গ্রামের এক বাংলোতে পরিবারসহ ঘুরতে এসে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হতে লাগলো শাহরিয়ার।
বাংলোর পেছনের দিকে ঘুরতে এসে এক হতাশাগ্রস্ত লেখকের সাথে পরিচয় হল ছোট মিমের।
সদ্য প্রেমের বিচ্ছেদে হতাশ লেখক জাহিদ ঘুরে বেড়ায় পথ প্রান্তরে। কী যেন সে বলতে চায় তার ছোট বান্ধবীকে।
প্রতি রাতেই বাংলোর পেছনে গাঁজার আসর বসায় দারোয়ান মনা মিয়া। কেমন যেন অদ্ভুতভাবে হাসে কেয়ারটেকার লাইলি। হাসিতে কী যেন লুকিয়ে আছে তার। অনেক দূর থেকে ভেসে আসে কার যেন কান্নার আওয়াজ। বাংলোর অদ্ভুত প্রাণবৈচিত্র্য দেখে অবাক হয় মাহিয়া, কিন্তু সমস্যাটা ধরতে পারে না।
ভয়ার্ত শাহরিয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। তার পরিকল্পনায় সঙ্গি হয় মনা।
ঘুম থেকে মিমকে ডেকে তুলে জাহিদ। তারপর তাকে নিয়ে ছুটে জঙ্গলে।
কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে যেন। মিম কি পারবে সেটা থামাতে?
মরে যায় নক্ষত্রেরা, উত্তর নিয়ে আহ্বান করছে তার শীতল অন্ধকার এক ভয়ার্ত জগতে।
Javed Rasin (Bengali: জাবেদ রাসিন) is a Bangladeshi poet & fiction writer. He was born in Mymensingh but has raised in Dhaka from childhood. Javed completed his graduation & post-graduation in law from the University of Dhaka. He likes the charm of prosody and playing with words which fits into poetry. Shunno Pother Opekkhay (শূন্য পথের অপেক্ষায়) was his maiden published poetry.
Also the world of fiction, especially thriller & horror fiction fascinated him and he started writing in this genre. His first published thriller fiction novel was Blackgate (ব্ল্যাকগেট), co-authored with Tarim Fuad. His other works are horror novel Tomisra (তমিস্রা) & conspiracy novel Circle (সার্কেল). He continued to produce poetry and to work on fiction novels.
❝The house smelled musty and damp, and a little sweet, as if it were haunted by the ghosts of long-dead cookies❞.―Neil Gaiman, American Gods - ❝মরে যায় নক্ষত্রেরা❞ - শাহরিয়ার-মাহিয়া দম্পতি, তাদের দাম্পত্য জীবনের বেশ সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। তাই তাদের ভেতরকার সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তাদের ছেলে শিহাব এবং মেয়ে মিমকে নিয়ে ছুটি কাটাতে শহরাঞ্চল থেকে দূরের এক বাংলোতে থাকতে আসে তারা। কিন্তু বাংলোয় ঢুকেই তারা বুঝতে পারে যে জায়গাটায় কিছুটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে। - জাহিদ, একজন লেখক যে কিনা বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় ভুগছে। এ কারণে লেখালেখিতেও তেমন একটা মন বসছে না তার। এই ঝামেলা থেকে মুক্তির আশায় সেও বাংলোর এক প্রান্ত ভাড়া নিয়ে বসবাস করা শুরু করে। কিন্তু বিশেষ এক ঘটনার পরে তার জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠে। - মনা মিয়া, সেই বাংলোর দারোয়ান কাম কেয়ারটেকার। মনা মিয়া এবং অতিথিদের রান্না বান্নার কাজে সহায়তা করা লাইলিও জড়িয়ে পরে বাংলোর অধিবাসীদের সাথে চলতে থাকা কাহিনির সাথে। এখন বাংলোর সেই অস্বাভাবিকতার আসল রহস্য কী আর তা কীভাবে শাহরিয়ার-মাহিয়া দম্পতি, জাহিদ, মনা মিয়া আর লাইলির জীবন সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দেয় তা তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক জাবেদ রাসিন এর অতিপ্রাকৃতিক ঘরানার গল্প ❝মরে যায় নক্ষত্রেরা❞। - ❝মরে যায় নক্ষত্রেরা❞ বইটাকে মোটাদাগে অতিপ্রাকৃতিক গল্প বলা যায়। যারা মোটামুটি এ ধারার গল্প পড়ে থাকেন তাদের কাছে গল্পের থিমটা অতিপরিচিত ঠেকবে। বইতে রহস্য যেভাবে বোনা হয়েছে তা প্রথম থেকেই খুব বেশি রিভিলিং লাগলো, কিছুদূর যাওয়ার পরেই মূল কাহিনি ধরে ফেলেছিলাম এ ধরনের রিভিলিং প্লটের কারণে। গল্পের কয়েক জায়গায় সংলাপ এবং বর্ণনাভঙ্গির কয়েকটি জায়গা বেশ রিপিটেটিভ লাগলো। - ❝মরে যায় নক্ষত্রেরা❞ গল্পের চরিত্রগুলোর ভেতরে কোন চরিত্রকেই তেমন একটা মনে রাখার মতো মনে হলো না। গল্পের ভেতরে ব্যবহার করার একটি কবিতা অবশ্য মোটামুটি ভালোই বলা যায়। অতিপ্রাকৃতিক গল্প হলেও সেভাবে সুপারন্যাচারাল মোমেন্টের দেখা খুব কমই দেখা গিয়েছে, এর চেয়ে গল্পের চরিত্রগুলোর সামাজিক টানাপোড়েনই বেশি ফোকাস পেয়েছে বলে মনে হলো। - ❝মরে যায় নক্ষত্রেরা❞ বইয়ের প্রোডাকশন চলনসই বলা যায়। বইয়ের কয়েক জায়গায় ভাঙ্গা যুক্তবর্ণ আর কিছু জায়গায় সিলি টাইপো ছিলো। বইয়ের প্রচ্ছদটা অবশ্য কাহিনির সাথে মানানসই। এক কথায়, ❝মরে যায় নক্ষত্রেরা❞ গল্পটাকে টিপিক্যাল অতিপ্রাকৃতিক ফিকশনই লাগলো। যারা এই ধরনের গল্প প্রচুর পড়েন তারা এই গল্পটাও পড়ে দেখতে পারেন সময় পেলে।
সাবলীল, সুন্দর! শেষ অবধি কি হতে যাচ্ছিল, তা সাহির যখন বাংলোয় আসলো তখনই বুঝে ফেলেছিলাম। অতীতের একটা ইস্যু এবং বর্তমানের একটা ইস্যু প্যারালালি এগিয়ে যাচ্ছিল। এটা গল্পের বেশ কয়েক জায়গায় বুঝতে কষ্ট হয়েছে, লেখক এটার দিকে আরও নজর দিতে পারতেন। ক্ষেত্রবিশেষে কোনটা আগের আর কোনটা পরের ঘটনা তা গুলিয়ে ফেলছিলাম কয়েক জায়গায়।
জাবেদ রাসিনের লেখা আগে পড়িনি। এবারই প্রথম। "মরে যায় নক্ষত্রেরা" পড়ে ভাল লেগেছে। লেখকের জন্য শুভকামনা।
