লাবণ্য পদ্মর চুল আচড়ে দিতে দিতে বলছিলো, " কোনো এক মহাজ্ঞানী বলেছিলো, পূর্ণতার সাথে কবিতার জন্মবিরোধ। যে কবির সার্থকতম কবিতাটি লেখা হয়ে গেছে, যে কবি নিজেকে নিয়ে পরিতৃপ্ত, যে কবি পুরষ্কারের মালাকেই তার পরম প্রাপ্তি বলে জেনেছেন তিনি কবিই নন। আর অর্ধ চাঁদমামা হলো একটা কবিতা। এখন তুমি বুঝবেনা, যেদিন বড় হবে বুঝতে শিখবে, পৃথিবীকে নিজের মত আবিষ্কার করবে, সেদিন ঠিক বুঝতে পারবে কেনো।" তারপর পদ্মর গালে সে মিষ্টি একটা চুমু খায়। কথা বলছিল ঝাঁঝি শ্যাওলার লেবু। এই লেবুকে জানতে হলে বইটি পড়তে হবে হয়তো। আর তার মাঝে যদি নিজেকে খুজে পায় কেউ সেখানেই লেখকের সার্থকতা।
বইয়ের কভার খুব সুন্দর হলেও বইটা মোটেও সুবিধার না। নতুন লেখকদের বই সবসময়ই কিনে পড়তে চেষ্টা করি। কিন্তু এই বইটা আমার ৫০ পেইজ পড়তেই খবর হয়ে গেছে! একেতো লেখা ভালোনা, তার উপর একটা কাহিনী বলতে গিয়ে আরেক কাহিনীতে, আরেক কাহিনী বলতে গিয়ে আরেকটাতে, এভাবে লুপ আকারে চলতেই থাকে। এভাবে চলতে গিয়ে মেইন কাহিনীটাই চাপা পড়ে যায়। আমার মোটেও লেখকের উপর কোন রাগ নেই, কিন্তু প্রচুর রাগ হয়েছে পাবলিশার্স এর উপর, এনারা কি পান্ডুলিপি না পড়েই বই ছাপাতে দিয়ে দেয়? নাদিয়া আপু, বলেছিল বইটা নিয়ে কিছু বলতে, আমি এখনো বইটা শেষ করিনি, কিন্তু আমি যে মানুষ কোন বই শুরু করলে শেষ না করে থাকতে পারিনা, তারও বইটা শেষ করার কোন আগ্রহ-ই নেই। Please someone tell me It's get better, maybe then I'll finish it.
যারা অভিযোগ করেছিলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতেসি, আমি বইটা পড়ে শেষ করেছি অবশেষে। এটা ঠিক আমার আগের রিভিউটা অনেক ব্রুটাল ছিল, কিন্তু আপনি যখন এতো সময় নিয়ে এরকম হিন্দি সিরিয়াল মার্কা ড্রামাটিক একটা বই পড়েন, বিশ্বাস করেন আপনার মেজাজ খারাপ হতে বাধ্য। বইটার প্রথম ৫০ পৃষ্ঠার কথা তো আগেই বলেছিলাম, এখন নতুন করে যোগ হয়েছে অনেক বানান ভুল। আমি এটাও বিশ্বাস করি বইটা যদি একজন ভালো প্রুফ রিডার আর একজন ভালো এডিটরের হাতে পড়তো, খুবই ভালো একটা বই হতো।
আর আমি লেখককে চিনিনা, ওই রিভিউটা কোনভাবেই পার্সোনাল এট্যাক ছিলোনা।
কিছু কিছু বই থাকেনা, একজনের ভালো লাগলে আরেকজনের ভালো লাগেনা, এটাও এমন একটা বই বলে ধরে নিলাম আমি। সবার পছন্দতো আর একরকম না। মোট কথা, বইটা আমার ভালো লাগেনি। এটা কোনভাবেই লেখককে এট্যাক করে কোন রিভিউ না। লেখকের বই লেখার মতো সাহসী কাজ করার জন্য আমি বইটাকে এক তারা দিলাম।
beware reviewers! আপামনির রিভিউ পছন্দ না হলে সে আবার স্ক্রিনশট নিয়ে তার ফেসবুকে পাবলিক পোস্ট দেন. যাই করেন, ভুলেও বলতে জায়েন না যে বইটা পড়তে পারেন নাই. আর মনে রাখবেন, বই শুরু করলে শেষ করাটা ফরজ.
'' কিন্তু মানুষ ভুল করে, আর কিছু ভুলের চেহারা থাকে একদম ঠিকের চেহারার অবিকল। ''
একটা সময় ছিলো যখন খুব করে দীপাবলির মতো মানসিকতা হবে তেমন চাইতাম,বিশেষ করে প্রথম খন্ডের দীপাবলি। কিন্তু কিছু কারণে সেই মোহ কেটে যায়। অনেকদিন পর অন্য একটা চরিত্রের আদলে নিজের মানসিকতা সাজাতে ইচ্ছে হচ্ছে-লেবু। আমি নতুন লেখকের বই নিতে ততোটা ভরসা পাইনা,প্রি-অর্ডার করা তো দূরে থাক। তা মুমু আপুরটা এতো উৎসাহের সাথে কেনো নিলাম?উনি নতুন লেখক হলেও ওনার লেখার সাথে সামান্য পরিচয় আছে।গল্প না সেসব অবশ্য। কিন্তু ওনার বই শুনে ভরসা হয়েছিলো, তাই কিনেই ফেললাম। আর লেবু একটুও নিরাশ করেনি।কড়ায়-গণ্ডায় মোহে জড়িয়ে নিয়েছে। গল্পে আসি। সুনামগঞ্জের ঝিগলীর রাজপরিবারের কথা শুনবে?কিন্তু বলতে গেলে তো গল্পের অনেকখানি বলে দেয়া হবে!