখা নিয়ে কেন বললাম,,, সকল চরিত্র এর নাম ইংরেজি বাবা মাইথোলজির কাছাকাছি পদবীও আলাদা আলাদা
এলফ ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার কিছু কিছু জায়গায় বাংলা আসলে ভালো লাগে না, যেমন রক্তদানব, যোদ্ধা রাজ্য, জ্ঞানী রাজ্য, ডাইনি, জাদুকর ইত্যাদি। লেখিকা পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার উপর গল্পটি অসম্পূর্ণ।

শৈল্পী পড়া ইচ্ছা মাঠে মারা, তবে জানি না পরে পড়ব কিনা।
Profile Image for Sumaiya.
290 reviews4 followers
April 4, 2023
৪/৪.৫ ও দেয়া যায় ⭐
পুরো বইটা পড়ার সময় কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম।
ফ্যান্টাসি তেমন পড়া হয় না তাই আমার মনে হয় এগুলো বুঝতে হলে একটু গুরুত্ত্ব আর মনোযোগ দিয়ে পড়া লাগে।
যাই হউক প্রথম দিকে একটু ধীরে এগোলেও মাঝের দিক থেকে ইন্টারেস্টিং হতে শুরু করে।
বই শেষ কিন্তু রহস্য এখনও অশেষ অবস্থায় ঝুলে আছে।
খুব ভালো লেগেছে আমার।
অজানাকে জানতে পরবর্তী পার্টের অপেক্ষায় রইলাম 😍
Profile Image for Mahir Shahriar.
33 reviews8 followers
March 2, 2023
২২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত খুবই এমেচার লাগা বইটা শেষ একশ পৃষ্ঠায় এক দারুণ টার্ন নিল। দ্বিতীয় বইয়ের জন্য শুভকামনা। প্রতিটা চরিত্রের গল্পের আর্ক কমপ্লিট হবে আশা করি।
Profile Image for Farjana Haque.
7 reviews
January 28, 2024
বেশ রহস্যজনক, দ্বিতীয় পার্টের অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Arfaz Uddin.
92 reviews7 followers
April 6, 2024
যুদ্ধ জয় শুধু শক্তির বল আর বুদ্ধির জোরেই নয়, বরং কিছুটা ভাগ্যের সাহায্যেও জয় করা সম্ভব হয়।

মিরিয়া বইটি যখন সতীর্থ প্রকাশনীর গিভাওয়ায়ে তে নেবার সিদ্ধান্ত নেই তখনো এই বই সম্পর্কে কোনো ধারনাই ছিলোনা। তবু লর্ড জুলিয়ান সাহেবের প্রচ্ছদ যেনো আমাকে চুম্বকের মত টেনে নিয়েছে বইটির কাছে। বাধ্য হয়ে বইটি বাছাই করি।

বলতে খারাপ লাগছে যে আমি বইটি এক বসায় শেষ করতে পারিনি। বেশ ব্যাস্ততায় ব্লকেজ খেতে খেতে আজ বৃষ্টিস্নাত পরিবেশে এক বসায় ইতি টানি বইটি। বলতে বাধ্য হচ্ছি যে সোনালী আপু বাংলাদেশের ফ্যান্টাসি জনরায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্যান্টাসির প্রতি আমি বরাবর ই দুর্বল আর এই বইটি আমাকে বিন্দুমাত্র নিরাশ করেনি। প্রতিটি পেজ যেনো আমাকে এক অন্য দুনিয়ায় নিয়ে গিয়েছে।

এক দৈববানী, এক যুদ্ধকুমারীর। যে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে গিয়ে পরিনত হয় একটি অন্ধবিশ্বাসে। একদল মানুষ, যাদের দৃঢ়চেতা মনোভাব আর অদম্য সাহস, বেরিয়ে পড়েছে সেই দৈববানীর খোজে। আদৌ কি সেই দৈববানী রয়েছে? নাকি মুখে মুখে প্রচলিত কোনো গালগপ্প? এদিকে আরেক জন বন্দি কাটারমোনাস রাজ্যে। সে কি পারবে নিজ বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে।

আসা যাক প্লটের ব্যাপারে। বইটি মূলত একটি বড় গল্পের শুরু। আর প্রথমদিকে গল্পে প্রবেশ করতে সময় লাগলো, পুরো জগতটাকে বুঝার চেষ্টা করলাম সময় নিয়ে। আস্তে আস্তে গল্পটি তার নিজস্ব তালে আগাতে লাগলো। আর একটা পর্যায়ে গল্পটা বেশ গ্রিপিং হয়ে গেলো। গল্পের সাথে মিশে গেলাম যেনো। প্রতিটি ঘটনা যেনো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো। আর মিশে গেলাম আমি আরিয়া, ডাফনি, ক্যালিডা, বেন, এড, আলেকের সাথে। সঙ্গী হলাম তাদের অভিযানের।

লেখনির ব্যাপারে লেখিকাকে জানাই লাল সেলাম। কেননা লেখনিতে তিনি বিন্দুমাত্র ত্রুটি রাখেন নি। প্রতিটি লাইন যেনো ভেবে চিন্তে তারপর কলম দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার লেখার ঢঙে যেনো আরো গভীরভাবে ডুবে যেতে লাগলাম মিরিয়ার জগতে।

ক্যারেকটারগুলো বেশ ইন্ট্রেস্টিং। ডাফনিকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। বান্দরের মত তিরিং বিরিং করে। আরিয়া গম্ভীর হলেও তার নেতৃত্বের গুনাবলি বেশ সুন্দর। আগলে রাখতে পারে। বেন এড ও খুবই জোস ক্যারেক্টার। আর ক্যালিডার কথা যদি বলি, সে কে তা আমি বুঝে গিয়েছি কিন্তু বাকিটা বলবো না হেহেহে। প্রতিটি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ও লেখিকা বেশ সময় নিয়ে গল্পের সাথে পাল্লা দিয়ে করেছেন। যা গল্পকে আরো গতিশীল আর প্রানময় করে তুলেছে। শেষে এটা বলা যায়, লেখিকার সেন্স অব হিউমার ভালোই লেগেছে আমার।

শেষে গল্পটি পরিনত হয়েছে তবে এটি মাত্র শুরু। বেশ আগ্রহ জন্মেছে যে পরবর্তীতে আরো কি হতে পারে। পরি��িষ্ট অনেক দিকেই ইঙ্গিত করছে। শেষে বইটি পড়ে বেশ তৃপ্তি পেয়েছি। বাংলাদেশের ফ্যান্টাসির জনরাতে মিরিয়া কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখযোগ্য কাজ বলে নিসন্দেহে স্থান দেয়া যায়।

লেখিকা ভূমিকায় মেইলের একটা ছোট্ট আয়োজন করেছেন। তিনি যদি রিভিউ দেখেন তাহলে তাকে বলবো শীঘ্রি আমি মেইল দিচ্ছি। আর লেখিকাকে এত চমৎকার বইটির জন্য ধন্যবাদ। তার লেখালেখির ক্যারিয়ার আরো সুদীর্ঘ হোক সেই শুভকামনা রইলো।

বইয়ের নামঃ মিরিয়া
প্রকাশনীঃ সতীর্থ প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারী ২০২২
মূল্যঃ ৩৫০ টাকা
পার্সোনাল রেটিং ৪.৫/৫
Displaying 1 - 22 of 22 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.