প্রাচীন মন্দিরের পাশে পুরু ইস্পাতের পাতে মোড়ানো ভাঙা যে কুয়াটা থেকে ঝড় বৃষ্টির রাতে গুমগুম শব্দ ভেসে আসে, কী আছে সেটার অতলে? কেন নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে শহরের বাচ্চারা? প্রবল ঝড়ের রাতে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে বাঘের রূপধারী যে প্রাণীটা অর্বাচিন চাকমার ছেলেকে খুন করেছিল সে কি আসলেই বাঘ? গোপন ল্যাবরেটরিতে আইন্সটাইন বাক্স নামের যে রহস্যময় জিনিসটা তৈরি হচ্ছে, কী আছে সেটার ভেতরে? আকবর সাহেবের কাছে অপরিচিত ঠিকানা থেকে রহিমার মা নামের যে দরদী বৃদ্ধা নিয়মিত চিঠি পাঠায়, সাথে একটা হরলিক্সের কৌটা - কী তার পরিচয়? কী চায় সে?
বইটি লেখক দুইটি অংশে লিখেছেন। বড় কল্পবিজ্ঞান এবং ছোট কল্পবিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে। প্রথম অংশ পড়ার সময় মনে হয় অনেকগুলো গল্প পড়া হচ্ছে কিন্তু 'রহিমার মা' নাম দিয়ে শুরু হওয়া অধ্যায় মাত্র প্রথমটি এবং শেষ হয়েছে 'আইনস্টাইন বাক্স' নামক অধ্যায় দিয়ে।
লেখক কোন লেখক বা চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এসব গল্প লিখেছেন সেসবের উল্লেখ আছে বইয়ে। বড় গল্প 'রহিমার মা' বেশ আগ্রহ উদ্দীপক প্লটের হলেও অগোছালো, অবিন্যস্ত লেখনির কারণে হতাশ করেছে।
নাইম হোসেন ফারুকী খুব সম্ভবত হুমায়ূন আহমেদের ফ্যান। লেখক হুমায়ূনের মতো করে লিখতে চাওয়ার একটা প্রবণতা প্রায় সব লেখায় পেয়েছি। তবে লেখালেখির সাবলীলতা থাকা সত্তেও কে-ই বা হুমায়ূন অরিজিনালের চেয়ে কম মানের গল্পকথন পছন্দ করবে!
ছোট কল্পবিজ্ঞানগুলোতে পাঠক অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য পাবেন। এসবের মধ্যে ভালো লেগেছে 'কার্ডিয়াক' এবং 'মহিষমতি সমীকরণ'।
অনেক ভালো মানসম্পন্ন বিজ্ঞান কল্পগল্প পড়ে ফেলায় আমার বইটি তেমন ভালো লাগে নি। প্লট ছিলো ভালো, লেখকের মাঝে এক ধরণের সাবলীলতাও ছিলো, কিন্তু সব গল্পে পাঠককে চমকে দেয়ার প্রবণতা লেখকের মাঝে কাজ করেছে। কিন্তু এতটা টুইস্ট নির্ভর লেখা যা আবার এলোমেলো, ভালো লাগে নি।
বই রিভিউ
নাম : মহিষমতি সমীকরণ লেখক : নাঈম হোসেন ফারুকী প্রকাশনায় : প্রান্ত প্রকাশন প্রচ্ছদ : মেহরাব সিদ্দিকী সাবিত প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২১ জনরা : সায়েন্স ফিকশন রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
এবার বইমেলা গিয়েছিলাম। নাঈমভাইয়ের সাথে দেখা করার ইচ্ছা ছিল৷ পূরণও হয়েছে৷ উনি আমাকে "মহিষমতি সমীকরণ" বইটি গিফট করলেন৷ আমি উপন্যাস, গল্পের বই কম পড়ি৷ তাই এই বইয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায়নি। বাসায় আমতা আমতা করে বইটা নিলাম, পড়ে দেখি কি হয় আজকে। নাঈমভাই বলে কথা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টিং-মশলাদার-হরলিক্সযুক্ত কিছু হবে। হ্যা, তাই হলো।
"প্রাচীন মন্দিরের পাশে পুরু ইস্পাতের পাতে মােড়ানাে যে কুয়াটা থেকে ঝড় বৃষ্টির রাতে গুমগুম শব্দ ভেসে আসে , কী আছে সেটার অতলে ? কেন নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে শহরের বাচ্চারা ? প্রবল ঝড়ের রাতে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে বাঘের রূপধারী যে প্রাণীটা অর্বাচিন চাকমার ছেলেকে খুন করেছিল সে কি আসলেই বাঘ ? গােপন ল্যাবরেটরিতে আইনস্টাইন বাক্স নামের যে রহস্যময় । জিনিসটা তৈরি হচ্ছে , কী আছে সেটার ভেতরে ? আকবর সাহেবের কাছে অপরিচিত ঠিকানা থেকে রহিমার মা নামের যে দরদী বৃদ্ধা নিয়মিত চিঠি পাঠায় , সাথে একটা হরলিক্সের কৌটা কী তার পরিচয় ? কী চায় সে ? আকবর সাহেব হরলিক্সের কৌটা খুললেন । বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভেসে গেল চারদিক । আর খুলে গেল এমন এক রহস্যের দরজা যার শুরু হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে , অন্য কোনাে জগতে , অন্য কোনাে । মহাজাগতিক সত্তার হাত ধরে !"
আমেনার মা থুক্কু রহিমার মা দিয়ে গল্প শুরু৷ গল্পটা একই প্রেক্ষপটে ঘটা বিভিন্ন টাইমলাইনের সংমিশ্রণ । আমি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম ৬৩ পেজের প্রথম সাই-ফাইটি। একটুও বোরিং লাগেনি৷ পুরাটাই থ্রিল ছিল। গল্পগুলা শুরু হয় সিম্পলভাবে শেষ হয় টুইস্ট দিয়ে যা আপনি ভাবেনওনি৷ আচমকা টুইস্ট এসে গল্পের মোড় পালটিয়ে ফেলে৷ বইয়ের শেষের দিকে মিনি সাই-ফাই আছে৷ প্রত্যেকটার উপসংহারে ম্যাজিক বাক্য থাকে তখন আপনার কল্পনার জগতে যে প্রেক্ষাপট ভাসতাছিল তা মূহুর্তের মধ্যে বদলে গিয়ে রূপ নেয় বিজ্ঞনের এক বিস্ময়কর রহস্যে৷ আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে এটাও কি সম্ভব!
এটা অন্যান্য সাই-ফাই থেকে আলাদা। আপনারা যারা ভাইয়ের আর্টিকেল পড়েন তারা জানেন উনার লেখার স্টাইল পুরাই জুস৷ আমি রেকোমেন্ড করব বইটি পড়তে৷ বইয়ের কোন গল্প বলে স্পয়লার দিতে চাই না৷ বইটি কিনুন, টাকা নষ্ট হবে না শিউর৷ 🥰🥰🥰🥰
চিঠিটা পড়ে আকবর সাহেব যেন একটু অবাক হলেন। এমনকি তার থেকেও বেশি অবাক হলেন সেই চিঠির সাথে পাওয়া পার্সেল দেখে। আসলে পার্সেলটা একটু অবাক করার মতোই। কেননা তা ছিল হরলিক্সের একটা কৌটা। এই রহিমার মা নামে কাউকেই তিনি বা তার সহধর্মিনী শাহানা কেউই চেনেন না। পরে তিনি ভাবলেন এটা কী তার কাছে ভুল করে পাঠানো হয়েছে নাকি? যদি তাই হয় তাহলে তো তার উচিত সেই চিঠি সমেত পার্সেলটা ফেরত উচিত। যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি তা করার চেষ্টা করলেনও বটে কিন্তু পার্সেলে দেওয়া মোবাইল নম্বর ভুল থাকার কারণে তিনি তা পারলেন না। এমূর্হুতে তার কী করা উচিত তা ভাবতে ভাবতেই তার নিজের ৫ বছরের বাচ্চা রুদ্রের কথা মনে পড়ল। যে একদমই কিছু খেতে চায় না। সবসময় বাছাবাছি করে। পছন্দমতো না হলে সে খেতেই চায় না। না খেতে খেতে সে একেবারে রোগা আর শুকনা হয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি সাতপাঁচ না ভেবেই তার ছেলের জন্য হরলিক্সটা রেখে দিলেন। এমনকি সেই হরলিক্স রুদ্রের অনেক ভালো লেগেছে।
হরলিক্সটা যে একেবারেই সাধারণ তাও কিন্তু না সেই হরলিক্স বাজারের অন্যান্য হরলিক্সের তুলনায় স্বাদে ও গন্ধে অনন্য। সেই হরলিক্সের ঢাকনা খুললে বেলি ফুলের গন্ধ বের হয়। যা পুরো ঘরকে সুবাসিত করে দেয়। যা খেয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই রোগা শুকানা রুদ্রের স্বাস্থ্য ফিরে এসে। কিন্তু প্রত্যেক ভালো কিছুরই যেমন একটা সাইড ইফেক্ট থাকে তেমনই এর ফলেও রুদ্রের মধ্যেও একটা পরিবর্তন দেখা দেয়। সে একদিকে যেমন মোটা হতে থাকে। ঠিক মোটা না থলথলে হয়ে যায়। তেমনি অন্যদিকে তার আচরণেও দেখা যায় বিরাট পরিবর্তন। সে একপ্রকার চুপচাপই হয়ে যায়। সে হরলিক্স ছাড়া কোনোকিছুই মুখে দিতে চায় না। এসব ঘটনা আকবর সাহেবের মনে সন্ধেহের দানা বাঁধালেও নিতান্ত কর্মজীবনে ব্যস্ত থাকার কারণে কিছুই করতে পারেননি। তিনি কিছু করতে যাবেন তার আগেই ঘটে গেল একটা দুর্ঘটনা। রুদ্র বাসা থেকে বের হয়ে কোথায় যেন চলে গেছে। শুধু রুদ্রই নয় সেসময় শহরের আরো অনেক বাচ্চাই নিখোঁজ হয়ে যায়। আবার অনেকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়।
ঠিক একই সময় শহর থেকে দূরে কোনো এক পার্বত্য অঞ্চলে রুদ্রের মতো করেই হারিয়ে যায় কিশোর চঞ্চল আর তার বন্ধু অনির্বাণ। সেখানেও পাওয়া যায় বাচ্চাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ। এবারও এই ঘটনার আগে ও পরে সেই একই বেলি ফুলে সুবাসিত হরলিক্সের একটা যোগসূত্র পাওয়া যায়। তবে এবার কোনো অ��রিচিত মানুষের থেকে হরলিক্সগুলো সন্ধান পাওয়া যায় নি। গেছে খুবই পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য মানুষের থেকে।
আবার ঘটনাচক্রে এসকল ঘটনার একটা যোগসূত্র মেলে সেই সদুর অতীতে ভারতবর্ষে ঘটে যাওয়া একটা লোভী জমিদারের কৃতকর্মের সাথে। যিনি শত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লোভে বশীভূত হয়ে গ্রামের প্রাচীন মন্দিরের পাশে থাকা পরিত্যক্ত কুয়ার পুরু ইস্পাতের পাত দিয়ে সিল করে দেওয়া মুখ খুলেন এবং ভিতর থেকে বের করে আনেন কিছু মহামূল্যবান দ্রব্য। হীরা, মণি, মুক্তা সহ আরো অনেক কিছু।
সবই যেন রহস্যেঘেরা একটা পরিপূর্ণ জিক্স পাজলের এক একটা হারানো টুকরা। যেগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইতিহাসের পাতার গভীরে। যেই হারানো টুকরাগুলো সঠিকভাবে বসালে উন্মোচিত হয় হাজার বছর ধরে চলা মানবজাতির বিরুদ্ধে কোনো এক মহাজাগতিক সত্তার ঘোর ষড়যন্ত্রের। যেই রহস্যের সুচনা হয় পৃথিবীর বুকে এবং ইতি হয় পৃথিবী থেকে অনেক দূর মহাকাশে।
কিন্তু কী এই রহস্য? কেনই বা এত এত বাচ্চা নিখোঁজ হচ্ছে আবার পরবর্তীতে তাদের কেউ কেউ ফিরেও আসছে? কেনই বা শহরজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে শিশু কিশোরদের লাশ? কেনই বা সব নিখোঁজের সাথে হরলিক্সের একটা যোগসূত্র আছে? কেনই বা এতদিন সেই মহামূল্যবান মণি মুক্তায়ভরা কুয়ার মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল কেন? কী রহস্য আছে সেই কুয়ার?
তারচেয়েও বড় কথা কেনই বা চায় সেই মহাজাগতিক সত্তা মানবজাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে? তার কী একমাত্র উদ্দেশ্য পৃথিবী থেকে মানবজাতির অস্তিস্ব মুছে দেওয়া যেমনটা বিভিন্ন এলিয়েন নিয়ে তৈরি হওয়া সিনেমা ঘটে?
