মেঘনার তীরে ছোট্ট এক কলোনি থেকে আলোচিত তিন সুন্দরীর একজন গায়েব হয়ে গেল। তরুণ ডাক্তার মিথুনের বিশ্বাস মেয়েটি কলোনি থেকে বের হয়নি। পুলিশের ধারণা অন্যরকম। তাদের চোখ বাইরে। অগত্যা ডাক্তারি ছেড়ে ফেলুদার ভূমিকায় নামলো মিথুন।
নিখোঁজ চৈতীর বান্ধবীরা মিথ্যা বলছে পুলিশকে। কেন?
জল ঘোলা হচ্ছে বদ্ধ হাউজিং সিস্টেমের রক্ষণশীল পরিবেশে। চরিত্রদের মধ্যে যেমন আছে মাথাগরম তরুণ ক্রিকেট সেনসেশন রাহাত রহমান - কয়েকবার জাতীয়দলে সুযোগ পেয়েও নিজেকে যোগ্য প্রমাণে ব্যর্থ, তবে কলোনির গর্ব৷ আছেন ডায়াগনসিসের ঈশ্বর প্রবীণ ডাক্তার শাহনেওয়াজ। নীতিতে অটল গণিতের শিক্ষক, সন্তান হারিয়েও বরফের মত ঠাণ্ডা মাথার একজন পিতা, মাঝবয়েসী ফ্রাস্ট্রেটেড আংকেল সমাজ এবং বলাই বাহুল্য, পিছিয়ে নেই পাশের বাসার আন্টিরাও।
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
যেমন ধরুন, নোটেবল চরিত্রগুলোর বিশেষ কিছু কমন ট্রেইট থাকে। তারা স্পষ্টভাষী হয়, সকলেই গভীর জীবনবোধ সম্পন্ন এবং উন্নত আইকিউর অধিকারী।
তারপর, প্রতিটা বইয়েই সমাজের কোনো বিশেষ বিশেষ অসংলগ্নতায় আলোকপাত করেন লেখক। প্রচ্ছন্নভাবে চরিত্র গুলোর মাধ্যমে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সুচিন্তিত এবং বেশ ব্যতিক্রমধর্মী হয়।
এই দুইটা ব্যাপার, প্লাস কেপির ঝরঝরে লেখা – মিলেমিশে ফলাফল হয় একটা উপভোগ্য উপন্যাস।
‘মায়াবনবিহারিনী হরিণী’ ও এর ব্যতিক্রম না। তবে এই উপন্যাসে আরেকটা জিনিস খেয়াল করলাম। গল্পকথক নিজেই তৃতীয় পুরুষে উপন্যাসের চরিত্রের মোটিভ বিশ্লেষণ করেছে।
এলাকার হুর-পরী চৈতী হঠাৎ করে একদিন অন্তর্ধান। কাহিনী এই নিয়ে এগিয়েছে। পড়তে শুরু করলে একসময় খেয়াল করবেন –কে গুম করেছে? – তারথেকে বেশি জানতে চাচ্ছেন, কেন গুম করলো?
বেশ ফাস্ট পেসড্ উপন্যাস। কাহিনীর থেকে চরিত্রগুলো বেশি টেনেছে আমাকে। লেখক নিজেও জানেন এমন কিছু হবে। এজন্যই বোধহয় শেষের দিকে এতো বেশি এক্সপোজিশন ছিল। ধর্ষণ, সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে যেসব প্রশ্ন তুলেছে চরিত্ররা, সেগুলোও বেশ ইনসাইটফুল।
ঠিক টানটান উত্তেজনা না থাকলেও পুরো কাহিনি মেদহীন ও ঘটনাবহুল হওয়ায় পড়তে ভালো লেগেছে। আমাদের বদ্ধ, পশ্চাৎপদ সমাজ থেকে কেন একজন অপরাধী তৈরি হোলো তার ব্যাখ্যা কিছুটা সরলীকৃত। কিন্তু অপরাধের শিকাররা কেন ফাঁদে পড়লো, কেন অন্যদের কিছু জানালো না সেই ব্যাখ্যাটা বেশ যুক্তিসংগত। কথা বলার ও চিন্তাভাবনার অনেক উপাদান আছে গল্পে।
স্বয়ং লেখক যখন বলেন এবারের মেলার অন্যতম সেরা নভেলা তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশাটা অনেকখানি বেড়ে যায়। কিন্তু সেটা একদমই পূর্ণ হলো না। মূল যেই কথাটা তিনি বলতে চেয়েছেন যে সমাজের কিছু ট্যাবুই অপরাধী তৈরির সবচেয়ে বড়ো কারিগর সেই কথাগুলোর সাথে এগ্রি করি। তবে ক্রাইম ফিকশন হিসেবে মনমতো হলো না। ১২০ পেজ অব্দি একটা সাসপেন্স যদিও ছিলো কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত বোরিং। একই বৃত্তের মাঝেই আসতেছে ঘুরেফিরে- এমন মনে হচ্ছিলো।
লেখকের লেখায় ইদানীং এক্সট্রা ডিটেইলিং আ্যড হয়েছে। স্পেশালি কারো চেহারার বা দেহগঠনের বিবরণে। যা সত্যি বলতে বিরক্তিকর লেগেছে কিছুটা। লেখক হয়ত চেয়েছেন তিনি যেভাবে চরিত্রগুলোকে Picturize করেছেন - বাকি সবাই এক্সাক্টলি সেভাবেই কল্পনা করুক। কিন্তু এতটা দরকার হয় না আসলে। পাঠক গল্পের সাথে নিজেদের মত করে চরিত্রগুলো কল্পনা করে নিতে পারে। স্পেশাল কেস ছাড়া এতটুক স্বাধীনতা পাঠকের থাকা উচিত।
এগ্রেসিভ সংলাপ নিয়ে যে সমালোচনা এসেছে এই বইটি ঘিরে - সেরকম কিছু আমার মনে হয় নি। তিনি যেরকম টিনেজার পোট্রে করতে চেয়েছেন সেভাবে ইমাজিন করতে খুব বেশি সমস্যা হয় নি।
লেখক সোশ্যাল মিডিয়াতে "এই বইতে সেক্স রিলেটেড কথাবার্তা বেশি" টাইপ স্ট্যাটাস - বইয়ের মার্কেটিং পলিসি হিসেবেই ইউজ করেছেন ইহা স্পষ্ট। 😅 কারণ খুব বেশি সেন্সিটিভ মানুষ ছাড়া কারো প্রব্লেম হওয়ার মত বই নয় এটি। কেপির টার্গেট অডিয়েন্স, এবং যারা কেপির বই কিনবে তারা অধিকাংশই যে সেই জনরার মানুষ না - লেখক নিজেও এটা জানেন।
শেষ কথা: Message delivery was good. Story was average. Not as good as writer promised.
