বই এর নাম কেন “সৃজিত মুখার্জীরনাম কী” তা বই না পড়লে বােঝা মুশকিল। তবুও খানিক বােঝাতে এই অংশ
এসআই রাকিব ডাক্তার অনির্বাণ কে জিজ্ঞেস করলেন- আপনি কি কিছু খুজে পেলেন? - আমি তেমন কিছু পাইনি। তবে যা পেয়েছি তা ল্যাবে পাঠিয়ে পরিক্ষা। করে বলতে হবে। তাছাড়া, লাশের শরীরে অনেক বেশি পারফিউম মারা। এজন্য ডগ স্কোয়াড কোন কিছু খুযে বের করতে পারেনি। বাকিটা ময়নাতদন্ত করার পর বলা যাবে। - খুব দ্রুত জানাবেন আশা করি। বুঝতেই পারছেন, লাশের সাথে রাজনৈতিক ব্যাপার জড়িত। -হ্যা, অবশ্যই। ওহ হ্যা, লাশের। কপালে পেরেক দিয়ে একটা কাগজ। গাথা আছে। তাতে একটা লেখা দেখলাম। - কি লেখা? অনেকটা উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন এসআই রাকিব।। ডাক্তার অনির্বাণ মৃদু কণ্ঠে বললেন ‘সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী?'
বই : সৃজিত মূখার্জী-র নাম কী? লেখক : আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকাশনী : শিখাপ্রকাশ পৃষ্ঠা : ১৫৮ মুদ্রিত মূল্য : ২৯৫ টাকা ব্যক্তিগত রেটিং : ১/৫
কাহিনী সংক্ষেপ --------------------------------- নিতান্ত প্রেম করার উদ্দেশ্যে কাশবনে ঢুকে একটা লাশ আবিষ্কার করে ফেলে এক যুগল। লাশটার হাল এতটাই বীভৎস যে ছেলেটা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান হারাবার আগ মুহূর্তে সে যা দেখে তার বিবরণ দেওয়া কিছুটা কঠিন। একটা মানুষ তার ডান হাত কাটা, শরীর থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছে ; চরিদিকে মাছি ভোঁ ভোঁ করছে। আর মানুষটার কপালে ছয় ইঞ্চির পেরেক দিয়ে একটা কাগজ সেঁটে দেওয়া আছে। রক্তে ভেজা কাগজটাতে একটা নাম লেখা - 'সৃজীত মূখার্জী' ।
বউয়ের হাতে বানানো 'বউটুপি' পরে রাস্তায় ঘুরঘুর করে সুকুমার । তিনি একজন ডিটেকটিভ। এখন অবধি কোনো কেস হারেননি। স্বভাবতই 'সৃজিত মুখার্জী ' কেসের কিনারা করতে না পেরে পুলিশ তার শরণাপন্ন হল। সুকুমার কি পারবে এই কেসের সমাধান করতে? নাকি জীবনের প্রথম হার হতে যাচ্ছে তার?
