কালজয়ী সাহিত্য-কীর্তি সৃষ্টি করার নেপথ্যে শুধু কাহিনি বলার তাগিদ একলা কাজ করে না, তার সঙ্গী হিসেবে অবশ্যম্ভাবী-রূপে এসে পড়ে গভীর কোনও এক মতাদর্শ। দুইয়ের যুগলবন্দি-ই দশক, শতক পেরিয়ে জিইয়ে রাখে শব্দ-ভরতি পৃষ্ঠাদের। হ্যাঁ, ঠিক এমনটাই মনে হল এই সংকলনে ঠাঁই পাওয়া Jules Verne রচিত (মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অনূদিত) পাঁচটি কাহিনি পড়ে।
লেখকের বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান কাহিনিগুলির থেকে অনেকটাই ভিন্নধারার এই সংকলনের পাঁচটি কাহিনি। বিজ্ঞানের হাত ধরে অসাধ্যসাধনের বদলে নানা ঘটনায় মানুষের অপরিণামদর্শিতার কথাই যেন উঠে এসেছে বারবার। গল্পের চরিত্রগুলি নিজস্ব দোষগুণে যেন এগিয়ে চলেছে নিজেদের অনিবার্য পরিণতির দিকে। অভিযানের রোমাঞ্চকে দূরে সরিয়ে রেখে সামাজিক তথা ব্যক্তিগত নৈতিকতার চুলচেরা বিশ্লেষণই যেন উপজীব্য হয়ে উঠেছে প্রতিটা গল্পে।
অতএব, কেউ যদি Jules Verne-এর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির নিরিখে এই বইয়ের পাতা উলটোতে শুরু করেন, তাহলে কিছুটা হতাশ হতে হবে। কিন্তু বই পড়ার মাধ্যমে যদি বৃহত্তর কোনও philosophy আহরণ করার সামান্যতমও সদিচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে এই বই চিন্তার প্রভূত খোরাক জোগাতে সক্ষম।
অবশ্য এ-কথাও স্বীকার করতে হয় যে, গল্পগুলির ন্যারেটিভ বেশ জটিল। কারণ, যে ভৌগোলিক/ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কাহিনিগুলির অবতারণা করা হয়েছে, তার থেকে অবস্থান এবং সময়কাল -- দুইভাবেই আমরা অনেক দূরে রয়েছি। তবুও একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙে উঠতে শুরু করলে ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই। অনুবাদের কাজটিকেও সে-জন্য বাহবা দেওয়া আবশ্যিক।
সবকিছুর মধ্যে অবশ্য 'মাস্টার জাকারিয়ুস' (Master Zacharius) বিশেষভাবে মনে থেকে যাবে বহুদিন। কাহিনিটিতে একটা 'anti-science' ন্যারেটিভ অনুভূত হলেও সামগ্রিকভাবে এটিকে একটি শক্তিমান সাহিত্য বলে স্বীকার করতেই হয়। কলমের নেপথ্যে এত গভীর চিন্তাভাবনা সর্বকালেই বিরল।
সূচিপত্র : রক্তরাঙা পথে জিল ব্রলটার মাস্টার জাকারিয়ুস টুপটাপ শূন্যপুরাণ
৫ টা গল্পের মাঝে একটা আগেই পড়া ছিল। বাকি ৪ টার মাঝে ভালো লেগেছে একটা। ২ টা মুটামুটি, ১ টা বিরক্ত লেগেছে। অনুবাদ বেশ। তবে স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার ধাঁচটা চোখে লেগেছে।