তবে জেনে রাখো -সেখানে শেকলের আড়ালে এক তারা ছিলো। সে জ্বলে উঠে হারিয়ে যায়। নির্দয়তা, ক্ষমাহীনতা আর শেকল বাঁধা নিয়মের আড়ালে। আর তার বড়ো অপরাধ ছিলো সে নারী। রাজবাড়ীর ইতিহাসের পরপর আসে জা-আতারীর শরণার্থী শিবিরের গল্প।গল্প বলছি পাতায় লেখা তাই,কিন্তু এর প্রতিটি কথা-ই সত্য। তার প্রমাণ তো আমাদের দেশেই আছে। গল্পের প্রধান চরিত্র লেবু উরফে লাবণ্য। কিন্তু তার আশেপাশের সবার কথা উঠে এসেছে,এবং প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে তার মা, বাবা,বোন,শান্ত, পদ্ম।বইটা কিন্তু এক বসাতে শেষ করতেই হবে নয়তো শান্তি পাবো না এমন ধরনের বই। লেবুর উপর কিন্তু আমার অনেক রাগ!কেনো সেটা বলা যাবে না,কারণ স্পয়লার দেয়া যাবেনা।কিন্তু আমার লেবুর উপর আমার অবস্থা শান্তর বোন ঝিনুকের মতো। রাগ -অভিমান মেশানো এক অনুভূতি। কোন রেফারেন্স নিয়ে বলছি তা পড়লেই বুঝতে পারবে। আর যে টুইস্টটা একদম আশা করিনি-সেটা ছিলো নওরিন আর ফারহানের মোড়টা। স্পয়লার দেইনি কিন্তু।তোমরা জানো না এরা কে।শুধু জানো এরা এই গল্পের বাসিন্দা, কোনো এক পাতায় দেখা হয়েছে।
'পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা শুধু পুরুষকেই দোষারোপ করে।কিন্তু কোনো নারী আরেকটা নারীর পাশে এসে দাঁড়ায় না অধিকাংশ সময়ই!এই দায়ভার তো নারীর কাঁধেও যায়!'-এই লাইনখানা যে কতোখানি সত্য তা একজন সচেতন নারী ভালো মতোই জানে।স্বামী -সংসার মানে তুমি সুখী। নয়তো নয়। আর সবার চোখে নারীর সার্থকতা যেনো এই-ই। আর যারা লেবুর মতো হওয়ার সাহস করে,সমাজ-সংসারের কাছে লেবুরা করুণার পাত্রী। তাদের করুণা বা উপদেশ কেউ চাইতে না গেলেও, সেটা বিলোতে তাদের কোনো লজ্জা লাগেনা। আমার কিন্তু এই বইয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে লেবুর বাবা মা-হামিদুর রহমান আর জাহানারা বেগমকে।লাবণ্য লেবু হওয়ার সাহস পেয়েছে এদের থেকে। আমি অতো গুছিয়ে লিখতে পারিনা,অনেক কিছু মাথায় ছিলো বইটি পড়ার সময়।এখন সব গুলিয়ে গেছে,তবে এইটা সেই ভাবনাগুলোর সারমর্ম। ৪.৫★ কারণ প্রথম দিকে শান্তকে অনেক ডামাডোল বাজিয়ে আনা হয়েছে। তাকে নিয়ে আরো কিছু আসবে,তিতির -মাধবী-রাজবাড়ি নিয়ে আরো কিছু আসবে, এই আশা ছিলো। ওরা যেনো হুট করে মিইয়ে গিয়েছে মনে হয়েছে।হয়তো এটি লেবুর গল্প বলে তাদের কথা আসেনি,কিন্তু আসলে ভালো লাগতো🖤 (নোটঃএই বই নিয়ে আমার আরো অনেক কিছু বলার, একদিন গুছিয়ে নিয়ে সব বলবো🖤)
বই - ঝাঁঝি শ্যাওলা লেখিকা -ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু @owakila_tabassum_mumu
বই জীবনে কম পড়া হয়নি কিন্তু অনেককাল পরে এতো সচ্ছ একটা চরিত্র পেলাম। লেবু ওরফে লাবন্যর কথা গুলো যেন আমার মনের কোনে লুকিয়ে থাকা শব্দগুলোই।
জীবনের নাম 'ঝাঁঝাি শ্যাওলা '।নামখানা আমার নয় গল্পের নায়িকা লেবুর দেওয়া। সত্যিই জীবন একটা শ্যাওলা ধরা জমিন।
গল্পের প্রধান চরিত্র লেবু।এক বাস্তববাদী, সংগ্রামী নারী। যার প্রবল আত্মমর্যাদা, আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব তাকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছে। কিন্তু তার মনের মাঝে সবার জন্য মায়া।কখনো শরণার্থী শিবিরে অসহায় মানুষের জন্য আবার কখনো অধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য তার মনে তীব্র হাহাকার। জীবন তার কাছে হিসাব না মেলা অংক।আর তার সব অবসাদের স্বস্তি মেলে প্রকৃতির কাছে।
গল্পের আরেক চরিত্র 'শান্ত'যার পূর্বপুরুষ ছিল সুনামগঞ্জের রাজবংশ।আর রাজবংশ পুত্র ''তিতির"এর ভাগ্যেই কি বাধা পরেছে শান্ত-র ভাগ্য?