পাঠ পর্যালোচনা ---------------------------- ● প্লট শুরুতে সাইকো থ্রিলার মনে হচ্ছিল। ধীরে ধীরে ব্যাপারটা সিরিয়াল কিলিং এর দিকে এগোলেও বড্ড অগোছালো লেগেছে আমার কাছে প্লটটা। কারণটা একে একে নিচে বলার চেষ্টা করছি।
● চরিত্রায়ন এই পয়েন্টে এসে আমি প্রচুর আপসেট হয়েছি। চরিত্রায়ন খুবই দুর্বল। এতটাই দুর্বল যা পাঠক হিসেবে আমার কাছে বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। গল্পের মূল প্রোটাগনিস্ট সুকুমার সাহেবের চরিত্রায়ন ই ডেভেলপড্ নয়। বিশেষত তার সংলাপ গুলো ছিল নিতান্ত হাস্যকর। চরিত্রের গভীরতাও নেই। বিশেষত তাকে 'সুকুমার সাহেব' বলা চলবে না, 'ডিটেকটিভ সুকুমার সাহেব' বলতে হবে একরকম জোর করেই - এরকম অসংখ্য দৃষ্টিকটু ব্যাপার চোখে পড়েছে। কেউ তাকে ডিটেকটিভ না বললে চটে যান তিনি। এছাড়া গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র এই ডিটেকটিভ সুকুমার সাহেব - সে কিনা কথায় কথায় সস্তা রসিকতা করে। এই ব্যাপারটা হয়তো একেকজন একেক দৃষ্টিভঙ্গিতে নেবে। তবে আমার একদমই ভালো লাগেনি। এতে মূল প্রোটাগনিস্ট হিসেবে তার চরিত্রায়নের গভীরতাটা আর থাকে না। বইয়ের অন্যান্য চরিত্রের ডেভেলপমেন্টও খুব বেশি আশাব্যঞ্জক লাগেনি আমার কাছে।
● ভাষাশৈলী ও স্টোরিটেলিং আরেকটা হতাশার পয়েন্ট। ভাষাশৈলী মোটেই আগ্রহোদ্দীপক লাগেনি আমার কাছে। আর স্টোরিটেলিং লিনিয়ার স্ট্রাকচার হলেও ইন্টারেস্টিং নয়। গল্প গতিশীল ছিল না। এছাড়া গল্পের ফ্লো ও ঠিকঠাক ছিল না।
● বর্ণনাভঙ্গি বইয়ের বেশিরভাগ সময়জুড়ে লেখক চেষ্টা করেছেন একটা ডার্ক সারাউন্ডিং তৈরি করার। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি ডার্ক আবহ তো আসেইনি উল্টো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা রসিকতা ধাচের হয়ে গিয়েছে। শুরুতে দেখা যায় একজন ভিক্টিমকে বিছানায় বেঁধে রাখা হয়েছে। চারিদিকের দেয়ালে রক্ত বৃষ্টির মত টপটপ শব্দ করে নিচে পড়ছে (রক্তের হেপারিন ভেঙে রক্ত জমাট বেঁধে যাবার কথা যদিও)। রুমের মাঝখানে একটা বেডে ভিক্টিমকে আটকে রাখা হয়েছে। তার মাথার ওপর ঝুলছে আস্ত একটা বোয়াল মাছ। জি ভুল বলিনি ; সত্যি ই বোয়াল মাছ ঝুলছে। ব্লুটুথ সাউন্ড বক্সে বাজতে শুরু করে 'ইয়া হাবিবি' নামক একটি হিন্দি গান। এন্টাগনিস্ট ভিক্টিমের হাত, পা টুকরো টুকরো করে ইয়া হাবিবির তালে তালে (জি এখানেও ঠিক ই পড়েছেন - গানের তালে তালে ই বটে)। তারপর একটা চ্যাপ্টারে দেখা যায় প্রেমিক প্রেমিকা গহীন কাশবনে যায় প্রেম করার উদ্দেশ্যে । প্রেমিক তার প্রেমিকার উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দেয় তার শরীর থেকে 'প্রাকৃতিক পানি' বের করে দেওয়ার জন্য। জি এখানেও ঠিক ই পড়েছেন। 'প্রাকৃতিক পানি' ই বটে। আর এটা আমার কথা নয়। বইয়ের বর্ণনাতেই আছে এই পানির উৎস ।