এমনকি এইসব রহস্যের সন্ধানে পৃথিবীর সকল মানুষ এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্টও চাচ্ছে যাতে এই রহস্যের সমাধান হোক। কী ছিল সেই সমাধান? জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে এবারের একুশে বইমেলায় প্রান্ত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাঈম হোসেন ফারুকীর প্রথম সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস মহিষমতি সমীকরণ।
বইটাতে স্থান পেয়েছে একটা বড় কল্পবিজ্ঞান আর বারোটা ছোট কল্পবিজ্ঞান। অর্থাৎ বলা যায় বাইটা দুইভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে স্থান পেয়েছে বড় কল্পবিজ্ঞান 'রহিমার মা'। যেটা আবার আটটা অংশে বিভক্ত। প্রত্যেকটা অংশের মধ্যে একটা গভীর অন্তনিহিত মিল রয়েছে। পুরাটা পড়ার সময় পাঠক একটা থ্রিলিং ভাব অনুভব করবে। আর দ্বিতীয় ভাগে স্থান পেয়েছে আটটা ছোট কল্পবিজ্ঞান। যেগুলোকে লেখক আবার কয়েকভাগে ভাগ করেছেন তাদের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে। যেগুলো হলো রূপকল্পবিজ্ঞান, রম্যকল্পবিজ্ঞান, ভৌতকল্পবিজ্ঞান, অপকল্পবিজ্ঞান, টেককল্পবিজ্ঞান ও বায়োকল্পবিজ্ঞান। বলতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছি দ্বিতীয় ভাগেরও প্রত্যেকটা গল্পই প্রথমভাগের থ্রিলিং ভাব অনুভব করানো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
সাধারণত বিভিন্ন কল্পবিজ্ঞানের বই পড়ার সময় বেশিরভাগ পাঠক একটা অংশ পড়ার পর যখন অন্য অংশে যাবে তখন অনেক সময় সে এরপরে কী হবে তা মোটামুটি ধারণা পেয়ে যায়। কিন্তু এই বইয়ের ক্ষেত্রে তা একেবারেই সম্ভব না। পাঠক যা ভাবে সামনে আগাবে দেখা যাবে পরে তার কোনো মিল নেই বা মিল থাকলেও তা খুবই সামান্য। যা একজন পাঠককে বইটা পড়ার সময় একটা থ্রিলিং ভাব অনুভব করাতে বাধ্য করাবে। আমার মতে এটাই পুরা বইয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সাধারণত বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশন জগতের পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয় মুহম্মদ জাফর ইকবালকে। তিনি একের পর এক সায়েন্স ফিকশন লিখে কিশোর কিশোরীদের মন জয় করেছেন। তার বিরুদ্ধে উঠা সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর মধ্যে একটা হলো তিনি ঘুরে ফিরে প্রায় একই টপিকের মধ্যে সবসময় আবদ্ধ থাকেন। তেমন কোনো নতুনত্ব নেই। মহাকাশযান, মহাজাগতিক সত্তা, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, সাইবর্গ, কোয়াকম্প, মানবজাতির বিভক্তি সহ আরো কত কী? তবে তার এই টপিকগুলোর উপর ভিত্তি প্রকাশিত বইগুলো একে একে জনপ্রিয় ও বেস্ট সেলার হওয়ার কারণে বর্তমানে অনেক লেখকই তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রায় একই টপিকের উপর লিখতে শুরু করে। যার থেকে লেখক নাঈম হোসেন ফারুকী থেকে একেবারে মুক্ত। তার লেখার মধ্যে একটা নিজস্বতা আছে। পাশাপাশি কাহিনীর গভীরতা, লেখনশৈলী, প্লট বিন্যাস, বিজ্ঞানের সাথে সাহিত্যের সফল ব্যবহার তাকে সায়েন্স ফিকশনের জগতের একেকজন মহারথীদের থেকে আলাদা করেছে এবং তাদের মধ্যে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে।
এই বইয়ের সবচেয়ে ইউনিক বিষয় হলো বইটার প্রত্যেকটা গল্পেরই একটা হিডেন মিনিং আছে। যাতে লেখকের বর্তমান সমাজব্যবস্থার প্রতি লেখকের জীবনভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান সমাজব্যবস্থার প্রতি মানুষের হতাশাজনক মনোভাব থেকে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হয় এই ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে এই বইয়ে। এই বইয়ের আরেকটা ইন্টারেস্টিং দিক হলো প্রতি গল্পের শেষে গল্পটা কোথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে এবং এর পিছনের বিজ্ঞান কী তা অত্যন্ত সুন্দর করে বুঝানো হয়েছে। এবার বইটা নিয়ে সামান্য সমালোচনা করা যাক। আমার মতে কোনো সৃষ্টিকর্মই (তা সে কোনো মুভি হোক বা ডকুমেন্টরি বা কোনো বই হোক) সমালোচনার উপরে নয়। সেটা যত ভালো হোক না কেন।
এই বইয়ের সমালোচনা করার জন্য যে উপকরণ দরকার বা যে ত্রুটি পাওয়া দরকার তা তেমন নাই বললেই চলে। তবে বইয়ের বড় কল্পবিজ্ঞান ‘রহিমার মা’ পড়ার সময় খুবই মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয় না হলে কিছু কিছু অংশে মনে হতে পারে এই অংশের পর এই অংশ কিভাবে এলো অর্থাৎ মনোযোগ হারালেই সহজে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার কিছু কিছু অংশের যেমনঃ মেঘ চ্যাপ্টারে কথোপকথনের সময় কে কোনো অংশ বলেছে তাতে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। লেখকের উচিত ছিল সেক্ষেত্রে কে কোন অংশ বলেছে তা আরো ভালভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া। পুরো বইয়ে তেমন বানান ভুল না থাকলেও কিছু কিছু জায়গায় ভুল বানানগুলোকে { } ২য় বন্ধনীর মধ্যে রাখা হয়েছে। যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। যেন সোজা চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভুলগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে। আবার কিছু কিছু গল্প পড়ে মনে হয়েছে গল্পগুলো যদি আর একটু বিস্তারিত হতো তাহলে নিঃসন্ধেহে বইটা আরো ভাল হতো। তবে বইয়ের বিষয়বস্তুর সামনে এই ত্রুটিগুলো ম্লান হয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
বইমেলায় প্রান্ত প্রকাশনীর স্টলের পাশাপাশি রকমারিসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন বইটা।
‘অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে, শেষ হইয়াও হইল না শেষ' ছোটগল্প নিয়ে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তিটির উৎকৃষ্ট উদাহরণ "মহিষমতি সমীকরণ" বইটি। বারবার মনে হচ্ছিলো এত জলদি শেষ না হলেও পারতো! এই রোমাঞ্চকর জার্নি আরেকটু দীর্ঘ হলে মন্দ হতো না! তাই গল্পকার হিসেবে নাঈম ভাই যে শতভাগ সফল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিসিবিতে নিয়মিত তার লেখা পড়া হয়। এই প্রথম তার কোনো বই নিয়ে কিছু লিখছি। তাই ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সেই আশা রইলো।
বড় গল্প : এবার আসি গল্পের কথায়। বইয়ের প্রথম গল্প রহিমার মা। রহিমার মা নামে অজ্ঞাত কারো কাছ থেকে একটি হরলিক্সের ডিব্বাসহ চিঠি আসে আকবর সাহেবের কাছে। কে এই রহিমার মা তার কুলকিনারা ধরতে না পারলেও ঠিকই ধরতে পারেন বেলি ফুলের সুগন্ধিযুক্ত বিশেষ এই হরলিক্স খেয়ে তার রোগা বাচ্চা ছেলের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। হঠাৎ একদিন তার ছেলে হারিয়ে যায় এবং রেললাইনের পাশে তার কঙ্কাল পাওয়া যায়। কঙ্কাল বলার কারণ ছেলেটির গায়ের সব মাংশ যেন ছুড়ি দিয়ে ছিলে নেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। তারপর শহর থেকে হারিয়ে যেতে থাকে আরও অনেক বাচ্চা।
প্রাচীন এক মন্দিরের কুয়া অদ্ভুত সব শব্দ আসে। একদিন এক লোভী জমিদার সেই কুপের দরজা ভাঙ্গলো। কি ছিলো ভেতরে? দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে খুন হয় এক আদিবাসী ছেলে। কেন খুন হয়? গোপন গবেষণাগারে আইনস্টাইন বাক্স নামে একটি বাক্স তৈরি হচ্ছে। সাথে আছে একটি কোড (বইয়ের কভারে)। কি আছে বাক্সের ভেতরে? কি এই কোড? ইভা নামের এক কুকুরের এক বিশেষ ক্ষমতা আছে। কি সেই ক্ষমতা?
একটু বেশিই প্রশ্ন করে ফেললাম তাই না! আসলে এত সব আলাদা আলাদা প্রশ্ন, সমীকরণের সাথে রহিমার মা কিভাবে কানেক্টেড তার জানতে হলে গল্পটি পড়ে দেখতে হবে আপনাকে। কোনো স্পয়লার দিলাম না। প্রকৃতপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন জায়গার ভিন্ন ভিন্ন মানুষের এসব গল্প একই সূত্রে গাঁথা। সবগুলো গল্প একই সূত্রে গাঁথতে গিয়ে পাঠক বারবার হোঁচট খাবে, হিসাব মেলাতে হিমশিম খাবে। তাই বলে পাঠকের আগ্রহ দমে যাবে না। বরং গল্পের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। রহস্য, বিজ্ঞান, কল্পনার এক মায়াজালে আটকে যাবে। অদ্ভুত এক রোমাঞ্চকর জার্নিতে পাঠকও নিজের অজান্তেই যোগ দেবে।
ছোট গল্প : এরপর আসি বাকি ছোটগল্প গুলোয়। ১২ টি ছোটগল্প থাকলেও সেগুলোর আলাদা আলাদা ফ্লেভার পাবেন পাঠক। এতে রুপকল্প,ভৌতকল্প, রম্যকল্প, অপকল্প, টেককল্প ও বায়োকল্প বিজ্ঞান আছে। এগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চারটি হলো পিয়ানো, লংফেলোর ঘড়ির গুদাম, কার্ডিয়াক এবং শ্মশানপুষ্প। গল্পগুলোয় টাইম ট্রাভেল, ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্ট, প্রোগ্রামিং, রিলেটিভিটির মতো বৈজ্ঞানিক বিষয়ের সাথে হরর থ্রিলারের দুর্দান্ত কম্বিনেশন পাঠকের দারুন লাগবে। আমি বেশ উপভোগ করেছি।
পাঠ প্রতিক্রিয়া : গল্পের ছলে বিজ্ঞান শেখানো, নতুন/পুরাতন অনেক বৈজ্ঞানিক বিষয় নতুন জেনারেশনের কাছে তুলে ধরার জন্য লেখক অবশ্যই প্রসংশার দাবীদার। দেশের কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক এসব বিষয় গল্পে হয়তো আনেন না। তাই এমন ইউনিক এবং ইন্টারেস্টিং বিষয়গুলো তিনি আবারো নিয়ে আসুক আমার সেই প্রত্যাশা রইলো। গল্পের ওপেন এন্ডিং তিনি পাঠকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর কি হবে পাঠক নিজেই তা কল্পনা করে নেবেন। এতে পাঠকের বেশ উপকারেই হবে। তবে প্রশংসার পাশাপাশি একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার কিছু মতামত আছে। বইটিতে যতগুলো গল্প আছে সবগুলোই বিজ্ঞানের সাথে কানেক্টেড। তাই লেখাগুলোয় আরেকটু বিস্তারিত আশা করেছিলাম। আর বিজ্ঞান যুক্ত থাকায় গল্পগুলো আরেকটু বড় এবং ডিটেইলস থাকতে পারতো। আবার স্যুপ, আরাম চশমা আর রোবট বিপ্লব গল্পগুলো কেমন জানি শ্যালো লেগেছে আমার। বিশেষ করে রোবটরা কেন বিপ্লব করছে তা উল্লেখ করলেও কিভাবে বিপ্লবে গেলো বা সংঘবদ্ধ হলো লেখক সেগুলো ক্লিয়ার করেননি। অনেক জায়গায় শব্দচয়ন প্রসংশনীয় হলেও কিছু জায়গায় মেকি লেগেছে আমার। লেখক হয়তো সমসাময়িক অনেক বিষয় তুলে আনতে এসব লিখেছেন। তবে সাহিত্যের মানদণ্ডে এসবের পাল্লা বেশ হালকাই হবে। উপভোগের পাশাপাশি শেখার যে আকাঙ্খা নাঈম ভাইয়ের প্রতি আমাদের আছে আশা করি সেই দিকটাও তিনি বিবেচনা করবেন।
যারা কোয়ারান্টাইনে ঘরে বসে অলস সময় পার করছেন এবং গল্পের ছলে বিজ্ঞান শিখতে চান তাদের জন্য এই বইটি পার্ফেক্ট হবে। বিনোদনের পাশাপাশি বেশকিছু বিষয় জানতে ও শিখতে পারবেন। তাই সময় করে বইটি পড়ে নিতে পারেন।
(ব্যাঙের ছাতায় বিজ্ঞান গ্রুপের সাথে সবকিছু কানেক্টেড তাই ব্যাঙের ছাতার পাশে বই রেখে ছবিটা তুলেছি। 🍄)
বইয়ের নামঃ মহিষমতি সমীকরণ লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী রেটিংঃ ৯/১০
রহিমার মাঃ ❝Earth provides enough to satisfy every man's need, but not every man's greed❞ – Mahatma Gandhi
লোভ, স্বার্থপরতা, হিংসা, প্রতারণা আর রাগ পৃথিবীর সকল অন্যায় আর খারাপ কাজের জন্য দায়ী। লোভী মানুষকে প্রকৃতি কখনো প্রশ্রয় দেয় না। লোভী, স্বার্থপররা কখনো সুখি হতে পারে না। সক্রেটিস বলেছেন–
❝He who is not contented with what he has, would not be contented with what he would like to have❞
স্বার্থপর আর লোভীরা সবসময় নিজেদের চাহিদাকে বাড়াতে থাকে। নিজেদের প্রাপ্তি নিয়ে খুশি থাকে না। তাই তারা যা পায়, যা চায় তা নিয়েও কখনো সুখি থাকতে পারে না। ঠিক এই ভূলটাই করেছেন, জমিদার মহেন্দ্র বাবু। তার নিজের অনেক সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও লোভ আর স্বার্থের কারণে সমস্ত পৃথিবীকে তিনি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে পৃথিবীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যের জিনিস, অপরিচিত এক মহিলার দেওয়া জিনিস নিজের ছেলেকে খাইয়ে যে বড় ভূলটা শাহানা করেছেন তার পরিণতি সে আজীবন ভুগে গেছেন। যার কারণে তিনি হারিয়েছেন তার পরিবারকে।
❝গরুর খাবার হলো ঘাস, আর মানুষের খাবার হলো গরু। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।❞
তারা জানে মানুষের দুর্বলতা কি, তাই তারা বারবার আঘাত করেছেন মানুষের লোভী সত্তায়। আর মানুষ নিজে অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য, লোভের জন্য প্রতি নিয়ত তাদের সাহায্য করে গেছে। যার কারণে মারা গেছে সে নিজে ও হত্যা করেছে নিজেদের প্রিয় ঘরকে। কিন্তু তারা কারা? তারা কি? কোথায় তাদের শুরু কি ই বা তাদের পরিণতি? রহিমার মা নামে উপন্যাসটি লেখা হয়েছে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের পরিণতি, মানবজাতির পরিণতি নিয়ে। এই উপন্যাসকে রহস্যময় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বলা যায় আবার একইসাথে থ্রিলারও বলা যায়। আর রহস্যময় সেই সত্তার খোঁজে বিজ্ঞানীদের ঘুম হারাম হয়ে আছে। রবার্টসনও সেই রহস্যময় সত্তার অনুসন্ধানী দলের বিজ্ঞানী। চারপাশে ছোট ছোট বাচ্চাদের হত্যা করা হচ্ছে, বীভৎসভাবে তাদের মাংস খেয়ে ফেলছে। মানুষ হয়ে কিভাবে অন্য মানুষের মাংস খেয়ে ফেলছে! নাকি এটা অন্যকিছু? রবার্টসন সেই ধাধার সমাধান করে ফেলেছেন। তার মতে,
❝খাবার খেয়ে খাদক পুরোপুরি খাবারে রূপ নিলে ক্ষুদা মেটে কিভাবে❞
গরু ঘাস খায় ক্ষুধা মেটানোর জন্য, কিন্তু সে নিজেই মানুষের খাবার হয়ে যাচ্ছে। তাহলে মানুষও কি খাবার খেয়ে খাদ্যে পরিণত হয়ে যাচ্ছে নাকি হয়ে গেছে! আসলে পুরো উত্তেজক উপন্যাস হলো রহিমার মা, প্রতিটি গল্পে তার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে আর রহস্য ঘোর তৈরি করেছে। যার কারণে সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে সবগল্পে। আর শেষে সেই সৌন্দর্য জন্ম দিয়েছে নতুন প্রশ্নের!
