জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৮ জুলাই কুষ্টিয়াতে। এইচ এস সি পর্যন্ত লেখাপড়া ওখানেই। এরপর বুয়েট থেকে তড়িৎ কৌশলে (EEE) স্নাতক শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনাতে পিএইচডি'র জন্যে পড়ালেখা করছেন। তিনি নানামুখী সামাজিক ও শিক্ষা বিষয়ক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।
"লোকটার গানের গলা খুব সুন্দর, তাই না?" "যেই না চেহারা,তার আবার গান!!"
উপরে যে কুযুক্তি দেওয়া হয়েছে সেটাকে বলে ad hominem বা অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তি আক্রমণ। মূল বিষয়ে কোনো যুক্তি প্রদান না করে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার এ বিষয়টি আমরা প্রায়ই দেখে থাকি। গল্পচ্ছলে লেখক চমক হাসান এই ধরণের বিভিন্ন কুযুক্তি/ভ্রান্তি/ Fallacy -র নাম,কেন যুক্তি হিসেবে এগুলো সঠিক নয় তা চমৎকার সব উদাহরণ দিয়ে ঝরঝরে ভাষায় বর্ণনা করেছেন।এই সময়ের জন্য খুব প্রাসঙ্গিক একটা বই।অনেক কিছু জানলাম,শিখলাম। বিভিন্ন কুযুক্তি/ভ্রান্তি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কেন ক্ষতিকর সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করলে ভালো লাগতো। বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।
গল্পে গল্পে যুক্তির ভ্রান্তিগুলো নিয়ে বই লেখার আইডিয়াটা ভালো। প্রতিটি ফ্যালাসির ব্যাখ্যার পাশাপাশি কয়েকটি করে উদাহরণও যুক্ত করা হয়েছে যাতে ভ্রান্তিগুলো পরিষ্কার হয়ে যায়। চমক হাসানের লেখা বরাবরই সুখপাঠ্য। কিশোর-তরুণদের জন্য খুব ভালো একটি উপহার হতে পারে 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং'।
লজিক্যাল ফ্যালাসি তথা যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে লেখা চমৎকার একটা বই। পড়তে গিয়ে বেশ অবাকই হয়ে গেছি। নিজেকে যুক্তিসঙ্গত মানুষ দাবী করলেও কত ধরনের ফ্যালাসি নিজের মধ্যেই থেকে গেছে। ফ্যালাসি নিয়ে প্রাথমিক জানাশোনার জন্যে বইটা বেশ কাজের। সামনে আরো বিস্তারিত পড়ার ইচ্ছা জাগছে।
চমক হাসানকে ধন্যবাদ। বাংলা ভাষায় এরকম টপিক নিয়ে কাজ করা বেশ রেয়ার একটা ব্যাপার। আমি পারলে সব ছাত্রদের জন্যে এই বইটা মাস্ট রিড করে দিতাম :3
'কই দেশে যখন ওমুক ঘটনা হইলো, ষাঁড় জাফর ইকবাল তো কিছু কইলেন না!' দেশে কোনো দূর্ঘটনা ঘটলেই বাঙালির একাংশের মুখে এই ধরণের অদ্ভুত কথা শোনা যায়। বিষয়টা বিরক্তিকর পর্যায়ে গিয়ে থেমেছে বহু আগেই, কিন্তু থামার নামগন্ধ নেই। এই ধরণের কুযুক্তি বা ভ্রান্ত যুক্তিতে যেটা করা হয় সেটাকে বলা যায় Red Herring বা কথা ঘোরানো বা ত্যানা প্যাচানো। এটাকে Argument from silence দিয়েও ব্যাখা করা যায়।
বইটিতে এরকম প্রাসঙ্গিক ২৪টি ফ্যালাসি গল্পচ্ছলে তুলে ধরেছেন গণিত নিয়ে লেখা সুপরিচিত লেখক চমক হাসান। বইটা বেশ ইন্টারেস্টিং। ছোট এই বইটির যে বিষয়বস্তু, এগুলো হাইস্কুল বা কলেজে পাঠদানে বা শিক্ষকগণের নীতিশিক্ষায় উঠে আসা উচিত। কারণ, এর প্রভাব গড়াতে পারে বহুদূর। তর্কে জেতার খাতিরে অসংখ্য ফ্যালাসি আমরা ব্যবহার করে থাকি। কিংবা যুক্তি এড়িয়ে যেতে এসব ভ্রান্ত যুক্তি সকলেই ব্যবহার করি কমবেশি, তাই চিন্তাভাবনা শানিত করতে বেশ যুগোপযোগী বইটি৷ আমি নিজেও যে কতগুলো ফ্যালাসির দোষে দুষ্ট, সেটিও ভাবলাম। লেখক অঙ্কের মানুষ, তাই বইটি সাজিয়েছেনও সেরকম ক্যালকুলেটেড ভাবে। বেশ সহজে ব্যাখ্যাগুলো করলেও বোঝার ক্ষেত্রে কিছু টপিক জটিল হয়ে যাচ্ছিলো কিংবা তথ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ লাগছিলোনা। ইন্টারেস্টিং এই টপিকটি পড়ে দেখবার জন্য সকলকেই আমন্ত্রণ রইলো।
'লোকটার গানের গলা খুব সুন্দর, তাই না?' 'যেই না চেহারা, তার আবার গান!' উপরে যে কুযুক্তি দেয়া হয়েছে সে ভ্রান্তির নাম Ad Hominem বা অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তি আক্রমণ।
ধরো, কোনো একজন নেতা গর্ব করে বলল, 'আমজনতা দলের কোনো কর্মী কখনো দুর্নীতি করে না।' পাশ থেকে একজন বলল, 'স্যার আমজনতা দলের ফগা যে দুর্নীতির দায়ে জেল খাটল?' নেতা এবার বলল, 'ফগা আমজনতা দলের প্রকৃত কর্মী না...' এটা ভ্রান্তিকর যুক্তি। প্রকৃত শব্দটা লাগিয়ে নেতা নেতা জোর করে বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। 'প্রকৃত কর্মী' কী জিনিস কেউ জানে। এই ফ্যালাসির নাম হচ্ছে No True Scotsman বা প্রকৃত বাঙালী ভ্রান্তি। এই রকম মজার মজার ২৪ টি ফ্যালাসি বা যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে বইটি রচিত। লেখক এই ভ্রান্তিগুলোকে অনেকগুলো উদাহরণের মাধ্যমে গল্পের ছলে উপস্থাপন করেছেন। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের আশেপাশের অনেকেই এই ভ্রান্তিগুলোর মতো কুযুক্তি দিয়ে থাকে, বইয়ের উল্লিখিত ফ্যালাসিগুলো নিয়ে ধারণা থাকলে এই কুযুক্তি গুলোর কাউন্টার দিতে সুবিধা হবে। যুক্তিবিদ্যার প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার জন্য বইটি পড়া যেতে পারে। অনেক কিছু জানার আছে এই বইতে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটা বই বিশেষ করে তাদের জন্য যারা বিতর্ক করতে পছন্দ করেন।