● পরিণতি পরিণতি তে এসে একইসাথে কিছুটা কিছুটা আশা ও হতাশা উভয়ের সঞ্চার হয়েছে আমার। আগে খারাপ খবরটা দিচ্ছি। লেখক এই বইতে কোনোকিছুই ক্লিয়ার করেননি। দ্বিতীয় খুনের পেছনে যে মোটিভটা তিনি উল্লেখ করেছেন সেটা রীতিমত হাস্যকর। এখানেও সেই আগের ডার্ক আবহ আনতে গিয়ে পুরো ব্যাপারটা নাটকীয় ও রম্য ধাচের হয়ে গিয়েছে। এবার আশার কথাটা বলি। লেখক অনেকগুলো জট রেখে শেষ করেছেন বইটা। কয়েকটা টুইস্ট রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। যদিও টুইস্টগুলো ধরে ফেলেছিলাম বটে। তবে শেষের টুইস্টটা ভাবনার উদ্রেক ঘটায় বৈকি। অনেকগুলো অপশন এনে লেখক গল্পটা অসমাপ্ত রেখেই শেষ করেছেন বইটা। আশা করছি পরের পর্বে লেখক জটগুলোর সমাধান করবেন। এই বইটা সম্ভবত একটা বড় কাহিনীর বিল্ড আপ ছিল। কিন্তু লেখক ঠিকভাবে বিল্ড আপ করতে পারেননি বলেই আমার মনে হল। শুধু ফিনিশিং এ কিছুটা আশা আছে। সেই সূত্রগুলো ধরে হয়তো পরের পর্বে জটগুলোর খোলাশা করবেন লেখক।
● প্রোডাকশন বইটা এসেছে শিখাপ্রকাশের ব্যানারে। বাঁধাই ও পৃষ্ঠা কোয়ালিটি বেশ ভালো হলেও প্রুফ দেখা নিয়ে আমি রীতিমত বিরক্ত। অনেকবেশি বানান ভুল ছিল বইতে। যেমন : শুধুমাত্র ফ্লাপেই স্পেসিং ইস্যু, কী/কি জনিত ভুল ইত্যাদি সহ বানান ভুলও চোখে পড়েছে। এছাড়া হ্যা/ হ্যাঁ, জি/জ্বি জনিত বানান ভুল চোখে পড়েছে। আর বিশ নম্বর পৃষ্ঠায় 'উপং:ধং' এই শব্দের অর্থ কী তা হয়তো একমাত্র প্রুফ রিডারই বলতে পারবেন।
আর নামকরণে প্যারাডক্স রয়ে গিয়েছে সত্যি ; তবে বইটা পড়লে হয়তো বুঝতে পারবেন নামকরণে খুব বেশি অভিযোগ করার জায়গা নেই। নামকরণ ঠিক ই আছে।
শেষের কথা -------------------------- একটা বই লিখতে লেখককে অনেক পরিশ্রম করতে হয় আমি জানি। তবে বুক রিভিউ তো খুব আপেক্ষিক ব্যাপার। দেখা যাবে একই বই আমার ভালো লাগেনি , আরেকজনের খুব ভালো লেগেছে । এটা হরহামেশাই হয়। লেখকের প্রতি তাই আমার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি তার দিক থেকে চেষ্টা করেছেন, আমি আমার দিক থেকে মতামত জানিয়েছি। কেউ ই পুরোপুরি ভুল না ; ঠিক ও না। আমি বিশ্বাস করি হয়তো তিনি এই সিরিজের পরের বইতে ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবেন। ফিনিশিং এ এসে অপশনগুলো যেভাবে তিনি সাজিয়েছেন আশা করছি জটগুলো তিনি শক্ত হাতে নিজেই খুলবেন। সেই পর্যন্ত তার প্রতি শুভকামনা রইল ।
পড়ে ফেললাম 'সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী?' এক কথায় বলতে গেলে গল্পটা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সিনেমার মতই থ্রিলিং এবং টানটান উত্তেজনা ভরপুর। গল্পের প্লট একজন সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে। কিন্তু গল্পে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনীতি তথা সমকালের সমাজচিত্রও।
এই গল্পের 'নায়ক' ডিটেক্টিভ সুকুমার, যিনি এই সিরিয়াল কিলারকে খোঁজার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তাঁর কাজের ধরণ, ব্যবহার একটু ক্ষ্যাপাটে, আলপটকা মন্তব্য করে বসেন, স্থান কাল পাত্র বিচার না করেই। হুট্ করে আসেন, ঝড়ের বেগে হঠাৎ চলে যান। কিন্তু তিনি গোয়েন্দা শ্রেষ্ঠ - বাংলাদেশে এক বাক্যে সকলে তাঁকে চেনে।