ছোট গল্পঃ মহিষমতি সমীকরণ বইটা সাজানো হয়েছে একটা উপন্যাস আর ১২ টি ছোট গল্প দিয়ে। উপন্যাসের মতো ছোট গল্পগুলোও দুর্দান্ত। সেখানে আছে রম্য ছোট গল্প, ভৌতিক কল্পগল্প, বায়োকল্পগল্প, রূপক কল্পগল্প। আরাম চশমাঃ আরাম চশমা মূলত রূপক কল্পগল্প। সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে। মানুষ যখন নিজের দায়িত্ব, দায়বদ্ধতা ভূলে স্বার্থপর হয়ে ওঠে তখন সেই স্বার্থপরতার রেশ থেকে সে মুক্তি পায় না। বরং নিজের প্রিয় জনের ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে সেই স্বার্থ! বাবার সামনে মেয়েকে রেপ করা হচ্ছে অথচ বাবা মজা নিয়ে সেই দৃশ্য দেখছে। শুধু বাবা না আরো অনেক মানুষ। আমার মতে এটা আমাদের বর্তমান সময়কে ইঙ্গিত করে লেখা। আমাদের সামনে কোনো অন্যায় হলে আমরা কথা বলি না। কিন্তু এই আচরণ কি সেরা জীব হয়ে আমাদের মানায়? পিয়ানোঃ পিয়ানো হলো একটা ভৌত কল্পগল্প। এই গল্প নিয়ে আলোচনা করে গল্পের গভীরতা নষ্ট করবো না। খুবই সুন্দর একটা গল্প। আমি সরাসরি বই থেকে কিছু লাইন তুলে দিচ্ছি–
❝গভীর রাত। গহীন জঙ্গলে একেবারে নির্জন একটা বাড়িতে পিয়ানো বাজছে। কেউ খেয়াল করলে দেখতে পেত কালো একটা ল্যাব্রাড কুকুর অবিকল মানুষের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে করুণ সুর তুলে চলেছে পিয়ানোতে!❞
এখানে “করুণ সুর" শব্দের প্রয়োগটা আসলেই চমৎকার হয়েছে! কিছু কথাঃ এই অংশটা শুরু করার আগে একটা কথা বলা দরকার। কোনো কিছু লিখতে গেলে একজন লেখকের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। এই স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার কারো নেই। আর আমি কোনো সাহিত্য সমালোচক নই। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমি কিছু জিনিস আমি তুলে ধরতে চাই। আমি আবারো বলছি, লেখকের অধিকার কেউ ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। প্রথমত, লেখার শেষে যে “পিছনের গল্প" বলা হয়েছে সেটা সুন্দর ছিল। কিন্তু কেন এই পিছনের গল্প বলা তা বই পড়লে পাঠক বুঝতে পারবেন। তাই পাঠক হিসেবে লেখকের প্রতি একটা কথা, অন্যের কথাকে খুব বেশি প্রাধান্য দিলে নিজের সত্তাকে ভালো করে অনুসন্ধান করা যায় না। তাই অন্যের কথার চেয়ে শিল্পের ছোঁয়ার দিকে নজর দেওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। আবারো বলছি আমি কোনো সাহিত্য সমালোচক নই। দ্বিতীয়ত, কিছু কিছু শব্দের ব্যাবহার পরিবর্তন করলে লেখাটা আরো সুন্দর ও বাস্তব হবে। যেমন, ৯০ পৃষ্ঠায় আছে–
“খিচুরিটা কি তুই বানিয়েছিলি মা! টেস্ট কিন্তু সেই ছিল"
এখানে লেখক "সেই" শব্দটা হয়তো ভিন্নতা আনার জন্য ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এই শব্দটা অনেক মানুষের বিরক্তির কারণ। তাই এই শব্দগুলোর পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহার করলে হয়তো ভালো হতো।
বেশ জনপ্রিয় মল্ট ড্রিংক। জীর্ণশীর্ণ রোগা-পটকা বাচ্চারা খেয়ে মোটাতাজা হয়।প্রচুর চলে বাজারে। অবশ্য আজকাল চলছে অন্য ধরনের হরলিক্স।সাধারণ হরলিক্সের চেয়ে বেশ আলাদা,স্বাদে অনন্য।কৌটোর মধ্য থেকে আসে বেলি ফুলের গন্ধ।একবার যে এই হরলিক্স খেয়েছে তার অন্য হরলিক্স আর কিছুতেই মনে ধরে না।
বেলি ফুলে গন্ধমাকা হরলিক্স বাচ্চারা খায়,খেয়ে স্বাস্থ্য তরতর করে বেড়ে উঠে তাদের।
সেই বাচ্চারা একসময় হারিয়ে যায়। কোথায় যায় তারা?কিছদিন পর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় বাচ্চাগুলোর লাশ।।কার হাত তাদের এই পরিণতির পেছনে?এর সাথে কি এই বিশেষ হরলিক্সেরকোনো যোগসূত্র আছে?কারা পাঠায় এই হরকিক্স?
বাচ্চারা গায়েব হয়ে যাচ্ছে।নানা জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে বীভৎস লাশ।
পুরো মানবজাতির সামনে ঘোর বিপদ। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষ।
কে আছে এর পেছনে? কারা করছে এসব?
স্পেসশিপে বেঁচে থাকা শেষ কিছু মানুষের হাতে নির্ভর করছে মানবজাতির ভবিষ্যৎ। তাদের হাতে আছে আইনস্টাইন বাক্স। বাক্সের গায়ে লেখা একটি কোড।
II([U)[ (∩II)UIL DΔ⌈T[DIΔDΠLI[ΛIΠ
সব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে এই একটি কোডের উপর।কোড ব্রেক করতে পারলে খোলা যাবে আইনস্টাইন বাক্স।তার মধ্যে লুকিয়ে আছে মানবজাতির শেষ আশা।
কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত?কোড কি কেউ ব্রেক করতে পেরেছে?কি ছিল আইনস্টাইন বাক্সের ভেতরে?
জানতে হলে পড়তে হবে মহিষমতি সমীকরণ।
বইটির দুটি পার্ট। প্রথম অংশে একটি বড় কল্পবিজ্ঞান-রহিমার মা। এতক্ষণ ধরে যা পড়লেন,তা ছিল রহিমার মার প্লটের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।আটটি অংশের সমন্বয়ে গল্প এগিয়েছে। প্রথমদিকে পড়ে মনে হতে পারে এগুলো আলাদা আলাদা গল্প,বিশেষ করে রহিমার মা আর কুয়া পড়ার পর এই ধারণা জন্মাতেই পারে।কিন্তু পরবর্তী গল্পগুলোতে এদের সম্পর্ক বোঝা যায়। শুরুতেই যদি এগুলোকে আলাদা গল্প ভেবে বসেন,তবে পরে গিয়ে ধাক্কা খেতে হবে।প্রতিটা অংশ একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।অনেকটা রহস্যে ঘেরা ঘোলাটে কাহিনী ধাপে ধাপে পরিষ্কার হয়েছে।
রহিমার মার কাহিনীবিন্যাস ও বর্ণনা একেবারেই ইউনিক।প্রতিটা অংশেই সাসপেন্স,থ্রিল।সমাপ্তি কোনোভাবেই প্রেডিক্টেবল না। শেষ পর্যন্ত পড়ে যেতেই হবে আপনাকে।
দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ছোট ছোট বারোটি কল্পবিজ্ঞান।প্রতিটা গল্পের প্লটই ইউনিক। এবং গল্পগুলো বাস্তবের সাথে দারুণভাবে রিলেটেবল,অনেক কিছু ভাবতে বাধ্য করবে আপনাকে।আমাদের পরিতিত কিছু সিচুয়েশনের মেটাফোরিক উপস্থাপন খুঁজে পাবেন গল্পগুলোর মধ্যে। পার্সোনালি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে মহিষমতি সমীকরণ ও আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি।
সব মিলিয়ে আমার মতামত-
প্লট অসাধারণ এবং ইউনিক। প্রতিটা দৃশ্যের পরিবেশ একেদম রিয়েলিস্টিক।কাহিনীতে ডুবে যেতে বাধ্য করবে। লেখকের শব্দচয়ন ও বর্ণনা পাঠকের হৃদয়ে মুগ্ধতা ছড়াবে।
সব মিলিয়ে থ্রিলিং ও উপভোগ্য একটা সায়েন্স ফিকশন।থ্রিলার ও সাসপেন্সপ্রেমীদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড।
বইয়ের নাম: মহিষমতি সমীকরণ ধরণ: কল্পবিজ্ঞান লেখক: Nayeem Hossain Faruque মূল্য: ২০০ টাকা রেটিং: ৯/১০ (I'm not so good at this!)
বইটি ২ ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে আছে একটি বড় কল্পবিজ্ঞান আর দ্বিতীয় ভাগে আছে ১২ টি ছোট কল্পবিজ্ঞান। -------------------------------------------------------------------------- বড় কল্পবিজ্ঞান (রহিমার মা):
"রহিমার মা" নামক অংশ দিয়েই বড় কল্পবিজ্ঞান এর শুরু। প্রথমে পড়া শুরু করেই মনে হলো যে, লেখক কি এখানে হরলিক্স এর এড করতেছে নাকি?(🤔) কিন্তু বেশিক্ষণ না, একটু পরেই বুঝতে পারলাম আসলে ব্যাপারটা পুরাই অন্যরকম। এই হরলিক্সের গভীর রহস্য আছে। হরলিক্সের সেই গোপন রহস্য হলো: গিয়ে বইটা পড়েন, সব আমি বলে দিলে হবে??(🙂) যাইহোক, এই অংশটা খুব ভালো লাগল। আমার আমার ভালোলাগার কারণ, আমার বিশেষ একটা ফ্যান্টাসি আছে।
কিন্তু, এরপরের অংশ "কুয়া" পড়েই মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো। হঠাৎ রহিমার মা, হরলিক্স সব গায়েব। মনে হলো, "কি হলো এটা? বিন্দু পরিমাণও মিল নেই"। একটু হতাশ হলাম।
ঠিক তখনই, "শিকার" অংশের ফাদার রোজারিও আমাকে এক চামচ হরলিক্স খাইয়ে মন ভালো করে দিলেন। সব মিল পাওয়া শুরু করলাম। কিন্তু, একটা অস্থিরতা মনের মধ্যে ছিলই, আমার মন কাজী মারুফের মতো বলতেছিল, "সবার কাহিনী মেলে, কুয়ার কাহিনী মেলে না!" তারপর, আর একটু পরেই অর্বাচীন কাকু স্বপ্নে আমাকে এক থাপ্পড় দিয়ে বলল, "গর্দভ, ওই দেখ কুয়া!" মনটা খুশিতে ভরে গেলো!