রলফ ডবেলির 'দ্য আর্ট অব থিঙ্কিং ক্লিয়ারলি' বইটার কথা মনে পরল।
ঐ বইটাতেও চমৎকার সব 'ভ্রান্ত যুক্তি' আলোচনা ছিল। 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' বইটা যুক্তিবিদ্যার একেবারে প্রাথমিক পাঠ হিসেবে চমৎকার। বেশ ভালো কিছু সমসাময়িক উদাহরণ রয়েছে যা খুব দরকার। শুধুমাত্র বিতর্ক শিখতে না, পরিষ্কার চিন্তা করতে বা আশেপাশের বিভ্রান্তিকর সংস্কারমুক্ত থাকবার জন্যও বইগুলো খুব ভালো সহায়ক।
বইতে থাকা একটা কথোপকথন দিয়ে শুরু করছিঃ- পল্টু- " তুই যে বয়স্ক লোকটার সাথে খারাপ ব্যবহার করলি, কাজটা কি ঠিক হলো?" ভুল্টু- " তুইও তো পরশুদিন আরেকজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করলি। সেটা খুব ঠিক ছিলো?" এখানে যুক্তির কথা হলো, " না ভুল্টু, তুমি ভুল করছ। অন্যের ভুল ধরিয়ে দিলে নিজের দোষ কাটে না।" . আমরা নিত্যদিনে নানান কথা বলি, ভেবে বলি না ভেবেও বলি। রাস্তাঘাটে, গাড়িতে এবং হাটতে হাটতে নানান মানুষের নানান যুক্তি দেখি। তাদের দেখানো সকল যুক্তিই কি যুক্তি নাকি কুযুক্তি! অনেকেই সেটা ভাবি অনেকেই ভাবি না। যুক্তিবিদ্যার ভাষায় এই কুযুক্তি নয়তো ভ্রান্তিকে বলা হয় Logical Fallacy. বইটাতে ২৪ রকমের যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে কথা বলা হয়েছে সাথে আছে অনেক উদাহরণ যা আপনাকে টু দা পয়েন্ট ধরতে-বুঝতে সহযোগিতা করবে। বইটার অনেক কুযুক্তি আপনি রিলেট করতে পারবেন, হয়তো দেখবেন এইসব কুযুক্তি মাঝেমাঝে আপনি ব্যবহার করেন নয়তো কেও না কেও আপনার সাথে ব্যবহার করে। বইটা যুক্তিবিদ্যার বইয়ের মতো কঠিন কঠিন শব্দে ভরপুর না, সাবলীল ভাষায় রচিত, তাই এইসব কুযুক্তি জানতে চাইলে এবং এইসবের হাত থেকে বাঁচতে চাইলে বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
২০২১ সালের বই��েলা উপলক্ষে যে কয়টি বই নিয়ে আমি ভীষণ আগ্রহী ছিলাম তার মাঝে 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' একটি। লেখক চমক হাসানের মতে, যুক্তি ব্যাপারটাকে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় তখনই, যখন এর দূর্বলতাগুলো বোঝা যায়। যখন এর ভ্রান্তিগুলোকে অনুভব করা যায়। এই বইয়ে ২৪টি logical fallacy বা যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে গল্প করা হয়েছে, মজার সব উদাহরণ দিয়ে।
মূল উপজীব্য: প্রদীপের তলায় যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটা খারাপ দিকও আছে। মানুষ তাদের মনের অন্ধকার দিকগুলোও অবলীলায় এখানে প্রকাশ করে ফেলছে। কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, মতামত কিংবা মন্তব্য চোখে পড়ে অহরহ। এসব পোস্ট কিংবা মন্তব্যে যে যার মতো উল্টোপাল্টা যুক্তি দিচ্ছে। ভুলভাল তথ্য ছড়াচ্ছে। 'জাল খবর' বা ফেইক নিউজের পরিমাণও বাড়ছে। লেখকের মতে, এখন একটা ভালো সময় যৌক্তিকভাবে সচেতন হওয়ার। যে যা বলছে তা না মেনে না নিয়ে একবার ভেবে দেখার। যুক্তির নিক্তিতে একবার পরখ করে নেওয়া যে তাদের কথায় কিংবা যুক্তিতে ফাঁক রয়ে গেল কিনা। যারা পাঠক, তাদের যেমন জানা দরকার, তেমনি জানা দরকার যারা বক্তা তাদেরও। সেই চিন্তা থেকেই এই বইটা লেখা হয়েছে।
ব্যক্তিগত আলোচনা: মনে করুন, হামিদ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় সারাদেশে প্রথম হয়েছে। খবরটা শোনামাত্র একজন বলে উঠলো, "অ্যা! যে না চেহারা, তার আবার আবৃত্তি!", এখানে যে যুক্তিটা ব্যবহার করা হয়েছে তা একেবারেই ভুয়া। হামিদের আবৃত্তি করার সাথে তার চেহারার কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে যেটা করা হলো, তা হলো অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তি আক্রমণ। যাকে যুক্তিবিদ্যায় Ad Hominem হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আবার ধরা যাক, হাকিম নামের একজন লোক সকালবেলা দুইটা সিঙ্গারা কিনলেন। কিন্তু দেখা গেল, তিনি সিঙ্গারা দুটি খেতে ভুলে গিয়েছেন। পরদিন সকালবেলা দেখতে পেলেন সিঙ্গারা দুটি খাওয়ার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। তিনি ভাবলেন, ১০টাকা দিয়ে যেহেতু সিঙ্গারা দুটো কেনা হয়েছে, না খেলে অপচয় হতে পারে। ভাবনাটা একদমই অযৌক্তিক । কারণ বাসি সিঙ্গারা খাওয়ার ফলে শরীরে বাজে ধরনের অসুখ হতে পারে, যার ফলাফল অবশ্যই ভালো হবে না।
এ ধরণের আরও ২২টি ফ্যালাসি নিয়ে চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। পড়তে গিয়ে মাঝখানে প্রায়ই বিরতি নিতে হয়েছে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার জন্য, ভালোভাবে বোঝার জন্য। আমাদের কথার মাঝে যে যুক্তিগুলো আমরা ব্যবহার করি, তাতে প্রায়ই ত্রুটি রয়ে যায়। অথচ আমরা কত অবলীলায় তা মেনে নিই। ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এই ধরনের বই খুবই দরকারি ছিল। আমাদের প্রত্যেকের এই বইটা পড়ে দেখা উচিত বলে মনে করি। তাতে হয়তো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তার নানা ভুল-ভ্রান্তির দেখা মিলবে, যা পরবর্তীতে সংশোধন করার মাধ্যমে সচেতন হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। লেখক চমক হাসানকে অসংখ্য ধন্যবাদ দারুণ এই বইটি লেখার জন্য <3