মায়াবনবিহারিনী হরিণী, গহন স্বপন সঞ্চারিনী, কেন তারে ধরিবারে করি পণ, অকারণ, মায়াবনবিহারিনী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - মায়াবনবিহারিনী হরিণী - মায়াবনবিহারিনী হরিণী বইটির পটভূমি শহরের বাইরে মেঘনার পাড়ে এক পরিত্যক্ত চিনিকলের পাশেই গড়ে ওঠা এক ছোট কলোনি। ঘনবসতিপূর্ণ এক কলোনি হওয়ায় এই কলোনির প্রায় সবাই সবার পরিচিত। তাই হঠাৎই যখন সেই কলোনির এক পরিচিত মেয়ে হারিয়ে যায় তখন কলোনির সবাই উদ্বেগের-উৎকণ্ঠার ভেতরে পরে যায়।
চৈতি নামের সেই মেয়েটি হারিয়ে গেলে এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে জড়িয়ে পড়েন তার দুই বান্ধবী নাদিয়া আর মালিহা, ডাক্তার মাসুদ, উঠতি ক্রিকেটার রাহাত সহ আরো অনেকে। পুলিশ ইন্সপেক্টর ইকলাচ এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। এখন কেন এই বন্ধুবৎসল কলোনির এক মেয়ে এভাবে হারিয়ে গেল এবং এর পেছনে কে কলকাঠি নাড়ছে তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক কিশোর পাশা ইমন এর ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার উপন্যাসিকা মায়াবনবিহারিণী হরিণী। - মায়াবনবিহারিণী হরিণী মূলত একটি ছোট কলোনীভিত্তিক মিস্ট্রি এবং ক্রাইম ঘরানার থ্রিলার যার প্রায় পুরো ঘটনাপ্রবাহই সেই কলোনির ভেতর ঘটে। মায়াবনবিহারিণী হরিণী উপন্যাসিকাটির শুরুটা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে, ধীরে ধীরে কলোনির নানা রকমের মানুষের সাথে পরিচয়ের সাথে সাথে ঘটনা আগাতে থাকে এবং রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। তবে বইটি শেষে সেই রহস্যের যবনিকাপাত অনেকটাই নির্বিষ লাগলো। এই বইয়ের মাধ্যমে লেখক যে ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন তা ক্লিয়ারলি বোঝা গেছে, তবে এই থিমের উপরে বেশি ফোকাস দেয়ায় স্টোরি অনেক সময় খানিকটা আউট অফ ফোকাসে চলে গিয়েছে। - মায়াবনবিহারিণী হরিণী বইয়ের প্লটের সাথে কাহিনিশৈলী বেশ ভালোভাবেই মিশে গিয়েছে। তবে মাঝে মধ্যেই বইয়ের চরিত্রগুলোর নিজস্ব দর্শনের বিশদ বর্ণনা করতে গিয়ে কাহিনি স্লো হয়ে গিয়েছে। লেখকের আগের কিছু বই পড়া থাকায় জানা ছিলো উনার লেখার অন্যতম শক্তিশালী দিক বইয়ের চরিত্রগুলো। এই বইয়ের মূল চরিত্রগুলো এবং বইতে তাদের স্ট্যান্ড মোটামুটি বুঝতে পারলেও কলোনির কয়েকটি গোষ্ঠীকে একেবারে জেনারেলাইজ করে দেখানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে। - মায়াবনবিহারিনী হরিণী বইয়ের প্রোডাকশন মোটামুটি ভালোই। সম্পাদনায়ও তেমন কোন মেজর মিস্টেক চোখে পড়েনি। তবে বইটি সম্পূর্ণ পড়ার পরেও বইয়ের কাহিনির সাথে ফ্রন্ট কভারের কোন মিলই পেলাম না, মনে হলো যেন র্যান্ডম কোন ছবি প্রচ্ছদে বসিয়ে দেয়া হয়েছে আর ব্যাক কভারে তো একেবারেই ফাঁকা। বইয়ের এই দিকটায় আরো ভালো কাজ করা যেতে পারতো। - এক কথায়, উপন্যাসিকা হিসেবে মায়াবনবিহারিনী হরিণী মোটামুটি চলে, যারা ছোট পরিসরের ক্রাইম থ্রিলার পছন্দ করেন তারা পড়ে দেখতে পারেন। যদিও আমার মতে লেখকের যে ক্যালিবার তাতে আরো ভালো উপন্যাসিকা লেখার ক্ষমতা রয়েছে উনার, তাই লেখকের কাছ থেকে আরো ভালোমানের লেখা আশা করছি সামনে।
2.5/5 একটা কলোনি। পনেরোশ পরিবারের বাস সেখানে এবং সবাই সবাইকে চেনে। সিরিয়াসলি? অবশ্য শুধু চেনাতেই সীমাবদ্ধ নয় তারা প্রত্যেকের সম্পর্কে প্রতিনিয়ত অবগত। এই ব্যাপারটা ঠিক হজম হওয়ার মতো নয়। গল্পের বহু ঘটনাতেও এই চেনা-জানার ব্যাপারটা চোখে পড়ে বিরক্তিই বাড়িয়েছে কেবল।
গল্পে চিরাচরিত চোর-পুলিশ খেলা আছে। মানে লেখক প্রকৃত অপরাধীকে আড়ালে রেখে পাঠককে কতোটা বোকা বানাতে পারেন। তাছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে ট্যাবু এবং ফলশ্রুতিতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটা দারুণভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে৷
তবে আমার সবচেয়ে বিরক্তি উদয় হয়েছে চরিত্রগুলো নিয়ে। এদের পেছনে যথাযথ সময় দেয়া হয়নি। তাই গল্পের চরিত্ররা যখন কষে গালাগাল দিচ্ছে তখন মনে হয় ওদের সাথে ঠিক যাচ্ছেনা, লেখক যেন জোর করেই বসিয়ে দিচ্ছেন। গালাগালি ছাড়াও তাদের অস্পষ্ট আচরণ বহু জায়গায় নজরে পড়েছে। এদের কর্মকান্ডে একাত্ম হতে না পেরে অনেকটা দাতে দাত চেপেই শেষ করতে হয়েছে বই।
আর এই সময়ে এসে এরকম প্রচ্ছদ কে বানায় ভাই? একটা বিল্ডিং ও গেইটের ছবি জোড়াতালি দিয়ে প্রচ্ছদ?