তারপর, এক এক করে "ইভা", "মেঘ", "ঈশ্বর", "সোর্স" সবকিছুতেই মিল খুঁজে পেলাম। মিল বলতে দারুণ মিল। একটার সাথে আরেকটা একদম মিশে আছে। রহিমার মা, কুয়া, ঈশ্বর কি সুন্দর একটা টান। আর অসাধারণ থ্রিল। এগুলোর মধ্যে "ঈশ্বর" অংশের কথোপকথনটা খুবই গভীর, সুন্দর এবং শিক্ষণীয়!
এরপর আসে, "আইনস্টাইন বাক্স"। গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, থ্রিলিং এবং শেষ অংশ। বইটার প্রতি আমার মূলত একটা বিশেষ আকর্ষণ ছিল এই কোডটার জন্য-
II([U)[(∩II)UIL DΔ⌈T[DIΔDΠLI[ΛIΠ
এই কোডের উপরই নির্ভর করছে সবকিছু। সবকিছু মানে সবকিছুই। মনীষা নামের একটি মেয়ে, তার কাছে আইনস্টাইন বাক্স, বাক্সের উপর এই কোড। "তিতলি কি পারবে এই কোডটা ডিকোড করতে??" সরি সরি, মনীষা কি পারবে এই কোডটা ডিকোড করতে?? আর কি আছে, ওই বাক্সে?? আমিই বলে দিচ্ছি, "মহিষমতি সমীকরণ" বই এর ৭৩ নম্বর পেজ বের করবেন, দেখবেন ওখানে যা যা লেখা আছে বাক্সে তা-ই ছিল। সিরিয়াসলি, বাক্সে কি ছিল সেটা পুরোটাই Unpredictable!
সবমিলিয়ে, "রহিমার মা" একটা দারুণ কল্পবিজ্ঞান ছিল! একসাথে ভিন্ন স্থানের ৭ টা ঘটনার এরকম গভীর মিল, একদম অসাধারণ। প্রতিমুহূর্তে মনে হয়, "আরে এটা তো ওটার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেখি কি হয়! আরেহ, ওয়াও এটা তো ভাবি নি!" এরকম দারুণ একটা ফিলিং কাজ করে। আর পুরো গল্প জুড়েই আছে অসাধারণ একটা থ্রিল! লেখক যেভাবে আড়াই-শ বছর অতীত থেকে একদম আড়াই-শ বছর ভবিষ্যত পর্যন্ত মিলে রেখে খুব সুন্দরভাবে গল্পটা শেষ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়!❣️
এই বইয়ে ১২ টি ছোট কল্পবিজ্ঞান আছে। যার মধ্যে ১০ টা আমার ভালো লেগেছে, ১ টা ভালো লাগে নি, ১ টা বুঝি নি। কিন্তু ঐ ১০ টা গল্পের মধ্যে এমন ৪ টা গল্প আছে যেগুলো এই ২ টার ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে!
প্রথম ছোট কল্পবিজ্ঞান হলো- "বিজনেস মাইন্ডের বউ", এই গল্পটা আমার ভালো লাগে নি। মজা পাই নি। এরপর "আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিট" গল্পটা বেশ মজার লাগলো।
তারপরেই আসে বইয়ের সবচেয়ে কনফিউজিং গল্প, "পিয়ানো"(১)। এটা এতটাই কনফিউজিং যে, এটা পড়ার পর আপনার বই রেখে কিছুক্ষণ ভাবতে হবে।
এবার পালা আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্পটার, "আরাম-চশমা"(২)। এই গল্পটা পুরোটাই বাস্তবভিত্তিক এবং হৃদয়স্পর্শী। আসলেই, কিছু গল্পের পেছনের গল্প বলতে নেই!😔
এরপরের গল্প, "লংফেলোর ঘড়ির গুদাম", এটা আমি বুঝি নি। এটা প্রোগামিং এর মানুষদের জন্য হয়তো খুব মজার হবে!
তারপর, "সন্তান", "শনি", কার্ডিয়াক", রোবট বিপ্লব" সবগুলোই ভালো লাগছে। "শনি" গল্পটা দারুণ মজার। "কে যেন...........বসায় দিয়ে গেছে!" খুব হাসছি এটা পড়ে।
এরপর আছে দারুণ থ্রিলিং একটা গল্প, "শ্মশানপুষ্প"(৩)। একজন শ্মশানপ্রেমীর বইয়ে শ্মশান নিয়ে কোনো গল্প থাকবে না, তা কি হতে পারে?? এই গল্পটা ছোট হলেও, দারুণ নাটকীয়তা এবং থ্রিল আছে। সত্যিই এরকম ঘটলে আমাদের কপালে দুঃখ আছে!
তারপরের "স্যুপ" গল্পটাতে পাবে অসাধারণ একটা টুইস্ট। কিন্তু এটা বাস্তবে ঘটলেও হয়তো কেউ অবাক হবে না!😅
এবার পালা বই এর সর্বশেষ গল্পের, "মহিষমতি সমীকরণ"(৪)। গল্পের/বইয়ের নামটা শুনলেই আমার "বাহুবলি";-এর ডায়লগ মনে পরে(😅)! যাইহোক, এই গল্পের সাথে তার সম্পর্ক নেই। এটা সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নাই। আমাদের আশেপাশে যা হয় ,হচ্ছে, হতেই থাকবে সেগুলো নিয়েই। কিন্তু গল্পটায় আলাদা একটা মজা আছে। গল্প পড়ার সময় হাসি আসে, আর বাস্তবের সাথে মিলটা বুঝতে পারলেই খুব রাগ আসে। এই গল্পটা অসাধারণ, কোনো তুলনা নেই!❣️
সবশেষে, বিজ্ঞানপ্রেমী হয়ে থাকলে বইটা পড়তে পারেন, একটুও সময় নষ্ট হবে না। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই বইয়ে প্রতিটা ঘটনার পিছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো গল্পের শেষ দেয়া আছে। তাই বলা যায়, বইটা যথেষ্ট শিক্ষণীয়!
"Never trust anything that can think for itself if you can’t see where it keeps It's brain."
-J.K.Rowling
রহস্য-রোমাঞ্চ-বিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক যার এক উৎকৃষ্ট প্রয়োগ এই উপন্যাসিকা। এতে অবগাহনে অনুভূত হয় এক অদ্ভুত শিহরণ রহস্যপ্রেমীর কাছে যা মস্তিষ্কের পুষ্টি।
কাহিনীসংক্ষেপঃ
প্রাচীন মন্দিরের পাশে পুরু ইস্পাতের পাতে মোড়ানো বিশাল কুয়া থেকে ঝড়-বৃষ্টির রাতে গুমগুম শব্দ ভেসে আসে,কি আছে সেটার অতলে? কেন নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে শহরের বাচ্চারা? প্রবল ঝড়ের রাতে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে বাঘের রূপধারী যে প্রাণীটা অর্বাচিন চাকমার ছেলেকে খুন করেছিল, ছেঁচে নিয়েছিল গায়ের সব রক্তমাংস সে কি আসলেই বাঘ? গোপন ল্যাবরেটরিতে আইন্সটাইন বাক্স নামের রহস্যময় যে জিনিসটা তৈরী হচ্ছে কি আছে তার ভেতর? আকবর সাহেবের কাছে অপরিচিত ঠিকানা থেকে রহিমার মা নামে যে দরদী বৃদ্ধা নিয়মিত চিঠি পাঠায়, সাথে হরলিক্সের কৌটা- কী তার পরিচয়? কি চায় সে?
আকবর সাহেব হরলিক্সের কৌটা খুললেন। বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভেসে গেল চারদিক। আর সেই সাথে খুলে গেলো এমন এক রহস্যের দরজা যার শুরু হয়েছিলো হাজার হাজার বছর আগে,অন্য কোনো জগতে,কোনো মহাজাগতিক সত্ত্বার হাত ধরে।
'সোর্স' নামের যে সত্ত্বা বা প্রাণীটা(হয়ত প্রাণীগুলো) ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে পৃথিবীকে কি তার পরিচয়? সে কি ঈশ্বর? প্রচন্ড ক্ষোভে কি ধ্বংস করছে পৃথিবীকে মানুষের পাপের শাস্তি হিসেবে? নাকি দূর গ্রহ থেকে আগত কোনো এলিয়েন? কোথায় আছে সোর্স?
আইনষ্টাইন বাক্স তৈরীতে অকল্পনীয় শক্তির জোগানদাতারাই বা কে? কি উদ্দেশ্যে তারা সহযোগিতা করছে মানবজাতিকে দূর্দান্ত সব প্রযুক্তি দিয়ে?
II([U)[ (∩II)UIL DΔ⌈T[DIΔDΠLI[ΛIΠ
আইন্সটাইন বাক্সের এই রহস্যময় কোডের সমাধান কি? এই কোডের সমাধানে কি শেষরক্ষা হবে মানবজাতির?কে খুলবে সেই বাক্স? আদৌ কি সেই রহস্য উন্মোচন হবে?
রহস্য আর বিজ্ঞানের অপূর্ব মেলবন্ধনে রচিত 'রহিমার মা' গল্পটিতে প্রতিটি মুহুর্তেই অপ্রত্যাশিতভাবে মোড় নিচ্ছিলো ঘটনাবলি ।'রহিমার মা' আর 'কুয়া' গল্প দুটি প্রথমে খাপছাড়া মনে হলেও পরের কয়টি গল্পেই মিল খুঁজে পাওয়া যায়।কারণ গল্পের প্রধান কোনো চরিত্র নেই, সময় সময় উপস্থিত হয় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র। গল্পের ধারায় বইতে গিয়ে ধীরে ধীরে জড়িয়ে যাচ্ছিলাম অদ্ভুত কোনো মায়াজালে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে খুজছিলাম রহস্যের সমাধান। অনেক চেষ্টায় ডিকোড করেছিলাম দূর্বোধ্য কোডটি।গল্পের চালিকাশক্তি যদি হয় রহস্য তাহলে কোড এর প্রাণ। আমার কাছে তাই 'আইন্সটাইন বাক্স' অংশটি সবচেয়ে রোমাঞ্চকর।
বইটি মূলত খন্ড খন্ড অনেকগুলো কল্পবিজ্ঞানের মিশ্রণ।তন্মধ্যে একটি বড় কল্পবিজ্ঞান 'রহিমার মা' । রয়েছে আরো কিছু ছোট কল্পবিজ্ঞান। সবগুলোই প্রশংসার দাবিদার তন্মধ্যে সবচেয়ে উপাদেয় গল্প হিসেবে আমার পছন্দ 'লংফেলোর ঘড়ির গুদাম'। রম্যরচনায় 'আর্টিফিসিয়াল স্টুপিডিটি' চমৎকার। বর্তমান পরিস্থিতির সাথে বিজ্ঞানকে মিশিয়ে তৈরী টাইটেল স্টোরি 'মহিষমতি সমীকরণ' ও 'আরাম চশমা' সমাজের প্রতিবন্ধকতার রূপকল্প।
মন্তব্যঃ বৈচিত্র্যময় সব কল্পগল্পের সমাহারে গল্পের ছলে জানতে পারা যায় বিজ্ঞানের নানা দিক সম্পর্কে। প্রযুক্তির বিভিন্ন দিকের সমন্বয়ে আপেক্ষিকতার নির্ভুল প্রয়োগে আর সোর্সের মতো সত্ত্বা বা প্রাণীর অসাধারণ উপস্থাপনায় গল্পগুলো রীতিমতো চাঞ্চল্যকর ছিল। দার্শনিক কিছু উক্তি গল্পকে এনে দিয়েছে মাধুর্য্য । প্রতিটি গল্পের পেছনের গল্পতো রয়েছেই সাথে গল্পের পেছনের বিজ্ঞানটাও সুচারুভাবে অল্পকথায় ব্যক্ত করেন,যা পাঠককে অভিভুত করে রহস্যময় বিজ্ঞানকে জানতে।কাহিনির আদলে আঁকা প্রচ্ছদটি শিল্পীর শৈল্পিক সৃষ্টি ও সৃজনশীলতার মানদণ্ডে গল্পের যথার্থ প্রতিবিম্ব ।
বাক্যগঠন আর শব্দচয়ন ছিলো সাবলীল। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ইংরেজি শব্দ দূর্বোধ্য ঠেকেছে যা গল্প পাঠে জটিলতা সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানের কিছু বিষয়ে ধারণা না থাকলে কয়েকটি গল্প হয়তো পুরোপুরি বোধগম্য হবে না তবে তাতে রসের কমতি থাকবে না।
সহজ-সরল উপস্থাপনায় বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলি পাঠকের নিকট সহজবোধ্য করে তোলায় গল্পটি সবার পড়ার উপযোগী । বলা বাহুল্য,বইটি বিজ্ঞানশিক্ষায় পাঠকমহলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেই সাথে গতানুগতিক ধারার বাইরে লিখতে অনুপ্রাণিত করবে নবীন লেখকদের।
লেখক পরিচিতিঃ বিজ্ঞান ও রহস্যপ্রেমী লেখকের জন্ম রংপুরে হলেও বেড়ে উঠা ঢাকায়। পেশায় প্রকৌশলী। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান আর সাহিত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকায় অধ্যয়ন করেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে আর সেগুলিকে সহজ-সরলভাবে তুলে ধরেন নবীনদের জন্যে।তার প্রথম প্রকাশিত বই'Big-জ্ঞানে,অগ-Gun' পাঠকমহলে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত ২য় বইটিও বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। 'মহিষমতি সমীকরণ' তার ৩য় বই।অসাধারণ উপস্থাপনার জন্যে লেখাগুলি জায়গা করে পাঠকমনে।
পরিশেষে, মহাবিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় রহস্য যার টানে মানুষ পাড়ি দিচ্ছে যুগের পর যুগ,পথের পর পথ। কারণ,
বই:মহিষমতি সমীকরণ লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী। প্রকাশীত:প্রান্ত প্রকাশন থেকে(২০২১) প্রচ্ছদ:মেহরাব সিদ্দিকী সাবিত। গুডরিডস রেটিং:4/5 পার্সোনাল রেটিং:9/10(ছোটগল্পগুলো বেশিই ছোট লাগলো,কেন জানি না।আর শেষদিকে ৩-৪ টা সেকেন্ড ব্রেকেড লক্ষ্য করলাম,অকারণে) রিডিং টাইম:২দিন(একদিনে বড় গল্প,একদিনে সব ছোটগল্প)
¢ শুরুটা এক অদ্ভুত পার্সেল আসার মাধ্যমে,আ��লে পার্সেলটা ঠিকানাবিহীনও নয়,রহিমার মা নামক একজন পার্সেলটা পাঠিয়েছেন।অজানা প্রেরক থেকে পাঠানো একটি অদ্ভুত চিঠি,সাথে বেলিফুলের সুগন্ধযুক্ত হরলিক্সের কৌটা,একবার এলো।কোনভাবেই আকবর সাহেব জানতে পারলেন না এটি কোথা থেকে এলো।ভেবেচিন্তে শেষমেশ হরলিক্সের কৌটাটা তিনি রেখে দিলেন। কিন্তু..... আবার এলো! এবারের প্রেরকও রহিমার মা!আশ্চর্য, কে এই রহিমার মা?আকবর সাহেব বেশ চমকে গেলেন।আবার এটাও দেখলে হরলিক্সের কৌটাটা তার ছেলের উপকারে এসেছে,কিন্তু তা বোধহয় পরে একটু বেশিই উপকার করে ফেলেছিলো! এরপর,আবার অদ্ভুত চিঠির সাথে একই জিনিস পার্সেল করে পাঠানো হলো।রহস্যটা যেন আরো ঘোলাটে রূপ নিলো।"কে এই রহিমার মা?" রহস্যের সমাধানে নামেন আকবর সাহেব,কিন্তু রহস্যকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কি?
