Jump to ratings and reviews
Rate this book

প্রলয় #1

প্রলয়যোদ্ধা

Rate this book
রামায়ণ-মহাভারতে মারণাস্ত্রের যে বিপুল সম্ভার আমরা দেখেছি, আজ এতকাল পরে সেই বিচিত্রক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রগুলি কোথায় আছে, কেউ কি জানে? কোথায় গেল পরশুরামের কুঠার, যা দিয়ে নাকি এত নরহত্যা হয়েছিল যে সেই রক্তে পাঁচ-পাঁচটা হ্রদ তৈরি হয়েছিল সমন্তপঞ্চকে? কোথায় আছে ভীমের কালান্তক লৌহগদা, যার আঘাতে চূর্ণ হয়েছিল মহাবল দুর্যোধনের ঊরু? রাম হরধনু ভঙ্গ করার পর জনকরাজা কী করেছিলেন তার ভাঙা টুকরোগুলো নিয়ে? কী হবে যদি জানা যায় এইসব দিব্য অস্ত্রের কয়েকটিকে আজও সংগোপনে একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মানবচক্ষুর আড়াল থেকে লুকিয়ে রেখেছে একদল বীর যোদ্ধা, আর এদেরই কোনো একটিকে ব্যবহার করে বন্দীদশা থেকে ফিরে আসতে চাইছে এক অমিত শক্তিশালী, হিংস্র রাক্ষস?

গল্পের নায়ক বছর পনেরোর অনাথ কিশোর অভী বেরিয়েছিল সোনার পাখি ধরতে, কিন্তু তার জীবনটাই পালটে গেল এক রহস্যময় যোদ্ধার আবির্ভাবে। তার সঙ্গে অভিযানে বেরিয়ে সে জানতে পারল, রাক্ষসদের সঙ্গে মানুষদের প্রলয়ংকর যুদ্ধ শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষামাত্র। আর তার চেয়েও ভয়ংকর জিজ্ঞাস্যঃ কে সেই অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর প্রলয়যোদ্ধা, যার আগমনে ধ্বংস হয়ে যেতে চলেছে সমগ্র মানবসভ্যতা?

272 pages, Hardcover

Published March 12, 2021

55 people want to read

About the author

Soumyasundar Mukhopadhyay

7 books2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
13 (50%)
4 stars
7 (26%)
3 stars
3 (11%)
2 stars
3 (11%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,866 followers
May 13, 2025
বাংলায় মৌলিক ফ্যান্টাসি বিশেষ লেখা হয় না। আসলে রূপকথা আর লোককথার থেকে আলাদা, অনেকাংশে নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আধুনিক সমাজচেতনার ফসল এই ঘরানায় লেখালেখি খুব সহজ নয়। আলোচ্য বইয়ের লেখক ইংরেজিতে এই ধারায় লেখালেখি করেছেন বলেই হয়তো তিনি ব্যাপারটা বুঝেছেন।
এই বইয়ে, তাঁর মেধা ও শ্রমের ফসল হয়ে আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছে এক জটিল, বহুস্তরীয় পৃথিবী। সেখানে চরিত্ররা আমাদের কাছে পুরোপুরি অচেনা না হলেও তাদের লক্ষ্য এবং চলন অনেকটাই আলাদা। রাজনীতি, বা আরও স্পষ্ট করে বললে ক্ষমতার লোভে দ্বন্দ্বই এই কাহিনির কেন্দ্রে আছে। মহাকাব্যের মতো এতেও আমরা দেখি ধূসর চরিত্রদের আনাগোনা। আর এরই পটভূমিতে ধীরে-ধীরে জ্বলে ওঠে একজন— তার ভবিতব্যকে সত্যি করতে, এক নায়ক হয়ে উঠতে।
হিরোইক ফ্যান্টাসির ক্যাম্পবেলীয় মডেল অনুসরণ করায় মনে হতেই পারে যে এই কাহিনির নায়কের চরিত্রটি হয়তো কোনো বিদেশি চরিত্রের আদলেই গড়া। কিন্তু তার পরিবেশ ও পরিপ্রেক্ষিতটি খাঁটি দেশজ এবং বহুলাংশে রূপকথাধর্মী— যা এই লেখাটিকে দেশজ শিকড়ের সঙ্গে জুড়েই রাখে।
আর হ্যাঁ, লেখা অত্যন্ত গতিময়। অ্যাকশনের তুলনায় সংলাপের আধিক্য থাকলেও তা কখনোই সেই গতিকে কমিয়ে দেয় না।
কল্পকাহিনির অনুরাগী পাঠক এই বইটি— অর্থাৎ ট্রিলজির প্রথম খণ্ডটি পড়ে আনন্দ পাবেন বলেই আমার অনুমান।
অলমিতি।
Profile Image for Sonal Das.
66 reviews21 followers
March 27, 2021
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া - প্রলয়যোদ্ধা
লেখক - সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক - অরণ্যমন
মূল্য - ৩৭৫ টাকা

ভারতীয় পটভূমিকায় ভারতীয় চরিত্রদের নিয়ে লেখক সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায় সৃষ্টি করেছেন এপিক এডভেঞ্চার-ফ্যান্টাসি কাহিনী - 'প্রলয়যোদ্ধা'।

কাহিনী সংক্ষেপে -
গল্পের নায়ক বছর পনেরোর অনাথ কিশোর অভী বেরিয়েছিল সোনার পাখি ধরতে, কিন্তু তার জীবনটাই পালটে গেল এক রহস্যময় যোদ্ধার আবির্ভাবে। তার সঙ্গে অভিযানে বেরিয়ে সে জানতে পারল, রাক্ষসদের সঙ্গে মানুষদের প্রলয়ংকর যুদ্ধ শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষামাত্র। আর তার চেয়েও ভয়ংকর জিজ্ঞাস্যঃ কে সেই অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর প্রলয়যোদ্ধা, যার আগমনে ধ্বংস হয়ে যেতে চলেছে সমগ্র মানবসভ্যতা?

