📜 কবিতা পড়তে আমার খুব ভালো লাগে, কিন্তু কবিতা এমন একটা জিনিস যা সবসময় পড়া যায় না । তাই, গতবছর বইমেলায় কেনা বইটি এতদিন ছুঁয়েও দেখা হয়নি । এখন বসন্তকাল... এটাই যেন সঠিক সময় রুদ্র গোস্বামী'র কাব্যগ্রন্থ ‛অভিযোগ নেই’ ছুঁয়ে দেখার ।
📝 এই কাব্যগ্রন্থের নামটি কি অদ্ভুত, মায়াময়... এই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রতিটি মানুষই যখন অভিযোগ - পাল্টা অভিযোগের তীরে জর্জরিত, তখন কবি তার কাব্যগ্রন্থের নাম রাখলেন ‘অভিযোগ নেই’ । কারণ, কবি রুদ্র গোস্বামী মানেই আমরা জানি ‘প্রেম’ বা ‘ভালোবাসা’.... সেই ভালোবাসায় কখনো আসে ‘বাংলা ভাষা’র কথা, কখনো আসে আমাদের এক অক্ষরের পৃথিবী - ‘মা’এর কথা, আবার কখনো বসন্তকাল এবং পলাশ ফুলের কথা ।
▪️এই কাব্যগ্রন্থের ৪৮টি কবিতা... প্রতিটি কবিতাই প্রিয় মানুষগুলোর জন্য, ভালোবাসার জন্য... এখানে কোনো ’অভিযোগ নেই’ । কবি যেন এই কবিতাগুলির মাধ্যমে বারবার বোঝাতে চেয়েছেন - যদি তুমি সত্যি সত্যি ভালােবাসতে জানাে, তাহলে পৃথিবীর সমস্ত পরিস্থিতি তােমার পক্ষে, সব মানুষই তােমার কাছের, তােমার নিজের প্রিয়জন । এই বর্তমান সমাজে দাঁড়িয়েও একজন মানুষ শুধু ভালোবাসার মাধ্যমেই সত্যিকারের ‘অভিযােগ-হীন’ উঠতে পারেন... আর যে পথে হেঁটে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন সেই পথটির নামই 'অভিযােগ নেই’ ।
📝 এই কাব্যগ্রন্থের খুব প্রিয় কিছু লাইন তুলে ধরতে চাই...
▪️এই বইয়ের প্রথম কবিতাটিতে কবি ‘বাংলা ভাষা’র জন্য লিখেছেন -
"তােমাকে যত্ন করতে পারিনি একজন মানুষকে যেভাবে যত্ন করা যায় । প্রাণের ভিতর থেকে তােমাকে বাইরে নামাব, বলাে অতাে কি সহজ? আমার বাংলা ভাষা তুমি যত্নের চেয়েও বড়াে ।”
▪️‘মা দিবসের কবিতা নয়’ কবিতাটিতে কবি বলেছেন -
"একদিন মাকে বললাম, মা এমন কেন হয় ? মা বললেন, 'পাখার একটা পা । তােমার পা, দুটো । এইযে তােমার প্রথম স্বপ্ন ছিল, আমার সঙ্গে নদী চিনতে যাবে ভাবাে তাে, নদীকে প্রথম চিনতে গিয়ে কতটা হেঁটেছ ?' দেখলাম তাই তাে । মায়ের সঙ্গে হেঁটেই তাে প্রথমে আমি নদী চিনেছি !
সেই থেকে ফেরিওয়ালার সঙ্গে আমার তুমুল ঝগড়া । সেই থেকে আমি জানি এই পায়ে হাঁটাটাই হল আমাদের স্বপ্নকে ছোঁয়ার প্রস্তুতি, আর আমাদের এই স্বপ্নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব চে' বড়াে সাহসের নাম 'মা'।”
▪️ এখন যেহেতু বসন্তকাল, তাই ‘সময় এখন অবাধ্য খুব' কবিতাটি ভীষণ প্রাসঙ্গিক । কবি এখানে বলেছেন -
"বাইরে এখন বসন্ত খুব বুকে চার অক্ষরের পলাশ ফোটে এই বেহায়াবেলায় দোষ দিবি কি ? তাের হৃদয় ছুঁতে যদি হৃদয় ছােটে"
এখানে ‘চার অক্ষর’ অর্থাৎ "ভালােবাসা", ভালােবাসা আসলেই পলাশ ফুলের মতন সুন্দর ।
▪️এখন এই সংকলনে আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিতা থেকে কয়েকটা লাইন -
“কেউ একটা তাে চাই, খােলা জানালার মতা আমাকে আকাশ দেখাবে । বলবে ‘এখানে ঠিকানা রেখে তুমি পাখি হয়ে যাও’।
কেউ একটা তাে চাই, হাওয়ার শিসের মতাে কানে এসে বলবে ‘আমাকে ছাড়া কারো প্রেমে পড়তে নেই।”
📜 এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই এতটা ভালাে যে... সব কবিতাই আমার একটু একটু করে বলতে ইচ্ছে করছে । বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কয়েকটি লাইন দিয়েই শেষ করি বরং -
“মেনে নিতে রাজি যাবতীয় কষ্ট অনাহার অনিদ্রা যন্ত্রণা সুখ, শুধু প্রতিটি মানুষের মনে একটি করে মানুষের বাস হােক ।”