Jump to ratings and reviews
Rate this book

ডানাকাটা হিমের ভেতর

Rate this book

184 pages, Hardcover

First published January 1, 1996

3 people are currently reading
168 people want to read

About the author

Imtiar Shamim

53 books115 followers
ইমতিয়ার শামীমের জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫ সালে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আজকের কাগজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু নব্বই দশকের গোড়াতে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ডানাকাটা হিমের ভেতর’ (১৯৯৬)-এর পান্ডুলিপি পড়ে আহমদ ছফা দৈনিক বাংলাবাজারে তাঁর নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন, ‘একদম আলাদা, নতুন। আমাদের মতো বুড়োহাবড়া লেখকদের মধ্যে যা কস্মিনকালেও ছিল না।’

ইমতিয়ার শামীম ‘শীতের জ্যোৎস্নাজ্বলা বৃষ্টিরাতে’ গল্পগ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার (২০১৪), সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সকল প্রধান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (34%)
4 stars
21 (42%)
3 stars
9 (18%)
2 stars
3 (6%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
Profile Image for Rifat.
501 reviews327 followers
June 28, 2023
রাষ্ট্রনায়ক তখন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, কুয়াশার চাদরে জড়িয়ে থাকা হেমন্ত তখন শেষের পথে। ছোটবেলা থেকে এইচএসসি পর্যন্ত গ্রামে থাকলেও বেশ ক'বছর বাদে গ্রামে আসলে নিজের গ্রাম এখন অনীকের কাছে ‘দূরগ্রাম, গ্রামের বাড়ি আর গ্রামের বাড়ির উঠোন’ বলেই মনে হয়। তবে গ্রাম আর আগের মতোন নেই, এখন রেডিও তেমন একটা চলে না, ইলেক্ট্রিসিটি এসে গ্রামকে গিলে নিয়েছে অজগরের মতো, পল্লী ব্যাংক হয়েছে গ্রামে, রয়েছে এনজিও। পরিবর্তন এসেছে আরও, কৈশোরের বন্ধু আবির আর পৃথ্বী রয়েছে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, প্রতিদ্বন্দ্বী নয় ওরা দাঁড়িয়ে রয়েছে শত্রু হিসেবে। আর ওদের মাঝখানে টলটলে পানি নিয়ে বয়ে চলেছে রিক্তামাতার দিঘি (যাকে ঘিরে সব আয়োজন) বামপন্থী আর মোহমুক্ত আবির রাজনীতির সাথে জড়িত, অপরদিকে পৃথ্বী এনজিও কর্মী একই সাথে নিজের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে ওয়াকিবহাল তাই নিজের স্বার্থ তার কাছে বরাবরই আপন হয়ে ধরা দেয়। পাশাপাশি যজ্ঞের আগুনে ঘি ঢালতে আগমন ঘটে রমিজ আর হাশেম প্রামাণিকের মতো ফতোয়াবাজের অনেক বছর আগে কিশোর অনীকের হাতে মান্দার ডালের বাড়ি খেয়ে যে বলেছিল রক্তের একটা দোষ (জমিদারের নাতি সে) আছে না! আবারও এতো বছর পরে ঐ জেলেদের জন্য খাটাখাটি-দৌড়াদৌড়ি করা আবিরের সাথে অনীককে দেখে হাশেম প্রামাণিকের আর ভালো লাগে না।

অনীক তারপর আবার এতদিন বাদে পার্টি অফিসে দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত আবিরের সাথে ঘুরতে ঘুরতে হাজির হয় কৈশোরে যেখানে পৃথ্বী নামের মেয়ে ওর মনে রঙ ছড়ায় অনায়াসে, সে রঙ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলে অনীক পৃথ্বীকে আবিষ্কার করে এনজিওর ঢাল হিসেবে যে এনজিও তখন জেলেদের অধিকার হরণে ব্যস্ত। অতঃপর অনীকের আসা-যাওয়া চলতে থাকে। আসা-যাওয়া চলে তিথিরও। যারফলে, আমরা সাক্ষী হই এক মায়াময় রূপকথার।
"চাঁদের যে আলো ছড়িয়ে আছে, পবিত্রতার বিমূর্ত প্রতিভাস যেন সে। মায়াবী থেকে মায়াবীতর স্বপ্ন ও আলোছায়ার মতো তা প্রসারিত হচ্ছে দাদিমার বহুদূর থেকে ভেসে আসা কথামালা হয়ে, হাঁটুর উপর কনুই ভর করে করতলে থুতনি রাখা তিথির চুলের মৃদু সৌগন্ধ হয়ে।"

চাঁদের আলো দেখে অনীক তিথির দাদি বলে ওঠেন, "বাইরের সব বাতি নিভায়ে দাও আসমার মা।" তিথি দাদির কথা বলার ভঙ্গিতে আর চলাফেরার ছন্দে জমিদারি প্রতাপ খুঁজে ফেরে। অদ্ভুত নীরবতায় দাদি গোপন করে চলেছে সেসব। কিন্তু দাদি আজ নিজেই অনেক কথা বলে। একসময় শোনা যায় দাদি অনির মা'কে বলছে, "মেয়ে কী সুন্দর করে সেজেছে, খেয়াল করেছ?—দাদি একটু বিরতি দেয় মাকে ভাববার জন্যে, তারপর আবারো বলে— আমার মা গল্প শুনাত অরূপ রাজার বনে এক রাজকন্যা থাকে। সে জ্যোৎস্না রাতে দীর্ঘকেশ পাট করে বেঁধে বসে থাকে বনের ধারে। আর কাঁদে। কাঁদে আর চাঁদের কাছে জিজ্ঞেস করে, ছেড়ে আসা বাবা-মায়ের কথা, ভায়ের কথা, জিজ্ঞেস করে অরণ্য পাহাড় ছেড়ে সমুদ্র নিষাদে যাওয়া তার রাজপুত্রের কথা। সে গল্প অনেক বড়। কোনোদিনই শেষ পর্যন্ত শুনতে পারি নি। ঘুমিয়ে গেছি। সকালে উঠে মনে হতো রাজকন্যা খুব দুঃখী, আহা, যদি একবার দেখতে পেতাম। আজ সেই রাজকন্যা আমার বাড়ির উঠোনে নেমে এসেছে...

