Jump to ratings and reviews
Rate this book

অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম

Rate this book
সময়টা ২০০০ এর শুরুর দিকে। রাশেদ খন্দকার। এক নিতান্ত সাদাসিধে ছেলে। ঘরকুনো স্বভাবের ছেলেটিই বাবা-মা'কে ছেড়ে রাজশাহীতে পড়তে যায়। বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যেয়ে পুঠিয়ায় এক জমিদার বাড়ি তার আকর্ষণের বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে আগুনে ভস্ম হয়ে যাওয়া জমিদার বাড়ির আঙিনায় একটা ধ্বংসস্তূপ তাকে ডাকতে থাকে।
সাবেক কর্মচারী মুনিম বাবুর কাছ থেকে জমিদার বাড়ির কিছু গল্প রাশেদকে মোহিত করে। পুড়ে যাওয়া বাড়িটিকে লোকে বাঈজি বাড়ি বললেও মূলত তা ছিল জমিদার সোমনাথ রায়ের একান্ত ভুবন 'নীলাম্বরী'। এমনকি এই রহস্যময় বাড়িতে বিশ্বস্ত কিছু মানুষ ছাড়া সর্বসাধারণের প্রবেশ ছিল সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। এক অন্ধকার রাতে নীলাম্বরীতে আগুন লেগে অতিথিসহ অনেকে মারা যায়। কীভাবে এবং কেন মারা যায় তা আজও এক রহস্য!
মৃত্যুর আগে রাশেদকে জমিদার সোমনাথ বাবুর ডায়েরি তুলে দিয়ে যায় মুনিম বাবু। ডায়েরির পাতায় সোমনাথ এঁকেছেন এক আশ্চর্য নারী জোবায়দা চৌধুরীকে। লিখেছেন স্ত্রী কমলা ও দ্বিমাতা কুমুদিনী দেবীর কথাও। তারা কি আজও বেঁচে আছেন? নাকি সেদিনের আগুনে তারাও পুড়ে ছাই হয়েছেন।
রাশেদ খুঁজে বেড়ায় জোবায়দা চৌধুরীকে।
ডায়েরির পাতায় লুকিয়ে থাকা জমিদার বাড়ির এক কলঙ্কিত ইতিহাস তাকে মোহগ্রস্ত করে দেয়।
রাশেদও পাড়ি দেয় এক অজানা অন্তঃশূন্যের অন্ধ হিমে।

171 pages, Hardcover

First published January 1, 2021

1 person is currently reading
54 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
25 (35%)
4 stars
31 (44%)
3 stars
11 (15%)
2 stars
2 (2%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 30 of 33 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews433 followers
April 9, 2022
৩.৫/৫
দুই সময়রেখা ধরে এগোনো কাহিনির প্রধান দুই কুশীলব রাশেদ আর জমিদার সোমনাথ রায়।এই দুজনের ভূত ও ভবিষ্যত,আলো ও অন্ধকার নিয়েই "অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম।"খুব সাধারণভাবে শুরু হওয়া কাহিনি শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে রহস্যগল্পে।কিছু প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলো না কিন্তু লেখিকা শেষ পর্যন্ত গল্পের আকর্ষণ ধরে রাখতে পেরেছেন।কাহিনির মোচড়গুলো অপ্রত্যাশিত এবং পুরো গল্প খুব গোছানো।সব মিলিয়ে বই পাঠের অভিজ্ঞতা বেশ আনন্দদায়ক।
Profile Image for আশিকুর রহমান.
152 reviews27 followers
September 29, 2021
গল্পের ভেতর অনেকগুলো মানুষের গল্প৷ আনন্দের, বেদনার, প্রতিহিংসার, লজ্জার, ভয়ের৷
লেখিকার গল্প বলার ঢঙের প্রশংসা করতে হয়৷ সাধারণ কিছু মানুষের জীবনের টুকরো টুকরো ঘটনাকে জোড়া দিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটা চিত্র একেছেন৷ এটি তার প্রথম উপন্যাস- তা পড়ার সময় বোঝার উপায় নেই কোনো৷
প্রায় গোটা বইটাই মূল চরিত্র রাশেদের জবানীতে পড়বে পাঠক৷ সামান্য সময়ের জন্য জুবাইদার কাছে চলে যাবে গল্প বলার দায়িত্ব৷ রাশেদের পারিবারিক ইতিহাস বেশ ক'পাতা জুড়ে দেখা গেছে বইয়ের শুরুতে, এর গুরুত্ব পরে উপলব্ধি করবে পাঠক৷
অন্যান্য চরিত্রগুলোর ব্যাপ্তি ছিল সুষম পরিমাণে৷ বেশ ভালো লেগেছে রাশেদের বড়ভাই মাহফুজকে৷ রাশেদের ফ্ল্যাটের কাজের ছেলে নুরু মিয়ার ক্যারেক্টার আর্কটা অপ্রত্যাশিত রকমের ছিল৷ নুরুর কাজকর্ম আর ডায়লগ হুমায়ুন আহমেদের প্রভুভক্ত চরিত্রদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল বার বার৷
অনেকগুলো ঘটনা পেয়াঁজের খোসার মতো উন্মুক্ত হচ্ছিল আস্তে আস্তে যা ফাইনাল ক্লাইম্যাক্সকে পূর্ণতা দিয়েছে৷ বেশকিছু টুইস্ট ছিল, তবে তার দু-একটি বুদ্ধিমান পাঠক আন্দাজ করতে পারবে বলে আমার ধারণা৷

মুদ্রণপ্রমাদ ছিল বেশকিছু৷ প্রুফরীডিং আরেকটু ভালো করা দরকার ছিল৷ ১৭তম অধ্যায়ের শুরুতে উত্তম আর নামপুরুষ মিশে গেছে বর্ণনায়৷ আর বইয়ের ব্যাককাভারে জুবাইদাকে 'জোবাইদা' লেখা হয়েছে৷ আরেকটা খটকা লেগেছে- সোমনাথের ডায়েরি সপ্তাহের কোন বারে লেখা, তা উল্লেখ থাকলেও সাল অনুপস্থিত ছিল বিধায় টাইমলাইনটা বুঝতে পারিনি৷ সেইসাথে ডায়েরির সর্বশেষ এন্ট্রিটা কোন ফাঁকে লেখা হলো বুঝলাম না৷ শেষ এন্ট্রিটা খুব তাড়াহুড়ো করে লেখার কথা ঘটনা অনুযায়ী৷ তবে তার কোনো ছাপ পাইনি বইতে৷

প্রচ্ছদটা আদনান আহমেদ রিজনের কৃতিত্ব৷ বুকস্ট্রিটের চমৎকার প্রোডাকশনে এলিমেন্ট গুলো দারুণ ফুটে উঠেছে৷
সবমিলিয়ে এক বসায় শেষ করার মতো একটা বই৷ সাবলীল লেখনীর অধিকারী নবীন লেখিকা ভবিষ্যতেও দারুণ কোনো গল্প উপহার দেবেন আশা করি৷
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
218 reviews43 followers
June 29, 2022
একেকজন লেখকের স্পেশালিটি একেকটা। কেউ প্লট দিয়ে বুঁদ করে রাখেন, কেউ ফিলোসফি দিয়ে জটিলতম উপলব্ধি করান। এই বইয়ের লেখকের স্পেশালিটি হচ্ছে লেখার ধরন। লেখার ধরনখানা অত্যধিক সুন্দর। ইদানীং বদ অভ্যাস হচ্ছে, আমি বই পড়তে পড়তেই ঘুমায়ে যাই। ভাবলাম এইটা পড়তেও পড়তেও ঘুমায়ে যাব। কিন্তু দেখা গেল এক বসাতে বইটা শেষ করেই তারপরেই ক্ষান্ত দিলাম। সাধারণ ও অজস্রবার পড়া ঘটনাগুলো কিন্তু তাও পড়তে বেশ লাগছিল শুধুমাত্র লেখনীর জোরে। নুরু মিয়ার ব্যাপারখানায় বেশ খারাপ লেগেছে। হয়ত এত দুঃখ একটা মানুষ না পেলেও পারত। প্রকৃতি কিছু মানুষকে হয়ত দুঃখ পাওয়ার জন্যই তৈরি করে। ডায়েরীর অংশগুলো ভাল্লাগছিল পড়তে। সবমিলিয়ে বইটা বেশ উপভোগ্য। এরকম আরামদায়ক লেখা পড়তে ভালই লাগে। বুক স্ট্রিটের সম্পাদক সাহেবের জহুরির চোখ আছে বলা যায়। বুক স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত চার পাঁচটে মৌলিক পড়লাম সব কটিই বেশ ভাল লেগেছে।
Profile Image for Khandaker Sanidulla Sanid.
42 reviews8 followers
January 27, 2023
একেবারে বলতে গেলে জিরো এক্সপেক্টেশন নিয়ে পড়তে বসেছিলাম। কিছু ব্যাপার একটু মনমতো না হলেও শেষ করে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews158 followers
October 5, 2021
এটা একটা আনপুটডাউনেবল বই ছিলো আমি বলবো।
এটা ঠিক থ্রিলার কিনা আমার জানা নাই। তবে একটা মিস্ট্রি, রহস্যময় আবহ ছিলো পুরো গল্প জুড়ে। গল্প আগায় রাশেদ খন্দকার নামে ঘরকুনো স্বভাবের এক চরিত্রের মুখ দিয়ে ঘটনা বিবরণির মাধ্যমে। সাথে পুঠিয়ার জমিদার বাড়ির শেষ জমিদার সোমনাথ রায়ের গল্প ছিলো অর্ধেক অংশ জুড়ে। রাশেদ খন্দকারের বেড়ে ওঠা, তার পরিবার, জীবনযাপন, প্রেম, ছেলেবেলার ট্রমা, সাইকোলজিক্যাল সমস্যা এগুলো ঘিরে কাহিনী আবর্তিত হতে থাকে। মাঝে ঘটনাক্রমে পুঠিয়ার জমিদার সোমনাথ রায়ের জীবনকাহিনী নিয়ে অবসেসড হয়ে পড়ে রাশেদ খন্দকার, হতে পারে তার সাথে জমিদারের জীবনের অদ্ভুতরকম মিলের কারণেই। তিনি কিভাবে মারা গেলেন, কেমন মানুষ ছিলেন, কেন মানুষ তাকে খুব ভালোবাসতো আবার ঘৃণা করতো এসব প্রশ্নের উত্তর সে খুঁজে বের করতে থাকে। এভাবেই ঘটনা এগোয়।
বইটার কাহিনী একজনের মুখ দিয়েই বলা বিধায়, গল্প শোনাচ্ছে কেউ বসে এরকম লাগছিলো। কিছুটা সংলাপের দূর্বলতা ছিলো হয়তো প্রথম বই হিসেবে, তবে চোখে লাগার মতো নয়। নুরু মিয়া চরিত্রটা যখন আসে স্ক্রিনে, লেখক/লেখিকা তখন কিছুটা হুমায়ূন আহমেদ দাঁড়া প্রভাবিত হয়ে পরছিলেন। শেষে গিয়ে সব ঘটনা যখন বের হয় একটা খারাপ লাগা কাজ করছিলো, এবং আমি কিছুটা চমকেও গিয়েছিলাম। একটা প্রচ্ছন্ন পূণর্জন্মের হিন্টস দিলেন কি লেখক কাহিনীটায়? ওভারঅল ভালো লেগেছে আমার বইটি পড়তে। ঘটনা ঘোরানো-প্যাচানো না হলেও ধরে রাখে একদম। যেকারণে, একটানা পড়ে শেষ করেছি এই সুখপাঠ্য বইটি।
আমার কাছে বইটির নাম পছন্দ হয়নি দেখে কিনিনি এতদিন। তবে অনেকের কাছে রিভিউ শুনে মনে হলো একটা ট্রাই দেয়া যেতে পারে। বইটা আমার মতে ঠিক থ্রিলার নয়, তবে মিস্ট্রির গুণে মনোযোগ আকর্ষণ করতে বাধ্য।
Profile Image for Amin Choudhury.
63 reviews
September 4, 2021
The worst loneliness is to not be comfortable with yourself.

