অর্থনীতির কঠিন বক্তব্যকে সহজ ভাষায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে জানেন। বাজেটের অর্থনীতি ও রাজনীতি জটিল বিষয় হওয়া সত্ত্বেও গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সুষ্ঠু ধারণার প্রয়োজন। সচিব হিসেবে তিনি ৯টি বাজেট প্রণয়ন করেছেন। এ ছাড়া বাজেট সম্পর্কে তিনি গবেষণা করেছেন। গবেষণার তথ্যসমূহ সাধারণ পাঠকের জন্য বৈঠকি মেজাজে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। পাঠকেরা এ বই পড়ে একই সঙ্গে আনন্দিত হবেন ও আলোকিত হবেন।
Akbar Ali Khan (Bengali: আকবর আলি খান) was a Bangladeshi economist and educationist who served as a bureaucrat until 2001. He was the SDO of Habiganj during the Bangladesh Liberation War, when he decided to join the war. Later he served as an official of the Mujibnagar Government. After the independence he joined back the civil serviceand reached to the highest post of Cabinet Secretary and also worked as a university teacher. His book Porarthoporotar Orthoniti (Economics of Other-minding) has been a popular book on economics à la Galbraith.
অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক হাতিয়ার হলো বাজেট। ড. আকবর আলি খান সচিব হিসেবে নয়টি বাজেট তৈরি করেছেন। কর্মজীবনে প্রায় ১৬ বছর বাজেট কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন। তাই যে কোনো মানুষের চাইতে বাজেট নিয়ে কৌতূহল, আগ্রহ তার বেশি। সেই কৌতূহল ও আগ্রহের বশবর্তী হয়ে এবার বাংলাদেশের বাজেটব্যবস্থার ভেতরকার অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে লিখেছেন আকবর আলি খান।
বাংলায় রবিবাবু প্রথম 'বাজেট' শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এদিকে মূল ফরাসি 'বুজেট'-এর নিকটতম শব্দ মানিব্যাগ। বিলাতের প্রধানমন্ত্রী ওয়ালপুল বছরজুড়েই করসংক্রান্ত নানা দাবি ও প্রস্তাব শুনতে পেতেন৷ সরকারি-বেসরকারি দু'তরফ থেকেই সুপারিশ আসতো। প্রাথমিকভাবে ওয়ালপুল সাহেব সেগুলো লিখে মানিব্যাগ তথা ফরাসি বুজেটে রাখতেন। ধীরে ধীরে দাবিদাওয়ার ফিরিস্তি বড়ো হতে থাকে এবং গোপনীয়তার রক্ষার খাতিরে আর মানিব্যাগে দাবিদাওয়া ও আয়-ব্যয়ের তালিকা মানিব্যাগে রাখা সম্ভব হলো না। তখনই বাজেট ঘোষণার দলিলপত্র রক্ষণের জন্য আবির্ভাব আজকের ব্রিফকেসের।
বাজেট ঘোষণার দিনে অর্থমন্ত্রীকে ব্রিফকেস হাতে সংসদে প্রবেশ করতে দেখা যায়। মূলত, বাজেট ঘোষণার প্রভাব পণ্যদ্রব্যের দামে পড়ে। দাম হ্রাস-বৃদ্ধির খবর আগেই যাতে ফাঁস না হয়ে যায়, সেজন্য একসময় ব্রিফকেস ব্যবহার শুরু করেন অর্থমন্ত্রিরা। বাজের প্রস্তুতের সাথে জড়িত কর্মচারীদের বাজেট ঘোষণার আগপর্যন্ত একপ্রকার বন্দী রাখার অদ্ভুত প্রথাও পৃথিবীতে ছিল। আজকাল বাজেটের আগেই কোনটির দাম কমবে-বাড়বে তা গণমাধ্যমের কল্যাণে লোকে জেনে যায়। কিন্তু একসময় বাজেটের গোপনীয়তা রক্ষা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে বিলেতের অর্থমন্ত্রী ছিলেন হিউ ডালটন। তিনি বাজেট ঘোষণার আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ডালটন!
