আরবি রস একটি মজার বই। আরবি সাহিত্যে কত অসাধারণ রস লুকিয়ে আছে—তার সাথে বাঙলাভাষী পাঠককে পরিচিত করার প্রয়াস। আরবি সাহিত্য শুধু নয়, আরবি ভাষাটাও খুবই মজার। এই মজাটা আয়ত্তে আনার কিছু কলকব্জা এই বইয়ের গল্প থেকে পাওয়া যাবে।‘আরবি রস’ সবার জন্যে। এই রস আস্বাদনের জন্যে আরবি ভাষা জানা কিংবা আরবি ভাষার শিক্ষার্থী হওয়া আবশ্যক নয়। আরবি রস-এর হাঁড়ি সবার জন্যে উন্মুক্ত। এ কথাও স্মর্তব্য, সবার উপযোগী করে রচিত হলেও এটি কোনো চটুল কৌতুকগ্রন্থ নয়। ভাষা-সাহিত্যের বিচিত্র-বর্ণাঢ্য স্বাদ উপভোগে অভ্যস্ত বা আগ্রহী পাঠকবৃন্দ ‘আরবি রস’-এর সাথে বেশ সুন্দর সময় কাটাতে সক্ষম হবেন।
সাধারণত মানুষ যা পছন্দ করে, যে কোন কিছুতেই তা হাজির করতে চায়। আমাদের খ্যাতিমান এক অর্থনীতিবিদ এতোটাই রবীন্দ্রভক্ত ছিলেন যে তার অর্থনীতির বইয়েও অর্থনীতির চেয়ে রবীন্দ্রনাথের হাজিরি বেশি চোখে পড়তো। আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীবের আরবির প্রতি সেরকম ভালোবাসার কারণেই হয়তো, হাস্যরসের চর্চা করতেও তিনি আরবিরই আশ্রয় নিয়েছেন।
আরবি ভাষা ও সাহিত্যে হাস্যরসের উপাদানের অভাব নেই। কিন্তু তা নিয়ে বাংলায় বই লেখা বেশ খানিকটা কঠিনই বটে। কারণ কৌতুকের পাঞ্চলাইন যদি আলাদা করে ব্যাখ্যা করতে হয়, তবে সেটা আর কৌতুক থাকে না। হাস্যরসে টীকা-ভাষ্য জঘন্য লাগে। আর আরবি ভাষায় যে সকল হাস্যরসের উপাদান, তার বেশির ভাগই বুঝতে হলে আরবি জানা লাগে। টীকা-ভাষ্য ছাড়া আরবি ভিন্ন অন্য ভাষায় সে রস ফুটিয়ে তোলা বেশ মুশকিলের কাজ।
'আরবি রস'-এ নজীব বিভিন্ন ধরনের টপিক নিয়ে এসেছেন। কিছু আছে এমন, যা টীকা-ভাষ্যের পাহাড় ছাড়াই আরবি না জানা পাঠকও একবার পুরোটা পড়লেই টুইস্টটা সহজেই ধরতে পারবেন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা গেছে মূল মজাটা আরবিতে থাকলেও লেখকের বাংলার উপর যে মুনশিয়ানা রয়েছে, তা দিয়ে তিনি বাংলাভাষীদের জন্যেও বেশ উপভোগ্য রসের হাড়ি মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। ম্যারিড অনলি পোয়েম এ ধরনের একটি কবিতা। মূল আরবি কবিতা পড়তে না পারলেও বাংলায় রসের অভাব হবে না, তবে সেটা অনুবাদকের কাব্য প্রতিভার জোরে তো বটেই। অর্থাৎ, মূল আরবি রস আরবি না জানা পাঠক আস্বাদন করতে না পারলেও কাব্যরস আস্বাদন থেকে কেউই বঞ্চিত হবেন না।
