পয়লা বৈশাখের এক কাকডাকা ভোরে জন্ম নিয়েই দেখে, বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ফুলছড়ি, বাহাদুরাবাদ ঘাটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনির অবস্থানের ওপর যখন ইন্ডিয়ান মিগ থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সঙ্গে বাঙ্কারে বসে শিশুটি বলছিল, 'আল্লাহ্, রক্ষা কর'—গল্পটি শিবলীর মায়ের কাছে শোনা। তখন যুদ্ধ না বুঝলেও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের ভেতর দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। ইন্টারমিডিয়েটে পড়াকালেই স্বৈরশাসকের জেল জুলুম আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে চলে আসেন নাটোর থেকে ঢাকায় । অভিনয়ের উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স শেষে গ্রুপথিয়েটার নাট্যচক্রের সঙ্গে মঞ্চনাটকে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকেন শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে।অভিভাবকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একদল গানপাগল তরুণ ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে বাংলা গানের ধারায় যে-পরিবর্তন এনেছে, শিবলী তাদেরই অন্যতম। যুগযন্ত্রণার ক্ষ্যাপামো মজ্জাগত বলেই প্রথা ভাঙার যুদ্ধে শিবলী হয়ে ওঠেন আপাদমস্তক 'রক'। আধুনিক জীবনযন্ত্রণাগ্রস্ত তারুণ্যের ভাষাকে শিবলী উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত সহজসরল 'রক' এর ভাষায়। তাঁর সাফল্য এখানেই । তাই অল্প সময়ের মধ্যেই শিবলী পরিণত হয়েছেন এদেশের ব্যান্ড সংগীতজগতের কিংবদন্তি গীতিকবিতে । শিবলীর লেখা (প্রায় ৩০০) জনপ্রিয় গানের মধ্যে কয়েকটি: জেল থেকে বলছি | কথা-সুর: শিবলী, ফিলিংস /নগরবাউল তুমি আমার প্রথম সকাল | তপন চৌধুরী-শাকিলা জাফর কষ্ট পেতে ভালবাসি | আইয়ুব বাচ্চু (এলআরবি) হাসতে দেখো, গাইতে দেখো | আইয়ুব বাচ্চু কত কষ্টে আছি | জেমস পালাবে কোথায় | জেমস একজন বিবাগি | জেমস রাজকুমারী | আইয়ুব বাচ্চু হাজার বর্ষা রাত । সোলস পলাশী প্রান্তর। মাইলস কী ভাবে কাঁদাবে তুমি (যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে) | খালিদ (চাইম) আরও অনেক অনেক গান......... 'কমপ্লিট ম্যান' খ্যাত ঝুঁটিবাঁধা সেঞ্চুরি ফেব্রিকসের দুর্দান্ত সেই মডেল শিবলী ছিলেন তাঁর সময়ের ফ্যাশন-আইকন।তিনি একজন সফল নাট্যকার। বিটিভির যুগে তাঁর লেখা প্রথম সাড়া জাগানো নাটক 'তোমার চোখে দেখি'(১৯৯৫)। আরও লিখেছেন- রাজকুমারী, হাইওয়ে টু হেভেন, গুড সিটিজেন, নুরু মিয়া দ্যা পেইন্টার, যত দূরে থাকো, বৃষ্টি আমার মা,রান বেইবি রান,আন্ডারগ্রাউণ্ড,শহরের ভিতরে শহরসেকেন্ড চান্স,স্পন্দন,মিলিয়ন ডলার বেইবি,দ্যা ব্রিফকেস।নিজের লেখা নাটক 'রাজকুমারী'তে(১৯৯৭) মির্জা গালিব চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় এখনও অনেকের মনে থাকার কথা।শিবলীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো 'ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি তোমার অভিমান' (১৯৯৫), 'তুমি আমার কষ্টগুলো সবুজ করে দাও না'(২০১০), মাথার উপরে যে শূন্যতা তার নাম আকাশ, বুকের ভেতরে যে শূন্যতা তার নাম দীর্ঘশ্বাস'(২০১৪)।বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে তাঁর 'বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন'(১৯৯৭) নামে ব্যান্ড সংগীতের ওপর লিখিত প্রথম এবং একমাত্র গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ।শিবলী'র কাহিনী সংলাপ এবং চিত্রনাট্যে ও গীতিকবিতায় প্রথম পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্র 'পদ্ম পাতার জল'(২০১৫)।শিবলী'র প্রথম এবং বেস্টসেলার উপন্যাস- দারবিশ (২০১৭)।স্বভাবজাত বোহেমিয়ান, ঘুরেছেন ইউরোপে সহ পৃথিবীর পথে পথে।।
