ভার্সিটি পাশ করা বেকারের প্রথম কাজ কী? পরিবারের সামনে কুঁকড়ে থাকা, আর রাতদিন এক করে বিসিএস-সহ সব সরকারি চাকরির জন্য মুখ বুজে লেগে থাকা। আমাদের ঈশান রায়ও তাই করছিল, কিন্তু বাঁধ সাধলো একটা ঝড়। যে ঝড় বৈশাখের না, সময়ের।
গুলশানের এক অভিজাত বাড়ির বুড়োকে জীবনের শেষ দিনগুলোতে কী তাড়া করছে? কেন কোনো কারণ ছাড়াই তিনি করে বসলেন আত্মহত্যা? অভিজাতদের জন্য আলাদা ব্যাবস্থা হিসাবে সেই সাধারণ তদন্তও নেমে এলো সিআইডির কাঁধে।
পরীক্ষা এলো ঈশানের সামনে। স্বপ্নের পথে এগোনোর পরীক্ষা। সেই আত্মহত্যার তদন্তে ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়লো সে। সে কি পারবে বাঘা বাঘা প্রশিক্ষিত সিআইডি অফিসারদের সামনে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে? নাকি আবার ফিরে যেতে হবে বিসিএস আর চাকুরির অসম দৌড়ে?
সিআইডির কিংবদন্তি ইফতেখার আমিনের শ্যেনদৃষ্টি আছে তার ওপর। পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু, একসময় দেখা গেল পরীক্ষা পাসই আর মুখ্য নয়, বরং পরীক্ষা ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বাস্তব। বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এক অভিজাত পরিবারের সব অন্ধকার রূপ।
বন্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়াল ঈশান। বুক ভরে শ্বাস নিলো। এই রুদ্ধদ্বার তাকে খুলতেই হবে।
খারাপ লাগেনি। নতুন গোয়েন্দা হিসেবে ঈশানের ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে হচ্ছে।
ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে লেখক অনেক বেশি সময় নিয়েছেন। তবে এদিকে বেশি মনযোগ দিতে যাওয়াতে, মূল রহস্যটা ঠিক জমেনি। কে দোষী, কেন দোষী- এগুলো খুব ভালো ভাবেই অনুমান করা গেছে। পড়তে ভালো লেগেছে, থ্রিলড হয়নি।
সম্ভবত, সিরিজের প্রথম বইতেই ঈশানের পারসোনাল লাইফ নিয়ে এতো কথা না বলে রহস্যের ফাঁকে ফাঁকে আস্তে আস্তে একটু একটু করে বললে, পড়তে বেশি ভালো লাগতো!
বইটা পড়ে বলা যায় আমি প্লেসেন্টলি সারপ্রাইজড! আমি দিবাকর দাসের নাম আগে শুনিনাই, তার লেখাও পড়িনাই। যদ্দুর মনে পড়ে, ভূমিপ্রকাশের থেকে বান্ধবী মৌলীর বই প্রি অর্ডার করতে গিয়ে বইটার প্রচ্ছদ পছন্দ হওয়ায় এটাও নিয়ে নেই। সো ইনাকে হাতে পেয়ে আর কিছু পড়তে ইচ্ছা করায় এটা ধরি। আর পড়তে খারাপ লাগেনাই, বরং মজাই পাইসি। বাংলাদেশে নতুন গোয়েন্দা আসলে সেটা আসলে আমি খুবই আগ্রহ নিয়ে পড়বো সেটা নিশ্চিত। এই বইটাকে বলা যায় ঈশানভার্সের প্রারম্ভিক। মানে প্রথম গল্প হিসেবে শুরু হও্য়ায় যেভাবে বিস্তারিত ঈশানের ব্যাকস্টোরি এসেছে সেটা আসলে মূল গল্পকে ছাপিয়ে গিয়েছে মনে হইসে। ব্যোমকেশের মতো গল্পে গল্পে ঈশানের ইতিহাস আসলে ব্যাপারটা খারাপ হতোনা মনে হয়। তাতে করে যে কেস নিয়ে গল্পটা সেটা এক কোণায় দাঁড়ায় ওয়া ওয়া করে কানতোনা! :P আর একটা ব্যাপার নিয়ে একটু পেইন খাইসি আসলে, ঈশানের কোন পরিবার নাই, তার মানে লেখক খুব সুন্দর করে পরিবারের ক্যাচাল সাইড করে গেছেন আসলে। আমার মনে হয়, পরিবার থাকলে খারাপ হতো না, লেখকের স্ট্রেস হত নিশ্চিত, পাঠক মজাই পেতো।
যাইহোক, বইটা খারাপ না, ভূমিপ্রকাশের এডিটিং ভালো, সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদও বেশ ভালো। এধরণের বই হাতে নিলেই ভালো লাগে আসলে। দিবাকর দাসের সামনে যা আসবে পড়ার ইচ্ছা রাখি। জানিনা গুডরিডসের রিভিউ লেখক পড়েন কিনা, পড়লে তো খুব ভালো, তাতে তাদেরই কাজ হয়। এগিয়ে চলো, ঈশান রায়!
মোটামুটি টাইপ বই। ভালো না লাগার মূল কারণ দুটা। লিনিয়ারভাবে ঈশানের কাহিনী বলে যাওয়া আর ঈশানকে তৈরী করতে গিয়ে মূল রহস্যে ফোকাস কম করা। অথচ ঈশানের ক্যারেক্টার তৈরীতে পরোক্ষ ভাবে কেসটাই গুরুত্বপূর্ণ। দারুণ একটা কেস ঈশান সলভ করতে পারলে ইফতেখার সাহেবের মুখ দিয়ে ঈশানকে তুখোড় বলা লাগতো না, পাঠক নিজের অজন্তেই ঈশানকে তুখোড় ভাবতো।
কিছু অপ্রয়োজনীয় বিষয় যে আসেনি, তাও না। আবার ১ কাপ চা আর ১ গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত খাওয়ানোতেই কোন একটা কোম্পানির ব্যবসা রমরমা চলছে এই অনুসিদ্ধান্তে আসাটাও যৌক্তিক মনে হয়নি।
সবমিলিয়ে বইটা খারাপ না, তবে একটা ডিটেকটিভ সিরিজের শুরুর বইটা যেমন ধামাকাদার হওয়া উচিত ছিলো তার ছিটেফোঁটাও হয়নি।
স্টোরিটেলিং একটা গল্পের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। হুমায়ুন আহমেদ এর গল্প বলার ধরন এতই অসাধারন যে নরমাল কোনো একটা ব্যাপার সে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে পারে বা অল্প কথায়ই সে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিতে পারে। এই লেখকের পড়া আমার প্রথম বই এটা। স্টোরিটেইং আমার ভাল লাগেনি, বেশ কয়েকটা অদ্ধ্যায়, ঈশান রায় এর কয়েকটা কাজ আমার কেমন জানি খাপছাড়া লেগেছে।
যেকোনো গল্পের শুরুটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আপনি পাঠককে এমন কিছু দিবেন যাতে পাঠক গল্পে কৌতুহলী হয়ে ওঠে, শুরুতেই গল্প ফাস্ট পেস্ড হতে হবে এমন কোনো কথা নেই তবে ইন্টারেস্টিং এবং গল্পে পাঠককে ধরে রাখার মত কিছু থাকা উচিত। এই গল্পের প্রথম ৪৫/৫৫ পৃষ্ঠা পড়তে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। এক্সিকিউশনেও প্রবলেম ছিল কিছুটা। ঈশান রায়ের গোয়ান্দাগিরীতে আশার গল্প টা একটুও ভাল লাগেনি। আমি আরো স্ট্রাগেল, আর শক্তিশালী কিছু আশা করেছিলাম। তবুও গল্পের শেষ হাফ ভাল লেগেছে। বাট ওভারঅল আরো ভাল হতে পাড়তো।
মোটামুটি বেশ ভালোই বলা যায়। আমি আসলে মিসগাইডেড হয়ে বইটা কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম হিস্টোরিকাল থ্রিলার। গোয়েন্দা কাহিনি আমার পছন্দের জনরার একদম নিচের দিকে। তাই বাংলা সাহিত্যের ফেলুদা,বোমকেশ অথবা তিন গোয়েন্দা নিয়ে আমার তেমন কোনো আগ্রহ নেই। বইটা শুরু করার পর যখন বুঝতে পারলাম এইটা সেই ট্র্যাডিশনাল গোয়েন্দা কাহিনী তখন বেশ আশাহতই হলাম। কিন্তু লেখকের লেখনি বেশ আরামদায়ক, পড়তে ইচ্ছাই করে। মাছ তোলার সময় যেমন একটু একটু করে সূতো ছাড়তে হয়, লেখকও তেমন একটু একটু করে সূত্র ছেড়ে ছেড়ে গল্পের সাসপেন্সটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জিইয়ে রেখেছেন। এই কারিশমার জন্য চারটি তারকা তো দিতেই হয়!
গল্প আহামরি কিছু না। এক বুড়োর মৃত্যু আর পারিবারিক গেঞ্জামের পুরনো কাসুন্দি। সাদামাটা রহস্য। ক্রিস্টি পড়ার অভ্যাস থাকলে গল্পটা তেমন দাগ কাটবে না মনে। বইয়ের ভালো লাগার জায়গাটা হচ্ছে চরিত্রায়ন। কলেবর বেশি বড় না। তবে তারই এক তৃতীয়াংশ খরচ হয়েছে মূল চরিত্র চিত্রণে। আর সেটা সফল বলা যায়। প্রথম বই হিসেবে গোয়েন্দা সাহেবের শুরুর কথা সব জানা হয়ে গেছে। একেবারে ডিটেইলে। মূল গল্পে এর তেমন প্রভাব না থাকলেও আমার কাছে ঈশান রায়ের গোয়েন্দা হয়ে ওঠার কাহিনীটা ভালো লেগেছে। নাম শুনে কেন যেন মাথায় হ্যাট-কোট-সানগ্লাস পরা গোয়েন্দার ছবি ভাসে। কিন্তু আদতে সে আমার মতোই সাদামাটা ছেলে। আর ঈশানের মাধ্যমে দেখানো নানা জিনিস আমার পছন্দ হয়েছে। ঈশান রায় নাকি নানা জেলা ঘুরবে। ঘুরুক। তার অপেক্ষায় রইলাম। ও হ্যাঁ, বইয়ের প্রচ্ছদ সঙ্গতিপূর্ণ হলেও ভালো লাগে নাই। আর বইয়ের প্রোডাকশন দারুণ।
“It doesn't cost anything to pay attention.”― Scott Cherney, Red Asphalt - রুদ্ধদ্বার - ঈশান রায়, বেকার এক যুবক যে কিনা কয়েক বছর ধরেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঈশানের বাবার অবশ্য সন্তানকে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিন্তা ছিলো। কিন্তু এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরে ঈশান রায়ের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। - শিকদার সাহেব, শহরের অভিজাত এক পরিবারের কর্তা। গুলশান থানায় হঠাৎ এক সকালে তার মৃত্যুর খবর আসে । আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা মনে হলেও ঘটনাক্রমে এই কেসে জড়িয়ে পড়েন ঈশান রায়। তারপরেই বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এখন শিকদার সাহেব কি আসলেই আত্মহত্যা করেছেন নাকি এর পেছনে অন্যকিছু রয়েছে তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক দিবাকর দাসের ডিটেকটিভ থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস "রুদ্ধদ্বার"। - "রুদ্ধদ্বার" মূলত অনেকটা লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি ঘরানার ডিটেকটিভ উপন্যাস। যদিও কাহিনির মূল রহস্যে আসতে আসতে বইয়ের প্রায় অর্ধেক পার হয়ে যায়। তাই বইয়ের প্রথম অর্ধতে মনেই হয়নি যে ডিটেকটিভ ফিকশন পড়ছি, এই অর্ধের বর্ণনাভঙ্গি আরো ইন্টারেস্টিং হতে পারতো। তবে গল্পের শেষ অর্ধে মূল থ্রিলিং পার্ট শুরু হলে ভালো লাগা শুরু হতে থাকে এবং এই ধারা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। - "রুদ্ধদ্বার" এর চরিত্রগুলোর ভেতরে পুরোপুরি ফোকাসে ছিলো ঈশান রায়। বাকি চরিত্রগুলো তাই তেমন ফোকাসে আসতে পারেনি। লেখক ঈশান রায়ের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে বেশ সময় নিয়েছেন যার ভেতরে কিছু জায়গায় ব্যাপারটা প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে আবার কিছু জায়গায় মনে হয়েছে overstretch করা হচ্ছে। গল্পের নানা জায়গায় মহাভারত, রামায়নের বিভিন্ন ঘটনার রেফারেন্স দেয়ার ব্যাপারটা ভালোই লাগলো। ঈশান রায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া মোটাদাগে খারাপ লাগেনি কিন্তু কয়েকটি পরিস্থিতি ঠিক বাস্তবসম্মত মনে হয়নি, খুবই আরোপিত ঘটনা মনে হয়েছে। - "রুদ্ধদ্বার" বইয়ের কারিগরি দিকে তাকালে কিছু টাইপো বাদ দিলে বানান ভুল খুব একটা চোখে পড়েনি। বাঁধাই, কাগজ ইত্যাদি মোটামুটি ভালোই ছিলো। বইয়ের প্রচ্ছদও কাহিনি অনুসারে বেশ মানানসই। - এক কথায়, কিছু অসন্তুষ্টির জায়গা বাদ দিলে বাংলা মৌলিক ডিটেকটিভ ফিকশন হিসেবে "রুদ্ধদ্বার" মোটামুটি ভালোই। যারা বাংলায় মৌলিক ডিটেকটিভ ফিকশন পড়তে আগ্রহী তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। ঈশান রায়ের পরবর্তী অভিযান পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
দিবাকর দাসের "রুদ্ধদ্বার" পড়ে খানিকটা হতাশই।গোয়েন্দা কাহিনী হিসেবে বলবো বিলো এভারেজ একটা গল্প।দিবাকরদার ন্যারেটিভ স্টাইল তো দারুন।তবে আমার মনের চরিত্র ভিত্তিক যেহেতু সিরিজের প্রথম বই তাই এখানে চরিত্রকে বিল্ড আপ করার চেষ্টাই তিনি করে গেছেন। নেক্সট বইগুলোতে হয়তো হতাশ হতে হবে না।তবে,একজন প্রাইভেট গোয়েন্দা হওয়ার জার্নি তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন বেশ গবেষণা করেই,এই জিনিসটা ভালো লেগেছে।
বইটা শুরু করার পরে অনেকে পড়তে একটু কষ্ট হতে পারে। যার কারনও আছে। ঈশান রায় সিরিজের এইটা প্রথম বই সে জন্য ঈশানের জীবনে শুরু দিকের কথা আনতে হয়েছে আর যেটা ভালো ছিলো। লেখার গতি ছিলো ১০০/১০০। শেষটাও ভাল হয়েছে। এই বছর সিরিজের দ্বিতীয় বই আসবে দেখা যাক কেমন হয়।
"এই নিশাচর শহরের পেঁচাদের আতিথ্য দেয় নিশাচর নকল চন্দ্রিমা। আসল জোছনার সাথে তার পার্থক্য করা যায় না।"
আচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আপনার বা আমার প্রথম কাজ কী হবে? উত্তরটা খুব সোজা, তাই না? চাকরি বাজারে ছোটা, ইন্টারভিউ টেবিলে ঘেমে নেয়ে অস্থির হয়ে ওঠা, আর এগুলোকে টেক্কা দিতে এত বছর ধরে যে বিষয়কে করায়ত্ত করলাম সেই জ্ঞান সিঁকেয় তুলে ভারত উপমহাদেশ থেকে শুরু করে সূদুর আফ্রিকা পর্যন্ত দেশে কবে কোথায় কী ঘটেছে, কোন দেশ স্বাধীনতার স্বাদ কবে নিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি মাল মসলা নিজের দেড় কেজি ভরের মস্তিষ্কে ঠাঁই দিতে হবে। কষ্টে শিষ্টে সেই কাজ যদিওবা করা যায় তবুও নিশ্চিত নই সেই "চাকরি" বা বাংলাদেশিদের স্বপ্নের বিসিএস তথা সরকারি চাকরির মতো সোনার হরিণ পাবো কিনা। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আজ আমি যে বইটি নিয়ে লিখবো সেটির জনরা রহস্য ও গোয়েন্দা হলেও বইটির প্রথমাংশ পড়ার পর আপনি বা আমি ধরে নিতে বাধ্য হব এটা হয়তো কোন টিপিক্যাল মিডল ক্লাস যুবকের তারুন্যময় দিনগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে চাকরির বাজারে ছোটার এবং তদ্বসম্পর্কিয় নিত্যদিনের ঘটনা প্রবাহের সংকলন। কিন্তু না, মাঝখানে প্রবল ঝড়েই সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় তার, এখানে লণ্ডভণ্ড শব্দটা উচ্চারণ করে একটু ভুলই হয়তো করে ফেললাম কারণ লণ্ডভণ্ড না বলে "নতুন মাত্রা পায় তার জীবন" এইটুকু বলে মনে হয় আরো বেশি ভালো শোনাতো। বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে বড় হয়ে গোয়েন্দা হবে, সেই ইচ্ছা কি বুকে লালন করে, ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কেস স্টাডি করতেন, অনেক ধরনের গোয়েন্দা গল্পের বইয়েও কিনে দিয়েছিলেন ছেলেকে। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখা মাত্রই- রুদ্ধদ্বার গল্পের নায়ক ঈশান রায়ের বাবা অবিনাশ রায় বুঝেছিলেন, এখানেই হয়তো তার স্বপ্নের ইতি ঘটবে। কিন্তু না ওই যে বললাম ঈশানের জীবনের এক চরম ঝড় আসে, সেই ঝড়েই দর্শনের শিক্ষার্থী,চাকরির আশায় মত্ত এই ঈশান লেগে পড়ে নিজের বাবার স্বপ্ন তথা এক প্রকার নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে। অত্যন্ত প্রাণবন্ত করে একটি ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে বলা যায় লেখক সিদ্ধ হস্ত। আগেই বলেছি এই বই হাতে নিয়ে প্রথম ১৩ কি ১৪ পর্ব পড়ার পর অনেকেই হয়তো ভেবে বসবেন এতো বাঙালি কোন যুবকের বায়োগ্রাফি চলছে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আসল কাহিনী। গুলশানের এক অভিজাত বাড়ির বুড়োকে জীবনের শেষ দিনগুলোতে কী তাড়া করছে? কেন কোনো কারণ ছাড়াই তিনি করে বসলেন আত্মহত্যা? অভিজাতদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা হিসাবে সেই সাধারণ তদন্তও নেমে এলো সিআইডির কাঁধে। ঘটনাচক্রে সেই কেসটি আসে আমাদের নায়ক ঈশানের কাঁধে। ঈশান কি পারবে এই কেস সমাধান করে নিজের সুপ্ত মেধাকে মেলে ধরতে? সে কি পারবে তার বাবার স্বপ্নকে পূরণ করতে? এ সমস্ত কিছুর উত্তর জানতে হলে অবশ্যই বইটা পড়তে হবে। স্পয়লার দিয়ে দেব নাকি সেই ভয়ে আর বেশি কথা আমি বলছি না।
এবার আসা যাক লেখক 'দিবাকর দাস'-এর লিখন শৈলীতে। বর্তমানে সাহিত্য বলতে অথবা কোন বই লেখা বলতে আমাদের নতুন লেখকদের মাঝে কেন যেন একটা বদ্ধমূল ধারনাই হয়ে গেছে, সাহিত্য মানে এমন কিছু লেখা যা সাধারন মানুষের পক্ষে বোধগম্য হবে না। আমরা সাধারণ মানুষ তাদের লেখা সেই অসাধারণ শব্দ যুগলের অর্থ উদঘাটন করতে অপারগ থেকে যাব। মূলত এ ধরনের লেখাতেই বর্তমান যুগের লেখকগণ সাহিত্য নামে সংজ্ঞায়িত করেছেন। অবশ্য তাদের সেই বদ্ধমূল ধারণারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিবাকর দাসে�� মতো আরো কিছু লেখক যাদের নাম- আমি এখন তুলে ধরছি না, থ্রিলার লিখছেন কেউ কেউ লিখছেন রোমান্টিক উপন্যাস। তাদেরকে ছাপিয়ে দিবাকর দাস নিজের লেখার মাধ্যমে একটি অনন্য জায়গা মেলে ধরেছেন আমাদের মত পাঠকদের মাঝে যাদের কাছে সাহিত্য মানে কোন জটিল শব্দ যুগল নয়, এমন কিছু যা সহজ-সরল হবে, কোন অশ্লীলতা থাকবে না, ঘটনা প্রবাহ এগিয়ে যাবে নিজের মতো করে, মূলত কোথাও থমকে থাকবে না। বইটিতে ঈশান রায় চরিত্রটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও, বইটির অন্যান্য চরিত্রগুলো কেউ কিন্তু লেখক নিজেদের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। সবগুলো চরিত্র, উপন্যাসটির প্লট, সবকিছুই নিয়ে আমার কাছে 'বইটি জমে ক্ষীর' মনে হয়েছে। আবার বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, চাকরির বাজারে একজন মানুষকে পেট চালানোর দায়ে কীভাবে নিজের প্রতিভাকে ছেড়ে দিতে হয়, নিজের মতো করে তা দেখিয়েছেন এই উপন্যাসে। লেখক লিখেছেন, "ঈশানের স্বপ্ন বদলে গেল, আর মলিন মুখে অবিনাশ রায় দেখতে লাগলেন কীভাবে তার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। প্রতিভার পিঠে বারবার ছুরি মারতে থাকা সমাজ কিভাবে কেড়ে নেয় সকল সম্ভাবনার আলো।" আচ্ছা চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন তো আমাদের আশেপাশে কত শত প্রতিভা লুকিয়ে আছে। কিন্তু অনেকের অবিনাশ রায়ের মতো বাবা-মা না থাকার জন্য নিজেদের প্রতিভা মিলতে পারেনা, আবার কেউ কেউ মানসিকভাবে বড় হয়ে যাওয়ার পর সমাজের চোখে যা সাফল্য, যা সুন্দর, সেই সাফল্য এবং সুন্দরকে বরণ করে নিতে নিজেদের সেই ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষকে বিসর্জন দিয়ে দেয়। এখানেই আমার কাছে দিবাকর রায়ের সাথে অন্যান্য লেখকদের পার্থক্য ধরা দিয়েছে। লেখক বর্তমান সময়ের অনেক ভুলভ্রান্ত ধারণাকে, সামাজিক অসুখকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। এখানেই লেখকের সার্থকতা।
এবার যদি বইয়ের বাইন্ডিং নিয়ে বা বইটির সম্পাদনা নিয়ে বলতে হয় তাহলে আমার মতে, আমি পড়েছি বইটির ২০২১ সালের সংস্করণ, যার বাইন্ডিং আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি তবে ২০২৪ সালে যে দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়েছে তার বাইন্ডিং মোটামুটি ভালো বলা চলে। আর সম্পাদনা নিয়ে বলবো প্রতিটি বই আসলে কিছু না কিছু বানান ভুল থাকেই। এ বইটি ও তার ব্যতিক্রম নয় তাই সেই বানান ভুলকে আমি ধর্তব্যের মধ্যে আনছি না। বইটি পড়ে যে মানসিক শান্তি পেয়েছি। সময় শ্রম এবং টাকা সবগুলোই যে বেঁচে গেছে এর জন্য মানসিক শান্তির পরিমাণটা আরো বেশি।
গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় মারা গেলেন বিশিষ্ট ধনকুবের শাহবাজ খান। প্রাথমিক তদন্তে মনে হলো আত্মহত্যা করেছেন ভদ্রলোক। কিন্তু আত্মহত্যার করার মতো কোনো মোটিভ খুঁজে পাওয়া গেলো না। এদিকে নিজের বাবার স্বপ্ন পূরণে গোয়েন্দা হওয়ার বাসনায় ঘুরে বেড়ানো এক তরুণ সুযোগ খুঁজছিলো নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। সে সুযোগ তাকে দেয়া হলো এই শাহবাজ খানের কেসে। কিন্তু তার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তাকে ভাবিয়ে তুললো। এটা আদৌ আত্মহত্যা নাকী পরিকল্পিত খুন?
