১৯৪৯ সালে পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বিউটি বোর্ডিং। সাত দশকে একটি খাবারের রেস্তোরাঁ এবং ছোটখাটো আবাসিক হোটেল কী করে দেশের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে তার সাক্ষ্য ধরা রইল এই বইয়ে। বিউটি বোর্ডিংয়ের আড্ডাবাজরা ক্রমে পরিণত হয়েছেন বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিজগতের বিশিষ্টজনে। তাঁরা যেমন এখানে বসে তাঁদের সৃষ্টিশীলতার পরিসর তৈরি করেছেন তেমনি তাঁদের নিজ নিজ সৃষ্টিতে ভাস্বর হয়েছে বিউটি বোর্ডিংও। এমনই কিছু কবিতা ও গদ্যের সংকলন এই বই, যেখানে পাঠক পাবেন হারানো এক সোনালি সময়ের উজ্জ্বল উদ্ধার এবং পড়তে পড়তে আনমনে গেয়ে উঠবেন ‘বিউটি বোর্ডিংয়ের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই...’।
কবিতাগুলো ভালো লেগেছে। সবথেকে ভালো লেগেছে আল মাহমুদের কবিতা বিউটি বোর্ডিং কয়েকটি নাম। সবগুলো স্মৃতিচারণে ঘুরে ফিরে এক কথাই এসেছে। খুব অল্প পরিমাণেই নতুন কথা ছিল।
আহামরি কিছু নাই এই বইয়ে, সবার স্মৃতিচারণাতেই ঘুরে ফিরে একই কথা, আর শহীদ কাদরির কথা বারবার এসেছে। শহীদ কাদরি ভক্তরা পড়তে পারেন, জানতে পারবেন কিভাবে তিনি বিউটি বোর্ডিংয়ের আড্ডা টা শুরু করেছিলেন।
আর প্রতিভা সাহার চ্যাপ্টারটা আমার বেশ মনে ধরেছে, অন্যদের মতো মোটেই কাঠখোট্টা মনে হয়নি। ওনার স্বামীর মৃত্যুটা হয়েছিল পাকিস্তানি নরপশুদের হাতে, আর তখন তিনি আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এই বইটা নিয়ে আমার প্রত্যাশা বেশি ছিল, সেটা পূরণ হয়নি একবারেই। স্মৃতিচারণা পড়ে যদি নস্টালজিক না হই, সেই স্মৃতিচারণা ভালো হয়নি বলতে হয়।
অক্ষয় মালবেরি বইটা পড়ে দেখি এই একটা সমস্যায় পড়লাম, সব বইতে ওইটা পড়ার মতো অনুভূতি পেতে চাই। সমস্যা! সমস্যা! সমস্যা!
জোড়াতালি দেওয়া বই। কবিতাগুলো আর সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতিকথার অংশটা দুর্দান্ত। বাকি স্মৃতিকথাগুলোতে যতটা না বিউটি বোর্ডিং এসেছে তার চেয়ে বেশি হয়েছে নিজের ঢোল নিজে বাজানো।
কফি হাউজের আড্ডাটা গানটি তো আমরা অনেকই শুনেছি।তবে বিউটি বোডিংয়ের সেই আড্ডাটা যে কি নিদারুণ ছিল তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না।
১৯৪৯ সালে পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বিউটি বোর্ডিং। প্রায় সাত দশকে একটি খাবারের রেস্তোরাঁ এবং ছোটখাটো আবাসিক হোটেল কি করে দেশের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল তার অন্যতম সাক্ষ্য বহন করে এই বিউটি বোর্ডিং। এই বোর্ডিং এ চায়ের কাপে কাপে কত কবিতা সাহিত্য রচনা হয়েছে তার ইতিহাস এক নিদারুণ ঐতিহ্য বহন করে। কখনো কি কেউ ভেবেছিল এখানে আড্ডা দেওয়া মানুষ গুলোর মাঝেই ছিল বিশিষ্ট লেখক আহমদ ছফা, শামসুর রহমান,সৈয়দ শামসুল হকের মতো বিশিষ্ট মানুষেরা। যাদের কলমের খোঁচায় আমাদের সাহিত্য হয়েছে সমৃদ্ধ! এই আড্ডার আসরের চায়ের কাপে মিশেছেন কবি সাহিত্যিকরা,আর রচনা করেছেন তাদের অসামান্য সব কীর্তি। যার চুমুক নিচ্ছি আমরা পাঠকরা! কতোটা দারুণ ছিল সেই ইতিহাস তাঁরা যেমন এখানে বসে তাদের সৃষ্টিশীলতার পরিসর ঘটিয়েছেন ঠিক তেমনি তাদের নিজ সৃষ্টিতে ভাস্বর হয়েছে আছে এখনো এই বিউটি বোর্ডিং।এমনি কিছু কবিতা ও গদ্যের সংকলন এই বই। তবে বলতে হয়,'বিউটি বোডিং তার অবস্থান জুড়ে এখনো তার কাঠামো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আজ রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি!আজ আর সেই বিউটি বোর্ডিং আড্ডাটা নেই......