'Boss Baby' মুভিটা হয়ত অনেকেরই দেখা। একটা পাবলিক প্লেসে আগে মানুষ একটা ছোট্ট বাচ্চা দেখলে আদর করত, কিন্তু এখন দেখা যায় একটা ছোট কুকুর ছানা বাচ্চাদের সেই আদরটা দখল করে নিয়েছে। পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমে যাচ্ছে। এই প্লট ধরেই এগিয়ে চলেছিল মুভির কাহিনি, আর শেষে কী হয়েছিল যারা দেখেছেন জানেন। এমনই একটি দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল লতিফুল ইসলাম শিবলী রচিত বই "ফ্রন্টলাইন" এ। আন্দামান সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ভর্তি ট্রলার, যাদের উদ্যেশ্য ডাঙায় একটু আশ্রয়ের। কিন্তু করোনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত পৃথিবী তাদের ডাঙায় আশ্রয় দিতে চায়না। কারণ সেই ট্রলার ভর্তি রোহিঙ্গাদের মাঝেও আছে প্রচুর করোনা আক্রান্ত রোগী। শত বাঁধাকে তোয়াক্কা না করে যখন আশ্রয়হীন রোহিঙ্গারা অস্ট্রেলিয়ার কোনো স্থলে নামার জন্য সাঁতরে সমুদ্র পার হতে চায় তখন ফাঁকা গুলিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে অস্ট্রেলিয়ান বাহিনী। গুলির তীব্রতায় একটা কুকুর ছানা পড়ে যায় সমুদ্রে। সেই ছানাকে বাঁচানোর জন্য মানুষের আকুতি আর ভালোবাসায় ঢাকা পড়ে যায় মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা। উদ্ধার হয় সমুদ্রে পড়ে যাওয়া ছানা, কিন্তু সমুদ্রেই ভেসে রইল দেশ থকে বিতারিত, নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমরা। সব হারিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় নাসিরউদ্দিন। একটু শান্তির আশায়, কিন্তু সেখানেও মেলেনা শান্তি। নশু বাহিনীর কাছে চাঁদার জন্য নির্যাতিত হতে হয় তাকে। কিন্তু হেরে যাওয়ার মানুষ নয় নাসিরউদ্দিন। জীবন যুদ্ধে অনেকবার হেরেছে সে। আর হারতে চায়না, ভয় পেয়ে পালিয়ে থাকতে চায়না। তার আবেগ, অনুভূতি সব ডুবিয়ে এসেছে সেদিনই, যেদিন নিজ হাতে আন্দামান সমুদ্রে মায়ের লাশ ডুবিয়ে দিতে হয়েছিল। এই একাকিত্ব তাকে পরিণত করেছিল এক সাহসী, অদম্য নেতায়। সাহস যোগিয়েছিলেন ইমাম সামিউল হাসান, আর ডিজিএফআই এর দুর্ধষ অফিসার মেজর শাফায়াত। তাকে রূপান্তর করেছিলেন লাখো লাখো নির্যাতিত, নিপীড়িত রোহিঙ্গার আদর্শে, নেতায়। যুগের পর যুগ ধরে শুধুমাত্র মুসলমান হওয়ার কারণে সীমাহীন নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। শেষপর্যন্ত নিজ মাটি থেকে বিতাড়িত হওয়া মুসলমানদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শরণার্থী হয়ে বেঁচে থাকাকেই জীবনের শেষ না মনে করে অধিকার আদায়ের জন্য যুদ্ধ করাকেই শ্রেয় বলে এগিয়ে যায় নাসিরউদ্দিন। এ কন্টকাকীর্ণ পথকে মসৃণ করার জন্য মানসিক ভাবে সাহস দিয়েছিল ইমাম সামিউল হাসান আর শারিরীক শক্তি দিয়েছিল মেজর শাফায়াত। আর মূল স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালামের। সব সাহস, একাগ্রতার মূল ছিল ইসলাম। আল্লাহর দেখানো পথ। সৎ, ন্যায়পরায়ণভাবে এগোলে আল্লাহ সব বাঁধাকেই অতিক্রম করতে সাহায্য করেন। শুরু হয় লড়াই, দেশ-মাতৃকায় ফিরে যাওয়ার লড়াই। চলে শান্তির জন্য যুদ্ধ। শেষপর্যন্ত কি নাসিরউদ্দিন পেরেছিল সফল হতে? পেরেছিল কি অন্যায়ের বিনাশ করে নিজের দেশের মাটিতে ফিরে যেতে? না-কি স্বীকার হয়েছিল ঘৃণ্য প্রতিহিংসার? কি ঘটেছিল লাখো লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভাগ্যে? ইমাম সামিউল হাসান, মেজর শাফায়াতের গড়া নাসিরউদ্দিনের সেই ফ্রন্টলাইন কি পেরেছিল নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে টিকে থাকতে? #পাঠ_প্রতিক্রিয়া: লতিফুল ইসলাম শিবলী এর পড়া আমার প্রথম বই 'ফ্রন্টলাইন'। এর আগে লেখক সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই ছিলনা। বইমেলায় তার বইতে অটোগ্রাফ নেয়ার সময় তাকে দেখে ভয় পেয়ে গেছিলাম। বিশাল একজন মানুষ! কিন্তু তার থেকে বিশাল তার লেখনী। সাবলীল সাধারণ লেখা, কিন্তু পড়ার সময় একটা ঘোরলাগা কাজ করেছে। কিছু কিছু লাইন পড়ে অজান্তেই ল্যাক্রিমাল স্যাক উপচে জল আপনা আপনি টপটপ করে চোখের বাইরে বেরিয়ে গড়িয়ে আসতে চাচ্ছিল। সাধারণ একটা কাহিনিকে একদম ভিন্নধারায় হলুদ কাগজের কালো অক্ষরে সাজিয়ে এনেছেন যার প্রশংসা না করে পারা যাবেনা। লেখকের আজকে জন্মদিবস। আপনাকে জন্মদিবসের শুভেচ্ছা। আপনার লেখনীতে পাঠকদের আরো চমক দিয়ে যান আশা করি। