আটের দশকের আনন্দমেলা সত্যিই এক স্বপ্নপুরী ছিল। গড়পড়তা 'ছোটোদের' লেখা থেকে এক্কেবারে অন্যরকম লেখা, আঁকা, ফিচারে ঠাসা থাকত সেই পত্রিকাটি। এখনকার অবস্থা দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু সেই সময়ের আনন্দমেলা সম্বন্ধে 'বিশ্বমানের' বিশেষণটি ব্যবহার করলে কিছুমাত্র অতিশয়োক্তি হবে না। ঠিক কীভাবে আনন্দমেলা ওই স্তরে উন্নীত হয়েছিল? সহজ কারণ একটাই। সম্পাদক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একটি মাস্টার স্ট্রোক খেলেছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তথাকথিত শিশু-সাহিত্যিকদের বদলে 'বড়োদের' লেখকদের কাছ থেকেই ছোটোদের জন্য লেখা আদায় করবেন। বাকিটা আক্ষরিক অর্থেই ইতিহাস। সেভাবেই আনন্দ বাগচী'র সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। কবি, সাহিত্যিক, আনন্দ গোষ্ঠীর নানা পত্রিকায় রম্যরচনা ও ফিচার লেখার মাধ্যমে সুপরিচিত আনন্দ আমাকে চমকে দিয়েছিলেন কিশোর গোয়েন্দা সুনন্দকে কেন্দ্রে রেখে লেখা একের পর এক রহস্য গল্প দিয়ে। সেভাবেই পেয়েছিলাম দূর থেকে খুন করার এক অসামান্য কাহিনি 'ছোঁ'। তারই পাশাপাশি পেয়েছিলাম তাঁর লেখা কিছু মজার ও ভয়ের গল্প। আর হ্যাঁ, তাঁর কলমেই প্রথমবার পড়েছিলাম এক সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে লেখা গল্প, পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা-য় প্রকাশিত, দেবাশীষ দেব-এর অলংকরণে শোভিত, 'যেখানে বাঘের ভয়...'। এর প্রায় সবই এখন হারিয়ে গেছে। হাতে আছে স্রেফ পেন্সিল, আর আলোচ্য বইটা। এতে এই ক'টা গল্প আছে~ ১. লেখক হওয়া সহজ নয় ২. টোটকা ৩. মানুষের কাঠামো (সুনন্দ'র কেস) ৪. ভণ্ডুল ৫. জলযোগ ৬. ভূতে মানুষে ৭. তামাক-পোড়া গন্ধ ৮. চোখ ৯. রহস্যের হোমটাস্ক দে'জ এটিকে বড়ো অযত্নে প্রকাশ করেছে। বেশ ক'টি গল্পের অলংকরণ যে সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের করা— তা লেখা হয়নি। গল্পগুলোর প্রথম প্রকাশের স্থান ও কাল নিয়ে কিছুই লেখা হয়নি। এমনকি বইটায় একটা সূচিপত্রও দেওয়া হয়নি! তবু, মার্কেটে স্রেফ এই একটি বই-ই পড়ে আছে। যদি ছোটোবেলার সেই স্মার্ট আনন্দমেলা তথা তাতে প্রকাশিত লেখার সান্নিধ্য ফিরে পেতে চান, তাহলে এটিই ভরসা।