-Mark Twain

আমি যে ধরনের ফিকশন পড়ে থাকি সেগুলো সাধারণত জনরাভিত্তিক ফিকশনের ক্যাটাগরিতে পড়ে। লিটেরারি ফিকশন পড়া হয়না তেমন আমার। মৌলিক থ্রিলারে তো এ ধরনের গল্প আরো দুর্লভ। লিটেরারি ফিকশন হলো ফিকশনের এমন একটি ধারা যেখানে গল্পের প্লটের চেয়ে গল্পের ক্যারেক্টারগুলোকে বেশী হাইলাইট করা হয়। ক্যারেক্টারের চিন্তা-ভাবনা, ব্যাকস্টোরি কিংবা মেইন ক্যারেক্টারের পয়েন্ট অফ ভিউ গুরুত্ব পায় বেশী। এক্ষেত্রে ন্যারেটিভ হয়তো কিছুটা স্লো হয়ে যেতে পারে কারণ এ ধরনের গল্পে ক্যারেক্টারের দিকে ফোকাস বেশী করা হয়। শেষে সবগুলো ছোট ছোট গল্প একত্র করে একটি সমাপ্তি টানা হয়। 

এতোগুলো কথা বলার কারণ হলো সুফাই রুমিন তাজিনের "অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম" এই ক্যাটাগরির একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। যদিও গল্পে মিস্ট্রি থ্রিলার এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের হালকা ব্লেন্ড ছ��লো তবে মোটা দাগে এটি হয়তো লিটেরারি ফিকশন ক্যাটাগরিতেই পড়বে। বাংলা ভাষায় এতো সাহসী কাজের জন্যই শুধু বইটি পড়া যেতে পারে।

গল্পের প্রধান চরিত্র রাশেদ। পুরো নাম রাশেদ খন্দকার। অসম্ভব মেধাবী রাশেদ স্বভাবে ইন্ট্রোভার্ট। বাবার বিত্ত-বৈভব, মায়ের অখন্ড মনোযোগ এবং বড় ভাইয়ের স্নেহের মধ্যে বড় হলেও ভয়ংকর একাকীত্ব গ্রাস করে নিয়েছে তাকে। বয়ঃসন্ধিকালে একটি দুর্ঘটনার পর সেটি পরিণত হয় ডিপ্রেশনে। চরম একাকীত্বকে সঙ্গী করে পরিবার থেকে একটু দূরে থাকার ইচ্ছে নিয়ে রাজশাহী পাড়ি জমায় রাশেদ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর একটা বন্ধুও জুটে যায়। এক ছুটিতে বন্ধু নাজমুলের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর মফস্বল শহর পুঠিয়াতে বেড়াতে যায় রাশেদ। ওখানকারই এক জমিদার বাড়ি পুরো এটেনশন নিয়ে নেয় ওর। জমিদার বাড়ির কেয়ারটেকার মুনিম বাবুর কাছ থেকে জানতে পারে অনেকদিন আগে এক ভয়ানক অগ্ধিকান্ডে জমিদার বাবু উনার সহধর্মিণীসহ মারা গিয়েছিলেন। সাথে পুড়ে ছাই হয়েছিলো জমিদার বাবুর সাধের বাইজি বাড়ি "নীলাম্বরী"।

আগ্রহ আরো বাড়তে থাকে যখন রাশেদ জানতে পারে তখন জমিদার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের দুজন অধ্যাপক এবং কয়েকজন স্টুডেন্ট। তাদের মধ্যে আবার দুজন ছাত্রীও ছিলেন। তখনকার দিনে যা নিতান্তই অসম্ভবের কাছাকাছি কিছু। ঐ দুর্ঘটনায় মারা যান বেড়াতে আসা একজন ছাত্রী নীলিমা। এই ঘটনার রেশ কাটার পর জমিদার বাড়ির সবাই যে যার মতন নিজেদের পথ দেখে নেন। ট্র্যাজিক ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো।

কিন্তু রাশেদের মনে হতে থাকে এই বাড়ির অন্যকোনো কাহিনী আছে। জমিদার সোমনাথ বাবুর যেনো কোনো গল্প আছে। আর রাশেদও কেনো জানি জমিদার বাড়ির প্রতি আলাদা টান অনুভব করে। বারবার ফিরে যাচ্ছে সেই বাড়িতে। রাশেদের আগ্রহ দেখে কেয়ারটেকার মুনিম বাবু মারা যাবার আগে একটি ডায়েরী দিয়ে যান রাশেদের হাতে। একে একে রাশেদ জানতে পারে জমিদার বাড়ির আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা সব কলঙ্কিত ঘটনা। জানতে পারে সোমনাথ বাবুর ব্যক্তিগত টানাপোড়নের গল্প। এবং জানতে পারে জুবায়দা চৌধুরী নামের রহস্যময় এক নারী সম্পর্কে। তবে আসল রহস্য কি জানতে পারে? কি হয়েছিলো সেই রাতে? কেনোইবা নিজের স্ত্রী আর বাড়ির অতিথিকে নিয়ে নীলাম্বরীতে গিয়েছিলেন সোমনাথ বাবু? আর সবচে' বড় প্রশ্ন? এই জুবায়দা চৌধুরীর কি সম্পর্ক ছিলো জমিদার বাবুর সাথে? 

আমাদের ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভালো কাজগুলো কেনো জানি তেমন আলোচনায় না আসলেও বিতর্কিত কাজগুলো গ্রুপ/পেইজ মাতিয়ে রাখে। "অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম" অসম্ভব ভালো একটা বই হলেও এটা নিয়ে আমি তেমন আলোচনা দেখিনি। লেখক তার প্রথম বইয়ে যে পটেনশিয়াল দেখিয়েছেন আশা করি তা পরবর্তী বইগুলোতে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন।

বই পড়ার পর সবচেয়ে আগে আমি যে জিনিস ভাবি সেটা হলো চরিত্রায়ন কেমন ছিলো। আগেই বলেছি এটা ক্যারেক্টার বেইসড বই। প্রতিটা চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড মোটামোটি ভালোভাবেই উঠে এসেছে। তবে কুমুদিনী দেবীর অতীত সম্পর্কে আরেকটু জানার ইচ্ছা ছিলো। মূল চরিত্র রাশেদের কাজকর্মের পেছনে লেখক ক্লিয়ার কারণ দেখিয়েছেন। বেশ ভালো ধারণা পাওয়া গেছে রাশেদের কর্মকান্ডের পেছনে। 'কি করছে' থেকে 'কেনো করছে' জানাটা ইন্টারেস্টিং ছিলো। একজন মানুষ কিভাবে চেঞ্জ হয় বা কিভাবে সাধারণ একজন মানুষের মনোজগত আস্তে আস্তে পাল্টে যায় একের পর এক ঘটনা-দুর্ঘটনার মাধ্যমে সেটারও বেশ ভালো উদাহরণ পাওয়া গেছে। 

তবে বইয়ের পছন্দের পার্টটি ছিলো সোমনাথ চৌধুরী ডায়েরী। পড়তে পড়তে যেনো অন্য এক সোমনাথ বাবুকে আবিষ্কার করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে একজন সৎ, সাহসী, দাপুটে জমিদারের মনোজগত কতটা জটিল হতে পারে সেটা আসলেই আশ্চর্য করার মতো। একেকটা অধ্যায়ের পর বেরিয়ে আসতে থাকে জমে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর। কিন্তু ডায়েরির রচনাকাল সম্পর্কে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। সময়টা জানা থাকলে রিলেট করতে সুবিধা হতো। সময়টা অবশ্যই ১৯৫৩ এর পরে কারণ এই সনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়। এই সময়ে এতো দাপুটে জমিদারি একটু বেশীই কল্পনায় আশ্রয় হয়ে গেলো কিনা কে জানে। 

কিছু রিভিউয়ে দেখলাম লেখক অনেক প্রশ্নের উত্তর দেননি বলা হয়েছে। যদি বইয়ের ১৭ নাম্বার অধ্যায় আবারো পড়েন তাহলে মনে হয় না পাওয়া উত্তরগুলো পেয়ে যাওয়ার কথা। লেখকের সরাসরি উত্তর না দিয়ে লেখনীর মাধ্যমে দেয়ার ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। প্রথমে অতিরিক্ত বর্ণনা থাকলেও বই বেশ দ্রুতগতির। একটানে পড়া সম্ভব। তবে এ ধরনের বই আস্তেধীরে পড়া ভালো। মাথায় ঢুকবে ভালোমতো। 