জমিদার সাহেব কুয়ায় তো ঠিকই নামলেন, কিন্তু ফিরে কি এসেছিলেন?হ্যা,এসেছিলেন তো।কিন্তু উনি যে জমিদার সাহেবের ক্লোন মশাই!তবে কি আসল জমিদারকে মেরে ফেলা হয়েছে?
গ্রামবাসীর কথা শুনে অর্বাচীন চাকমা মোটেও ভেঙে পড়লেন না।তিনি মনেপ্রাণে বেশ শক্তপোক্ত মানুষ। তিনি তার ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবেন।কিন্তু আদৌ কি তা তার ছেলের মরদেহ ছিলো,যা গ্রামবাসী দেখতে পায়?অর্বাচীন চাকমা কি পারবেন,ছেলের হত্যাকারীকে ধরতে?
আইনস্টাইন তো চলে গেলেন,কিন্তু রেখে গেছেন অমূল্য সব থিওরি,সমীকরণ।আইনস্টাইন বাক্স কি?সেটাও কি আইন্সটাইনের আবিষ্কার?নামটি আইন্সটাইন বক্স ই বা কেন হলো?কি এর কাজ?
সচরাচর সোর্স মানে আমরা বুঝি কোন কিছুর উৎস বা এরকম কিছু।কিন্তু গল্পের সোর্স কি আসলে এরকম কিছুই?নাকি অন্য কিছু?
হরলিক্সের কৌটা পাওয়া পরিবারগুলো থেকে,বাচ্চারা গায়েব হয়ে যাচ্ছে,সেসকল বাচ্চা যারা এই কয়দিনে ফুলেফেঁপে উঠেছিলো।তাদেরই লাশ পাওয়া যাচ্ছে কয়দিন পরপর।মহাকাশে থাকা সেই মানুষগুলোই কি আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ? আইন্সটাইন বাক্স দিয়ে তারা করবেই বা কি?তারা কি পৃথিবীকে রক্ষা করছে?নাকি যারা সেখানে উপস্থিত,তারা সব ক্লোন?
এইসব প্লট নিয়ে লেখা হয়েছে একটি বড় সাইন্স ফিকশন গল্প।৮টি পর্বে।যারমধ্যে আপবি সিক্যুয়েলি না পড়লে হয়তোবা নাও বুঝতে পারেন।পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু ছোট কল্পগল্প,(কল্পবিজ্ঞান সহ একটি অকল্পবিজ্ঞানও)
লেখা এবং বই প্রসঙ্গে:
লেখকের মতে তিনি কোন একসময় যদিও বা অজনপ্রিয় হয়ে যান,তবুও কেও যেন তার লেখার দিকে আঙুল তুলতে না পারে,সেজন্য লেখক তার বইয়ে একটি বিশেষ দিক তুলে ধরেন।গল্পের পেছনে গল্প,বা গল্পটি লেখার যে অনুপ্রেরণা,তার উৎস।লেখাগুলো ছিলো অল্পকথার।কিন্তু,তা পড়ার মুহুর্তটা ছিলো টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে,সিচ্যুয়েশন টা এক্সপ্লেইন করার ধরন,অল্প কথায় অসাধারণ!
আগেই বললাম,৮ টি পর্ব নিয়ে লেখা হয়েছে একটি বড় গল্প,সেটি পার্সোনালি খুব ভালো লাগে।বিশেষ করে লেখক গল্পের থ্রিল টা ভালোই মিলিয়েছেন। বাকি ছোট গল্পগুলোর মধ্যে,সবচেয়ে ভালো লাগে কার্ডিয়াক আর শশানপুস্প।কার্ডিয়াক পড়ার পর দেখি,গল্পটা বিশেষ কাওকে উৎসর্গ করা।:') আর সবচেয়ে কঠিন মনে হলো,টেককল্পবিজ্ঞান এর গল্পটা।কঠিন না ঠিক,লেখা ঠিকাছে, কিন্তু থিম টা বুঝার সাধ্য নেই আমার।
নরমালি বাংলা সাইন্স ফিকশন গুলোয় একটা প্রবণতা প্রবণতা বেস লক্ষণীয়, "প্লট মিলে যাওয়া,কিংবা টপিক একই থাকা" লেখকের নাম উল্লেখ না করা ভালো,তবে এখনও কিছু কিছু সাইন্স ফিকশন গল্পগুলো অড টাইপের মনে হয়।শুধু মহাকাশ/এলিয়েন/টেক এগুলো পড়তে পড়তে,নীলস বোর হয়ে যাই। কিন্তু এই বইটি সম্পর্কে বিপরীত ফিল টা এসেছে। টপিক গুলা ছিলো ইউনিক।পড়ার সময় মনে হবে,নরমাল থ্রিলার গল্প।কিন্তু গল্পের শেষদিকে,ভেতরের বিজ্ঞান টা বুঝা যায়। প্রচ্ছদটা খুব কিউট লাগলো,হরিবল ও বটে!
একদম উপরে অদ্ভুৎ এক সমীকরণ লিখলাম না? মানবজাতির ভবিষ্যৎ কি এই সমীকরণেই নির্ভর করছে?আইন্সটাইন বাক্সে ঠিক এরকম কিছুই লেখা আছে। রহস্যভেদ করতে চান?তাইলে পড়তে পারেন এই বই।
বইয়ের নাম: মহিষমতি সমীকরণ। লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী। মুদ্রিত মূল্য: মাত্র ২০০ টাকা পার্সোনাল বেটিং: ৭.৫/১০
বইয়ের শুরুটা একটি চিঠি দিয়ে। চিঠিটির প্রেরক রহিমার মা আর প্রাপক আকবর সাহেব। চিঠিটির সাথে ছিল হরলিক্সের ডিব্বা যা আকবর সাহেবের ছেলের জন্য রহিমার মা পাঠিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় আকবর সাহেব রহিমার মাকে চিনেই না। যাই হোক কোনভাবে রহিমার মা এর সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় আকবর সাহেব তার ছেলেকে এই হরলিক্স টি খাইয়েছিল। ফলাফলস্বরূপ তার ছেলে রোগা থেকে স্বাস্থ্যবান হতে থাকলো। হরলিক্সটির একটি বিশেষত্ব ছিল আর সেটি হল বেলি ফুলের ঘ্রাণ। হরলিক্সটি শেষ হয়ে গেলে তা আবার এসে যেত রহিমার মায়ের কাছ থেকে। এই হরলিক্স ছাড়া অন্য কোন হরলিক্স আকবর সাহেবের ছেলে খেত না। আকবর সাহেব এবার চিন্তার মধ্যে পড়লেন। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন তার ছেলে হারিয়ে গেল। ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে এক্সিডেন্টে আকবর সাহেবও মারা গেল। এই গেল চিঠির গল্প।
এবার আসি কুয়ার গল্পে। জমিদার মহেন্দ্র বাবুর রাজত্ব ২০০ বিঘা বাড়ার পর সে এক প্রাচীন কুয়ার সন্ধান পেল। মন্দিরের পুরোহিতরা কুয়ার ভেতরে যেতে মানা করল। কিন্তু লোভ সামলাতে না পেরে ঠিকই মহেন্দ্র বাবু তার লোকলস্কর নিয়ে যায়। তারপর কুয়ার ভিতর কত আজব আজব কাহিনী ঘটবে। জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।
এরপরের গল্পটি হচ্ছে শিকার নিয়ে। ঝড়-বৃষ্টির এক রাতে অর্বাচিন চাকমার ছেলে চঞ্চল বাড়ি আর ফিরে না। পরদিন দেখা যায় তার ক্ষতবিক্ষত লাশ। ধারণা করা হয় বাঘ খেয়েছে। তাই অর্বাচিন চাকমা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বাঘকে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। বাঘকে মারতে গিয়ে কি আজব আজব কাহিনী হয়েছিল সেটা জানতে চান? তাহলে বলছি। নাহ বললে তো স্পয়লার হয়ে যায়। এখানেই থেমে যাই।
এভাবে রহিমার মা, কুয়া, শিকারের সাথে ইভা মেঘ,ঈশ্বর, সোর্স,আইনস্টাইন বাক্স গল্পগুলো একত্রে মিলে ইন্তেরকানেক্টেড হয়ে এক চরম সাই-ফাই থ্রিলার সৃষ্টি করে। মনোযোগ পড়লে আর কানেকশন গুলো বুঝলে উপন্যাসটিকে অসাধারণ বলতে বাধ্য হবেন।
আইনস্টাইন বাক্সের কোড(বইয়ের কভারে দেওয়া আছে) ডিকোড করতে পারলেই কেল্লাফতে। কোডটি দেখতে বিদঘুটে হলেও এর সমাধান খুবই সোজা। কোডটির মাধ্যমে যা বুঝানো হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই মানবজাতি সোর্স থেকে রক্ষা পাবে। সোর্স কে? বলবো না। বই পড়তে হবে।
এবার বইয়ের দ্বিতীয় অংশের ছোট ছোট সাই-ফাই নিয়ে আসি। এই সাই-ফাইগুলো এত ছোট যে এগুলোর প্লট সম্পর্কে একটুও ধারণা দেওয়া যাবে না।এখানে মোট বারোটি সাই-ফাই পাওয়া যাবে। এগুলোকে আবার বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ফেলা হয়েছে। যেমন:টেক কল্পবিজ্ঞান, ভৌত কল্পবিজ্ঞান, অপ কল্পবিজ্ঞান,রম্য কল্পবিজ্ঞান ইত্যাদি।এই ১২ টি কল্পবিজ্ঞানের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আমার পিয়ানো, রোবট বিপ্লব, আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি এবং শ্মশান পুষ্প ভালো লেগেছে। অন্যদিকে লং ফেলোর ঘড়ির গুদাম গল্পটি বুঝিনি। কারণ-বুঝতে হলে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে যেটা আমার নেই। "বিজনেস মাইন্ডের বউ" গল্পের লাস্টের কয়েকটি লাইন পড়ে মজা পেয়েছি।
সমালোচনা: ১. বইটিতে কিছু জায়গায় বিরাম চিহ্নের সঠিক ব্যবহার হয়নি। ২. ছোট সাই-ফাই গুলো আরেকটু বিস্তারিত হলে ভালো হতো। আরাম চশমা এবং স্যুপ গল্প দুটি একটুও ভালো লাগেনি আমার ব্যক্তিগতভাবে। পুরো রূপকথার মতো মনে হয়েছে। কোন ইউনিকনেস ছিল না।
বইয়ের বিশেষ দিক:
বইয়ের লেখক কিছু গল্পের পেছনে কোথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে সেটা বলে দিয়েছে যেটা আজকাল দেখা বিরল। লেখকের এই আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এছাড়াও লেখক সমকালীন সমাজের সাথে কয়েকটি গল্পের মিল ঘটিয়েছে যা আমার খুবই ভালো লেগেছে।
বর্তমানে সাই-ফাই বইগুলোতে ইউনিকনেস খুব কম পাওয়া যায়। কিন্তু "মহিষমতি সমীকরণে" বইটি তার ব্যতিক্রম।তাই মৌলিক সাই-ফাই বই পড়তে চেলে আমি অবশ্যই এই বইটিকে রিকমেন্ড করব।
চিঠি পেতে ভালো লাগে আপনার? মনে করুন আপনি একটি চিঠি পেলেন আর সাথে একটি হরলিক্সের কৌটা। চিঠিতে প্রেরক নিজেকে রহিমার মা হিসাবে পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু রহিমার মা যদি আপনার অপরিচিত কেউ হয়? আপনি মন খারাপ করে ভাবলেন অপরিচিত কেউ তার ছেলেমেয়ে বা আত্মীয়কে হরলিক্সের কৌটা পাঠিয়েছেন শখ করে আর তা ভুল জায়গায় চলে এলো। আপনি কুরিয়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করবেন চিঠি আর হরলিক্সের কৌটা ফেরত দিতে? আকবর সাহেবও এই চেষ্টা করেছিলেন। ফোন নাম্বার ভুল দেওয়া। ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেও যখন লাভ হলো না, আকবর সাহেব হরলিক্সটা নিজের ছেলে রুদ্রের জন্য রেখে দিলেন। হরলিক্স খেয়ে রুদ্রের খাওয়ার রুচি ফিরেছে। স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার থেকে আনা অন্যসব হরলিক্সের কোনোটাই রুদ্র মুখে তুলছে না। আকবর সাহেবের কাছে পার্থক্য ধরা পড়েছে। রহিমার মার দেওয়া হরলিক্স থেকে বেলি ফুলের মতো গন্ধ আসে আর স্বাদ অপূর্ব। আবার চিঠি। তার সাথে হরলিক্সের কৌটা। প্রেরক রহিমার মা। হাতের লেখা ও জায়গার নাম আগের থেকে ভিন্ন। ফোন নাম্বারও ভুল। হরলিক্সের স্যাম্পল থেকে ল্যাব টেস্টে ক্ষতিকর কিছু পাননি ডাক্তাররা, তবে অপরিচিত কিছু কেমিক্যাল রয়েছে। আবারও চিঠি ও হরলিক্সের কৌটা। চিঠি পড়ে আকবর সাহেব সত্যি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অদ্ভুত কথা। "গরুর খাবার হলো ঘাস, আর মানুষের খাবার হলো গরু, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।" আর রহিমার মা নিজের মেয়েকে খাওয়াতে পারছে না, অথচ তার ছেলের জন্য হরলিক্স পাঠাচ্ছে। কিছু একটা ঠিক নেই।
আকবর সাহেবের মতো আরো অনেকের কাছে যাচ্ছে হরলিক্সের কৌটা। সাধারণ হরলিক্স না। বেলি ফুলের গন্ধ তাতে আর স্বাদও ভিন্ন। বাচ্চারা এই হরলিক্স খেতে অনেক পছন্দ করে। তাদের স্বাস্থ্যে ও আচরণে পরিবর্তন আসে। এরপর তারা নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়। অদ্ভুদভাবে তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ ফিরে আসে।
হরলিক্সে কি আছে? আর কারা তৈরি করছে? বাচ্চাগুলো কেন মারা যাচ্ছে? মৃতদের মধ্যে থেকে কেউ কিভাবে ফিরে আসছে? যে আসছে, সে আসলে মানুষ নাকি অন্যকিছু? সবকিছুর মূলে কে বা কারা আছে?