ব্রিটেনের এককালের উপনিবেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার পটভূমিতে ছিল বাজেট। 'No Taxation without representation' অর্থাৎ গণপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো ধরনের কর ধার্য করা যাবে না - এই ছিল ইউএসের দাবি। সেই দাবিকে ব্রিটেন তোয়াক্কা না করেই ১৭৭৩ সালে বাড়তি করের বোঝা চাপিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
আবার গণপ্রতিনিধিত্ব থাকলেই জনগণের ওপর নাহক কর ধার্য করা হবে না এমন বিশ্বাস আজকের দিনে অনেকটাই অকার্যকর। যেমন- এদেশে সংসদে বাজেট উত্থাপিত হলে কোনো বিশদ আলোচনা ছাড়াই তা পাশ হয়ে যায়। পাশের দেশ ভারতে বাজেট নিয়ে কমপক্ষে মাসখানেক আলোচনা হয়, সেখানে বাংলাদেশে গড় আলোচনা চলে মাত্র ১৬ দিন। উপরন্তু, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সরকারি দলের কোনো সদস্য বিবেকের তাড়না বোধ করলেও প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন না। ব্রুট মেজোরিটি তথা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বলীয়ান সরকারি দলের বাজেট প্রস্তাবের বিপক্ষে ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়েও জোর গলায় কথা বলার শক্তি বিরোধীদলগুলোর অবশিষ্ট নেই।
প্রতিবছর লাখ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার পর গণমাধ্যমে তা নিয়ে প্রোপাগাণ্ডা চালানোর বিশ্রী ধরনের উৎসব শুরু হয়৷ বাজেটের টাকার অঙ্ককে এমন তরিকায় উপস্থাপন করা হয় যেন এক বাজেটেই দেশের সকল মুসকিল আসান হয়ে যাবে। ২০২১-২০২১ সালে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হয়। টাকার হিসেবে এই অঙ্ক নিঃসন্দেহে বড়ো। প্রথম বাজেটের বাজারমূল্যের তুলনায় এই বছরের বাজেট ৭২২ গুণ বেশি। কিন্তু এখানেই ফাঁকি লুকিয়ে আছে৷ বাজারমূল্যে হিসাব করলে চলবে না। বাজেট কত বড়ো তা বিবেচনা করতে হবে স্থিরকৃত মূল্যে। ড. খান লিখেছেন,
' বাজারমূল্যে ২০২০-২১ সালের বাজেট ১৯৭২-৭৩ সালের বাজেটের চেয়ে ৭২২.৬ গুণ বেশি। কিন্তু স্থিরকৃত মূল্যে ২০২০-২১ সালের বাজেট ১৯৭২-৭৩ সালের বাজেটের প্রায় ১০ গুণ বেশি, ৭২২.৬ গুণ নয়। '
অর্থাৎ গত ৫০ বছরে বাজেট মূলত বেড়েছে মাত্র ১০ গুণ! যা প্রোপাগাণ্ডার মাধ্যমে বিরাট বড়ো কৃতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই প্রোপাগাণ্ডা বছরের পর বছর ধরে বেড়েই চলছে।
দেশে এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষিত ১৯৭২-৭৩ সালের স্থূল জাতীয় উৎপাদের পরিমাণ ছিল মোট বাজেটের ১৭.৪ শতাংশ। ২০২০-২১ সালে সেই পরিমাণ ১৭.৯ শতাংশ! মানে গণমাধ্যম ও দলীয় প্রচারণায় দেশের উন্নয়নের জোয়ার বইলেও গত ৪৯ বছরে স্থূল জাতীয় উৎপাদের হিস্যা বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। তাহলে উন্নয়নের গল্পের সাথে অর্থনীতির তথ্য-উপাত্ত একেবারে মিলছে না।
উন্নয়নগাঁথার সাথে বাস্তবতার ফারাক আরও লক্ষণীয়। প্রথম বাজেটে জিএনপির প্রায় ৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল উন্নয়নের জন্য। ২০২১ সালের বাজেট উন্নয়নের হিস্যা ৬.৮ শতাংশ। মানে এত বছর পরে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির বদলে কমে গেছে। অথচ বয়ান শুনি এর ঠিক বিপরীত
'বই কেনা' প্রবন্ধে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছিলেন, বইয়ের দাম বেশি তাই লোকে বই কেনে না ; আবার মানুষ বই কেনে না বলেই প্রকাশক বইয়ের দাম কমাতে পারেন না। এদেশে করারোপের ক্ষেত্রেও একই দ্বান্দ্বিকতা বিদ্যমান। বাংলাদেশে বাজেটের মাত্র ৩০ ভাগ আয় আসে প্রত্যক্ষ থেকে। এদিকে উন্নতবিশ্বে বাজেটের সিংহভাগ অর্থের উৎস আয়কর। এমনকি ভারতে শতকরা ৪৬.৬ ভাগ আয় আসে আয়কর থেকে। আমরা ঠিকমতো কর দিই না। তাই রাষ্ট্রকে বাধ্য হয়ে বিভিন্নভাবে আমাদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিতে হয়। আয়করের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্নার্জিত থেকে যায়। উন্নত দেশে বাজেটের ঘাটতি পূরণে সর্বোচ্চ কত টাকা সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবে তা আইন দ্বারা নির্ধারিত। আমাদের দেশে এমন কোনো কানুন নেই। তাই সরকার বেশি বেশি সুদের বিনিময়ে ঋণ সংগ্রহ করে। তাতে জনগণের একটি অংশ লাভবান হলেও বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহ কমে যায়। ফলে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত গতি ব্যহত হয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে ঘাটতি বাজেট ভালো কিনা, কত শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি গ্রহণীয় ইত্যাদি। এসবের উত্তর নিজস্ব ভঙিমায় দিয়েছেন ড. খান। পড়তে পড়তে যথাযথ উত্তর পেয়ে যাবেন