ভ্রান্তির নাম ARGUMENT FROM SILENCE- চুপ থাকার দোহাই
কেউ হয়তো কোনো কথা বলেনি, এ অবস্থায় তার নীরবতাকে যুক্তি হিসেবে আসলে ধরা যায় না। কারণ হলো, নীরবতাকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। পক্ষে-বিপক্ষে যেকোনোভাবেই একে ব্যবহার করা যায়। 'মৌনতা সম্মতির লক্ষণ'- এটা সমাজে প্রচলিত, কিন্তু যৌক্তিক বিচারে এটা সব সময় যুক্তিযুক্ত নয়।
বইটা অবশ্যই সুপাঠ্য। অনেক অজানা যুক্তির ভ্রান্তিগুলো পাঠক জেনে উপকৃত হবে। তবে আইডিয়া গুলো বিভিন্ন আর্টিকেল এবং বই থেকে নেয়া। নন-ফিকশনের ব্যাপার গুলো এমনই হয়। তবে চকম হাসানের লেখায় ফিকশনের আবহ আছে যা ভালো লাগে।
বইঃ যুক্তিফাঁদে ফড়িং লেখকঃ চমক হাসান দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা অনেক যুক্তি ব্যবহার করি।সেই যুক্তি ব্যবহার করতে গিয়েই আমরা অনেক সময় হারিয়ে যাই কুযুক্তির অতল গহ্বরে। বিশেষত, বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের কথাবার্তা কোন যুক্তির ধার ধারে না।যে যার মতো পারছে, নিজের মতামত বিচার-বিশ্লেষণের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ করে দিচ্ছে।এসব যুক্তিহীন কথা শুনে মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দ্বন্দ কলহ। এই যখন অবস্থা, তখন প্রত্যেকটা তথ্যই যুক্তির বিচারে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এইসব কুযুক্তি বা logical fallacy গুলো চিনে দৈনন্দিন কথাবার্তায় সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। এইসব কুযুক্তি বা লজিক্যাল ফ্যালাসিগুলো নিয়েই চমক হাসানের বই যুক্তিফাঁদে ফরিং। যুক্তি বা লজিক নিয়ে ইংরেজিতে অনেক বই দেখেছি। কিন্তু বাংলায় যুক্তি নিয়ে বাংলায় আমার দেখা এবং পড়া প্রথম বই এটি।এবং আমার মনে হয় বাংলা ভাষায় এরকম মৌলিক বই নেই বললেই চলে। চমক হাসান গনিতের শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া অঞ্চলে বিশেষ ভাবে সমাদৃত। গনিতের ভিত্তিই হলো যুক্তি।মানুষের কথাবার্তার বিভিন্ন লজিক্যাল ফ্যালাসি লক্ষ্য করেই উনি লিখেছেন যুক্তিফাঁদে ফরিং। বইতে চমক হাসান কথা বলেছেন ২৫ টা যুক্তির ভ্রান্তি বা লজিক্যাল ফ্যালাসি নিয়ে। এইরকম বিষয়ের বই একটু কাট্টাখোট্টা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বইয়ের লেখক চমক হাসান । তার বই বুঝতে কঠিন হবে, এটা বিশ্বাস করা পাঠকের জন্য অসম্ভব। এবং সত্যি তাই, চমক হাসান এরকম একটা বিষয় মানুষকে জানাতে গল্পের আশ্রয় নিয়েছেন। বইয়ে দেখা যায়, হাসিব নামে এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে প্রত্যন্ত এক অঞ্চলে শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয় নামের এক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেয়। ছাত্রজীবনে বিতার্কিক হওয়ায় যেকোনো ভ্রান্ত যুক্তিই তার চোখ এড়ায় না। এভাবেই সে ছাত্রদের কে শেখাতে থাকে একের পর এক যুক্তির ভ্রান্তি এবং ভ্রান্ত যুক্তির অসাড়তা। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় শোমসপুর স্কুলে গড়ে ওঠে বিতর্ক ক্লাব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়শই জেনে, না জেনে ব্যাবহার করছি বিভিন্ন ভ্রান্ত যুক্তি। এইসব কুযুক্তির জন্য তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি, কুসংস্কার। তাই, এইসব ভ্রান্ত যুক্তির কবল থেকে বাঁচার জন্য যুক্তিফাঁদে ফরিং বইটা আমার জন্য বেশ কার্যকরি পদক্ষেপ ছিল। এসব লজিক্যাল ফ্যালাসি সম্পর্কে সচেতন থাকলে শুধু যে কেবল্ মাত্র কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে তাই নয় বরং চিন্তাভাবনাতেও এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। আর মানুষ যখন সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে তখনি কেবন সে সঠিকভাবে নিজেকে এবং নিজের পারিপার্শ্ব কে বুঝতে পারে। এই বইটা বিশেষত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।তাই তাই উদাহরণগুলো পড়ে বেশ চেনা মনে হয়েছে। আমাদের কথাবার্তা, চিন্তাধারা আরো তীক্ষ্ণ করতে এই বইটা যেকোন মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। পার্সোনাল রেটিংঃ ৮/১০
জানার আছে অনেক কিছু৷ বেশ মজার। ২৪ টা ফ্যালাসি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। এই বইটি পড়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তা আলোচনার মাঝে ভুলগু��ো ধরতে পারবো। যুক্তি দিয়ে কথা বলা শেখা যাবে৷ বেশ ইফেক্টিভ বই।
Inductive and Deductive Reasoning নিয়ে আইডিয়া থাকলেও, এই দুটোকে কাজে লাগিয়ে, চমক ভাইয়া এত্ত সুন্দর করে ফ্যালাসিগুলো নিয়ে ধারণা দিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফ্যালাসি নিয়ে আধ-একটু জানতাম, ভার্সিটির "ইন্ট্রোডাকশন টু ফিলসফি" কোর্সের কথা মনে পড়ে গেলো খানিক সময়ের জন্য। কিছু ফ্যালাসি নিয়ে সেখানেও জেনেছিলাম।
এই বইয়ে, এত্ত বিশদ ভাবে, কি সুন্দর সব উদাহরণ নিয়ে জানতে পেরে মন বেজায় খুশি! খুব সচারাচর যেই ফ্যালাসির দেখা মেলে এবং আমার ভীষণ প্রিয় ভাবতে, তা হলো "Argument from Ignorance."
This entire review has been hidden because of spoilers.
