মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর আলতামাশের হঠাৎ মনে হলো, কোনো একটা স্বপ্নের ভেতর থেকে জেগে উঠেছে সে। কিন্তু স্বপ্নটা এতটাই বাস্তব ছিল যে সেই স্বপ্নের ঘোর কিছুতেই কাটাতে পারছে না। তার বুকের কাছে একটা তীব্র ব্যথা। হাঁটুর কাছটাতেও। ট্রেনটা কী অবিশ্বাস্য গতিতেই না তার শরীরের ওপর দিয়ে ছুটে চলে গেল! সে হাত বাড়িয়ে তার বুকের ব্যথার জায়গাটা স্পর্শ করতে চাইল। কিন্তু পারল না। বিস্মিত আলতামাশ তাঁর ক্ষতবিক্ষত হাঁটু জোড়া দেখার জন্য নিচে তাকাল। আর সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্কে কিংবা আনন্দে জমে গেল সে।
দেখল, খানিক আগে যে ট্রেনটা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেছে, সেই শরীরটা ওখানে ট্রেন-লাইনের ওপর ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। অথচ সে বেঁচে আছে! তাঁর এত দিনের স্বপ্ন তাহলে পূরণ হয়েছে? সে বেঁচে থেকেই তাঁর নিজের বিকৃত মৃত শরীরটা দেখতে পাচ্ছে? কী আশ্চর্য!
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015. Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
আমার না-কি ধৈর্য একদম নেই! এই কথাটি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি। কিন্তু আজ আমার বিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হলো! সাদাত হোসাইনের লেখা ‘বিভা ও বিভ্রম’ বইটি বাতিঘরে বসে একটানা প্রায় চার ঘন্টায় পড়েছি। অন্য কেউ হলে হয়তো বইটি দেড় ঘন্টায় পড়ে শেষ করতো, কিন্তু আমি অনেক স্লো! তো যাইহোক, ঘাড়ে-কোমড়ে ব্যথা নিয়ে বইটি শেষ করতে পেরেছি এই নিয়ে গর্ববোধ হচ্ছে। ‘বিভা ও বিভ্রম’ বইটি কেমন ছিল? রিভিউ লেখার মতো আমার যোগ্যতা এখনো হয়নি, কখনো হবে কিনা তাও জানিনা। কিন্তু নিজের মতামত জানাতে তো কোনো অসুবিধা নেই। ‘বিভা ও বিভ্রম’ বইটির শুরুটা উপন্যাসের মতো মনে হলেও কয়েক পৃষ্টা পর থেকেই মনে হচ্ছিল এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র 'আলতামাশ'-এর বায়োগ্রাফিক বই! অবশ্য শেষে জীবনভিত্তিক লেখায় কিছুটা ভালো লেগেছে (মজা পেয়েছি)। বইটি নিয়ে আরও একটি ‘অসঙ্গত’ কথা বলি! বইটি পড়ার সময় কেন যেন বারবার হুমায়ূন আহমেদের ‘পোকা’ এবং মো. সহিদুল ইসলামের ’সুইসাইড নোট’ বই দুটির কথা মনে হচ্ছিল। বইটি নিয়ে কথা বলার মতো আর কিছুই খোঁজে পাচ্ছিনা। লেখকের কাছ থেকে দারুণ দারুণ বই আশা করি এবং লেখকের জন্য শুভকামনা।
জাস্ট দুই ঘন্টায় পড়ে শেষ করলাম বইটা। ছোট্ট একটা বই, তবে বইটা পড়ে ভাবার আছে অনেক কিছু। ছোটবেলার ট্রমা একটা মানুষের পুরো জীবনের উপর কতটা ইফেক্ট ফেলতে পারে সেটা এই বই পড়ে আবারো নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। সাদাত হোসাইনের পড়া এটাই প্রথম বই আমার। উনার লেখায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার মত ছাপ লক্ষ্য করলাম। হতে পারে শুধু আমার কাছেই এমন মনে হচ্ছে। আর কয়েক জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত বিশেষণের ব্যবহার বিরক্তির সৃষ্টি করেছে। চরিত্র ছিল হাতে গোনা কয়েকটা। প্লট ভালো ছিল। বর্ণনার ধরণ ভালো, সহজপাঠ্য। যারা রিডার্স ব্লকে পড়েছেন কিন্তু কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না তাদের জন্য এটা আদর্শ একটা বই হতে পারে।
মানুষের জীবনে পূর্ণতা থাকে, মানুষের জীবনে অপূর্ণতা থাকে। জানিনা এই পূর্ণতা আর অপূর্ণতা অন্যান্য জীবের আছে কিনা!
