Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
বইমেলা ২০২১ এর জাফর ইকবাল স্যারের বই। ছোটদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি মায়া জাগিয়ে তুলতে উপযোগী বিষয় নিয়ে এডভেঞ্চার ধরনের গল্প লেখা। একটু অতিমানবীয়/সুপারহিরো টাইপের ব্যাপার স্যাপার ও রয়েছে। স্কুলে ২/৩/৪ ক্লাশে হাতে পেলে পুরো মজাটা নেয়া যেতো হয়তো। স্কুল পড়ুয়াদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড। ভাল কথা, প্রচ্ছদটা কালার কম্বিনেশন সহ আকা মিলিয়ে খুবই সুন্দর লেগেছে, প্রচ্ছদে ৫ তারা।
যেই বয়সের পাঠকদের জন্য বইটা লেখা তাদের অবশ্যই ভালো লাগবে। আমারো অনেক ভালো লেগেছে। এই বইটা নিয়ে সবার এত হতাশার কারণ কি জানিনা। সবার নাকি একঘেয়ে লেগেছে। ঘুরে ফিরে একই কাহিনী। আমার বয়সী কারো জন্য, যাদের জাফর স্যার এর অনেক বই পড়া আছে, বা অনেক ধরণের বই পড়া আছে তাদের জন্য এটা একঘেয়ে লাগা অস্বাভাবিক না। কিন্তু যাদের জন্য বইটা লেখা তাদের জন্য যথেষ্ট উপভোগ্য হওয়ার কথা। কারণ তাদের জীবনে এখনো অনেক বই পড়া নাই এবং এই টাইপের বইগুলা পড়েই কিন্তু আমাদের ওই বয়সে পড়ার নেশা হয়েছিল। ২০/২৫/৩০ বছর বয়সে কারো একদম বাচ্চাদের ক্যান্ডি ভালো না লাগতে পারে, কিন্তু বাচ্চাদের জিনিস তাদের ভালো লাগলো কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
তবে এটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি না। ফ্যান্টাসি বলা যায়।
বাচ্চা একটি মেয়ে পশুপাখির সঙ্গে কথা বলতে পারে, তাকে নিয়েই এই বই। প্লট হিসেবে তেমন নতুন কিছু নয়, কিন্তু মুহম্মদ জাফর ইকবালের জাদুকরি লেখনীর গুণে সত্যিই হয়ে উঠেছে অনবদ্য। বেশ ভাল লেগেছে বইটি। কাগজ, ছাপা, বাঁধাই সবকিছুতেই যত্নের ছাপ ছিল। আরাফাত করিমের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণও অত্যন্ত মনোরম। অভিযোগ একটাই - সায়েন্স ফিকশন বলতে যা বোঝায়, তার ছিটেফোঁটা না থাকা সত্ত্বেও বইয়ের ওপর বড় করে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি তকমা বসিয়ে দেয়া। বইয়ের কাটতি বাড়াবার এই খোঁড়া কৌশল প্রকাশক আগেও প্রয়োগ করেছেন, এবারও করলেন। কারণটা বুঝতে আমি অক্ষম। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি না লিখে দিলে কি জাফর ইকবালের বই চলে না?
২.৫ তারা। চলে যায় আর কি যারা আমরা দুর্দান্ত লেখা পড়েছি স্যার এর তাদের কাছে। নতুন পাঠকদের কাছে বোধয় ভালই লাগবে। শুধু বুঝলাম না, ল্যাব এর মতো কয়েকটা হিজবিজ জিনিস শেষ কয়েক পাতায় এনে এটাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ট্যাগ দিলো কেন? এই ট্যাগ ছাড়া কি স্যারের বইই বিক্রি হয় না? যে কিশোর কিশোরীটি প্রথম সায়েন্স ফিকশন এর বই পড়ছে ভেবে এই বইটা পড়বে, সে কি একটা ভুল ধারণা নিয়ে অনেকদিন ঘুরবেনা সবার মাঝে? ছোট জিনিস তাও কিন্তু ছোট না!
মুজাই এর নতুন বই পড়া হয় না অনেকদিন। খুব একটা আশা নিয়ে পড়ি না। খুব একটা ভালো লাগছে তাও না। তবে ১০-১২ বছরের বাচ্চাদের জন্য লেখা বই। ওরা পড়ে ঠিকই মজা পাবে। বুড়া বয়সে এই বই পড়ে মজা পাওয়ার আশা করাটাই বৃথা।
উপন্যাসের মূল চরিত্র ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমি যখন স্যারের লেখায় বুঁদ হতে শিখছি সবে, তখন ক্লাস থ্রিতে পড়তাম। স্যারের উপন্যাসের চরিত্ররা তখন সব হাইস্কুলের সায়েন্স প্রোজেক্টে ভেলকি দেখানো লোকজন। মনে আছে, খালি ভাবতাম, কবে ক্লাস সেভেনে উঠব! বড় হয়ে যাব এদের মতো! এখন, যেমন তাঁর নতুন বেশিরভাগ চরিত্রই ক্লাস ওয়ান বা বড়জোর ক্লাস ফোর ফাইভে পড়ে। এখন আবার পড়ে মনে হয়, ইশ, যদি আবার এদের সমান হয়ে যেতে পারতাম! জীবন কতো সহজ আর মজার হয়ে যেতো!