বইয়ের ভূমিকা থেকে জানতে পারা যায় লেখক অদ্যপ্রান্ত ফ্যান্টাসি ঘরানার লেখার একনিষ্ঠ পাঠক বা ফ্যান, এবং বাংলায় এই বিষয় নিয়ে লেখার অভাব তাকে ভীষণভাবে পীড়া দেয়। যার ফলস্বরূপ এই হিরোয়িক ফ্যান্টাসি কাহিনীর জন্ম। কাহিনী পড়লে বোঝা যায় এই ফ্যান্টাসি ঘরানার উপর লেখকের দখল কতটা মজবুত এবং কাহিনী শুরু থেকেই পাঠককে আকর্ষিত করতে থাকে লেখকের লেখনীর গুনে। কাহিনীর প্রতিটি চরিত্র নির্মাণে লেখক প্রচুর পরিশ্রম এবং সময় দিয়েছেন। তাই কাহিনী অগ্রসর হবার সাথে এই চরিত্রগুলির সাথে পাঠক নিজেদেরকে একাত্ম অনুভব করতে পারবেন। মানুষ, রাক্ষস, অর্ধরাক্ষস কত ভিন্ন ধরনের চরিত্র রয়েছে এই কাহিনীতে। এই বইয়ের প্রতিটি চরিত্রই নিজস্ব দোষগুনে শুধুমাত্র তাদের নিজস্বতা ধরে রাখতেই সক্ষম হয়নি, পাঠকদের মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিতেও সক্ষম হয়েছে। তাই মূল কাহিনীকে ছাপিয়ে বার বার উঠে এসেছে তাদের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা, বীরত্ত্বের কথা, একতার কথা, কঠিন সময়ে সমরগরিমা অক্ষুন্ন রাখার কথা, পারিবারিক মূল্যবোধের কথা, সর্বপরি সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ভালবাসার কথা। বইপাঠ শেষ করার পরও এই চরিত্রগুলি মাথার মধ্যে বেশ কয়েকদিন ঘুরপাক খেতে থাকবে একথা জোর দিয়ে বলা চলে।

রামায়ন- মহাভারতে ব্যবহৃত বিভিন্ন মারণাস্ত্রের কথাও রয়েছে এই কাহিনীতে - যেমন পরশুরামের কুঠার, ভীমের কালান্তক লৌহগদা, রামের ভাঙ্গা হরধনুর টুকরো। রয়েছে নানান দিব্যাস্ত্র সংরক্ষণের একটি গুপ্ত প্রতিষ্ঠানের কথা যা মানবচক্ষুর আড়াল থেকে লুকিয়ে রেখেছে একদল বীর যোদ্ধা। আর এদেরই কোনো একটিকে ব্যবহার করে বন্দীদশা থেকে ফিরে আসতে চাইছে এক অমিত শক্তিশালী, হিংস্র রাক্ষস?

এছাড়া এই বইতে রয়েছে বিভিন্ন Mythical Creatures বা legendary creatures এর কথা, যা এর আগে আমরা শুধুমাত্র বিদেশী ফ্যান্টাসি কাহিনীতেই দেখতে পেতাম। মূল কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে খুব সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এদেরকে। যার মজা পাঠকরা এই বই পাঠ করলে বুঝতে পারবেন।

সবশেষে বলা চলে ভালো এপিক ফ্যান্টাসি কাহিনী নিয়ে বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের মনে যে প্রত্যাশা ছিল তা অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম হবে লেখক সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের 'প্রলয়যোদ্ধা'।
Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
226 reviews36 followers
June 21, 2021
আমরা... অর্থাৎ যারা একটু বড়ো হওয়ার পরেই তাদের সাথে পরিচয় হয়েছে ‘পটার-দুনিয়ার’ বা ‘লর্ড অফ্ দ‍্য রিংস’ সিরিজের, আরও একটু বড়ো হয়ে প্রথমে ‘স্পাইডারম্যান’ এবং পরে গোটা ‘মার্ভেল ইউনিভার্স’ রীতিমতো গিলে খাই যারা... তাদের কাছে ‘ফ‍্যান্টাসি’ বিষয়ক যেকোনো কিছুই একদম নেশার বস্তুর মতো । এদের মধ্যে যারা আমার মতো ‘বই’ পড়তে ভালোবাসেন, তাদের কাছে একটি ‘ফ‍্যান্টাসি’ উপন্যাস কোনো গুপ্তধনের চেয়ে কম কিছু না । আসলে, বই পড়তে পড়তে আমরা বাস্তব জীবনের দুঃখ-কষ্ট-ব‍্যর্থতা ভুলে ডুবে যেতে চাই লেখকের সৃষ্টি করা কাল্পনিক জগতে । সেই কাল্পনিক জগতে আরও সুন্দরভাবে ডানা মেলা যায় যদি বইটির বিষয়বস্তু হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার ফ‍্যান্টাসি’ ।

📝 গল্প-সংক্ষেপ : গল্পের নায়ক ‘অভী’ বছর পনেরোর অনাথ কিশোর । সে বেড়িয়েছিল তার কাকার সাথে ‘সোনার পাখি’ ধরতে, কিন্তু হঠাৎ তার জীবনটাই পালটে গেল এক রহস্যময় যোদ্ধার আবির্ভাবে । তার সঙ্গে অভিযানে বেরিয়ে সে জানতে পারল - রাক্ষসদের সঙ্গে মানুষদের প্রলয়ংকর যুদ্ধ শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষামাত্র ।

▪️রামায়ণ-মহাভারতে মারণাস্ত্রের যে বিপুল সম্ভার আমরা দেখেছি, আজ এতকাল পরে সেই বিচিত্রক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রগুলি কোথায় আছে কেউ কি জানে ?
কী হবে যদি জানা যায় এইসব ‘দিব্য অস্ত্র’র কয়েকটিকে আজও সংগোপনে একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মানবচক্ষুর আড়াল থেকে লুকিয়ে রেখেছে একদল বীর যোদ্ধা । আর এদেরই মধ‍্যে কোনো একটি অস্ত্রকে ব্যবহার করে বন্দীদশা থেকে ফিরে আসতে চাইছে এক অমিত শক্তিশালী, হিংস্র ‘রাক্ষস’ ?