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুক। বইয়ের প্রিয় কিছু উক্তি: ১) জীবনের জন্য রোদ অপরিহার্য হলেও কিছু গাছ রোদে বাঁচে না, তাদের বাঁচার জন্য ছায়ার প্রয়োজন। ২) নেতা হওয়ার প্রথম অযোগ্যতাই হচ্ছে নেতা হতে চাওয়া। ৩) মৃত্যুর ভেতরে যে সফলতা খোঁজে তাকে বড়জোর হত্যা করা যায়, শেষ করা যায় না। ৪) বল কখনোই খেলোয়াড় হতে পারবেনা, সেই চেষ্টাটাই ভুল।
আন্দামান সমুদ্রে নিজ হাতে মায়ের মৃত দেহ ফেলতে হয়েছিলো তাকে। নীল জলে কালো বোরকায় ঢাকা কাফনে মোড়ানো মায়ের সাথে সাথেই ডুবে গিয়েছিলো তার জাগতিক সব ভয় ও আকাঙ্ক্ষা। মানুষ যা হারায় তার অধিক পায়। সবার অজান্তেই তাকদির তাকে তুলে নিয়েছিলো তার জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য!
ফ্রন্টলাইন উপন্যাসটিতে লেখক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা, প্রতিবাদের ও প্রতিরোধের গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। গতকাল পড়া শেষ করার পর থেকেই ভাবতেছি যদি সত্যিই আমাদের দেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরকম সমাধান আসতো। যদি আমরাও প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালামের মতো একজন প্রেসিডেন্ট পেতাম। রোহিঙ্গারাও যদি পেতো ইমাম সামিউল হাসানের মতো আধ্যাত্মিক গুরু ও নাসিরউদ্দিনের মতো তেজোদৃপ্ত নেতা তাহলে ইতিহাসের গতিপথ অন্যরকম হতে পারতো। লতিফুল ইসলাম শিবলী'র আসমান উপন্যাসের ইমামের মতো ফ্রন্টলাইনের ইমাম সামিউল হাসান কে ও পাঠক অনেকদিন মনে রাখবে।
বইয়ের প্রিয় কিছু লাইনঃ "মানুষ যা হারায় তার চেয়ে অধিক ফিরে পায়!"
"আত্মশুদ্ধি না হলে জাতিশুদ্ধতা পায় না।"
"সে অবশ্যই নেতা নয় যে নেতা হতে হতে চায়।নেতা এমন এক ভারী দায়িত্ব, যার ওজন সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে কেউই নেতা হতে চাইবে না। নেতা হতে চাওয়া মানুষ সেই শিশুর মতো, যে জ্বলন্ত কয়লাকে খাবার মনে করে মুখে পুরতে চায়।নেতা হওয়ার প্রথম অযোগ্যতাই হচ্ছে নেতা হতে চাওয়া। পৃথিবীর নেতৃত্ব আজ নেতা হতে চাওয়া মানুষদের হাতে। তেমন মানুষেরা নেতৃত্বে থাকলে কী হয় তার প্রমাণ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।"
"পৃথিবীর দুটি চাদর আছে। একটি কালো একটি সাদা, কালো অন্ধকার সাদা কুয়াশা।দুটিইই ঢেকে রাখে পৃথিবীর ক্ষত।"
"গভীর বিশ্বাসী মানুষের প্রার্থনার শক্তি প্রবল! যা অন্যকে সহজেই স্পর্শ করে।"
"খুব বেশি সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়ালে খুশি হওয়ার বদলে মানুষের মন খারাপ হয়, কারন সে বুজতে পারে এই সৌন্দর্যের সামনে তার আর বেশিক্ষণ থাকা হবে না।"
হৃদয় বিদারক দৃশ্যপটের অবতারনা করে উপন্যাসটা শুরু। আগে থেকে জানা ছিলনা বইয়ের ভেতর কি আছে। প্রথম অধ্যায় পড়ে তাই ভেবেছিলাম বেশ উপভোগ্য হবে। কিন্তু আশা পূর্ণ হলো না। শুরু এবং সমাপ্তি ছাড়া বাকিটুকু খুব ম্যাড়মেড়ে লেগেছে।
দেশের ���ন্যতম বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে যে এভাবে এত সুন্দর একটা বই লিখে ফেলা যায়, তা লতিফুল ইসলাম শিবলি আবারও তার শক্তিশালী লেখনী দিয়ে প্রমাণ করলেন। রাখাইন-রোহিঙ্গা ইস্যুতে অসাধারণ একটা গল্প। যে গল্পে হাহাকার, হাসিকান্না, যুদ্ধ, গনহত্যা, কূটনীতি এবং সবশেষে একজন ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার জীবন কাহিনী উঠে এসেছে সাবলীলভাবে। একজন সচেতন নাগরিক, অনুভুতিশীল মানুষ হিসেবে আপনার জন্য এই বইটা মাস্টরিড!