আমার মুজাইয়ের নতুন পাঠকদের খুব হিংসা হয়। কারন, স্যার যা বুঝলাম, হাই স্কুলের পাঠকদের জন্য অনেক লিখে এখন আরো কম বয়সেই যাতে কেউ পাঠক হয়ে যায়, সেদিকে মনোযোগ দিয়েছেন। আমার সময়ে এদের কথা ভেবে লিখতেন না বলেই, এই হিংসা! আগেও কোন এক রিভিউতেই লিখেছিলাম, যে না, যারা আমরা স্যারের বই পড়ে পাঠক হয়েছি, তাদের অভিযোগ নিয়ে তিনি ভাবিত হয়ে তাদেরকে, অর্থাৎ আমাদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে লিখছেন না। তিনি লিখেছেন, লিখেন এবং আমি জানি সবসময়ে নতুন নতুন পাঠক তৈরি করতেই লিখবেন। আর একারনেই, এরকম একটা অতুলনীয় উদ্দেশ্যের জন্যই তিনি বাংলাদেশের এই মুহুর্তে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে জরুরী লেখক। যাঁর পান্ডিত্য নিয়ে জনমনে সন্দেহ নেই, তিনিই মনে হয় পারেন তা ফলাতে এতো অনিচ্ছুক হতে। আর আমার ধারণা, তাই তিনি ‘স্যার আগের মতো লিখেন না’ এরকম কথার বিপরীতে পুরোপুরি নির্বিকার।
‘বন বালিকা’ এ বালিকার নাম মিতুল। সে পশুপাখিদের কথা বোঝে আর তাদের সাথে সেও কথা বলে। সে আর তার মা থাকে সুন্দরবনের কাছেই এক গ্রামে। উপন্যাসে পশুপাখিদের ভাষার উপর যে খুব দখল, এমনটি স্যার দেখান নি। বরং, এখানে পশুপাখিরা অনেক সরল ও শিশুদের মতোই আধো আধো বুলিতে কথা বলে, এটাই আমরা দেখি। ওদিকে মিতুলের বাবা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল হাজত খাটছেন। এসব ঝামেলার মধ্যে অভাবের সংসারে মিতুলকে নিয়েও তার মায়ের অনেক ভয়। কারন, সে যে পশুপাখিদের সাথে কথা-টথা বলে, এ বিষয়টি ফাঁস হলে মেয়েটা যে বিপদে পড়বে। ঘটনাক্রমে, দুই ধরনের লোভী মানুষদের কাছে মিতুলের এই গুন প্রকাশ পেয়ে যায়। এরপর কি হয়, তা নিয়েই গল্পের বাকিটা এগোয়। গরুর লড়াইয়ের অংশটা পড়ে মজা পেয়েছি। এক বাঘের সাথে মিতুলের দোস্তির কারনে শেষটাও খুব সুন্দর মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে ছোটদের জন্য তাদের ছোটবেলা স্মরনীয় করে রাখার মতো একটা বই পড়ে শেষ করেছি, মনে হল।
সাদা চামড়ার লোকেদের প্রতি আমাদের দরকারের চেয়ে বেশি শ্রদ্ধা। সেটা যে নিজেদের নিয়ে হীনমন্যতা থেকেই আসে, সেই বিষয়টি ঘটনার ফাঁকে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন এখানে আমার প্রিয় লেখক। আর ছোট একটা মানুষকে তিনি বড়দের লোভ লালসার মাঝে ছেড়ে দিয়ে এও দেখান যে আসলে, সহজ মনের ছোট মানুষগুলোর সাথে মেশার যোগ্যতা চারপেয়ে প্রানী আর পাখাওয়ালাদেরই বেশি! কারন, আমরা বড় হয়ে তো সহজ কিছুর প্রতি আর আকৃষ্ট হই না, আর আরো বড় হতে চেয়ে মিতুলদের সাথেও আর মিশতে পারি না। এদিকে অবলা প্রাণীরা শুধু যে এখানে মিতুলের বন্ধু হয় তা না, তার ত্রাতাও হয়।