▪️আর তার চেয়েও ভয়ংকর জিজ্ঞাস্য এই যে - কে সেই অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর ‘প্রলয়যোদ্ধা’, যার আগমনে ধ্বংস হয়ে যেতে চলেছে সমগ্র মানবসভ্যতা ?

📝 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : কি পড়লাম এটা !!
২৭২ পৃষ্ঠার একটি সুবৃহৎ ‘এপিক অ্যাডভেঞ্চার ফ‍্যান্টাসি’ উপন্যাস, তাও আবার বাংলা ভাষায় এবং সম্পূর্ণ ভারতীয় পটভূমিতে !! সত্যি বলতে, আমার এই আলোচনা বইটির প্রতি আমার ‘অনুভূতি’র বহিঃপ্রকাশ মাত্র ।

▪️এই উপন্যাসের পটভূমি আমাদেরই চেনা পৃথিবী । কিন্তু সেখানকার পরিবেশ, প্রকৃতি একটু অন‍্যরকম... মায়া এবং রূপকথায় মোড়া । এই পৃথিবীতে মানুষ ছাড়াও আছে রাক্ষস, অর্ধরাক্ষস এবং ‘ঐশিক’রা । গল্পের মূল চরিত্র অভী কিন্তু কোনো বিশেষ শক্তিসম্পন্ন কেউ নয়... বরং খুবই সাধারণ একজন, যার ভুল-ত্রুটিও হয়, সে আঘাত পেয়ে ভেঙ্গেও পড়ে । কিন্তু নিয়তির তাড়নায় তার সাথে ঘটে চলে অদ্ভুত সব ঘটনা, যার মধ‍্যে জড়িয়ে পড়তে থাকে সে । এইসব ভুল-ত্রুটির বাধ�� পেরিয়েও নিজের কর্তব্য পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে সে, আর ঠিক এই কারণেই সে হয়ে ওঠে গল্পের নায়ক ।

▪️বিশ্বসাহিত্যের বিখ‍্যাত সব ‘অ্যাডভেঞ্চার ফ‍্যান্টাসি’র সাথে এই উপন্যাসের পটভূমির মিল পাচ্ছেন তো ? বিশ্বাস করুন, আমিও পড়তে শুরু করেছিলাম এই দ্বিধা নিয়েই, পড়তে পড়তে বারবার তুলনা করার ইচ্ছা চলে আসছিল মনের মধ্যে । কিন্তু কয়েকটি অধ‍্যায় পড়তেই লেখকের স্বতন্ত্রতার পরিচয় পেলাম । লেখক ভূমিকায় বলেছেন তিনি ফ‍্যান্টাসির ভক্ত, আমার মনে হয় কথাটি না বলে দিলেও যে কেউ বুঝতে পারবে উপন্যাস পড়লে । তিনি যেভাবে রামায়ণ-মহাভারত এবং পুরাণের সাথে ফ‍্যান্টাসি মিশিয়ে প্রতি পাতায় পাতায় রূপকথার জাল বুনেছেন, তা এককথায় ‘অনবদ্য’।

▪️এই উপন্যাসের অন‍্যতম বিশেষত্ব এর চরিত্রায়ন এবং কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুন্দর সব নামের ব‍্যবহার । কাহিনীর ব‍্যাপ্তি বড়ো হওয়ার কারণে গল্পে অনেক চরিত্র আছে, কিন্তু প্রতিটি চরিত্রই ভীষণভাবে স্বতন্ত্র । মূল চরিত্র অভী ছাড়াও... সমরোত্তম ‘মেঘবর্ণ’, সমরোত্তম ‘বজ্রধর’, সমরোত্তম ‘শ‍্যামশ্রী’ থেকে শুরু করে পর্বত, লীনা, নিধি, চঞ্চল, নারদ, রাক্ষস দলনেতা ‘শর্বর’ এবং উর্ণায়ু... এই প্রতিটি চরিত্রই পাঠকের মনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে । কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রামায়ণ-মহাভারতের যুগে ব‍্যবহৃত বিভিন্ন ‘দৈব অস্ত্র’... যেমন - পরশুরামের কুঠার, ভীমের কালান্তক লৌহগদা, মহাদেবের ‘চন্দ্রহাস’ প্রভৃতি । এছাড়াও আছে ‘মৃত দেবতার নদী’ এবং বিভিন্ন ‘কাল্পনিক জীব’এর বর্ণনা... যা বাংলা ফ‍্যান্টাসির জগতে রীতিমতো দুর্লভ ।