কোন কোন ক্ষেত্রে অবশ্য রীতিমতো টীকাভাষ্যের পাহাড় গড়ে মূল টুইস্টটা লেখককে বুঝিয়ে দিতে হয়েছে। যেমন ৬২ নং রসের মাসআলাগুলোর কথাই ধরা যাক। এখানে ফিকহ যেমন আছে, তেমনি আরবি ভাষার মজাও আছে। এ ধরনের লেখাগুলোতে সব কয়টি টীকা পড়লে পাঠক মজা পাবেন, কিন্তু সেটা অনেকাংশে সুস্বাদু কিন্তু একটুখানি ভাসি তরকারির মতো হয়ে যেতে পারে। কিছুটা অ্যাডভান্স আরবি জানাদের জন্য এক্ষেত্রে টাটকা রস আস্বাদনের সুযোগটা রয়েছে।
মোদ্দাকথা এই যে, বেশির ভাগ রস উপভোগের জন্য আরবি ভাষাজ্ঞান থাকাটা সুবিধাজনক, তবে খুব দক্ষ না হলেও চলে, মোটামুটি আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের প্রাথমিক ধারণা থাকলেই অন্যদের চেয়ে বইটি বেশি উপভোগ করা সম্ভব। তার মানে এই নয় যে, যাদের আরবি জানা নেই, তারা একেবারেই বঞ্চিত হবেন। বরং তারাও লেখকের উপর ভর করে কোন ধরনের আরবি ভাষা জ্ঞান ছাড়াই রস আস্বাদনের সুযোগ ঠিকই পাবেন।
তবে কিছু কিছু গল্প আমার কাছে মনে হয়েছে আসলে ঠিক এই বইয়ের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারতো। যেমন ধার যাক, ইমাম আবু ইউসুফের সাথে নির্বোধ ব্যক্তির গল্পটি। ঘটনাটি বেশ মজার, তবে সেটি আরবি রসের চেয়ে বরং ফিকহি রসেরই অন্তর্ভুক্ত বলে আমার মনে হয়। নিচের আরবি কবিতাটি চমৎকার, কিন্তু লেখক নিশ্চয়ই শুধু উপদেশমূলক কবিতার সংকলন করেননি বইটিতে। এরকম আরও কিছু আছে, যেগুলোর মূল টুইস্টটাকে ঠিক আরবি রস বলে বলে আমার মনে হয়নি। তবে কিছু কবিতা আছে যেগুলোর রস সত্যিই অসাধারণ, উদাহরণস্বরূপ হাজ্জাজের টহলদারের হাত থেকে বাঁচতে তিন কিশোরের যে কবিতাংশগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর কথা বলা যায়।
আরবি ভাষা নিয়ে প্রচলিত রম্য-রসিকতার অভাব নেই। তবে এই বইয়ে যে জিনিসটা বিশেষভাবে নজর কাড়ে, সেটা হচ্ছে লেখক বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে সংকলিত ও প্রচলিত রসের পাশাপাশি নিজের যাপিত জীবন থেকেও অনেক আরবি রস তুলে এনেছেন। লেখকের যাপিত জীবনের এই রসগুলোও প্রচলিত আরবি রসের চেয়ে কোন অংশে কম আকর্ষণীয় নয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি নানান ঢংয়ের আরবি রসের পাঠক, বহু ফেসবুক গ্রুপে শুধু এসব পড়ার জন্যই আছি। ফলে এই বইয়ের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আমার পূর্বপরিচিত হলেও লেখকের উপস্থানার জোরে পড়তে নতুনই মনে হয়েছে।