এদিকে, দেখতে তো পাচ্ছি সবাই যে মানুষের প্রতি মানুষের দয়ামায়া যেমন কমছে, তেমনি কমছে পশুপাখির প্রতি। সেদিন এক কাছের মানুষ দুদিন গায়েব ছিল, ফোন ধরে না। পরে শুনলাম, রাস্তার যেই বিড়ালটাকে মাঝে মাঝে খেতে দিত, কে বা কারা তার পা গুলো কেটে দেওয়ায় সে দুই দিন তাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। শুনে মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দ্বিগুন হয়ে গিয়েছিল সেদিন। আবার এক বন্ধুর বাচ্চার বয়েস এখনো এক হয় নি, সে তার মাকে পাগল বানিয়ে দেয় বাসার সামনে আসা কুকুরকে একটু বিস্কুটা দেবার জন্য। বন্ধু সেটি করলেই বাচ্চা শান্ত হয়। এই যে ছোট মানুষটাকে পশুপাখির প্রতি ভালোবাসায় উৎসাহিত করা হচ্ছে, এতে আশা করা যায় যে কোনদিন সে অন্তত ‘বন বালিকা’ এর ভিলেনের মতো কাক মেরে বসবে না বা বাস্তবের অচেনা অসভ্য কোন লোকের মতো বিড়ালের পা কেটে বসবে না। আর সেই বোধ তৈরির দায়িত্ব থেকেই সুন্দর এই উপন্যাসটা লেখা। হ্যা, ছোট একটা মানুষ বইটি পড়লে তার মধ্যে পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে, আমাদের যেমন, ‘বকুলাপ্পু’ পড়ে হয়েছিল।
এই বই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নয়। যেমন, ‘প্রোজেক্ট আকাশলীন’ও ছিল না। কেন স্যারের বইগুলোর মলাটে বারবার এই কথা লিখছে ‘তাম্রলিপি’ আমি আসলে বুঝতে পারছি না। বই তো ওনার এমনিও বিক্রি হয়। এরকম সম্ভাব্য পাঠককে ভুল পথে নিয়ে কয়টা বই বেশি বিক্রি করার ইচ্ছা থেকে এই প্রকাশনী বের হয়ে আসলে তাদের লজ্জায় পড়তে হয় না। লেখক হিসেবে মুজাইকে আরেকটু সম্মান দেখাতে এদের এতো অনীহা কেন কে জানে।
আমি মনে প্রাণে চাই, স্যার এখন যেভাবে লিখছেন, সেভাবেই লিখতে থাকুক। আমাদের জন্য তো অনেক লিখেছেন। যাদের জন্য লেখার কেউ নাই, যাদের উপর আমরা সুযোগ পেলেই নানা কিছু চাপিয়ে দেই ও যাদেরকে মারধর করে ‘বাচ্চা শাসন করা’ দেখাই, তাদের জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো লেখকদের একজন সমানে লিখে যাচ্ছেন, এটা ভাবলে পাঠক হিসেবে নিজেকে নিয়ে একটা তৃপ্তি আসে। আর আমি এই তৃপ্তি স্যারের আগামী সব বই পড়েও পেতে চাই। আমি চাই না স্যার ‘আগের মতো ভালো’ লিখুক।
২.৫/৫ নতুনত্ব নেই।যারা নতুন পাঠক তারা খুব মজা পাবে কিন্তু আমার মতো পুরনো পাঠক,যারা লেখকের প্রতিটা বই তুমুল আগ্রহ নিয়ে পড়েছে,তাদের জন্য বইটা হতাশাজনক (এবং বইটা কোনো অর্থেই বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নয়।)
বইখানা যেই বয়সের পাঠকদের জন্য লেখা হয়েছে, তারা কি অাদৌ পড়বে?! তারা পড়ার সময় বের না করতে পারলে আমাদের কি! বয়সের হিসাব মাথা থেকে সরিয়ে, অগঠনমূলক-বেফাঁস মন্তব্য করার সময় আমাদের সবসময়ই থাকে!
