বাংলা সাহিত্যে একটি বিরল প্রচেষ্টার অন্যতম। ১টি উপন্যাস, ১৬ জন লেখক, ১৬ টি অধ্যায়ে লিখেছেন ।
উপন্যাসের শুরুতে ২ বন্ধু ঘুরতে যায় বক্সা ফোর্টে। সেখানেই খুব সুন্দর একটি পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত একটি কটেজে থাকার পরিকল্পনা করে তারা, এবং সেইমত থাকতেও শুরু করে। পান্ডববর্জিত জায়গা, স্থানীয় লোক বা একজন কেয়ারটেকারেরও দেখা নেই। শুধু মাঝে মাঝে দেখতে পাওয়া যায় একটা রহস্যময় ছেলেকে। কে ও, কোত্থেকে আসে – জানা নেই। শুরু থেকেই দুই বন্ধুর এই কটেজে থাকা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, বিভিন্ন উল্টোপাল্টা দৃশ্য হটাৎ করেই তাদের সামনে ভেসে উঠতে থাকে, যেসব দৃশ্যের সাথে এখনকার যুগের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে এসবের মানেটাই বা কী? সেই মানে খোঁজা নিয়ে এই উপন্যাস।
Various is the correct author for any book with multiple unknown authors, and is acceptable for books with multiple known authors, especially if not all are known or the list is very long (over 50).
If an editor is known, however, Various is not necessary. List the name of the editor as the primary author (with role "editor"). Contributing authors' names follow it.
Note: WorldCat is an excellent resource for finding author information and contents of anthologies.
আড়াইশো টাকা! এই মাগনার বাজারে আড়াইশো টাকার হয়তো খুব একটা দাম নেই। কম সে কম, এক প্লেট মাটন বিরিয়ানি? বা পিভিআর-এ ছবির টিকিট? অতি শিদ্দত সে চাইলে (দেখুন : কলেজ স্ট্রিটে জান লড়ালে) এবিপি গ্রুপের কোনো একটা শারদীয়াও অ্যাফোর্ড করতে পারেন এই আড়াইশো টাকায়। ব্যাস, ওটুকুই। তবে তাই সই। আর যাই করুন পত্র ভারতীর জমকালো আয়োজনে গলে গিয়ে 'পানিঝোরা কটেজ' কিনে বসবেন না আবার। আমার মতো হবেন না প্লীজ। নিজ উদ্যোগে নিজের প্রাণ বাঁচান। এসব ট্র্যাশপোকা ঘরে এনে, ক্যারদানি দেখাবেন না খবরদার!
তবে আগ্রহ জন্মানো স্বাভাবিক। আর যাই হোক, বইয়ের কনসেপ্টখানি একেবারে ফেলনা নয়। অন্তত বারোয়ারী উপন্যাসের চটক দেখেই এক লোকাল বইমেলা থেকে এ জিনিস কেনা। সাথে লেখক তালিকায় পছন্দসই সব নাম ও 'ভয়াল ভূতুড়ে' উপন্যাসের ট্যাগ। আমি উত্তরবঙ্গের মানুষ। বক্সা ফোর্ট, নকশাল আন্দোলন, সাহেবী ভূত ও স্বাধীনতা সংগ্রামের এক সহজপাচ্য ককটেল আশা করেই এগিয়েছিলাম। তবে শেষমেশ যা পেলাম, তার সাথে চিরতার রসের তুলনা করলেও চিরতার অপমান হয়।
এসব কোলাবোরেটিভ উপন্যাসে যা দরকার, সেই নুন্যতম ছকটাই এখানে মিসিং। এমন একটি কাঠামো, যেই নকশায় কলম চালিয়ে মৃত্তিকা লেপন করে থাকেন লেখক-লেখিকার দল। ফলস্বরুপ, পানিঝোরার এই খরস্রোতা পানি কোনো ধরাবাধা নিয়মে না চলে কোনো পাবলিক স্কুলের স্পোর্স্টস ডেতে আয়োজিত রিলে রেস হয়ে দাঁড়ায়। এমন এক রেস, যেখানে একজন লেখক সামান্য লিখেই, অন্যজনের হাতে ব্যাটন থামিয়ে পগার পার হন। এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন রানার, হঠাৎই ট্র্যাক ছেড়ে অন্য লাইনে নেমে, মনের সুখে উপন্যাসের যাবতীয় ডিরেকশনের প্রতি কাঁচকলা নিক্ষেপ করেন...