মায়াবনবিহারিণী হরিণি গহন স্বপন সঞ্চারিণী নাহ নাহ ভুল ভাববেন না। আমি মোটেও গানটা নিয়ে বলতে যাচ্ছি না৷ যাচ্ছি কেপি ভাইয়ের লেখা উপন্যাসিকা “মায়াবনবিহারিণী হরিণী” বইটা নিয়ে। কাহিনি সংক্ষেপ -- গল্পটা মেঘনার তীরের ছোট্ট এক কলোনির। যেখান থেকে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায় একটি মেয়ে। কলোনিরই তরুণ ডাক্তার নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় যে করেই হোক মেয়েটিকে খুঁজে বের করবে। গল্পে আছে কলোনির ক্রাশ সেনসেশনাল ক্রিকেটার রাহাত। যাকে স্বপ্নে পেতে চায় প্রতিটি মেয়েই। আছে এক প্রবীণ ডক্টর আর গণিতের শিক্ষক।
পাঠ প্রতিক্রিয়া - একটানে একশ ষাট পেজের বইটি পড়ে শেষ করে ফেললাম। বুঝতেই পারছেন লেখনশৈলী আর গল্প বলায় কেপির দক্ষতা। এই বইটিতেও কেপির অন্য সব বইয়ের মতো কেপিয় বৈশিষ্ট আছে। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে সমাজের কিছু প্রচলিত সমস্যাকে ইঙ্গিত কর হয়েছে। যদিও আমি পারসোনালি মনে করি উনি বই লেখার সময় দর্শণ থেকে কাহিনীতে ফোকাস পেলে সাহিত্য চমৎকার কিছু পাবে। এই বইটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো একদম শুরু থেকেই গল্পে একটা আকর্ষন কাজ করে যে আসলেই তো কি হলো! কী হতে চলছে?সেই আকর্ষনের সাথে সাথে বইয়ের পেজ পার হতে থাকে। কেপি যেমনটা চেয়েছেন মোটামুটি সফল ভাবেই যাদেরকে সন্দেহ করাতে চেয়েছেন পেরেছেন। এখন যদি আমি চরিত্রগুলোর দিকে যাই। নাদিয়া আর মিথিলার চরিত্র কিছুটা স্ট্যাবিলিশ করতে পারলেও আমার কাছে মনে হয়নি রাহাত চরিত্রকে যতটা স্ট্যাবিলিশ করা দরকার ছিল ততটা পেরেছেন। রাহাতের পারসোনাল জীবন প্রায় অন্ধকারে। যদিও ভাই ভূমিকায় লিখেছেন চরিত্রগুলো নিয়ে আরও লেখার ইচ্ছা আছে উনার। আমি যদি অনেস্টলি বলি উনার স্টেটমেন্ট ছিল এই বইটা মেলার অন্যতম সেরা থ্রিলার সে হিসেবে আমার এক্সপেক্টেশন বড়বেশি বেড়ে গিয়েছিল। তাই গিয়ে কিনে এনেই সবার প্রথমে পড়তে বসলাম। জানি না কি খুঁজছিলাম! তবে উনি যেমনটা বলেছেনে চাহিদারা হন্যে থেকে বেটার। হ্যাঁ একমত। পড়া শেষ করে স্যাটিসফাইডই লাগছে। রিডিং ব্লক বা ছোট একটা বই যেটা সহজেই শেষ হয়ে যাবে কিন্তু টেনে রাখবে এরকম বই খুঁজলে এই বইটা অবশ্যই আদর্শ একটি বই। জাদুঘরের সিকুয়েলের অপেক্ষায় রইলাম।
পড়ে ফেললাম মায়াবনবিহারিণী হরিণী। ১৬০ পৃষ্ঠার গল্প। বাংলাদেশের হিসাবে যাকে উপন্যাস বলে, লেখক তাকে বলছেন উপন্যাসিকা। যদিও পড়ার পর মনে হচ্ছে, শব্দের হিসাবে না হলেও, ক্যানভাসের হিসাবে এটাকে উপন্যাস বলাই যায়। গল্পটা আটকে রাখতে পেরেছে। দুই-তিন অধ্যায় পড়ার পর আর থামতে ইচ্ছে করেনি। এক বসায় পড়া যায়।
ছোট একটা সোসাইটি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে চৈতি নামের একটি মেয়ে। এখানে তার বান্ধবীরা আছে, বিখ্যাত এক উঠতি ক্রিকেটার, মানে সেলিব্রেটি আছে, ক্রাশ আছে, আর আছে সোসাইটির মধ্যকার মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দন্ধ। এই দন্ধ, তাদের 'অন্যদের নিয়ে মুখোরোচক সমালোচনা' ইত্যাদি সব মিলে চৈতির হারিয়ে যাওয়ার কী হলো? - গল্প নিয়ে এর বেশি বলার নেই। বাকিটা পড়তে হবে।
এই লেখার মূল কথা, সমাজের তৈরি মিথ্যে ভদ্রতার মুখোশ ও তার স্ট্যান্ডার্ড এবং সেটা কীভাবে খুন বা ধর্ষণের মতো সত্যিকার অপরাধকে চাপা দিয়ে রেখেছে। ভদ্রতার দোহাই দিয়ে অপরাধ নিয়ে আলোচনা না করে মুখ বুজে থাকলে যে আরও অপরাধী তৈরি হয়, সেটাই এই বইতে এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করেছেন কিশোর পাশা ইমন।
অনেকেই তার এখানে দেখানো চরিত্র চিত্রায়নের সাথে একমত হবেন না, তার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হবেন না। কোনো লেখার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে একমত করা না, তার চিন্তাকে উসকে দেওয়া। যারা তার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হবেন, তাদের চেয়ে যারা একমত হবেন না - তাদেরই বোধ হয় একটু বেশি চিন্তা করতে হবে!