প্রথমেই বলে রাখি প্রকাশক কেন এই বইটাকে কেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হিসেবে প্রচার করছে তা বোধগম্য হল না। এটা মোটেও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নয় বরং ফ্যান্টসি/ সুপারহিরো/ কিশোর উপন্যাস ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। মিতুল নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে পশুপাখিদের সাথে কথা বলতে পারে, তার বাবা বিনা অপরাধে জেলে। এজন্য তাকে স্কুলে বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। এই পর্যন্ত কাহিনী ঠিকঠাক ছিল। মিতুলের সামাজিক হেনস্থা, মিতুলের মা রাহেলার একা বেঁচে থাকা আর মেয়েকে বড় করার সংগ্রাম, এর মধ্যে মেয়ের আজব ক্ষমতা, মিতুলের সাথে তার বাবার জেলে দেখা করার অভিনব পদ্ধতি, এই সবটুকু খুবই মন ছুঁয়ে যাবার মত। বিশেষ করে যখন এই রূঢ বাস্তবতা এক ছয় বছরের মেয়ের জবানীতে দেখানো হয়। অনেকটা ছোটবেলায় পড়া জাফর ইকবাল স্যারের বইগুলির মত আমেজ পাচ্ছিলাম। ফাঁকে বলে রাখি, জাফর ইকবাল স্যার ছোটবেলা থেকে আমার খুব প্রিয় লেখক, বিশেষ করে উনার সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ১ম এবং ২য় খন্ড যে কয়বার পড়েছি তার হিসেব নেই। কিন্ত গত কয়েক বছর ধরে উনার লেখাগুলি কেমন যেন ফর্মূলায় ফেলা মনে হচ্ছিল, সেই আগের স্বাদটাই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এবারের বইটা পড়ে আশা করছিলাম যে আগের সেই আমেজটা বুঝি আবার ফিরে আসছে, কিন্তু না, ৭০ পাতার পরেই আবার সেই আগের ফর্মূলায় চলে গেল। মিতুলের ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে গ্রামের জব্বার মেম্বার, সে মিতুলকে অপহরন করে আমেরিকায় বেচে দেবার ফন্দি করে। কিন্তু মিতুল তার পশু বন্ধুদের সাহায়্যে সুন্দরবনে পালিয়ে যায় এবং বাঘের সাথে বন্ধুত্ব করে, কিন্তু তাকে দেখে ফেলে কিছু বিদেশী এবং তাকে নিয়ে গবেষনার প্ল্যান করে। কি এটুকু পরিচিত মনে হচ্ছে না? হ্যাঁ, এখান থেকে ফর্মূলায় চলে যাওয়া শুরু। এর আগে মিতুলের যে শিশুসুলভ আচরন ছিল, এবারে এসে তা উধাও। তাই এতক্ষন কাহিনি কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য লাগলেও এরপরে আর বইটা ভাল লাগার দিকগুলি হারায়। ক্ল্যাইম্যাক্সটাও গতানুগতিক। সম্ভবত বইটা ৮-১০ বছর বয়সীরা, যারা প্রথমবার জাফর ইকবাল স্যারের বই পড়ছে, তাদের ভাল লাগবে। কিন্তু যারা আগেই উনার কপোট্রনিক সুখদুঃখ, ক্রুগো, ট্রাইট্রন একটি গ্রহের নাম, টুকুনজিল, প্রজেক্ট নেবুলা, ফোবিয়ানের যাত্রী্... ইত্যাদি মাস্টারপিস পড়েছেন, তারা হতাশ হবেন।
অনেক বছর মুহম্মদ জাফর ইকবালের কোনো বই পড়া হয়নি। এবার বেশ উৎসাহ নিয়ে বইটা পড়লাম। বন বালিকাকে অনেকটা মোগলি'র বাংলাদেশী রূপ বলা যেতে পারে। খুব সুন্দর প্রচ্ছদ আর খুবই সাধারণ একটা গল্প। বেশ ভালোই লেগেছে।
কিশোর উপন্যাস বলাই ভালো। কেবল ছোট একটি মেয়ের পশু-পাখির সাথে কথা বলার বিষয়টি, যার কোন রকম স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়া নেই, তাকে সাইন্স ফিকশন বলাটা ঠিক হবে না। বরং কিশোর উপন্যাস হিসেবেই যুতসই বইটি। রূপকের আড়ালে মোট ৪টি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে বইটিতে। পশু-পাখির প্রতি সহনশীলতা এবং গাছগাছালি-বনজঙ্গলের গুরুত্ব প্রথমটি। পরেরটিতে এসেছে নিরপরাধী ব্যক্তির জেলে যাওয়ার মতো কুৎসিত অপরাধের বাস্তব দিকটি। তৃতীয়ত, এখনো যে ব্রিটিশ বা সাদা চামড়া দেখলেই চামচামির স্বভাব থাকে কিছু মানুষের, সেটা মনে করিয়ে দেয়ার একটা চেষ্টা। আর চতুর্থত, যেটি লেখকের প্রায় সব উপন্যাসেই উপস্থিত, একটি সুন্দর মানবিকতাবোধ। কাহিনীটি একরৈখিক, একটু শিশুসুলভ। ৬ বছরের একটি মেয়ের এহেন কাহিনী অনেকটাই অবাস্তব। গোটা ঘটনাই যেখানে অবাস্তব সেখানে আর এই বিষয়টিকে আলাদা করে বলেই বা লাভ কী!