এ গল্পটি একজন মানুষের জীবনের অপূর্ণতার গল্পে সাজানো। আলতামাশ। তারই অপূর্ণতায় ভরপুর এই গল্প। জীবন বলতে গেলে তার চাওয়া পাওয়ার কিছুই দেয়নি। এ গল্পটি পড়ার সময় আপনার মনে এক ধরণের পাথর চাপা পড়েছে মতো মনে হবে। এতো অপ্রাপ্তি একজন মানুষের জীবনে কেমনে থাকে! এ আলতামাশের সাথে মিল খুজে পেতে পারেন আপনার নিজের, অথবা আপনার পারিপার্শ্বিক কারো। আলতামাশের শৈশব কেটেছে মারাত্মক ট্রমার ভেতরে। দুঃস্বপ্ন যেটাকে বলে আরকি! এই দুঃস্বপ্নই তাকে তার পুরোটা জীবন তাড়িয়ে বেড়ায়। এই গল্পে আমার ভালো লেগেছে ফারিয়া চরিত্রটি। নিঃস্বার্থ ভাবে একজন মানুষকে ভালোবেসে অতলে তলিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে টেনে তুলেছেন। উনাদের মতো মানুষ আছে বলেই অগনিত আলতামাশ বেচে থাকার সাহস পায়।
বইটি এক বসায় শেষ করার মতোই। কিন্তু গল্পের বেশ কিছু জায়গায় অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়েছে, মানে যা গল্পের সাথে মেলাতে কষ্ট এমন।
অনেকদিন পর উপলব্ধি ব্যক্ত করছি। মূলত উপন্যাসটি অনেকদিন আগেই পড়া হয়েছে। দুহাজার বিশের 'অন্য আলো' ঈদ সংখ্যায় প্রকাশ পাওয়া সাদাত হোসাইনের উপন্যাস বিভা ও বিভ্রম। সুতরাং উপন্যাসটি বই আকারে পড়বার প্রয়োজন পড়েনি।
উপন্যাসের মূল চরিত্রে রয়েছে আলতামাশ। 'আলতামাশ' একটি তুর্কি নাম। নায়কের অগোছালো জীবনে 'আলতামাশ' নামখানা যেনো আরও বিচিত্র বয়ে আনে। তার জীবনসংগ্রামে রয়েছে এক বিষণ্ণ অধ্যায়। যদি একবাক্যে বলি —নৌকা আছে, নেই পাটাতন।
আমার উপলব্ধিতে আলতামাশের জীবনীকে নৌকা মনে হয়েছে। যে নৌকার গলুই আছে, ছই আছে এমনকি বৈঠা আছে কিন্তু পাটাতন নেই। মানে জীবনটি যেনো অকেজো নৌকা।
আলতামাশের জীবনসংগ্রামে তার এক সহযোদ্ধা ছিলো। তার নাম ফারিয়া। সে আলতামাশের স্ত্রী ছিলো। ফারিয়া আপ্রাণ চেষ্টা করেছে তার সঙ্গ দিতে। কিন্তু আলতামাশের অদ্ভুত আচরণে সে একসময় হাঁপিয়ে উঠেছিলো।
আলতামাশের এমন অদ্ভুত আচরণ বা জীবন বিচরণের কারণ ছিলো তার মামি। তার এ মামি এবং তার পরিবার ঘিরেই আলতামাশের গুচ্ছ গুচ্ছ গল্প যা বলে দিলে আপনারা আর পড়তে চাইবেন না। তাই আর বলছি না।
বি: দ্র: সাদাত হোসাইনের এ উপন্যাসটি আমার পঠিত প্রথম ছিলো। প্রচুর সমালোচনা আলোচনা শুনেছি লোকটার। বড্ড পড়তে ইচ্ছে করছিলো তার লেখা দু একটি উপন্যাস বা গল্প। সে ইচ্ছে থেকেই পড়া হয়েছিলো— বিভা ও বিভ্রম। জানিনা কার কি উপলব্ধি তবে আমার বেশ লেগেছে। তারপর আরেকটি উপন্যাস পড়া হয়েছে তার —মেঘেদের দিনগুলি। সেটির উপলব্ধি পরে ব্যক্ত করবো।