তাছাড়া বইয়ের প্রত্যকটি চরিত্র যেন একে অপরকে আকড়ে আছে।কিন্তু প্রতেকেই তার জগত�� সয়ংসম্পূর্ণ।এই জিনিসটাই বইয়ের অসাধারণত্ব।
একজন মেয়ে হিসেবে বইটা আমাকে অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে শিখেয়েছে।লেখার গভীরতা, লেখিকার ভাবনী আমাকে মুগ্ধ করেছে।বইয়ের সব উক্তিই এত্তো ভাল লেগেছে যে আলাদা করে কিছু কিছু লিখবো না।
আমি না ভেবেই বছরের শুরুতে বলতে পারি ২০২১ সালের পড়া সেরা বই আমার -"ঝাঁঝি শ্যাওলা''।
@owakila_tabassum_mumu আপু তোমাকে ধন্যবাদ দিব না কিন্তু তোমার কাছে আবদার এরপর থেকে প্রত্যেক বছর বই চাই তোমার।
পুরো গল্পজুড়েই যার আধিপত্য ছিল সে হচ্ছে আমাদের লেবু, ওরফে লাবন্য। একজন স্বাধীনচেতা, আত্নপ্রত্যয়ী সাহসী নারী। জীবনের বিভিন্ন ধাপে ধাপে সে বিভিন্ন বস্তি, ক্যাম্প থেকে শুরু করে শরণার্থী শিবিরে গিয়ে মানুষের পাশে থেকেছে। সাথে তার পাশে থেকেছিল তার পরিবার। লেবুর মা-বাবা,বোন তারা খুব বেশি সাপোর্টিভ ছিল যা গল্পে আমার খুব ভালো লেগেছে। লেবুর জীবন জুড়েই ছিল মানুষের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছা, প্রবল তেষ্টা। এই লেবুর কথাবার্তা, তার মনোভাব আমাকে আমার আমি'র কথা মনে করে দিয়েছে। লেবু যা ভবিষ্যতে মানুষের জন্য করেছে একসময় আমিও তেমন হতে চাইতাম, এখনো চাই।
গল্পের অন্যপাশে শান্ত। নামের মত শান্তস্বভাব, হাসিমুখ এই যুবকের সাথে জড়িত সুনামগঞ্জের ঝিগলির রাজপরিবারের কথা। রাজকুমার তিতির আর মাধবীর কথা।
বইয়ের আকর্ষণীয় দিক ছিল লেবুর বিপরীতধর্মী মনোভাব। সমাজের রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে নিজের আত্মসম্মানকে বেছে নিয়েছে সে, নত হয়নি কারো সামনে। আবার রাগ ও বটে। ভুল মানুষকে প্রশ্চয় দিয়েছে অথচ যাকে পাশে পাওয়ার ছিল তাকে হারিয়েছে।
লেবুর চেয়ে শান্তকে আমার বেশ যুৎসই লাগলো। সেই আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র। কিন্ত গল্পে তার উপস্থিতি কম। শুরুতে যেভাবে তাকে নিয়ে গল্প এগোচ্ছিল মনে হলো তাকে নিয়ে কিছু একটা হবে কিন্তু হুট করে মাঝপথেই সে হারিয়ে গেল। গল্পের চরিত্র অনেক। একেকটি চরিত্রকে একেকটি বৈশিষ্ট্যে ফুটিয়ে তুলেছে। আবার গল্পের আরেকটি খুব সুন্দর দিক হলো পালাগান আর লোককথাগুলো। সেসব পড়তে বেশ ভালো লাগছিল।
বইয়ের কিছু নেগেটিভ দিক উল্লেখ করলে বলব কাহিনীর সংযোগ বা ধরে রাখার ব্যাপারটা। কিছুক্ষন এক প্রেক্ষাপটে তো কিছুক্ষন আরেকটিতে। এই নিয়ে বেশ জগাখিচুড়ি। আর বানান ভুলের ব্যাপারটা। দু একবার ভুল হলে এড়িয়ে যেতাম কিন্ত বেশ কয়েকবার বানান ভুল চোখে পড়েছে। আশা করি পরের সংস্করণে ঠিক করা হবে।
তবে লেখিকার প্রথম বইয়ে এত সুন্দর প্লটের একটা কাহিনী উপস্থাপন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। একবারও মনে হয়নি নতুন লেখিকার বই পড়ছি, বাক্য গঠন, শব্দচয়ন এবং সুন্দরভাবে তা উপস্থাপন করেছেন। বইয়ের উৎসর্গ পত্রটা এত আদর ছিল, সেটাই সবার আগে আমাকে আঁকড়ে ধরে। শুভকামনা রইলো।
অত্যন্ত সুন্দর উপকরণকে বেশি রেঁধে ফেললে যেমন ব্যাপার হয়, ঠিক তাই হয়েছে এখানে।স্বাধীনচেতা, সম্পর্কে জড়াতে অনাগ্রহী মুখ্যচরিত্রটাকে আমার ভালো লাগার কথা। তবে কাহিনীর গতিবেগ বোঝা আমার সাধ্যের বাইরে।এই টোগোতে আছি, তো এই ইতিহাসের পাতায়, তো এই জা-আতারি শরণার্থী শিবিরে।এই মূল চরিত্র কাউকে কাছে টানে না,তো এই ধাম করে এক ম্যাটারিয়ালিস্টিক গাধার গলায় ঝুলে পড়ে।লেখিকা কী বলতে চেয়েছেন,বুঝিনি আমি।সবার উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা দেখে বইটা কিনে একপ্রকার ধাক্কা খেলাম।লেখিকার শব্দচয়ন ভালো।আশা করি সামনে আরও গোছানো কাজ আসবে।
কোথা থেকে শুরু করবো ঠিক বুঝতে পারছিনা। বইটা শেষ করার সাথে সাথেই যেন টপটপ করে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র লাবণ্য রহমান,অর্থাৎ আমাদের বইয়ের নায়িকা লেবু। লেবুর কথাবার্তা চিন্তাভাবনা সবই যেন একদম আমার মনের মতো,সব মনে হয় আমার মনের কথা। আমাদের লাবন্য বা লেবু একজন শিক্ষিত,সুন্দরী,সংগ্রামী নারী এবং বাস্তববাদী। যাকে নিয়ে রয়েছে অনেক ধরনের ঘটনা,কাজের জন্য সে বিভিন্ন দেশে বিদেশে ঘুরেছে।আফ্রিকার টোগো,কখনো পালাগান,কখনো কমলাপুরের বস্তি থেকে সিলেটের রাজবাড়ি। এই প্রত্যেক ঘটনাই যেন জাপটে ধরে রেখেছে গল্পটাকে,পিছুটান যেন ছাড়েই না। সমাজের নারীদের তুচ্ছের অবস্থান কে নিয়ে নারীবাদী,পুরুষবিদ্বেষ এবং এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন চরিত্রই আমাদের লেবু। সমাজের নিপীড়িত, অধিকার বঞ্চিত নারী এবং মানুষদের নিয়েই তার চিন্তাভাবনা।