▪️শুধু ‘এপিক অ্যাডভেঞ্চার ফ‍্যান্টাসি’ বললে আসলে কিছুই বলা হয় না এই উপন্যাস সম্পর্কে । এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তুর সাথে রয়েছে প্রেম, বন্ধুত্ব, রাজনৈতিক কূটকৌশল, বিশ্বাসঘাতকতা, ক্ষমতার লোভ, আত্মত্যাগের কাহিনী এবং স্বার্থহীন ভালোবাসা... আর আছে কয়েকটি অনবদ্য ট‍্যুইস্ট, যা এই কাহিনীতে অন‍্যরকম মাত্রা যোগ করেছে । এতকিছু বিষয় থাকা সত্বেও কোথাও কাহিনীর টানটান ভাব একটুও নষ্ট হয়নি । তথ‍্য-ভারাক্রান্ত না করেও যে সুন্দরভাবে ‘ফ‍্যান্টাসি’ গল্প শোনানো যায়, তা লেখক দেখিয়ে দিয়েছেন তার প্রথম উপন‍্যাসেই ।

▪️বইটির প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ সুন্দর । দুর্দান্ত প্রচ্ছদ, প্রতি অধ‍্যায়ের শুরুতে আকর্ষণীয় হেড-পিস্ এবং মুদ্রণ-প্রমাদহীন বই পরিবেশন করার জন্য ‘অরণ‍্যমন প্রকাশনী’কে অনেক ভালোবাসা জানাই । শুধু যদি কয়েকটি ভালো ইলাস্ট্রেশন যোগ করা যেত, তাহলে মনে হয় আক্ষেপের আর অবকাশ থাকতো না ।

🔹বাংলা সাহিত্যে ‘ফ‍্যান্টাসি’ নিয়ে ইদানিং বেশ কিছু কাজ হয়েছে, কিন্তু ভারতীয় পটভূমির পরিপ্রেক্ষিতে এইরকম দুর্দান্ত ‘অ্যাডভেঞ্চার ফ‍্যান্টাসি’ আর লেখা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না । যারা ‘রূপকথা’র গল্প পড়তে পছন্দ করেন, তারা একবার পড়ে দেখুন... ভীষণ অন‍্যরকম স্বাদ পাবেন । আর যারা ইতিমধ্যেই পড়ে ফেলেছেন, তারা অপেক্ষা করতে থাকুন পরবর্তী পর্বের জন্য ।
Profile Image for Aritra De.
61 reviews6 followers
August 23, 2024
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
বই: প্রলয়যোদ্ধা
লেখক: সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক: অরণ্যমন প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য: ৩৭৫ টাকা

মিস্টবর্ণের মতো স্ট্রং ফ্যান্টাসি উপন্যাস পড়ে শেষ করে ভেবেছিলাম সব ফ্যান্টাসি উপন্যাসই হয়তো এরকমই ভালো হবে। সেই আশা নিয়ে বাংলাদেশের সব থেকে ওভার হাইপড বই জুলিয়ানের 'আশিয়ানী' পড়তে শুরু করেছিলাম। কিন্তু ২৫০ পাতা অব্দি পড়ার পরেও এরকম শিশুতোষ সুলভ গল্প আমাকে তৃপ্ত করতে পারেনি। সেই থেকে আমার ধারণা হলো বিদেশে ফ্যান্টাসি/ কল্পবিজ্ঞান নিয়ে ভালো কাজ হলেও আমাদের বাংলা ভাষায় হয়তোবা সেই লেভেলের ফ্যান্টাসি উপন্যাস লেখা হয়না। বা সেরকম প্রতিভা হয়তো আমাদের বর্তমান বাংলা সাহিত্যে কারো নেই।
এরপরে কি মনে হতে জানি না অরণ্যমন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত লেখক সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'প্রলয়যোদ্ধা' বইটা হাতে তুলে নিলাম। এবং আমার বাংলায় ভালো ফ্যান্টাসি উপন্যাস লেখা হয়না এই ধারণা যেন খড়কুটোর মতো উড়ে গেলো। পড়তে পড়তে হারিয়ে গেলাম অভী, মেঘবর্ণ, ঐশিকশ্রেষ্ঠদের দুনিয়ায়। কি অসাধারণ ভাষা নৈপুণ্য লেখকের, কি অসাধারণ কাহিনী নির্মাণের ক্ষমতা। নিমেষের মধ্যে কাল সারারাত যেন আমাকে দিয়ে পড়িয়ে নিলো বইটা। এতটাই হারিয়ে গেছিলাম অভী, মেঘবর্ণ, বজ্রধর, ঐশিকশ্রেষ্ঠদের দুনিয়ার এই অসাধারণ গল্পে। এখন বাকি দুটো খন্ড 'প্রলয়বহ্নি' ও 'প্রলয়মেঘ' বইগুলি কিনে পড়ার অপেক্ষায় আছি। যারা ফ্যান্টাসি উপন্যাস পছন্দ করেন তাদের জন্য এই বইটা অবশ্যই হাইলি রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,162 reviews385 followers
July 9, 2025
আমরা—মানে সেই প্রজন্ম, যারা বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাতে পেয়েছিল ‘হ্যারি পটার’, চোখে পেয়েছিল ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’-এর বিশাল কান্ডারি মধ্য-পৃথিবী, পরে Marvel Universe-এর একেকটা চরিত্র হয়ে আমাদের মধ্যেই বাসা বেঁধেছিল কিশোর স্বপ্নে। আমাদের কাছে “ফ্যান্টাসি” একদম নেশার মতো—চোখের নিচে ঘুম জমলেও পাতা বন্ধ করা যায় না, পিঠে ব্যথা জমলেও পাতার পর পাতা উল্টে যেতে হয়। আর যদি সেই ফ্যান্টাসির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ভালো লেখা, স্পন্দিত কাহিনি আর অবিশ্বাস্য world-building—তবে সে তো হয়ে দাঁড়ায় একপ্রকার আত্মার আশ্রয়।

সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের প্রলয়যোদ্ধা এই অর্থে আমার কাছে এক অসামান্য আবিষ্কার। এবং, আমি বলছি না শুধুমাত্র পাঠক হিসেবে—বলছি একজন সেই পাঠক হিসেবে, যে বিশ্বসাহিত্যের ফ্যান্টাসি শিকড় গেঁথে বসে আছে হৃদয়ের তলে।

World-building বা বিশ্বনির্মাণ ফ্যান্টাসি সাহিত্যের আত্মা। Tolkien-এর Middle-earth যেমন তার হাজার বছরের ইতিহাস, নিজস্ব ভাষা, ধর্ম, ভূগোল ও জাতিগোষ্ঠী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক পৌরাণিক স্তম্ভ হয়ে, ঠিক তেমনিভাবেই, প্রলয়যোদ্ধা তার নিজস্ব জগৎ গড়ে তোলে—সেখানেও আছে অভী, মেঘবর্ণ, বজ্রধরদের মতো চরিত্র, আছে শত্রুতা, অস্ত্র ও অতীতগাঁথা, আছে রাজনৈতিক কূটচাল, সমাজের স্তরবিন্যাস, এমনকি আছে নিজস্ব পরিভাষা—যেমন "ময়ূরবজ্র", "হিমকুশলতা", "নিয়তিলাঞ্ছন", "ঐশিকশ্রেষ্ঠ", "রাক্ষস", "অর্ধরাক্ষস", "নীরসেনা", “চন্দ্রহাস”—যা প্রতিটি পাতায় ধ্বনিত করে এক নিজস্ব বাস্তবতার প্রতিধ্বনি।

Le Guin যেমন তাঁর Earthsea-তে “true name”-এর মধ্য দিয়ে ম্যাজিককে ব্যাখ্যা করেছিলেন, Jemisin-এর “Stillness” ভূখণ্ডের মতোই এখানে প্রলয়যোদ্ধা-র জগৎও দাঁড়িয়ে আছে তার নিজের জ্যোতির্বিদ্যা, অস্ত্রতত্ত্ব, রাজনীতি ও পূর্বাভাসের ভিত্তিতে। সবচেয়ে বড়ো কথা—এটা নিছক এক অভিযাত্রা নয়, বরং এক অন্বেষণ—কে আমি? কী আমার ভূমিকা? এবং, প্রলয় কি সত্যিই ধ্বংস, নাকি রূপান্তরের পূর্বশর্ত?

আমি মনে করতে পারি সেই দুপুরটা, যেদিন আমি অভীর সঙ্গে পথ চলা শুরু করেছিলাম। আমার জীবনের এক জটিল সময় ছিল সেটা—বহু দিক থেকে ক্লান্ত, মানসিকভাবে খানিকটা নিঃসঙ্গ, কাগজের মধ্যে আশ্রয় খুঁজছিলাম। আর সেখানেই শুরু হল সেই অ্যাডভেঞ্চার, যে অ্যাডভেঞ্চারে আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম নিজেকে—তবে যেন আবার খুঁজেও পেয়েছিলাম।

প্রতিটি সফল ফ্যান্টাসি উপন্যাসই আদতে তার পাঠককে বলে—“তুমি শুধু পাঠক নও, তুমি সঙ্গী, তুমি গোপন যোদ্ধা।” প্রলয়যোদ্ধা তার সে��� বৃত্তিতে উজ্জ্বলভাবে সফল। অভী নিছকই এক হিরো নয়, সে এক প্রতীক—আমাদের মতো সাধারণ, ভুল করতে পারে, ভাঙতে পারে, কিন্তু ঠিক সময়ে আবার উঠে দাঁড়ায়। আর এটাই তো এক সত্যিকারের হিরোয়ের সংজ্ঞা।

এ বই শুধুই কিশোরদের জন্য নয়—যদিও সেটা তার প্রান্তিক দর্শন। এই বই এক আদর্শ crossover text—যা কিশোরের কল্পনা আর প্রাপ্তবয়স্কের আত্মদ্বন্দ্বের মাঝখানে একটা সেতুবন্ধন তৈরি করে। আপনি যদি অতীত-প্রীতিতে ভরা হন, যদি রামায়ণ-মহাভারতের অলৌকিক অস্ত্রে বিশ্বাস রাখেন, বা যদি আজকের দিনেও আপনাকে খোঁজ করতে হয় নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সাহসিকতাকে—তবে প্রলয়যোদ্ধা আপনার জন্যই।

একবার পড়া শেষ করে আমি দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করছিলাম সেই শূন্যতা—যে শূন্যতা একটা ভালো বই শেষ হলে এসে বসে বুকের ভিতরে। যেমনটা লেগেছিল Half-Blood Prince পড়ার পরে, যেমনটা ছিল Return of the King শেষ করার মুহূর্তে। সেই অনুভব আবার ফিরেছে—এটাই লেখকের সার্থকতা।

সব শেষে শুধু একটা অনুরোধ: সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের এই প্রয়াস যেন একক প্রচেষ্টা হয়ে না থাকে। যেন এটিকে অনুসরণ করেন আরও লেখক, আরও প্রকাশক, আরও পাঠক। কারণ বাংলা সাহিত্যে ফ্যান্টাসি লেখা সম্ভব—এ বই তার সপ্রমাণ দলিল।

আর হ্যাঁ, এই যুদ্ধ কিন্তু শেষ নয়। অভীর মতো, আপনিও—আমি—আমরা সবাইই হয়তো একেকজন প্রলয়যোদ্ধা। শুধু জানতে বাকি, আমাদের "চন্দ্রহাস" কোথায় রাখা আছে।