যেন কোনো ইমপ্র্ভ নাট্যের শিশুতোষ মহড়া। যেথায় একগুচ্ছ কুশীলব, থিয়েটার ভুলে 'যেমন খুশি সাজো' গোছের এক বালখিল্য প্রহসন ঘটিয়েই আনন্দে লীন। যার ইমিডিয়েট ইফেক্ট পড়ে গিয়ে গল্পের বইতে। 'বন্ধুর সঙ্গে হন্টেড হাউজ'-ট্রোপের একটি চরম বেসিক গল্প, দ্বিতীয় ভাগে এসে 'জন্মান্তর ও জাতীয়তাবাদ'-এর একটি বিশ্রী খিচুড়িতে পর্যবসিত হয়ে দিব্যিসে লোক হাসায়। হায় রে পুনর্জন্মের খেল! এর তুলনায় সৃজিতের ছবি বা সুমনের আলব্যামও রিক্ত। একত্রে এত জাতিস্মর একই সাথে খুঁজে পাওয়া সত্যিই বিরল।
এছাড়াও আছে চিরাচরিত অধিক সন্ন্যাসী/টু মেনি কুকস্ সিন্ড্রোম। এমন এক রোগ যার জেরে অধ্যাপক রাজা ভট্টাচার্যের অমন চমৎকার চ্যাপ্টারটির ঠিক পরেই চুমকি চট্টোপাধ্যায় নিজের 'জাদুকলম'-এর সাহায্যে, টেনশনের সমস্ত বুনোট ধূলিসাৎ করেন দায়িত্ব সহকারে। (অবশ্য, সম্পাদক/কর্ণধার পত্নী হওয়ার সুবাদে ওনার সেই অধিকার মালিকানা-যোগে প্রাপ্য। আমি বা আপনি বলার কে?)
তাই নামেই বারোয়ারি। আদতে বাড়াবাড়ি এই বইটিতে ষোলোজনের বদলে চার-পাঁচজনে মিলে, ছক-বেঁধে চেষ্টা করলেও বুঝি কিছু একটা দাঁড়াতে পারত। সেই ইউটোপিয়ান লাইন-আপে অবশ্যই শুরু করতেন সৈকত মুখোপাধ্যায়। ওয়ান ডাউনে নামতেন রাজামশাই হিমসেলফ। মিডল অর্ডারে হাল ধরতেন দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য ও সাগরিকা রায়। সাথে উত্তরবঙ্গের ভূগোল ও ইতিহাস নিয়ে থাকতেন মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য। এবং শেষপাতে, স্লগ ওভারে সুস্থির কনফিডেন্সে ফিনিশ করতেন সুলেখক অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী।
লেখক অবশ্য আসল বইতেও শেষলগ্নে আছেন। তবে সেটা সেকেন্ড-লাস্টে। ততক্ষণে বড় বেশি দেরি হয়ে গেছে। অন্তিম অধ্যায়ে আবার হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের আগমন। সেই 'নটে গাছটি মুড়োলো' নিয়ে আর নাই বা বললাম...
পুনশ্চ : যদ্দুর জানি, লকডাউনের সময় ঘরে বসে বেশ খেলার ছলেই ফেসবুকে এই জিনিস লিখেছিলেন সকলে। করোনাকালের দুর্বিষহ আবহে, এসব প্রচেষ্টা মানুষকে দুদণ্ড আনন্দ দিতেই পারে। সেই নিয়ে আমার কোনো আপত্তিও নেই। তবে তাই বলে, একটা গোটা বই? নট এভরিথিং নিডস টু বি ইন প্রিন্ট! তাই একটা তারা দিচ্ছি। হাতে গোনা কয়েকটা চ্যাপ্টার ও কৃষ্ণেন্দু মন্ডলের জমকালো প্রচ্ছদের খাতিরেই নাহয় দিলাম। এবারে যাই, বইটাকে গিয়ে কোনো ফটোজেনিক ঝর্ণায় স্নান করিয়ে আসি। কেউ আটকাবেন না প্লীজ।
বাংলা সাহিত্যে এক বিরলতম প্রচেষ্টার অন্যতম! ১ উপন্যাস, ১৬০ পৃষ্ঠা, ১৬ টি অধ্যায় আর ১৬ জন দুর্ধর্ষ শক্তিমান সাহিত্যিকের বলিষ্ঠ কলম। প্রেমময় সবুজের মাঝে ভয়ানক ভূতুড়ে আখ্যান শোনাতে এক ছাদের তলায় শামিল হয়েছেন ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, সৈকত মুখোপাধ্যায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, জয়ন্ত দে, রাজা ভট্টাচার্য, চুমকি চট্টোপাধ্যায়, বিনোদ ঘোষাল, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, অভীক মুখোপাধ্যায়, মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, সাগরিকা রায়, দীপান্বিতা রায়, অভীক সরকার, দেবারতি মুখোপাধ্যায়, অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী এবং হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত। অলৌকিক ষোলোকলার ভয়াল ঘূর্ণাবর্তে, সবুজ স্পন্দিত ডুয়ার্স বুকে 'পানিঝোরা কটেজ'-এর অভিশাপ আর বিশ্বাসঘাতকতা মাখা ইতিহাসে আপনাদের স্বাগত!!