এবছর অমর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত লতিফুল ইসলাম শিবলী ভাইয়ের নতুন বই ‘ফ্রন্টলাইন’। তার লেখায় মূলত জাতি, দেশ এবং মানুষের উপর জুলুম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা ফুটে ওঠে। ফ্রন্টলাইন, তেমনি কয়েক যুগ ধরে নিপীড়িত একটি জাতির মুক্তির গল্প নিয়ে তৈরি। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের চলমান মূল একটি সমস্যা রোহিঙ্গা ইস্যু। বইটিতে লেখক কাল্পনিক ভাবেই খুব সুন্দর করে শরনার্থী রোহিঙ্গা জাতির মুক্তি পথ দেখিয়েছেন।
মূল গল্প
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, উখিয়ার আদম ব্যবসায়ী মোক্তার মাঝির অনুসরনে প্রায় তিনশ যাত্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ছোট একটি মাছ ধরার ট্রলার। তারা বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করলেও মুনাউ দ্বীপের কাছাকাছি এসে মায়ানমারের নেভির কাছে ধরা পরে। শেষে এক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নেভি অফিসারের হাত থেকে বেঁচে যায় তারা।
মায়ানমার নেভির হাত থেকে রক্ষা পেলেও তারা বর্হিবিশ্বে একটি বার্তা ছড়িয়ে দেয় “বাংলাদেশ করোনা আক্রান্ত রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার জোড় করে ঠেলে দিয়েছে বার্মার জলসীমায়”। ঠিক এই খবরের পেয়েই সমুদ্র তীরবর্তী কোন দেশ তাদের ভিড়তে দেয় না।
গল্পের প্রধান চরিত্র নাসিরউদ্দিন ও তার মা ছিলেন নৌকার যাত্রী হিসেবে। কিন্তু অসুস্থার কারণে নৌকায় তার মায়ের মৃত্যু ঘটে।নৌকায় মায়ের জানাজা শেষ করেই নিজ হাতে মায়ের লাশ ছুড়ে ফেলতে হয় আন্দামানের নীল পানিতে। ঠিক সেদিন যেনো মায়ের সাথে সাথে নাসিরউদ্দিন নিজের ভয় ও জাগতিক দূর্বলতা ছুঁড়ে ফেলে। নাসিরউদ্দিনের পরবর্তী আশ্রয় হয় কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এখান থেকেই মূলত গল্পের শুরু।নিজ ভূখণ্ড থেকে নির্বাসিত হয়ে এই শরণার্থী ক্যাম্পে এসেও শান্তি নেই কারো। তাদেরই জাত ভাই নশু গ্যাং এর ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জুলুম, মানব পাচার সহ্য করে যেতে হয় নিত্যদিন।
এদিকে দশ নম্বর ক্যাম্পের ছাপড়া মসজিদের ইমাম সামিউলের সাথে বসে রোহিঙ্গাদের মুক্তির এক সদূর প্রসারি পরিকল্পনা আঁটছেন মেজর শাফায়েত। তার প্রথম কথাই ছিলো- উই নিড এ হিরো! ইমাম নিজের জাতির অপারগতা জানলেও মেজর শাফায়াতের সাথে একাত্মা প্রকাশ করে নাসিরউদ্দিনকে রোহিঙ্গাদের নেতা বানানোর কাজ শুরু করেন। প্রথম প্রতিরোধ হয় নশু বাহিনীর বিরুদ্ধে। ইমাম ও মেজরের কথা মতো নশু বাহিনীর দুই সদস্যকে সকলের সামনে কুপোকাত করা মাধ্যমে সকলের মনে নশু ভীতি কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে নাসিরউদ্দিন। এরপরই সকলকে নিয়ে গোটা নশু বাহিনীকে নির্মূল করার প্রয়াস শুরু করতে থাকে সে।আড়াল থেকে নাসিরউদ্দিনকে সাপোর্ট দিয়ে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর শাফায়াত।
ধীরে ধীরে নাসিরউদ্দিরকে সমীহা করতে শুরু করে সকলে। সকলে যেন নাসিরউদ্দিনের মাঝেই নিজেদের মুক্তির স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। মেজর ও ইমামের পরামর্শ ও পরিকল্পনায় নাসিরউদ্দিন নশু বাহিনীকে নিরর্মূল করতে ‘লাঠি বাশি সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে। নাসিরের এই অভিনব পন্থায় গোটা দল সহ কুপোকাত হয় নশু বাহিনী। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে নশু পালিয়ে যায়। নশু বাহিনী পরাস্থ হওয়ার পর খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে লাঠি বাঁশি সংগ্রাম কমিটির কার্যক্রম। এবং ঠিক এটাই চেয়েছিলো মেজর। এরপর শুরু হয় তাদের মূল লক্ষ্যের দিকে হাটা শুরু করে। একটা এনজিও এই কমিটির সকলের জন্য টি-শার্টের ব্যবস্থা করে যার পিছনে লেখা থাকে- ‘সাহসীদের জন্য এই পৃথিবী ধন্য’