জীবন,সংসার,নিসঃঙ্গতা,আত্মপ্রত্যয়ী এক নারীর জীবনে জীবনের মাঝে খুজে পাওয়া,নারীর বিপরীতে সমাজ,প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মেলবন্ধন,জীবন নামের অংকটাতে যোগ বিয়গের কথকতা ঝাঝি শ্যাঁওলা এক দারুন জীবনের গল্প। গল্পে লেবুর বিপরীত চরিত্রে আছে সুনামগঞ্জের রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া শান্ত।ছেলেটা যেখানেই যাবে তার আশেপাশের সবকিছুই মাতিয়ে রাখে। সুন্দর,শিক্ষিত এই শান্ত ছেলেটি লেবু কে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু খুব কষ্ট হয় যখন বইটি শেষ পর্যন্ত গিয়ে খবর পাই লেবু আর শান্তর সম্পর্ক টা পরিনতি পায় না।
ঝাঁঝি শ্যাওলা বইটির চমৎকার দিকটি হচ্ছে বইটাতে মুমু আপু সমাজের সংগ্রামী জীবনের ঘটনাগুলো,জীবনের অবসাদগুলো খুবই সাবলীল ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। যার প্রত্যেকটি ঘটনা এবং চরিত্রের কাহিনি গুলো একে অপরকে আঁকড়ে ধরে।কিন্তু গল্পের গভীরতা অনেক। আমি মনে করি প্রতিটি নারীরই এই বইটি পড়া আবশ্যক। বইয়ের আরেকটি জিনিস খুব ভালো লেগেছে প্রথমেই যে নিবু নিবু আলোর অন্ধকারে নিরব নিশব্দ গ্রামের কি সুন্দর বর্ননা। . . বই থেকে অত্যন্ত প্রিয় দুটি লাইন
★একতরফা ভালোবাসা কতদিন বেঁচে থাকে? ভালোবাসায় এত জোর জবরদস্তিই বা কিসের? আবার আমরা যদি একসময় বদলে যাই তার উপর পূর্ণ অধিকার পেয়ে? যদি প্রচন্ড কষ্ট দেই? এর চেয়ে বরং এই কি ভালো না যে দূরে সরে যাই ! অন্তত ভালোবাসাটুকু বেচেঁ থাকবে, একসাথে বাঁচা না হলেও।"
★ ঈশ্বর যাকে বাঁচাতে চায় তার মরণ কোথায়? সবচেয়ে গভীর সমুদ্রে যে ঝাঁপ দেয় সেও বেঁচে যায় মাঝেমাঝে,যে কিনা আজ বাড়ি ফিরবে না করে বের হয় বাসা দিয়ে সেও সন্ধ্যে নামার আগেই ঘরে ফেরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। ভাগ্যের লিখন কে করিবে খণ্ডন?
ব্যক্তিগত মতামত: মুমু আপুর বই বের হওয়ার আগেই ইন্সটাগ্রামের স্টোরি তে আপু খুব খুব সুন্দর কিছু লেখা লিখে দিতেন মুহুর্তেই বানিয়ে ফেলতেন। এবং ইন্সটাগ্রামে তার লেখাগুলোও খুব সুন্দর পড়ে অনেক ভালো লাগতো,আপুকে একদিন বলেছিলাম আপু বই বের করো। আপু চমকে দিয়ে বলেছিলো বই লিখছি বের হবে,কাউকে এখনো জানাইনি। সত্যি শুনেই এতটা আনন্দ পেয়েছিলাম যার একভাগ আনন্দ এই বইটাতে পেলুম। আরো অনেক অনেক লেখা বই চাই। অনেক শুভেচ্ছা লেখিকার জন্য।😍❤️
বই জীবনে কম পড়া হয়নি কিন্তু অনেককাল পরে এতো সচ্ছ একটা চরিত্র পেলাম। লেব��� ওরফে লাবন্যর কথা গুলো যেন আমার মনের কোনে লুকিয়ে থাকা শব্দগুলোই।
জীবনের নাম 'ঝাঁঝাি শ্যাওলা '।নামখানা আমার নয় গল্পের নায়িকা লেবুর দেওয়া। সত্যিই জীবন একটা শ্যাওলা ধরা জমিন।
গল্পের প্রধান চরিত্র লেবু।এক বাস্তববাদী, সংগ্রামী নারী। যার প্রবল আত্মমর্যাদা, আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব তাকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছে। কিন্তু তার মনের মাঝে সবার জন্য মায়া।কখনো শরণার্থী শিবিরে অসহায় মানুষের জন্য আবার কখনো অধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য তার মনে তীব্র হাহাকার। জীবন তার কাছে হিসাব না মেলা অংক।আর তার সব অবসাদের স্বস্তি মেলে প্রকৃতির কাছে।
গল্পের আরেক চরিত্র 'শান্ত'যার পূর্বপুরুষ ছিল সুনামগঞ্জের রাজবংশ।আর রাজবংশ পুত্র ''তিতির"এর ভাগ্যেই কি বাধা পরেছে শান্ত-র ভাগ্য?
তাছাড়া বইয়ের প্রত্যকটি চরিত্র যেন একে অপরকে আকড়ে আছে।কিন্তু প্রতেকেই তার জগতে সয়ংসম্পূর্ণ।এই জিনিসটাই বইয়ের অসাধারণত্ব।
একজন মেয়ে হিসেবে বইটা আমাকে অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে শিখেয়েছে।লেখার গভীরতা, লেখিকার ভাবনী আমাকে মুগ্ধ করেছে।বইয়ের সব উক্তিই এত্তো ভাল লেগেছে যে আলাদা করে কিছু কিছু লিখবো না।
আমি না ভেবেই বছরের শুরুতে বলতে পারি ২০২১ সালের পড়া সেরা বই আমার -"ঝাঁঝি শ্যাওলা''।
@owakila_tabassum_mumu আপু তোমাকে ধন্যবাদ দিব না কিন্তু তোমার কাছে আবদার এরপর থেকে প্রত্যেক বছর বই চাই তোমার।
বর্তমানের প্রেক্ষাপটে একজন লেখিকা হিসেবে তার শব্দচয়ন এবং আইডিয়া খুবই ফ্রেশ। ভবিষ্যতে তিনি আরো ভালো করবেন তা চোখ বন্ধ করেই আশা করা যায়। তার লেখার সার্বিক উন্নতি কামনা করছি যেন তিনি এরুপ নতুন নতুন গল্প আমাদের আরো উপহার দিতে পারেন।