যে একবার বিশ্বাসঘাতক, যে একবার প্রতারক, সে বারবার বিশ্বাসঘাতক, বারবার প্রতারক!
ডুয়ার্সের জনহীন জঙ্গলের মাঝে পাহাড় চিরে বয়ে যাচ্ছে ঝরনা, তার গায়ে পানিঝোরা কটেজ৷ যার পূর্ব নাম ছিল রবার্ট সাহেবের বাংলো৷ কিছু দূরে ইতিহাসের চাদর গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মৌন বক্সা ফোর্ট ৷ আন্দামানের সেলুলার জেলের পাশবিক অত্যাচারের মতো নিদর্শন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই কটেজ। বহু বিপ্লবীর স্বাধীনতা মাখা রক্ত দেখেছে এর সিলিং, অন্ধকার দেয়ালের কোণা। চাপা গোঙানির স্বর গুমরে উঠে হাহাকার করে এর ঘরগুলোতে। নকশাল আমলের ব্রিটিশ অত্যাচারের চাবকানি প্রতিধ্বনিত হয় জঙ্গলের দীর্ঘ মাথায়।
বাল্য বন্ধু অতীন আর উৎপল। একজন পেশায় শিক্ষক, অন্যজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দুজনের নেশা পাহাড় আর জঙ্গল। উপন্যাসে রয়েছে বহতা সময়ের চরিত্র ড্রাইভার রিকুং, সনাতন চৌবে রেহান, রোদেলা, আরেক ড্রাইভার বাজবাহাদুর গুরুং আর ননীগোপাল। এর সাথেই উঠে এসেছে কুয়াশার চাদরে মোড়া বিপ্লবী গঙ্গাচরণ চক্রবর্তী (উৎপলের দাদুর মেজকাকা), কৃষ্ণ চক্রবর্তী, তেজবাহাদুর গুরুং, নগেন্দ্রনাথ মিত্র, বিপ্লবী ফণীবাবু, অত্যাচারী রবার্ট সাহেব, তার স্ত্রী মার্থা, পোষা কুকুর টেডি।
ইতিহাসের পাতায় অত্যাচারী শাসকবর্গের নৃশংসতা পড়া একরকম, কিন্তু সেই নৃশংসতা চাক্ষুষ করা বড়ই ভয়াবহ। ইতিহাসের চরিত্ররা উঠে এসে যখন মিশে যায় বর্তমানের শরীরে, শূন্য সিলিং থেকে ঝুলে পরে খাকি হাফ প্যান্ট পরিহিত দুটো পা, অদৃশ্য কোনো এক গুরুগম্ভীর কন্ঠ হাতুড়ি পেটায় বুকে, বারান্দায় টপটপ করে ঝড়ে পড়ে তাজা লাল রক্ত, ভারী বুটের আওয়াজ আর পাগলা ঝোরা পেরিয়েই জনমানবহীন, পরিত্যক্ত 'পানিঝোরা কটেজ' তখন নিঃশব্দ মন্ত্রে আহ্বান জানায় শিকারকে।
জেগে ওঠা অতীত এর ক্ষুধিত কুয়াশা আর মেঘ ঘিরে ধরে উৎপল আর অতীনকে। কায়ারা মিশে যায় ছায়ায়....ছায়ারা রূপ ধরে কায়ার। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে নকশাল আ��্দোলনের মুহূর্তরা অভিনীত হতে থাকে বর্তমানের আলো-আঁধারির মঞ্চে। আর তারই মাঝে সময়ের জাঁতাকলে পড়ে যায় জীবিত মানুষেরা। এই মঞ্চ থেকে ফিরে আসা নেই, যা আছে তা শুধু প্রতিশোধের আগুন আর বিশ্বাসঘাতকতার বদলা। যারা ভৌতিক-অলৌকিক-রহস্য-ইতিহাসের সংমিশ্রণে সৃষ্ট উপন্যাস পড়তে চাইছেন, নিঃসন্দেহে তুলে নিন বইটি। ইতিহাসের বইয়ের পাতায় অরক্ষিত বক্সা ফোর্টের বিপ্লবী রক্ত মাখা কুঠুরির হাহাকার আর পানিঝোরা কটেজের ভয়ালতা আপনাকে চুম্বকের মতো টেনে রাখবে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত। আর একবার শেষ হয়ে গেলে আপনি নিজেও বোধকরি গলা মেলাবেন তাদের সাথে, বন্ধ চোখের কোল বেয়ে গড়িয়ে আসবে অশ্রু ঠিক যেনো নৃত্যরত পাগলা ঝোরা,....'বন্দেমাতরম'!