#পর্যালোচনাঃ দিবাকর দাসের লেখার সাথে পরিচয় হলো আমার এই গল্পের মাধ্যমে। অনেকটা লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি ঘরাণার এই বইতে আমরা আমাদের দেশীয় এক গোয়েন্দার সাথে পরিচিত হই প্রথমবারের মতো। ভীনদেশের শার্লক হোমস, এরকুল পোয়ারো কিংবা আমাদের প্রতিবেশী দেশের ফেলুদা, বোমক্যাশ; ইনারা নিজ নিজ দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আমাদের দেশে বহুল জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র। বাংলাদেশের মৌলিকে কি আদৌ এরকম কোনো গোয়েন্দা চরিত্র আছে?? কোনো সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট নয়, নয় কোনো স্পাই কিংবা দুর্ধর্ষ কোনো সুপারহিরো টাইপ নায়ক, স্রেফ একজন গোয়েন্দা? এমন কোনো চরিত্র দেশীয় মৌলিকে আর আছে কিনা আমার জানা নেই। আপনাদের কারো জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
তো কেমন ছিলো আমাদের এই নিজস্ব গোয়েন্দা ঈশান রায়? প্রথমত ব্যক্তিগত ভাবে বলবো একটা গোয়েন্দা চরিত্র হিসাবে তাকে আমার বেশ ভালো লেগেছে। লেখক অনেক সময় নিয়ে সুনিপুণ ভাবে এই চরিত্রের বিল্ডআপ করেছেন। ঈশানের কৈশোর, তারুন্য, পড়াশোনা, বাবার সাথে তার সম্পর্ক, সিস্টেমের বাইরে গিয়ে নিজের স্ট্রেংথ অনুযায়ী কিছু করার চিন্তাভাবনা। সব মিলিয়ে আমি বলবো পাঠকদের মনের একেবারে গভীরে ঈশানকে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। যদিও এতে করে বইয়ের বড় একটা অংশই চলে গিয়েছে ঈশান রায়ের কারেক্টার বিল্ডআপের পিছনে। তবে আমি যতদূর জানি লেখক একটা লম্বা সিরিজ তৈরী করতে চাচ্ছেন এই চরিত্র নিয়ে। সেই হিসাবে এই জায়গায় কিছুটা বাহুল্যতা থাকলেও ঈশান রায়ের এই ডেভেলপমেন্ট দরকার ছিলো বলে মনে করি।
এবার আসি বইয়ের মূল গল্প এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায়। ঈশান রায়ের প্রথম কেস হিসাবে বেশ সাদামাটা একটা কেসই উপস্থাপন করেছেন লেখক। সূত্র, জেরা, ফরেনসিক, মোটিভ, সব মিলিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া গতানুগতিক থাকলেও মোটামুটি উপভোগ্যই ছিলো বলা যায়। তবে কি না ওই কাকতালীয় ধরণের ব্যাপার স্যাপার এই ধরণের বইয়ের ক্ষেত্রে কেনো যেনো আমি মেনে নিতে পারি না। গোয়েন্দা নিজেই সব আবিষ্কার করবে, এতেই বেশী আনন্দ পাই আমি। হুট করে তার সাথে কোনো একটা ঘটনা ঘটবে যার সাথে মূল কেসের কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু সেই ঘটনা থেকেই মূল কেসের একটা সূত্র খুঁজে পাবে গোয়েন্দা এই ব্যাপারটা ব্যক্তিগত ভাবে আমার ভালো লাগে না। এছাড়াও কিছু ব্যাপারের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি দেয়া হয়নি। যেমন নাইট ক্লাব কিংবা টিএসসির ঘটনাগুলো। ঈশান সেই পর্যন্ত কোন সূত্র ধরে গেলো তা বইয়ে উল্লেখ করা হয়নি। শেষটা চমকপ্রদ ছিলো এমনটা বলা যাবে না। তবে সন্তোষজনক অবশ্যই।
লেখকের লেখনশৈলী আমার বেশ ভালো লেগেছে। বইয়ের শুরুটা বেশ ধীরলয়ের হলেও আমার পড়তে খারাপ লাগেনি। ঈশান দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করার কারনেই কি না পুরো বই জুড়েই বিভিন্ন রকমের দার্শনিক উক্তি ছিলো৷ সাধারণত এইসব ক্ষেত্রে আমি কিছুটা বিরক্ত অনুভব করি। বয়স হয়েছে যথেষ্টই, জীবনটাকে যতোভাবে দেখা সম্ভব দেখে ফেলেছি৷ তাই এইসব জীবনবোধ কিংবা দর্শন আমায় টানে না। তবে কি না এই বইয়ে উল্লেখিত বিষয়গুলো কেনো যেনো পড়তে বেশ ভালো লেগেছে আমার। একটা পরিবারের মৃত্যু পরবর্তী বিষয়গুলো নিয়ে বলা লেখকের কথাগুলো বুকের ভিতরে গিয়ে গেঁথেছে।
#প্রোডাকশনঃ ভূমিপ্রকাশের প্রোডাকশন বরাবরের মতোই ভালো ছিল। বানান বিভ্রাট কিংবা টাইপো তেমন একটা চোখে পড়েনি। পেইজ কোয়ালিটি এবং বাঁধাই ও ছিলো চমৎকার। সজল ভাই গল্পের কিছু এলিমেন্ট নিয়ে বেশ সুন্দরভাবে প্রচ্ছদটা সাজিয়েছেন। বিশেষ করে স্পাইনে দেয়া প্রেসক্রাইবের চিহ্নটা বেশ ভালো লেগেছে।
#রেটিংঃ ৬/১০ (এই বইটাকে আমি অনেক বড় কিছুর শুরু হিসাবে ধরে নিলাম। আশা করি লেখক এখান থেকে সামনে ভালো কিছুই উপহার দিবেন ঈশানকে নিয়ে)
#পরিশিষ্টঃ দিবাকর দাসকে ধন্যবাদ। দেশীয় কোনো গোয়েন্দা চরিত্র নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার জন্য। শুরুটা আহামরি না হলেও, খারাপ কিছু হয়েছে তা বলা যাবে না। অলরেডি সিরিজের দ্বিতীয় বই "নবরত্ন" পড়া শুরু করেছি। এবং সেই বইটা আমাকে মোটামুটি হুকড করে ফেলেছে। গোয়েন্দার পাশাপাশি প্রাচীন ইতিহাস পড়তে আমার বরাবরই বেশ ভালো লাগে। এছাড়া সেই বইতে লেখক ঈশানের গোয়েন্দ�� হওয়া নিয়ে একটা শব্দও বাড়তি যোগ করেননি। এই ব্যাপারটা বেশী ভালো লেগেছে। আর তাই রূদ্ধদ্বার থাকুক ঈশানের শুরু হিসেবে, বাকী সব হোক ঈশানের দূর্দান্ত তদন্ত আর বুদ্ধিমত্তার খেলা। অনেক অনেক শুভকামনা লেখকের প্রতি।
আপনার কাছে হয়তো বা মনে হতে পারে বন্ধ দরজার ভিতরে কিছু একটা হতে পারে বা ঘটে। কিন্তু সরাসরি আপনি বন্ধ দরজার কোনো থ্রিল এখানে পাবেন না যেটার জন্য নামকরণ "রুদ্ধদ্বার" হতে পারে বলে আপনি ধারণা করতে যাবেন। এখানে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অথবা প্রতীকী অর্থে সাসপেন্সের বিষয়টাকে এটার সাথে তুলনা করা হয়েছে বলেই আমার মোটামুটি ধারণা।
অনুবাদ থ্রিলার ক্যাটাগরির অনেক বই পড়া হয়েছে অনেকেরই এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা চরিত্রের অনেক বড় ফ্যানও আপনারা। যার দরুন এই বইটি পড়ার পর আপনার ঐ চরিত্র বা গল্পের মতো গভীর রহস্যে ঘেরা কিছুই পাবেন না। এতে হতাশ হতে পারেন কেউ কেউ। আবার কারোর কাছে ব্যতিক্রমও হতে পারে। কেননা এটা যদিও পরিপূর্ণ সাসপেন্সে ভরপুর কিছু নয় তারপরও এটার মধ্যে আলাদা একটা টান,আলাদা একটা আবেগ, এবং রয়েছে বাস্তবতার ছোঁয়া। এটা সব গোয়েন্দা উপন্যাসে পাবেন না। মৌলিক গোয়েন্দা চরিত্র নিয়ে পড়ার শুরুটা চাইলে এই বই দিয়েও করতে পারেন। কেননা এটা খুবই সাদামাটা চরিত্র। এটা দিয়ে শুরু করলে খুব সহজেই ভালোলাগা চলে আসবে। প্রথমেই খুবই ভায়োলেন্স জাতীয় কিছু না পড়াই ভালো।
আমার কাছে এটা সিম্পল হলেও ভালো লেগেছে। এখানে ভিন্ন ধাঁচের একটা গল্পের সম্মুখীন হয়েছি। এখানে সবই পেয়েছি। এক নিখুঁত বাস্তবতা, এক বাস্তব কাহিনি যেন নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, পেয়েছি দারুণ সমাজের বেড়াজালে বন্দী কিছু মানুষের অস্তিত্ব। এসবই তো আমরা জানি। আর জীবন তো এভাবেই চলে। এই বাস্তবতার ভিড়ে এক সুনিপুণ থ্রিলার ফুটিয়ে তোলা কয়জনেই বা পারে!