দায়িত্বশীল, গভীর, আত্মসম্মানবোধ সচেতন এবং নিজের উপর প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এক চরিত্র 'লাবণ্য'কে নিয়ে গোটা একটা উপন্যাস যিনি লিখেছেন বেশ সাবলীলভাবে -- তিনি কখনই এরকম একটা গল্প তুলে ধরার সাহস পেতেন না কিংবা উপন্যাসে রূপ দিতে পারতেন না যদি না তার মা বলতো যে, " Mumu, you should write. " মায়ের এইরকম অনুপ্রেরণা যার সাথে আছে, সে তো ভালো লিখবেই। একটা প্রচণ্ড সাহস এসে সবসময় দরজায় কড়া নেড়ে বলে যাবে এবং মুমু লিখে যাবে। আকাশ, বাতাস, নদী কিংবা এসবের প্রেমে পড়ে কবিতা লেখা অসহায় মানুষ নিয়ে, মানুষের জীবন নিয়ে। কথা বলছি, ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু আপুকে নিয়ে -- যিনি 'ঝাঁঝি শ্যাওলা'র মতো বেশ ভালো একটা উপন্যাস লিখেছেন।
বইটি পড়তে পড়তে যখন অর্ধেকে গিয়ে পৌঁছালাম তখন বেশ ভালো একটা লেখা দেখতে পেলাম, " ঠিক কতটুকু অতলে গেলে আর গভীরতা টের পাওয়া যায়না? সবকিছু সমতলে মনে হয়। সেটা মাপার জন্য খুব সাধারণ মানের কোনো যন্ত্র থাকলে সুবিধে হতো সেসব মুমূর্ষু আত্মার যারা নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না, বুঝে উঠতে পারছে না সমুদ্রের কততম স্তরে আটকে আছে। জালে ধরা পড়া মাছের মত শেষবার নিজেকে স্বাধীন করার চেষ্টায় ছটফট করে। কাতরাতে থাকে অস্থিরতায়, নিজের হাতে গড়া সাম্রাজ্য যেদিন শত্রুপক্ষরা এসে চুরমার করে দেয়ার প্রাণপণ চেষ্টায় থাকে, তখন সে রাজ্যের রাজা বোঝে অসহায়ত্ব কত কঠিন একটা জিনিস। "
কিন্তু -- এই লেখাটা ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু কেন লিখেছেন? এত গভীরভাবে জীবনকে কেন তিনি তুলে ধরতে চাচ্ছেন? সবকিছু জানার জন্য আপনাকে চৈতন্য থেকে প্রকাশিত 'ঝাঁঝি শ্যাওলা' বইটি পড়তে হবে।
আমি বরাবরই মন দিয়ে বই পড়ি, লেখা বিশ্লেষণ করি, রিভিউ পড়ি সেই বইয়ের, রিভিউ লিখি। ঝাঁঝি শ্যাওলার নিয়ে মুন ভাইয়ার লেখা রিভিউয়ের কিছু অংশ আমি এখানে ভাইয়ার অনুমতি ব্যতিরেকেই যুক্ত করে দিচ্ছি এই ভেবে যে, আমার লেখা রিভিউ যদি ভাইয়ার অল্প একটু লেখা দ্বারা পূর্ণতা পায় -- তাহলে ভাইয়া নেহায়েত রাগ করবেন না বৈ কি!
মুন ভাইয়া লিখেছেন, " নতুন লেখকরা লিনিয়ার ন্যারেশনে বই লিখবেন- এই ধারণাটা আমার মাথায় কবে শক্তপোক্ত একটা জায়গা করে নিয়েছে সেটা আমার নিজেরও মনে নেই। তাই বারবার শুরু করার পরও ভাবছিলাম মুমুকে নিয়ে কী আমি বেশি এক্সপেক্ট করছি? কেননা, বারবার থেমে যাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল সুর মিলছে না কোনভাবেই। অথচ লিরিকে ছন্দের কমতি নেই কিন্তু সুর মেলাতে গেলেই সব ভজঘট। কেবল কিছু প্রশ্ন ঘুরছিল মাথায়- লেবু কে? লেবু কেন? লেবু কোথায়? বারবার যেন দ্বন্দ্বে পড়ে যাচ্ছিলাম!
গল্প-উপন্যাস নন-লিনিয়ারভাবে শুরু করতে অনেক ঘাঘু লেখকরাও দু'বার ভাবে। তার ওপর যখন চরিত্রের কোন নির্দিষ্ট পারিপার্শ্বিকতাও সৃষ্টি করা হয় না তখন চরিত্রের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য বোঝানো বেশ হ্যাপার কাজ। ঝাঁঝি শ্যাওলার লেখিকা সে কষ্টের কাজটিই করেছেন। "
প্রথম উপন্যাস হলেও লেখার মাঝে একটা ম্যাচিউরড ভাব আছে। পরবর্তী উপন্যাসগুলোয় আরও দারুণ কিছু পাবো এই নিয়ে আমি যথেষ্ট আশাবাদী। লাবণ্য ও শান্তর মান অভিমানের বন্ধুত্বের গল্পের মধ্য দিয়ে আমরা বিভিন্ন দেশ ঘুরতে-টুরতে পেরেছি। বিভিন্ন রকম মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি। গল্প শুনেছি উড়িষ্যার এক রাজ্যে বাস করা এক রানির -- যে রোজ ভোরে ঠিক পাঁচটা বেজে দশ মিনিটে, কামিনী ফুলের বাগান পেরিয়ে প্রাসাদপ্রান্তরে সোনা দিয়ে বাঁধাই করা ঘাটে স্নান করত। আমরা গল্প শুনেছি রাজকুমার তিতিরের, যার সাথে আমাদের পরিচয় একদিন হঠাৎ ঠিক ভোর পাঁচটা বেজে দশ মিনিটে, কামিনী ফুলের বাগানে গাছপালা ঝোপঝাড়ের ভেতর। কিন্তু তাকে সেখানে আমরা কেন দেখেছিলাম?
আমরা গল্প শুনেছি শালুকের মা'র, যিনি এক ভরা জোছনার রাত্রিবেলায় সেই পুকুরে গিয়েছিলেন আত্মহত্যা করতে। গল্পের প্রয়োজনে পরিচয় হয়েছে আছিয়া আর হোসেন আলীর সাথে, যারা রাজবাড়ি দেখভাল করে। এইরকমভাবেই আমরা পৌঁছে যাই জা-আতারিতে, যেখানে আশি হাজারের মতো শরনার্থী বসবাস করছে। ঝাঁঝি শ্যাওলা শুধুমাত্র লাবণ্যর জীবনের গল্পকে তুলে ধরেনি। হয়ত লাবণ্যকে তুলে ধরতে গিয়ে লেখিকা নিজের অজান্তেই অসংখ্য জীবন ও জীবনের গল্পকে তুলে এনেছেন যা এই উপন্যাসকে করেছে প্রাণবন্ত এবং পূর্ণ। তবে এই পূর্ণতার স্বাদ পেতে হলে এই উপন্যাস আপনার অবশ্যই পড়তে হবে। পড়তে পড়তে একসময় লেবুর জন্য মন খারাপ হবে, পরক্ষণেই ভালো হয়ে যাবে, কিন্তু কেন?