বইটি এক কথায় অনবদ্য। আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটিও চমৎকার এবং অর্থবহ। আসলেই ভয়ের একটি উপন্যাস পড়তে চাইলে বইটি অবশ্যই আপনাদের পড়ে দেখা উচিত।
⛳ কি ভাবছেন বইটা কেমন হবে? বইটা কি কেনা যাবে? কী আছে এই বইতে? আসুন দেখে নিই.......
🔰🕊️ এই বই সম্পর্কে অনেক আলোচনা চোখে পড়েছে, আমি বইটি কিনেছিলাম ঠিক এক বছর আগে। গতকাল রাত থেকে যখন পড়া শুরু করি, প্রথমে কয়েকটা পেজ দেখে একটু খটকা লেগেছিলো 🤔। 16 জন লেখক লেখিকারা মিলে এই উপন্যাসকে সৃষ্টি করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যে এই প্রথম......
🔰🕊️ ডুয়ার্সের জনহীন জঙ্গলের মাঝে পাহাড় চিরে বয়ে যাচ্ছে ঝরনা, তার গায়েই রয়েছে পানিঝোরা কটেজ। ইতিহাসের অমোঘ টানে ডুয়ার্সে বেড়াতে এসেছে দুই বাল্যবন্ধু উৎপল আর অতীন। উৎপল আর অতীন এসে পৌঁছায় সেই অভিশপ্ত পানিঝোরা কটেজে। বাংলোটা প্রায় একশো বছরের পুরোনো........
🔰🕊️ এমনিতেই এই কটেজে আসার পর থেকে একের পর এক খারাপ অভিজ্ঞতা হয়ে চলেছে। ভালো লাগার বদলে খারাপ অভিজ্ঞতাই বেশি। এরপর ই পানিঝোরা কটেজে জেগে ওঠে সেই সময়ের অতীত। ঘনিয়ে আসে কালো মেঘ, অতীনের দাদু বৃটিশ আমলে এই ফোর্টে বন্দি ছিলো সাথে আরও ভারতের অনেক স্বাধীনতা যোদ্ধা। তাদের ওপরে নৃশংস অত্যাচার করত ব্রিটিশ কর্তারা। তারপর নকশাল আন্দোলনের সময়েও সেই অত্যাচারের ইতিহাস আবার ফিরে এসেছিল। পানিঝোরা কটেজ এসবের প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। সেই পুরোনো সময়ে সেখানেও ঘটেছিল দুটি রুদ্ধশ্বাস বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা। অতীতের এইসব ভয়ংকর ঘটনার অভিশপ্ত ছায়া এসে পড়ে বর্তমানে। যার সাক্ষী হিসাবে উৎপল আর অতীন দুই বন্ধু....... একের পর এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে চলেছে তাদের সাথে। এই বিপদের হাত থেকে উৎপল আর অতীন কিভাবে রক্ষা পাবে? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে!