শুরুতেই বলেছি বাংলায় এ ধরনের বই লেখা মারাত্মক কঠিন কাজই বটে। সেই কঠিন কাজটা নজীব সবচেয়ে সহজ করেই পাঠকদের জন্য প্রস্তুত করতে পেরেছেন বলে মনে হয়। বইটি যে কারো জন্য উপভোগ্য হবে বলে আশা করি, তবে আরবি জানা বই পড়ুয়াদের জন্য এরকম একটি বই মিস করা উচিত হবে না। আর যারা এখনো আরবি শিখছেন, আরবি ভাষা চর্চার যে কী মজার হতে পারে, তা উপলব্ধি করার জন্য বইটি তাদের অবশ্যপাঠ্য। অন্যরা, অর্থাৎ আরবির সাথে যাদের যোগাযোগ খুব একটা নাই, লেখকের কাঁধে ভর করে সম্পূর্ণ অজানা এক জগৎ ঘুরে আসতে চাইলে তারাও বইটি পড়তে পারেন।
আরবি রস আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব সমকালীন মুদ্রিত মূল্য: ১৮৬ টাকা।
ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে কমবেশি আমরা সবাই আরবি ভাষার সাথে পরিচিত৷ না বুঝেই আমরা অনেকেই আরবি পড়তে শিখেছি৷ বেশ প্রাচীন ও সাহিত্য চর্চায় অগ্রগামী হওয়ায় এই ভাষাটি রসে একেবারে টইটুম্বুর৷ তবে সেই রস আস্বাদন করা সম্ভব কেবল সেই ভাষা আয়ত্বে থাকলেই৷ অবশ্য চেষ্টা থাকলে সর্বসাধারণের বোধগম্য ভাষায় কিছু রস নিংড়ে জনগণকে আস্বাদান করানো সম্ভব৷ সেই কাজটি করেছে আরবি ভাষার শিক্ষার্থী তরুণ কবি আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব৷
একাডেমিক লাইফের পরতে পরতে বিভিন্ন সময় আরবি ভাষার মজার মজার যেই বিষয়গুলো লেখকের চোখে পড়েছে সেগুলো টুকে রেখেছেন তিনি৷ ঘষামাজা করে সেগুলো যথাসাধ্য সাধারণের উপযোগী করে মলাটবদ্ধ করা হয়েছে৷ মোট ১০৬টি রসের টুকরো নিয়ে সাজানো বইটি৷ আরবি কবিতা এবং কবিদের চমৎকার রসবোধের কিছু ঘটনা, শব্দ ও ব্যাকরণের কিছু মজার ব্যাপার, কিছু আরবি প্রবাদ প্রবচনের পেছনের মজার ঘটনা উঠে এসেছে বইটিতে৷ আরবি ভাষা না জানলেও, এমনকি আরবি পড়তে না জানলেও বেশিরভাগ রসই আস্বাদন করা যাবে৷ আরবি জানা থাকলে এবং কিছুটা ব্যাকরণ জানা থাকলে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাওয়া যাবে৷
এতগুলো রস নিয়ে আলাদা করে কিছু বলা সম্ভব নয়৷ তবে দু'একটা রস সংক্ষেপে বলা যেতে পারে৷ একবার এক খলীফা শিকারে লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার পরও এক চাটুকার কবি বলে বসলো 'আহসানতা', যার একটি অর্থ চমৎকার করেছেন৷ আরেকটি অর্থ আপনি দয়া করেছেন৷ খলীফা খেপে যাওয়ায় কবি চাতুরী করে বললেন, তিনি বুঝিয়েছেন খলীফা ইচ্ছে করে শিকারটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করে প্রাণিটিকে দয়া করেছেন! ইংরেজির মতো আরবিতেও আছে homophone. সেটি নিয়ে একটি রস এমন- : why did the wow (و) take a nap? : because it was after noon (ن)! afternoon তথা বিকেলে অনেকেই বিশ্রাম করে৷ অন্যদিকে after noon তথা 'নূন' এর পরে আরবি বর্ণমালায় 'ওয়াও' এর স্থান!
