সেক্রেড মাউন্টেন রেস্টুরেন্টে ঘটে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। আক্রমণকারীরা সবাই বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা করা উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত তরুণ। একই সময়ে ফেনীর বর্ডার দিয়ে চোরাই পথে ঢুকতে থাকে কোটি কোটি টাকার মালামাল, যেগুলো আটকাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে বসেন বিজিবির এক সাধারণ সুবেদার। এদিকে কিছু দুষ্কৃতিকারী পরিকল্পনা করছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুন করে পরিস্থিতি উত্তাল করতে। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে প্রতিবেশী দেশের কিছু নাগরিককে দেখা যাচ্ছে ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করতে। এসব ডামাডোলে কলকাতা অধিবাসী আদিত্যনারায়ণ, একটা ধর্মীয় সংগঠন চালানো চিন্ময় ব্রহ্মচারী কিংবা মফস্বল থেকে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে দিশেহারা হয়ে পড়া তুহিনের কী যোগাযোগ? আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হওয়া ঘটনাগুলো কি সত্যিই বিচ্ছিন্ন? নাকি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে রচিত কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ? “ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা” একটি যাপিত-জীবনের গল্প। স্বপ্ন আর বাস্তবের দ্বন্দ্বের গল্প। বদলে যাওয়া সময়ের গল্প। ধ্বংসকামী শক্তির সাথে শুভ শক্তির লড়াইয়ের গল্প।
রাজনীতি, গুপ্তসংঘ আর কন্সপিরেসি থিওরিকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের মূল প্লট। কিন্তু বইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাওয়া কাহিনী। নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হলের বাসিন্দাদের জীবন, নানাবিধ অসঙ্গতি, আন্দোলন আর অবিচারের খুঁটিনাটি চিত্র। যার অনেকটুকু হয়তো কানাঘুষোর মাধ্যমে আমাদের কানে আসে; বিশ্বাস করতে গিয়ে অবাক হই বলে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না কখনোই। দৃশ্যমান হয়েছে ডাকসু নির্বাচন অথবা কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অরাজকতার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। বইটাকে দুই ভাগে ভাগ করা হলে, শুরুর ভাগে বর্ণণার আধিক্য, আর শেষভাগে গতিময় যাত্রা। তবে থ্রিলার উপন্যাস হিসেবে টানটান উত্তেজনায় ভাটা পড়েনি কখনোই।
সংলাপ নির্মানে দুর্বলতা আছে, সূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে গেলে কিছু কিছু জায়গায় অসঙ্গতিও চোখে পড়ে। তবে পুরো বইটা যে কাঠামোর ওপর দাঁড়ানো অথবা লেখকের বর্ণণাভঙ্গির যে দুর্দান্ত শক্তি, তাতে করে "ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা" কে নির্দ্বিধায় চমৎকার একটি মৌলিক রচনা হিসেবে ধরে নেয়া যায়।
অসংখ্য বইয়ের ভিড়ে এই বইটা বেশ আন্ডাররেটেড, মানতে কষ্ট হচ্ছে।
বই এর নামঃ ||ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা|| লেখক: Faiyaz Ifti ঘরানা: কন্সপিরেসি থ্রিলার প্রকাশনী: ভূমি প্রকাশ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪ মূল্য: ৩৪০/-
কাহিনীসংক্ষেপঃ মফস্বল থেকে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়তে আাসা সাধারন এক সাধারন শিক্ষার্থী স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানকে ঠিক মিলাতে পারে না। হলের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম, গেস্টরুমের স্টিমরোলার, নিজের দূর্বল অবস্থা সব মিলিয়ে দ্রুতই বদলাতে থাকে তুহিন। নিজেকেই নিহের সাথে মিলাতে পারে না নিজেই। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হলে ফিরতে গিয়ে খুন এর সাক্ষী হয়ে যায় ও। নেশার ঘোর হিসেবেই পাত্তা না দিলেও কিছু খটকা রয়ে যায় মনে।তা বেড়ে যায় যখন শুভ ভাইয়ের লাশ পাওয়া যায় আর ওরও ওইদিনের স্মৃতি গুলো স্পষ্টতর হয়। ডিপার্টমেন্ট এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সূর্য কে নিয়ে সত্য অন্বেষণ এর চেষ্টা চালায় ও। ওদিকে শুভ ভাইয়ের হলের বড় ভাইও ওর খুনের পেছনের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা শুরু করে।
ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে মিথ্যা অপবাদে এক সৎ সুবেদার কে চাকরিচ্যুত করা হয় চোরাচালান এর কাজে বাধা দেয়ায়। কি ছিল ঐ চালানে? প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কিছু নাগরিক কেন ছদ্মবেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে? তাদের উদ্দেশ্য টাই বা কি? আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো কি বিচ্ছিন্ন? যদি না হয় তাহলে কি ধ্বংসের দামামা বেজে উঠবে না?
“ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা” একটি যাপিত-জীবনের গল্প। স্বপ্ন আর বাস্তবের দ্বন্দ্বের গল্প। বদলে যাওয়া সময়ের গল্প। ধ্বংসকামী শক্তির সাথে শুভ শক্তির লড়াইয়ের গল্প।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ থ্রিলার প্রেমী হিসেবে যে সমস্যাটা হয় কোনো বইয়ের প্রধান টুইস্ট এর সবগুলোই ধরে ফেললে বইটা যতটা মজা লাগার কথা তা লাগে না।এই বইটি আমার কাছে ভালো লেগেছে এ কারণে যে আমি মেইন টুইস্ট এর বেশ কটাই ধরতে পারিনি, এতটাই আকস্মিক ছিলো। আর তার সাথে প্লাস পয়েন্ট হিসাবে আছে কাহিনীর প্রেক্ষাপট।পুরো গল্পটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রেক্ষাপটে রচিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, এখানকার ছাত্র শিক্ষক, ছাত্র রাজনীতি, হলের জীবন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা যেমন কোটা আন্দোলন, ডাকসু নির্বাচন ইত্যাদি খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তমনস্কদের জন্য লিখা এই বইটি যদিও লেখকের কল্পনাপ্রসূত তাও কিছু তিক্ত সত্য লেখক আমাদের জন্য মশালের মত তুলে ধরেছেন। আশা করি সবারই ভালো লাগবে বইটি।
পরিশেষে আরেকটু কথা না বললেই নয়। লেখক আমার ডিপার্টমেন্ট এরই বন্ধু। বইয়ের সব চরিত্রের মধ্যে ডিপার্টমেন্ট এর পরিচিত জনদের ছায়া দেখে খুব ভালো লেগেছে।এটা একেবারেই অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা,মনে হয় না আর কখনো এমনটা হবে । পুরো বইটা পড়ার সময় শুধু তুলনাই করে গেছি,আচ্ছা সূর্য কি মুন্না? তুহিন কি ইফতি? গাইবান্ধার ছেলেটা আল আমিন, তরী কি পুরোটাই কল্পনা না সত্যি আছে😂? আর টিএসসির ঘটনার সত্যতা কতটুকু?