সবসময় আমরা এমন পরিবেশের থ্রিলার পড়ি হয় অনেক ভায়োলেন্সযুক্ত, অনেক সাসপেন্সে ঘেরা যেমনটা ক্রা*ইম থ্রিলার, সিরিয়াল কি*লিং অথবা অতিপ্রাকৃত জনরার ক্ষেত্রে যতকিছুর সম্মুখীন হই সবই মনে হয় যেন অভিনয় অথবা কোনো সিনেমার শ্যুটিং স্পট। ঐ পরিবেশটাই এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় যেন ওখানে সাধারণ জনজীবনের কোনো অস্তিত্বই নেই। কিন্তু "রুদ্ধদ্বার" উপন্যাসে আপনি সব সাধারণভাবেই চলতে দেখবেন। একদম নিয়মানুযায়ী চলা জীবনের প্রতিটা সূর্যোদয়, প্রতিটা সূর্যাস্ত এখানে দৃশ্যমান। আর এই জীবনের বেড়াজালেই কত জীবন চলে যাচ্ছে তারপরও পৃথিবী যেমন নিজের নিয়মে চলতে থাকে ঠিক তেমনটাই আপনি পাবেন রুদ্ধদ্বার-এ। যেভাবে বিভিন্ন পারিবারিক কলহের জেরে, বিশ্বাসঘা*তকতায় কেড়ে নিচ্ছে আপনজনের জীবন- প্রায়ই তো দেশে সে খবর দেখি, তারপরও বাহিরের পরিবেশ যেমনটা চলতে থাকে ঠিক তেমনটাই চলে এই উপন্যাসেও। সবাই সবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছুটে চলছে। কারোর প্রতি কারোর কোনো তোয়াক্কা নেই।
আর এসব বিষয়ের জন্যই এটা ভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা চরিত্র মনে হয়েছে। ঈশান চরিত্র টা গতানুগতিক গোয়েন্দা চরিত্রের মতো নয়। আপনি যখন মাথার মধ্যে অন্য সব থ্রিলার বইয়ের মতো চিন্তা করে বইটা পড়া শুরু করবেন তখন প্রথম ৫-৬ টা পর্ব পর্যন্ত আপনার বিরক্ত লাগবে। রহস্যের 'র' ও খুঁজে পাবেন না। মনে হবে সমকালীন ক্যাটাগরির কোনো সাধারণ উপন্যাস পড়ছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন এটা ভিন্ন ধরনের একটা উপন্যাস।
যদি রহস্যে ভরপুর, ভায়োলেন্সযুক্ত থ্রিলারছাড়া আপনার ভালো না লাগে তাহলে এই "রুদ্ধদ্বার" আপনার কাছে তেমন ভালো নাও লাগতে পারে। যারা সমকালীন উপন্যাস পছন্দ করেন তাদের এটা অবশ্যই ভালো লাগবে বলে আমার মনে হয়। এখানে সামাজিক ও গোয়েন্দা থ্রিলার উভয় স্বাদই পাবেন।
বেশিক্ষণ লাগবে না বইটা পড়তে। কেননা সহজসরল ভাষায় লিখা। অতিরিক্ত কোনো বর্ণনা নেই। তবে মোটিভ টা খুবই কমন। আর প্রসেসটাও কমন। একদম সিম্পল। ক্রা*ইম থ্রিলারের মতো আশা করে না পড়লেই উপভোগ্য হবে। ইন শা আল্লাহ্।
শব্দচয়ন সহজসরল হলেও সম্পদানা/প্রুফ রিডিং তেমন একটা ভালো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। অনেক বানান ভুল। বিশেষ করে 'ন' ও 'ণ' এর ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উল্টো হয়েছে। একটার স্থলে অন্যটা বসানো হয়েছে। আর অন্যান্য বানানের ক্ষেত্রেও তেমন একটা যত্ন করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। অর্থাৎ টাইপিং মিসটেইকও অনেক হয়েছে। আর বাইন্ডিং ভালো হয়েছে। তবে কিছু কিছু পেইজে ছাপানোর সময় উপর থেকে নিচে লিখা সোজাসুজি না হয়ে ডান দিকে বেঁকে গেছে হালকা। প্রচ্ছদ সুন্দর ও সাবলীল হয়েছে। সিম্পল স্টোরির সাথে হালকা রঙের প্রচ্ছদ ভালোই মিলেছে। আর পুরো বিষয়বস্তুর সাথেও প্রচ্ছদ মিলেছে।
ছোট থেকে আমাদের অন্তরে লালন করা স্বপ্ন হঠাৎই আমাদের কাছে অবাস্তব ঠেকে। সমাজ মেনে নিবে না, টিটকারি করবে বলে আমরা নতুন এক স্বপ্নের পথে হাঁটা শুরু করি। অথচ সেই ছোটবেলা থেকে, যে সময়টাতেই মানুষ নিজের আনন্দের বিষয়কে খুঁজে পায়, যে স্বপ্নের পথে চলেছি তা একদমই ভুলে যাই। কেন জানেন?
ঈশান রায়। সরকারী চাকরির পড়া পড়তে পড়তে মাথার সব চুল উঠে যাবার মতো যোগাড়। দিন নেই, রাত নেই শুধুমাত্র বইয়ের পাতার তথ্য গেলা। কখনো কখনো তিতিবিরক্ত হয়ে চুপচাপ বসে থাকে, জীবন নিয়ে ভাবে। এটাই কি ওর স্বপ্ন ছিল? সরকারি চাকরির পেছনে কুকুরের মতো খাটার! এই স্বপ্ন তো ঈশান লালন করেনি। তার বাবা তাকে দেখিয়েছিল অন্যরকম স্বপ্ন। সেখানে জীবন আলাদা। কিন্তু সমাজের কটুকথার ভয় তাকে সেই স্বপ্নের কথা ভুলিয়ে দিয়েছে।
ঈশানের বাবা অবিনাশ রায়। গোয়েন্দা বিভাগের নিম্নপদের একজন কর্মকর্তা। কাগজপত্র, নথিপত্র ইত্যাদি ঘাটাই যার প্রধান কাজ। বিভিন্ন জিনিসের প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে তার মনে একটা স্বপ্ন চাষ করতে শুরু করে। যদিও এই স্বপ্ন একজন পিতার জন্য নিন্দনীয়। সমাজের মানুষ কোনোভাবেই এটা সহজ চোখে দেখবে না। একদিন ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেলল ঈশানকে, সে বড় হয়ে গোয়েন্দা হবে কিনা। ঈশানও সায় জানাল। ব্যস! সেই শৈশব থেকেই শুরু হলো ঈশানের ট্রেনিং!
ঈশানের বাবার এই স্বপ্নে, যে স্বপ্ন একসময় ঈশানেরও ছিল, সেটায় ভাটা পড়ে গেল সময়ের সাথে সাথে। ঈশানও বুঝল, এই কর্ম সমাজের চোখে নিন্দনীয়। কিন্তু জোর করে নতুন এক স্বপ্ন নিয়ে কতদিন বেঁচে থাকা যায়? সময়ই ঈশানকে আবার সেই পুরনো স্বপ্নের পথে নিয়ে গেল।
◼️ পাঠপ্রতিক্রিয়া (কিঞ্চিৎ স্পয়লার হতে পারে) —
প্রায় ১৭০+ পৃষ্ঠার একটা মাঝারি আকারের বই। তবে পৃষ্ঠা হিসেবে একদম কমও নয়৷ গল্পের কনসেপ্টও ভালো লেগেছে। সচরাচর গল্পে গোয়েন্দাদের যেমন শখ থেকে গোয়েন্দা হতে দেখা যায়, এই গল্প তার ব্যতিক্রম। তবে লেখক বেশিরভাগ জায়গাই ঈশানের গোয়েন্দা হওয়ার পেছনের কথায় দিয়ে ফেলেছেন। যেহেতু বইটাকে ডিটেকটিভ উপন্যাস বলেই জানানো হচ্ছে, সেহেতু কোনো তদন্ত বা কেসের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
তবে হ্যাঁ, লেখকের এই আইডিয়াকে অবশ্যই এপ্রিশিয়েট করি। তিনি সচরাচর ধারার বাইরে গিয়ে গল্পে আরেকটা স্বাদ ঢোকানোর চেষ্টা করেছেন। সেটাতে তিনি সফল, এটা বলাই যায়। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, লেখক একটু বেশি সময়ই ব্যয় করে ফেলেছেন ঈশানকে গোয়েন্দা বানাতে গিয়ে। যার কারণে গল্পের ফ্লোটা অনেক কমে গিয়েছে। বিরক্তও লাগছিল বটে।
আবার, সম্ভবত এদিকে বেশি সময় দেওয়ার কারণে এই বইয়ে ঈশানের তদন্ত বা কেসকেও ওতোটা রহস্যম��় করতে পারেননি। মোটামুটি প্রেডিক্টেবল ছিল। এককথায়, লেখক মূল চরিত্রকে গোয়েন্দা বানাতে গিয়ে সেখানে বেশি সময় খরচ করে মূল তদন্তটাকে ওতোটা ভালো করতে পারেননি। অথচ মূল চরিত্রের এত কাঠখড় পুরিয়ে এই লাইনে এসে একটা চমৎকার তদন্তের গল্প শুনতেই পাঠকরা চাইবে।
লেখক চাইলে আশেপাশের আরো দুয়েকটি চরিত্রকে বিল্ডআপ করতে পারতেন। এতে গল্পটায় হয়তো কিছু আগ্রহের বিষয় আসত। ঈশান চরিত্রটাকেই লেখক বিল্ডআপ করেছেন ভালোমত। পাশাপাশি অবিনাশ রায়কে অল্পসময় প্লে করেছেন। আমার মনে হয়, অবিনাশ রায়কে আরেকটু বিল্ডআপ করা যেত তার পেছনের সময় নিয়ে।
লেখকের বর্ণনাশৈলি অত্যন্ত চমৎকার। গল্পের ফ্লো কমে গেলেও বর্ণনার কারণে গল্পটাকে চালিয়ে যেতে পেরেছি৷ টাইপিং মিস্টেক দুয়েকটা চোখে পড়েছিল হয়ত। প্রচ্ছদটাও চমৎকার। প্রচ্ছদের কথায় মনে পড়ল, এইরকম প্রচ্ছদ দেখলে শুরুতে একটা কথাই মনে হয়, এই প্রচ্ছদ নিশ্চয়ই পরাগ ওয়াহিদ ভাইই করেছে! হাহা!
