এই সংকলনের ছটি বিস্তারিত উপাখ্যানকে ফ্যান্টাসির আশ্চর্য ফসল বলা যায়। দুই মলাটের মধ্যে আপনাদের জন্যে ধরা রইল এমনই এক মায়াজগত যেখানে একটা বাতিল পাম্পমেশিনের শরীরী সম্মোহনে ধরা দেয় এক নারী অথবা নিহত প্রেমিক বাদুড়ের রূপ ধরে ফিরে আসে। যেখানে একটা ক্যালাইডোস্কোপের ভেতর খুঁজে পাওয়া যায় হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি শিশুকে কিম্বা দেড়শো বছর আগে জেলেদের জালে ধরা পড়া মৎস্যকন্যা পরিত্যক্ত রেলগুমটির মেঝেতে শুয়ে শরীর বিক্রি করে। কল্পনার প্রাবল্য আর ভাষার জাদু মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বুঁদ হয়ে পড়বার মতন এই ছটি উপাখ্যান।
তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জনের পরে তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ দুই-দশকের লেখক-জীবনে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-সাহিত্য, উভয় ধারাতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তিনি যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন, তখন ঘটনার বিবরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন মানব-মনের আলোছায়াকে তুলে আনার বিষয়ে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর বহু কাহিনি রেডিও-স্টোরি হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সমাদর পেয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং নান্দনিক সাহিত্য সম্মান।
প্রকৃত অর্থে ডার্ক ফিকশন পড়তে চান? পড়তে চান এমন কিছু গল্প, যাদের বীভৎসতার জেরে এই আমার আপনার মতন অন্ধকার প্রেমী পাঠকেরাও শিউরে উঠতে বাধ্য হবে? সৈকত মুখোপাধ্যায় রচিত এই বইটি তাহলে সাবধানে এক ছিমছাম দুপুর দেখে পড়ে ফেলুন। চাইলে রাতের দিকেও পড়তে পারেন। তবে তাতে যদি আবার ঘুমের দফারফা হয়, সে দায় আমার নয়।
জানি এসব শুনে হয়তো হাসছেন। ভাবছেন, এসব মশলাদার মার্কেটিং লাইন তো প্রত্যেক 'ভূতের বই'-এর পেছনেই সেটে দেওয়া হয়। এতে আবার নতুনত্ব কি আছে? আপনাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না যদিও। তবে কিনা আর পাঁচটা ভয়ের বইয়ের থেকে 'নোনা বালি চোরা টান' ভীষণ ভাবে স্বতন্ত্র।
বইটিতে মাত্র ১৬০ পাতার মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে ছটি বড় মাপের বিষাক্ত গল্প। এমন বীভৎস ধাচের ডার্ক-ফ্যান্টাসি বাংলা সাহিত্যে খুব একটা দেখেছি বলে মনে পড়ে না। প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক অনীশ দেবের ভূমিকাটি তাই এ ক্ষেত্রে বেজায় মানানসই। প্রতিটি গল্পেই উঠে এসেছে মানুষ-মনের অন্ধকার দিকগুলোর পাশবিক বহিঃপ্রকাশ। সমাজের জঘণ্যতম নৃশংসতার অকাট্য প্রতিফলন এই মানুষরূপী আয়নায়। বইটি শেষ করে তাই একবার স্নান করে নেবার ইচ্ছে, হলেও হতে পারে।
লেখকের যাবতীয় লেখার সাথে এতদিন পরিচয় না থাকবার দরুন, গল্পগুলো পড়ে বেজায় আশ্চর্য হলাম। সুন্দর সাবলীল লেখনী, লেখার মধ্যে এক ধরনের নিজস্বতা মজুদ। তবে কিনা এরকম একটা বই পড়তে বসলে লেখনীশৈলি উপভোগ করার অবকাশ থাকে না। পাঠক-মন তখন মত্ত এক বিকৃতমনষ্ক পিশাচপ্রহরে। দোসর হিসেবে তার জন্যে অপেক্ষমান, চাপা অস্বস্তি এবং অনেকখানি গা-বমি ভাব।
মানুষের পৈশাচিক প্রবৃত্তি নিয়ে লেখা এমন একটি বইয়ের পরিবেশনা জম্পেশ না হলে হতো না। এখানেই প্রকাশক অরণ্যমণ ফুল মার্কস নিয়ে যাওয়ার দাবিদার। সুন্দর প্রচ্ছদ, পরিষ্কার টাইপসেট, সুঠাম বাঁধাই। উপরন্তু ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য্যের করা আকর্ষনীয় অলংকরণ। এমন একখানি বই শেলফের শোভা বৃদ্ধির পক্ষে উপযুক্ত।
বইটিকে চার তারা দেওয়াতে কি প্রমাণ হবে জানি না, তবে একটা কড়া 'ট্রিগার ওয়ার্ণিং' না দিলেই নয়। সতর্কবার্তা হিসেবেই বলব, অতিমাত্রায় নৃশংসতা সইতে না পারলে এ বই পড়ে খামোকা নিজেকে কষ্ট দেবেন না। পাঠক হিসেবে স্বেচ্ছায় সৈকত মুখোপাধ্যায়ের এই অন্ধকার পাঁকে আবার ফেরবার ইচ্ছে নিয়ে ইতি টানলাম।
ডার্ক ফিকশন পড়েছিলাম ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ বইটাতে, আর এই বই যেন তারই পরের অধ্যায়। ৬ টি গল্প প্রতিটাই জঘন্য থেকে জঘন্যতর। গা রিরি করে ওঠা, বমি পেয়ে যাওয়া, দেওয়ালে মাথা ঠোকার ইচ্ছা সব হতে পারে এই গল্পগুলির ঘৃণ্যতা দেখে। 🤮🤮