মেলায় হুট করেই কিনে ফেলেছিলাম বইটা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি জীবন নিয়ে চমৎকার বর্ণনা সাথে গুপ্তসংঘ। লেখকের প্রথম বই হিসেবে খুবই প্রশংসাযোগ্য। আশা করি লেখক বহুদূর যাবে।
উমম... মোটামুটি লাগছে বলা যায়। কোর প্লটটা ক্লিশে হলেও প্লটের ডিটেইলিং ইউনিক বলা যায়, আর ধ্বংসতত্ত্বের থিওরীটাও ভালো লেগেছে। ভালো লাগেনি যা তা হলো, ক্যারেক্টারাইজেশন আর লিখনশৈলী। মূল চরিত্র তুহিনের মাস ৩-৪ এর মাঝে যে পরিবর্তন দেখানো হইছে এইটা আমার রিয়েলিস্টিক মনে হয় নাই। একটা মফস্বলের ছেলের ঢাকায় পাতি নেতা হইতে এত কম সময়ও লাগে না। রিয়েলিস্টিক মনে হয় নাই তুহিনের প্রতি তরীর আচরণ। ওদিকে সূর্য কিংবা আবদুল্লাহ কোন ক্যারেক্টারেরই ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরী নাই বললেই চলে যেইটা আমার কাছে খানিকটা দূর্বল বলে মনে হইছে। ওদিকে লেখক অজস্র চ্যাপ্টার দিয়ে বই ভরিয়েছেন এবং বেশিরভাগ চ্যাপ্টারই একদম ছোট, যা কিনা কোন একটা দৃশ্যে পাঠকের ঢোকার আগেই বের করে নিয়ে আসে (৩-৪ লাইনের চ্যাপ্টারও আছে)। আরেকটা বিরক্তিকর দিক হচ্ছে লেখার মাঝে প্রচুর ইটালিক ফন্ট ব্যবহার করা। ইটালিক ফন্ট বা বাকা করে কোন শব্দকে লিখা হয় তখন যখন শব্দটা আলাদা/স্পেশাল কোন অর্থ বহন করে। এখন 'ভুগি-চুগি'কেও যদি ইটালিক করে লিখতে হয়ে পাঠকের বোঝার সুবিধায়, তাহলে আমি বলবো আমি অনেক অ্যাডভান্সড পাঠক যার এই জিনিস দরকার নেই। 'ভুগি-চুগি' শব্দটা আমি অনেক আগে থেকেই জানি।
সবমিলিয়ে লেখকের লেখার যোগ্যতা থাকলেও 'ভালো লেখক' বলতে হলে লেখায় যে ডেপথ থাকতে হয়, তা পাই নাই। লেখকের লিখনশৈলীর উন্নতি করতে হলে বেশ খানিকটা চেষ্টা করতে হবে বলে মনে হয়।
প্রচন্ড বিরক্তিকর বই। থ্রিলার হয়ে উঠেনি কোনোভাবেই। প্রতি তিন-চার লাইন অন্তর অন্তর সিগারেট টানার বর্ণনা। আর একটু পরপর মদ গাজা তো আছেই। চরিত্রগুলা খাচ্ছে বুঝলাম তাই বলে এত বারবার এসবের বর্ণনা! ২২০ পৃষ্ঠার বই অথচ ১০০ পৃষ্ঠার কাহিনী ও নেই। দারুণ সব হাবিজাবি ঘটনা দিয়ে ঠাসা। থ্রিলার না হয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে কী কী হয় সেব্যাপারে নন-ফিকশন হতে পারতো। সেটাও হয়ে উঠতে পারলোনা শুধু ক্যাম্পাসের বাজে দিকটাই ফোকাস পেয়েছে বলে। শুধু মদ, গাজা আর সিগারেট!..