গল্প-সংক্ষেপ: গল্পের কেন্দ্রে অভী—মাত্র পনেরো বছরের এক অনাথ কিশোর। শুরুটা যেন এক চেনা লোককথার মতো—কাকাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিল ‘সোনার পাখি’ ধরতে, কিন্তু বাস্তব তার জন্য বেছে রেখেছিল এক ভিন্নতর, ভয়ংকরতর নিয়তি। হঠাৎ করেই তার জীবনে আবির্ভাব ঘটে এক রহস্যময় যোদ্ধার—যে তাকে টেনে নেয় এমন এক অভিযানে, যেখানে পদে পদে অপেক্ষা করছে রহস্য, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রাচীন ইতিহাসের ছায়া, আর এক অনাগত বিপর্যয়ের অশনি সংকেত।

এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়—এখানে সহবাস করছে রাক্ষস, অর্ধরাক্ষস, এবং কিছু অনন্ত-জ্ঞানসম্পন্ন ঐশিক সত্তা। আর এই তিন শক্তির মাঝে দুলে উঠছে এক অদৃশ্য যুদ্ধ, যার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষই। যুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু আকাশে বজ্রের গন্ধ—প্রলয় যেন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এই ভয়ংকর দ্বন্দ্বের মূলচক্রে ঘুরছে এমন কিছু অস্ত্র, যেগুলির কথা আমরা পুঁথিপত্রে পড়েছি—রামায়ণ-মহাভারতের দেবতাদত্ত মারণাস্ত্র: পরশুরামের রক্তপিপাসু কুঠার, ভীমের কালান্তক গদা, মহাদেবের চন্দ্রহাস—যেগুলির একটিও ব্যবহার করেই নাকি রাম ভেঙেছিলেন হরধনু, কুরুক্ষেত্র থেমেছিল নিঃশেষে।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এসব অস্ত্র আজ কোথায়? বিস্মৃত কোনো পুরাণে, না কি বাস্তবের অন্ধকারে? যদি জানা যায়, আজও কোনো গোপন প্রতিষ্ঠান এই অস্ত্রগুলিকে রক্ষা করে চলেছে, এবং তাদের মধ্যেই কেউ একজন—অত্যন্ত হিংস্র, প্রায় অমিতশক্তিধর এক রাক্ষস—চেষ্টা করছে এই অস্ত্রের সাহায্যে বন্দীদশা ভেঙে ফিরে আসতে, তবে?

‘প্রলয়যোদ্ধা’-র গল্প এই সম্ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে—যেখানে অতীতের অস্ত্র, ভবিষ্যতের লড়াই, আর এক কিশোরের ভাগ্য অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে পড়ে একটি বিশাল প্রেক্ষাপটে। এই কিশোর কি পারবে জানতে, কে সেই “অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর” প্রলয়যোদ্ধা—যার আগমনে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে সমগ্র মানবসভ্যতা?

এ গল্প একাই নয়, একঝাঁক চরিত্রের সঙ্গে এগোয়—সমরোত্তম যোদ্ধা মেঘবর্ণ, বজ্রধর, শ্যামশ্রী; জটিল রাজনীতি, বন্ধুত্ব আর প্রতারণার রোমাঞ্চে এগিয়ে চলে অভীর অভিযান, যেখানে কোনো সাদা-কালো নেই—আছে ধূসর, বিষণ্ণ, বিস্ময়কর এক দুনিয়া।

এটা কেবল রূপকথা নয়—এটি অস্তিত্বের চূড়ান্ত সঙ্কট, এক জাগতিক যুদ্ধের অন্তঃসার। কেবল অ্যাডভেঞ্চার নয়—এখানে প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি লড়াই এক আত্মপরিচয়ের নির্মম খোঁজ। এই কাহিনিতে প্রলয় মানে শুধু ধ্বংস নয়—প্রলয় এক বিপ্লব, এক অভ্যুত্থান, যা পুরনো বিশ্বকে পুড়িয়ে তুলে আনে এক নতুন সম্ভাবনার রেখাচিত্র।

আর তার থেকেও ভয়ানক, অনিবার্য প্রশ্নটি হল—কে সেই “অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর প্রলয়যোদ্ধা”?

সে কি আদতে এক রক্ষক, না এক বিধ্বংসী?

সে কি পাণ্ডবের উত্তরসূরি, না রাবণের নবপ্রেত?

তার আগমনে কি সত্যিই ধূলিসাৎ হবে সমগ্র মানবসভ্যতা?

নাকি, ধ্বংসের ছদ্মবেশেই লুকিয়ে আছে এক নবজাগরণের বীজ?

এই জিজ্ঞাসাই গল্পের মর্মস্থল, আর ‘প্রলয়যোদ্ধা’ সেই রক্তমাখা দরজার নাম—যেটি খুললেই একসাথে হাওয়া লাগে ইতিহাস, ভবিষ্যৎ, আর একটা ক্ষুদ্র কিশোরের অপরিসীম নিয়তি।

ব্যক্তিগত পাঠ-প্রতিক্রিয়া: ২৭২ পৃষ্ঠার একটি সুবৃহৎ ‘এপিক অ্যাডভেঞ্চার ফ‍্যান্টাসি’ উপন্যাস, তাও আবার বাংলা ভাষায় এবং সম্পূর্ণ ভারতীয় পটভূমিতে !! সত্যি বলতে, আমার এই আলোচনা বইটির প্রতি আমার ‘অনুভূতি’র বহিঃপ্রকাশ মাত্র ।

▪️এই উপন্যাসের পটভূমি আমাদেরই চেনা পৃথিবী—তবে এক কুহেলিকামণ্ডিত ছায়াপথে দাঁড়িয়ে। যেখানে আলো আর অন্ধকার একে অপরকে অনুসরণ করে চলে, আর পরিচিতের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অপরিচয়ের বিস্ময়। এই পৃথিবী যেমন আমাদের, তেমনই নয়। এখানে মানুষ আছে ঠিকই, কিন্তু তাদের পাশে ঘোরাফেরা করছে রাক্ষস, অর্ধরাক্ষস এবং ‘ঐশিক’ প্রজাতির অস্তিত্ব, যাদের ক্ষমতা বাস্তবের সীমা অতিক্রম করে পৌরাণিকের ভেতর বিচরণ করে।