🌀 এই বইয়ের কেন্দ্র হল মানব মনের আবর্জনা। সমাজের তলানিতে থাকা এক প্রকারের মানুষদের মনের নোংরা গুলোকে ঘেঁটে, নিংড়ে যেন লেখক নিজের বইয়ের রসদ বের করে এনেছেন। রেপ, খুন সব থেকে হাল্কা ঘটনা এই গল্প গুলিতে। 🫀 লেখক একদম মানুষের মনের অন্ধকার অংশের সবথেকে অন্ধকার জায়গায় ডুব সাঁতার দিয়ে গল্প গুলি লিখেছেন। 🌀 আর এনার চরিত্রদের মধ্যে খুব কম ব্যক্তিই মানসিক ভাবে সুস্থ। কেউ বিকৃত চিন্তা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আবার কেউ মানসিক রোগের শিকার। কিন্তু সবেতেই তাদের হাত দিয়ে হওয়া কাজ গুলো জঘন্য নোংরা।🤢 এত নোংরা যে আপনি পড়তে পড়তে থেমে যাবেন শুধু ভয় আর বীভৎসতার shock এ।
🌀 কিছু গল্প ডার্ক ফ্যান্টাসি তে পরে আর কিছু ডার্ক ফিকশন এর মধ্যে। দুটি নখের দাগ পড়ে বমি পেয়ে গেছিল। 🧠 কিড়া-জড়ি আরও নোংরা গল্প। গল্পের পরিণতি অদ্ভুত রকম ভালো কিন্তু শুরুতে যা পৈশাচিক বিকৃতির উদাহরণ লেখক এনেছেন পড়তে পড়তে অস্বস্তির চূড়ান্ত সীমাও হার মেনে যাবে। ইভিল গল্পের পরিণতি দারুন। শেষে টুইস্টটা আশা করিনি। পাম্প ঘর, নোনা বালি চোরা টান, আয়না বাগান বেশ পরিণত সাইকোলজিক্যাল ডার্ক ফ্যান্টাসি। প্রতি ক্ষেত্রেই লেখক গল্পের কথক পাল্টাতে পাল্টাতে (মানে এক এক narrator এক এক রকম কথা বলবে) আপনাকেই এক ধাঁধার মধ্যে ফেলে দেবেন যে কে ঠিক আর কে ভুল বুঝতে। শেষে গিয়ে যদিও সত্য সামনে আসবে তবুও কিছু সন্দেহ থেকেই যাবে। 🧠🧠
তো অন্ধকার কে ভয় না লাগলে, একদিনের জন্য হাতে তুলে নিন "নোনা বালি চোরা টান।" আর ধীরে সুস্থে শেষ করে ফেলুন। সতর্কবাণী: খাবার আগে, ঘুমোতে যাওয়ার আগে, কাজে যাওয়ার আগে, বা প্রিয় মানুষটির সাথে সময় কাটানোর কোন প্ল্যান থাকলে সেইদিন এই বই এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মাথা একদম গুল্লে দেবে।
'ফ্যান্টাসি স্টোরিস' শব্দটা শুনলেই ছোটবেলায় আমাদের মনের পর্দায় ফুটে উঠত এক অলীক দুনিয়ার ছবি। এমন এক দুনিয়া যেখানে রাজা-রানী, রাজপুত্র-রাজকন্যা, রাজ্য বসবাসকারী সাধারণ প্রজাদের পাশাপাশি বিরাজ করত ভয়ানক দর্শন রাক্ষস-দৈত্য-ডাইনি পিশাচেরা। কাহিনীতে এই ডাইনি পিশাচদের অভিশাপে ছোট্ট রাজকন্যারা পাড়ি দিত চির-ঘুমের দেশে বা বন্দি হত কোন ভয়ানক দর্শন রাক্ষস-দৈত্যর হাতে। বহু বছর বাদে দূর দেশ থেকে তাদের উদ্বার করতে আসত এক সুপুরুষ রাজকুমার। যে নিজের সাহস ও বুদ্ধির সাহায্যে এই ডাইনি, রাক্ষস-দৈত্যদের হাত থেকে মুক্ত করত সদ্য যৌবনে পা ফেলা অপরূপ সুন্দরী রাজকন্যাকে। এই কার্যের উপহার-সরূপ সে রাজা-রানীর কাছ থেকে লাভ করত রাজকন্যা সহ গোটা রাজত্ব এবং বাকি জীবনটা তারা একসঙ্গে সুখেই কাটিয়ে দিত। অর্থাৎ কাহিনীর শেষে এসে সব কিছু ঠিক হয়ে যেত, যাকে বলে 'হ্যাপি-এন্ডিং'.
শৈশব ছেড়ে কৈশোর এর দিকে পা ফেলার সাথে-সাথেই আমরা বুঝতে পারি ছোটবেলার শোনা 'ফ্যান্টাসি স্টোরিস' এর দুনিয়াটা ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কারণ ততদিনে আমরা বাস্তবের স্বার্থসর্বস্ব দুনিয়ার সাথে পরিচিত হতে শুরু করে দিয়েছি। আর ছোটবেলার দেখা রঙ্গিন কল্পনার জগৎটা ধীরে ধীরে ধূসর হতে শুরু করে দিয়েছে। এই স্বার্থসর্বস্ব ধূসর দুনিয়াকে প্রেক্ষাপট করে ভাষার জাদু ও কল্পনার মিশেলে সাহিত্যিক সৈকত মুখোপাধ্যায় সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার সাহিত্যের এক নিজস্ব ধারা। বাংলা সাহিত্যে আমরা যাকে বলে থাকি 'ডার্ক ফ্যান্টাসি' বা 'আঁধারের আখ্যান'।
এইরকম ছটি কাহিনীর সংকলন এই বইটি। যা হল - ১) দুটো নখের দাগ ২) কিড়া-জড়ি ৩) নোনা বালি চোরা টান ৪) পাম্পঘর ৫) ইভিল ৬) আয়না বাগান
'ফ্যান্টাসি স্টোরিস' এর মতন এই কাহিনীগুলির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহুয়া সিং, ঘুঙরু,মৎসকন্যা,কাবেরী,রেণুবালাদের মতন গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্ররা। যারা অবস্থার পরিস্থিতিতে কিছু রাক্ষসরূপী মানুষের হাতে বন্দি বা তাদের লোভ-কামের শিকার। অসহনীয় পরিস্থিতেও এই নারীরা সহজে হার মানে না বা নিজেদের অদৃষ্টকে দোষারোপ করে না। বিপদের চোখে চোখ রেখে তারা খুঁজতে থাকে মুক্তির পথ। আর এই কাজে তারা আস্থা রাখে দুটি বস্তুর উপর, সেটির একটি হল 'আশা' (Hope) এবং অপরটি হল 'ভালবাসা' (Love). রূপকথার গল্পের সোনারকাঠি রূপারকাঠির মতন এই বইয়ের প্রায় সবকটি গল্পের সাথে জড়িয়ে আছে এই আশা এবং ভালবাসা। কখনও পুরনো প্রেমিককে ফিরে পাবার আশা, কখনও কামাতুর মানুষরুপী পশুর হাত থেকে বাঁচার আশা, কখনও নিজের সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা। আর এই সবকিছুকে ছাপিয়ে রয়েছে কিছু অব্যক্ত ভালবাসার কথা - যা কাহিনীর শেষে পাঠককে 'হ্যাপি-এন্ডিং' ফিল দেয় না। বরং বুঝিয়ে দেয় কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে এই ভালবাসার শক্তির ঠিক কতটা প্রয়োজন।