বুকস্ট্রিটের প্রুফরিডিংয়ে আরো যত্নশীল হওয়া উচিত। ছোট ছোট অনেক বানান ভুল ছিলো।
বাকি প্রোডাকশন বেশ ভালো। আর একটা কথা। বুকস্ট্রিটের বই যতো পড়ছি তত অবাক হচ্ছি যে এতো ভালো ভালো বই কিন্তু আলোচনায় নেই কেনো! শব্দযাত্রা লেখক সংঘ তারপরে দ্য ডার্ক মেইডেনস আর এখন এটা। ব্রাভো বুকস্ট্রিট…
Profile Image for শুভাগত দীপ.
276 reviews43 followers
June 29, 2021
|| রিভিউ ||

বইঃ অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম
লেখিকাঃ সুফাই রুমিন তাজিন
প্রকাশকঃ বুক স্ট্রিট
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
ঘরানাঃ মিস্ট্রি/সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ আদনান আহমেদ রিজন
পৃষ্ঠাঃ ১৭১
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার

কাহিনি সংক্ষেপঃ রাশেদ খন্দকার অন্তর্মুখী স্বভাবের এক যুবক। প্রচুর বিত্ত-বৈভবের মধ্যে মানুষ হলেও তার ভেতরে জায়গা করে নিয়েছে ভয়াবহ এক একাকীত্ব। সময়ের সাথে সাথে নিজের পরিবার থেকেই যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাশেদ। অনেকটা একা থাকার অভিপ্রায়েই সে ঢাকা থেকে চলে আসে রাজশাহীতে। ভর্তি হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু নাজমুলের সাথে পুঠিয়াতে তার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়াটাই যেন বদলে দেয় রাশেদের জীবনের গল্পটাকে।

পুঠিয়ার এক পুরোনো জমিদারবাড়ি মনোযোগ কেড়ে নেয় রাশেদের৷ অনেক বছর আগে এই জমিদারবাড়িতেই ঘটে গিয়েছিলো ভয়ঙ্কর এক দুর্ঘটনা। আর সেই দুর্ঘটনার পর ছড়িয়েছিলো অনেক গুজব। এই জমিদার বংশের সর্বশেষ জমিদার সোমনাথ রায়ের জীবনের গল্প যেন হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে তাকে। নিজের অজান্তেই জমিদার সোমনাথ রায় ও তাঁর পরিবারের ওপর আগ্রহী হয়ে ওঠে সে। জমিদারবাড়ির পুরোনো ককর্মচারী বৃদ্ধ মুকিম বাবুও রাশেদের এই আগ্রহ টের পেয়ে তাকে শোনালেন সেই সময়ের অনেক ইতিহাস।

জমিদার সোমনাথ রায় ছিলেন সুপুরুষ ও বিদ্বান একজন মানুষ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেক গুণীজনের আনাগোনা লেগেই থাকতো তাঁর এস্টেটে৷ তাঁদেরকে নিয়ে জমিদার বাবু মেতে থাকতেন গান-গল্প ও সাহিত্য আলোচনায়। এমনই এক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী বেড়াতে এলেন তাঁর আমন্ত্রণে। সবকিছু ভালোভাবেই কাটছিলো, কিন্তু জমিদার সোমনাথ রায়ের একান্ত ব্যক্তিগত মহল নীলাম্বরী-তে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় বেশ কয়েকজন মানুষ সহ প্রাণ হারান জমিদার বাবু স্বয়ং। আর সেই অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় নীলিমা নামের এক তরুণী। কি ঘটেছিলো আসলে সেদিন?

শুরু থেকেই রাশেদের মনে হতে থাকে, এই জমিদার পরিবারের লুকানো একটা ইতিহাস আছে। আর সেটা তাকে জানতেই হবে। আর সেই জানার আগ্রহটা আরো বেগবান হলো স্বয়ং জমিদার সোমন��থ রায়ের ব্যক্তিগত ডায়েরি তার হাতে আসার পর। ডায়েরিটা পড়া শুরু করার পর জমিদার বাবুর জীবনের অজানা অনেক অধ্যায় তার সামনে আসতে শুরু করলো। জমিদার বাবুর বিমাতা কুমুদিনী দেবী, তাঁর স্ত্রী কমলা দেবী ও শিশুপুত্র সুদীপ্ত রায় যেন ঘুরেফিরে বারবার এসেছে তাঁর ডায়েরির পাতায় পাতায়। জুবায়দা চৌধুরী নামের আরো একজন রহস্যময়ী রমণীর ব্যাপারে রাশেদ সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠলো। দুর্ঘটনার সেই দিনের সাথে এই জুবায়দারই বা কি সম্পর্ক?

ধীরে ধীরে রাশেদ জড়িয়ে পড়তে থাকে জমিদারবাড়ির এক কলঙ্কিত ইতিহাসের সাথে, যে ইতিহাসকে এতোদিন সযত্ন�� মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিলো৷ আর এসবের মাঝে তার নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনেও আসতে থাকে একের পর এক উত্থান-পতন।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ কিছু বই নিয়ে আসলে যে পরিমাণ আলোচনা হওয়া উচিৎ, সেই পরিমাণ আলোচনা হয় না। সুফাই রুমিন তাজিন-এর 'অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম' তেমনই একটা বই। এটা লেখিকার প্রথম উপন্যাস। বইটা পড়ে যা মনে হয়েছে, লেখিকার নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। গল্প বলার ধরণ একদম সাবলীল। সহজ ভাষায় তিনি পাঠককে তাঁর সৃষ্ট জগতের সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।

উপন্যাসের মূল চরিত্র রাশেদ খন্দকারের মনোজগৎ সম্পর্কেও চমৎকারভাবে ধারণা দিয়েছেন তিনি। ভালো লেগেছে রাশেদের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোও। একজন মানুষের অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন ও তার কারণ হিসেবে পারিবারিক প্রভাব মূর্ত হয়ে উঠেছে 'অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম'-এর অনেকটা জুড়ে। চিত্তাকর্ষক লেগেছে জমিদার সোমনাথ রায়ের ডায়েরির লেখাগুলো। ডায়েরির অংশটুকুতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা ফন্ট, যে কারণে পড়ার আনন্দটা পেয়েছি আরো কিছুটা বেশি। সুফাই রুমিন তাজিন তাঁর এই উপন্যাসে পাঠককে মুখোমুখি করেছেন মানবমনের লুকানো কিছু দিকের সাথে। রাশেদ খন্দকার, জমিদার সোমনাথ রায়, কুমুদিনী দেবী ও জুবায়দা চৌধুরীর জটিল মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে যতোই ধারণা পাচ্ছিলাম, ততোই উপভোগ্য লাগছিলো পুরো উপন্যাসটা।

বেশ দ্রুতগতির উপন্যাস 'অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম'। বইটা শেষ করতে আমার মাত্র দেড় দিন লেগেছে। ভালো লেগেছে বইটা, তবে ভালো লাগা আরো বাড়তো যদি সমস্ত রহস্যেরই সমাধান হতো। লেখিকা বেশ কিছু ব্যাপার রহস্য হিসেবেই রেখে দিয়েছেন। এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত, তা বুঝতে পারিনি। কোন ব্যাপারগুলো নিয়ে আমি কথা বলছি তা এখানে খোলাসা করলে স্পয়লার দেয়া হয়ে যাবে, তাই আর বিস্তারিত কিছু বললাম না। আপনারা পড়লেই বুঝবেন।

বানান জনিত বেশ কিছু সমস্যা লক্ষ্য করেছি। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা-কে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা, খোরাক-কে খোঁরাক, হাসি-কে হাঁসি, শাপে বর-কে সাপেবর ও আভিজাত্য-কে অভিজাত্য লেখা হয়েছে। পরবর্তী এডিশনে এই বানানগুলো শুধরে নেয়া হবে আশা করি।

আদনান আহমেদ রিজন-এর করা প্রচ্ছদটা চমৎকার লেগেছে। বইটার বাঁধাই আর কাগজের মানও ভালো ছিলো। আগ্রহীরা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন 'অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম'।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৪.১২/৫

#Review_of_2021_25

~ শুভাগত দীপ ~

(২৯ জুন, ২০২১, সন্ধ্যা ৬ টা ২২ মিনিট; নাটোর)
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
180 reviews51 followers
May 3, 2024
সুফাই রুমিন তাজিন উপন্যাসের প্রথম বাক্য থেকেই আপনাকে মূল গল্পে নিয়ে যাবেন। মেদহীন বর্ণনা, যতটুক বললে আপনি পুরো গল্পটা উপলব্ধি করতে পারবেন, মনে মনে এঁকে ফেলতে পারবেন, ততোটাই বলেছেন, কিন্তু সাথে আপনাকে পূর্ণ তৃপ্তিও দিবেন যে এটুকু জানাই যথেষ্ট।
সুন্দর একটা কাহিনী। চরিত্রগুলো ঢেলে সাজানো আর তাদের মাপা মাপা উপস্থিতি কাহিনীর প্রয়োজনে; দুইটা ভিন্ন সময়ের ধারাকে সমান্তরালে টেনে নেয়া, তাদের মাঝে যোগসূত্র ধরে রাখা এবং একদম শেষে গিয়ে নিখুঁত গ্রন্থিমোচন - সব মিলিয়ে এই উপন্যাস পড়া সুন্দর একটি অনুভূতি।
এমন কিছু বিষয় এই উপন্যাসের অবলম্বন, যেগুলো সামাজিকভাবে গৃহীত নয়, আবার বর্জনীয় কাতারে ফেলাটাও প্রশ্নসূচক। সেগুলো এই উপন্যাসে কতটা সাবলীলভাবে উঠে এসেছে, একটুও খারাপ লাগবে না পড়তে।
সমসাময়িক অনেক রহস্যোপন্যাসের চেয়েও শেষ পাতার প্লট টুইস্ট বেশি চমকপ্রদ।
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
July 3, 2022
৫ তারকা দিলাম তার হাজার কারণ নেই। একটাই কারণ, লেখিকার লেখনী। লেখিকা পুরো আটকে রেখেছিল বইয়ের মাঝে। পড়তে বাধ্য করেছে একটানা। গল্পটা এতটা কঠিন না। লেখিকা যেভাবে গল্প লিখেছেন- যেনো আমি তার ছাত্র। ম্যাডাম গল্প বলছেন আর আমি মনোযোগ সহকারে শুনছি। একটুও বোরিং লাগেনি। মেদ হীন একটা বই। গল্পটা কোন জনরার তা নিয়ে কনফিউশানে আছি। গল্পে কিন্তু ব্যাপক টুইস্টও আছে। আবার ভৌতিক কিছু বিষয় উপলব্ধি করা যায়। পড়ে মনে হয় না লেখিকার প্রথম বই। সত্যিই, আমি মুগ্ধ!
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews2 followers
April 17, 2021
"মনে পাপ থাকার এই এক লক্ষণ। মনে হয় সকলে বুঝি সব জানে।"- মানিক বন্দোপাধ্যায়