মহাকাশযানে অল্পকিছু মানুষ। তাদের উপর নির্ভর করছে মানবজাতির ভবিষ্যৎ। বিশাল এই মহাকাশযানের এক কোনায় একটি বাক্স রয়েছে। আইন্সটাইন বাক্স। তার উপরে রয়েছে এই কোড:
II([U)[ (∩II)UIL DΔ⌈T[DIΔDΠLI[ΛIΠ
কোডটি মানবজাতির শেষ আশা।
শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিলো? কোডটি কি ডিকোড করা সম্ভব হয়েছিলো? আইন্সটাইন বাক্সে কি আছে? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে বইটি পড়ুন।
বইটির প্রথম অংশে রয়েছে একটি বড় কল্পবিজ্ঞান। নাম রহিমার মা। প্রথমে প্লটগুলো পড়ে মনে হতে পারে, এগুলো আলাদা আলাদা ছোট গল্প। কিন্তু গল্পগুলো একটা অন্যটার সাথে যুক্ত। ধীরে ধীরে গল্পগুলো থেকে রহস্যে ঘেরা কাহিনী এতো সুন্দরভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে!
দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বারোটি ছোট কল্পবিজ্ঞান। বেশ কিছু প্লট বাস্তবের সাথে সম্পর্কযুক্ত। 'আরাম-চশমা' তেমনি একটা গল্প। এটা, 'রোবট বিপ্লব' আর 'মহিষমতি সমীকরণ' গল্প তিনটা পড়ে আমার কষ্ট লেগেছে। প্রোগ্রামিং পারি না, তাই 'লংফেলোর ঘড়ির গুদাম' গল্পটা বুঝতে পারিনি। 'স্যুপ' আর 'শনি' গল্প দুইটা মজার। অসম্ভব ভালো লেগেছে তিনটা গল্প পড়ে। 'পিয়ানো', 'কার্ডিয়াক' ও 'শ্মশানপুষ্প'।
বড় এবং ছোট কল্পবিজ্ঞানগুলোর প্লট ব্যতিক্রম ও অসাধারণ। লেখকের বর্ণনার ধরন অনেক ভালো লেগেছে। আর সব কল্পবিজ্ঞানের শেষে রয়েছে গল্পের পিছনের গল্প।
অনেক আগে একবার পড়েছিলাম। রিভিউ দেওয়া হয়নি তখন। কিছুদিন আগে আবার বইটা পড়লাম। তাই রিভিউও লিখে ফেললাম। (এটা আমার লেখা দ্বিতীয় রিভিউ। প্রথমটা ভালো হয়েছিলো না। এটাও হয়তো ভালো হয়নি। ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন এবং কোনো পরামর্শ থাকলে দিবেন। ধন্যবাদ।)
এ বইয়ের কয়েকটা গল্প লেখক বই বের হওয়ার আগেই ফেসবুকে প্রকাশ করায় বইটি পড়তে আগ্রহ জাগে।
বইটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে দুটি বড়ো কল্প বিজ্ঞান এবং দ্বিতীয় ভাগে ১২টি ছোট কল্প বিজ্ঞান।
কাহিনি সংক্ষেপঃ প্রথম অংশ
গল্প-১ঃ রহিমার মা আকবর সাহেবের কাছে চিঠি আসে রহিমার মা নামক এক বৃদ্ধ মহিলার কাছ থেকে, সাথে হরলিক্সের একটা কৌটা।অরুচিতে ভোগা তার ছোট্ট ছেলেটি সেই হরলিক্স খেয়ে নাদুস-নুদুস হয়ে উঠে।কিন্তু পরে এই হরলিক্সই হয়ে উঠে তার সর্বনাশের কারণ!
গল্প-২ঃ কুয়া এক জমিদারের দখল করে নেয়া পুরনো এক মন্দির থেকে এ রহস্যের শুরু।মন্দিরের ঠিক মাঝখানে বিশাল এক কুয়া যেটার কি না হাজার বছর ধরে মুখ বন্ধ।একদিন সন্ধ্যায় রাজা মন্দির থেকে ফিরবে এই মূহুর্তে কুয়োর ভিতরে কিসের যেন এক গুম গুম আওয়াজ শুনতে পান।রাজার কৌতূহল বাড়লো এবং অভিযান চালালেন।অবশেষে রাজা কুয়া থেকে অনেক ধন-রত্ন পেলেও কিন্তু থেকে যায় কেননা রাজা সেই রত্ম আহরণ উম্মুক্ত করে দেয়।
গহীন জঙ্গলে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম।সে গ্রামে থাকেন ফাদার রোজারিও যিনি কি না গ্রামবাসীর কাছে ভীষণই প্রিয় পাত্র! গ্রামের অপুষ্টিতে ভোগা বাচ্চাদের উনি বিশেষ ধরনের হরলিক্স খেতে দেয়... বাচ্চারা বেশ মোটাতাজা হয়ে উঠে.....
এক সময় গ্রামে শুরু হয় ভয়াবহ সব অঘটন।গ্রামের দুটো শিশুকে বাঘে খেয়ে ফেলে।কিন্তু সন্তানহারা কৃষকের মনে হয় এটা বাঘের কাজ নয়।তাই তিনি পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নিতে জঙ্গল থেকে লাশ না সরিয়ে গভীর রাতে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রাতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। বিশেষ ধরনের মেঘ থেকে হওয়া বৃষ্টিতে কৃষক অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তার সঙ্গী হিসেবে নেওয়া ভাইপোও শিকারে পরিণত হয়। কৃষক ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাসপাতালগামী হয়।
আমেরিকার এক গবেষক ইন্ডিয়াতে আসেন একটা কনফারেন্সে। কিন্তু ফিরে গিয়ে তার আচরণ বদলে যায়, তার ছোট্ট ছেলেটি তাঁর কাছে আসতে ভয় পায়,তার কুকুর ইভা তার ধারেকাছেও ঘেঁষে না। দিন কয়েক পরে তাঁর বাড়িতে এক নৃশংস কান্ড ঘটে.. সে পালিয়ে যায়। কিন্তু কেন ভয়ে না-কি স্বেচ্ছায়?
আমেরিকার একটি গোপন এজেন্সি। যেখানে বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী কাজ করেন।তারা ইশ্বরের কাজ করেন, ইশ্বরের ক্ষুধা মিটিয়ে ইশ্বরকে শক্তিশালী করে তোলেন।কে সে ইশ্বর? তার এতো ক্ষুধা কেন? ইশ্বর পূজারীরা নিজেরাই ইশ্বর হতে চায়। কিন্তু সে স্বপ্ন বদ্ধ কোনো এক কক্ষে বিশ্বাসঘাতকতার বিষে ধবংস হয়ে যায়।
ইশ্বর এতো মানুষ খাওয়ার পরেও মানুষ কমেনি পৃথিবীতে। কিন্তু যারা আছে সবাই আসলে মানুষ নয় তাঁরা ক্লোন।ক্লোনে ক্লোনে ভরে গেছে পৃথিবীতে। ইশ্বর তৈরি করেছেন তাদের কিন্তু কেন?
মহাবিশ্ব হতে মানুষের বিলুপ্তি ঠেকাতে বিজ্ঞানীরা আইন্সটাইনের দেওয়া তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করে ফেললেন! যেটা পৃথিবীতে বেঁচে থাকা কিছু মানুষসহ পাঠিয়ে দিলেন দূরে কোনো এক নক্ষত্রের উদ্দেশ্য।
সেই নক্ষত্রে কী মানুষেরা পৌঁছাতে পেরেছিলো? মানবজাতি কি সেই ইশ্বরের সাথে যুদ্ধে জিতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলো?
জানতে পড়ুন বইটি......