এই বইয়ের প্রতিটি গল্পের মধ্যেই রয়েছে ভয়াবহতা, আতঙ্কের পরিবেশ, গা শিরশিরানি, মানুষের লোভ ও কামপ্রবৃত্তির নির্লজ্জ্ব উপস্থিতি। গল্পগুলি পড়লে মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি বোধ কাজ করে, কিছু ঘটনা আপনার স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে পারে বা আপনার ভাবনার জগৎকে প্রবলভাবে আলোড়িত করতে পারে। মোট কথা কাহিনীগুলি আপনাকে মোটেই স্বস্তি দেবে না।বরং কাহিনীগুলির প্রতিটি চরিত্র এবং তাদের কার্যকলাপ আপনার মনের অন্তরস্থলে গভীর ছাপ রেখে যাবে। আপনি যদি এই ধরনের কাহিনী পড়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন তাহলে হাতে তুলে নিন সৈকত মুখোপাধ্যায়ের এই আশ্চর্য সৃষ্টিকে। আর অনুভব করুন ডার্ক ফ্যান্টাসির এই uncanny দুনিয়াকে। মহুয়া, ঘুঙরু, কাবেরী,রেণুবালারা আপনার হাতের ছোঁয়া পাবার অপেক্ষায় রইল।
সৈকত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বেশি কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না, ডার্ক ফিকশন জর এর অবসংবাদিত রাজা তিনি। এই বইয়ের ছয়টি গল্পও তার ব্যতিক্রম নয়।
প্রথম গল্পটা পড়ে কিছুক্ষন চুপ করে বসে ছিলাম, যেমন ছিলাম "মৃত্যুর নিপুণ শিল্প" পড়ে। "দুটি নখের দাগ" এবং "নোনা বালি চোরা টান" - এই দুটো গল্প সৈকত বাবুর ট্রেডমার্ক "রসোমন" ধরণের গল্প। খুব সাধারণ একটা ঘটনা কে শুধুমাত্র perspective বদলে বা protagonist এর দৃষ্টিভঙ্গির unreliability দিয়ে অসম্ভব একটা রুদ্ধশ্বাস কাহিনীতে পরিণত করা।
তুলনায় ইভিল গল্পটি আমার অসাধারণ কিছু লাগেনি, তবে তাও বেশ ভালো। শেষ গল্পটি সবকটার থেকে আলাদা। গল্পের শাখা-প্রশাখায় একটি মার্ডার স্টোরি এগোতে থাকে, আর এতে আছে অদ্ভুত ভাবে সিমিলার characterization একটা ছোট্ট টুইস্ট।
সব মিলিয়ে ৫ তারার বদলে ৬ টা গল্পের জন্য ৬ তারা দেওয়া উচিৎ বইটার জন্য।
📝পাঠ অনুভূতি “Searchers after horror haunt strange,far places”~ H.P. Lovecraft
হ্যাঁ এই কথাটাই এই বইটার ক্ষেত্রে খাঁটে। বর্তমানে যারা ডার্ক ফ্যান্টাসি লেখেন, সৈকত মুখোপাধ্যায় সর্বদা নামগুলোর প্রথম সারিতে থাকবেন, আমার মতে একদম প্রথমেই থাকবেন।
🌼 বইটিতে মোট ছয়টি কাহিনী রয়েছে। i.দুটো নখের দাগ,ii.কিড়া-জড়ি,iii.নোনা বালি চোরা টান,iv.পাম্প ঘর,v.ইভিল,vi.আয়না বাগান এবার আলোচনা প্রসঙ্গে আসা যাক।
১. দুটো নখের দাগ:-এই গল্পটি একটি পাহাড়ি অঞ্চল কুসুমডির প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে। সেখানে রয়েছে একটি মেটার্নিটি সেন্টার, সেখানকার ডাক্তার ডঃ বেদব্রত শর্মা, তাকে সাহায্য করার জন্য রয়েছেন বৃদ্ধা দাই পার্বতীয়া। বয়স জাঁকিয়ে বসলেও অভিজ্ঞতা কিন্তু বেড়েছে বই কমেনি পার্বতীয়ার। এককালে তিনি নিজেই গর্ভবতী মহিলাদের প্রসব করাতেন। কিন্তু বর্তমানে মেটার্নিটি সেন্টারের দৌলতে সেখানে ডাক্তারের সহকর্মী হিসেবেই কাজ করে থাকেন। বাঁধ সাধে যখন সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধান জনকরাম সিং তার গর্ভবতী স্ত্রী মহুয়ার গর্ভের ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য নিয়ে আসেন। প্রাণের সংশয়ে বেদব্রতকে সেই কাজ করতেও হয়। গর্ভে পুত্র সন্তান আছে জেনেও মহুয়া বারবার ডাক্তারকে অনুরোধ করতে থাকে ভ্রূণটিকে নষ্ট করে ফেলার জন্য। কিন্তু কেন? আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার আগে মহুয়া কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল? তাকে খুঁজে পাওয়ার পর ইউএসজি করার সময় কি দেখে এত ভয় পেয়ে গেলেন ডাক্তারবাবু? বাদুড়ের হঠাৎ করে এত উৎপাত হলো কেন! বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই গল্পটি পড়ে যেন কেঁপে গিয়েছিলাম। মানুষের চিন্তা ভাবনা কতখানি সুদূরপ্রসারী হলে এমন বীভৎস রসের গল্প লেখা যায়! এই গল্পের তুলনা নেই।
২. কিড়া-জড়ি:-ভুনাগিরি, পাহাড়ি এলাকার একটি গ্রাম। যেখানে থাকেন মিথিলানাথ ও তার সৎ মেয়ে ঘুঙুর। সুদূর আমেরিকা থেকে একটি শারীরিক সমস্যার সমাধানের জন্য ভারতে এসেছেন ড্যানিয়েল সাহেব নামের এক ব্যক্তি, যিনি মিথিলানাথের বাড়ির ঠিক পাশেই থাকছেন। মিথিলানাথের কাছে এক অদ্ভুত কিড়া জড়ির সম্পর্কে জানেন এবং তার ইচ্ছা জাগে মিথিলার সঙ্গে সেখানে যাবার। কিন্তু কাঙ্খিত দিনে মিথিলাকে না পেয়ে তার মেয়ে ঘুঙুরকে সঙ্গে নিয়েই সেখানে রওনা দেন। তবে কিড়া-জড়ি তার হাতে আসতেই তিনি কেমন চমকে ওঠেন। আতঙ্কিত বিস্ময় মাখানো মুখ দেখা যায় তার। কিন্তু কেন? অসাধারণ বুনটে বাঁধা গল্প। বিশেষ করে ওই মৃতদেহগুলোর অন্তিম পরিণতি, অস্বস্তি সৃষ্টি করতে বাধ্য! যার শেষভাগটা এতটাই ডার্ক যে হিমশীতল হয়ে আসে। দারুন লেগেছে পড়তে।