মূলত মেজর শাফায়াত রোহিঙ্গাদের জন্য এতো কিছু করছেন এক মহান দায়িত্ববোধ থেকে। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম চান মুক্ত আরাকানের মাটিতে রোহিঙ্গারা ফিরে যাক এবং সেই মুক্ত ভূমিতে গিয়ে তিনি দু রাকাত শোকরানা সালাত আদায় করবেন।
লাঠি বাঁশি সংগ্রাম কমিটি থেকে বেছে বেছে সুস্থ দেড়শ যুবক নিয়ে নিঝুমদ্বীপের একটি চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সকলকে বলা হয় দ্বীপে সরকারি বনায়ন কর্মসূচির জন্য তাদের কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু ডি-৩ নামক এই দ্বীপে পৌঁছেই তারা নিজেদের এক নতুন জীবন পায়। মূলত এখানেই প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হবে রোহিঙ্গাদের মুক্তির যোদ্ধাদের। এখানেই তৈরি হতে থাকে ‘মুজাহেদ্বীন অব আরকান’ নামে রোহিঙ্গাদের মুক্তিকামী বাহিনী। তাদের মূলত নিজের দেশে ফিরে তাতমাডাও এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আরকানের মাটিকে মুক্ত করতেই এই প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। যুদ্ধের সকল নিয়মনীতি, অস্ত্রচালনা, গেরিলা আক্রমন, বাংকার তৈরি, ওয়াচ টাওয়ার বানানো ইত্যাদি কাজ শিখাতে থাকে মেজর শাফায়াত ও তার কিছু অধীনস্ত সৈন্যরা। একে একে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ট্রলারে করে আরো যুবকদের নিয়ে আসা হয়। তবে পরিবারদের জানানো হয় তারা বনায়ন কর্মসূচিতে কাজ করছে।
এভাবেই নিজেদের যোদ্ধারা তৈরি হয়ে গেলে নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বে তারা রওয়ানা দেয় নিজ ভূখন্ড আরকানের উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশের বর্ডার ক্রস করে তারা মংডু জেলার সীমান্ত ঘেষা অঞ্চলে ক্যাম্প করে। এবং তারা প্রথম সফল আক্রমণ চালায় প্বার্শবর্তী তাতমাডাও ক্যাম্পে। এভাবেই শুরু হয় তাদের মুক্তির পথচলা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্বার্থের কবলে পড়তে হয় তাদের। যারা তাদের দেশ থেকে শিকড় সমেত উৎখাত করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খুব বাজে ভাবে মুজাহেদ্বীন অব আরকান কে উত্থাপন করা হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত একটা জাতির মুক্তি কামী ছেলেদের সন্ত্রাসী সংগঠন নামে আখ্যা দেওয়া হয়।
গল্পের শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশকেও চাপ দেওয়া হলে ক্যাম্প থেকে ইমাম সামিউলকে গ্রেফতার করা হয় এবং নাসিরউদ্দিনকে ধরতে নিরুপায় হয়ে সীমান্তে সৈন্য সমেত অবস্থান নেয় মেজর শাফায়াত। তবে নাসিরউদ্দিন ও তার যোদ্ধারা নিশ্চিত পরাজয় জেনেও শেষ লড়াইটা তাতমাডাও এর বিরুদ্ধে চালাতে জাপিয়ে পরে…
পাঠ পর্যালোচনা
এর আগে আমি শিবলী ভাই এর বই আসমান পড়েছি। তার লেখায় একটা মেসেজ থাকে। যা সামগ্রিকভাবেই পরিবর্তনের মেসেজ। সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালনার মেসেজ। ফ্রন্টলাইন তেমনি একটি জাতির মুক্তির জন্য নিজেদের পরিবর্তনের বার্তায় রচিত। এক কথায় বইটা আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহীঙ্গারা গত কয়েক যুগ ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে একতা কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের কোন লক্ষন দেখা যায় নি। মূলত তারা কখনোই সংঘবদ্ধ হতে পারেনি। লেখক খুব সুন্দর ভাবেই একতাবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোহিঙ্গাদের মুক্তির জন্য এই একতা কি পরিমাণ প্রয়োজন তাও ফুটিয়ে তুলেছেন।