বইটা পড়ে আমি মজা পেয়েছি। তবে মনে হয়েছে, এ ধরনের গল্পে চরিত্রদের ভাষাকে এত এক্সট্রিম না করলেও হতো হয়ত। এটা অবশ্যই লেখকের স্বাধীনতা। মনস্তাত্ত্বিক দিকটা-ই আমার বেশি ভাল লেগেছে।
কিশোর পাশা ইমন পারফেকশনিস্ট ধাঁচের লেখক। নিচের অংশটুকু তাঁর জন্যই লিখছি। টুকটাক এডিটিং অভিজ্ঞতার কারণে এখন অনেক কিছু চোখে পড়ে। কোথাও এক লাইনে শুধু একটা শব্দ রয়ে গেছে, ভ্রু এবং এরকম শব্দে উ-কার পাশে না এসে নিচে চলে এসেছে, নতুন উপ-অধ্যায়ের (স্টারের পর) শুরুতে ইন্ডেন্টেশন দেওয়া, চরিত্রের ডায়ালগে আঞ্চলিক ভাষা এবং ভিন্ন টোন দেখানোর পর পাশাপাশি একাধিক চরিত্র (যেমন, নাদিয়া-রাতুলের) কথার টোনে মনোটোনাস ভাব চলে আসা, মায়াবনবিহারিণীর অতিরিক্ত ব্যবহার (বিশেষ করে শেষের পৃষ্ঠায়) এড়ানো যেত হয়তো। শেষেরটা বিশেষ করে। বুঝেছি, নামের জন্যই ওটা অমন করা হয়েছে। কিন্তু বাড়তি ব্যবহার মনে হয়েছে। এসব আমার বলাটা হয়তো বেশি বেশি, বলার মতো অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু পড়ে এরকম মনে হলো। গতবারের জাদুঘরে যে সংযম, ডায়ালগে যে ভ্যারিয়েশন ইত্যাদি ছিল, সেটাই বোধ হয় এসব চোখে লাগার একটা বড় কারণ।
তবে এই ছোট কলেবরে সব চরিত্রকে যেভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে, তা এক কথায় দারুণ। সব মিলে এই হচ্ছে মায়াবনবিহারিণী হরিণী। প্রকাশক: অবসর।
এই বইটা বেশ অনেকদিন মনে থাকবে। এর গল্পের জন্য না। গল্পকে পাশ কাটিয়ে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি, ফিলোসোফি গুলোর জন্য। লেখকের বইগুলোতে ফোকাসড প্রোটাগনিস্ট চরিত্র গুলোর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা সবাই বোল্ড, স্পষ্টভাষী, ক্রিয়েটিভ থাকে। এই বইয়েও তেমনই ছিলো। লেখক অপরাধের মোটিভ, ধর্ষণ, সোশ্যাল ক্রাইসিস বিষয়ক চিন্তাধারা ডাক্তার, নাদিয়া, মিথিলা চরিত্রদের দিয়ে বলেছেন, চিন্তা করিয়েছেন। কলোনির মিডল ক্লাস পাশের বাসার দুমুখো আন্টি-আঙ্কেলদের মুখে জামা ঘষে দিয়েছেন যুক্তির বাহারে।
তবে জামা ঘষার সাইড ইফেক্টটা গল্পতে এসে পড়েছে। গল্প বেশ ফাস্ট হলেও বারবার মনে হচ্ছিলো ট্র্যাক ছেড়ে যাচ্ছে। শুরু থেকে লেখক বেশ রসিয়ে রসিয়ে রহস্য জমালেও শেষের দিকে পুরো টুইস্ট নির্ভর হয়ে গেছে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, রাতুল, মিথিলা চরিত্রের চিত্রায়ণও হয়নি। তাছাড়া কিছু কিছু জায়গায় স্ল্যাং, অযাচিত বর্ণনাও সুবিধার লাগেনি।
বইয়ের পার্শ্ববিষয়গুলো চিন্তার খোরাক জোগাবে, এই জায়গাটাতে বইটা প্রায় পুরো মার্ক পেলেও, গল্পে আধাআধি পাচ্ছে।
সাধারণ একটা কাহিনী।একটা কলোনি,৩ টা সুন্দরী মেয়ে যারা একে অপরের বান্ধবী।এরপর একজন নিখোঁজ হয়ে যায়।এরপর সেটার খোঁজ দ্য সার্চ শুরু করা হয়। কিন্তু নভেলার মূল যেই জিনিসটা সেটা হল একটা মেসেজ।আমাদের এই সমাজের পচে যাওয়া একটা দিক স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে(যা কেপির প্রায় সব বইতেই আছে)।কিছু অসংগতি অবশ্যই আছে গল্পে।যেমন গল্পের তিনটি মেয়েকে যেভাবে প্রেজেন্টেশন করা হয়েছে বা পুলিশ অফিসার কেও অর্কমা দেখানো হয়েছে।তাই সব মিলে ৩.৫ স্টার।
প্রতিটা বইতেই একজন লেখক একটা সুক্ষ্ম ম্যাসেজ রেখে যান। সেটা জেনে হোক, না জেনেই হোক। কিশোর পাশা ইমন বেশ প্রত্যক্ষভাবেই তার বইগুলোতে চেষ্টা করেন এই সমাজের পঁচে যাওয়া দিকগুলোতে আঙুল তুলে দেখাতে। যেটার জন্য তিনি বেশ সমাদৃত। ধারাবাহিক ভাবেই এই উপন্যাসিকাটিতেও তিনি একটি বিশেষ ম্যাসেজ পৌছাতে চেয়েছেন। বইটার চমকপ্রদ দিক হলো প্লটটা একটা ছোট আবাসিক এলাকা কেন্দ্রিক। এর বাইরে গল্প একটুও যায়নি। সেই এলাকায় থাকা মানুষদের কালচার, ছোট মানসিকতা, আন্টিদের সম্প্রচার, ভালো সাজার মিথ্যে মুখোশ ইত্যাদি নানা অসংগতি উঠে এসেছে গল্পে। আমারও বেড়ে ওঠা একটা ছোট কলোনিতে। তাই গল্পের খোঁচাগুলো আমিও টের পেয়েছি ভালোমতোই। গল্পটা এক কিশোরী হারিয়ে যাওয়া থেকে শুরু হয়। এলাকার এক তরুণ ডাক্তারের নিজ দায়িত্বে নেয়া আনাড়ি ইনভেস্টিগেশনের সাথে সাথে গল্প আগায়। বেশ ফাস্ট পেসড বই। টানা শেষ করতে বাধ্য হয়েছি। ভালো লেগেছে। খুব বেশি না হলেও, ভালো। উপভোগ করেছি।
ভালো লাগার দিক হলো ঝরঝরে বর্ণণাভঙ্গি, ভিন্ন আঙ্গিকের চিন্তাধারা, ক্যারেক্টার বিল্ডাপ, চুম্বকের মতো ধরে রাখার ক্ষমতা। ভালো না লাগার অংশ হলো গালিগালাজ কিংবা হিউম্যান বিহেভিয়ার বয়স অনুযায়ী মেলেনি বেশ কিছু চরিত্রের, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যা বলে। আর ঘটনানুযায়ি কিছু কিছু জায়গা ওভার ড্রামাটিক হয়ে গিয়েছে যেটা বাস্তব সম্মত ভাবতে কষ্ট হচ্ছিলো। এইতো!