৩. নোনা বালি চোরা টান:-গুঞ্জাবালু, সমুদ্র তীরবর্তী একটি শহর। সেখানে একটি দোতলা বাড়িতে এসে উঠেছেন মোহন বাবু এবং তার পুত্র যমন। এই গল্পের নামেই বইটির নামকরণ করা হয়েছে। এখানে এক মৎস্যকন্যাকে দেখানো হয়েছে। এই গল্পটি সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলছি না, তার কারণ স্পয়লার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। দুটি ভিন্ন সময়কালের গল্পকে সমান্তরালে চালিয়ে নিয়ে একটি বিন্দুতে বাঁধার চেষ্টা করেছেন লেখক এবং চূড়ান্তভাবে সফল হয়েছেন। পূর্বের ঘটনার সঙ্গে পরের ঘটনাগুলির যোগসূত্র স্থাপন, চরিত্রগুলোর পূর্ব এবং পরের নামের মিল লেখক যেভাবে দেখিয়েছেন পোক্ত লেখনী ছাড়া সম্ভব না।
৪.পাম্পঘর:-তারক আর কাবেরীর ছোট্ট সংসার। তারক দর্জির দোকান চালায় এবং সেই দোকানেই সে থাকতো । কিন্তু তার স্ত্রীকে কিভাবে সে সেখানে রাখতে পারে? এই ভাবনা এসে জড়ো হওয়ায়, সে খোঁজ করতে শুরু করে ঘরের।খোঁজ করতে পাম্পঘর সংলগ্ন একটি ঘর পেয়েও যায়। স্বাভাবিকই সব চলছিল কিন্তু অঘটন বাঁধলো তার স্ত্রীকে নিয়ে। স্ত্রী এর পূর্ব পরিচয় সম্পর্কে খুব বেশি কিছু না জানায় তারক তার স্ত্রী, কাবেরীর পূর্ব পরিচয় জানার জন্য খোঁজ খবর নিতে শুরু করে। সেখানে বেশ কিছু তথ্য সে পায়। তারক তার স্ত্রীয়ের সান্নিধ্যে আসলেই কাবেরীর শরীরে কিছুই না কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করতো। পাম্পঘরটা নাকি অনেকটা মানুষ যেমন হামাগুড়ি দিয়ে বসে থাকে তেমন দেখতে। কেন সে বারবার পাপঘরের কাছেই ফিরে ফিরে যেত? কোন কথা তারকের থেকে গোপন করে যাচ্ছে কাবেরী?
ভয় যদি পেতে হয় তবে এই গল্পটিকে একবার অবশ্যই পড়া উচিত। এই গল্পটি হাড় কেঁপে যাওয়া, হাড় খুলে দেওয়া ভয়ের গল্প নয়, এটি পড়ে বলতেই হয় “This Is Story Which Shudders The Human Heart!”। আমি বারবার ভাবছি পাম্পঘরকে কেন্দ্র করে এমন একটা গল্প লেখা আদেও সম্ভব? সত্যিই সম্ভব, কারণ সেই সম্ভবের নাম সৈকত মুখোপাধ্যায়।
৫. ইভিল:-বেনারসি বস্তি। এখানকার অনেকদিনের সদস্যা মিনতিমাসি। এখানেই রয়েছে গণিকা রেণুবালা। মেম সাহেবদের মত তাকে অনেকটা দেখতে লাগত বলে, তাকে সবাই সমীহ করত, তার রমরমাও ছিল ঈর্ষণীয়। কোন রাতেই তাকে ঘুমাতে দেখা যেত না। কিন্তু এক রাতে তার শরীর মারাত্মক খারাপ হতে শুরু করল। ডঃ বোস তার চেক আপে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা এবং ঔষধ দিয়ে যান। কিন্তু কিছুই সুরাহা হয় না। মিনতি মাসি সন্দেহ করেন রেণু নাকি গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, তাই সে কাস্টমার বসাচ্ছে না। বস্তির দুজন পালোয়ান মনুয়া আর বাবুলালকে জোর করে রেণুবালার কাছে পাঠানো হলে, পরদিন সকালে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এদিকে রেণুর বুকের দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠেন ডঃ বসু। তৃতীয় স্তন দেখতে পান তিনি। এটা কিসের ইঙ্গিত? কিসের পূর্বাভাস? রেণুর চোখের মণি ওরকম বেড়ালের মতন কেন? কাঞ্ছা ছেলেটা আসলে কে? ঋত্বিক ঘোষালের উপর এমন নির্যাতন কে করল? প্রশ্ন অনেক। উত্তর গল্পটি পড়লেই জানা যাবে। এই লেখাটির সঙ্গে আমি স্যারেরই লেখা আরেকটি গল্পের প্রবল মিল পেয়েছি। সেটি হল, শয়তানের সন্তান (Satan's Son)। গল্পটি পড়ার সময় Brutal, Demonic Forces, Sinister এই শব্দগুলি তীব্রভাবে মাথায় ঘুরছিল। গল্পটিকে ভাষায় বিন্যাস করা সত্যিই জটিল এবং দুর্বোধ্য।
৬. আয়না বাগান:-নাড়ুগোপাল বাবু বেলেঘাটার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই হি ইস বুলিড অর্থাৎ তিনি যেন হাসির পাত্র।। কারণটা প্রথমেই তার নাম। তার চেহারাও ঈর্ষণীয় কিছু নয়। তার মেয়ে কেয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর সময় সে গর্ভবতী ছিল। তার মেয়ের দৌলতেই, সকল দোকানে যাওয়াতে দোকানিরা তাকে চিনতে পারছেন। ছোটবেলায় ক্যালাইডোস্কোপ বানানোর শিখেছিলেন নাড়ুগোপাল বাবু। শিক্ষক ছিলেন এক বৃদ্ধ, যাকে তিনি জাদুকর ভেবে প্রথমে ভুল করেছিলেন। এতোয়ারীর মৃত্যু ঘটলে, বৃদ্ধের নির্দেশেই এতোবাড়ির হাতের রক্ত লাগা কাঁচের চুড়ি নিয়ে তার কাছে যায় নাড়ুগোপাল। বৃদ্ধ তাই দিয়ে বানিয়ে দেয় ক্যালাইডোস্কোপ। ওদিকে কলকাতা শহরে বেশ কিছু অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করে । তিন তিনটে বাচ্চা উধাও হয়ে যায়। ক্যালাইডোস্কোপ দিয়ে আসলে কি হবে? বাচ্চাগুলোর নিখোঁজ কিভাবে এই ক্যালাইডোস্কোপের সঙ্গে যুক্ত? কে অপহরণ করেছে বাচ্চাদের? এই গল্পটিও মোটের উপরে বেশ ভালো, তবে বাকি গল্পগুলোর তুলনায় এ গল্পটি তুলনামূলক একটু পিছিয়ে। পুরো গল্পটির মধ্যে আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে স্টোরি টেলিং টিকে।