লাবণ্যর জীবনে একসময় হঠাৎ করে ফারহান নামের একজনের আবর্তন ঘটে, গল্প মোড় নেয়। কিন্তু মোড় নিয়ে কোথায় যায়?
লাবণ্য অর্থাৎ লেবুর চোখ দিয়ে আমরা যেই আত্মবিশ্বাসী জীবনের সংজ্ঞা খুঁজে পাই, সেখানে ফারহানের ভূমিকা কতটুকু? শান্তর কি হয় শেষে?
জা-আতারির অসহায় জমিলা কিংবা রাজবাড়ির দেখভাল করা আছিয়ার গল্প ছাপিয়ে কতকিছু দেখতে পাবেন এখানে -- তা ভাবলে আমারও ভালো লাগে এই কারণে যে কিছু নতুন লেখকেরা সত্যিই পাঠকদের নিরাশ করে না। ঝাঁঝি শ্যাওলা পড়ে আমিও নিরাশ হইনি। আপনারা পড়ুন, ভালো লাগবে।
পৃথিবী বইয়ের হোক।
কখনো সু্যোগ পেলে আমি ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু আপুর সাথে কোনো এক মানবাধিকার সংস্থায় কাজ করব। ধন্যবাদ।
একজন মেয়ের কত শত শখের চাপা পড়ে যায় আর কত শত প্রাপ্য সমাজের মধ্যে যে আড়ালে চলে যেতে পারে এটা ঝাঁঝি শ্যাওলা পড়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বুঝা যায়। গল্পের মুল চরিত্র লেবু ওরফে লাবণ্য হলেও আশে পাশের মানুষের কত যে আনাগোণা গল্পটিকে ফুটিয়ে তুলেছে তা না পড়ে বুঝা যাবেনা। একটা মানুষের জীবন একটা খুবই সাধারণ পর্যায় থেকে জীবনের বড় ঝড় ঝাপটা ছাড়িয়ে কখন অসাধারণ পর্যায়ে চলে গিয়েছে আর তার প্রভাব কিরকম তা খুব সুন্দর এখানে উপস্থাপিত হয়েছে। কিছু কিছু কথা এত সুন্দর আর বাস্তব যে পড়ে মনে হয়েছে এ যেন চোখের সামনে অহরহ হচ্ছে কিন্তু তা ভাষাতে প্রকাশ করতে পারিনা আমরা, অথচ লেখিকা কি সুন্দর আর সহজ ভাষায় তা মাথায় গেথে দিয়েছেন। গল্পের সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের নাম শান্ত। হ্যাঁ, জানিনা অন্যরা পড়ে কি বলবেন তবে আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর আর বোধগম্য চরিত্র শান্তর। কি পাহাড় সমান ধৈর্য্য এই মানুষটার। লেবু যে বন্ধুত্বের বরণে তাকে কখনো অন্য দরজা দিতে পারবেনা এ জানা সত্ত্বেও নীরবে লেবুকে বিনা জানান দিয়ে ভালবেসে গেছে। আর সর্বক্ষণ সম্মান করে গেছে তাদের বন্ধুত্বের। তবে সেও জানতো যে একসময় এইটা সয়ে নেওয়া অনেক কষ্টের হয়ে যেতে পারে তাই পারি দেয় অন্যখানে। একরাশ চাপা অভিমান মনে নিয়ে আর একচ্ছত্র কৌতুহলকে সরিয়ে দিয়ে লেবুকেও ছেড়ে চলে যায়। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে লেবুও বুঝতে পারে শান্ত তার জন্য আসলে কি ছিল। খারাপ লাগে তার কিন্তু কিছু ভালবাসার পরিসমাপ্তি মিলিত হওয়াতে নেই। আর সেই ভালবাসাগুলো হয় সবচেয়ে সুন্দর, পবিত্র আর সদা প্রস্ফুটিত। গল্পের প্রতিটি চরিত্রের নানাভাবে নানা জায়গায় গুরুত্ব বোঝা গিয়েছে। কোনো চরিত্রের বিবরণ পড়ে মনে হয়নি যে এই চরিত্রটাকে লেখিকা আড়াল করে যাচ্ছেন। অনেক সময় নিয়ে পড়েছি যদিও গল্পটা, তাতে আফসোস হচ্ছেনা একদমই। কারণ পরিশেষে মনে একটা তৃপ্তি ঠিকই চলে এসেছে। লেখিকার যে এটা প্রথম লেখা এইটা কোথাও বুঝার ক্ষমতা নেই। আর লেবু চরিত্রের সাথে নিজের কিছু কিছু জায়গায় মিল পেয়েছি। পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আমি যে স্থানে আছি বর্তমানে সেইটা সঠিকভাবে না এগোলে কিছুক্ষেত্রে লেবুর মত ভোগান্তিও হতে পারে। যদিও একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি সেটা। পরিশেষে বলতে চাই এইরকম লেখা ধরে রাখলে লেখিকা আরো অনেক পরিচিত পাবেন যা তার প্রাপ্য। যারা সমসাময়িক লেখা পড়তে পছন্দ করেন তাদের বইটি পড়ার আহবান জানাবো।
আমি সমকালীন উপন্যাস খুব একটা পড়ি না। পড়লে খুব বেছে বই পড়ার চেষ্টা করি। তবে বইটা পড়ার ইচ্ছে ছিলো বহুদিনের। জীবনের নানান রকম মোড়, সংশয়, ভালো লাগা, ভালবাসা, বন্ধুত্ব, সংসার, পরিবার পরিজন নিয়েই জীবন। সবাই জানতে চায় জীবনের মানে কি? বইটিতে ফুটে উঠেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা শুধু পুরুষদের দোষারোপ করে। কিন্তু অধিকাংশ সময় এক নারী আরেক নারীর পাশে এসে দাঁড়ায় না অধিকাংশ সময়ই! এই দায়ভার তো নারীর কাধেও যায়। নারীর অত্যাচারিত, নিপীড়িত, স্বাধীনচেতা মনেভাব সুন্দরভাবে উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। উপন্যাস সাতকাহন একটা ফিল আছে। মেয়েদের এমন একটা উপন্যাস অবশ্যই পড়া উচিত। আর যারা সমকালীন উপন্যাস পছন্দ করেন তারা বইটি উপভোগ করবেন আশাকরছি।
💢চরিত্রকথন :-
বইয়ে বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে। চরিত্র হিসেবে লেবু,শান্ত,ফারহান, জমিলা, কাদির, রাজকুমারী তারা, রাজকুমার তিতির, রানী মাধবী, আছিয়া বুবু, হোসেন আলী, ইসমাইল, শালুক আমেনা, হেনা, রোদেলা, আনিস সাহেব, জাহানারা বেগম, পদ্মা সহ বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে। লেবু চরিত্র সাতকাহন এর দীপাবলি চরিত্রের মতোই। তাকে ঘিরেই পুরো উপন্যাস।
💥পছন্দের লাইন :-
১. যাকে ভালবাসো তার ক্ষতি করে, স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে নিজের স্বার্থোদ্বার কোন ধরনের ভালবাসা! আদৌ কি একে ভালবাসা বলে?