গল্পটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক হওয়ায় আমার পড়তে বেশ ভালো লেগেছে। যেন সব জায়গা নিজেকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। গল্পটার প্রথম অর্ধেক বিল্ডিংয়ে লেখক একটু বেশি বর্ণনার আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক বিস্তৃত জাল বিছিয়েছেন। পরের অর্ধেক বেশ দ্রুত এগিয়েছে এবং ভালো রকমের ধাক্কা খেয়ে খেয়েই অনেকটা তুহিনের মতোই এগিয়েছি। গল্পের প্লট বেশ দারুণ লেগেছে। ক্যাম্পাসে ছিলাম হিসেবে বুঝতে পারি গল্পের-আনুষাঙ্গিক-গল্পের সত্যতা কতো বেশি। ক্যাম্পাসের বাইরের একজন মানুষও ঢাবির কালো দিকটা দেখতে পারবেন এই বই পড়ে। ও হ্যা, লেখার মাঝে মাঝে যে কবিতাগুলো আছে, সেগুলো আমার প্রচুর ভালো লেগেছে।
লেখকের সংলাপ তৈরীতে একটু দুর্বলতা আছে। প্রথম বই হিসেবে সেটা সম্ভবত এড়িয়ে যাওয়ার মতোই একটা ভুল। সংলাপের আড়ষ্টতা কাহিনীতে তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি বলেই আমার মনে হয়।
বইটি পড়া উচিত, বিশেষ করে মফস্বলের সরলমনা শিক্ষার্থীদের। মহানগরীর হালচাল আর বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় নামক অসুস্থ কারখানার রোজকেরে জীবনযাত্রাকে বোঝার জন্য! ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র সংগঠনের প্রকৃত ধাঁচ যেখানে একদা নীতি আদর্শ ছিল, যার কংকাল হয়ত অবশিষ্ট আনাচে কানাচে কোথাও! ছাত্র নেতাদের প্রটোকল কি, গেস্টরুম আপ্যায়ন, ক্ষমতার হাজারো যোগ বিয়োগ এবং এর সাথে ধেয়ে আসা প্লাবনের মতন হরেক মন্দের হাতছানি। কত হাজারো তারুণ্যের শক্তি, বুদ্ধিমত্তার অকালমৃত্যু! কখনো কখনো ভাবি কী ভীষণ তেজী একসময়কার ছাত্রনেতারা ছিলেন, যাদের মুক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল সোচ্চার বলীয়ান কন্ঠস্বর, অথচ আজ কী নিদারুণ অবক্ষয়! কেন, আর ঠিক কখন এমনটা হলো?
লেখার পটভূমিতে লেখকের একসময়কার বিচরণ হয়ত কাহিনীর ধাঁরটা বজায় রাখার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। অবশ্য অন্যন্য মাত্রা যোগ করে কোটা আন্দোলনের হালকা ছোঁয়া আর প্রতিবেশী দেশের তৎপরতার দৃশ্য। আর ইন্টারেস্টিং ছিল গুপ্তসংগঠনের মায়াজাল! প্রশ্ন তুলে আদর্শ কি? হিপোক্রেসি সত্য নাকি মানুষের নৈতিকতার মানদন্ড!
এই মহানগরীর মরীচিকাময় রুপ, কত শত জটিল সব পথ নিয়ে অপেক্ষমান, সুখের আশায় যে যা খুঁজে তাই পায়। তবে স্বস্তি শুধুমাত্র সেই শৈশব-কৈশোরের বন্ধুময় বাড়ির ঠিকানাতেই!
বই এর নামঃ ||ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা|| লেখক: Faiyaz Ifti ঘরানা: কন্সপিরেসি থ্রিলার প্রকাশনী: ভূমি প্রকাশ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪ মূল্য: ৩৪০/-
শুরুতে দুটো ভিন্ন ঘটনা একটা পর্যয়ে গিয়ে মিলিত হয়। হতাশা, আশা, উত্তেজনা, উৎকন্ঠা, আত্মতৃপ্তি প্রায় সকল স্বাদই দিয়েছে বইটি। থ্রিলার বই কম পড়েছি, তবে এটা আমার কাছে বেস্ট। সামনে আরো ভালো ভালো লেখা আশা করছি আপনার কাছ থেকে। ধন্যবাদ লেখক ফাইয়াজ ইফতি।
#রিভিউ ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা ফাইয়াজ ইফতি