✨ ব্যক্তিগত কিছু মতামত/গল্পের থিম বর্ণনা:
১. আপনি যদি সৈকত মুখোপাধ্যায় স্যারের লেখার ফ্যান হয়ে থাকেন অবশ্যই বইটিকে আপনাকে একবার হাতে উঠিয়ে দেখতেই হবে। ২. লেখকের চিন্তা ধারা কতটা উচ্চমানের হতে পারে সেটি এই বইটি পড়লে বুঝতে পারবেন। ৩. ডার্ক-ফ্যান্টাসি শব্দটা বলা যতটা সহজ করে দেখানো ততটাই কঠিন। বিশেষত শয়তানের কনসেপ্টগুলো লেখক যেভাবে দেখিয়েছেন, বোঝাই যাচ্ছে এগুলো বহুদিনের সম্মিলিত অভিজ্ঞতার ফল। ৪. লেখার ব্যপ্তি কতখানি সুবিস্তার করতে পারে সেটা ভূমিকাতে অনীশ দেবের মতন মহীয়ানই বলে গেছেন, আমাকে আর আলাদা করে তার যুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৫. "নোনা বালি চোরা টান","পাম্পঘর"গল্প দুটি পড়ে ছিটকে গেছি, এমন Out Of The World গিয়ে চিন্তা ভাবনা করা সত্যিই যেন ঈশ্বরপ্রদত্ত মনে হয়।
এ এক কঠিন প্রশ্ন, অন্তত আমার মতো বইখেকো লোকের জন্য। শিবরাম রচনাবলী থেকে ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’, ফেমাস ফাইভ থেকে ক্লাস ফাইভের সায়েন্স বই, অভিধান থেকে মুড়ির ঠোঙা – সবই যার দেখামাত্র পড়তে ইচ্ছে করে, পুরো নাহোক কিছুটা অন্তত পড়ে দেখতে ইচ্ছে করে, তার পক্ষে আলাদা করে কি “কেমন” বলা সম্ভব?!
তবে, ডার্ক জঁর যে আমার পছন্দের তালিকায় এক নম্বর নয়, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অনুভূতিপ্রবণ মানুষদের একটা মস্ত সমস্যা হয় এই ঘরানার লেখাগুলির ক্ষেত্রে, যদি সেগুলি সুলিখিত হয় – পড়তে পড়তে আমরা চরিত্রগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়ি, তারপর গল্পের দাবি মেনে যখন অমোঘ বাঁকগুলি উপস্থিত হয়, তখন সেই কঠিন ও দুঃসহ মোচড়গুলি আমাদের বড়ো বিপন্ন করে তোলে।
অথচ এই গল্পে নিমজ্জিত নিজেকে টেনে তুলে, কাহিনির পরিধির বাইরে দাঁড়িয়ে যখন নির্মোহ চোখে দেখি, তখন নতমস্তকে স্বীকার করতে বাধ্য হই সৈকত মুখোপাধ্যায় যে অন্ধকারের ছবি এঁকেছেন এই ছটি গল্পে, তা নগ্ন সত্য। বিস্তীর্ণ মানবজাতির মানসপটে আলোয় উজ্জ্বল ভাবনাধারার পাশাপাশিই কখনও চোরাগোপ্তা, কখনও মুক্ত উদ্ধত এক কালো ভাবনার ধারাও বয়ে চলেছে আবহমান। না, তা সুন্দর নয়, কাম্যও নয় – কিন্তু ঘোর বাস্তব। শুধুই স্বচ্ছসুন্দরে অবগাহন না করে, সৈকতবাবু এই বইটির জন্য তাঁর ধারালো বলিষ্ঠ কলম ডুবিয়েছেন মানবমনের সেই অশুভ অসুন্দর ভাবনাস্রোতে।
এই ছয়টির পরিসরেই তিনি ছুঁয়ে গেছেন জবরদস্তির অনিচ্ছুক মাতৃত্ব, নাবালিকার উপর অত্যাচার,, জটিল মানসিক ভারসাম্যহীনতা, ঈর্ষা ও সন্দেহ, আদিম পেশা ও অমানবিক শয়তানির মতো অসহ্য পীড়াদায়ক ও অপ্রীতিকর বিষয়গুলি।
কখনো গল্পের বুনন চলছে সাধারণ মানুষজনের চারদিকে, জীবন্ত মানুষ যারা লেখাপড়া করে, উনুনের আগুনে পাউরুটি সেঁকে টোস্ট করার চেষ্টা করে, তালপাতার চাটাইয়ে বসে কাঁকড়ার ঝাল দিয়ে মদ খায়, ক্যামেরা আর বাইনোকুলার নিয়ে ঘুরতে যায় বা দোকান থেকে মুসুরির ডাল কেনে।
কখনো গল্পে ফুটে উঠছে চোর, ধর্ষক, বিকৃতকামী, খুনী বা আরও কত নিকৃষ্ট জীব।
আবার এই দুই ধরণের মানুষে গড়া চেনা পৃথিবীতেই ঘুরে বেড়ায় মৎস্যকন্যা বা শয়তান স্বয়ং – কেউ দেখতে পায়, কেউ পায় না। জীব থেকে জড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণ, বা হারিয়ে যায় এক যুক্তির অতীত আয়নাবাগানে। এই অমানুষী অস্তিত্বগুলি কখনো দাগের এদিকে, অসহায়, ব্যবহৃত -কখনো দাগের ওপারে, ক্ষতিকর ও নির্মম।
ভালো মানুষেরা, কালো মানুষেরা আর এই অলৌকিক অস্তিত্ব – এই ত্রিমাত্রিকতায় ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে গল্পগুলি, আবার পড়তে পড়তে পরক্ষণেই টের পাওয়া যায় যে মাত্রাগুলি ভেঙে গিয়ে সব মিশে যাচ্ছে…একাকার হয়ে যাচ্ছে… গা শিউরে ওঠে, দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে।
সৈকত মুখোপাধ্যায় ভাষার জাদুকর। প্রতিটি গল্প চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যায় শেষ পর্যন্ত, তার চেয়েও বড়ো কথা প্রতিটি গল্প অস্থির করে তোলে। সার্থক ডার্ক জঁরের গল্পের এইটাই করার কথা নয় কি?