পূর্ব প্রজন্মের জমিদার সোমনাথ রায়, আর বর্তমান সময়ের তরুণ রাশেদ খন্দকার। এ এক বিষাদগাথা!
পরিবারের কাছে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে পালিয়ে বাঁচতেই ঢাকার জৌলুশ ছেড়ে রাজশাহীতে পড়তে যায় রাশেদ।
কালক্রমে ওখানকার এক জমিদার বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া! আর সেখান থেকেই ঘটনার শুরু। রাশেদের কেবল মনে হতে থাকে, এখানে কিছু একটা আছে। কেউ তাকে ডাকছে।
পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন? আপনি না করলেও, জমিদার সোমনাথ রায়ের একসময়ের বিশ্বস্ত কর্মচারী মুনিম বাবু ঠিকই রাশেদকে দেখে চিনে ফেলেন। এ যে সোমনাথ রায়ের নতুন রুপ! রাশেদ হাতে তুলে নেয় জমিদার সোমনাথের পুরনো ডায়েরিখানা। খুঁজে পেতে থাকে একের পর এক হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। যেখানে হাজির হয় বড়মাতা কুমুদিনী দেবী, ফিরে আসে উমাপতি রায়। শোনা যায় আগুনে পুড়ে যাওয়া নিষিদ্ধ বাঁঈজীখানা "নীলাম্বরী"র দীর্ঘশ্বাস!
সেই সুদুর অতীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়তে আসা জুবায়দা চৌধুরী এখনও ঘুরে ঘুরে আসে রাশেদের কাছে।
কি এমন টান ছিল জমিদার সোমনাথ রায় আর বর্তমানের রাশেদ খন্দকারের মাঝে? জানতে হলে ঘুরে আসুন "অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম" বইটির এক অদ্ভুত ঘোর লাগানো জগৎ থেকে। ঘুরে আসুন এক শেষ না হওয়া ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস থেকে।
বই পড়তে পড়তে যতক্ষণে ঘটনা বুঝে উঠলাম, ততক্ষণে লেখিকা " শেষ হইয়াও হইল না শেষ" ধরণের একটা ইতি টেনে দিয়েছেন।
সুফাই রুমিন তাজিনের লেখা "অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম" বইটা আমার পড়া এইবছরের অন্যতম সেরা একটা বই। একই সাথে বইটা অনেক আন্ডাররেটেডও মনে হলো।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
527 reviews197 followers
February 21, 2025
কেনো জানিনা আমি চিন্তা করে রেখেছিলাম বইটা হরর ধারার। সত্যি কথা বলতে এই বই আমি কিছু না জেনেই কিনেছি। প্রচ্ছদ, লেখকের নাম ডাক এতে ভূমিকা রাখলেও ফ্ল্যাপ বা কোনো রিভিউ দেখে আমি কিনিনি৷ টুইস্টগুলো! এই বইয়ের একেকটা টুইস্ট যেনো শরীর হিম করে দিচ্ছিলো।
Profile Image for Heisenberg.
151 reviews8 followers
May 15, 2021
বইটা অসম্ভব রকম ভাল লেগেছে আমার কাছে...
অনেকগুলি কারনের একটি হচ্ছে কোন গল্প বা ছোট কাহিনী কে বড় করার কোন চেষ্টা ছিলো না..চেষ্টা ছিলো না কোন চরিত্র কে অতিমাত্রায় প্রেজেন্ট করার...
বইটা ভাল লাগার অন্যতম কারন নারী চরিত্র গুলো..প্রত্যেকটা নারী চরিত্র'ই মনে দাগ কাটার মত..
এবার বলি বর্ণনার কথা..সত্যি বলতে আমি এই বইকে থ্রিলার-হরর ধরনের ভেবে পড়তে বসছিলাম...কিন্তু কখন যে বইয়ের মধ্যে ডুবে গিয়েছি নিজেও বুঝি নি..শেষে এসে কতবার চোখ-মন ভারী হয়ে এসেছে জানি না...

আমি নিশ্চিত এই বছরে যা পড়েছি আর যা পড়ব..এই বইটা একদম সেরাদের কাতারে থাকবে..
আর ধন্যবাদ লেখিকাকে এরকম একটা বই উপহার দেয়ার জন্যে..
Profile Image for Shamim Ehsan.
78 reviews3 followers
June 1, 2021
গল্পটা ভালো, গুছানো, এক বসায় শেষ করার মত। শুরুতে আর মাঝে কিছু জায়গায় লেখা অবশ্য খাপছাড়া ছিল, বইয়ের প্রুফ রিডিংও অত ভালো হয় নি। বর্তমান নতুন লেখকদের মধ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত নামের বই বের করার প্রবণতা দেখা যায়, এটাও ব্যতিক্রম না, এই নামকরণের সার্থকতা অন্তত আমি বইটা শেষ করার পরেও খুঁজে পাইনি। নবীন লেখকের জন্য শুভকামনা থাকলো।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
October 30, 2022
বইটাকে এক শব্দে বললে বলবো, মোটামুটি। সুন্দর একটু গল্প, রহস্য তৈরী করে তা সুন্দর করে পরতে পরতে ছড়ানো, চরিত্রায়ন সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে। তবে পুরো বইতে কি যেন একটা অস্বস্তির সৃষ্টি করেছিলো, বই পড়ার সময় ধরতে পারছিলাম না। পড়া শেষ করে ঠান্ডা মাথায় ভাবতেই মনে হলো, সমস্যাটা কোথায়।

সমস্যা বেসিক্যালি দুইটা।

১. লেখায় শো এর বদলে প্রচুর টেলিং আছে। শুরুর দিকের ৩০-৪০ পাতা পড়তে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে টেলিং এর লেখা এখন আর পড়তে ভালো লাগে না।

২. লেখক চমৎকার লিখলেও আমার কাছে কেন যেন মনে হয়েছে, বইটা হুমায়ূন আহমেদের লেখার ছায়া থেকে বের হতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্যারেক্টারই হুমায়ূন আহমেদের বেসিক ক্যারেক্টারাইজেশনের সাথে বহুলাংশে মিলে যায়।

তবে লেখক জমিদার সাহেবের ডায়েরীটা যেভাবে অলংকরণ করেছেন তা আমার খুবই ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে বইটাকে খারাপ বলবো না, পড়ার মতোই কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের লেখার সাথে মিল পেলে পড়ার এক্সপেরিয়েন্সটা ভালো হবে না।
Profile Image for Tasmin Nisha.
163 reviews5 followers
January 27, 2022
" এমন একটি আওয়াজ আছে, যা শব্দহীন। শুনে দেখো। "
- জালালউদ্দিন রুমি

রাশেদ খন্দকার একজন ব্যাচেলর যুবক যার একটি যৌথ পরিবার আছে। অন্যান্য যৌথ পরিবার থেকে এই পরিবারটি ভিন্ন কিংবা কিছু যৌথ পরিবারেরই প্রতিচ্ছবি। থাকে না কিছু পরিবার যাদের দূর থেকে দেখলে গুছানো লাগে তবে কাছে থেকে দেখলে বোঝা যায় পরিবারের সদস্যরা একজন আরেকজনের থেকে হাজার কদম দূরে অবস্থান করছে।

রাশেদরা তিন ভাই। বড় ভাই মাহফুজ খন্দকার , ছোট ভাই তৌহিদ খন্দকার আর রাশেদ পরিবারের মেজ পুত্র। রাশেদ সম্ভ্রান্ত পরিবারের পুত্র যে পরিবারের কর্তা জাফর খন্দকার। পরিবারে রাশেদ সহ তার দুই ভাই, বাবা, মা আসমা , রাশেদের দাদী আছে। এর বাদে হেনা খালা যিনি বাড়ির সবকিছু দেখাশোনা করে এবং একজন মালিকাকা আছেন যিনি রাশেদের মা আসমাকে অনেক বেশি স্নেহ করেন।

পরিবারের এতো সদস্য হওয়ার পরও রাশেদ খুবই অন্তর্মূখী স্বভাবের ছিল। গল্পে দেখা যায় রাশেদের মা রাশেদের প্রতি অতি রক্ষণশীল ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ওকে চোখে চোখে রাখা হতো। যার কারণে কারো সাথে তার তেমন একটা মেশা হয়ে উঠে নেই, এমনকি নিজের ভাইদের সাথে তার যোজন যোজন দূরত্ব ছিল। তবে কলেজে থাকাকালীন ইরা নামের মেয়ের সাথে তার খুব সখ্যতা হয় যা পরে প্রেম বা ভালোবাসায় রূপ নেয়। তো একদিন ইরা ওদের বাসায় আসে কিন্তু সেইদিন ছোট্ট একটা ঘটনা অনেক বড় কিছুতে রূপ নেয় এবং সেই ঘটনার পর থেকেই রাশেদের সাইকোলজিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কলেজের পর রাশেদ রাজশাহীতে চলে যায় এবং পূর্বের কিছু ঘটনার কারণে সে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। সেই জায়গায় এক জমিদার বাড়ি ছিল যার জমিদার ছিলেন সোমনাথ রায় কিন্তু এক দুর্ঘটনায় তিনি সহ তার পরিবার আর কয়েকজন মানুষ জমিদার বাড়িতে আগুনে পুড়ে নিহত হন। সেই আগুন কি দুর্ঘটনাবসত নাকি ইচ্ছেকৃত ভাবে হয়েছিল তা কেউ জানে না।