বইয়ের রিভিউ এখন তেমন একটা লেখা হয় না। এর কারণ হতে পারে, তেমন কোনো ভালো বই আমার পড়া হয় না ইদানিং, কিংবা যেগুলো পড়ি সেগুলো নিয়ে রিভিউ লেখার ইচ্ছা হয় না নানাবিধ কারণে। ফাইয়াজ ইফতির এই বইটি ব্যতিক্রম। কাহিনি সংক্ষেপ: সেক্রেড মাউন্টেন রেস্টুরেন্টে ঘটে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। আক্রমণকারীরা সবাই বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা করা উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত তরুণ। একই সময়ে ফেনীর বর্ডার দিয়ে চোরাই পথে ঢুকতে থাকে কোটি কোটি টাকার মালামাল, যেগুলো আটকাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে বসেন বিজিবির এক সাধারণ সুবেদার। এদিকে কিছু দুষ্কৃতিকারী পরিকল্পনা করছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুন করে পরিস্থিতি উত্তাল করতে। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে প্রতিবেশী দেশের কিছু নাগরিককে দেখা যাচ্ছে ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করতে। এসব ডামাডোলে কলকাতা অধিবাসী আদিত্যনারায়ণ, একটা ধর্মীয় সংগঠন চালানো চিন্ময় ব্রহ্মচারী কিংবা মফস্বল থেকে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে দিশেহারা হয়ে পড়া তুহিনের কী যোগাযোগ? আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হওয়া ঘটনাগুলো কি সত্যিই বিচ্ছিন্ন? নাকি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে রচিত কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ? “ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা” একটি যাপিত-জীবনের গল্প। স্বপ্ন আর বাস্তবের দ্বন্দ্বের গল্প। বদলে যাওয়া সময়ের গল্প। ধ্বংসকামী শক্তির সাথে শুভ শক্তির লড়াইয়ের গল্প। মতামত: বইয়ের মূল উপজীব্য চিরাচরিত কনস্পিরেসি থিয়োরি হলেও চিত্রায়নে ছিল নতুনত্ব। লেখক বেশ হালকা ভঙ্গিতে গুরুগম্ভীর অনেক বিষয়ের উপস্থাপন করেছেন, আমার কাছে মনে হয়েছে যা আরেকটু ডার্ক হলে ভালো লাগত। বর্ণনার আধিক্য থাকলেও তা বিরক্তির উদ্রেক করেনি। বইটিতে বর্ণিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি- রেওয়াজের সাথে জানাশোনা থাকায় রিলেট করতে পেরেছি সহজে। লেখক ফাইয়াজ ইফতির প্রথম বই এটি; লেখার ধরণ পরিণত না হলেও চমকপ্রদ। ভাষার ব্যবহার প্রাঞ্জল, হিউমারের প্রয়োগ ছিল বুদ্ধিদীপ্ত। আমার মতে, সে লেখাটাই মনে দাগ কাটতে পারে যেখানে লেখকের মননের প্রতিফলন ঘটে। লেখক তাঁর ব্যক্তি জীবনের নানা প্রেক্ষাপট থেকে এই গল্পের অনুষঙ্গ পেয়েছেন বলেই হয়ত বইটা আমার বেশি ভালো লেগেছে; নামকরণেও বেশ মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বইটা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা আমার চোখে পড়েনি। তবে সমকালীন অনেক প্রথিতযশা লেখকের সাথে পাল্লা দিয়েছেন নিঃসন্দেহে, ক্ষেত্রবিশেষে ছাড়িয়ে গেছেন বলে আমার মনে হয়। প্রোডাকশন দারুণ, প্রচ্ছদ আরো ভালো হতে পারত।
পার্সোনাল রেটিং: ★★★★☆
এক নজরে, ধ্বংসতত্ত্ব অথবা ইসরাফিলের শিঙা ফাইয়াজ ইফতি প্রকাশক: ভূমি প্রকাশ প্রকাশকাল: মার্চ, ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪ মুদ্রিত মূল্য: ৩৪০ টাকা মাত্র
নতুন লেখক বয়স অল্প তাই লেখাতে সেটার ছাপ আছে। বইটার কাহিনী ছিলো ভালো কিন্তু মাঝে দিয়ে অতিরিক্ত টানা হয়েছে। তুহিনের গ্রামের বাড়ির বর্বণা ওইখানে গিয়ে কি করেছে এইগুল আমার আছে অতিরিক্ত লেগেছে। সাথে বার বার হলে কিছু কাহিনী মাঝে দিয়ে একটু বিরক্ত লেগেছে কারন এইগুলা জন্য লেখক মাঝে মাঝে মূল কাহিনী থেকে সরে যাচ্ছিলো। শুভ কামনা সামনে আরো ভালো হবে সেই আশাতে।