কিন্তু এই জাদুপ্রবাহিত জগতে নায়ক হিসেবে উঠে আসে এমন একজন—যে কোনও অর্পিত নায়ক নয়। ‘অভী’ হল এক পনেরো বছরের অনাথ কিশোর, যে কোনও মহাজাগতিক শক্তির অধিকারী নয়। সে ভুল করে, হোঁচট খায়, ভেঙে পড়ে—কিন্তু আবার উঠে দাঁড়ায়। তার ভেতর সেই জেদ আছে, যা অগ্নিপরীক্ষায় পুড়ে এক অনন্য ধাতুতে রূপ নেয়। এই অচেনা দুনিয়ায় সে ধীরে ধীরে খুঁজে পায় নিজের স্থান, নিজের উদ্দেশ্য—আর এভাবেই সে হয়ে ওঠে গল্পের হৃদস্পন্দন।

▪️বিশ্বসাহিত্যের পাঠকদের জন্য তুলনার হাতছানি সবসময় লোভনীয়—Tolkien-এর Middle-Earth, Rowling-এর Hogwarts, কিংবা Martin-এর Westeros-এর মতো বিশাল বিশ্বগঠনের স্পর্শ এখানে রয়েছে বইকি। আমিও ঠিক সেই দ্বিধা নিয়েই পড়া শুরু করেছিলাম, প্রথমে ধরে নিয়েছিলাম হয়তো এটি আরেকটা derivative fantasy হবে। কিন্তু ক'টা অধ্যায় পেরতেই লেখকের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর আর কল্পনাশক্তির স্কেল আমাকে চমকে দেয়। সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায় রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের উপাদানগুলিকে নিয়ে এমনভাবে গল্প বুনেছেন যে প্রতি পৃষ্ঠায় তা হয়ে উঠেছে আমাদের নিজস্ব লোকস্মৃতির পুনর্জন্ম। এটি নিছক ছায়ানুবর্তী নয়—এ এক স্বকীয় নির্মাণ, দেশজ অভিজ্ঞতায় ভেজা।

▪️বিশেষত চরিত্রায়ন আর নামের ব্যবহারে লেখকের অভিনবত্ব স্পষ্ট। প্রতিটি চরিত্র যেন নিজেদের নিজস্ব ছায়া ও আলোকছটায় আলাদা আলাদা রঙে আঁকা। ‘অভী’ ছাড়াও পাঠকের মনে গেঁথে যায় সমরোত্তম মেঘবর্ণ, বজ্রধর, শ্যামশ্রী, পর্বত, চঞ্চল, লীনা, নিধি, উর্ণায়ু এবং ভয়ঙ্কর রাক্ষসনায়ক শর্বর। কেউ মহান, কেউ ধূসর, কেউ গভীর ছলনায় মোড়া—কিন্তু সকলেই জৈবিক, জীবন্ত।

আর এদের আশেপাশে ছড়িয়ে আছে সেইসব অস্ত্র, যাদের নাম শোনা যায় পৌরাণিক শাস্ত্রে—পরশুরামের কুঠার, ভীমের কালান্তক গদা, চন্দ্রহাস, আর আরও কত কী! গল্পে উঠে আসে ‘মৃত দেবতার নদী’র মতো দুর্লভ কাল্পনিক প্রতীক—যা বাংলা ফ্যান্টাসির জগতে এক অভূতপূর্ব সংযোজন।

▪️তবে একে কেবল এপিক অ্যাডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি বললে সংজ্ঞার গণ্ডি ছোট হয়ে পড়ে। কারণ এই উপন্যাস কেবল রাক্ষস-মানুষের দ্বন্দ্ব নয়, এটি বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প, এটি প্রেম আর আত্মত্যাগের কাব্য, এটি রাজনৈতিক ছলনার আবরণে ঢাকা এক করুণ নৈতিক প্রশ্ন। এখানে ক্ষমতা চাইতে নেই—কারণ ক্ষমতার মুখে রক্ত জমে থাকে। এখানে ভালোবাসা নিঃস্বার্থ নয়, কিন্তু ত্যাগময়।

সত্যি বলতে—তথ্য-ভারাক্রান্ত না করেও যে এমন বর্ণময়, গতিময় ও হৃদয়স্পর্শী কাহিনী বলা যায়, তা এই প্রথম উপন্যাসেই প্রমাণ করে দিয়েছেন লেখক। এই বইটির প্রতিটি অধ্যায় যেন একেকটি খচিত স্বপ্ন, যার ভাষা, গতি আর আবেগ—তিনেই বাজিমাত।

এটি সেই গল্প, যা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পাঠকের মনের গুহায় বহুক্ষণ ধরে প্রতিধ্বনিত হয়।

▪️বইটির প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ‘অরণ্যমন প্রকাশনী’ যে কতটা যত্ন নিয়ে প্রলয়যোদ্ধা প্রকাশ করেছে, তা স্পষ্ট—চোখ ধাঁধানো প্রচ্ছদ, প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে ঝকঝকে অলংকরণধর্মী হেড-পিস, আর চমৎকার টাইপসেটিং—সব মিলিয়ে বইটি শুধুই পড়ার নয়, দেখারও আনন্দ। মুদ্রণ-প্রমাদ বলতে গেলে প্রায় নেই, যা আজকের দিনে বিরল বলেই মানতে হবে। শুধু একটা ছোট্ট আক্ষেপ থেকেই যায়—যদি কয়েকটি মূল চরিত্র বা দৃশ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইলাস্ট্রেশন থাকত, তবে সেটি এই ফ্যান্টাসি জগতের আরও অনন্য চিত্রায়ন তৈরি করতে পারত। তবুও, যা আছে, তাতেই পাঠকের কল্পনার ডানায় আগুন লাগে।