হরর বই তো আমরা কম বেশী সবাই পড়ি, তাই না? ক্লিশে ভুতুড়ে বাড়ি, অভিশপ্ত প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায় চারপাশে ব্লা ব্লা ব্লা... কিন্তু কখনও ভেবেছেন কি হরর বইয়ে ধাক্কা খেতে হয়েছে বা পিছনে ফিরে যেতে হয়েছে বইয়ের আগের পৃষ্ঠায়৷ জ্বী, এমনটাই হয়েছে 'মরে যায় নক্ষত্রেরা' পরার পর৷
আমি অত বিস্তারিত আলোচনায় যাবো না৷ একটা চার সদস্যের পরিবার, যেখানে স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের ভেতরের দ্বৈরথ মেটাতে ঘুরতে যায় এক বাংলোতে৷ সেখানে যাওয়ার পরই ঘটে যায় নানান কাহিনী? কি প্লট পরিচিত লাগছে? এমন অনেক গল্প পরেছেন? কিন্তু এখানেই লেখক দক্ষতা দেখিয়েছেন৷ উপন্যাসটি প্রেডিক্টেবল প্লটের মত মনে হলেও এমন সব টুইস্ট এন্ড টার্ন আছে যা আপনাকে বিস্মিত করতে বাধ্য৷
এছাড়াও হলিউডি সিনেমার মত বই পড়ার পর ঠান্ডা মাথায় ভেবে কোন জিনিসটা আসলে কি বুঝিয়েছিলেন, তাইলে ঐটা কি ছিল, ভাবতে ভাবতে একটা ঘোরে পর্যবসিত করবে৷ পরে যখন উত্তর পেয়ে যাবেন, তখন শান্তির ঢেকুর তুলবেন৷
উপন্যাসটা আপত্তি তোলার মত তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশে হরর লেখকদের মধ্যে জাবেদ রাসিন ইতিমধ্যেই পরিচিত উনার তমিস্রা সিরিজের জন্যে৷ তবে এই বইটি কিছুটা ভিন্ন৷ এটাকে আসলে হরর কম থ্রিলার বেশী বলা যেতে পারে, যেটা মন্দ নয়৷ তবে আরেকটু হরর এলিমেন্ট থাকলে হয়তো আরও ভালো লাগতে বলে মনে হয়েছে৷
পেইজ টার্নার, এক বসায় শেষ করার মত বই এটি৷ লেখক আরও এমন হরর বই আমাদেরকে উপহার দিন, সেই প্রত্যাশা রইলো৷
আর হ্যাঁ কবিটাতি আমার মনে ধরেছে৷ উপন্যাস পরার পর মাথা থেকে নামছেই না কেন যেন,
"সাতটি শীতের পরে, মরে যায় নক্ষত্রেরা, শুধু থাকে হিমপ্রবাহ, ফেলে দেয়া নাকফুল, মাঝরাতে কুকুরের ডাক, বারান্দায় নিঃসঙ্গ বসে থাকা। অনেকগুলো স্বপ্ন ঝরে গেলে মরে যায় হৃদয়, তুমুল তুষারপাতে মরে যায় নক্ষত্রেরা, সাতটি শীতের পরে।"
জাবেদ রাসিনের লেখা এই প্রথম পড়া৷ তমিস্রা সিরিজের নামডাক শুনলেও প্রথম পড়লাম এটি৷ অল্প কথাতেই বলি, খুবই সিম্পল একটা প্লটে মানবিক টানাপোড়েন ও বিরহ মৃত্যু ও অতিপ্রাকৃতের একটা চমৎকার ব্লেন্ড ছিল এটি৷ যদিও কিছু জায়গায় একটু বেশী নাটকীয় লেগেছে৷ সব মিলিয়ে এক বসায় পড়ে ফেলার মত উপভোগ্য। আমার রেটিং A
বেশ উপভোগ্য একটি হরর থ্রিলার মরে যায় নক্ষত্রেরা। যদিও বইতে হরর এলিমেন্ট খুবই কম। যাও আছে, তাতে ভয় পাবার তেমন কোনও সুযোগ নেই। দুটো কাহিনী সমান্তরাল গতিতে এগিয়েছে, যদিও । আর এখানেই ছিল মূল টুইস্ট। টুকটাক বানান ভুল আর মাঝেমধ্যে কাহিনী ঝুলে পড়ার কিছু ব্যাপার তো আছেই, কিন্তু ওভারঅল পড়তে বেশ ভাল লেগেছে।
১৪২ পাতার ছোট্ট পরিসরের বই। অহেতুক বাড়তি আলাপ নেই, শেষ পর্যন্ত থ্রিল ছিল। কথাটি ভালো লেগেছে... "স্বপ্ন ও হৃদয় মরে গেলে সবকিছুরই মরণ হয়। সেখানে তো এক নক্ষত্র কিছুই না। "