যুক্তিবিদ্যার মতো ঝামেলার জিনিসকে লেখক চমক হাসান যেভাবে সহজ করে উপস্থাপন করেছেন তা প্রসংশনীয়। আমরা কথা বলার মাঝে সচারচর যেসব যুক্তির নামে কুযুক্তি দিয়ে Fallacy তৈরি করি তারই কিছু লেখক যুক্তিবিদ্যার চশমায় তুলে ধরেছেন। তার সাবলীল উপস্থাপনা গল্পের সাথে পাঠককে জুড়ে দিয়েছে।
আকারে ছোট, তবে অত্যন্ত যুগোপযোগী একটা লেখা। কথাবার্তায় সচেতন হতে বিশেষ করে যুক্তি দেবার সময় এই বইয়ের শিক্ষা কাজে দিবে। বিতার্কিকদের জন্যও একটা হ্যান্ডি বই হতে পারে।
যুক্তিবিদ্যার কিছু মৌলিক বিষয় আর সাধারণ কিছু লজিক্যাল ফ্যালাসি সবার নিকট বোধগম্য করতে চমক হাসানের একটা দারুন উদ্যোগের ফসল হল এই বই। বিভিন্ন কঠিন টার্মগুলো গল্পের মাধ্যমে সহজ করে লিখে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই বইয়ে। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটি বই।
Quite an unique book. The story plot was pretty simple and it basically circles the fallacies through various examples. Not a great book, but surely a useful one.
আমরা আমাদের চোখ ঘুরালেই আসে পাশে অনেক যুক্তিবাদী মানুষ দেখতে পাই। কিন্তু এই যুক্তিবাদীরা অহরহ ভুল যুক্তি দিয়ে তর্ক জিতে যায়। এই ভুল যুক্তি গুলো লেখক এই বই এ খুব সুন্দর করে আলোচনা করেছেন। আমাদের দৈনন্দন জীবন থেকে খুবই সুন্দর সুন্দর উদাহরণ দিয়ে তিনি ভ্রান্ত যুক্তি গুলোকে সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কিছু কিছু উদাহরণ আমার ভাল লাগেনি কারণ সেগুলা খুবই দুর্বল উদাহরণ মনে হয়েছে। আর লিখায় প্লটটা আমার কাছে খুবই নিচু মানের মনে হয়েছে। তাছাড়া মোটামোটি ভালোই লেগেছে পড়তে।
ধরুন, বাংলাদেশের খেলা চলছে। আপনি ড্রইংরুমে এসে খেলা দেখতে বসলেন আর সাকিব আল হাসান আউট হয়ে গেল। রুমের সবাই আপনার দিকে এমন একটা লুক দিলো, যেন আপনিই সাকিবকে আউট করেছেন। একজন হয়তো বলেই বসলো আপনার জন্যই সাকিব আউট হয়েছে, কি দরকার ছিল ওই সময় খেলা দেখতে আসার!
এমনটা আমাদের জীবনে প্রায়ই হয়ে থাকে কিন্তু। উপরের ঘটনাটা স্রেফ একটা লজিকের ফ্যালাসি, নাম পোস্ট হক (Post hoc) ফ্যালাসি। গত বছরের শুরুর দিকে মাইক্রোইকোনমিকসের প্রথম কোর্সের ক্লাসে এই ফ্যালাসির নাম প্রথম শুনি। ফ্যালাসিটা বেশ ইন্টারেস্টিং তাই না!
এমন চব্বিশটা লজিকের ফ্যালাসি নিয়ে চমক হাসান চমৎকার একটা বই লিখেছেন, নামটাও ভারী চমৎকার: যুক্তিফাঁদে ফড়িং। বেশ ছোট একটা বই। পড়তে বেশিক্ষণ লাগে না। গল্পের মতো করে উদাহরণ দিয়ে বলা, যুক্তির নানান ভ্রান্তিগুলো বেশ সহজেই বোঝা হয়ে যায়। সাবলীল এই বইটা যুক্তিবিদ্যার প্রাথমিক ধারণা পেতে বেশ সহায়ক!
কথোপকথন ১: "আমি: মানি, আমার কলমটা দেখেছ কোথায়? খুঁজে পাচ্ছিনা। মানি: সারাদিন মোবাইল টিপলে, আর গল্পের বই নিয়ে বসে থাকলে এমনই হবে। আমি: কিয়ের মধ্যে কি বললে!" কথোপকথন ২: "আমি: মাথা ব্যথা করছে। মামু: পানি না খাইলে এমনই হবে। আমি: ঘুম আসছে। মামু: পানি না খাইলে এমনই হবে। আমি: ক্লাসে যেতে ইচ্ছা করেনা। মামু: পানি না খাইলে এমনই হবে।" উপরের কথোপকথন ১ থেকে কী বুঝি? আমাদের মা সমাজ আমাদের সকল সমস্যার একটাই যুক্তি দিয়ে আমাদের ফাঁদে ফেলে আসছেন। সেটা হলো, "সারাদিন মোবাইল টিপলে এমনই হবে"। এই যুক্তির ফাঁদে পড়েননি এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। কথোপকথন ২ এ যেটা দেখলেন সেটা আমার সাথে বর্তমানে ঘটে যাওয়া ঘটনার সারমর্ম (মামু কে সেটা রহস্য থাকুক)। এখানেও একইভাবে আমাকে যুক্তির ফাঁদে তথা ভ্রান্ত যুক্তিতে ঘোল খাওয়ানো হয়েছে। গণিতে, বিজ্ঞানে কিংবা রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে তর্কে-বিতর্কে মানুষ সব জায়গাতেই যুক্তি প্রয়োগ করছে। এসব যুক্তির গঠন কেমন, সেগুলো কি আসলেই ঠিক যুক্তি না-কি ভুল, এমন নানা বিষয় নিয়ে ভাবা হয় যুক্তিবিদ্যায়। যুক্তি দেয়ার সময় আমরা যেসব ভুল করি, সেগুলোকে বলে 'logical fallacy' বা যুক্তির ভ্রান্তি। আমরা অনেকেই 'কথার কথা' একটা বলে দেই। কিন্তু তার পিছে আসলে যুক্তি কতটুক কাজ করছে সেটা ভেবে দেখি না। কথার খাতিরে বা কথার পিঠে কথা বলতে অযৌক্তিক অনেক কিছু বলে দেই। এগুলোই যুক্তির ভ্রান্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ করার পরে 'শোমসপুর উচ্চবিদ্যালয়' এ মাস্টারি করতে যায় হাসিব। বাবা-মা এতে বিশেষ খুশি নয়। কারণ অজপাড়াগাঁয়ে স্কুল মাস্টারি না করে হাসিব কেন বিসিএস দিলো না বা ভালো প্রাইভেট চাকরি করল না। হাসিবের অবশ্য এতে মাথাব্যথা নেই। গ্রামের পরিবেশে মাটির খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ ছাড়তে চাইছে না। অংক, বিজ্ঞান আর রসায়নের পাঠ পড়ানোর জন্য হাসিবকে নির্ধারন করা হলেও ক্লাসে দেখা যায় হাসিব বেশিরভাগ সময় পার করে ছাত্র-ছাত্রীদের 'logical fallacy' বা যুক্তির ভ্রান্তি সংক্রান্ত বিষয় পড়িয়ে। যে কাজে নিযুক্ত সে কাজ না করে অন্য কাজ করা, এও কি এক ধরনের ভ্রান্তি? অংকের মাঝে শিক্ষার্থীদের যুক্তিবিদ্যা আর যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে পাঠ দেয়ার মাঝে হাফিজ নামের এক শিক্ষার্থী রচনা করে নানা রকম কবিতা। কবিতার মাঝেই হাসিব শেখাতে থাকে নানা রকমের যুক্তি। যেমন: AD HOMINEM, TU QUOQUE (তুইও তো), RED HERRING, STRAW MAN FALLACY, CORRELATION IS CAUSATION, গড্ডলিকা প্রবাহ ভ্রান্তি, নারে পাগলা ওই সিদ্ধান্তে আসা যায় না সহ নানা ধরনের যুক্তির ভ্রান্তি ও তার সতর্কতা। অংক মাস্টারের থেকে পিতা পুত্রের বয়স বেশি কম নিয়ে বকুনি না খেয়ে বিভিন্ন কথার যুক্তির মাঝের অযৌক্তিকতার পাঠ শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দের সাথেই নিচ্ছিল। এরপর যুক্তির ভ্রান্তির শিক্ষা শুরু হয়ে হালিম ভাইয়ের চায়ের দোকানে হাফিজ, এনাম আর রিতাকে নিয়ে। এরপর বিলের পাশের রাস্তার নতুন ব্রিজের ধারে চলে হাসিবের যুক্তির ভ্রান্তি বিষয়ক পাঠ। যুক্তিবিদ্যার পাশাপাশি এনাম চায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। যুক্তির মাধ্যমে কিভাবে বিতর্কে ভালো করা যায় সেটাও তারা শিখে নেয় হাসিবের থেকে। এভাবেই বছর পেরিয়ে যায় যুক্তির ভ্রান্তি শিক্ষায়। #পাঠ_প্রতিক্রিয়া: চমক হাসানের আগে বেশ কিছু বই পড়েছি। গল্পে জল্পে জেনেটিক্স, অংক ভাইয়া এর মধ্যে অন্যতম। লেখকের অংকের ভিডিও দেখতাম আগে। উনার লেখা এবং ভিডিও টিউটোরিয়ালের একরকম ভক্ত আমি। 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' ১০১ পৃষ্ঠার ছোটো একটা বই। কিন্তু তথ্যে পরিপূর্ণ। কঠিন রগরগা বিষয়গুলোকে হাসি গল্পের ছলে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক কথার পিঠে অনেক যুক্তি দিয়ে চলি। সেটা তর্কে টিকে থাকতে হোক, চিরায়তকাল ধরে হয়ে আসছে বলেই হোক, একটা যুক্তি দাঁড় করাই। কিন্তু যুক্তিগুলো আদতে কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখার ফুরসত হয়তো আমাদের হয় না। সেই যুক্তির ভ্রান্তিগুলো নিয়েই চমৎকার একটি বই 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং'। বইতে ২৪টি 'logical fallacy' বা যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে গল্প আছে সাথে আছে মজার কিছু উদাহরণ। যেমন, আমরা প্রায়ই বলি "মৌনতা সম্মতির লক্ষণ"। আদতে কিন্তু সেটা নাও হতে পারে। কোন প্রশ্নের উত্তরে চুপ থাকা মানেই যে সেটা সম্মত হওয়া এমনটা নাও হতে পারে। আবার বাংলা সিনেমায় একটা সংলাপ খুবই প্রচলিত, ছেলে বা মেয়ে ডাক্তার, পুলিশ হলে বা সাফল্য অর্জন করলে মা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলবে "আজ যদি তোর বাবা বেঁচে থাকতো! তাহলে কি যে খুশি হতো বা এই সেই করে ফেলত"। আসলে কি করতো তা না জেনেই একটা সিদ্ধান্তে উপনিত হয়ে যাওয়াটাই এক ধরনের যুক্তির ভ্রান্তি। আবার সব যুক্তিই যে ভ্রান্ত হবে তাও না। যুক্তি সঠিক হলে সেটা ভ্রান্ত নাও হতে পারে। এমন আরও অনেক যুক্তি ও তার অযৌক্তিকতা নিয়ে মজার মজার উদাহরণ দিয়েছেন লেখক। গল্পের আড়ালে মজার উদাহরণ দিয়ে দারুণ উপভোগ্য একটি বই "যুক্তিফাঁদে ফড়িং"। সকলের জন্য সুখপাঠ্য হবে আশা করি। আপনাদের জীবনে ঘটে যাওয়া বা ঘটে যাচ্ছে এমন কিছু গল্পও বলুন যেখানে আপনি পড়ে যাচ্ছেন যুক্তির ফাঁদে কিন্তু আদতে যা যুক্তির বিভ্রান্তি।
তর্কে-বিতর্কে কিংবা বন্ধুমহলের আড্ডায় নানান জায়গায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষ যুক্তি প্রয়োগ করে। যুক্তির গঠন কেমন? প্রয়োগকৃত যুক্তিটি সঠিক নাকি ভুল এমন কাটখোট্টা বিষয় নিয়ে যুক্তিবিদ্যা। যুক্তি দেওয়ার সময় যেসব ভুল হয়ে থাকে সেগুলোকে বলা হয় "লজিকাল ফ্যালাসি।" প্রতারণামূলক সেসব ভ্রান্তিকে আমি বলি গাঁজাখুরি যুক্তি বা কুযুক্তি। যার গালভরা নাম "হেত্বাভাস"।
এই বইতে লেখক ২৪ টি মজার লজিকাল ফ্যালাসি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গল্পে জল্পে। প্রতিটি ফ্যালাসি কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে সহজে। যুক্তিবিদ্যায় অনেক রকমের ফ্যালাসি আছে। এদের মধ্যে কিছু ফ্যালাসি বা ভ্রান্তি নিত্যনৈমিত্ত ঘটে থাকে। যেমন ধরুন Ad Hominem Fallacy বা অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তি আক্রমণ। কোনো ব্যক্তি যুক্তি উপস্থাপণ করলে এর বিপরীতে যুক্তি না দিয়ে তার স্ট্যাটাস, পরিবার টেনে আনলে অর্থাৎ বিনা কারণে ব্যক্তি আক্রমণে কেউ কুযুক্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে এই ফ্যালাসিটি হয়৷
এমন আরেকটি ফ্যালাসি হলো Argument from ignorance. ধরুন কেউ আপনাকে বললো, " পিরামিড কিভাবে তৈরি হয়েছি,সেকালের লোকেদের দ্বারা আসলেই সম্ভব কিনা এটি বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না। সুতরাং পিরামিড এলিয়েন কিংবা অতিপ্রাকৃতিভাবে তৈরি।" যুক্তির বিচারে এটি ভ্রান্তি। আর্কিওলজিস্টরা,বিজ্ঞানীরা এখনো অনেক কিছুই জানেন না। তবে তারা প্রতিদিনই নতুন কিছু উদঘাটন করছে। আজ না জানলেও ভবিষ্যতে জানবে না এমন কোনো কথা নেই।
অমুকে বলছে, ভূত আছে। তিনি অনেক বিখ্যাত।সুতরাং ভূত আছে। এটিও একটি ফ্যালাসি। Appeal to Authority ফ্যালাসি। যুক্তিটি প্রাসঙ্গিক নয়। আগে দেখতে হবে যেই ব্যক্তি বলেছেন এই কথা তিনি নির্ভরযোগ্য কি না। এখনও অনেক বিখ্যাত লোক বিশ্বাস করে পৃথিবী সমতল।