জমিদার বাড়ির সাবেক কর্মচারী মুনিমের সাথে ভালো সখ্যতা হওয়ার কারণে তার মুখ থেকে জমিদার বাড়ির কিছু গল্প শুনে সে খুবই মোহিত হয়েছিল। একটা সময় সোমনাথ রায় তার অবসেশনে পরিণত হয়েছিল। একদিন মুনিম সাহেব খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং রাশেদের জমিদার বাড়ির প্রতি এতো আগ্ৰহ দেখে সে খুবই মূল্যবান জিনিস রাশেদকে দিলেন তা হলো " সোমনাথ রায়ের ডায়েরী"

গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশটি এই ডায়েরী। পড়তে খুবই ভালো লাগছিলো এবং একের পর এক টুইস্ট খুঁজে পাচ্ছিলাম। জমিদার বাড়ির কর্তা সোমনাথ ও তার পরিবারকে নিয়ে যে গল্পগুজব শুনতে পাওয়া যায় তার আসল প্রমাণপত্র ছিল এই ডায়েরী। এর বাদে একজন ছিলেন যিনি রাশেদকে জমিদার বাড়িতে আগুন লাগার দিন ঠিক কি ঘটেছিল তা ব্যাখা করেন , তিনি হলেন জুবায়দা চৌধুরী। গল্পে তার ভূমিকা কি সেটা আর না বলি।

সোমনাথ রায় এবং রাশেদ খন্দকার যাদের কোনো সম্পর্ক নেই একে অপরের সাথে কিন্তু কোথাও যেন তাদের খুব মিল। তাদের ঘিরে অনেক মানুষ তো ছিল কিন্তু তাদের বোঝার মতো কেউ ছিল না, আর যারা ছিল তাদের ভালোবাসা সময়মতো আগলে রাখতে তারা অক্ষম হয়েছিল। তাদের আশেপাশেই অনেক কিছুই ঘটেছিল কিন্তু তারা ঘটনাগুলো খেয়াল করে দেখেনি।তারা ছিল নিঃসঙ্গ।

আরেকটা মিল আছে তাদের পরিবারের মধ্যে। তাদের দু'জনের মায়েরাই অত্যন্ত দুঃখী ছিলেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের বউ হলেও তারা ছিলেন মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার।

এই গল্পের চরিত্রগুলোকে খুব কাছের মনে হয়েছে। উপন্যাসটি সামাজিক উপন্যাস হলেও এতে রহস্যের ছাপ আছে। একশো একাত্তর পেইজের উপন্যাস বলে আমি অনেক কিছু বাদ দিয়ে গিয়েছি।
Profile Image for Mahmudul Hasan.
16 reviews2 followers
April 14, 2021
মাঝে মাঝে নিজেকে শেষ করে ফেলতে ইচ্ছা করে। কিছু ভালো লাগে না, কিছু না। একাকীত্ব আমাকে গ্রাস করে ফেলেছে। আশেপাশে একটি মানুষ নেই, যার সঙ্গে দু'দণ্ড বসে কথা বলতে পারি, একটু মন খুলে হাসতে পারি। আমার কোন বন্ধু-মিত্র কেউ নেই। আমাকে একজন কয়েদীর মতো রাখা হয়েছে। চারপাশে নাকি মুখোশধারি শত্রু গিজগিজ করছে। আমাকে সাবধানে থাকতে হবে। কী হবে এতো সাবধানতায়?


অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম একটা অপ্রত্যাশিত বিস্ময় নতুন বইগুলোর মধ্যে! এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আলোচনা, প্রচারণা চোখে পড়েনি বইটা নিয়ে। যদি ধরেও নেই, মাত্র ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছে। তাই হয়তো তেমন কেউ পড়ার সুযোগ পায়নি। তবুও এতো দারুণ বই নিয়ে কোনো পক্ষ থেকে কোনো গুঞ্জনই পেলাম না, সেটা অবাক করা ব্যাপার।

বিশ্বাস করা কষ্টকর এটা লেখিকার প্রথম বই। পড়ার আগেও জানতাম না। পড়তে পড়তেও টের পায়নি। ভীষণ পরিণত লেখা। অলংকারপূর্ণ, মনোমুগ্ধকর রচনাশৈলী, চিত্তাকর্ষক ন্যারেটিভ; প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মোহিত করে রেখেছিল। ঝড়ের গতিতে পড়ে ফেলতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছি। ১৬৪ পৃষ্ঠার বই ২ ঘণ্টাও লাগেনি! এতোটাই দারুণ, টুউ গুড।

ফার্স্ট-পারসন ন্যারেটিভে লেখা বিধায় কানেক্ট করতে সহজ হয়েছে। এমন মনে হয় যেন সামনে বসে কেউ গল্প বলছে। মনে হয় বইয়ের পাতা থেকে জীবন্ত হয়ে আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে চরিত্রগুলো। প্রত্যেকটা চরিত্রের মনের অলিগলি, ঘুপচি, অন্ধকার কানাগলি সবকিছুই এতো প্রাঞ্জলভাবে উঠে ��সেছে বিস্মিত হয়েছি।

গল্পে পর্যাপ্ত রহস্য আছে। কিন্তু আর দশটা রহস্য-উপন্যাসের মতো শুধু রহস্যকেই এক্সপ্লয়েট করার তাড়না নেই। গেসিং গেইম বা পাঠককে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা নেই। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অলমোস্ট পারফেক্ট গতিময়তা বজায় রেখে, ব্যালান্সড আউটপুট এসেছে।

ফ্ল্যাশব্যাকগুলো ক্রনোলজিক্যালিই কাহিনীর উদ্দেশ্য পূরণ করে। নন-লিনিয়ার কোনো ট্রিটমেন্ট নেই, তেমন কোনো এক্সপেরিমেন্ট করবার ইচ্ছাও দেখিনি। প্রয়োজনমাফিক গল্পের পর গল্প এসেছে, চরিত্রগুলো আনাগোনা করেছে, হঠাৎ তেমন কোনো চমক দেবার প্রচেষ্টাও পায়নি। অযাচিতভাবে মাথা খাটানোর প্রয়োজনও নেই। তবে এটা ভেবে ভুল করার কারণ নেই যে, মাথা ঘামানোর কিছু নেই। সবই আছে, প্রপারলি ব্লেন্ড করে, বরং লেখার আবেদন এমন চূড়ান্ত যে ভাবার জন্য বাকগুলোতে থামবার ইচ্ছা হয় না। লেখনীর মায়াজালে পাতার পর পাতা উল্টে যেতে হয়। কোনো স্তুতিবাক্যই পর্যাপ্ত মনে হচ্ছে না এই পর্যায়ে এসে!

চরিত্রবিন্যাস এমনই বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম মুগ্ধ না হয়ে উপায় কী! বিশেষ করে ডায়েরির সোমনাথ অনবদ্য, মনস্তাত্বিক অন্তর্দর্শন চমৎকার।

বইয়ের প্রচ্ছদ অত্যন্ত চমৎকার। সবগুলো এলিমেন্ট গল্পের থিমের সাথে পার্ফেক্টলি ম্যাচ করে।

বুক স্ট্রিটের প্রোডাকশন ভ্যাল্যু অনবদ্য, বাঁধাই, পৃষ্ঠা, সম্পাদনা সবকিছুতেই সন্তুষ্ট আমি।

বইটা মাস্ট রিড। কারো পড়া থাকলে আলোচনা করতে খুবই ভালো লাগবে।

বই : অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম
লেখক : সুফাই রুমিন তাজিন
প্রকাশনা : বুকস্ট্রিট
প্রকাশকাল : ২০২১
প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৬৪
মলাট মূল্য : ২৮০
Profile Image for Maleeha Tarannum.
48 reviews2 followers
January 26, 2022
লেখকের এটি প্রথম বই। প্রথম বই হিসাবে লেখকের লেখনী মারাত্মক সুন্দর… যাকে বলে “ভয়ংকর সুন্দর”! এই সুন্দর মন পোড়ায়… চোখও জ্বালায়!
শুরুতে পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল- রাশেদের সব কথা কাজে কেমন যেন একটা “ব্যাপারটা ঠিক জমছে না জমছে না” ভাব; লেখকের লেখনী কাঁচা বলে নাকি?!” কিন্তু খানিক আগালেই বোঝা যায় রাশেদ এইভাবে কথা না বললেই বরং জমতো না। রাশেদ মানুষটাই ঐরকম! উত্তম বাচ্যে গল্প বলে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখাটা বেশ কঠিন, তার উপর বক্তা যদি রসকসহীন হয়! কিন্তু লেখকের লেখনী এত প্রাঞ্জল আর গল্পের মানুষগুলোর টুকরো গল্পগুলোও এমন হৃদয় ছোঁয়া যে বইয়ে একবার ঢুকে গেলে আর বের হওয়ার জো নেই! মন্ত্রমুগ্ধের মতো এক বসায় ১৭১ পৃষ্ঠা পড়ে উঠেছি।

গল্পের খাতিরে লেখক অনেক চরিত্র এনেছেন। কিন্তু লেখক অনেক যত্ন নিয়ে প্রতিটা চরিত্র এঁকেছেন। কোন চরিত্র ফেলনা নয়। মায়েদের জন্য ভীষণ মায়া হবে; কনেদের কষ্টে চোখে পানি আসবে; মা-কনেদের অত্যাচার করা মানুষগুলোকে গলা টিপে মারতে মন চাইবে। কিন্তু কী আশ্চর্য! ওদের কাজকর্মে আশ্চর্য হবেন না! কারণ প্রতিটা চরিত্র ভীষণ বাস্তব। বাস্তবে মানুষ এমন ত্রুটিযুক্তই হয়… সবাই একটা বাস্তবতার বিচ্ছিরি চক্রে আটকা আর সেই চক্র থেকে বেরোনোর সাহস কারো নেই… তাই সত্য জানার পর স্বাভাবিকভাবে সেই সত্য জুবায়দার মতো কুশলী মানুষও হজম করতে না পারলে ব্যাপারটা অস্বাভাবিক মনে হবে না। তাই দাদী-বড়মায়ের মতো চরিত্রগুলোকে ঘৃণা করলেও অগ্রাহ্য করা যাবে না… তাই সোমনাথ-রাশেদকে হয়তো ভালোবেসে না ফেলতে পারলেও জড়িয়ে ধরে তাদেরকে একটু স্বান্তনা দেয়ার ইচ্ছাটাকে মাটিচাপা দেয়া যাবে না।
পুরো বই পড়ে আমার একটাই অভিযোগ – সোমনাথের ডায়রি। ডায়রি আমরা যখন লিখি তখন নিজেদের নিত্যদিনের কাহিনী সেখানে কালিবন্দি করি। ঘটনার ধারাবাহিকতা থাকে। জীবনের একটা ভয়ংকর সত্য ২০০০ সালে জানতে পেরে সেই অনুভূতি তখন কালিবন্দি না করে ২০৩০-এ লেখার জন্য তুলে রাখি না। ডায়েরিটাকে ঠিক ডায়েরি না বলে কারো না কারো পড়ার জন্য সোমনাথের লেখা চিঠি হিসাবে উপ্সথাপন করা হলে অথবা ডায়েরির শুরুতেই হবু পাঠকের জন্য সোমনাথের কোন বক্তব্য থাকলে ব্যাপারটা নিয়ে আমার খচখচ লাগতো না। তবে ডায়েরির প্রতিদিনের গল্পের শুরুতে সোমনাথের লেখা ভীষণ সুন্দর সুন্দর উক্তি এই খচখচানি ভুলিয়ে দেয়।