বইটাকে নিয়ে কথা বলতে গেলে, প্রথমেই যে জিনিসটা বলতে হবে তা হচ্ছে বইটা 2 layered. একটা লেয়ারে আপনি কলোনীভিত্তিক একটা টিনএজ মেয়ের অন্তর্ধানের কাহিনী দেখবেন, বিভিন্নজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখে; শেষমেষ রহস্যটার সমাধান হতে দেখবেন। whodunit মিস্ট্রি থ্রিলারের এই লেয়ারটার শুরুতেই একটা সাসপেন্স তৈরী হয়। গল্প যতই এগোতে থাকে সাসপেন্সের মাত্রা ততই বাড়তে থাকে এবং শেষে অবশ্যম্ভাবী একটা ধামাকাদার টুইস্টের দ্বারা গল্পটা পূর্ণতা পায়। লেখকের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক অলরেডী থ্রিলার লাভাররা জানেন। হ্যাঁ, লেখনশৈলী। চমৎকার প্লটের সাথে লেখকের দারুণ সাবলীল ভাষা এবং অনন্য লেখনশৈলীতে গল্পের পটভূমি হিসেবে উঠে এসেছে টিপিক্যাল এক কলোনী। ছোট বেলায় কলোনীতে থাকার সুবাদে অনুভব করতে পেরেছি লেখক কতটা অ্যাকুরেটভাবে কলোনী অল্পভাষায় তুলে ধরেছেন। এখানে দেখা মিলেছে গসিপলাভার আন্টির, দেখা মিলেছে বাতাসের আগে খবর ছড়িয়ে পড়ার 'কলোনীয়' চিরাচরিত বৈশিষ্ট্যসহ আরো বেশ কিছু। উপন্যাসিকাতে ডিটেইলড ক্যারেক্টার আশা না করলেও যতটুকু ক্যারেক্টারাইজেশন আশা করেছিলাম ততটুকুও মেলেনি। মানছি বর্তমান টিনএজ জেনারেশনের ১৭-১৯ বছরের ছেলে-মেয়েদের সাথে আমার বয়সের মানুষের আচার ব্যবহারে বেশ ভালো পার্থক্য আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নাদিয়া, মিথিলার মুখ থেকে; তার চাইতে বড়, একদমই ফরমাল, কম ইন্টার্যাকশান হওয়া মানুষের উদ্দেশ্যে গালি-গালজ ওয়ালা যে ভাষা বের হয়েছে তা কোনভাবেই ম্যাচ করে না, আমার তো অন্তত তাই মনে হয়েছে। আবার ৫ বয়সের নাদিয়াকে স্কুলের ১ম দিনে যেভাবে কনফিডেন্ট, চতুর ভাবে আঁকা হয়েছে সেটাও খাপছাড়া মনে হয়েছে, অন্ততপক্ষে এই অ্যাটিচুডের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরী দাবী করে।
ইন্টারেস্টিং হচ্ছে সেকেন্ড পার্টটা। যেখানে অপরাধ হবার পেছনে তুলে ধরা হয়েছে কার্যকারণ ও অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। লেখক যে ব্যাপারটার দিকে আলোকপাত করেছেন, যে ম্যাসেজটা দিতে চেয়েছেন সেটা লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। বইতে আরো উঠে এসেছে রক্ষণশীল সমাজ। কলোনীটা যেন টিপিক্যাল মিডল ক্লাস ফ্যামিলির প্রতিভূ। এর ফাঁকে ফাঁকে লেখক বইতে সমাজের নানা নিয়ম, সে নিয়মের সংস্কার, বিচ্যুতি ইত্যাদি নিয়ে তার দর্শন ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছড়িয়ে রেখেছেন। তার সব দর্শনের সাথে একমত হতে না পারলেও লেখার মাঝে তার দর্শনের ইমপ্ল্যান্ট আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশীয় থ্রিলার রাইটারদের মধ্যে থ্রিলারে দর্শন ইমপ্ল্যান্ট করাটা এখন অব্দি আমার চোখে পড়েনি। সো, কিশোর পাশা ইমন, হ্যাটস অফ।
বই পড়া হয় মনের খোরাক মেটানোর উদ্দেশ্যে। থ্রিলারে তো এই উদ্দেশ্য আরো কেন্দ্রীভূত৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু কিছু বই মনের খোরাক মেটানোর পাশাপাশি পাঠকসত্ত্বার বাইরে গিয়েও মানুষ হিসেবে ভাবায়। ৩০০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের ১৬০ পৃষ্ঠার 'মায়াবনবিহারিণী হরিণী' তেমন একটি বই। থ্রিলার পাঠক হোন বা না হোন, এই বইটি আপনার অবশ্যই পড়া উচিত। পড়ার পরে সবার সাথে আলোচনা করা উচিত। কারণ ভীষণ শক্তিশালী ম্যাসেজ দেয়া এই বইটি কেপির অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনার দাবী রাখে বলে আমার বিশ্বাস।
মেঘনা নদীর তীর। ছোট্ট একটি হাউজিং সোসাইটি। মেঘনার ঢেউয়ের মত অকৃত্রিম নয় ওখানকার মানুষজন। বাঙালি মধ্যবিত্ত মানসিকতার অভিশাপে পুষ্ট অগনিত কলোনির একটি মাত্র ওটি। একধরণের মিথ্যা বিশুদ্ধতায় যথারীতি জীবনযাপন করতে চায় ঐ জায়গার প্রায় সবাই।
নাদিয়া, চৈতি এবং মিথিলা। রক্ষণশীল এলাকার আলোচিত তিনজন সুন্দরী। আকস্মিকভাবে হারিয়ে যায় চৈতি। কারো ধারণা প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে সে। আবার কারো ধারণা কলোনি থেকেই বের হয়নি এবারের ইন্টার পরীক্ষার্থী মেয়েটি।
প্রিয় বান্ধবীকে খুঁজে বের করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মিথিলা ও নাদিয়া। পুলিশ তদন্তে নেমেছে। তবে বদ্ধ ঐ সমাজের অনেক কিছুই পুলিশ জানে না। তাই ডাক্তার মিথুন গোয়েন্দা তৎপরতায় নেমে যান। ডায়াগনসিসের প্রবীন ডাক্তার শাহনেওয়াজ মিথুনের সিনিয়র। শিষ্যকে এই তদন্তে সহযোগিতা করতে চান তিনিও। শেষ রক্ষা কি হবে?