পরিশেষে, সচরাচর ধারার বাইরে গিয়ে লেখক চমৎকার একটা গল্প উপহার দিতে চেয়েছেন। পাঠক নতুন জিনিসের স্বাদ নিতেই পারেন। আর যারা লেখকের মহাকাল ট্রিলজি পড়েছেন, তারা হয়তো নাম শুনেই এই বই পড়ে ফেলবেন। আমিও অপেক্ষায় আছি, দেখা যাক, কোন যুগে মহাকাল ট্রিলজি আমার ঘরে ঢোকে।
ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
বই : রুদ্ধদ্বার লেখক : দিবাকর দাস প্রকাশনী : প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৭৬ প্রচ্ছদ মূল্য : ৩৫০ টাকা
★বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা চরিত্র বললেই ফেলুদা, ব্যোমকেশ, মাসুদ রানা, কাকাবাবু চরিত্রগুলো প্রথমেই মনে আসে। এবার হয়তো আরো একখানা গোয়েন্দা চরিত্র এভাবেই আনতে যাচ্ছেন লেখক দিবাকর দাস। চরিত্রটির নাম- ঈশান রায়।★
★কাহিনি সংক্ষেপ: সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা ঈশান মুখ গুঁজে পড়ছে সরকারি চাকরির পড়া। যদিও আর দশটা বাবা-মায়ের মতো তার বাবা চায় না সে এভাবে সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে বেড়াক। বাংলাদেশে আর কোনো বাবা হয়তো নিজের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন পাগলামি আর করে না। গোয়েন্দা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ঈশানের বাবা চায় ঈশান গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দিক গোয়েন্দা হিসেবে। বেশ ছোটো থেকেই ঈশানের বাবা ঈশানকে সেভাবেই মানুষ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর ঈশানের মনে হয় বাবার এই পাগলামীতে তাল মেলানোর কোনো অর্থই হয় না। হঠাৎ ঈশানের বাবা মারা যান হার্ট অ্যাটাকে। ঈশানের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। যদিও ঈশানের বাবা তার জন্য বেশ ভালো অঙ্কের একটা টাকা রেখে গেছেন, কিন্তু এভাবে আর কত? ঈশান হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলো সে তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে। সে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগে গোয়েন্দা হয়ে কাজ করবে! কিন্তু সবকিছু তো আর এত সহজ না যে বললেই হয়ে যাবে! তবুও ঈশান চেষ্টা করবে। অবশেষে গোয়েন্দা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইফতেখার আমিন ঈশানকে দিলেন নিজেকে প্রমাণ করার একখানা সুযোগ। গুলশানের এক বিত্তশালী ব্যবসায়ী মারা গেছে। পুলিশের ধারণা ভদ্রলোক আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া তেমন কোনো কারণও সামনে আসেনি অবশ্য। কিন্তু ভদ্রলোক হঠাৎ আত্মহত্যায় বা কেন করতে যাবেন? ইফতেখার আমিন সাহেব তদন্তের ভার দিলেন ঈশানের ওপর। এদিকে ঈশানের তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক রহস্য। এখন দেখার বিষয় ঈশান সকল জট খুলে রহস্যের সমাধান করতে পারে কি না।
★পাঠ-প্রতিক্রিয়া: *ঈশান রায় সিরিজের প্রথম বই রুদ্ধদ্বার। এই পর্বে রহস্য সমাধানের চেয়ে লেখক ঈশান রায়কে তৈরি করতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। তবে মূল কাহিনি যে সেজন্য খুব অবহেলিত হয়েছে তা বলা যায় না। তবে বেকার ঈশানের গোয়েন্দা ঈশান রায় হয়ে ওঠাটা এখানে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে মনে হয়েছে। তবে সেটা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। *বইটা বেশ ফাস্ট রিডিং বলেই আমার মনে হয়েছে। লেখক রহস্যগুলো বেশ সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন এবং যথাসময়ে রহস্য উন্মোচনও করেছেন। এককথায় বইটা মোটেই বোরিং লাগেনি। * তবে, সাধারণত বিভিন্ন গোয়েন্দা কাহিনি, যেমন, ব্যোমকেশ-এ আমরা দেখি যে, মূল অপরাধীকে ফোকাস থেকে সরিয়ে বাকি সবাইকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়, এখানেও সেটাই করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দাপ্রেমীদের নিকট অপরাধীকে বের করা খুব একটা কঠিন হবে বলে আমার মনে হয় না। আমি জানি না, এইভাবে ছককষা কাহিনি থেকে বের হয়ে একটু অন্যরকমভাবে রহস্য সাজালে কাহিনিগুলো তার সৌন্দর্য হারাবে কি না, তবে আমার একটু ভিন্ন কিছু দেখার ইচ্ছাই ছিল। দেখা যাক, এটা সবে প্রথম পর্ব, পরবর্তী পর্বগুলোতে লেখক কী কাহিনি রেখেছেন! তবে নতুন গোয়েন্দা ঈশান রায়ের জন্য অনেক শুভকামনা।
★প্রচ্ছদ: প্রচ্ছদ আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বেশ সিম্পল, কাহিনির সাথে মানানসই এবং কালারকম্বিনেশনও ভালো লেগেছে।
★প্রডাকশন: ভূমির প্রডাকশন বেশ ভালো। পৃষ্ঠা, বাইন্ডিং ভালো লেগেছে।
আর দশটা গ্র্যাজুয়েট বেকার যুবকের মতোই সরকারি চাকুরি নামক সোনার হরিণকে কব্জা করতে গাদা গাদা তথ্যের গলাধকরণ করার সংগ্রামে নেমেছিল আমাদের উপন্যাসের নায়ক ঈশান। এভাবেই হয়তো দিন কেটে যেতো।
কিন্তু বাদ সাধলো পিতার মৃত্যু এবং পিতার তাকে নিয়ে স্বপ্ন।
স্বপ্নপূরণের জন্য এতোদিনের বিশেষ গ্রন্থলব্ধ জ্ঞানকে রুপান্তরিত করতে হলো প্রায়োগিক জ্ঞানে। প্রমাণ করতে হলো নিজের যোগ্যতা। প্রতিযোগিতায় নামতে হলো বাঘা বাঘা অভিজ্ঞ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে। কিনারায় নামতে হলো এক টাকার কুমিরের মৃত্যুরহস্যের।
সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে চললো। একে একে উন্মোচিত হতে লাগলো আভিজাত্যের মোড়কাবৃত পরিবারটির সদস্যদের অন্ধকার রুপগুলো।
সে কি পারবে এর কিনারা করতে?