কাল্পনিক ভাবে লেখক রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ হওয়ার যে দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন তা সত্যি অসাধারণ। ঠিক বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গাদের লড়াই ব্যাতিত মুক্তির কোন পথ নেই। তবে তাদের এই জাগরণে অবশ্যই প্রয়োজন একটি নীতিবান রাষ্ট্রের সার্বিক সাহায্য। যে দিকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পের প্রেক্ষাপট, স্থান-কাল ও চরিত্র এতো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে বইটি পড়ার সময় মনে হয়েছে যেনো দৃশ্যপট গুলো আমার সামনে ঘটছে।
তবে বইটিতে কিছু জায়গায় খটকা লেগেছে। যেমন গল্পের শুরুতে, নাসিরউদ্দিন সহ যেই যাত্রীরা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলো তারা কিভাবে ফিরে আসলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে? কেননা লেখক উল্লেখ করেছেন সমুদ্র তীরবর্তী সকল দেশ তাদের নজরদারি বাড়িয়ে দিয়ে���ে কারণ এই ট্রলার করোনা আক্রান্ত রোহিঙ্গা বোজাই। কোন দেশই তাদের ভূমিতে এই ট্রলার ভিড়তে দিতে চায় না। তাহলে তারা আবার কিভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসলো এ ব্যাপারে তেমন কিছুই উল্লেখ করেননি তিনি। দ্বিতীয় আরেকটা খটকা লেগেছে, লাঠি বাঁশি সংগ্রাম কমিটির আক্রমনে যখন নশু বাহিনীর ২০ জন কুপোকাত হয় তখন তাদের মধ্যে ১৯ জন মারা গেলেও নশু পালিয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে দেখলে নশু ছিলো দলের প্রধান এবং সাধারণ জনগণের তার প্রতিই ক্ষোভ ছিলো বেশি। তো এতো মানুষের গণপিটুনির রোষানল থেকে কিভাবে পালিয়ে গেলো সে।
এই দুটো ব্যাপার বাদ দিলে পুরো বইটা ছিলো সয়ঃসম্পূর্ন ঘটনা নির্ভর। চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ইমাম সামিউল হাসানকে এবং তার সংঘবদ্ধ করার শক্তিকে। এবং সর্বশেষ বলতেই হয় লতিফুল ইসলাম শিবলীর অন্যান্য বইয়ের মতো ফ্রন্টলাইন একটা মাস্টারপিস।
বই সম্পর্কে:
• বইয়ের নাম: ফ্রন্টলাইন • প্রকাশক: নালন্দা প্রকাশনী • প্রচ্ছদ: ওয়াহিদ তুষার • মুদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা • প্রথম প্রকাশ: মার্চ ২০২১ • ISBN: 978-984-95475-3-2
বইয়ের নাম- ফ্রন্টলাইন লেখক- Latiful Islam Shibli প্রকাশক- নালন্দা মুদ্রিত মূল্য- ১৫৭৳
আন্দামান সাগরে দিনের পর দিন নিরুদ্দেশ ভেসে চলেছে একটি ট্রলার । ভাগ্যতাড়িত একদল রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে সেই ট্রলারে । আশা একটাই– নিষ্ঠুর এই পৃথিবীর কোনো কিনারা যদি তাদের একটু আশ্রয় দেয় । কিন্তু করোনার কালো থাবায় মৃতপ্রায় দুনিয়ার কেউই তাদেরকে আর আপন করতে চায় না । আমন্ত্রণ করে বিপদ ঘাড়ে তুলবে কে! মরনমুখী সেই যাত্রীরা জীবনের তোয়াক্কা না করে ঝাঁপিয়ে পরে সমুদ্রে, লক্ষ– তীরে পৌঁছুতে হবে যেকোনো মূল্যে । কিন্তু সীমান্তবাহিনীর গুলির মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হয় তারা । ঘটনাক্রমে ট্রলারে থাকা একটি কুকুর পানিতে পরে যায়, সাংবাদিকদের ক্যামেরায় সেই কুকুর চলে যায় বিশ্ববাসীর দরবারে । একটা অবলা প্রানী সমুদ্রে ডুবে মারা যাবে! মুহুর্তে গোটা পৃথিবীর কিবোর্ড যোদ্ধারা জেগে উঠে, তাদের তোপের মুখে অস্ট্রেলিয়ান বাহিনী উদ্ধার করতে বাধ্য হয় কুকুরটিকে । জগত এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হয়– নির্যাতিত একদল মানুষকে গুলি করে তাড়িয়ে তাদের চোখের সামনে উদ্ধার করা হয় একটি কুকুরছানা । সেই নৌকাতেই নাসিরউদ্দিনের মা মারা যায় । নিজ হাতে মায়ের লাশকে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেবার পর থেকে জগতের আর কিছু আকর্ষিত করে না তাকে । সবকিছু মেনে নিয়ে সে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে । কিন্তু শান্তি সেখানেও নেই! নশু বাহিনী চাঁদার জন্য জ্বালাতন করতে থাকে তাকে । বাকি সবাই বলে আপোস করে নিতে, কিন্তু যার কিছু হারাবার নেই সে আপোষ করবে কিসের স্বার্থে! নাসিরউদ্দিন রুখে দাঁড়ায় । পেছন থেকে তাকে সাহস দেয় ইমাম সামিউল হাসান আর মেজর শাফায়াত । নশু বাহিনী পরাস্ত হয় তাঁর কাছে, কিন্তু নাসিরউদ্দিন থেমে থাকে না । স্বদেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেরায় । মেজর শাফায়াত মশাল হাতে যেনো তাঁর এই স্বপ্নের দিশারি । নাসিরউদ্দিনসহ হাজার হাজার রোহিঙ্গা যুবক জেগে উঠে, স্বপ্ন সবার একটাই- নিজ দেশে নিজেদের অধিকার তারা আদায় করে নেবেই । যেকোনো মূল্যেই হোক, শত বছরের অত্যাচারের বদলা তারা নেবেই । শুরু হয় লড়াই, শুধুমাত্র ধর্মের কারনে নিজ বাসস্থান থেকে বিতারিত হওয়া একদল মানুষের অত্যাচারের শেকল ভাঙার লড়াই । কিন্তু সে লড়াই এর ফলাফল কী? তারা কি আদৌ পারবে মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে? ইমাম সাহেব, নাসিরউদ্দিন আর মেজর শাফায়াতের গড়া সেই সৈন্যবাহিনী কি পেরেছিলো নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আব্দুস সালাম সাহেব কি পেরেছিলেন তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরন করতে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া- লতিফুল ইসলাম শিবলী নামটির সাথে প্রথম পরিচিত হই (সম্ভবত) ২০১৮ সালের দিকে । তাঁর লেখা দখল পাঠ করে মুগ্ধ হয়েছিলাম সেবার । সেই মুগ্ধতা দখল, দারবিশ, নূর, আসমান আর ফ্রন্টলাইন হয়ে এখনও চলমান । অনেকেই আসমানকে তাঁর সেরা রচনা বলে মানলেও আমার ধারনা তিনি দখল'এ দারুণ ছিলেন আরও । ফ্রন্টলাইন নিয়ে আমার মতামত মোটামুটি মিশ্র । ভালোর মধ্য প্রথমেই বলতে হবে- ভদ্রলোকের সাহস আছে বটে । বাংলাদেশের এই প্রেক্ষাপটে এমন বিষয়বস্ত নিয়ে লিখতে গেলে যে কেউ অন্তত দশবার ভাববে । এরপর সেই লেখা প্রকাশক/প্রেস হয়ে পাঠকদের হাতে পর্যন্ত আসা তো বিরাট ব্যাপার । তিনি বরাবরই এ ক্ষেত্রে দারুণ সাহসী । এ ছাড়াও দারুণ দারুণ কিছু লাইন ছিলো বইতে যেগুলো সত্যিই গভীরভাবে ভাবাবে পাঠককে । মন্দ অথবা মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে বলতে গেলে শুরুতেই বলবো এর আয়তনের কথা । আমার ধারনা অনায়েসে আরও ৩০-৪০পৃষ্ঠা বড় করা যেতো বইটিকে । অন্তত যুদ্ধের প্রস্ততি নিয়ে এত তাড়াতাড়ি যুদ্ধে নেমে পরবে ভাবিনি আমি । এদিকটায় বড্ড তাড়াহুড়ো মনে হয়েছে । এছাড়াও মাঝেমধ্যে কিছু টাইপিং মিস্টেক চোখে পরেছে যেগুলো পরবর্তী সংস্করনে ঠিক হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস । সবমিলিয়ে ফ্রন্টলাইন একটি বাস্তবনির্ভর অসাধারন ও সাহসী লেখা, যেই গল্প লেখার জন্য লতিফুল ইসলাম শিবলী বেঁচে থাকবেন হাজার বছর ।
- Informative. Before reading this book I had almost zero understanding of the Rohingya situation, their history, their past & current struggles. This book gave me insights without going into too much boring details
- Interesting set-up & Promising Plot. The story starts with a troller full of illegally escaping Rohingyas who are being shooed off by every land they try encounter because they're infected with Corona Virus. Then the plot moves on to a Rohingya camp in Teknaf, delves into internal struggles amongst themsleves.