একটি পশ্চাৎপদ সমাজব্যবস্থায় বেশিরভাগ মানুষের মননশীলতা লোপ পায়, মগজ পরিণত হয় ঘুনের স্বর্গে। নিজেকে মিথ্যা মিথ্যা বিশুদ্ধ দেখানোর চক্রে পড়ে সৃষ্টি হয় ভয়ানক সব দানবের। মানুষরূপী দানব। গল্পে সন্দেহের তালিকায় চলে আসেন জাতীয় দলের ব্যর্থ ক্রিকেটার রাহাত, একজন লম্পট দোকানী, চৈতির প্রেমিক এবং আরো অনেকে। কলোনি থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা কেউ চৈতিকে বের হতে দেখেনি। তাহলে সে গেল কোথায়?
কলোনিতে আছেন মিড লাইফ ক্রাইসিসে ভুগা বুড়োদের দল। বাংলাদেশের যেকোন গতানুগতিক নাগরিকের মত দৃষ্টিভঙ্গি তাদের প্রত্যেকের। আছেন 'পাশের বাসার আন্টি' রা। নিজ জীবনের চেয়ে অন্যের চলাচলে যাদের সতর্ক দৃষ্টি, যেন এক একজন এসপিওনাজ এজেন্ট। আছে বিভিন্ন রকমের বাতিল হয়ে যাওয়া ধ্যান-ধারণা এবং কর্মকান্ডের সমাহার। এর মাঝে পুলিশের তদন্তে নাক গলানোর অপরাধ থেকে গা বাঁচিয়ে ডাক্তার মিথুন কতদূর যেতে পারবেন? যেখানে প্রাণ রক্ষা করাটাই কঠিন হয়ে পড়ছে তাঁর এবং আরো অনেকের।
কিশোর পাশা ইমনের উপন্যাসিকাটি আমার মনে হয় আন্ডাররেটেড। লেখক যথারীতি রহস্যরোমাঞ্চের যাত্রার মধ্য দিয়ে সমাজের আরেকটি স্তরের সাথে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আমি এখন পর্যন্ত কেপির চারটি বই পড়েছি। তাকে কখনো খারাপ লিখতে দেখিনি। তাঁর জাদুঘর সিরিজ অথবা ডিসটোপিয়ার সাথে এই গল্পের প্লটে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। হিরো এখানে প্রায় অপ্রতিরোধ্য নয়। এই বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা হয়তো এই আখ্যান পড়ে আরো বেশি পছন্দ করতে পারেন। কারণ বর্তমান প্রজন্মের মনস্তত্ত্বের অনেক নির্ভেজাল এবং প্রাঞ্জল উপস্থাপনা আছে এই গ্রন্থে।
সমাজের স্তরে স্তরে ঠিক চোখের সামনে লুকিয়ে থাকা অপরাধী এবং অপরাধ সনাক্তকরণ করেছেন লেখক মিনিমালিস্ট এপ্রোচে। ক্রিমিনোলজির বেসিক কিছু বিষয় জানা হয়ে যাবে পাঠকের বইটি পড়া শেষ করতে করতে। গল্পকথনে কেপি বর্তমানে সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে সেরাদের একজন। উপন্যাসিকাতে অনেকসময় লেখকরা বিভিন্ন গ্যাপ নিজ ব্যক্তিত্ব অথবা পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে জেনে বা না জেনে পূর্ণ করেন। 'মায়াবনবিহারিনী হরিনী' এই দোষ থেকে মনে হয় মুক্ত।
আমাদের সমাজব্যবস্থা ভন্ডামির বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে লুকিয়ে থাকা ভয়ানক সাইকোদের থেকে মুক্ত নয়। এই বিষয় অনেকসময় মনটা বিষন্নই করে দেয়। কারণ গড়পড়তা চিন্তাভাবনার মানুষের মন এক অন্ধকার গুহা। রবীন্দ্রনাথ রচিত এই সুন্দর গানটিও মনকে বিষন্ন করে দেয়।
আমার পড়া লেখকের প্রথম বই এটি। পাঠকমহলে উনার এত খ্যাতির কারণে স্বভাবতই আমার বেশ আশা ছিল বইটা নিয়ে। কিন্ত সত্যি বলতে বইটা আমাকে আশাতীত করল।
কারণ হিসেবে বলা যায় সম্পূর্ণ কাহিনীই সেই কলোনির চরিত্রদের নিয়ে। কলোনির বাইরের কোনো ঘটনাই নেই, ঘুরেফিরে একই চরিত্র, একই ওয়ে অফ সিন । যাস্ট একজন ঘটনা এখন জানল তো অন্যজন পরে। সব মিলিয়ে শুরুতে বেশ বোরিং মনে হচ্ছিলো। অন্য একটি কারণ চরিত্রের সাথে তাদের সংলাপ কেমন জানি দুর্বোধ্য ঠেকেছে। তাছাড়া কয়েক জায়গায় সত্যিকার অর্থেই অনেক নাটকীয় হয়ে গিয়েছে। যেমন যেখানে বারবার বলা হচ্ছে কলোনি হলো বিবিসির মতো কোনো খবর ই গোপন থাকেনা সেখানে মিথুন, রাহাত, চৈতী, নাদিয়া এদের সাথে এত কিছু হলো অথচ মহল্লায় কোনো খবর নেই।
তবে শেষাংশে মারাত্মক স্পিডে ঘটনা ঘটতে শুরু হলো। এবং একে একে চৈতির নিখোঁজ এর সকল জট খুলতে লাগলো। তখনই গল্পের মধ্যে আরও ঝেকে বসলাম। চরিত্র লেখকের বুলি বলে। লেখক যেভাবে আমাদের সমাজের প্রচলিত কিছু নিয়ম(অ), ট্যাবু সামনে তুলে ধরল যা আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও সমাজের আসল নষ্টের মূল।
কাহিনীর উপসংহারে আমার মনে হলো ব্যস, এই একটা ব্যাপারের জন্য এত কাহিনী, এত খুনাখুনি? তখনই খুনির সংলাপ মনে পড়লো, 'পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ানক ক্রাইমগুলো হয় খুব ছোট কিছুর জন্য'।
কেপির বই আমার সবসময়ই লিস্টে থাকে, এটাও তার ব্যতিক্রম ছিলো না, এবারের বইমেলায় ঢুকে প্রথম কেনা বই এইটি।
বরাবরের মতোই কেপি তার লেখনীর আলাদা ধাঁচ বজায় রেখেছেন। তবে নাদিয়া আর মিথিলার চপলতাকে মুখের ভাষায় প্রকাশ করতে গিয়ে যে কাজটা করেছেন, খুব একটা স্বাভাবিক মনে হয়নি। এ বয়সের মেয়েরা এমন হয় বটে, তবে তা বন্ধুবান্ধবদের সাথে, যাকে ভালোবাসে কিংবা বয়সে সিনিয়রদের সাথে না, কেবল এই একটা জিনিসই ধাক্কা দিয়েছে পড়তে গিয়ে। তাছাড়া প্রথমবার ড্রিংক করেও নাদিয়ার অতটা স্বাভাবিক আচরণ চোখে লেগেছে।