এবারের বই মেলার প্রথম বই, মেলা শুরু হবার একদিন আগে :) কোভিড মহামারী র শঙ্কায় অমর ২১ শে বইমেলা নানান অনিশ্চয়তা পার করে এই প্রথম বারের মত ফেব্রুয়ারিতে না হয়ে মার্চে হতে যাচ্ছে। তাই বইখানায় ফেব্রুয়ারিতে ছাপানো র তারিখ থাকলেও আসলে বই বাজারে এসছে আজ আর কাল থেকে পাওয়া যাবে বইমেলাতেও! যাহোক, অনেক দিন পর জাফর ইকবাল স্যারের লেখা একটা শিশুতোষ বই পড়লাম। নৈতিকতার দারূণ কিছু বিষয় আছে, প্রকৃতির প্রতি, অবলা (!) প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা আছে সাথে বিনা কারণে পুলিশ এক নিরপরাধ ব্যাক্তিকে ৬ বছর বিনা বিচারে জেলে ভরে রেখেছে সেই বাস্তবতাও আছে! স্কুল পড়ুয়া গল্প পাঠক চাইলে পরে ৫ এ ৫'ও দিয়ে দিতে পারে!!
তবে প্রথম এডিশনে নানান জায়াগায় তাড়াহুড়ো র ছাপ প্রবল ছিল। তাতে করে " হে খোদা "... " হেই খোদা" হয়ে গেছে, একাধিক জায়গায় বাক্য শেষে দাড়ির বদলে প্রশ্ন বোধক চিহ্ন বসানো হয়ে গিয়েছে। তবে এসব কিছু ছাপিয়েও গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে 'মিতুলে'র বয়েস ৬ বছর ৪ মাস। যেটা বিভিন্ন সময়ে মিতুলের নানান কর্মকাণ্ড এবং কথাবার্তার সময় রীতিমতো বেমানান লেগেছে!!
আমার মাঝে মাঝে দুঃখ লাগে কেন জাফর ইকবাল আমাদের ছোটবেলায় লেখালেখি করতো না। আপনার বাচ্চাদের এই বইটা কিনে দিতে পারেন। আপনার বাচ্চাকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলুন।
শুধুমাত্র প্রকৃতি, প্লট, ভিন্ন কিন্তু স্টোরিলাইন আর টুইস্ট একই... পড়তে পড়তে মনে হয়েছে জাফর ইকবাল স্যারের 'প্রডিজি' পড়ছি... তবে ছোটদের জন্য ভালো একটি বই...
ছয় বছর আগে আফজালকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। বেচারা তখনও জানত না যে, মিথ্যা মামলার কবলে আটকা পড়তে চলেছে সে! এগিয়ে চলে সময়, আফজালের মুক্তির খবর আসে না আর।
এদিকে মিতুলকে নিয়ে শুরু হয় আফজালের স্ত্রী, রাহেলার নতুন করে বাঁচার লড়াই। ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে দারুণ বিপাকে পড়ে যায় রাহেলা। কারণ? কারণটা ঠিকঠাক জানতে হলে আবারও ফিরে যেতে হবে ছয় বছর আগে। সেবার বিস্ময়কর এক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছিল রাহেলা; যার ফলে মিতুলের পরবর্তী জীবনটা বদলে গিয়েছিল অদ্ভুতভাবে। এবং মিতুল নিজের মধ্যে আবিষ্কার করেছিল, পশুপাখির ভাষা বোঝার মতো চমকপ্রদ এক তথ্য! হ্যাঁ; আমরা যা বুঝি না - মিতুল তাই বোঝে। আমরা যা পারি না, মিতুল তাই পারে। আকাশের পাখি থেকে শুরু করে বনের বাঘ - মিতুল সবার ভাষা জানে। সুন্দর না?
সত্যিই সুন্দর! কিন্তু সুন্দর এই ব্যাপারটাকে অনেকেই আবার সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারপর? তারপর মিতুলের জীবনে বিপদ এসেছে নতুন নতুন মোড়কে। ছোট্ট মিতুল কিন্তু ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসেনি। পশুপাখি বন্ধুদের সহায়তা এবং নিজের উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিহত করেছে সকল ধরনের বিপদ! এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়; যাদের আমরা পশুপাখি বলি, তারা-ই মিতুলের বন্ধু! হ্যাঁ; প্রকৃতি তাকে বন্ধু হিসেবে স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে প্রকৃতির এই স্বীকৃতিকে বাকি সবাই “বনবিবি” হিসেবে অভিহিত করে। এবং মিতুল হয়ে ওঠে বন বালিকা!