২. "কিন্তু মানুষ ভুল করে, আর কিছু ভুলের চেহারা থাকে অবিকল একদম ঠিকের চেহারার অবিকল।"
💢প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন, বানান ও সম্পাদনা :-
প্রচ্ছদ দেখেই বইয়ের প্রতি ভালো লাগা কাজ করে। সুন্দর এই প্রচ্ছদ করেছেন সাদিতউজজামান ভাই। চৈতন্য প্রকাশনীর বই আগে কখনো পড়া হয় নি। পৃষ্ঠার মান বেশ ভালো লেগেছে। প্রোডাকশন জোস। বানান সামান্য কিছু ভুল রয়েছে।
☘️লেখিকাকে নিয়ে কিছু কথা :-
ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু আপুর বই ফাস্ট টাইম পড়ছি। এটা তার প্রথম বই হওয়া সত্তেও বেশ দক্ষ লেখনীর পরিচয় দিয়েছেন আমি মনে করি। ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরো সুন্দর বই পাবো আশাকরি।
মানুষের জীবনের নাম হতে পারে "সাদিয়ার জীবন", "মুমুর জীবন", " মাহিমের জীবন" বা একটু ভিন্নভাবে বলতে গেলে "এক যোদ্ধার জীবন", " এক অসহায় মানুষের জীবন" বা "সুখী মানুষের জীবন"। কিন্তু জীবনের নাম শ্যাওলা হতে পারে এটা কেউ কখনো ভেবেছে? হ্যাঁ, ভেবেছে। লাবণ্য ওরফে লেবু নিজের জীবনের নাম দিয়েছে শ্যাওলা, "ঝাঁঝি শ্যাওলা"। দেশের বিখ্যাত নারীব্যক্তিত্ব লাবণ্য রহমান হলেন এই কাহিনির প্রধান চরিত্র। কাজের স্বার্থে সে দেশ-বিদেশ নানা জায়গা ঘুরেছে, দেখেছে। শরনার্থী শিবির, বস্তি এলাকা, নানা দেশের সুবিধাবঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের জন্যই তার কর্মকাণ্ড। সুন্দরী, উচ্চ শিক্ষিতা, বাস্তববাদী এবং ব্যক্তিত্বপূর্ণ এক নারী। যার মনে নানা টানাপোড়েন, দ্বিধাবোধ, দোটানা। সুনামগঞ্জের ঝিগলীর রাজপরিবারে জন্মানো শান্ত, যাকে তাড়া করে ফেরে শত বছরের পুরনো অতীত। সুদর্শন, শিক্ষিত, পুরুষালী এই যুবকের মনে লেবুর জন্য আছে এক বিশেষ স্থান। মুমু আপুর বইতে যে জিনিসটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো চরিত্রগুলোর গঠনশৈলী। লেবুর বাবা-মা, বোন,পদ্ম, শান্তর পরিবার, গ্রাম-গঞ্জের মানুষগুলো, রিফিউজি ক্যাম্পের আশ্রিতরা, আছিয়া বুবু, শালুকের মা কয়েকটি চরিত্র ভাবে বাকি সবগুলো মানুষই প্রচন্ডরকম পজিটিভ। পড়ার সময় মনে অন্যরকম একটা আরাম পেয়েছি। আপুর লেখন শৈলী, বাক্যের গঠন, শব্দচয়ন যে কত চমৎকার তা আপুর রিভিউ, স্ট্যাটাস, ক্যাপশন পড়লেই বোঝা যায়। এই বইতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুঃখ, যাতনা, জীবন, অনুভূতি, ভালোবাসা এমন সব গভীর শব্দের অদ্বিতীয় ব্যাখ্যা, সংজ্ঞা বা মূল্যবোধ। কাহিনির ভেতরে আমি যাবো না। তবে একবার শুরু করলেন তো শেষ না করে ওঠা দা���়। প্রচ্ছদখানা প্রচন্ড সুন্দর, স্নিগ্ধ আর শান্তিপূর্ণ। এতো গোছালো প্রোডাকশন এখন খুব একটা দেখা যায় না। এটা আপুর প্রথম বই। তবে বইখানা পড়লে তা বোঝা যাবে না। অনেক অনেক শুভকামনা রইল লেখিকার জন্য।
বইটা আমি কিনেছিলাম ২০২২ এ বইমেলা থেকে । ভাগ্যক্রমে মুমু আপুর সাথেও দেখা হয়ে যায়, আপু যে কি দারুন এক মানুষ। এতোদিন পড়বো পড়বো করেও ঠিক দুই বছর পর বইটা পড়লাম আর লেবু আমাকে একটু ও নিরাশ করলো না। বইটার কভারটা যেমন সুন্দর,কাহিনীটাও তেমন। বইটার শুরুটা ঠিক কেমন যেনো ছন্নছাড়া লাগছিলো। কোনো কিছুরই মিল পাচ্ছিলাম না তবে আস্তে আস্তে সবই গুছিয়ে আসে।লেবু ওরফে লাবণ্যর মধ্যে একদম প্রথম থেকেই যেনো নিজেকে দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার আজীবনের সাধ জীবনের যেকোনো বাঁধা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা,হোক সেটা ফিনান্সিয়ালি বা ইমোশনালি। লেবু ঠিক একদম সেই মানুষটি। লেবুর মতো এতো ব্যাক্তিত্বসম্পন মানুষ খুবই কম দেখেছি আমরা। লেবু শান্তর সাথে যা করেছে তা একদমই ভালো লাগেনি,তখন ওর উপর রাগও লাগছিলো প্রচুর। তবে দেবদাস হোক বা ঝাঁঝি শ্যাওলা একটা জিনিস খুব ভালো মতোই উপলব্ধি করলাম, "জীবন আপনাকে কখনোই দুবার অমায়িক, নিঃস্বার্থ বা ভানহীন ভালোবাসা দিয়ে বরণ করবে না। আপনি যে ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বা পায়ে ঠেলে দিচ্ছেন ঠিক তেমন কিছুই আজ হোক বা কাল হোক তা আপনার কাছে ফিরবেই, বহুগুণে।"