প্রায় সময় দেখা যায় অনেকে বলছে অমুক গ্রামের মানুষ খারাপ৷ তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম অমুক রাস্তাটা কোনদিকে। তিনি কেমন খারাপ ব্যবহার করলো। এই যে এখানে একজন গ্রামের মানুষের ব্যবহার দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো সবাই খারাপ এটি যুক্তিযুক্ত নয়। তাড়াহুড়ো করে ঢালাও সিদ্ধান্তে আসা যায় না। এটি Hastly Generalization ফ্যালাসির মধ্যে পড়ে৷ অর্থাৎ অল্প নমুনা দেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা।
যুক্তিবিদ্যায় এমনই হরেক রকমের ফ্যালাসি আছে৷ যার প্রত্যেকটা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ না হলেও কিছু ফ্যালাসি আমরা প্রতিদিনই করি। কুরুচিপূর্ণ পোস্ট আর মন্তব্য, উল্টোপাল্টা যুক্তি নিত্য দিনই চোখে পড়ে।লেখক মনে করেন আমরা একটি দারুণ সময়ে বসবাস করছি এবং এই সময় যৌক্তিকভাবে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যে যা বলছে তা মেনে না নিয়ে একবার যুক্তি ছাঁচে নিয়ে দেখার। যুক্তির নিক্তিতে একবার পরখ করে নেওয়া। যদি পৃথিবীর সবাই হুটহাট করে কথা না বলে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করে বলতো। পৃথিবীটা হয়তো আরেকটু সুন্দর হতো৷
--যুক্তিতে মুক্তি
লেখক সম্পর্কে কিছু কথা-
চমক হাসান৷ জন্ম কুষ্টিয়াতে৷ বুয়েট থেকে তড়িৎকৌশলে স্নাতকের পর পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি৷ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে পিএইচডি সম্পন্ন। বর্তমানে বোস্টন সায়েন্টিফিক করপোরেশনে গবেষক ও উন্নয়ন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিতি গণিতের ভিডিও আর লেখালেখির কারণে। লেখকের গণিত অত্যন্ত প্রিয় একটি বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের কাছে গণিতকে জনপ্রিয় ও মজাদার করতে কাজ করছে। যুক্তিরফাঁদে ফড়িং ২০২১ এ বের হওয়া লেখকের একটি বই৷ লেখক চান মানুষগুলো যেনো যেমন তেমন কথা না বলে যুক্তির নিক্তিতে একবার যাচাই করে নিতে৷ তবেই সুন্দর হবে পৃথিবী।
লেখকের নাম শুনেই মনে হতে পারে এটা গণিতের বই।আমারো প্রথমে তাই মনে হয়েছিল।কিন্তু এটি সেরকম বই নয়,যদিও এই বইটি যে বিষয়ের তার সাথে গণিতের গভীর সম্পর্ক আছে।গণিত-বিজ্ঞানের ভিত্তিই হলো যুক্তি এবং এই বইটি মূলত যুক্তিবিদ্যার উপর।কিন্তু লেখকের অন্যান্য বইগুলোর মতোই ঠিক এটাও গতানুগতিক একাডেমিক বইয়��র মতো নয়। আমরা সবাই যুক্তির সঙ্গে পরিচিত।কিন্তু যুক্তির ভ্রান্তি বলে যে কোন একটি বিষয় আছে এর সঙ্গে আমি পরিচিত ছিলাম না।ফ্যালাসি বা যুক্তির ভ্রান্তি এর সঙ্গে পরিচিত হই বিসিবি থেকেই। ফ্যালাসি বা যুক্তির ভ্রান্তি বলতে বোঝায় যুক্তি দেয়ার সময় আমরা যে ভুলগুলো করি সেগুলো কে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে যুক্তির ভ্রান্তি বা ফ্যালাসি বলতে মূলত বোঝায় উল্টাপাল্টা যুক্তিকে।যেরকম ভাবে অংক ভাইয়া বইটিতে লেখক গল্পের মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে ছিলেন,ঠিক সেভাবেই এই বইটিতে গল্পের মাধ্যমে তিনি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যুক্তি দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো হয় তার চব্বিশটি যুক্তির ভ্রান্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা দেন। গল্পের শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো রেজাল্ট করে পাশ করা শিক্ষার্থী হাসিবকে নিয়ে। হাসিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয় শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা স্থানের একটি হাইস্কুলে। সেখানে তাকে গণিতের ক্লাস নিতে দেওয়া হলে, সে ক্লাসে এই যুক্তির ভ্রান্তিগুলো শেখায়।যুক্তির ভ্রান্তি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে যথাযথ যুক্তি সম্পর্কেও ভালো ধারণা আসবে। লেখক নিজেই বলেছেন এই যুক্তির বইটি সব মানুষের জন্যই।বইটিতে যে যুক্তির ভ্রান্তিগুলো দেওয়া আছে সেগুলো পড়ার পর আমি যেটা বুঝতে পারলাম সেটা হলো যে আসলেই আমরা এই ভুল যুক্তিগুলো দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করিএবং মারাত্মক বিষয়টি হলো আমরা এখানে জানিনা যে এই যুক্তি গুলোতে ভুল থাকে বা এগুলো মূলত যুক্তির ভ্রান্তি। বইটা পড়ে অনেক ভালো লেগেছে এবং যুক্তির একটি নতুন ক্ষেত্র সম্পর্কে জেনে আমার যুক্তিবোধ শাণিত হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস এবং যারা পড়বেন তাদের প্রত্যেকেরই যুক্তিবোধ শাণিত করতে বইটি সাহায্য করবে বলেই আমার মনে হয়। আবার বইটি একদম শেষের দিকে কয়েকটি লাইন আমার নতুন চিন্তার খোরাকও জুগিয়েছে। লাইনগুলো আমি সরাসরি তুলে দিলাম 'হাসিব অন্তর থেকে অনুভব করে,আবেগ কখনো যুক্তির বিপরীত নয়,যেমনটা বহুজনে মনে করে।বরং একে অন্যের সহযোগী। মানুষের ভেতরের চমৎকার সহাবস্থান। আবেগপ্রবণ হওয়ায় দোষের কিছু নেই। শুধু যুক্তিবোধ থেকে সাহিত্য রাখতে হবে যেন আবেগ আমাদের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে।'যে যুক্তির ভ্রান্তিগুলো বইটিতে দেয়া রয়েছে তাদের ভিতর আন্তঃসম্পর্ক এবং তাদের অনন্য যে বৈশিষ্ট্য গুলোর কারণে এদের ভিতর যে তফাৎ গুলো বিদ্যমান এগুলো তুলে ধরলে এই ভ্রান্তিগুলো সম্পর্কে মনে হয় ধারণা আরো পরিষ্কার হত। সবশেষে লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের জন্য এরকম একটি বই লেখার জন্য।
This entire review has been hidden because of spoilers.