শেষে যা বলার থাকে: বাংলা সাহিত্যে ফ্যান্টাসি নিয়ে সাম্প্রতিককালে অনেক ভাল কাজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসর ও পৌরাণিক মেটিরিয়ালকে কেন্দ্রে রেখে এমন পরিণত অ্যাডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি বিরল। প্রলয়যোদ্ধা শুধু এক দুর্ধর্ষ কাহিনিই নয়, বরং একটি ধারা গঠনের সূচনা—যা ভবিষ্যতের বাংলা ফ্যান্টাসি সাহিত্যকে আলাদা গাম্ভীর্য ও অভিমুখ দিতে পারে।

যারা রূপকথা, পৌরাণিক থিম আর অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে তৈরি কাহিনিতে হারিয়ে যেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য প্রলয়যোদ্ধা একেবারে মিস না-করা-পাঠ্য। আর যারা ইতিমধ্যেই এই বইয়ের মায়াজালে ঢুকে পড়েছেন—তাঁদের জন্য এখন একটাই প্রশ্ন: পরবর্তী খণ্ড কবে আসছে?
Profile Image for Moumita Giri.
3 reviews
December 15, 2022
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া

হ্যারি পটার, পার্সি জ্যাকসন পড়ার পরে মনে হয়েছে বাংলায় এতো কিছু আছে, তবে এইরকম একটা ধারায় খুব বেশি কিছু নেই কেনো। প্রলয়যোদ্ধা পড়ে সেই আফসোস আর নেই।

মানুষের মন সবসময় কল্পনা করতে ভালোবাসে। ভালোবাসে হারিয়ে যেতে এমন সব আশ্চর্য দুনিয়ায় যেখানে কল্পনা গিয়ে বাস্তবের সাথে মিশে এক আদর্শ সমাজের সৃষ্টি হয়। সেখানে এমন অনেক কিছু সম্ভব হয়, যা বাস্তবে আমরা শুধু ভাবতেই সক্ষম।

এরকমই একটি দুনিয়ার নায়ক অভী। সোনার পাখির খোঁজে গিয়ে সে দেখা পায় এক রহস্যময় যোদ্ধার। তার সাথে সে পাড়ি দেয় এক অন্য দুনিয়ায়। সেখানে সে জানতে পারে রাক্ষস আর মানুষদের মধ্যে প্রলয় যুদ্ধ বাঁধতে চলেছে। এরপর অভীর রোমাঞ্চকর অভিযানে কি কি হয় সেটা জানার জন্য বইটা পড়াই ভালো। এর বেশি কিছু বলে মজা নষ্ট করতে আমি চাই না।

রামায়ণ-মহাভারতকে যদি কোনো আলাদা ইউনিভার্স হিসেবে ধরা হয়, তাহলে সেখানে ঘটা প্রত্যেকটি ঘটনা নিঃসন্দেহে এক একটি অতি রোমাঞ্চকর অভিযান। নানা রকম অস্ত্রের ব্যবহার, রাজনীতি, সমাজধারা সব কিছু মিলিয়ে দারুন ব্যাপার। সেইখান থেকেই অস্ত্রের রেফারেন্স নিয়ে লেখক তৈরি করেছেন এক চমৎকার কাহিনী। পড়তে গিয়ে কোথাও এক মুহূর্তের জন্য আটকাতে হয়নি। খুব মসৃণভাবে সম্পূর্ন কাহিনী এগিয়ে গেছে নিজস্ব ছন্দে। সব থেকে ভালো লেগেছে ভাষার সুন্দর ব্যবহার। ফ্যান্টাসি যারা মোটামুটি নিয়মিত পড়েন তারা জানেন যে কিছু ব্যাপার আগের থেকে আন্দাজ করা যায় এখানে। কিছু জায়গায় পরিণতি বুঝতে পারলেও তার জন্য ভালো লাগা একটুও কমেনি। যুদ্ধের মুহূর্ত গুলোও খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু জায়গায় আর একটু ভালো ভাবে বর্ণনা দরকার বলে মনে হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটাও কোনোভাবে কিছু গভীর প্রভাব ফেলেনি।

সব মিলিয়ে লেখক চমৎকার একটি ফ্যান্টাসি উপন্যাস এ সফলভাবে পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। মূলত কিশোর উপন্যাস হলেও সব বয়সের পাঠককেরই পছন্দ হবে সেটা নিশ্চিত। এতদিন বইটা চোখের সামনে থাকলেও কেন যে পড়িনি তার বেশ আফসোস হচ্ছে।

শেষে পরের বইয়ের হিন্ট দিয়ে শেষ করেছেন। এর পরের পার্ট “প্রলয়বহ্নি“ অনেকদিন আগেই বেরিয়ে গেছে।

এখনও এই বই পড়ে না থাকলে চোখ বন্ধ করে পড়ে নিন। কোনোমতেই হতাশ হবেন না।

~ প্রলয়যোদ্ধা - সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায় (অরণ্যমন) ₹৩৭৫
5 reviews1 follower
July 1, 2024
Among all the Heroic Fantasy or Fantasy Fiction I have read, This is the Best. It is a MUST read. Enigmatic portrayal of the plot. The unveiling of every layer of the mystery is indeed bone chilling. A marvelous work of today's time.
14 reviews
July 14, 2024
Modern day fantasy classic !! Imagination, thrill and crafty climax at its best! It will take the reader in a different state of mind altogether !Wonderful work!!!👍
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.