সারকথা, এই বইটা ভারী বিষাদময়... একটা মানুষের জীবন, মানুষদের জীবন কেন এমন বিষাদময় হবে?! বিষাদের অনন্ত আঁধারে ডুবে, হিমে জমতে চাইলে খুলে বসুন অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম।"
Profile Image for Fareeha Khan.
1 review
May 17, 2021
বই : অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম
লেখক : সুফাই রুমিন তাজিন
প্রকাশনা : বুকস্ট্রিট
প্রকাশকাল : ২০২১
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৭১
মলাট মূল্য : ২৮০
রেটিং:৪/৫
নতুন লেখকদের বই সবসময় বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়ি আমি ৷ বুক স্ট্রিট হতে সম্প্রতি প্রকাশিত সুফাই রুমিন তাজিনের প্রথম বই অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম পড়ে শেষ করলাম। বুক স্ট্রিট আমার পছন্দের প্রকাশনীগুলোর মধ্যে একটি ৷বুক স্ট্রিট সবসময় রুচিশীল কাজ করে ৷ এরা সবসময় বইকে একটা স্মার্ট লুক দেয় ৷

গল্প টা শুরু হয় রাশেদের বিষাদগাথা দিয়ে ৷ পরিবার হতে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে ঢাকা ছেড়ে রাজশাহী পড়তে যায় ৷ শুরু থেকে মনে হচ্ছিলো যে এই গল্পের রহস্যময় চরিত্র হচ্ছে সোমনাথ রায় ,কুমুদিনী দেবী এবং জোবায়দা চৌধুরী৷ কিন্তু শুরু থেকে রাশেদকে নিতান্তই স্বাভাবিক মনে হলেও বইয়ের শেষ পাতায় এসে পুরো ধারনা পাল্টে যায়৷ এই গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার অন্যতম পছন্দের চরিত্র ছিলো রাশেদের বড় ভাই মাহফুজ সবসময় রাশেদের পাশে ছিলো৷ ছোট্ট ভাই তৌহিদও রাশেদকে বেশ ভালোবাসতো কিন্তু প্রকাশ করতে পারতো না ৷ সেঁজুতি আপুর চরিত্রও বেশ ভালো লেগেছে ৷

লেখিকার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে পাঠকে আঁকড়ে ধরে রাখার ৷ যতই আগাচ্ছিলাম লেখানী চমৎকার হচ্ছিলো ৷ প্রতিটি চরিত্রের বর্ণনা খুব সুন্দর করে দেওয়া হয়েছে ৷ আর জমিদারের ডায়েরীটা চমৎকারভাবে লিখা হয়েছে ৷ বইটা শেষ করে একটা ঘোরে থাকবেন , করুণ এক সমাজ ব্যবস্থার কথা ভাবতে বাধ্য হবে পাঠক ৷
এই বছরের পড়া বইগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা বই আমার কাছে অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম ৷আশা করি ভবিষ্যতে লেখিকার কাছ থেকে আরো অসাধারণ কিছু বই পাঠকেরা পাবে ৷
Profile Image for Rude Potato.
1 review
January 22, 2022
বই : অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম
লেখক : সুফাই রুমিন তাজিন
প্রকাশনা : বুকস্ট্রিট
প্রকাশকাল : ২০২১
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৭১
মলাট মূল্য : ২৮০
নতুন লেখকদের বই সবসময় বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়ি আমি ৷ বুক স্ট্রিট হতে সম্প্রতি প্রকাশিত সুফাই রুমিন তাজিনের প্রথম বই অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম পড়ে শেষ করলাম। বুক স্ট্রিট আমার পছন্দের প্রকাশনীগুলোর মধ্যে একটি ৷বুক স্ট্রিট সবসময় রুচিশীল কাজ করে ৷ এরা সবসময় বইকে একটা স্মার্ট লুক দেয় ৷

গল্প টা শুরু হয় রাশেদের বিষাদগাথা দিয়ে ৷ পরিবার হতে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে ঢাকা ছেড়ে রাজশাহী পড়তে যায় ৷ শুরু থেকে মনে হচ্ছিলো যে এই গল্পের রহস্যময় চরিত্র হচ্ছে সোমনাথ রায় ,কুমুদিনী দেবী এবং জোবায়দা চৌধুরী৷ কিন্তু শুরু থেকে রাশেদকে নিতান্তই স্বাভাবিক মনে হলেও বইয়ের শেষ পাতায় এসে পুরো ধারনা পাল্টে যায়৷ এই গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার অন্যতম পছন্দের চরিত্র ছিলো রা���েদের বড় ভাই মাহফুজ সবসময় রাশেদের পাশে ছিলো৷ ছোট্ট ভাই তৌহিদও রাশেদকে বেশ ভালোবাসতো কিন্তু প্রকাশ করতে পারতো না ৷ সেঁজুতি আপুর চরিত্রও বেশ ভালো লেগেছে ৷

লেখিকার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে পাঠকে আঁকড়ে ধরে রাখার ৷ যতই আগাচ্ছিলাম লেখানী চমৎকার হচ্ছিলো ৷ প্রতিটি চরিত্রের বর্ণনা খুব সুন্দর করে দেওয়া হয়েছে ৷ আর জমিদারের ডায়েরীটা চমৎকারভাবে লিখা হয়েছে ৷ বইটা শেষ করে একটা ঘোরে থাকবেন , করুণ এক সমাজ ব্যবস্থার কথা ভাবতে বাধ্য হবে পাঠক ৷
এই বছরের পড়া বইগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা বই আমার কাছে অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম ৷আশা করি ভবিষ্যতে লেখিকার কাছ থেকে আরো অসাধারণ কিছু বই পাঠকেরা পাবে ৷
Profile Image for Elin Ranjan Das.
88 reviews5 followers
July 20, 2021
বইয়ের শুরুটা খুব একঘেয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল যেন গৎবাঁধা রচনা পড়ে যাচ্ছি। লেখায় খুব জড়তা ছিল, সংলাপ এসেছে অনেক পড়ে। ধীরে ধীরে লেখনী সাবলীল হয়েছে। জমিদারবাড়ির অবতারণার পরে পুরো গল্পই এক নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। এবং প্রথমে যেই গল্প আমার কাছে মনোটোনাস লাগছিল, সেটাই হয়ে উঠল চমকপ্রদ এক ড্রামা থ্রিলার।
লেখক নিজে নারী হবার কারণেই কিনা, লেখায় অনেকগুলো শক্তিশালী নারী চরিত্র এসেছে। প্রতিশোধ, ক্ষমতা, স্ন���হ, ইচ্ছাশক্তি - এই বৈশিষ্ট্য গুলো সব নারীর মাঝেই এসেছে। এছাড়া রাশেদ এবং সোমনাথ বাবুর মধ্যে এক আশ্চর্য প্যারালেলিজম ছিল, যেটা ক্লাইম্যাক্সে এসে চরম পূর্ণতা পেয়েছে। বেশ উন্নত মানের এক ডার্ক সাইকোলজিকাল থ্রিলার এটি।
নেগেটিভ দিকঃ
১। জুবায়দার কিছু কথায় একবার উত্তম পুরুষ একবার প্রথম পুরুষে ন্যারেটিভ শিফট করেছে।
২। সোমনাথ বাবুর ডায়রির লেখাগুলো তুলে দিলেও সেখানে কোনো তারিখ ছিলনা।
৩। প্রথম দিকের লেখায় প্রাঞ্জলতা ছিলনা, কেউ কয়েক পাতা পড়ে ড্রপ করলেও তাকে দায়ী করবোনা।
6 reviews1 follower
February 9, 2022
• পাঠ সংক্ষেপঃ

ঢাকায় বেড়ে ওঠা বড্ড খেয়ালি এবং অন্যরকম একটা ছেলে ‘রাশেদ খন্দকার’। চিলেকোঠার ছোট্ট একটি ঘর, একটি রকিং চেয়ার, মেঝেতে বিছানো জাজিম, আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইময় একটি মনোরমা জগতের ভেতর দিয়ে খুব সুন্দর যাচ্ছিল রাশেদের দিনকাল৷ যৌবনের শুরুর দিককার সর্বগ্রাসী অনিয়ন্ত্রিত একটি ঝড় যেন তার ভেতরকার যাবতীয় অস্থিরতা নিভিয়ে দিল। বান্ধবী ইরার চলে যাওয়ার পর থেকে একাকিত্বই তার নিত্যকার সঙ্গী। 


বড়ভাই মাহফুজের পরামর্শে ঘরকুনো স্বভাবের এই রাশেদ বাবা-মা’কে ছেড়ে পড়ালেখার জন্য পাড়ি জমায় সুদূর রাজশাহীতে। একাকিত্ব ঘুচিয়ে আনতে এবং বন্ধু নাজমুলের একান্ত আবদারে তার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঝিমিয়ে পড়া জীবনে রাশেদের জন্য এই সফরটা একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পুঠিয়ার একটি পুরোনো জমিদার বাড়ি।