ঠিক কতটুকু অতলে গেলে আর গভীরতা টের পাওয়া যায় না। সবকিছু সমতল মনে হয় সেটা মাপার জন্য খুব সাধারণ মানের কোনো যন্ত্র থাকলে সুবিধা হতো সেসব মুমূর্ষু আত্মার যারা নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না, বুঝে উঠতে পারছে না সমুদ্রের কততম স্তরে আটকে আছে। লেখিকার মাথায় কি ছিল আমি জানিনা তবে তার মাঝে আমি জীবনবোধ খুজে পেয়েছি। প্রথম বই হিসেবে লেখিকার সার্থকতা হচ্ছে ক্যারেক্টার বিল্ডিং । ছোট বড় বেশ ভালো পরিমানই চরিত্রের সমাবেশ দেখতে পাই এরপরও গল্পের ধারাবাহিকতা এবং পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখা খুবি শক্ত কাজ এবং এখানেও লেখিকা সফল। সমস্যা হচ্ছে একটাই ভাষাটা কলকাতার বাবুদের হয়ে গেছে যেটা আমার মত সমরেশ, সুনীল পাগলদের ভালো লাগলেও সমালোচকদের চোখ এড়াবে না সিওর। প্রথম বই তাই এখানে লেখিকাকে ছাড় দেয়াই যায়।
ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু আপুর "ঝাঁঝি শ্যাওলা" বইটিতে অসাধারণ জীবনবোধ ফুটে উঠেছে। বাস্তববাদী, স্বাধীনচেতা নারী লাবণ্য ওরফে লেবুর সংগ্রামী জীবনের এক বিস্ময়কর আখ্যান যেন এই বইটি। নবীন লেখিকা হিসেবে অনেক সুন্দর লেখনী। সামনে তার থেকে আমরা আরো ভালো বই পাবো বলে আশাবাদী।
লাবন্য চরিত্রটি খুব স্বচ্ছ , স্বাধীনচেতা, বাস্তববাদী এবং সংগ্রামী নারী। গল্পের চরিত্রায়ন খুব ভালো হয়েছে। ভালো লিখেছিস তবে ধীরে ধীরে আরো ভালো হবে আশা করি❣️।
বইটির প্রধান চরিত্র লেবু ওরফে লাবণ্য। অসম্ভব সুন্দরী,উচ্চশিক্ষিতা,স্বনির্ভর, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। লেবু মমতাময়ী, দয়ালু,সৎ। কিন্তু মনে দোটানা।
বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শান্ত। সুনামগঞ্জের রাজকুমার তিতিরের বংশধর। ।শান্ত লেবুর সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের মধ্যে একজন। শান্তর মনে লেবুর জন্য একটি বিশেষ জায়গা আছে। শান্তকে তাড়া করে বেড়ায় তার অতীত। সে অতীত শত বছর আগের অতীত।
লেবু, শান্ত ছাড়াও বইটিতে ছোট-বড় অনেক চরিত্রের সমাহার দেখা যায়। প্রত্যেকটি চরিত্র যেন বাস্তব। বইটির প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে,বইয়ের উৎসর্গ পাতা,লেখকের কথা,প্লট,শব্দচয়ন সবকিছুই পাঠকের মনে দাগ কাটে। গল্পে শতবছর আগের রাজকুমার তিতির,যুদ্ধ,রাজপ্রাসাদ,রানী মাধবী যেমন আছে,তেমনি আছে আধুনিক যুগের লেবু,শান্ত,কবিয়ালের গান,শরণার্থী ক্যাম্প। মুমু আপুর লেখার ধরন আর শব্দচয়ন আমার কাছে কতটা ভাল লেগেছে আমি সত্যিই লিখে প্রকাশ করতে পারবনা। চরিত্রগুলোকে যেন তিনি অনেক যত্নে সাজিয়েছেন।
এবারের বইমেলায় যাওয়ার প্রধান কারণই ছিল এই বইটি কেনা। কিনেই সাথে সাথে পড়া শুরু করে দেই। প্রিয় লাইনগুলো হাইলাইট করে রেখেছি। মাঝপথে এসে চাচ্ছিলাম না বইটা শেষ হউক। ইচ্ছে করছিল পড়তেই থাকি পড়তেই থাকি। রিডিং স্লাম্প কাটিয়ে উঠার জন্য বইটি অত্যন্ত ভাল।
অবশেষে লেখিকাকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি বই লেখার জন্য। ছোট বোন আর ভক্ত হিসেবে একটা আবদার ও আছে আমার। আগামী বছর আরেকটি বই চাই। অনেক দোয়া আর ভালবাসা রইল। ❤️
ওয়াকিলা তাবাসসুম মুমু আপুর "ঝাঁঝি শ্যাওলা" বইটিতে অসাধারণ জীবনবোধ ফুটে উঠেছে। বাস্তববাদী, স্বাধীনচেতা নারী লাবণ্য ওরফে লেবুর সংগ্রামী জীবনের এক বিস্ময়কর আখ্যান যেন এই বইটি। নবীন লেখিকা হিসেবে অনেক সুন্দর লেখনী। সামনে তার থেকে আমরা আরো ভালো বই পাবো বলে আশাবাদী।