এ বই এক অবিস্মরণীয় পাঠ।
---
ব্ইয়ের নাম – নোনা বালি চোরা টান লেখক – সৈকত মুখোপাধ্যায় প্রকাশক – অরণ্যমন মুদ্রিত মূল্য – ২০০/-
মাথা খারাপ হওয়া বোঝেন? এই বই পড়ে ঠিক তাই হয়েছে। ছয়খানা ডার্ক ফ্যান্টাসি রীতিমতো শিহরন জাগানোর জন্য যথেষ্ট। সব মিলিয়ে ছটা গল্প- 'দুটো নখের দাগ', 'কিড়া-জড়ি', 'নোনা বলি চোরা টান', 'পাম্পঘর' , 'ইভিল' ও 'আয়না বাগান' ; সবকটা গল্পই বেশ ভালো। সেই অর্থে আলাদা করে খারাপ কোনোটাই লাগেনি। সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখার সঙ্গে যাঁরা পরিচিত তাঁরা লেখকের শক্তিশালী লেখনী সম্পর্কে অবগত। টানটান মেদহীন লেখা, যেন শাণিত ছুরির ফলা। লেখার টান এতোই মোহময়ী যে পড়তে শুরু করলে শেষ না করে থামা অসম্ভব। গল্পগুলোর দুটো সত্ত্বা আছে। একটা দিক যেমন ফ্যান্টাসিকে তুলে এনেছে, অন্যদিকে একই ঘটনাগুলোকে বাস্তবের পরিপ্রেক্ষিতেও দেখানো হয়েছে। এরফলে একটা যেটা সমস্যা হয়েছে, সেটা হল প্রায় প্রত্যেক গল্পেই একজন করে অপ্রকৃতিস্থ চরিত্রের আগমন ঘটাতে হয়েছে এবং ফ্যান্টাসিগুলো মূলত তাদের চোখ দিয়েই দেখানো হয়েছে। এটা সব গল্পে না করলেও বোধহয় ভালোই হত। তবে এই সব কিছুকে অস্বীকার করে যদি শুধু খোলা মনে গল্পগুলো পড়ে ফেলা যায়, তাহলে পাঠক এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা লাভ করবে। যত গল্প এগোতে থাকে তত যেন গল্পের রঙ ফ্যাকাসে থেকে ধূসর, ধূসর থেকে ছাই হয়ে কালো আরও কালো হয়ে ওঠে। একই সাথে আসতে থাকে একের পর এক প্লট টুইস্ট। বইয়ের মুখবন্ধে অনীশ দেবও স্বীকার করেছেন, সৈকতবাবুই এই মুহূর্তে 'অন্ধকার সাহিত্য'-এ সেরা। বইয়ের খারাপ কী লেগেছে? মুখবন্ধে দুটো মুদ্রণ প্রমাদ আর অতি রদ্দিমার্কা নাইন্টিজের 'সেই' ভূতের সিনেমাগুলোর পোস্টারের মতো একখানা প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদ শিল্পীর আরও অনেক কাজের সাথে পরিচিত বলেই এই কথাটা আরও জোরে দিয়ে বলতে পারি, এটা হয়ত প্রচ্ছদ শিল্পীর ঠিক 'ভালো' কাজ বলা যায় না। সবশেষে 'অন্ধকারের সম্রাট' কিলবিসকে থুড়ি সৈকত মুখোপাধ্যায়কে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত ভালো ছটা অন্ধকারের গল্প পাঠকদের উপহার দেওয়া জন্য। এই বই না পড়লে অনেক কিছু মিস।
কিছু বইকে ঠিক চেনা ধারায় ফেলে বিচার করা যায়না বিশেষ করে সেই বই যদি ডার্ক ফ্যান্টাসি গোত্রের হয় তো তাহলে আরও বিপদ। কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে ডার্ক ফিকশন সকলের জন্য নয় এমনকি শুধুমাত্র প্রাপ্তমনস্ক বলেও ছাড় পাওয়া যায়না। সৈকত মুখোপাধ্যায়ের এই বইটি সেই গোত্রেরই। এবার প্রথমেই আসি বইটি দেখতে কেমন? মানে ফেনোটাইপ। বইটি সুন্দর ভালো মানের কাগজে ছাপা একটি হার্ডবাউন্ড। বানান ভুল মাত্র তিনটে চোখে পড়েছে। প্রচ্ছদটিও মানানসই। এবার আসি বিষয়ে বা জেনোটাইপে, এতে পাবেন ছয়টি গল্প। এদের মধ্যে কোনটা সেরা সেটা বলা খুবই কষ্টের, প্রতিটি গল্পই নিজের দিকে থেকে সেরা তবে কিড়া জড়ি,নোনা বালি চোরা টান ও ইভিল আমার নিজের খুব ভালো লেগেছে এটুকু বলতে পারি। ডার্ক ফিকশন মাঝে মাঝেই আমাদেরকে বিবেকের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়,নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে "মানুষ কি এতটা নীচে নামতে পারে?" "নোনা বালি চোরা টানে"র রূপক আমাদের ভাবায় একই সাথে ভয়ও পাওয়ায়, "আয়না বাগান" আমাদের এক অন্য দুনিয়ার গল্প বলে যেখানে গেলেই যেন আমাদের মুক্তি। বইটির ভূমিকা লিখেছেন শ্রদ্বেয় অনিশ দেব,ওঁর কথা অনুসরণ করেই বলি "প্রতিটি গল্পই মনের গভীরে প্রবেশ করে অনেকদিন বাসা বেঁধে থাকে।" এই বইটা কাদের জন্যে? এক কথায় উত্তর যারা এই ধরনের লেখা পড়েও সারারাত ভালো ভাবে ঘুমিয়ে নিতে পারেন তাঁদের জন্য। আমার নিজের মনে আছে "ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রুন" আমি একটানা পড়তে পারিনি,মাঝে মাঝে অন্য হালকা ধারার বই পড়তে হয়েছিল,এই বই অতটা কড়া না হলেও রাতের ঘুম বিগড়ানোর জন্যে যথেষ্ট। একবার পড়ে দেখতেই পারেন।
📒🕊️দুটো নখের দাগ ~ ছত্রিশগড়ের পাহাড়ের এক প্রত্যন্ত গ্রাম কুসুমডির সাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ করেন ডক্টর বেদব্রত শর্মা। গ্ৰামের মোরল জনকরাম সিং-এর তৃতীয় স্ত্রী মহুয়া অন্তঃসত্ত্বা। জনকরাম-এর চাপে বেআইনি ভাবে মহুয়ার ভ্রণে লিঙ্গ নির্ধারণ করেন ডক্টর বেদব্রত শর্মা। মহুয়া জানে যে জনকরাম-এর যৌন রোগ আছে। যার ফলে সন্তানের জন্ম হলেও সে স্বাভাবিক সুস্থ হবে না। মহুয়া ডক্টর বেদব্রত শর্মাকে গর্ভপাত করার জন্য বারবার অনুরোধ করে কিন্তু জনকরাম-এর ভয়েই ডক্টর বেদব্রত শর্মা রাজি হয়না। এরপর একদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থেকেই পালিয়ে যায় মহুয়া। জনকরাম এবং তার সংগোপাঙ বুঝতে পারে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে র পিছনেই লুকিয়ে আছে মহুয়া। তার সেই বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই বাড়িতে বাসা বাঁধে ছিল কিছু বাদুড় , ওই আগুনে তারা মারা পড়ে। তার সঙ্গে মারা পরে মহুয়ার প্রেমিক। মহুয়ার সাথেই ওই বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছিল। আচ্ছা তারপর ঠিক কি হল.... এর পরই গল্পের মধ্যে ঘনিয়ে আসে রহস্যর ঘনঘটা....... কি ভীষণ অদ্ভুত একটি গল্প। গল্পের শেষের দিকটা কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি এমন হতে পারে! 📖এই বইয়ের বাকি গল্প গুলো পড়া চলছে........