“বনবিবি বনবিবি প্রণাম জানাই তুমি বিনা আমাদের রক্ষা নাই।”
ঘটনাক্রমে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়ায়; যার ফলে বনের মাঝে পশুপাখি বন্ধুদের নিয়ে দিন কাটাতে শুরু করে বন বালিকা, মিতুল। এবং মিতুল জানতে পারে, মানুষের হিংস্রতার পরিমাণ বনের পশুর চেয়েও অনেক গুণ বেশি! এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে; মিতুল কি পারবে হিংস্র মানুষদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে? তাছাড়া নির্দোষ আফজালকে জেল থেকে মুক্ত করে এই গল্পকে সুন্দর একটা সমাপ্তি উপহার দিতে পারবে কি ছোট্ট মিতুল?
▪︎পর্যালোচনা :
আমরা এখন মানবসভ্যতার ভয়াবহ এক পর্যায়ে এসে উপস্থিত হয়েছি। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাব অদূর ভবিষ্যতে আমাদের কোন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে; সেই ব্যাপারে এই মুহূর্ত থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। মূলত এই দুর্দিনে টিকে থাকতে চাইলে ফিরে যেতে হবে বনের কাছে। ছাঁয়া ঢাকা সুশীতল গাছের তলায় খুঁজে নিতে হবে নির্ভরতার আশ্রয়। তীব্র দাবদাহে শুকিয়ে যাওয়া ভূমিকে আবারও সবুজ করে তুলতে হবে। এবং গাছ লাগাতে হবে। প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে।
ভাবছেন; পর্যালোচনা অংশের শুরুতে কেন গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং সবুজায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরলাম? কারণ সবুজায়ন তথা বনের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলার জন্য “বন বালিকা” শীর্ষক এই বইটাকে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। বইয়ের পাতায় ছোট্ট মিতুলের সাথে প্রকৃতির বন্ধুত্ব তৈরির যে চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লেখক, সেটাকে আগত গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিহত করার ঠিকঠাক পন্থা হিসেবে অভিহিত করলে ভুল হবে না। এদিক দিয়ে সাম্প্রতিক প্রবণতা সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে সুন্দর একটা বার্তা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে “বন বালিকা” যথেষ্ট কার্যকর।
কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়; “বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী” হিসেবে চিহ্নিত এই বইটার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সায়েন্স রিলেটেড টার্মের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা! দূরবীনের ব্যবহার, আলট্রা সাউন্ড, মনিটরিং ডিভাইসের মতো টুকটাক টেকনোলজি বিষয়ক আলাপ ছাড়া কিছুই সেভাবে চোখে পড়েনি; যার কারণে বইটাকে “বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী” হিসেবে অভিহিত করা যায়। কাজেই সাইফাই ঘরানার বইয়ের মজা পাওয়ার উদ্দেশ্যে “বন বালিকা” বেছে নিতে চাইলে খানিকটা নিরাশ হতে হবে। তাই বলে বইটা যে উপভোগ্য নয়, সেটা বললেও খুব ভুল হয়ে যাবে!
কিশোরপাঠ্য উপন্যাস হিসেবে “বন বালিকা” অবশ্যই উপভোগ্য। অ্যাডভেঞ্চার আর ফ্যান্টাসির মিশেলে এখানে যে গল্পটা বলার চেষ্টা করেছেন লেখক, সেটা কমবেশি সবার-ই পড়তে ভালো লাগবে। কেন্দ্রীয় চরিত্র; মিতুলসহ গল্পের প্রয়োজনে আসা অন্যান্য চরিত্রগুলোর নির্মাণ অসাধারণ।
তাছাড়া লেখকের দুর্দান্ত স্টোরিটেলিং তো আছেই। হ্যাঁ; “বন বালিকা” বইয়ের গল্প বলার ধরনটা খুব সুন্দর। কিশোরপাঠ্য উপন্যাস হলেও বড়দের পড়তে খারাপ লাগার কথা না। ভেতরের পাতার ইলাস্ট্রেশনটা মন কেড়েছে আলাদাভাবে। তবে এত কিছুর পরও; গোড়ায় গলদের কথা ভুলে গেলে চলবে না! জনরা নির্বাচনে সচেতন হতে হবে!