গল্পের শুরু এক নির্মম খুন দিয়ে। সেই বিবরণ পড়তে পড়তে গা গুলিয়ে আসবে, হাত অসাড়, হাড় হিম হতে বাধ্য। এরপর পুলিশ আর ���োয়েন্দা সুকুমার তদন্ত শুরু করলে ঘটে যায় আরেকটি খুন। একই ধাঁচে। লাশের সাথে একটা চিরকুটে পাওয়া যায় একই বার্তা - 'সৃজিত মুখার্জী'। যদিও ক্লাইম্যাক্সে 'খুনি' ধরা পড়ে, সৃজিত দার ছবির মতই উপসংহারে ঘটে যায় আরও দুটি খুন। বইয়ের শেষে থাকে শুধু সিকুয়েল এর অপেক্ষা।
প্লট আর থ্রিল থাকলেও এই বইতে যেটির চরম অভাব তা হল প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনার। ওপার বাংলার বানান বিধি আমার জানা নেই, কিন্তু অনেক জায়গায় একই শব্দ দুইভাবে বানান লেখা হয়েছে (অনেকসময় এক অনুচ্ছেদেই)। সারা বই জুড়েই বানান বিভ্রাট। আর, বেশিরভাগ অধ্যায়ে একাধিক ভাগ আছে, কিন্তু সেই ভাগগুলির মধ্যে বিভাজন নেই। তাই অনেক সময়ই একটা অনুচ্ছেদ এর সাথে পরেরটার কোনও লিংক নেই। যা মনোনিবেশের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
আমার বইটি পড়ে মনে হয়েছে, এটি প্রকাশ করার খুব তাড়া ছিল, তাই প্রথম ড্রাফটই ছেপে দেওয়া হয়েছে। একটু ভালো সম্পাদনা করলে আদর্শ থ্রিলার হয়ে উঠতে পারত। গল্পে থ্রিলের খামতি নেই, সমস্যা আইডিয়াটি প্রেজেন্টেশনে। লেখক যে সৃজিত মুখার্জী দ্বারা অনুপ্রাণিত তা বলাই বাহুল্য। গল্পের স্টাইল দেখলেই তা বোঝা যায়। শুধু সৃজিত দার তীক্ষ্ণতা আর attention to detail টাই শুধু missing।
যাদের থ্রিলার, গোয়েন্দা নভেল পড়তে ভালো লাগে, পড়ে দেখতে পারেন। নিরাশ হবেন না। আমি তো সিকুয়েলের অপেক্ষায়। আশা করি প্রথম বইয়ের খামতিগুলো পুষিয়ে নেবেন লেখক এবং প্রকাশক।
বিদঘুটে একটি ঘর। তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন কাটা অংশ। ভালো করে দেখলে মনে হয় ঘরটা কোনো কোরিয়ান মুভির সাইকোর ঘর। যেখানে খুনি তার শিকার নিয়ে গিয়ে ইচ্ছে মতো কাটাকুটি করতে পারে। তেমনই এক ঘরেই বেঁধে রাখা হয়েছে এক লোককে। এবং একটু পরেই নির্মম ভাবে খুন করা হয় তাকে।
এলাকায় মিসিং মেয়র শারাফ আহমেদ। সেই মেয়রের লাশ খুঁজে পান সেই এলাকার বাসিন্দা ‘সূর্যনীল ঘোষ’। পুলিশ আসে, আসে ডিটেক্টিভ সুকুমার। আর গল্পের প্রধান চরিত্রের ভুমিকায় থাকেন এই ডিটেক্টিভ। যেমন তার জঘন্য চালচলন তেমন তার কথা বলার ঢং। তাকে কথায় কথায় ডিটেক্টিভ ডাকতে হবে। তিনি নাকি দেশ সেরা গোয়েন্দা। কিন্তু সারা গল্পে দেখিনি কোনো চমক। কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করলেই বলেন, দুইদিনের মধ্যে খুনিকে নিয়ে আসবো। যাইহোক তার ব্যাপারে পরে বলবো। মেয়র খুন হন বিভৎস ভাবে। এক হাত কাটা, মুখে অসংখ্য ব্লেড দিয়ে কাটার দাগ, এবং কপালে একটি পেরেক দিয়ে গাঁথা চিরকুট। তাতে লেখা ‘সৃজিত মুখার্জি’!