বইয়ের এন্ডিং কিংবা মূল মেসেজে অনেকেই হয়তো সায় দেবে না, কিন্তু কেবলমাত্র নিজের বিশ্বাস থেকে যে এমন একটা বই লিখে ফেলে যায় সে কাজ করে কেপি আবারো নিজের ক্যালিবার প্রমাণ করলো।
জিনিয়া, আমার বউ, আর আমি যেকোনো বই সাধারণত কাছাকাছি সময়ে পড়ি। এতে আমাদের নিজেদের আলোচনা করতে সুবিধা হয়। সেরকমই এক আলোচনায় আমরা আবিষ্কার করলাম, গড়পড়তা জনরা স্পেসিফিক লেখার আবেদন আমার কাছে আর তেমন নেই!
এখনই রেগেমেগে আমাকে তুলোধুনো করতে ছুটবেন না, একটু ধৈর্য ধরুন। ফিকশন হোক বা নন-ফিকশন, প্রচুর পরিমাণে ক্রাইম ঘরানার জিনিস কঞ্জিউম করেছি। এ অবস্থায়, শুধু একটা রগরগে থ্রিলার দিয়ে চমকে দেওয়াটা খুব কঠিন। আমি মনে করি, ক্রস-জনরা এখানে একটা সেইফ বেট। আর যদি জিনিসটা পার্ফেক্টলি ব্লেন্ড করে, তার আবেদন হবে কমপ্লিটলি ডিফরেন্ট লেভেলে। ক্রস-জনরার প্রোজ-অ্যান্ড-কনস্ বিচার করতে চাই না, রিস্ক বেশি হলেও আমি এই দিক ঘেঁষা।
মায়াবনবিহারিণী হরিণী মোটামুটি দুই-বসায় পড়ে শেষ করেছি গত মাসের ২৫ তারিখে। জিনিয়াকে জানালাম, ভীষণ ইম্প্রেসড হয়েছি। এই রকম বইয়ের ব্যাপারেই ঐ আলোচনায় করছিলাম আমরা। ২৬ তারিখের মধ্যেই পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখে রেখেছিলাম। এরপরে অনুভূতি থিতু হবার জন্য যথেষ্ট সময় দিলাম। এতদিন পরেও, আগের বক্তব্যের বিপরীতে যেতে পারলাম না। আমি জানি না আর কেউ এরকম ফিল করেছেন কিনা। আমাদের নিজস্ব আলাপে এই বিষয়টা উঠে আসলো।
মায়াবনবিহারিনী হরিণী, এই ভাবনার সাথে পার্ফেক্টলি অ্যালাইন করে। এটা জাস্ট একটা ক্রাইম-থ্রিলার বই না। রহস্য সমাধান করা এর একমাত্র উদ্দেশ্য না, তারচেয়েও বেশি কিছু। সিমিলার স্যাটিসফ্যাকশন পেয়েছি সসেমিরা পড়তে গিয়ে, সেটা ভিন্ন আলোচনা যদিও।
মায়াবনবিহারিণী হরিণীর গল্প মেঘনার তীরে এক কলোনি আঁকড়ে। এই কলোনি আমাদের টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করে। এখানেই হুট করে, আলোচিত ৩ সুন্দরীর একজন গায়েব হয়। পরিস্থিতির ফেরে তরুণ ডাক্তার মিথুন ফেলুদার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। রহস্য দানা বাঁধে, প্রচুর জল ঘোলা হয়।
প্রথমদিকে গল্পের ন্যারেশনে আগাথা ক্রিস্টি ভাইব আছে। হুডানিট-ভাবে কাহিনী আগাতে থাকলেও, কে অপরাধী বুঝে ফেললেও তেমন ইমপ্যাক্ট পড়বে না। টুইস্ট দেওয়াটা বইয়ের একদমই উদ্দেশ্য না।
চমকপ্রদভাবে ইনভেস্টিগেটিভ-ওয়েতে কাহিনী আগাতে থাকে। পরিশেষে একটা প্রপার সমাপ্তি পাওয়া যায়। খুবই সেলফ-কনটেন্ট একটা ফিলিংস আসে। এটা শুধুমাত্র ১ম লেয়ারের স্বাদ আস্বাদন হলো। পরের লেয়ারটা, এবং আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অপরাধের যেই কার্যকারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে সেটা অনুধাবন করা। লেখকের বক্তব্য লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। বিভিন্ন চরিত্র, বিশেষ করে রাহাত রহমানের মায়ের বক্তব্যের মাধ্যমে লেখক তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
গল্পের কলোনি, আবহ, পরিবেশ, সামাজিক চিত্র—এরা নিজেরাই সামগ্রিকভাবে একটা চরিত্র হয়ে উঠেছে। এদের যে সার্থক উপস্থাপন সেটা বাদ দিয়ে এই কাহিনীর কোনো সমাপ্তি আনা সম্ভব ছিল না।
সব চরিত্রের সংলাপ শতভাগ রিলেটেবল, আউট-অব-ক্যারেক্টার তেমন কোনো সংলাপ নেই। সংলাপগুলো যেন জীবন্ত, তাদের নিজেদেরই আলাদা প্রাণ আছে—এটা এই বইয়ের মূল চালিকাশক্তি। জিনিসটা বইয়ে আনা খুব টাফ, প্রপ্স্ টু দ্য রাইটার।
অনেকেই লেখকের এক্সপ্লিসিট সেক্স সিনের ডিটেইল্ড রাইটিং নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু আমি মনে করি উনার এক্সেলেন্স ডিস্টার্বিং সিক্যুয়েন্স বর্ণনায়—আনলেস অফকোর্স কেউ সেক্সকে ডিস্টার্বিং হিসেবে ইনক্লুড না করলে—হোক সেটা গোরি কমব্যাট সিকুয়্যেন্স বা খুন কিংবা জখমের বর্ণনা। জাদুঘরে যেমন সমস্ত সংযম শিকেয় তুলেছেন এখানেও তেমনই গা গুলানো, ভিসারাল (পেট গুড়গুড়) রাইট-আপস্ আছে।
লেখকের মিথস্ক্রিয়া, চাহিদারা হন্যে, জাদুঘর ১ম পত্র পড়া আছে। আমার কাছে কমপ্লিট অ্যান্ড মোস্ট ইফেক্টিভ কাজ মনে হয়েছে মায়াবনবিহারিণী হরিণী।