সমালোচনা: ব্যাকরণগত বিষয়গুলো যেমন মারিফা-নাকিরা, রফা-নসব-জার, ইরাব, ইরাবের ফলে পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়গুলো সংক্ষেপে সাধারণ পাঠকদের বুঝিয়ে দেওয়া যেতো৷ দম্মা, ফাতহা, কাসরার পরিবর্তে পেশ, জবর, যের লেখা যেতো৷ অন্তত অর্থটা বলে দিলে ভালো হতো৷ বই এর কোথাও বিষয়টি উল্লেখ করা হয় নি৷ সাধারণ মানুষ সবাই বিষয়টা জানে এরকম আশা করাটা অবান্তর৷
বইটি পড়ে চমৎকার সময় কাটবে৷ বিনোদনের খোরাকের পাশাপাশি শেখারও আছে অনেক কিছু৷ বইয়ের প্রচ্ছদটিও সুন্দর হয়েছে৷ সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত রেটিং পাঁচে চার৷
আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক সেই অনেক আগে থেকে। এ বিষয়ে বাংলায় দুই-তিনটা বই পড়েছি। তবে সেগুলো গতানুগতিক ধাচের ছিল অর্থাৎ আরবি সাহিত্যের পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস বিষয়ক। কিন্তু এটা আলাদা ধাচের। এই বইটা পড়ে আমরা পূর্বেকার মুসলিম আওয়ামদের রসবোধ সম্পর্কে জানতে পারি। ভালো লেগেছে পড়ে। বইটির ২য় খন্ডের জন্য অপেক্ষমাণ।
আরবি ভাষার শব্দবৈচিত্র অনুপাতে বাংলা ভাষাতেও শব্দবৈচিত্র ব্যবহারের চমৎকার নিদর্শন। মন খুলে হাসিয়েছে, হাস্যরস আর কাব্যসাহিত্যের অসাধারণ সন্নিবেশ রয়েছে।
:এই বই কি আরবি ভাষা নিয়ে লেখা? :হ্যাঁ। :এইটা কি আরবি ভাষা শিক্ষার বই? :না।
'আরবি রস একটি মজার বই। তাহলে এটা কি 'সেরা ১০১ জোক্স' ধরণের বই? একদমই না। এই বইয়ে প্রাণখুলে হাসার মতো অনেক গল্প আছে, কিন্তু সেগুলো চটুল হাস্যরসের খোরাক দেওয়ার জন্য না। আরবি ভাষার সৌন্দর্য এবং সাহিত্যরসের সাথে পরিচয় করানো এই বইয়ের প্রধানতম উদ্দ্যেশ্য। না, আরবি ভাষা জানার খুব একটা প্রয়োজন নেই, তবে জানলে হয়ত আরেকটু বেশি উপভোগ করতে পারবেন। তবে পড়া শেষে আরবি ভাষার প্রতি আপনার আগ্রহ নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পাবে। . আরবি খুব মজার ভাষা, সামান্য একটা হরফ বা চিহ্নের পরিবর্তনে অর্থ ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। আরবি ভাষা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন অবিকৃত ভাষা গুলোর মধ্যে একটি। তাই এর সাহিত্য ভান্ডারও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, বাংলা ভাষায় ছন্দ রয়েছে তিন প্রকারের। ১. স্বরবৃত্ত ছন্দ। ২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ। ৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। আর আরবিতে কয় প্রকারের ছন্দ রয়েছে জানেন? প্রায় ২০! . আরবি ভাষা থেকে অন্য কোন ভাষায় অনুবাদ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ, কারন আরবি অনের শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ নেই। আরবিতে উট' শব্দটির প্রায় ৫০০ এর অধিক প্রতিশব্দ আছে! সেই ৫০০ টা শব্দকে আলাদা আলাদা অনুবাদ করার রসদ নিশ্চই আপনার ঝুলিতে নেই। লেখক এবং অনুবাদক আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব এখানে অত্যন্ত সফল। আরবি ভাষা অনুবাদ করা এমনিতেই যেখানে বেশ কঠিন সেখানে হাস্যরস বা প্রচলিত ভাষায় বললে জোক্স অনুবাদ করা আরো অনেক বেশি কঠিন। কারন জোক্সের পাঞ্চলাইন বুঝিয়ে দিতে হলে সেই জোক্স'এর আর সার্থকতা থাকে না। তাছাড়া জোক্স গুলো বোঝার জন্য ঐ ভাষাভাষী মানুষদের সংস্কৃতি বোঝাটাও বেশ জরুরি। এসব তথ্য সংযোজনের ফলে বই ভারাক্রান্ত হয়ে যেতে পারে, কিন্তু এই বইয়ের ক্ষেত্রে এটি মোটেই সত্যি না। . এই বই পাঠের আরেকটি বড় প্রাপ্তি আরবি কবিতার সাথে পরিচিত হওয়া। লেখক মোটামুটি আধুনিক যুগ থেকে শুরু করে একেবারে জাহেলি যুগের কবিতা তুলে এনেছেন এবং সেগুলো সফলভাবে অনুবাদ করেছেন। যদিও অধিকাংশ কবিতা হাস্যরস উদ্রেগকারী, অর্থাৎ খুব একটা সিরিয়াস ধাঁচের না, তবে পড়ে মজা লেগেছে। এবং বলাই বাহুল্য, সিরিয়াস ধাঁচের আরবি কবিতা অনুবাদ করার উদ্দ্যেশে এই বই লেখা হয় নি। . বেশ সুন্দর একটা বই। অনেক ছোট। আরেকটু বড় হলে মন্দ হত না। ২-৩ টা গল্প বুঝতে পারি নি। সেটা আরবি ভাষায় আমার অজ্ঞতার জন্যই। ১০৫ টা গল্পের মধ্যে ২-৩ টা না বুঝতে পারলেই বা ক্ষতি কী ?