[ একনজরে বইয়ের তথ্য ]
▪︎ বইয়ের নাম : বন বালিকা ▪︎ লেখকের নাম : মুহম্মদ জাফর ইকবাল ▪︎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম : তাম্রলিপি ▪︎ প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম ▪︎ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬০ ▪︎ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা
গল্পটি একটি মিষ্টি মেয়ের, নাম তার মিতুল। ৬ বছর বয়সী মেয়েটি তার লম্বা চুলে মোটা মোটা বেণী করে গ্রামের সাধারণ স্কুলে যায়। মিতুলের বাবা আফজাল এক মিথ্যা মামলায় ৬ বছর ধরে জেল খাটছে। মিতুলের আম্মু রাহেলা নিজের মেয়েকে আড়াল করে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করে। মিতুল স্কুলের পথে হাঁটা দেয় নিজের বন্ধুদের জন্যে ব্যাগ ভর্তি খাবার নিয়ে। গ্রামের সকল গরু - ছাগল - হাঁস - মুরগির সাথে বন্ধুত্ব আছে মিতুলের। এমনকি মিতুলের বাড়ির পিছনের জঙ্গল মতো জায়াগার পাখিরাও মিতুলের সাথী। মিতুলের পোষা পাখি কে তা জানলে যে কেউ হতবাক হবে। মিতুল একটা বুদ্ধিমান কাককে পোষ মানাতে পেরেছে! সেই কাক এক - দুই - তিন গুণতে পারে।গ্রামের সকলে ভাবে মিতুল খাবার দেয় তাই মিতুলের সঙ্গে ভাব করে প্রাণীরা। কিন্তু আসল সত্য মিতুল আর রাহেলা ছাড়া আর কেউ জানে না। মিতুল যে পশু - পাখিদের কথা বুঝতে পারে আবার তাদের ভাষায় কথাও বলতে পারে। রাহেলা জানে যে তার মেয়ের এই আচানক ক্ষমতা সম্পর্কে বাকিরা জানলে খারাপ বৈকী ভালো কিছু হবে না। মিতুল পশু- পাখিদের সাথে "শব্দহীন শব্দে" কথা বলে। এই আলট্রাসনিক আওয়াজ গুলো কেবল মিতুল আর তার বন্ধুরাই শুধু শুনতে পায়। কিন্তু একদিন রাহেলার ভয়টাই সত্যি হয়। মিতুলের অদ্ভূত ক্ষমতার কথা জানাজানি হয়ে যায়। মিতুলের জীবনে অতর্কিত এক ঝড় নেমে আসে। এই ছোট্ট বয়সেও মিতুল বুদ্ধি খাটিয়ে বুজদার বড় মানুষের মত জব্বার মেম্বার,জন মাইজনার আর ডাইনি বুড়ি সুজানকে শায়েস্তা করেছিল। মিতুলের দারুণ সব কীর্তিকলাপ নিয়ে লেখা "বনবালিকা"।
"বনবালিকা" মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা একটি বৈজ্ঞানীক কল্পকাহিনী। নামেই যেনো বইটার পরিচয়। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও কিন্তু বইটিতে বৈজ্ঞানিক কোনো জটিলতা নেই।
গল্পের এক পর্যায় বুঝা যায় যে পশু - পাখিরা সরল মনে বিচার করে মানুষদের আর তাদের বন্ধু অন্ত প্রাণ। মিতুলের বিশ্বাস সে সুন্দরবনে সুরক্ষিত থাকবে তার বন্ধুদের সঙ্গে। এই কথা যখন মিতুল নিজের মা কে জানায় তখন রাহেলা অবাক হয়ে বলে, "তোকে সুন্দরবন রেখে যাব? জঙ্গলে রেখে যাব?" আর মিতুল উত্তরে বলে, "এটা জঙ্গল না আম্মু। এটা আমার আসল বাড়ি।"
"বনবালিকা" শুধুই মিতুলের গল্প কিংবা প্রকৃতি প্রেমীদের আবদার না। বইটি আমাদের মতো মানুষদের জানতে - অজান্তে করা নির্দয়- নিষ্ঠুর আচরণ গুলোর দলিল।
এই বছর বইমেলা থেকে যেসব বই সংগ্রহ করেছি এবং পড়েছি সেসবের বেশীর ভাগই ছিল তরুণ লেখকের বই৷ সে হিসেবে জাফর ইকবাল স্যারের এই বইটির প্রতি ছিল অগাধ প্রত্যাশা৷ কিন্তু বিশ্বাস করুন, পঠিত সবগুলো বইই আমার কাছে বেশ বেশ ভালো লেগেছে, নবাগত ও তরুণ লেখকদের। সে হিসেবে আমি সত্যিই হতাশ শৈশবের প্রিয় লেখকের এই বইটিতে৷