তো এই মেয়রের খুনি ধরতে ধরতে তিন মাস চলে যায়। বইয়ের চলে যায় ৭০ পেজ। আর এসময় খুন হন সূর্যনীল ঘোষের ছোট ভাই। এবং একই পদ্ধতিতে। পুরা প্রশাসন থাকে চাপে। আর এই খুন, আর খুনি নিয়ে চলতে থাকে রাজনৈতিক মহলে অনেক নোংরা খেলা। পক্ষ বিপক্ষকে করতে থাকে দোষারোপ। এলাকায় সৃস্টি হয় অশান্তির।
হঠাৎ একদিন গোয়েন্দা সুকুমারর খুনি নিয়ে এসে হাজির। খুনিও স্বীকার করে নেয় যে সে খুন করে। তবে তিনি শুধু একজনকেই খুন করে। দ্বিতীয় জনকে খুন করেন নাই। তাহলে খুনি কে? আর একই পদ্ধতি অবলম্বন করলো কী করে? কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা এই খুন গুলো কেনো করা হচ্ছে?
এখন আসি ঘটনার ঘনঘটায়,
সৃজিত মুখার্জির নাম কী? বইয়ের নাম করন দেখে বুঝলাম লেখক পশ্চিম পাড়ার বাংলা মুভি নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ভক্ত বা তাকে অনুসরণ করেন। ভালো কথা এটা, কিন্তু তিনি যে প্রধান চরিত্র ঠিক করলে তা রীতিমতো অখাদ্য। গোয়েন্দা সাহেব কথায় বউয়ের সাথে রঙ্গো করেন। বউয়ের সাথে ঝগড়া করার পরই তার মাথায় বুদ্ধি খেলে যায়, এমন কি খুনি ধরার পরও তিনি বউয়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমান, এসব কী! তিনি সারা বইতে এক কনস্টেবল নিখোঁজ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে বের করলেন কনস্টেবল ছিলেন শারীরিক ভাবে দূর্বল। এটা নিয়ে নতুন বউয়ের সাথে মনমালিন্য। সেজন্য গোপনে চিকিৎসা করাতে গেছেন। হাহ্ দেশ সেরা গোয়েন্দার কাজ।
লেখক বইতে অহেতুক কথা বলে বলে বইয়ের পেজ বাড়িয়েছে। যার কোনো দরকার ছিলো না।
আর সারা বইতেই বানান ভুলের খেলা চলেছে। কমবেশি। আছে নাম বিভ্রাট (একবার যাকে বলছে সোকন ঠাকুর, পরের বাক্যেই তাকে আবার ঠোকন ঠাকুর বলা হচ্ছে।)
সুকুমার বাবু দেশসেরা ডিটেকটিভ কথাটা অনেকবার বলা। কিন্তু তিনি কোনো কাজেরই না। তাহলে লেখক শুধু নিজেই তার ঢোল পিটিয়ে গেলেন কেনো?
লেখকের নিজের অহেতুক মতামত দিয়ে পেজ বাড়ানো। আগে বলেছি অহেতুক কথা, এখন বলছি মতামত বা নৈতিক কথা। যেমন প্রেম কী? পার্কে বসে দুই ছেলে মেয়ে তাদের প্রেমের অভিসারের ভবিষ্যতে নিয়ে কি বলছে সেটা নিয়ে তো বললই সাথে লেখকের ফ্রী নীতি কথা ছিলো। এরকম আরো আছে।
ডিটেকটিভের অহেতুক মিথ্যা বলা। আমি বুঝিনা, যে কেস সলভ করতে একজন গোয়েন্দার তিনমাস সময় চলে যাচ্ছে, একবিন্দুও অগ্রসর হতে পারলেন না, তারপরও তিনি অনবরত মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন, তবুও তাকে প্রশাসন দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। কেন?
