নিজের ছোট্টটিকে খাওয়ানো কি ঘুম-পাড়ানোর আগে গল্প শোনানোর কাজ আমাদের মধ্যে প্রায় সবাইকেই করতে হয়েছে। ব্যাপারটা সবসময় মায়েদের ডিপার্টমেন্ট হয় না। ক্লান্ত মা দুর্গাটিকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোলেবাবাদেরও গল্প বলতে হয় বইকি। কিন্তু কী গল্প বলা যায়? 'এক যে ছিল' হল একেবারে ফিটিং করে বানানো তেমন তিরিশখানা গল্পের বই। এখানে চরিত্ররা মূলত কীটপতঙ্গ আর পশুপাখি। তাদের সঙ্গে আছে পুতুল, বাস, ভিনগ্রহী, রোবট, পেন্সিল, পাহাড়, নদী, গাছ, ভূত... মানে কিচ্ছু বাদ নেই! গল্পগুলো বেশ দু'তিন পাতাতেই শেষ হয়ে যায়। অথচ হাত-পা নেড়ে, চোখ বড়ো করে, চাই কি সুর-টুর করে শোনানোর সুযোগও থাকে পুরো মাত্রায়। সবচেয়ে বড়ো কথা, আশেপাশের হিংস্র আর কুটিল পৃথিবী থেকে ছোটোটির মতো আমাদেরও পালানোর একটা দারুণ সুযোগ হয়ে যায়। আর বইয়ের ভেতরের ছবিগুলো? আহা! শুভম ভট্টাচার্যের আঁকা ছবিগুলো দেখলেই হাত নিশপিশ করে ক্রেয়ন নিয়ে বসে সেগুলো ভরাট করার জন্য। সবমিলিয়ে বলব, বড়োদের ছোটো হওয়ার, আর ছোটোদের ছোটো থাকার জন্য এমন বই বিশেষ হয় না। সেই কোনকালে লীলা মজুমদারের অনুবাদে হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের 'তুষার রানির কথা' পড়েছিলাম৷ তাতে একটা ছড়া ছিল~ "গোলাপ ফোটে, গোলাপ ঝরে দেবশিশু রয় চিরতরে। সে মুখ দেখে ধন্য হই, সদাই শিশুর মতো রই।" আমার মেয়ে এখন অনেকটাই বড়ো হয়ে গেছে। সে আমাকেও রীতিমতো শাসন-টাসন করে। তাই বইটা আমিই ভরপুর উপভোগ করলাম। আমার ধারণা, আপনাদেরও বইটা খাসা লাগবে। চমৎকার ছাপা আর বাঁধাইয়ের এই বইটি সত্যিই মন ভরিয়ে দিল।