ড. আকবর আলি খানের ম্যাগনাম ওপাস 'পরার্থপরতার অর্থনীতি'। তাই তাঁর যে কোনো লেখার প্রতিতুলনা করতে চাইলে আমি সেই বইটির কথা ভাবি। বাজেট নিয়ে বাংলায় এরচাইতে তথ্যপূর্ণ ও সহজবোধ্য বই হয়তো থাকতে পারে। কিন্তু আমি পড়িনি৷ তবে ইদানীং আকবর আলি খানের স্বভাবসুলভ লেখনশৈলীর কিছুটা অভাববোধ করছি। বাজেট নিয়ে লেখা বইটিতে অনেকবেশি তথ্য-উপাত্ত সন্নিবেশ সাধারণ পাঠককে বিপর্যস্ত করতে পারে। পড়তে গিয়ে মনে হয়েছি বইটি আ্যকাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা এবং টার্গেটকৃত পাঠকরাও সাদাসিধা না হয়ে আ্যকাডেমিশিয়ান হবে এমন ভাবনা থেকে লেখা। আমি অ-অর্থনীতির মানুষ। তাই পড়তে গিয়ে খানিকটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে হ্যাঁ, বাজেট নিয়ে সত্যিকারের আগ্রহ থাকলে বইটি অবশ্যই আপনার জন্য লেখা। একবসায় পড়তে পারবেন না, রয়ে-সহে পড়বেন এমন প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করুন 'বাংলাদেশের বাজেট'।
বাজেট নিয়ে সাধারণ জনগণের আগ্রহ মনে হয় শুধু বাজেট ঘোষণার পর কোন্ কোন্ জিনিসের দাম কমল বা বাড়ল এটা নিয়ে। বাজেট দলিল পড়ে তার কার্যোদ্ধার করে মতামত দেয়া বা জনপ্রতিনিধিদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সংস্কৃতি আমাদের দেশে নেই। এর একটা কারণ হল বাজেট নিয়ে বা অর্থনীতির অন্যান্য বিষয় নিয়ে সহজপাচ্য বইয়ের অভাব। ফলে অংশগ্রহণমূলক বাজেট তৈরি- একটি দূরকল্পনা হিসেবেই আছে বাজেট বিষয়ে জনগণের যথাযথ শিক্ষা বা সচেতনতার অভাবে। সেদিক থেকে আকবর আলি খানের এই প্রচেষ্টা সাধুবাদযোগ্য। উল্লেখ্য, বইটি তেমন সহজপাচ্য নয়। তথ্য-উপাত্ত এবং সারণির ভিড় বেশি এবং বইটি লেখকের অন্যান্য বইয়ের মত সুলিখিত বা সুসম্পাদিতও মনে হয়নি । তবে বাজেট বিষয়ে ধারণা পেতে বইটি কার্যকরী। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের সঙ্গে সাধারণ মানুষদেরও বইটি পড়া উচিৎ। লেখক বর্তমানে বাংলাদেশের বাজেট প্রক্রিয়ার সমস্যা চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি সে সমস্যা সমাধানের জন্য সুস্পষ্ট পরামর্শও দিয়েছেন। বইটি আরও আকর্ষণীয় হত যদি লেখকের অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাজেট প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্ফুরণ বইটিতে থাকত। শারিরীক অসুস্থতা এবং পারিবারিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেও লেখক যে এখনো এ ধরণের গবেষণামূলক লেখা আমাদের উপহার দিচ্ছেন সেজন্য লেখকের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা।
2 * stars for general readers 4 * stars for budget /economics experienced
Comparatively a recent book by a seasoned government sector professional Akbar Ali Khan delves into the theoretical and practical aspects of Bangladesh's national budget and economy. With a decade of experience in the government sector, I emphasize that the book is not for the casual reader. It is tailored for individuals who are "actively engaged" in the work/study of the national budget, likely appealing to economists, policy-makers, and financial experts.
The book appears to be a dense compendium of knowledge, requiring a specialized understanding of budgetary processes. Even with experience in the field administration and local government, the book was challenging for me. A specialized month-long institutional training on the budget encouraged me to finish the book and finally appreciate it.
This speaks volumes about the level of detail and expertise required to navigate the contents of the book. It suggests that the publication could serve as an invaluable resource for professionals seeking to gain a deeper understanding of Bangladesh's economic strategies and fiscal management. For those in the field, the book may offer a wealth of information, potentially aiding in the development of more informed and effective budgetary policies.
In conclusion, the book on Bangladesh's national budget and economy is a testament to the intricate nature of financial governance. It underscores the need for specialized knowledge and training to fully grasp the nuances of such a vital subject. For the right audience, it could be a treasure trove of insights, contributing to the advancement of economic understanding and policy development in Bangladesh.
Boring. Feels like a textbook. Not as good as the previous books of the author. May be some chapters written by the ghost writers or author's assistant.