জমিদার বাড়ির আঙিনায় সর্বশেষ জমিদার সোমনাথ বাবুর নিষিদ্ধ ‘নীলাম্বরী’র ধ্বংসস্তূপের হাতছানি ফিরে ফিরে ভাবিয়ে তোলে রাশেদকে। এখানকার সাবেক কর্মচারী বয়োবৃদ্ধ মুনিম বাবুর কাছে নীলাম্বরী নামক এই বাঈজী বাড়ি এবং সোমনাথ বাবুর অমায়িক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে শোনার পর একটি অজানা কৌতুহল চেপে বসে রাশেদের মাথায়। তার দিনমান ব্যস্ততা হয়ে ওঠে সোমনাথ বাবু। 


মৃত্যুর আগে একটি ডায়েরি রাশেদের হাতে তুলে দিয়ে যান মুনিম বাবু। যে ডায়েরির পাতায় পাতায় সোমনাথ বাবু একে একে বর্ণনা করেছেন নিজের না-বলা জীবনালেখ্য। লিখেছেন তার বিমাতা কুমুদিনী দেবীর কথা। লিখেছেন স্ত্রী কমলা ও একমাত্র পুত্রসন্তান সুদীপ্তের কথা। সাথে সাথে এঁকেছেন জুবায়দা চৌধুরী নাম্নী এক অনিন্দ্য রূপবতীর রূপের অল্পবিস্তর ইতিবৃত্ত। 


একদা শীতের শুরুতে জমিদার বাবুর অনুরোধে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র-শিক্ষকের একটি দল। দলের দুজন মেয়ের একজন ছিলেন হিন্দু নীলিমা ও আরেকজন সেই অপরূপ সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী জুবায়দা চৌধুরী। সপ্তাহকালব্যাপী এই নিমন্ত্রণের সাতদিনের মাথায় ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত এবং তারই সাথে আকস্মিক এক ঘটনা। জ্বলেপুড়ে ভস্ম হয়ে যায় সোমনাথ বাবুর সর্বসাধারণ–নিষিদ্ধ ‘নীলাম্বরী’। ভস্ম হয়ে যান জমিদার বাবু নিজেও। 


এরপরে শত করেও খুঁজে পাওয়া যায়নি সোমনাথ বাবুর স্ত্রী কমলা এবং শিশুপুত্র সুদীপ্তকে। খোঁজ মেলেনি সোমনাথ বাবুর আমন্ত্রিত অতিথি নীলিমা ও আকাঙ্ক্ষিত প্রিয়দর্শিনী জুবায়দারও। সেদিন কি তাহলে এদের সবাই সেই আগুনে ভস্ম হয়েছিলেন? জানতে হলে ডুবতে হবে ‘অন্তঃশূন্যের অন্ধ হিমে’৷ 


• পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

অনেকদিন হয়ে গেল বইয়ের ভুবন থেকে দূরে আছি। ধরা হয় না, তাই পড়া হয় না। হঠাৎ কাছের এক সহপাঠীর মাধ্যমে পেলাম ‘অন্তঃশূন্যে অন্ত হিম’। বই এবং লেখিকার নাম দেখে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হলো। নাম দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম লেখিকা কোন এক বোগদাদি এবং এটা বোধয় অনূদিত উপন্যাস। ভুল ভাংলো ফ্ল্যাপের পেছনের দিকটায় তার পরিচিতি পড়ার পর।


আমি সাধারণত থ্রিলার বা রহস্যপোন্যাস খুব কম পড়ি। এমনিতেই পড়া হয়ে ওঠে না। কিন্তু এই গল্পটার থিম পড়ার পরে বেশ আয়েশ করেই পড়তে বসে পড়লাম। শুরুর দিকে একে একে সব বর্ণনা দিয়ে যাওয়াটা খানিকটু হালকা মনে হলেও কয়েক পৃষ্ঠার পর যেন তলিয়ে যেতে লাগলাম। বইয়ের জগতে একজন নবীন লেখিকার লেখা যেমনটা হওয়ার কথা বলে ভেবেছিলাম, পেলাম ঠিক তার উলটো। 


গল্পের টাইমলাইন এবং সেটিং করতে গিয়ে লেখিকা যেমন মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, প্রতিটি বিষয়ের সাবলীল এবং মনোহরি বর্ণনা দিয়ে যেভাবে গল্পকে টেনে নিয়ে গেছেন, সচরাচর এমনটা একজন নবীন বইওয়ালা লেখক বা লেখিকার মধ্যে পাওয়া দুষ্কর। গল্পের থিম বাছাইয়ে যেমন নতুনত্ব ছিল (অন্তত আমার কাছে তা-ই মনে হয়েছে), ঠিক তেমনই উত্তেজনা ছিল প্রতিটি প্লট এবং অধ্যায়ে। প্রতিটি ক্যারেক্টারের বর্ণনায় ছিল ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ। 


ক্যারেক্টারের কথা উঠতেই মনে পড়ে গেল লেখিকার বর্ণনায় জীবন্ত এক পরমা সুন্দরী জুবায়দার কথা।বইটা পড়েছি আরো দেড় কি দুমাস আগে। কিন্তু দারুণ এই বইটায় জুবায়দার কথা ভুলতে পারছি না বলেই হয়তো এতোদিন পরে হলেও রিভিউ লিখতে বসা। জুবায়দা নামটায় যেমন রাজকীয়তা আছে, আমার মনে হয় লেখিকা এই নারীটিকে তারচেও সুন্দর করে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছেন। ঠিক যতটা সুন্দর হলে রাশেদ তার প্রেমে পড়তে পারে। যতটা ব্যক্তিত্ববান হলে মায়ের বয়েসী জুবায়দাকে আড়ালে আবডালে চেতনে অবচেতনে কল্পনা করতে পারে। ঠিক যতটা সুন্দর হলে...


একটি বিশেষ ক্যারেক্টারকে স্মরণ না করে পারছি না। কেয়ারটেকার ‘নুরু মিয়া’ দিনরাত কী অবিরাম সেবা করার মধ্য দিয়ে রাশেদের খেয়াল রাখত! মনে কতো আশা ছিল সে একটি বিশাল রেস্তোরার মালিক হবে। এবং নিজহাতে বাবুর্চির কাজটা সে একলাই সামাল দেবে। এই নুরু মিয়ার প্রতি অবচেতনেই আমার একটা মায়া জন্মে গিয়েছিল, তাকে একটি নির্মম নিয়তির দিকে ঠেলে দিয়ে লেখিকা সেই মায়াটাকে নিঃশব্দে হত্যা করেছেন।


গল্পের ফ্লো ধরে রাখতে সর্বত প্রচেষ্টা করা হয়েছে। গল্পের সেটাপে সোমনাথ বাবুর ডায়েরিটা খুবই প্রয়োজন ছিল। এই একটি ডায়েরি লিখতে লেখিকা যে নিমগ্ন শ্রম দিয়েছেন, তা সহজেই অনুমেয়।  প্রাত্যহিক রোজনামচার শুরুতে কোথাও উইলিয়াম শেক্সপীয়ার, কোথাও প্লেটো, কোথাও মার্ক টোয়েন এবং কোথায় কবীগুরু রবী ঠাকুরের বর্ণালী পঙক্তিগুলো কোট করায় সোমনাথ বাবুর ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান ও অভিরুচির মধ্য দিয়ে লেখিকার সাহিত্যসুধা এবং রুচিবোধ আরো সুক্ষ্মভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। 


গল্পের ক্লাইমেক্স এবং এন্ডিংয়ে একটা টুইস্ট আছে, যেটা না থাকলেই নয়। কিন্তু পাঠক হঠাৎ টের পাবেন যে, বিষয়টা এমনভাবে থাকতে হয় না। অর্থাৎ, হঠাৎ ধাক্কা খেলে যেমন হয় ঠিক তেমনই। এখানে লেখিকা এমন একটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যা সত্যিই থ হয়ে যাওয়ার মতো। গল্পকার ও ঔপন্যাসিকদের স্বার্থকতা বোধকরি এখানেই। 


• কিছু অসঙ্গতিঃ

নির্মাতা নির্মাণ করলে এর আলোচনা যেমন হবে, সমালোচনাও তেমনই স্বাভাবিক একটা বিষয়। সমালোচনার জন্য নয়, বরং একজন ছোটখাটো সচেতন পাঠক হিসেবে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে কিছু বিষয়ের সাংঘর্ষিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে। যা নিচে তুলে ধরছি।


১. নিষিদ্ধ ‘নীলাম্বরী’ জ্বলেপুড়ে ভস্ম হয়ে যাওয়ার কারণে সোমনাথ বাবুসহ বেশ কিছু জীবন হারিয়ে যায়। যেহেতু এই আগুন লাগার বিষয়টাই সবচেয়ে বড় এবং সবকিছুর মূল, সেহেতু বিষয়টার একটা ক্লিয়ারেন্স থাকলে বোধহয় ভালো হতো। বিশাল একটা জমিদার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটবে, সোমনাথ বাবুর মতো নন্দিত গুণীজন, পরোপকারী এবং মহৎ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ মারা পড়বে, অথচ প্রশাসনিক তদন্ত হবে না, মামলা মোকদ্দমা হবে না, এবং অগ্নিসংযোগের মূল হোতা চিহ্নিত হবে না, এ হতে পারে না। বিষয়টা অস্বাভাবিক। 


তদন্তে অন্য কেউ ধরা না পড়লেও লেখিকা যদি এলাকাবাসির সন্দেহের তীর সোমনাথ বাবুর দিকেও ছুড়ে দিতেন, তাও বিষয়টার একটা রফাদফা হয়ে যেত। কিন্তু ‘শেষ হয়েও হলো না শেষ’– উপন্যাসের এই রীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখার কথা কেউ যদি বলেন, তাহলে আর প্রশ্নই থাকে না। 