খুনির মোটিভ ছিলো একদম ফালতু(এটা এখনি বলা যাবে না কারন পরের পার্টে তার ব্যাখ্যা থাকতে পারে। তবু লেখকের প্লট নির্বাচন পছন্দ হইনি)।
গোয়েন্দা প্রবর ফট করে খুনিকে ধরলেন, ধরে লকাপে ভরলেন, তারপর বউয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন! এটা কিছু হইলো? খুনি কিভাবে খুন করলেন, খুনির খুন করার রুম নিয়ে কোনো আলোচনা নাই, খুনি কিভাবে শিকারীকে ট্রাপে ফেললেন তার কিছুই তিনি জিজ্ঞেস করলেন না। বাহ!
যার সাথে যা দরকার নাই তার সাথে তাই নিয়ে আলোচনা। যেমন দারোয়ানের সাথে থ্রিলার মুভি নিয়ে আলোচনা। আরে ভাই তিনি কিভাবে এই দাঁত ভাঙা আলোচনা করবেন?
গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র হলো একটি এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার। তিনি একজন ফাঁসি দন্ডপ্রাপ্ত মৃত আসামিকে ট্রান্সফার করছেন। পথে তিনি গাড়ি থামিয়ে সিগারেট খান। তিনি আবার সেই গাড়ি জেল থেকে একা একাই নিয়ে যাচ্ছিলেন। এটা কোনো কথা? কোনো প্রকার সিকিউরিটি ছাড়া এভাবে কী সরকারি গাড়ি চলা ফেরা করা সম্ভব? আমিতো কখনো শুনি এমন।
এবার কিছু কথা বলি।
প্লটটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ। তবে লেখকের অপুটতায় সম্পূর্ণ কাহিনি ফেঁসে গেছে। অনেক টুইস্ট আছে সারা গল্পে কিন্তু আমার মনে হয়েছে লেখক নিজেই সেই জালে জড়িয়ে গেছেন। আর বের হতে না পেরেই তড়িঘড়ি করে বলে দিলেন ‘চাপ্টার ২ লোডিং’।
এই প্লটটা নিয়ে লেখক অনেক অনেক কাজ করতে পারতেন। কাহিনি বিল্ডাপ, চরিত্র গঠন, ভাষা ব্যবহার, প্লট টুইস্ট সবকিছুই।
আমি পড়ছি সিরিয়াল কিলিং বিষয়ের গল্প, তার মধ্যে যদি প্রেম, পরকিয়া, রাজনীতি আসে তাহলে অবশ্যই সেগুলো যৌক্তিক ভাবে আসতে হবে। ইচ্ছে হলো আর নিয়ে আসলাম তাহলে আর সেই গল্প পড়ে আর মজা নাই। আমি অনুরোধ করবো লেখককে তার এই বইটা নিয়েই কাজ করতে। কারন গল্পটি আমার পছন্দ হয়েছে। এটা একটা সেরা মার্ডার থ্রিলার বই হতে পারে। আমি বারবার আফসোস করছি যে এমন একটা কাহিনি নিয়েও লেখক ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন’ সাহেব কিছুই করতে পারলেন না।
বিঃদ্রঃ তিনি যদি এটার পরের সিকুয়েল বের করেনই তবে আবারো রকমারিকে অনুরোধ করবো যে বইটা যেনো আবারো আমাকে উপহার দেন।
"সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী?" বইয়ের নামেই একটা কেমন যেনো কিছু মজার আবার কিছু সন্দেহজনক গন্ধ আছে। এই থ্রিলার উপন্যাসে চরিত্র অনেক গুলো তবে উল্লেখ্য যোগ্য চরিত্র গুলো হচ্ছে সূর্য নীল ঘোষ, অমিত ঘোষ, নোলক, ডিটেকটিভ সুকুমার রায়, সুকুমার রায়ের স্ত্রী রাখি রায় এবং এস আই রাকিব। সবচেয়ে অন্যরকম চরিত্র হচ্ছে ডিটেকটিভ সুকুমার রায়, উপন্যাস পড়তে পড়তে আপনারাই তার মাঝে থেকে খুজে পাবেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের অনুভূতি। উপন্যাসের ঘটনা শুরু হয় একজন মেয়রের খুনের মধ্য দিয়ে, খুনিকে ধরার একটা নমুনা বা প্রমাণ বা তথ্য - ছোট একটা কাগজে হাতে লিখা "সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী?", তবে খুন হলে খুনি এক সময় ধরা পরবেই কিন্তু সেই খুনিকে খুঁজতেই এক পর এক ঘটনা শুরু হতে থাকে; খুনি - পুলিশ - সাংবাদিক - সাধারণ জনগণ - ডিটেকটিভ - খুন হওয়া মেয়রের পরিবার সবাই মিলে যেনো রহস্য বুনে চলে, এক রহস্য কাটিয়ে উঠতেই আরেক রহস্য সামনে চলে আসে। বইটা পড়তে পড়তে আমার নিজেরই মনে হচ্ছিলো পুলিশ নিজেই খুনি কিন্তু খুনি যে সে যদি নিজেই অন্যের হাতে একই ভাবে খুন হয় এবং একের পর এক খুনিরা নিজেই খুন হতে থাকে তাহলে সত্যি বের করা মুশকিল হয়ে যায় "সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী?" সবকিছু মিলিয়ে একজন তরুণ লেখকের থ্রিলার উপন্যাস আমার ভালো লেগেছে। একটা কথা না বললেই হচ্ছে না - একটা উপন্যাস লিখার জন্য প্রচুর পড়ালিখা করতে হয় এবং পরিশ্রম করতে হয়; এই উপন্যাসের লেখক সেই পরিশ্রমটা করেছেন তা আপনারা বইটি পড়ার সময়ই বুঝতে পারবেন। তাই আপনারও "সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী?" বই কিনে পড়ুন এবং ডিটেকটিভ সুকুমার রায়ের সাথে সাথে নিজেরাই খুজে বের করুন সৃজিত মুখার্জী-র নাম কী!? শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম।
বইয়ের প্রধান চরিত্র একজন গোয়েন্দা, যার নাম সুকুমার সাহেব। একে গোয়েন্দা না বলে ভাঁড় বলাটাই বোধহয় ঠিক হতো। এই লোক কথায় কথায় অন্যের সাথে রঙ্গ করে, বউয়ের সাথে ঝগড়া করার পরই তার মাথায় বুদ্ধি খেলে যায়, এমনকি খুনি ধরার পরও সে বউয়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমায়। লেখক বইতে অহেতুক কথা বলে বলে বইয়ের পেজ বাড়িয়েছেন, যার কোনো দরকার ছিলো না। বোনাস হিসেবে পুরো বইতেই অসংখ্য বানান ভুল, সেই সাথে আছে নাম বিভ্রাট (সোকন ঠাকুর পরের বাক্যেই হয়ে যাচ্ছেন ঠোকন ঠাকুর)
অনেকদিন পর একজন নতুন লেখকের বাংলা বই পড়লাম। গল্পে টুইস্ট আছে, রহস্য আছে, সাসপেন্সও আছে। তবে বইয়ের প্লট ও চরিত্রে যতটা এফোর্ট দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি দরকার ছিল ভাষা, শব্দচয়ন ও বাক্য গঠনের উপর মনোযোগ।
আরও ভালো প্রুফরিডিং প্রয়োজন ছিল। ‘চ্যাপ্টার ২: লোডিং’ লেখা দেখে খুব আগ্রহ না থাকলেও, কেবল সন্তুষ্টির জন্য পড়ে ফেলবো ।