অদ্ভুত একটি বই। যাঁরা লেখকের 'ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ' পড়েছেন তাঁরা হয়তো ইতিমধ্যেই তাঁর 'Dark Fantasy' genre এর লেখনশৈলীর সাথে সুবিশেষ পরিচিত। কি অনায়াসে মনের গভীরের সূক্ষ অন্ধকার দিক গুলো তুলে এনে গল্পের মধ্যে বলে ফেলেন। এই বইটিতে মোট ৬টি গল্প রয়েছে ('দুটি নখের দাগ', 'কিড়া-জড়ি', 'নোনা বালি চোরা টান', 'পাম্পঘর', 'ইভিল', 'আয়না বাগান'); যার প্রত্যেকটি নানা ভাবে পাঠকের মনের কোমল অংশ গুলো কে আঘাত করে। এ এমনই এক মায়াজগত যেখানে একটা বাতিল পাম্পমেশিনের শরীরী সম্মোহনে ধরা দেয় এক নারী অথবা নিহত প্রেমিক বাদুড়ের রূপ ধরে ফিরে আসে। যেখানে একটা ক্যালাইডোস্কোপের ভেতর খুঁজে পাওয়া যায় হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি শিশুকে কিম্বা দেড়শো বছর আগে জেলেদের জালে ধরা পড়া মৎস্যকন্যা পরিত্যক্ত রেলগুমটির মেঝেতে শুয়ে শরীর বিক্রি করে। কল্পনার প্রাবল্য আর ভাষার জাদু মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বুঁদ হয়ে পড়বার মতন এই ছটি উপাখ্যান। কখনো গল্পের প্রবাহ, কখনও তার নৃশংসতা, পাঠককে বারে বারে ক্ষত বিক্ষত করে। আপনাকে আওহ্বান জানাবো, যদি এক অন্ধকার কদর্য জগতের চোরা বালি নোনা টান অনুভব করতে চান, যেখানে স্বাভাবিভাবেই আপনার নিজেকেই অস্বাভাবিক মনে হবে তবে এই বই হাতে তুলে নিন। প্রত্যেকটি গল্পই মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা এবং বিষয় বৈচিত্রে অনন্য। আমার প্রত্যেকটিই ভালো লেগেছে তবে যেগুলো সব থেকে বেশি আহত করেছে আমাকে সেগুলো - 'কিড়া-জড়ি', 'নোনা বালি চোরা টান' এবং 'ইভিল'। অবশ্যই পড়ুন, এহেন বিচিত্র সাহিত্যকে এতো সুন্দর ভাবে সৈকত বাবু আমাদের কাছে তুলে ধরছেন, তাঁর সেই প্রয়াস সত্যি প্রশংসনীয়।
আমার অন্যতম প্রিয় genre এর বই। বস্তুত "ডার্ক" theme তে মানুষের স্খলিত চারিত্রিক দিকগুলো ফুটে ওঠে। তার উপর ফ্যান্টাসির ছোঁয়া গল্পকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। এই বইটা আমার মত "ডার্ক ফ্যান্টাসি" ফ্যানদের কাছে স্বর্গ।
লেখক মহাশয়ের থেকে এই নিয়ে তিন নম্বর এই genre এর বই পেলাম। সবকটা গল্প ভিন্ন পট, ধাঁচের। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে দুটো নখের দাগ, পাম্পঘর, ইভিল। এই রকম লেখা আরো পাবার আশায় রইলাম।
নোনা বালি চোরা টান সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখা কতটা অন্ধকার হতে পারে তার একটি উদাহরণ। প্রতিটি গল্পই তার নিজস্ব উপায়ে অনন্য বিশেষ করে আয়না বাগান, পুম্পঘর, দুতো নখের দাগ, কেরা জারি উল্লেখ করার মতো।কি অনায়াসে মনের গভীরের সূক্ষ অন্ধকার দিক গুলো তুলে এনে গল্পের মধ্যে বলে ফেলেন। সৈকত মুখোপাধ্যায়কে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত ভালো ছটা অন্ধকারের গল্প পাঠকদের উপহার দেওয়া জন্য। ‘Nona Bali Chora Tan’ is a journey through six chilling stories where fantasy meets fear.
বাংলাতে সৈকত sir এর লেখা Dark fantasy genre এর গল্পগুলো পড়লে একটা কথাই আমার মাথায় আসে। লেখক কিভাবে এই plot গুলো ভাবেন! প্রতিটা গল্প পড়ে আমাকে বেশ কিছু সময় wait করতে হয় ব্যাপারটা শুধুমাত্র absorb করতে।
সব গল্পগুলোই আমার খুব বেশি পছন্দের, তবুও এই একটু খানি ভালো-কম ভালোর বিচারে আমার পছন্দের তালিকা টা এরকম ইভিল- শয়তানের জন্মের গল্প আয়না বাগান- এই গল্প ভালোবাসার, স্নেহের পাম্পঘর- এক অতিলৌকিক প্রেমের গল্প দুটো নখের দাগ- আবার এক প্রেমের গল্পের শেষে ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণের মতো treatment টা উপভোগ্য নোনা বালি চোরা টান ও কিড়া জড়ি- গল্পদুটোই মনস্তাত্ত্বিক গল্প
বড্ড অন্ধকার কিছু গল্প। মন খারাপ হয়ে যায়। Dark Genre কিন্তু বড্ড negativity। আজকের দুনিয়ায় negative এর জয়জয়কার, আমি বই পড়ি সেই অন্ধকারের ওপরে তাকাতে। এ বই সেই অকৃত্রিম অন্ধকারে আরও এক পোঁচ কালী ঢেলে দেয়। রেপ শব্দটার বহুল প্রচলন। নারীর প্রতি হিংস্রতা.......জানি এ সমাজে সবই স্বাভাবিক, তবুও তো আলো ভালো লাগে।
জানি না এতো রেটিং কি করে পেলো কিন্তু আমার একেবারেই ভালো লাগেনি একটাও গল্প. প্রতিটি গল্প পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো কোনো বিকৃত মনের গল্প পড়ছি. হয়তো এটাই উদেশ্য লেখক এর.
"ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ"-এর প্রত্যেকটা গল্প এই বইয়ের গল্প গুলোর থেকে অনেক বেশী ভালো এবং ডার্ক ছিল। এটাকে "ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ"-এর সিক্যুয়েল বলে চালানো বন্ধ করা দরকার।
প্রতিটি মানুষের মনেই অন্ধকার লুকিয়ে আছে । মানুষের মনের এই অন্ধকার অংশের সাথে কল্পনা মিশিয়ে সাহিত্যের যে ধারায় কাজ করা হয় তাকেই বলা হয় ‘ডার্ক ফ্যান্টাসি’ বা ‘ডার্ক ফিকশন’ । এই জঁনরার বিষয়বস্তু কঠোরভাবে ‘প্রাপ্তমনস্ক’ পাঠকদের জন্য, তাই এটি ভীষণ স্পর্শকাতর একটি জঁনরা । বাংলা সাহিত্যে এই বিষয় নিয়ে কতটুকু কাজ হয়েছে তা হাতে গুণে বলা যাবে ।
▪️সাহিত্যের এই ধারাটির সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল বছর দুয়েক আগে, ১৬০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের মাধ্যমে... বইটির নাম ‘ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ’ । ১২ টি গল্প নিয়ে তৈরি সেই সংকলনের প্রত্যেকটি গল্পই ছিল ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ এক একটি উপাখ্যান ।
📝 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : ‘ডার্ক ফিকশন’ জঁনরার ৬টি বড়োগল্প নিয়ে তৈরি এই ১৬০ পাতার বইটি যেন ঐ বইটির পরবর্তী অধ্যায় । এই সমাজের বাস্তব চিত্রের সাথে কল্পনা মিশিয়ে লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায় অন্ধকারের যে গল্পগুলি সৃষ্টি করেছেন, তা পড়তে পড়তে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয় । এইরকম অস্বস্তিকর এবং বীভৎস ‘ডার্ক ফিকশন’ বাংলা কল্প-গল্প জগতে খুবই কম লেখা হয়েছে ।
▪️বিশিষ্ট সাহিত্যিক অনীশ দেব এই সংকলনের ভূমিকায় বলেছেন - “নোনা বালি চোরা টান বইয়ের প্রতিটি গল্প পড়ার পর গল্পের চরিত্র আর ঘটনা তীব্রভাবে ঢুকে যায় মর্মস্থলে এবং সেখানেই তারা বসবাস করতে থাকে ।”
📝 এই সংকলনের কয়েকটি গল্প ‘সাইকোলজিক্যাল ডার্ক ফ্যান্টাসি’ জঁনরার অন্তর্ভুক্ত... যেখানে গল্পের চরিত্রগুলি ‘মানসিক অসুস্থ’ অথবা ‘বিকৃত মানসিকতা’ সম্পন্ন । প্রতিটি গল্পের মধ্যেই রয়েছে ভয়াবহতা, নৃশংসতা, গা শিরশিরানি, মানুষের লোভ ও কামপ্রবৃত্তির নির্লজ্জ্ব উপস্থিতি... যেগুলির বিবরণ পাঠকের মনের অন্তঃস্থলে গভীর ছাপ রেখে যাবে ।
▪️এই গল্পগুলি পড়তে পড়তে হঠাৎই পড়া থামিয়ে ভাবনায় ডুবে গেছি । কিছু কিছু দৃশ্যপটের বর্ণণা এতটাই অস্বস্তিকর যে পরবর্তী অংশ শুরু করার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে বেশ কয়েকবার... অথচ ‘ডার্ক ফ্যান্টাসি’র অমোঘ আকর্ষণ এড়ানো সম্ভব হয়নি, আর ঠিক এখানেই লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায়ের কলমের সার্থকতা । সাহিত্যের এই বিশেষ ধারাটিতে যে তিনি ‘অদ্বিতীয়’ তা একবাক্যে স্বীকার করতেই হয় ।
ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ পড়ে সৈকত মুখোপাধ্যায় স্যার এর লেখার প্রতি একরকম আসক্তিই জন্মেছিল। সেই প্রত্যাশা নিয়েই হাতে তুলে নিই নোনা বালি চোরা টান। মোট ৬ টি ডার্ক ঘরানার গল্প নিয়ে সেজে উঠেছে বইটি। বইয়ের শুরুতে অনীশ দেব মহাশয় এর ভূমিকাটি যথাযথ ।
📖পাঠ অনুভূতি এই বইটির প্রতিটি গল্পই আলাদা ধরনের এবং লেখকের ডার্ক কল্পনার ফসল, গল্পগুলি গভীর অন্ধকারে ঢাকা। কখনও শয়তানের বাচ্চা, কখনও বাদুড় মানুষ, কখনও বা জলজ মৎস্যকন্যা এক এক ধরনের চরিত্রের মাধ্যমে লেখক গড়ে তুলেছেন একেকটা eerie জগৎ। গল্পগুলিতে যেমন আছে ভয়, আছে গা গুলানো সব বর্ণনা তার সাথে আছে মানুষের মনের বিভিন্ন আঙ্গিক। আয়না বাগান দুটি নখের দাগ গল্প দুটো সবচেয়ে ভালো লেগেছে । তবে কিছু গল্প সারা জাগিয়েও সেরকমভাবে মনে ছাপ ফেলেনি, বা বলা ভালো আমার কল্পনার সাথে মিশতে পারেনি । কিন্তু পড়তে গেলে প্রতিটি গল্পই উপভোগ্য লেখকের লেখার গুণে ।
🎨এই বইটির প্রচ্ছদটা খুব একটা মন ছুঁয়ে যায়নি, তবে প্রতিটি গল্পের আগে থাকা অলঙ্করণগুলো দারুণ, গল্পের মেজাজের সঙ্গে মানানসই।
⚠️ সতর্কবার্তা- কারা পড়বেন? এই বই কোনো “কমফোর্ট রিড” নয়। যারা ডার্ক, ফিকশন পছন্দ করেন, তারা অবশ্যই এই বই পড়ে দেখতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি একটু হালকা মেজাজে আছেন, অথবা মন শান্ত রাখতে চান—তাহলে বইটি হাতে নেওয়ার আগে একটু ভেবেচিন্তে এগোনো ভালো।
🌀সবশেষে বলি - নোনা বালি চোরা টান ভয়ানক এক কল্পনাজগৎ তৈরি করে, হয়তো ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ-এর মতো প্রভাব ফেলেনি আমার মনে , তবুও সৈকত মুখোপাধ্যায়ের ভক্তদের জন্য এটি না-পড়া অপরাধ।