- Too much rushed and not enough depth. Well, this has become a norm for this writer. It feels like the book is written for newbie readers and not enough nuanced for more experienced readers. I do know that the writer has really good storytelling ability, but maybe he *intentionally* avoids that and keeps it basic so that a wider audience can read it? Doesn't make sense.
- Monotonous parts and too much direct quoting of religious text inside conversations. I have absolutely no problem with reading Hadith or Ayat inside a fiction but sometimes this writer overdoes it, making it feel forced and artificial.
- Uneven pace. First half is slow and steady (in a good way), engages with the characters and delves into their minds. Second half is too rushed and void of emotion, no character POV, only the writer's bird-eye overview. Like reading news headlines.
If the author took a bit of time and expanded on the plot in the second half, it would have been a wonderful read (like his iconic work Asman, which is one of my favorite Bengali fictions). In that case the ending would have jarred me even more and left a mark in my memory.
শিবলি ভাইয়ের সব বই আমার পড়া (নূর বাদে) কেনো জানি আমার কাছে উনার আগের লেখা বেশি ভালো লাগত। উনি আসমান থেকে উনার লেখার ধরন পাল্টে গেছে। সব বইয়ে এখন একটা ধর্মশিক্ষার ভাইব থেকে যেমন কোরানের আয়াত, হাদিস, এই বইটাও তেমনি। রোহিঙ্গাদের মনে ইচ্ছা নিয়ে ভালো একটা লেখা ছিলো কিন্তু মন হয়েছে ধর্মশিক্ষার কথাই বেশি ছিলো। কাহিনী গভীরতা খুব একটা ছিলো না মানে আমার কাছে লাগে নাই। শেষ দিকে বাংলাদেশের এইদিকের জিও পলিটিক্স এর একটা ধারনা দিয়েছেন এইটা ভালো ছিলো।
এতো সুন্দর একটা বইয়ের রিভিউ রেটিং এত্তো কম? কিভাবে সম্ভব? শিবলী ভাইয়ের লেখায় একদম নগ্ন সত্য সামনে চলে আসে,যা আমরা জানি তবু মানতে চাই না।নির্দ্বিধায় লিখে য���ন এসব তিনি।এতো সাহসী এক মানুষকে হাজার সালাম। তথাকথিত সাহিত্যের বিচারে হয়তো বা বইটা তেমন কিছুই না,কিন্তু ফিকশনের আড়ালে এমন কিছু রূঢ় বাস্তবতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে আপনি জানেন কিন্তু বলার সাহস কোনো লেখক এভাবে দেখায় নি। এটা ঠিক সাহিত্য বা ইসলামিক বই না বরং "ফিকশন বেইজড অন ফ্যাক্ট"।
বেশ ভালো লেগেছে পড়ে। পড়ার সময় ভাবছিলাম ইশ! যদি সত্যি আমাদের দেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরকম একটা সমাধান আসতো। যদি ব্যবসায়িক মনেভাবের চাইতে মানবিক বিবেচনা বেশি কাজ করতো পৃথিবীটাই পাল্টে যেতো।
শিবলী ভাইয়ের লেখার ধরণ আমার খুব পছন্দের। দোয়া রইলো আমরা যেনো এমন লেখা আরো পাই।
An interesting read. The author tries his best to please the masses with verses from The Holy Quran despite being a band musician. It’s become his writing style. The writing feels off sometimes. Asman was far better than this.
আজ লাইলাতুল কদর এর প্রথম প্রহরে বইটা পড়ে শেষ করলাম; শিবলী বর্তমান জামানার প্রিয় একজন লেখক, লেখায় যিনি মানুষকে খোদার নিকটবর্তী নিয়ে আসেন। অন্তরে জাগ্রত করান মরিচাবিহীন হৃদয় এবং যুবসমাজকে আল্লাহভীরু করে তুলেন। বইয়ের শেষটা অন্যরকম হয়তো হতে পারতো কিন্তু লেখককে ধন্যবাদ তিক্ত বাস্তবতার সংমিশ্রণে সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। কারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট আমাদের দেশের জন্য হুমকি হলেও প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের রয়েছে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ। যার ফলে কেউই চাই না রোহিঙ্গারা তাদের নিজ আবাসভূমি'তে ফিরে যাক। যাইহোক বর্তমান ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস উপন্যাসের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালামের মতো রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এবং তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস আমাদের বর্তমান প্রজন্ম জেন জি'র লিডার, মাই লিডার! তাকে নিয়ে লেখা শেষ হবে না🤍