ব্যক্তিগত মতামত :
যে বিষয়গুলো ভালো লেগেছে :
চাকুরির সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো খুব বাস্তবঘেঁষা ছিল।
টিউশনির ঘটনাটাও খুব পরিচিত।
বাস্তবঘেঁষা ছিল হাসপাতালের ব্যাপারগুলোও।
ঈশানের ক্যারেক্টার বিল্ডিং প্রসেসটা ভালো লেগেছে।
বি���িন্ন স���হিত্য আর ধর্মীয় মিথগুলোর প্রতি ট্রিবিউটগুলো ভালো লেগেছে। খাপ খেয়ে গেছে।
আমার জন্য আনপ্রেডিক্টেবল ছিল রহস্যটা।
আরেকটা বিষয় না বললেই না, সেটা হলো সমকালীন বা আগের কয়েক দশকের গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে দেখেছি তারা কিছু করলেই পত্র-পত্রিকা সয়লাব হয়ে যায় তাদের প্রশংসায়। অথবা প্রথম বইতেই তাদেরকে দুনিয়াখ্যাত, দেশখ্যাত গ্যালাক্সিখ্যাত গোয়েন্দা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এখানে এই বিষয়গুলো নেই দেখে ভালো লেগেছে।
যা যা ভালো লাগেনি :
সংলাপগুলোতে আরো পরিপক্বতা আশা করেছিলাম। অন্তত 'অভিমন্যু'র মতো সেই লেভেলের উপাদেয় ডিশ যিনি পাতে দিয়েছেন পূর্বে, তার থেকে তো বটেই।
বই বিক্রির জায়গাটা চোখে লাগার মতো অবাস্তব/অতি নাটকীয় লেগেছে।
কিছু কিছু জায়গায় অজানা তথ্য হুট করেই পরিবেশিত হয়েছে বলে মনে হয়েছে। যেমন বারে�� বিষয়টা সম্ভবত।
শেষ ক পাতায় একটু বেশিই তাড়াহুড়ো লেগেছে। অনেক জায়গায় জেরা বা লোকজনের থেকে তথ্য সংগ্রহের অংশগুলোও দু-এক বাক্যে শেষ করে দেয়া হয়েছে।
আশাবাদ :
সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতে ঈশান রায় আরো বেশি রিয়েলিস্টিক আর সাধারণ হয়ে উঠবে এমনটাই আশা রাখছি।
"আগে থেকে রহস্য ধরে ফেললে আর রহস্য গল্প পড়তে ভালো লাগে না।" উঁহু আমার কথা নয় দিবাকর দাসের "রুদ্ধদ্বার" বইটির একটা উক্তি। ইংরেজি সাহিত্যে শার্লক বা জেমস বন্ডের বাদেও ভালো মানের জনপ্রিয়তা পাওয়া বেশ কিছু গোয়েন্দা চরিত্র আছে। কিন্তু বাংলাতে ব্যোমকেশ আর ফেলুদার ধারের কাছে কেউ নেই। গতবছর যখন দিবাকর দাস দাদা সেই মানের কিছু লেখার কথা জানান তখনই আগ্রহী হয়। খানিকটা দেরী হলেও পড়া শেষ করেছি অবশেষে।
গল্পের প্রধান কুশীলব ঈশান রায়। সদ্য পড়াশোনা শেষ করা এই তরুণ স্বপ্ন আর গতানুগতিকতার মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত স্বপ্নকে ই বেছে নেয়। প্রথম পরীক্ষা হিসেবে তাঁর সামনে পড়ে গুলশানে আত্মহত্যা করা এক শিল্পপতি বৃদ্ধের কেইস। ঈশান আবিষ্কার করে আত্মহত্যার আড়ালে থাকা এক খুনের গল্প। এবার ঈশানের চ্যালেঞ্জ খুনের রুদ্ধ রহস্যের দ্বার উন্মোচনের।
লেখক শুরুতে একইসাথে দুটো গল্প বলার চেষ্টা করেছেন একটি ঈশানের ব্যক্তিগত, অন্যটি শিল্পপতি ও তার পরিবারের। অবশ্য পরবর্তীতে দুটো গল্প আর সমান্তরালে চলে নি। একটানা ঈশানের গল্প, এরপর শিল্পপতির। সমান্তরালভাবে দুটো গল্পকে আরো কিছুদূর টানলে মন্দ হতো না। যেহেতু সিরিজের প্রথম গল্প তাই ঈশানকে ডেভেলপে বেশ সময় দিয়েছেন লেখক। পড়ে মনে হলো বইয়ের ৬০% অংশে ঈশানকে ডেভেলপ করা হয়েছে। এতোটা একসাথে ডেভেলপ না করে কয়েকটা গল্প ধরে অল্প অল্প ডিটেইলিং করলেই বোধ করি ভালো হতো। গোয়েন্দা গল্পে গোয়েন্দা ছাড়াও আরো কয়েকটা চরিত্র ভালো ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। আমার মনে হলো রুদ্ধদ্বারে অন্য সব চরিত্র ঈশানের ছায়ায় ঢাকা পড়েছে। ব্যোমকেশ বা ফেলুদাতে লেখকরা পাঠককে অপরাধী ভিন্ন অন্য কোন চরিত্রের দিকে স্ট্রংলি লিড করেন, বইয়ে সেটা পাই নি। এদিকে নজর দেয়া দরকার। বুড়ো-বৃদ্ধ, বসেন-বসুন, দেন-দিন একগল্পে বোধ হয় না ব্যবহার করলেই ভালো। দেন, বসেন, বুড়ো এগুলো একটু দৃষ্টিকটু লাগে আমার। ফারুক খান তার স্টেটমেন্টে একটা মিথ্যা কথা বলেছিলেন, যেটা গোয়েন্দার চোখ এড়িয়ে গেছে। দোষ কাকে দেবো গোয়েন্দা না লেখককে??
অনেক নেগেটিভ বললাম এবার একটু পজেটিভ বলা যাক। পুরো গল্পে রহস্য এক্সপোজ হয় নি যেটা রহস্য গল্পের বড় গুণ। ঈশান বুদ্ধির যথেষ্ট পরিচয় দিয়েছে যেটা ভালো লেগেছে। তার কেইস রিডিং ও সলভ করার পদ্ধতিতে নতুনত্ব আছে। ঈশানের চরিত্রের ডেভলপমেন্ট বেশ বাস্তবধর্মী হয়েছে। অবশ্য অপরাধীর তরফ থেকে আরো তৎপরতা চেয়েছিলাম... এহ হে আবারও নেগেটিভ বলে ফেললাম। যাই হোক ঈশান রায় সিরিজের আরো বই আসুক। সিরিজের জন্য শুভ কামনা। রুদ্ধদ্বার লেখক: দিবাকর দাস প্রকাশক: ভূমি প্রকাশ প্রকাশ কাল: ২০২১ মুদ্রিত মূল্য: ২৯০ টাকা
#কাহিনী_সংক্ষেপ: সমাজের সাধারণ নিয়মে বাঁধা ছেলে ঈশান রায়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে, ভার্সিটি পাশ করে মোটামুটি নিশ্চিত একটা জীবন পেতে সরকারি চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে উঠা আমাদের বাস্তব সমাজের অলিখিত চুক্তি। এই চুক্তিতেই জড়িয়ে যাওয়া ছেলে ঈশান। দর্শনে পড়া ছেলে রাত-দিন চাকরির বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে থাকতে জীবনের স্বাভাবিক সকল চিন্তাভাবনা থেকে সরে এসে ঘরকুনো হয়ে উঠে। একটার পর একটা নোট গিলতে গিলতে মস্তিষ্ক ভরে উঠে ক্লান্তি, হতাশা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায়। তার বাবা যদিও তাকে একটা পথ চিনিয়েছে। নিজে গাইড হয়ে ট্রেইন করেছিলেন তাকে। কিন্তু অলিখিত চুক্তিতে জড়িয়ে সেটা সবকিছুর নিচে চাপা পরে যায়।
হঠাৎ, একদিন জাগতিক নিয়ম মেনেই তার বাবা চলে যান পরপারে। আর ছেলের কাঁধে রেখে যান দুনিয়ার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব একা পালন করার এক মস্তবড় বোঝা।
দিশেহারা ঈশান শেষ অবধি বাবার দেখানো পথেই ফিরে আসে। তলায় পরে যাওয়া একটা ক্ষুদ্র সম্ভাবনা কেই ধরতে মরিয়া হয়ে উঠে। তার এই নতুন পথের বন্ধুর যাত্রার বর্ননাই করেছেন লেখক দিবাকর দাশ। বুদ্ধির তীক্ষ্ণ ধারে সেই নতুন পথের আসন্ন পরীক্ষা কেটে পাশ করে যায় আর পায় নতুন পথের নতুন ধাঁধা।
গুলশান ২ এর আটাত্তর নাম্বার রোডের পাঁচ নাম্বার বাড়ি "মায়াকানন"। বাড়িটায় একজন বৃদ্ধ ধনকুবের লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু নবীন একজোড়া চোখ, তার দৃষ্টিতে ধরে ফেলে এটা আত্মহত্যা নয় বরং হত্যা। এবং সবই পরিকল্পিত, এবং ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে।
তারপর...
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: বইটা ভালোই লেগেছে। তরুন সমাজের বাস্তব চিত্র লেখক বেশ ঘটা করে বর্নণা করেই ফুটিয়ে তুলেছেন। আর ডিটেকটিভ ঈশান রায় চরিত্র টাতেও লেখকের দারুন মনোযোগ ছিলো। একদম ছোট্ট থেকেই একজন ডিটেকটিভ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া বর্নণা নিয়েই উঠে এসেছে। "ঈশান" চরিত্রকে যেভাবে বইটায় একটা অবয়ব দিয়েছেন তাতে সামনে চরিত্রটা আরো ভালো করতে পারবে। তবে, 'ঈশান' চরিত্রকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কেসটাকে ততটা গুরুত্ব দেয়া হয় নি। লাইম লাইট পুরোটাই ছিলো ঈশান এর দিকে। ঘটনাকে আরো বেশি প্রতিকুল প্রবাহ দিয়ে, জটিল করা যেতো। যা ঈশান রায় কে তৈরি করতে গিয়ে লক্ষ্য করা হয় নি।
💥 ২০২১ বইমেলায় কেনা বইগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম বই পড়েছি দিবাকর দাসের ডিটেকটিভ ঈশান রায় সিরিজের প্রথম বই "রুদ্ধদ্বার ", আর সময়-সুযোগের অভাবে পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখলাম বইমেলার শেষ দিনে। শেষ, বই মেলা শেষ। যদি বেঁচে থাকি, ইনশাআল্লাহ, আবার আগামী বছর আবার বইমেলায় যাওয়া হবে.