ফার্স্টলি, জনরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি? হাউ? মানে কিভাবে? কম করে হলেও ৫০ থেকে ৬০ টার মত সাইফাই তো পড়েছিই দেশি বিদেশী মিলিয়ে৷ স্বয়ং স্যারেরই বেশ কয়েকটি বই পড়া হয়েছে৷ কিন্তু এটিকে কি করে সাইফাই বলা যায় আমার বোধগম্য হলো না৷ এটি স্রেফ ফ্যান্টাসি বা এডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি৷ এভাবে আসলে জনরার নাম দিয়ে পাঠকদের আকৃষ্ট করাটা মোটেও ভালো লাগে নি।
এবার আসি মূল গল্পে। মানে সিরিয়াসলি? এখনকার দিনে এসব গল্পে কেউ বিশ্বাস করে? পশুপাখির ভাষা বোঝা প্রোটাগনিস্ট বাঘের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে, তারপর ঘটনাপ্রবাহ, চরিত্রায়ন সবকিছুই অতিরিক্ত আবেগধর্মী ও ফেইক মনে হয়েছে। যদিও সমাপ্তিটা ক্ল্যাসিক জাফর ইকবাল স্যারের মতো হয়েছে৷
সব মিলিয়ে, আমার কেন যেন মনে হয়, প্রতি বছর বইমেলায় একটি বই বের করতে হবে, এই তাড়না থেকেই বইটি লেখা হয়েছে, তেমন কোন চেষ্টা করা হয় নি বাস্তবযোগ্য করার। আর খামাখা ফর্মা বাড়িয়ে ফন্ট বড়ে দাম বেশী রাখাটাও অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে।
যেই বয়সের পাঠকদের জন্য বইটা লেখা তাদের অবশ্যই ভালো লাগবে। আমারো অনেক ভালো লেগেছে। এই বইটা নিয়ে সবার এত হতাশার কারণ কি জানিনা। সবার নাকি একঘেয়ে লেগেছে। ঘুরে ফিরে একই কাহিনী। আমার বয়সী কারো জন্য, যাদের জাফর স্যার এর অনেক বই পড়া আছে, বা অনেক ধরণের বই পড়া আছে তাদের জন্য এটা একঘেয়ে লাগা অস্বাভাবিক না। কিন্তু যাদের জন্য বইটা লেখা তাদের জন্য যথেষ্ট উপভোগ্য হওয়ার কথা। কারণ তাদের জীবনে এখনো অনেক বই পড়া নাই এবং এই টাইপের বইগুলা পড়েই কিন্তু আমাদের ওই বয়সে পড়ার নেশা হয়েছিল। ২০/২৫/৩০ বছর বয়সে কারো একদম বাচ্চাদের ক্যান্ডি ভালো না লাগতে পারে, কিন্তু বাচ্চাদের জিনিস তাদের ভালো লাগলো কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
তবে এটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি না। ফ্যান্টাসি বলা যায়।
বন বালিকা ঠিক একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ছিল না। এটি মূলত শিশু কিশোরদের অভিযান ও কল্পকাহিনী ধারার একটি গল্প ছিল। ছয় বছরের মেয়ে মিতুল পশু পাখিদের সাথে কথা বলতে পারে, তাকে কেন্দ্র করে কাহিনী। পশু পাখিদের সাথে কথা বলা এমন একটি আকর্ষণীয় ব্যাপার যা আমারও ইচ্ছা করে যদি থাকতো। গল্পটা মজার ছিল। শিশু কিশোরদের জন্য আর পশু পাখি প্রেমীদের জন্য চমৎকার একটা বই।
অনেকেই বলছেন, এই বইটি ঠিক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী না। কথা সত্য। গতবছর প্রজেক্ট আকাশলীনা পড়ে যেমন মনে হয়েছিল সত্যিই এমন হতে পারে। এই বইটা পড়েও অনেকটা সেরকমই মনে হয়েছে। যদিও মিতুল প্রথমবার পালিয়ে জঙ্গলে থেকে গেলেই আমার বেশি ভালো লাগত। তারপরও বাচ্চাদের বই যেহেতু, অতঃপর তারা সুখে শান্তিতে বাস করিল দেখাতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।
পড়ে শেষ করলাম গতবছর প্রকাশিত হওয়া বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বনবালিকা। জাফর ইকবাল স্যারের সব সায়েন্স ফিকশন আমার অনেক ভালো লাগলেও এই বইটা সাইন্স ফিকশন হিসেবে তেমন একটা মনে ধরেনি।বার বার মনে হচ্ছিলো কোনো কিশোর উপন্যাস পড়ছি যাইহোক বইটির মূল কাহিনী হলো মিতুল নামের একটা মেয়েকে নিয়ে যে পশুপাখিদের সব কথা বুঝতে পারে।মিতুল,মিতুলের বাবা আর পশুপাখিদের নিয়েই বইয়ের সব কাহিনী।সাইন্স ফিকশনের কোনো ফিলই পাই নি