প্রাচীন সভ্যতা থেকে বর্তমান সভ্যতার মূলে রয়েছে দর্শন, বিজ্ঞান ও গণিত। এগুলো প্রতিষ্ঠার পিছনে মূল যে বিষয় তা হলো পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি। ভুল যুক্তি বা কুযুক্তিগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান বিস্তারের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাসে এমন কিছু লজিক্যাল ফ্যালাসিও রয়েছে, যেগুলো কিছুকালের জন্য থমকে দিয়েছিল সভ্যতার চাকা। তবে 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' বইটি ইতিহাসের বড়ো বড়ো ফ্যালাসি নিয়ে নয় বরং প্রাত্যহিক জীবনে যেসকল ভ্রান্তির মুখোমুখি হই তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বইটিতে যেসকল বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা হলো—
যুক্তি ও ভ্রান্তির পার্থক্য, কীভাবে মূল বিষয়কে বাদ দিয়ে ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কুযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করে নেয়, হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন ভুল, যুক্তি দেখিয়ে সাধারণ ঘটনাকে বড়ো করা কিংবা বিপদজনক মনে করা কেন উচিত নয়, সকলে একমত হলেও কেন সেখানে ভুল থাকতে পারে, কেন প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়েও চিন্তা করতে হবে, কীভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা হয়, কেন ফ্যালাসি থাকলেও সবসময় সিদ্ধান্ত ভুল হয় না ইত্যাদি বিষয়ের চমৎকার ও সাবলীল ব্যাখ্যার উপস্থাপন হয়েছে বইটিতে।
বইটির মূল চরিত্র হলো হাসিব। যিনি সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেড়িয়েছে। কিছুদিন মাটির খুব কাছাকাছি থাকার জন্য শখের বসে শিক্ষক হিসেবে গাঁয়ের স্কুলে যোগ দেয় সে। পাঠদানের এক পর্যায়ে দেখলেন সেখানকার ছেলেমেয়েদের ফ্যালাসি সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই অথচ গণিতবিজ্ঞান শিখতে হলে যুক্তি ও ভ্রান্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। সেই থেকেই শুরু হয় ফ্যালাসি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা। তাদের ফড়িংয়ের মতো অস্থির মন যেন কুযুক্তির ফাঁদে পড়ে পথ না হারায়, এটাই তাঁর একান্ত প্রয়াস।
বইটির যে দিকগুলো আমার ভালো লেগেছে—
মজার ছলে শিক্ষাদান ও ছাত্র-শিক্ষকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যার ফলে শিক্ষার্থীদের আরো আগ্রহী হয়ে উঠা। যুক্তি ও ভ্রান্তি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান পৌঁছানোর মাধ্যমে সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এছাড়াও বর্ণনা কৌশল এত চমৎকার হয়েছে যে পড়ার সময় এতটুকুও বোরিং লাগেনি।
সমালোচনা: যদিও বইটি যুক্তি নিয়ে লেখা কিন্তু যুক্তি কী, কীভাবে যুক্তি এলো এই টপিকগুলোর উপস্থিতি নেই, যার জন্য কিছুটা অতৃপ্তি রয়েই গেল। এবং আরো কিছু ফ্যালাসি নিয়ে আলোচনা করা হলে বেশ ভালো লাগতো, মানে বইটা এত ভালো লেগেছে যে, পড়া শেষে মনে হয়েছে বইটা যেন ছোটো হয়ে গেল।
বইটি কাদের জন্য? ছোটো থেকে বড়ো যেকোনো শ্রেণি বা পেশার মানুষ বইটি সানন্দে পাঠ করতে পারবে। বইটি পাঠ করে কোনো পাঠকই আশাহত হবেন না বলে আমার বিশ্বাস। আর একটা কথা, চাইলে আজই আপনার বুকশেলফে বইটি নিয়ে আসতে পারেন।
বইয়ের মূল চরিত্র হাসিব, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেই শখের বশে যোগ দেয় গ্রামের স্কুলে, শিক্ষক হিসেবে। গণিত বিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও সে দ্রুতই বুঝতে পারে ছাত্রছাত্রীদের যুক্তিবোধ শাণিত করাটাই আগে জরুরি। তাদের ফড়িংয়ের মতো অস্থির মন যেন কুযুক্তির ফাঁদে পড়ে পথ না হারায়, এজন্য তাদেরকে সে শোনায় যুক্তির নানা ভ্রান্তির গল্প।
তোহ এই বইটা পড়লে কি আপনি আপনার মায়ের সেরা মারণাস্ত্র ," আমি তোর পেটে হইছি নাহ তুই আমার পেটে হইছোস "এই কথার কাউন্টার দিতে পারবেন? নাহ সব কথার কাউন্টার দেওয়ার দরকার নাই। মাঝে মাঝে পরাজিত হওয়াটা পরম সৌভাগ্যের যেটা জীবনে কিছু অসাধারণ মুহুর্ত সৃষ্টি করে। তবে আপনার যেসব বন্ধুরা আপনাকে ট্রিট দেয়না তাদের দুটো কথা শুনিয়ে দিতে পারবেন। এই বইটা পড়ে আমি যে যুক্তি আমার মাথায় আসলো তা হলো, আমি আমার বন্ধু আতিককে বলছিলাম ট্রিট কবে দিবি? প্রতিত্তোরে সে বলল ইনকাম করি তারপর। এইযে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে ফেলা এটাকে Red Herring logical fallacy বলে, কারণ ট্রিট দিতে হইলে ইনকাম করতে হয় নাহ। টাকা পয়সা হাওলাত করেও দেয়া যায়।এই বই পড়লে আপনি দেখবেন বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক দল যখন বলে, " তারা দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হইছে, তোহ আমার সময় একটু দূর্নীতি হইলেই দোষ"- এই জিনিসটাও একটা লজিকাল ফেলাসির আওতায় ফেলা যায় তাহলো Tu Quoque যার অর্থ তুমিও তো। অন্যর দোষ দেখিয়ে নিজেরটা ডিফেন্ড করার চেষ্টা করা। মাঝে মাঝে আমরা যখন দেশের স্বার্থে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরোধিতা করি তখন আমাদের গায়ে আরেক ��াষ্ট্��ের দোসর এই ট্যাগ লাগিয়ে দেয়াও যে এক প্রকার ফেলাসির(False Dichotomy Fallacy) আওতায় পড়ে তা বুঝতে পারবেন এই বই পড়লে। যাই হোক হ্যাপি রিডিং। রেটিং ৪.৫/৫
(i) বইয়ের গ্রুপগুলোতে যখন কেউ বিখ্যাত কোনো লেখকের বই অথবা জনপ্রিয় কোনো বই নিয়ে সমালোচনা করে, তখন কিছু মানুষ মন্তব্য করে– 'আপনি তো অমুক লেখকের বই পড়েন, আপনার কাছে এই বই ভালো লাগবে কীভাবে!' (ii) তোর যেহেতু ভারতের খেলা ভালো লাগে না, তাহলে তুই নিশ্চয়ই পাকিস্তান সাপোর্টার। (iii) আপনি তো কোন অজ পাড়াগাঁয়ের কলেজে পড়েন, আপনি সাহিত্যের কী বুঝবেন?