আবারও, অবসর-এর প্রোডাকশন টপ ক্লাস। লেখকের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় বানান ভুল নেগ্লিজিবল। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, ফেসবুকিয় 'দিসে, করসে' বইয়ের পাতায় দেখতে একদমই ভালো লাগে না।
প্রচ্ছদে সম্ভবত থ্রিলার না বরং আরবান-ড্রামা ভাবটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কেন যেন বইয়ের কোয়ালিটির সাথে আপটু-দ্য-মার্ক মনে হয়নি।
বই : মায়াবনবিহারিণী হরিণী লেখক : কিশোর পাশা ইমন প্রকাশনা : অবসর প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশকাল : ২০২১ প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৬০ মলাট মূল্য : ৩০০
How was the story? Not bad, fast paced but predictable. Nice characterisation- as always. That's where we can say KP standard may be.
The novela was a who done it type but...but the author said it was a kind of research for him. A finding- may be a criminology project. That is where my interest began. Who-done-it became a why-done-it for me. But the answer wasn’t there either.
Then where? That is where the spoiler comes. I'm leaving that part for the readers and putting my best regards for the writer. I believe the findings are accurate. May not be pin point but accurate. I got my food for thoughts.
বইয়ের নামটা আমার পছন্দের গান থেকে নেওয়া হয়েছে বলে বইটা পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
'পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ানক ক্রাইমগুলো হয় খুব ছোট কিছুর জন্য' This quote is all.
থ্রিলার বই হলেও সমাজের অনেক সমস্যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বইতে। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ভালো ছিল। সাধারণ কাহিনীর মাঝে যে পয়েন্ট লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, উনি তাতে সফল। লেখক অপরাধীর মাইন্ড সেটআপ নিয়ে যে বিশ্লেষণ দেখিয়েছেন এই বিষয়টা অনেক ভালো লেগেছে। কিছু কিছু জায়গায় কাহিনী কিছুটা অতরঞ্জিত মনে হয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, গল্পটা হচ্ছে একজন অপরাধী কীভাবে জন্ম নেয় এবং সমাজের ভূমিকা তাতে কীরকম প্রভাব বিস্তর করে সেটা নিয়েই। কিশোর পাশা ইমনের স্বভাবসুলভ লেখনশৈলী এখানে খুঁজে পাইনি পুরোটা, তবে যেটুকু ছাপ ছিল তাতেও পড়তে খারাপ লাগেনি। অল্প পরিসরের লেখায়ও নিজস্ব চিন্তাধারাকে ফুটিয়ে তুলেছেন নিপুণ দক্ষতায়৷
দারুণ একটি বই। প্রতিটি অধ্যায় শেষে পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য মুখিয়ে ছিলাম। একটানে শেষ করতে বাধ্য হলাম। চাহিদারা হন্য পড়ার পর একটা ওনার দ্বিতীয় বই পড়লাম আমি। এটা বেটার লেগেছে।
তথাকথিত সম্মান রক্ষার জন্য অনেক সময় অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর এই সম্মানের মানদণ্ড নির্ধারণ করে সমাজ। এই মানদণ্ড আপেক্ষিক; সমাজে বসবাসরত মানুষের ওপর তা নির্ভর করছে। তবে আমাদের দেশের সকল সমাজেই ছিদ্রান্বেষীদের সংখ্যা ঈর্ষণীয় । তাদের ছিদ্রান্বেষণ এর পাল্লায় পড়ে অনেকে নিজেদের ছিদ্র ঢাকতে অনেক বড় একটা ছিদ্রের জন্ম দেন , যা অপরাধ হিসেবে আখ্যা পায় ক্ষেত্রবিশেষে। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি কে যখন বাধা দেয় সমাজের কোন মানদন্ড, তখনই তা হয়ে ওঠে অপরাধের জন্মদাতা। নিজের সম্মান রক্ষার্থে অপরের সম্মানহানি তখন হয়ে ওঠে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। মিথ্যার আশ্রয় নিয়েই হোক আর কোনো বাস্তব ঘটনার নানা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রাপ্ত রূপগুলোর নিকৃষ্টটির মাধ্যমেই হোক,সে কাজটি করা হয়। আর এভাবেই একসময় জন্ম নেয় অপরাধ এবং অপরাধী । আর এই অবস্থারই ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় অপরাধী। এসব মানদণ্ড থাকা খারাপ নয়, তবে যেভাবে আছে তা ঠিক নয় । কাহিনীর মাধ্যমে লেখক এই ব্যাপারটাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন। কিভাবে এই মানদণ্ডের উৎপত্তি, সম্মান রক্ষার তাড়নার সৃষ্টি আর এর জন্য অভিনেতা হয়ে ওঠার হেতুর সফল অনুসন্ধান চালিয়েছেন লেখক। আর এর মাধ্যমে কিভাবে একজন অপরাধী গড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত এবং অপরাধ করার সুযোগ তৈরি হয়ে যাচ্ছে তাও তুলে ধরেছেন তিনি। অত্যন্ত সুখপাঠ্য একটি বই ছিলো এটি। এর মাধ্যমেই কেপির বইয়ের স্বাদ আস্বাদন শুরু হলো।