দ্বিতীয় ভাগে ১২টি গল্পের সবগুলোই অসাধারণ। গল্পগুলো এমনিতেই খুব ছোট তাই কাহিনি সংক্ষেপের দরকার নেই। তবে বিশেষ বার্তা বহনকারী গল্প হচ্ছে,'আরাম চশমা' এবং 'মহিষমতি সমীকরণ'।
বইয়ের প্রচ্ছদে বাঘের ছবি। কিন্তু টাইটেলের নাম 'মহিষমতি সমীকরণ', বাঘমতি নয় কিন্তু। পুরা বইটা পড়ার পরে কনফিউশান টা ধরা পড়ে। সায়েন্স ফিকশন এই বইটার দুইটা পার্ট। প্রথম পার্টে একটা দীর্ঘ উপন্যাস রয়েছে, যার সাথে বাঘ এর একটা সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিতীয় পার্টে অনেকগুলো ছোট ছোট সায়েন্স ফিকশন আছে , যাদের মধ্যে শেষ গল্পটার নাম 'মহিষমতি সমীকরণ'। এই দুইটা পার্ট রিপ্রেজেন্ট করছে প্রচ্ছদটা। প্রতিটা গল্পের শেষে গল্পের পেছনের গল্প/ইন্সপাইরেশন / টেকনিলাল শব্দের ব্যাখ্যা / নির্দিষ্ট কোনো টেকনোলজি সম্ভব কি অসম্ভব - এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই কাজের জিনিস। আমার তো মনে হয়, সকল লেখকের সকল বইয়ের শেষেই এক/দুই পাতা করে এইরকম ব্যাখ্যা থাকা উচিত। বইয়ের প্রথম পার্ট এর নাম রহিমার মা। এই টাইটেল এর আন্ডারে ৮ টা গল্প/চ্যাপ্টার রয়েছে। সবগুলো মিলে একটা পূর্নাঙ্গ উপন্যাস। আবার এগুলোকে আলাদা ছোটগল্পও বলতে পারেন। ( আমেরিকার ছোট গল্প লেখক ও হেনরি'র ক্যাবেজেস এন্ড কিংস উপন্যাস এর মাধ্যমে এই ধরনের উপন্যাসের সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল। ওই উপন্যাসটাও এইভাবেই লেখা হয়েছিল, যেখানে আলাদা আলাদা ১৯টা ইন্টার লিংকড ছোট গল্প ছিল।) যাইহোক, রহিমার মা'র কাহিনী এপোক্যালিপ্টিক ঘরানার৷ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পৃথিবীর মানুষ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, অন্য কোনো প্রাণী এসে মানুষকে মেরে ফেলছে -- এইরকম কাহিনী। গেম অফ থর্ন্স এর হোয়াইট ওয়াকারদের আক্রমণের মত অবস্থা। তবে এখানে শত্রুকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। শত্রুর সব কার্যক্রম কম বেশি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু শত্রুটা যে কে, কোথায় থাকে সে, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে তাকে ঠেকানো যায়, তার কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ১২ টা ছোট সায়েন্স ফিকশন, যেগুলা একে অপরের সাথে কানেক্টেড নয়। এগুলোর মূল উপজীব্য বিজ্ঞান হলেও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাকেও টাছ করা হয়েছে, এসব সমস্যা নিয়ে আমাদের ভাবতে বাধ্য করে গল্পগুলো। বিশেষ করে শেষ গল্পটা ( মহিষমতি সমীকরণ) একেবারে লা - জবাব। বিজ্ঞানের ফিল্ডে নন স্পেশিল্ট কাউকে দায়িত্ব দিলে কি অবস্থা হয়, তার অনেক উদাহরণ আমরা করোনা মহামারীর সময়েই দেখেছিলাম। আর এই গল্পে একটা রকেট উৎক্ষেপন এর দায়িত্ব বিজ্ঞানী বা ইঞ্জিনিয়ার দের পরিবর্তে অন্যদের হাতে দিলে কি অবস্থা হতে পারে, সেটাই দেখানো হয়েছে। রুপকের মাধ্যমে লেখক চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের বর্তমান সমাজকেই দেখিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট করে। আরেকটা কথা। গল্পের পরতে পরতে লেখকের রসবোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। গল্পের নায়ক যখন সংকটে, তখনো 'শাহ সিমেন্ট আর ক্রাউন সিমেন্ট একসাথে মিশিয়ে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরীক্ষা করে' বাড়ি বানানোর কথা শুনে হাসি ছাড়া আর উপায় থাকে না।
রহিমার মা। একজন বৃদ্ধা। নিয়মিত হরলিক্স পাঠান আকবর সাহেবের ছেলের জন্য। শুধু এটুকু মনে করলে বিরাট ভুল হয়ে যাচ্ছে৷ রহিমার মা বৃদ্ধা না। তিনি শুধু আকবর সাহেবের ছেলের জন্য না, আরও অনেক অনেক জায়াগায় হরলিক্স পাঠান। নতুন ধরণের হরলিক্স, শরীরে গোসত বাড়ায়, থলথলে ভাব নিয়ে আসে। এই থলথলে শরীরের মাংস খায় কেউ একজন। একা না, তারা মাছের মতো, নিজে খায় না, অন্যকে দিয়ে খাওয়ায়। কুয়ার মাঝে জমিদার সাহেব কোথায় গেলেন? আসল জমিদারকে মেরে ফেলা হয়েছে। আসবেন এখন নকল, ক্লোন জমিদার। ছেলের লাশের উপর বসে অর্বাচীন চাকমা কী দেখবেন? মেঘ। অদ্ভুত দর্শন কিছু৷ আইন্সটাইন বাক্সে কী আছে? এই অদ্ভুত নামই বা কেন? ইভা নামক কুকুর কী জানে? রহস্যে ঘেরা গল্প রহিমার মা। সোর্স নামক এক ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে সেখানে। যে জানবে, তাকে মেরে ফেলা হবে৷ কিচ্ছুটি খবরাখবর মানুষদের কানে যেতে দেওয়া যাবে না। গেলেই শেষ! আড়াইশো বছর পর পর জেগে ওঠে সে। মহাভয়ঙ্কর। চালাক সে, মহা চতুর। স্পেসশিপে করে দূর নক্ষত্রের পানে ছুটবে মানব। আইন্সটাইন বাক্স খুলবে কীভাবে? II([U)[ (∩II)UIL DΔΓΤ[DIΔDΠLI[ΛIΠ এটা দিয়ে।
কী আছে এই বাক্সে?
এরকম হাজারও রহস্যে ঘেরা গল্প রহিমার মা। আলাদা আলাদা ছোটো ছোটো গল্পের সমন্বয়ে পুরো রহিমার মা গল্পটা। গল্পগুলোর প্লট আলাদা আলাদা মনে হলেও শেষ দিকে এসে একটা একটা করে সুক্ষ্ম অন্তমিল পাওয়া যায়। পাজেলের মতো, যেন গল্পগুলো সেই পাজেলের টুকরা। সেটা মিলে বড়ো পাজেল রহিমার মা গল্প। বেশ ইন্টারেস্টিং গল্পটা, প্রচণ্ড নিখুঁত সুক্ষ্ম সমন্বয় যেন বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। অনেকগুলো রহস্যময় প্রশ্ন গল্পে আছে৷ সোর্স কে, সে বেঁচে আছে, নাকি মানুষ বেঁচে আছে! পৃথিবীর কী হলো, সোর্স আসলে কেমন — এসব। এগুলোর উত্তর পেতে অবশ্যই রহিমার মা গল্পটা পুরোটুকু পড়ে চিন্তা করতে হবে।
গল্পের বাকি অর্ধেক অংশ জুড়ে আরেক ইন্টারেস্টিং ব্যাপার-স্যাপার শুরু হবে। ছোটো ছোটো ২/৩ মিনিটে পড়া যায় এমন কতগুলো আলাদা গল্প আছে। সেগুলোর প্রত্যেকটাই অসম্ভব ভালো লেগেছে। ঘড়ির রহস্য, যদিও ঘড়ি রহস্যের সমাধানটা বুঝিনি, তারপর আছে কার্ডিয়াক কিলার, আরাম চমশার আরামের দুনিয়া, শনি আরও অনেক। শেষের গল্পটা একটু অন্যরকম। সুক্ষ্ম মেসেজ লুকিয়ে আছে গল্পটায়, নাম মহিষমতি সমীকরণ — বইয়ের নামে। গণতান্ত্রিক উপায়ে সমীকরণ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ চেষ্টা!
আকবর সাহেবের ছেলের জন্য রহিমার মা’র নাম করে কে আসলে হরলিক্স পাঠায়? কি আছে এই হরলিক্সে যা খেয়ে আকবর সাহেবের ছেলের খাবারের রুচি এতো বেড়েছে? জমিদার ঐ রহস্যময় কুয়ার মধ্যে কি দেখেছিল? শহরের বাচ্চারা হারিয়ে যাচ্ছে কেন?সোর্স আসলে কী? আইনস্টাইনের বা���্সে কি আছে?
বৌ বাসর রাতে তার স্বামীকে কেন খেয়ে ফেললো? লংফেলোর ঘড়ির গুদামে কী কারণে ঘড়িগুলো বার বার গুঁড়ো হচ্ছে? স্টেইনব্রেকের ঘরে গভীর রাতে পিয়ানো কে বাজায়? মহিষমতি সমীকরণ আসলে কী?
এই সব রহস্যের উত্তর আছে মহিষমতি সমীকরণ বইটিতে। পুরো বইটা মূলত দুই অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে বড় কল্পবিজ্ঞান দ্বিতীয় অংশে ছোট ছোট কল্পবিজ্ঞানের গল্প। প্রথম অংশটি একটি উপন্যাস, বেশ কয়েকটি ছোট বড় গল্প মিলিয়ে এই উপন্যাসের নাম দেয়া হয়েছে রহিমার মা। উপন্যাসের শুরুতে গল্পগুলো কিছুটা খাপছাড়া মনে হতে পারে।কিন্তু প্রতিটা গল্পের মধ্যে একধরণের মিল রয়েছে সেটা হচ্ছে রহস্য। প্রতিটা রহস্যের সমাধান একটাই যা এই অংশের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটা গল্পের থিমগুলো দারুণ ছিলো। রহস্যের সমাধান পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য পাঠককে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। উপন্যাসের শেষে বইয়ের প্রচ্ছদে দেয়া কোডটার সমাধান আছে। কোডটা দারুণ ছিলো।
বইয়ের দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে ১২টি বিভিন্ন ধরণের কল্পবিজ্ঞানের গল্প নিয়ে। যেমন: রূপকল্পবিজ্ঞান, টেককল্পবিজ্ঞান, বায়োকল্পবিজ্ঞান ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে ‘লংফেলোর ঘড়ির গুদাম, শ্মশানপুষ্প, মহিষমতি সমীকরণ’ গল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বাকি গল্পগুলোর থিমও বেশ ভালো ছিলো। প্রতিটা গল্পের শেষে ট্যুইস্টগুলো অসাধারণ ছিল। লেখক প্রতিটি গল্প রস, রহস্যে ও রোমাঞ্চর সংমিশ্রণে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন।
বইটির আরেকটি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে লেখক তার গল্পগুলো কোথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন সেগুলো গল্পের শেষে উল্লেখ করে দিয়েছেন।
বইয়ের প্লটগুলোর সাথে প্রচ্ছদের মিল থাকলেও প্রচ্ছদ খুব বেশি ভালো লাগেনি। পেইজ কোয়ালিটি এবং বাইন্ডিং মোটামুটি ভালো ছিল। সব মিলিয়ে বইটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বইটি পড়ে না থাকলে আপনিও পড়ে দেখতে পারেন।
নাঈম ভাইয়ের লেখনী বরাবরই বিয়ন্ড ইমাজিনেশান লেভেলের হয় 😜, এবারের বইমেলায় তার লেখা " মহিষমতি সমীকরণ" বের হয়েছে। পড়ে ফেললাম✌️। বইয়ের প্রতিটা চ্যাপ্টার খুবই আর্কষণীয় ভাবে লেখা৷ আসলে নাঈম ভাইয়ের লেখনীর একটা জিনিস আমার প্রচন্ড ভালো লাগে যা হলো - এই লোক তার লেখাগুলোতে এমন একটি জগৎ সৃষ্টি করেন যাতে পাঠক কখনও সেই জগৎ থেকে বেড়িয়ে না আসতে পারে৷ যতক্ষণ বইটা শেষ হচ্ছেনা মাথার ভেতরে যেন আকাঙ্খাটা খুঁতখুঁত করে। বইটার কিছু গল্প " So much relatable" টাইপ। যেমন- আরাম চশমা, স্যুপ, মহিষমতি সমীকরণ ইত্যাদি। আচ্ছা আরেকটা ব্যাপার হলো, ভাই আইন্সটাইন বক্স গল্পের ৭৩ পেইজে বলেছেন, আইন্সটাইনের থিওরিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি যন্ত্র তৈরি তৈরি করে ফেলে যা স্পেস্টাইম কে বাঁকিয়ে ছোট করে ফেলতে পারে। এর দ্বারা যা বুঝেছি হয়তোবা লেখক এখানে ব্ল্যাকহোলকেই বুঝিয়েছিলো৷ আইন্সটাইনের বাক্সটাও এমন কিছুই৷ আইন্সটাইনের বাক্সে বিভিন্ন ধরণের ম্যামাল রা ছোট অবস্থায় আটকে ছিলো। মনীষা বাইরে থেকে জন্তুদের ডাক শুনতে পাচ্ছিলো। সাউন্ডওয়েভ আসলে ব্ল্যাকহোল থেকে বেড়িয়ে আসার কথা না। Btw Sci-fi তো sci-fi ই, অথবা আমারো বুঝতে ভুল হতে পারে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন আসলে। আফটারঅল লেখকের গল্পগুলো প্রতিটাই থ্রিলিং একটা এক্সপেরিয়েন্স দিয়েছে। বইয়ে কিছু কিছু অদ্ভুদ প্রাণীদের উপর ভিত্তি করে এমন ভাবে গল্পের প্লট তৈরি করা হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। অদ্ভুত এই প্রাণীগুলো সমন্ধে অনেকেই জানেনা আমি শিওর। সবচেয়ে মজার জিনিস ছিলো আইন্সটাইন বক্স খোলার কোডটা। অনেকদিন আগে থেকেই এই কোডটা একটা আলাদা সাসপেন্স তৈরি করে রেখেছিলো। নাঈম ভাইয়ের আরও একটি বই আসতেছে "সায়েন্সভেঞ্জার"। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি বইটার জন্য। কারণ বইটা আমার প্রিয় টপিকের উপরে লেখা❣️❣️ শুভকামনা রইলো এবছরের বইগুলোর জন্য।
১) শুরুতে আসি ছোট উপন্যাসটির কথায়। প্রথমদিকে উপন্যাসটিকে বেশ খাপছাড়া লাগবে, সবকিছু কেমন যেন ধোয়াশাপূর্ণ। মনে অনেক প্রশ্ন জটলা বাধতে থাকবে । ধীরে ধীরে আরো নানা তথ্য আসবে। মনের মধ্যে জাগা নানা প্রশ্নের উত্তর মিলবে একটার পর একটা। কিন্তু পুরো রহস্য উন্মোচনের জন্য একদম শেষ পর্যন্ত পড়া লাগবে। পূর্ব থেকে রহস্যের সঠিক আন্দাজ করা খুবই কঠিন। শেষের কোডটা অসাধারণ!