🔰🕊️ ব্যক্তিগত মতামত ~ এটি একটি ভুতুড়ে উপন্যাস। ১৬ জন লেখক লেখিকারা লিখেছেন বলে একবারও মনে হচ্ছে না, কারণ এতো সুন্দর ভাবে গুছিয়ে প্রতিটি অধ্যায় শুরু হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিটি অধ্যায় একের পর এক নতুন চমক, যা একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না। ১৬০ পেজের এই উপন্যাসে শুরু করে পড়তে পড়তে কখন যে শেষ হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না। প্রত্যেকটা অধ্যায় শুরু হওয়ার আগে রয়েছে চমৎকার অলঙ্করণ যা একটা আলাদা মাত্রা যোগ করে গল্পের মেজাজে। আমার বেশ ভালো লেগেছে এই উপন্যাস। শেষে এটুকুই বলতে পারি যে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে এই ভূতুড়ে উপন্যাসটি তৈরি করা হয়েছে, ভৌতিক, অলৌকিক প্রেমী মানুষজন অবশ্যই এই বইটি পড়ুন। বইটি হার্ড কভার, ভালো কাগজ, ঝকঝকে ছাপা ও আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ সমৃদ্ধ।
📌 সাহস ভালো, কিন্তু হঠকারিতা ভালো নয়! 📌অন্ধকার কেটে গেলে ভয় ফিকে হয়ে যায়!
📥🗒️2024 Book Review ~ 72 যদি এই বইটি পূর্বেই কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত জানাবেন। এছাড়াও আমার রিভিউ কেমন লাগছে সেটাও জানাবেন নিচের কমেন্ট বক্সে। যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয় সেটাও জানতে ভুলবেননা। 🍀 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। 🙂 🙏🏻 !! ধন্যবাদ !! 🙏🏻
এই ভৌতিক উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য হলো পুরো গল্পটি ১৬ টি পর্বে বিভক্ত এবং প্রতিটি পর্বই এক একজন সাহিত্যিকের লেখা। ১৬ জন সাহিত্যিক পরপর ১৬ টি পর্ব লিখেছেন এই ভৌতিক উপন্যাসটিতে। প্রথম পর্ব শুরু করেছেন শ্রী ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়, উনি যেখানে গল্পটি শেষ করেছেন ঠিক সেখান থেকে শুরু করেছেন শ্রী সৈকত মুখোপাধ্যায়। আবার শ্রী সৈকত মুখোপাধ্যায় যেখানে গল্পটি শেষ করেছেন ঠিক সেখান থেকে শুরু করেছেন শ্রী জয়দীপ চক্রবর্তী। এই ভাবে পরপর লিখে গেছেন শ্রী জয়ন্ত দে, শ্রী রাজা ভট্টাচার্য, শ্রীমতী চুমকি চট্টোপাধ্যায়, শ্রী বিনোদ ঘোষাল, শ্রী দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, শ্রী অভীক মুখোপাধ্যায়, শ্রী মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, শ্রীমতী সাগরিকা রায়, শ্রীমতী দীপান্বিতা রায়, শ্রী অভীক সরকার, শ্রীমতী দেবারতি মুখোপাধ্যায়, শ্রী অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী এবং শ্রী হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত। সাহিত্যিক শ্রী হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্তের অন্তিম তথা ১৬তম পর্ব দিয়ে শেষ হয়েছে উপন্যাসটি।
অতীন, উৎপল বেড়াতে যায় ডুয়ারসে, থাকার জন্য কলকাতা থেকে বুকিং করে রেখেছিল পাহাড়ের কোলে পানিঝোড়া কটেজ, আগে যার নাম ছিল রবার্ট সাহেবের বাংলো। ইংরেজ শাসনকালের ও নকশাল আমলের বহু ঘটনা জড়িয়ে আছে এই কটেজটিকে নিয়ে। ড্রাইভার রিকুং তাদের পানিঝোড়া কটেজে পৌঁছে দিয়ে ফিরে যায়। কিন্তু কাউকে দেখা যায় না, বরং তারা ধুলোতে খালি পায়ের ছাপ দেখতে পায় ও নাকে আসে একটা বোঁটকা গন্ধ। তারপর ঘটতে থাকে নানান অলৌকিক ঘটনা, সাধারণ যুক্তিতে যার ব্যাখ্যা হয় না। সময়ের ফ্রেমে চলে আসে পুরোনো ঘটনা, পুরোনো চরিত্র। ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে রোদেলা ও রেহান। কি হবে শেষ পর্যন্ত সেটা জানতে হলে পড়তে হবে বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম ১৬ জন সাহিত্যিকের কলমে লেখা এই ভূতুড়ে উপন্যাসটি।
২০ পাতা মত পড়ার পরেই বুঝতে পারলাম যে রিভিউগুলিতে যা যা বলা হয়েছে তা তা একদমই ঠিক। তাই বাকি বইটা পড়ার চেষ্টা করলাম না। ভাগ্যিস পয়সা দিয়ে কিনতে হয় নি।