বইটি পড়তে ভাল লেগেছে। বেশ মজার কিছু কাহিনী ছিল। পূর্বকার শতাব্দীগুলোর ইসলামী সাম্রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার গল্পগুলো হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। রাজদরবারের নানা অম্লমধুর কাহিনিগুলোও চিত্তাকর্ষক ছিল৷ লেখক প্রচুর পড়েন। লেখনী অনেক উন্নত।
বইটি বেশ ভালো । যারা নতুন আরবি ভাষা শিখছেন বা শিখতে চাইছেন, তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে । আরবি ভাষার মাধুর্য কিছুটা ফুটে উঠেছে এই বইয়ে । তবে আরবি ভাষার অলৌকিকতা ও চমৎকারিত্ব কেবলমাত্র তাদের পক্ষেই পূর্ণ অনুভব করা সম্ভব, যারা এ ভাষায় ভালো দক্ষতা রাখে । আরবি না জানা কাউকে তা বুঝানো আসলে অন্ধ ব্যক্তিকে হাতি চেনানোর মতো । আরবি ভাষায় পারদর্শীরা আশা করি আমার সাথে একমত হবেন ।
আরবি ভাষাটা খুবই মজার!কথায় একটু হেরফের হলেই আলাদা অর্থ হয়ে যায়। উল্টাপাল্টা বলে বসলে মার খাওয়ারও সম্ভাবনা আছে -__- বইটি পড়ার জন্য আরবি ভাষা জানা জরুরী নয়। তবে ২/১ টা গল্প বুঝতে পারি নি, আরবি ভাষা জানি না বলে!
আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে শেষ করতে পারলাম। নামে 'আরবি রস' হলেও এর রস বাংলাতে এসেও ঠেকেছে। শুধু তাই নয়, বরং ইংরিজি রসও খানিকটা এতে আছে। কি জেনেছি সেটা বলতে গেলে লম্বা ফিরিস্তি। তবে এটুকুন বলতে পারি যদি আপনার আরবি ভাষার প্রতি আগ্রহ থেকে থাকে তবে বইটি আপনি পড়তে পারেন।
কবিতা আমার পছন্দের জনরা। এই কবিতা পছন্দ হওয়ার পেছনে যাদের ছন্দগুলোর মোহ মায়া প্রভাব ফেলেছে আমার উপর তাদের অন্যতম নজীব ভাইয়া। তারউপর বইটি তার ব্যক্তিগত সংকলনের অংশ বিশেষ। এটির ২য় পার্ট ও বাজারে আছে। এইসব বলার পেছনের হেতু হলো, এই বইতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আরবি কবিতার নজীবানুবাদ আছে। আর সে জিনিস বড় মোলায়েম, উমদা আর উৎকৃষ্ট হজমীয় খাদ্য।
২য় পার্ট পড়ার আগ্রহ রেখে শেষ করলাম এই লেখা। মুলত রেটিং দিতাম ৪.৫। কিন্তু সিস্টেম জানা না থাকায় ৫এ৫ দিলাম।
প্রতিটি সাহিত্যের মধ্যেই নিজস্ব কিছু মজাদার রস লুকিয়ে রয়েছে, আমাদের বাংলা সাহিত্যেও প্রচুর আছে। তেমনই আরবী সাহিত্যে কত অসাধারণ রস লুকিয়ে রয়েছে, সেই নিয়েই এই বইটি। খুবই মজাদার, পুরো বই জুড়ে শুধু হেসেই গিয়েছি।
যাদের মন খারাপ, একটু মন খুলে হাসতে চান, নির্দ্বিধায় বইটা পড়তে শুরু করেন। এই রস আস্বাদন করার জন্য আরবী জানতেই হবে এমন কোনো ব্যাপার নেই, সো চাপ মুক্ত হয়ে পড়তে থাকুন, আর হাসতে থাকুন।