💥 রুদ্ধদ্বার এর কাহিনী সংক্ষেপ পড়ার পর থেকে বইটির জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে ছিলাম৷ ‘ঈশান রায়’ দিবাকর দাসের তৈরি এক বাংলাদেশি গোয়েন্দা চরিত্র। সে একজন ভার্সিটি পাশ করা বেকার যুবক, যে কিনা ব্যস্ত ছিল বিসিএস-সহ সব সরকারি চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা নিয়ে। যদিও মধ্যবিত্ত বাবার স্বপ্ন ঈশান রায় গোয়েন্দা হোক। তাই, বাবা ‘অবিনাশ রায়’ ছোট থেকেই ভবিষ্যতে গোয়েন্দা হওয়ার জন্য ঈশানকে প্রস্তুত করার চেষ্টায় লেগে যান।
💥 বইয়ের শুরুর দিকের কিছুটা অংশ জুড়েই ছিল ঈশানের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা, যেহেতু এইটা একটা সিরিজ তাই আমি মনেকরি প্রধান চরিত্র সম্পর্কে এতোটা আলোচনার প্রয়োজন আছে। পাঠকের মনে খুব সহজ ভাবেই ঈশান রায় চরিত্রটা গেথে যাবে। তারপর, বাবার দেয়া কেস গুলো পড়ে নিজেকে প্রস্তুত করানো, ইফতেখার সাহেবের কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমান দেওয়া, কেস নিয়ে ঘাটাঘাটি, মায়াকাননের সবাইকে ইন্ট্রোরোগেট করা। ক্রাইম রিপোর্ট তৈরির জন্য যথাযত প্রমান সংগ্রহ, তারপর শাহবাজ খানের মৃত্যুর কেস এর সফল সমাধান, রহস্যের জট শেষ করা।
💥 আমার কাছে গল্পের প্লটটা খুব ভালো লেগেছে। দিবাকর দাসের ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট খুব ভালো। প্রথমে একটু স্লো মনে হলেও, টান টান উত্তেজনা ও সামনে কি হবে তা খুজতে যেয়ে খুব দ্রুতই ১৭৬ পৃষ্ঠার বই শেষ হয়ে যাবে।
💥 বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র বলতে আমারা সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি ফেলুদা এবং শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ বক্সীকেই খুব ভালো ভাবে চিনি। এখন হতো নতুন এক বাঙালি গোয়েন্দা চরিত্র হিসাবে ‘ঈশান রায়’ কে সবাই চিনবে। লেখক ও গোয়েন্দা ঈশান রায় এর জন্য শুভকামনা রইলো। 💗
💓 ভালো লাগা কিছু কথা 💓
💠 অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভূতপ্রেতের চেয়েও ভয়ংকর।
💠 যখন স্বপ্নের পুতুলে ভালো করে রং মেখে রোদে শুকিয়ে গড়ে তোলার দরকার ছিল, তখন সেই পুতুল ত্যাগ করেছে কুমার।
💠 যে সময় সেই স্বপ্ন কে লক্ষ্য নামক আসনে রেখে পূজা করার সময়, সেই সময় সে সেটাকে সরিয়ে রেখেছে এক কোণায় - পরম অবহেলায়, চরম অযত্নে।
💠 এই কান্না লোক দেখানো নগ, শোকের নয়, হতাশার নয়। এই কান্না সে যেখান থেকে আসে পৃথিবীর কোন ধরনের কালিমা পৌঁছাতে পারে না। চরম ভাগ্যবান কিছু মানুষ জীবনে হাতেগোনা কয়েকবার এই অনুভূতির সাক্ষী হতে পারে।
💠 শহর ঘুমায় না। ঘুমায় এই শহরের খোলস। বাহিরে থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই ভেতরে কত কষ্টের নিয়ে জাগে সে।
💠 এই নিশাচর শহরের পেঁচাদের আতিথ্য দেয় নিশাচর নকল চন্দ্রিমা। আসল জোছনার সাথে তার পার্থক্য করা যায় না।
🆘 সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদ আর বইয়ের লেটারিং খুব সুন্দর হয়েছে। বাঁধাই আর কাগজের মান ভালো। কয়েকটা বানান ভুল, ওয়ার্ড মিসিং ছিল।
💟 গোয়েন্দা উপন্যাস ভালো লাগলে বইটি পড়ে দেখতে পারেন, হতাশ হবেন না.. 😊
দিবাকর দাস এর প্রথম পড়া বই এটি। প্রথম হিসেবে রীতিমত চমকে দিয়েছেন। প্রেক্ষাপট বর্তমান সময়ের লেখা হলেও উনার লেখনীতে বিংশ শতক এর একটা ধাজ আছে।
এটা দিবাকর দাস এর গোয়েন্দাচরিত্র 'ঈশান রায়' সিরিজের প্রথম উপন্যাস। বেশ ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন প্রধান চরিত্র ঈশান রায়কে। ভার্সিটি পাস করা বেকার জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনে বড় একটা ধাক্কার সম্মুখীন হয় সে, এবং সেই ধাক্কা থেকেই তার জীবনের নতুন মোড় শুরু হয়...
এখানে লেখক সমাজ বাস্তবতার বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন কোটেশন ব্যবহার করেছেন যা সত্যিই বাস্তবতার সাথে মিল খায়।
গোয়েন্দা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার জন্য তাকে দিতে হবে এক চরম পরীক্ষা। গুলশানের এক বড়লোক পরিবার এর এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেন, এটা কি সাধারণই আত্মহত্যা না কোনো ঠান্ডা মাথার খুন নাকি কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়বে! ঈশান কি পারবে এর রহস্য উন্মোচন করতে! এর উপরেই নির্ভর করবে ঈশান রায় এর গোয়েন্দা পেশা!
গোয়েন্দা উপন্যাস হলেও দিবাকর দাস এর লেখনী কৌশল আমাকে মুগ্ধ করেছ! বিনা বিরক্তি তে এক বসা তেই শেষ করা যায় এই উপন্যাস!
বই: রুদ্ধদ্বার লেখক: দিবাকর দাস ঘরানা: মৌলিক থ্রিলার প্রথম: প্রকাশ মার্চ২০২১ প্রকাশনী: ভূমি প্রকাশ পৃষ্ঠা: ১৭৬ মুদ্রিত মূল্য: ২৯০ টাকা ফরমেট: হার্ডকভার
কাহীনী সংক্ষেপঃ
ঈশান রায়,ভার্সিটি পাশ করা বেকার যুবক।দিন রাত এক করে সরকারী চাকরির জন্য পড়ে যাচ্ছে।তিন তিন বার বিসিএস এর প্রিলিতে বসার পরেও একবার ও সুবিধা করে উঠতে পারেনি।বাবা অবিনাশ রায় সিআইডি অফিসে ছোট চাকরি করেন।মা হারা ছেলেকে বেশ কয়েকবার সেই অফিসে কাজ করার জন্য বলেছেন।কিন্তু ঈশান কেবল সরকারী চাকরী করতেই চায়।ঘটনাচক্রে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে মারা যায় অবিনাশ রায়।ঈশান বাবাকে হারিয়ে যেনো অকুল পাথরে পড়লো।
অন্যদিকে গুলশানের অভিজাত এলাকায় মৃত অবস্থায় প্রখ্যাত ধনী শাহবাজ খানকে তার নিজের ঘরেই পাওয়া যায়।শাহবাজ খান এর এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই ধরে নেওয়া হয়।কেস পড়ে সি আইডি এর হাতে।
ঈশান বাবার মৃত্যুর পর সরকারী চাকরীর আশা বাদ দিয়ে হতে চায় গোয়েন্দা।বাবা ছোটবেলায় ছেলেকে গোয়েন্দা বানাতে চেয়েছিলেন।বাবার মৃত্যুর পর সেই ইচ্ছাটা জেগে উঠে।সেই আশায় ছুটে যায় সি আই ডি এর উপরের কর্মকর্তা ইফতেখার আমিনের কাছে।কিন্তু ইফতেখার আমিন শুধু শুধু কেন ঈশান কে তদন্ত করতে দিবেন?কিন্তু ঈশানের অনুরোধে তাকে একটা চান্স দিলেন ইফতেখার আমিন।ঈশান তদন্তে নেমেই বের করে শাহবাজ খানের মৃত্যুটা নিছক আত্মহত্যা না খুন! ঈশানের এই দাবী কতটা যুক্তিযুক্ত? আর শাহবাজ খান কেনই বৃদ্ধ বয়সে আত্মহত্যা করতে যাবেন? আর খুন হলেও তার নিজের ঘরেই কে তাকে খুন করতে চাইবে? বিশাল গোলকধাঁধা। শুরু হয় তদন্ত।তদন্তের ভার ঈশানের কাধেঁ। ঈশান কি পারবে রহস্য সমাধা করতে?
ব্যাক্তিগত মতামতঃ লেখক এই বইতে একজন মৌলিক থ্রিলার এর ধারা নিজস্ব সৃষ্ট এক গোয়েন্দা চরিত্র তৈরি করতে চান।বেশ সাদামাঠা গল্প ছিলো রুদ্ধদ্বার।খুব বেশি আচমকা উত্তেজনা সৃষ্ঠি করতে না পারলেও লেখক ভালো ভাবে চেষ্ঠা করেছেন বইটি তে ঈশানের গোয়েন্দা হিসেবে ফুটিয়ে তুলার।একেবারে ব্যার্থ হোন নি লেখক।বইতে কিছু শব্দ ভুল ছাড়া তেমন কোন ত্রুটি চোখে পড়েনি। পাঠককে ঈশান রায়ের গল্পে স্বাগতম।