২. নীলাম্বরী যখন পুড়ে রাখ হয়ে যায়, সে সময়ের আরো বহু আগ থেকেই সোমনাথ বাবু ভবনটাতে ছিলেন। সঙ্গত কারণেই তিনি আর ফিরতে পারেননি। মৃত্যুর পূর্বে সোমনাথ বাবু ডায়েরিও লিখেছিলেন এবং সেই দিনের রোজনামচা ছিল যথেষ্ট দীর্ঘ। প্রশ্ন হলো, সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যাওয়ার পরেও ডায়েরি কী করে অক্ষত রয়ে গেল? অথচ যেখানে বাঁচতে পারলেন না জ্বলজ্যান্ত মানুষগুলো। এরও কোনো স্পষ্ট বর্ণনা কোত্থাও নেই৷ দুয়েক বাক্যে আশাকরি বিষয়টা ক্লিয়ার করা যেত। 


৩. পুরো বইয়ের আদ্যোপান্ত রাশেদের জবানবন্দিতে উত্তম পুরুষে বর্ণিত হয়েছে। তাই সবকিছু রাশেদের পরিদর্শিত বিষয়ের বর্ণনা হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং এটাই সঙ্গত। কিন্তু বইয়ের সতের নং অধ্যায়ে গিয়ে হঠাৎ জুবায়দা চৌধুরীর একলা বিকেলের কিছু ভাবনাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আবার এই অধ্যায়ের শেষেই নাম পুরুষে জুবায়দা চৌধুরীর প্রবাসী ছেলের সাথে আলাপনের ব্যাপারে বলা হয়েছে। রাশেদ যেখানে পুরোপুরি অনুপস্থিত। যে সব ভাবনার কিছুই সে জানে না।


উত্থাপিত বিষয়গুলো একান্তই আমার নিজের। এর সঙ্গে কারো ঐক্যমত্য পোষণ করা আবশ্যক নয়। লেখিকার কাছে যদি সঙ্গত মনে হয়, আশাকরি পরবর্তী মুদ্রণে বিষয়টার প্রতি লক্ষ্য করবেন। 


পরিশেষে লেখিকার সর্বাঙ্গীণ সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করি। সুস্থ সুন্দর গতিময় ও অবিচ্ছিন্ন হোক তার লেখালেখির ইহযাত্রা, এবং এক ঘুমভাঙা সকালে উঠে দেখবেন তার বই বেস্টসেলার এ্যাওয়ার্ড পেতে যাচ্ছে, এই দুয়া করি।
Profile Image for Ishfak Ahmad.
5 reviews1 follower
May 6, 2022
উপন্যাস পড়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। আসলে এই স্মার্টফোনের যুগে সময় নিয়ে উপন্যাস পড়া হয়ে উঠে না। আর কথায় তো আছেই "বেকার মানুষের ব্যস্ততা বেশি"।

যাইহোক কিছুদিন আগে আমার বোন "অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম" বইটি কিনার পর, ছোট ভাগনার ছিড়ে ফেলার ভয়ে বইটি আমার ঘরে লুকিয়ে রাখে। হঠাৎ একদিন কি ভেবে বইটা হাতে নিলাম।

ফ্ল্যাপের লেখা পড়ে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হওয়াতে পড়া শুরু করলাম। যত আগাতে থাকলাম ততই যেন আগ্রহ বাড়তে থাকলো। খুবই সুন্দর উপস্থাপনা, মনে হয় যেনো চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ফুটে উঠছে ! জমিদার বাড়ি, পরিবেশ-প্রকৃতি সব যেন অনুভব করতে পারছি। খুবই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সত্যিই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে, লেখিকার লেখা প্রথম বই!! বলা যায় এক বসাতে পড়ে শেষ করেছি।

বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখিকা এমন একটা আবহ ধরে রাখেন যে, বই ছাড়াই মুশকিল হয়ে যায়। চিরাচরিত থ্রিলার ধরণের না হলেও লাস্টে মারাত্মক একটা টুইস্ট আছে

আসলে কে এই রাশেদ চৌধুরী!
কেনইবা সোমনাথ রায়ের প্রতি তার এতো আগ্রহ?
কে এই নারী জোবাইদা?
সেই অন্ধকার রাতে নীলাম্বরীতে আসলে কি ঘটেছিল? অসাধারণ এক আখ্যান পড়লাম এক জমিদার পরিবার নিয়ে। কতো যে কাহিনি লুকিয়ে থাকে এদের পরিবারে।

সবাই পড়ুন বইটা। সময়টা ভালো কাটবে আমার বিশ্বাস।

বই- অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম
লেখিকা- সুফাই রুমিন তাজিন
প্রকাশনী- বুক স্ট্রিট
পৃষ্ঠা- ১৭১
মূল্য- ২৮০ টাকা
Profile Image for Xilani.
18 reviews5 followers
June 14, 2022
“মানুষের কাছে মিথ্যা খুবই প্রিয়। আর সেই মিথ্যাটা যখন কোন মেয়ের চরিত্র নিয়ে হয় তখন সেটা আমাদের কাছে মধুর মতো মিষ্টি মনে হয়।”
ভেবেছিলাম বইটি একটু নাড়া চাড়া করে রেখে দিবো। কিন্তু কয়েক পাতা পড়েই এতোটাই বুদ হয়ে গেলাম, যার ফলাফল কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বইটির যবনিকাপতন। লেখিকার প্রথম বই হিসেবে দারুণ, শেষ পর্যন্ত বইটি আমার আগ্রহ ধরে রেখতে পেরেছে।
Profile Image for Anjan Das.
416 reviews16 followers
January 5, 2024
ভাল লাগেনি।হতাশ পড়ে
Profile Image for Tasmia Tasneen Nitol.
55 reviews
September 23, 2022
পড়তে গিয়ে একবারও মনে হয়নি লেখকের প্রথম বই এটা! খুব সাবলীল বর্ণনা। বিশেষ করে চরিত্র চিত্রন। প্রত্যেকটা চরিত্রকেই খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। পুরোপুরি থ্রিলারও না, আবার সাদামাটা সামাজিক উপন্যাস ও বলা যায় না। সব মিলে খুব গোছানো একটা প্যাকেজ। ভালো লেগেছে।
Profile Image for Parvez Alam.
307 reviews13 followers
March 4, 2021
ভালো সময় কেটেছে উপন্যাসটার সাথে। শুরু দিকে খুব ভালো লেগেছে কিন্তু মাঝে দিয়ে একটু ঝিমায় গেছে পরে এমন একটা টুইস্ট দিলো পুরা হা হয়ে গেলাম। ভালো ছিল।
1 review
February 24, 2022
বইটি শেষ করার পর অনুভূতিটা কেমন বোঝানো কঠিন। অনেক প্রশ্নের উত্তর কিন্তু চাপা এক হাহাকার!!
Profile Image for Zaima Hamid Zoa .
64 reviews64 followers
July 13, 2021
এই বইটা কিনেছিলাম এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে। বুক স্ট্রীট থেকে অনেকগুলো নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছিল। এইটে ছিল তার মধ্যে একটা। নামটা বেশ মনে ধরেছিল। আর প্রচ্ছদটাও বেশ সুন্দর। তাই আর সাত পাঁচ না ভেবে নিয়ে নিয়েছিলাম। সেই বই পড়লাম আজকে এসে।

আমি পারতপক্ষে কোন বই পড়বার সময় কাহিনী আগেভাগে অনুমান করবার চেষ্টা করি না। আমার কাছে মনে হয় তাতে গল্পের আকর্ষণ কমে যায়। তবুও বইয়ের একটা পর্যায়ে এসে মনের মধ্যে একটা বেশ কি হয় কি হয় চিন্তা খেলা করছিল। এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম ক্লাইম্যাক্স যখন এসেছে, তখন আসলেও একটা ধাক্কা খেয়েছি। তবে দ্বিতীয়টা অবশ্য মনের মধ্যেই উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছিল। তারপরেও বইটা শেষ করার পর কিছুটা সময় স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম বৈকি।

অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম লেখকের প্রথম বই। এবং প্রথম বই হিসেবে আমার কাছে কাহিনীর গাঁথুনি, গল্প বলার ভঙ্গি খুব ভালো লেগেছে। পুরোটা সময় গল্পটা একদম ধরে রেখেছিল আমাকে। তবে এটাও ঠিক যে লেখায় আরও পরিপক্বতা আসবার সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। এবং আমার বিশ্বাস লেখক সেই চেষ্টাটা কখনো বন্ধ করবেন না।

আমি বানানের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে। আর তাই বোধহয় বানানের ভুলগুলো খুব বেশি-ই আমার চোখে ধরা পড়ে। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনা ঘটেছে। আশা করছি পরবর্তী এডিশনে এগুলো আর থাকবে না। তবে দু'টো জিনিস নিয়ে খানিকটা অভিযোগ এবং আক্ষেপ আছে আমার- এক, জমিদার সোমনাথের ডায়েরি; আর দুই, কুমুদিনী দেবীর ডায়েরি।

এই বইয়ের গল্পের শুরুটা ২০০০ সালের দিকে। আর জমিদার সোমনাথের সময়কাল বর্ণনা করা হয়েছে তার প্রায় ৫০/৬০ বছর আগে। অর্থাৎ ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যবর্তী একটা সময়কাল। ওই সময়কালে একজন মানুষের হাতে লেখা ডায়েরীর ভাষা যেমন হওয়া উচিত ছিল, তেমনটা আমার কাছে লাগেনি। বরং মনে হচ্ছিল এই ডায়েরী বড়জোর ১০ বছর আগের লেখা। লেখক এই দিকটা আরেকটু যত্ন নিয়ে লিখলে একটি তারা কেটে রাখবার সুযোগ হত না আমার। কুমুদিনী দেবীর ডায়েরি নিয়ে কথা বলবার আগে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, এই বইয়ের চরিত্র বিকাশের ব্যাপারটা লেখক খুব সুন্দর দেখিয়েছেন। প্রায় সব চরিত্রের পেছনের গল্পটুকু অর্থাৎ ব্যাক স্টোরি খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত যদি কুমুদিনী দেবীর ডায়েরি'র কথাগুলো পড়বার সুযোগ থাকত, তাহলে আরও একটু বেশি ভালো লাগত।

সব মিলিয়ে অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম চমৎকার একটা বই। এক বসায় পড়ে শেষ করা যায়। এবং এই বইটা নিয়ে যতটুকু কথা হওয়া উচিত ছিল ততটুকু হয়নি। লেখকের জন্যে আমার অনেক শুভকামনা। আশা করছি তিনি কখনো লেখা থামাবেন না। পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
Displaying 1 - 30 of 33 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.