এটা পড়ার সময় বেশ থ্রিলিং ফিল পেয়েছি। লেখনশৈলী ভালো। উপন্যাসটিকে ১০ এ ৯ দিবো।
২) বাকি ১২ টি গল্পের মধ্যে পিয়ানো আমার অলটাইম ফেবারিট। কয়েকমাস আগে বন্ধু আনন্দ আমাকে গল্পটা পড়তে বলেছিলো ফেইসবুকে। জোস থ্রিলিং এটা। সত্যি বলতে, "রহিমার মা" উপন্যাসের থেকেও এটা আমার বেশি ফেভারিট।
"শ্মশানপুষ্প" গল্পটি বেশ ভৌতিক ফিল দেয়। এই গল্পে লেখকের উপস্থাপনা অসাধারণ। এটাও আমার ফেভারিট।
৩) "রোবট বিপ্লব" বেশ ভালো লেগেছে। ছোটবেলায় যখন রোবট নিয়ে কিছু পড়তাম তখন এমন কিছু জিনিস নিয়ে আমিও চিন্তায় পড়েছিলাম যে, কি হবে যদি তারা হুবহু সেটাই করে যা আমরা নির্দেশ দিবো। ব্যাপারটা ভয়ানক বটে!
"স্যুপ" পড়ার সময় বেশ হাসি পেয়েছে। "মাইরা ফালামু" টাইপ কথাগুলা বইয়ে পড়তে গেলে বেশ মজা লাগে।
"আরাম-চশমা", "মহিষমতি সমীকরণ" আর "শনি" বাস্তবধর্মী গল্প। কিছু গল্পের পেছনের গল্প না বলাটাই বেটার।
"বিজনেস মাইন্ডের বউ", "সন্তান" গল্পগুলা প্রথমে থ্রিলিং মনে হয়েছিলো। শেষ করার পর নিজেকে কেন যেন বোকা মনে হলো!
"আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি" মন্দ না।
৪) ওভারঅল, বইটা ভালোই লেগেছে। আমার যেহেতু খুব একটা কল্পবিজ্ঞান বই পড়ার অভিজ্ঞতা নাই তাই খুব ভালো করে রিভিউ দেওয়া বা বই যাচাই করার ক্ষমতা হয়তো নেই। লেখকের প্রথম কল্পবিজ্ঞান বই হিসেবে ভালো প্রচেষ্টা মনে হয়েছে। শেষে এটাকে ৯/১০ রেটিং দিবো।
বইতে একটি উপন্যাসিকা এবং বেশ কিছু ছোট গল্প আছে। উপন্যাসিকার নাম রহিমার মা। শেষের ব্যাখ্যাটা ভালো লেগেছে। আইডিয়াটা ইউনিক। কিছুদিন আগে পড়া সায়েন্স ফিকশন 'ডার্ক ম্যাটার'-এর কথা মনে পড়ে গেল। দুটোর কোনো সংযোগ নেই। কিন্তু দুটোতেই বাক্স আছে! (আগ্রহীদের জন্য ডার্ক ম্যাটার রিকমেন্ডেড।)
এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'আরাম-চশমা' গল্পটা। দুর্দান্ত। ইদানীং এরকম গল্প পড়েছি বলে মনে পড়ছে না। দ্বিতীয় সবচেয়ে ভালো লাগা গল্পটি বইয়ের নাম গল্প- মহিষমতি সমীকরণ। তারপর 'লংফেলোর ঘড়ির গুদাম' এবং 'শ্মসানপুষ্প'। এই গল্পগুলো বইটাকে আমার কাছে অন্য মাত্রা দিয়েছে। বাকিগুলো গড়পড়তা। খারাপ লাগেনি, খুব অসাধারণ, তাও নয়। পড়তে ভালো লাগে। আবহ ভালো তৈরি করতে পারেন লেখক।
রেটিং আসলে ৩.৫ স্টার (১০ হলে অবশ্য ৮ দিতাম)। দেড় স্টার কাটাকুটি কেন? এটা আসলে পাঠকের ওপর নির্ভর করে। আমার যেমন বইটার মুখ-প্রধান ভাষা পড়ে খারাপ লাগেনি, কিন্তু 'দারুণ' বোঝাতে 'সেই' শব্দের ব্যবহার বা এরকম কিছু জিনিস অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। আবার অনেকের হয়তো এগুলো ভালো লেগেছে। অবশ্যই এটা লেখকের ইচ্ছা। তবু ব্লগ/ফেসবুক থেকে বইতে আনার সময় আরেকটু পরিমার্জন হয়তো করা যেত, এটা আমার মত। আরেকটা জিনিস ভালো করা যেত- সম্পাদনা। যেমন, 'পিয়ানো' গল্পের শেষে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে 'বিজ্ঞানে অজ্ঞান বইতে থাকবে'। এরকম কিছু জিনিস।
সব মিলিয়ে এই বইটা পড়ার মতো। সায়েন্স ফিকশন বা ইন জেনারেল গল্প পড়তে পছন্দ করলে, বইটা পড়ে ফেলুন। মন্দ লাগবে না!
বইটা গতকাল বিকেলেই হাতে পেয়েছি।বাড়িতে আনার পরই বইটি পড়তে বসে যাই।বইয়ের প্রথম গল্প রহিমার মা পড়ে ঢুকে যাই রহস্যের দুনিয়ায়,অপূর্ব এক দুনিয়ায়,যেটা পুরোপুরি রহস্যময়।রহিমার মায়ের সেই হরলিক্সের কৌটো,কুয়োর সাত রাজার ধন,লাস্তে লাকোনির ঈশ্বর,আইনস্টাইনের বাক্স,বাক্সের কোড সবকিছুতে এই রহস্য পুরোপুরিভাবে উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন লেখক।দুঃখের বিষয় হলো প্রোগ্রামিং নিয়ে কোনো ধারণা না থাকায় 'লংফেলোর ঘড়ির গুদাম' গল্পের রহস্যের সমাধানটা পুরোপুরি বুঝি নি,একটু-আধটু বুঝেছি।তবে স্যুপ গল্পটা আমার কাছে খুব মজার মনে হয়েছে।প্রত্যেকটা ছোট কল্পবিজ্ঞানের শেষে গল্পটির বিজ্ঞান বুঝিয়ে দিয়েছেন,যার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সুক্ষ্ম পার্থক্য তুলে ধরেছেন।আর সবশেষে লেখককে ধন্যবাদ জানিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই,নাইম্ভাই যখন লিখেছেন বইটাকে অসাধারণ তো হতেই হবে।😉
রেটিং: ২/৫ বইয়ের প্রথম গল্পটাই মূল আকর্ষণ লেগেছে। অনেক বেশি অগোছালো লেখা, আনরিলেটেড টাইটেলের জন্য ডিস্ট্র্যাক্টেড হয়ে গিয়েছি বেশ।
বইয়ের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে একটা ব্যাপার স্পষ্ট- "শিক্ষণীয়" বা, কোনও টপিক শিখানোর একটা ব্যাপার চলে আসছে। ছোটগল্পের মূল আকর্ষণ, পাঠককে চিন্তা করানো- ওপেন এন্ড/লাস্টে টুইস্ট রেখে। এই ব্যাপারটা বইয়ের কয়েকটা গল্পে আসছে অবশ্যই। কিন্তু কিছু গল্প আমার কাছে অনেক মেটাফোরিক লেগেছে, যেগুলা সাই-ফাই এর মধ্যে স্থান পায় না আসলে। যেন অহেতুক বইয়ের কলেবর বাড়ানোর জন্য লেখা।
একটা বই পড়ে কারো লেখা বিচার করা উচিত না। শুধু বলবো, লেখকের লেখার niche সায়েন্স ফিকশন না, শিক্ষণীয় ধাচের লেখা। এবং সেটাতেই জোর দিলে ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব।
কল্পবিজ্ঞান আমাকে অসম্ভব আকৃষ্ট করে। বড় কল্পবিজ্ঞান আর ছোট কল্পবিজ্ঞান এই দুই জায়গায় চমৎকার কিছু গল্পের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বই সাজানো হয়েছে। রহিমার মা গল্পে আকর্ষনীয় লাইন ছিলো , " গরুর খাবার ঘাস , আর মানুষের খাবার হলো গরু। "
ইভা, আইনস্টাইন বাক্স সহ বড় কল্পবিজ্ঞানের প্রতিটি গল্প অসাধারণ। প্রতিটি গল্পের উৎস হিসেবে গল্পের পেছনের গল্প উল্লেখিত আছে।
ছোট কল্পবিজ্ঞানের রূপ কল্পবিজ্ঞানেরঃ বিজনেস মাইন্ডের বউ পড়ে আমি কিছু সময় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি এর সাথে পরিচয় থাকলেও অপরিচিত ছিলাম আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি এর সাথে। স্যুপ, রোবট বিপ্লব সহ প্রতিটি গল্প অসাধারণ।
লেখকের প্রথম সায়েন্স ফিকশন। বইটার টুইস্ট, বিজ্ঞানের আলাপগুলা আসলেই দারুণ ছিল! প্রথম বই হিসেবে বইয়ের ভাষাগত দিকটা সবার কাছে ভালো লাগবে। বইটা দুই অংশে বিভক্ত ছিল, যার প্রথম অংশে রহিমার মা শীর্ষক কল্পবিজ্ঞান এবং দ্বিতীয় অংশে ছোটো ছোটো বেশ কিছু কল্পকাহিনি রয়েছে।
প্রথম অংশের রহিমার মা অংশটা সবচেয়ে দারুণ লেগেছে! হরলিক্সের রহস্য, কুয়া, আইনস্টাইনের বাক্সে সহ বিষয়গুলা থ্রীলার ফিল এনে দেবে। যদিও বইটা নিয়ে রাহুল ভাইয়ের থেকে শুনেছিলাম, কেমন হবে, তাও আকর্ষণে কোনো ভাটা পড়ে নি✌️
দ্বিতীয় অংশের কল্পকাহিনীগুলো নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর ছিল না। গল্পগুলোর মাঝে 'শ্মশানপুষ্ম' ও 'লংফেলোর ঘরির গুদাম' পার্সোনালি বেশ দারুণ লেগেছে…. বাকিগুলো ক্ষেত্রে তেমন একটা আকর্ষণ পাইনি (কিছু আগে থেকে পড়া থাকায়🤐)
ফ্ল্যাপ: প্রাচীন মন্দিরের পাশে পুরু ইস্পাতের পাতে মােড়ানাে যে কুয়াটা থেকে ঝড় বৃষ্টির রাতে গুমগুম শব্দ ভেসে আসে, কী আছে সেটার অতলে? কেন নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে শহরের বাচ্চারা? প্রবল ঝড়ের রাতে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে বাঘের রূপধারী যে প্রাণীটা অর্বাচিন চাকমার ছেলেকে খুন করেছিল সে কি আসলেই বাঘ? গােপন ল্যাবরেটরিতে আইনস্টাইন বাক্স নামের যে রহস্যময় জিনিসটা তৈরি হচ্ছে, কী আছে সেটার ভেতরে? আকবর সাহেবের কাছে অপরিচিত ঠিকানা থেকে রহিমার মা নামের যে দরদী বৃদ্ধা নিয়মিত চিঠি পাঠায়, সাথে একটা হরলিক্সের কৌটা- কী তার পরিচয়? কী চায় সে? আকবর সাহেব হরলিক্সের কৌটা খুললেন । বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভেসে গেল চারদিক। আর খুলে গেল এমন এক রহস্যের দরজা যার শুরু হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে, অন্য কোনাে জগতে, অন্য কোনাে মহাজাগতিক সত্তার হাত ধরে!
পাঠ প্রতিক্রিয়া: পুরো বইটি ২ অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে আছে একটি বড় কল্পবিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান উপন্যাসিকা আর দ্বিতীয় অংশে আছে ১২ টি ছোট কল্পবিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান গল্প। উপরের ফ্ল্যাপটুকু উপন্যাসিকার অংশবিশেষ। অনেকগুলি প্লট আর অনেক বছরের সমন্বয়ে উপন্যাসিকাটি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম কিছু পেইজ পড়ার পর খাপছাড়া লাগতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব রহস্যের সমাধান হয়ে যাবার পর মনে হবে আরে এটা তো দারুণ একটা সায়েন্স ফিকশন ছিল! রহস্য, রোমাঞ্চ সবই আছে.. থ্রিলারের মতো টানটান উত্তেজনা থাকবে শেষ পর্যন্ত। ( গল্পটার বিষয়বস্তু আর বিস্তারিত না করি, প্রতিট�� অংশ একে অপরের সাথে সংযুক্ত, স্পয়লার হয়ে যেতে পারে।)
এবার আসি ছোট কল্পবিজ্ঞান গল্পগুলির প্রসঙ্গে। গল্পগুলি হচ্ছে বিজনেস মাইন্ডের বউ, পিয়ানো, আরাম- চশমা, আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি, লংফেলোর ঘড়ির গুদাম, সন্তান, শনি, কার্ডিয়াক, রোবট বিপ্লব, শ্মশানপুষ্প, স্যুপ, মহিষমতি সমীকরণ। প্রতিটি গল্পই শিক্ষামূলক এবং প্রতিটি গল্পই সাবলীল ভাষায় বর্ণিত হয়েছে এবং কিছু গল্পে বাস্তবতার স্বাদ ও পাওয়া যাবে। শশ্মানপুষ্প গল্পটিতে একইসাথে হরর, থ্রিলার এবং সায়েন্স ফিকশনের স্বাদ পাওয়া যাবে। সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য।
প্রচ্ছদ ও বাইন্ডিং: প্রচ্ছদের ওপরের এই কোডটি II([U)[ (∩II)UIL DΔΓΤ[DIΔDΠLI[ΛIΠ মূলত প্রথম উপন্যাসিকার অংশ। এই কোডের সমাধানের মাধ্যমেই গল্প শেষ হয়। প্রোডাকশন কোয়ালিটি চমৎকার।