আমরা কথা বলার সময় নানা ধরনের কুযুক্তি ব্যবহার করি। যেমন– তর্ক করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ করি, প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলি, ভুল জিনিসের সাথে তুলনা করি, বিখ্যাত ব্যক্তির দোহাই দেই বা প্রমাণ না থাকার দোহাই দেই। এইগুলো লজিক্যাল ফ্যালাসি বা হেত্বাভাস। 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' বইয়ে এইরকম মোট ২৪টি কুযুক্তি বা যুক্তির ভ্রান্তি বা লজিক্যাল ফ্যালাসি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বইটা নন-ফিকশন হলেও বইয়ের বিষয়বস্তু গল্পের আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে হাসিব নামক এক যুবক গ্রামের এক স্কুলে শিক্ষকতা করাতে যান। সেখানে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ক্ল্যাসের পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণীতে লজিক্যাল ফ্যালাসি বা যুক্তির ভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা করেন।
এই বইয়ে Ad Hominem, Red Herring, Straw Man Fallacy, False Dichotomy Fallacy, Post Hoc Ergo Propter Hoc ইত্যাদি কাঠখোট্টা নামক ভ্রান্তিগুলোকে খুব সহজ করে বোঝানো হয়েছে। মজার মজার উদাহরণ দিয়ে এই ফ্যালাসিগুলো আলোচনা করা হয়েছে।
প্রিয় গণিত শিক্ষক এবং লেখক চমক হাসানের 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' বইটা সকলের পড়া উচিত। পড়লে বোঝা যাবে, আমরা আসলে কতটা অযৌক্তিক এবং কুযুক্তির সাগরের কতটা গভীরে ডুবে আছি।
" ধর আজকে তুই প্রেম কত্তেসিস। কালকে হাত ধরে ঘুরবি। পরশু রিকশার হুড তুলে দিবি। একটা সময় রুমডেটে যাবি। এইভাবে একদিন পরিবারের সম্মানহানি হবে । তাই আমাদের আসলে প্রেম ভালোবাসায় জড়ানোই উচিত না। " এইটা এক বান্ধবীর যুক্তি ছিল। এইখানে যেটা হইসে সেটারে বলা হয়, Slippery slope fallacy . যুক্তির ঢাল বেয়ে গড়িয়ে এতদুর অব্দি চলে যাওয়া যেখানে আসলে সুচনার সাথে সিদ্ধান্তে মেলবন্ধন হবার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
"ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বুকে ধারণ করে,দেশ ও দশের সেবায় এগিয়ে আসাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য৷ এদের ভেতরে কেউ কেউ সন্ত্রাসী কাজের সাথে যুক্ত৷ তবে ওরা আসলে ছাত্রলীগের " প্রকৃত কর্মী" নয়। " এটা No true scotsmans fallacy. প্রকৃত কর্মী টার্মটার সুবিধাবাদী প্রয়োগ করা যায়।
কিছুদিন আগে ছাত্রদল তাদের নেত্রীকে "হত্যার হুমকি" দেয়ার অভিযোগে মারামারি লাগসিলো। এইটা খুব সম্ভব Straw man fallacy র অন্তর্ভুক্ত হবে। বক্তব্যের যথেচ্ছ ব্যবহার করে উদ্দেশ্য হাসিল করা সংক্রান্ত ফ্যালাসি।
বইটাতে এইরকম মোট ২৪ টা ফ্যালাসি সম্পর্কে বলা আছে। গুগল করেই বের করে নেয়া যায়৷ তবে চমক হাসানের লেখা সুখপাঠ্য। উদাহরণগুলা কিছুটা দুর্বল মনে হইলো। বাকিটা চমৎকার।
বই টা পড়ে যা বুঝেছি বইটা ভালো কারন বইটা পড়তে ভালো লেগেছে। wait!!! এই বাক্যতেই একটা যুক্তির ভুল আছে। বাক্যের আশ্রয় বাক্য আর সিদান্ত একই। আর একে বলে Curricular Reasoning. যুক্তি দিতে এই রকম হাজারো ভুল ভ্রান্তি করে থাকি প্রায় সবাই দিনে রাতে। কেউ তো ব্যাক্তি আক্রমন করে কাউকে কথা বলতে চুপ করিয়ে দেয়। আর কেউ তো তর্ক থেকে বাচার জন্য ত্যানা পেচায়। আবার কেউ আরেক জনের Hippocrisy কে কাজে লাগিয়ে যুক্তি দে। যাকে যুক্তি বিদ্যা বলে Appeal to Hippocrisy.
এই রকম ২৪ টার মত ফ্যালাসি নিয়ে সন্দুর করে লেখক গল্প আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে আমাদের সামনে। বই টা পড়ার সময় আমার জীবনে শুনা যত আলতু পালতু যুক্তি ছিল সব আমার মনের মাঝে ভাসছিল। এক কথায় ধারুন বইটা। লেখক চাইলে আরো ফ্যালাসি দিতে পারতু। সেটা না করার জন্য ১ স্টার কম।
চমৎকার ও যুগোপযোগী বই। বর্তমান শুনতে ভাল লাগলে অথবা একটু বাহবা পাওয়ার লোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানা গোজামিল মিশ্রিত লেখা লিখে দেয়। এগুলা লাখ লাখ মানুষও ঠিক ভেবে গ্রহণ করছে। অথচ, একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলেই যুক্তির ভ্রান্তিগুলো ধরে ফেলা যায়। একটা যৌক্তিক সমাজই পারে আমাদেরকে নানা হুজুগ আর গুজবে কান দিয়ে নিজের ও অন্যদের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখতে।
বইটি খুব সহজবোধ্যভাবে নানা ভ্রান্তির বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার বিশাল জগতে প্রবেশের প্রথম পাঠ হিসেবে সহজেই একে রিকমেন্ড করা যায়। বইটিতে এমন অনেক ভ্রান্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছি যেগুলো আগে অকাট্য সত্য বলেই ধরে নিতাম। কিশোর থেকে বৃদ্ধ- সবার মনের দুয়ারে নাড়া দেয়ার মতোই একটি বই।