দাদি আবারো থামে। অনীক কান পাতে আরও কিছু শুনবে বলে। আবারো ভাবে, দাদির কণ্ঠস্বর আসলেই বয়সের ভারে ক্লান্ত হয়ে গেছে, শুনতে দূরের ক্ষীণস্রোতা নদীর তরঙ্গধ্বনির মতো লাগে, যে ধ্বনির ওঠানামা অস্পষ্ট, যে ধ্বনির ভেসে আসার মধ্যে মিলিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল, শক্তি নিথর। এরকম ধ্বনি শুধু তিথির চোখে জল জাগাতে পারে। অনীক অভ্যাসবশত সান্ত্বনার ভঙ্গিতে পিঠে হাত রাখে তিথির, জ্যোৎস্নার ছায়া তার হাতের বর্ণ ঢেকে ফেলে, কী বুবু, কাঁদছ না কি?"
অনীকের মুখে বুবু ডাক শুনে আমার মস্তিষ্ক বইয়ের মতো করে স্মৃতির পাতা ওল্টাতে থাকে, খুঁজে পাই ইমতিয়ার শামীমের আরেক নায়ককে। অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর আগের মুহুর্তে মেয়েটিকে তার থেকে বছর কয়েকের ছোট ভাগ্নে বুবু ডেকে ওঠে। তখন মাথায় খোলাসা হয় বুবু ডাকটি কী ভারি! বুবু ডাকে কত ঘনিষ্ঠতা আর মমতা!


অতঃপর জ্যোৎস্নায় মাখামাখি করতে করতে আমার অনুভূতি দশতলা থেকে পড়ে ভর্তা হয়ে যায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় এদিকে ওদিকে। কেননা অবলোকন করতে করতে একাত্নতা পোষণকারীই একদিন হয়ে যায় ঘটনার শিকার।
"‘সততা’ শব্দটার ইংরেজি অভিধানের ‘ডার্টি ওয়ার্ড’। ওটাকে নাকচ করতে পেরেছিল বলেই রাজত্ব চলে যাওয়ার পরেও ইংরেজরাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুসভ্য জাতি। আর তাছাড়া, সততা আর সাফল্য বোধহয় ঠিক মেলে না। শত্রু তারা পরস্পরের। একটু অসৎ তো হতেই হবে। আর অসৎইবা বলা হবে কেন? সৎ থাকা মানে তো নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকা।"

ইমতিয়ার শামীমের প্রথম উপন্যাস। কাহিনীর গতি আর পথের পরিবর্তন বেশ আস্তে ধীরে হয় এখানে যেন কাহিনী মূখ্য নয় বর্ণনাই বহুল আকাঙ্ক্ষিত; মনে হয় ইমতিয়ার শামীমের "ডানা কাটা হিমের ভেতর" মাটির নিচে জীবনের আশা নিয়ে স্ফুরিত হওয়া কোনো এক বীজ যা অমরত্ব লাভের আশায় সূর্যালোকে প্রবেশ না করে মাটিতেই শাখা বিস্তার করছে অবিরত। আর তাই "ডানা কাটা হিমের ভেতর" নামক রাস্তায় গতি শ্লথ হয়ে যায়। ভাইবোনের সাথে সাথে নিজেরও জ্যোৎস্নায় গা ভাসাতে মন চায়। ভাইবোনের আলাপচারিতায় অবাক হয়ে যেতে হয়। (১১৩ থেকে ১৩২ পৃষ্ঠা বারবার পড়ে যেতে ইচ্ছা হয়)

ইমতিয়ার শামীমের সব নায়কদের অনন্য কিন্তু অনেকটা একই ফিলোসফিকাল ওয়ার্ল্ড আছে, ফুল অফ লোনলিনেস আর একই সাথে মেলানকোলিক, যেন কেউ ফিস ফিস করে বলছে-
Oh wanderer, for ages and ages, I've been a yogi.
I don't come or go, never disappear,
I enjoy the endless sound. (Sant Kabir Das)





২৮জুন, ২০২৩





(রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে নীরব শ্রোতা থেকে আমার হঠাৎ নীরব দর্শক হওয়ার সাধ হলো, মনে মনে সামনে তাকালাম। তারপর হুট করে মনে হলো অনেক রাত হয়েছে, বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই উপরে তাকিয়ে দেখি দুটি জোনাকি মশারির ধার ঘেঁষে হলুদ বাতি জ্বালাতে নেভাতে ব্যস্ত। মরা নদীর মতো কোনো রকমে জেগে থাকা মফস্বলে রাত দেড়টায় ঘরের ভেতরে জোনাকি দেখতে পাওয়াটা সৌভাগ্যই বটে!-.-)
Profile Image for Mahmudur Rahman.
Author 13 books357 followers
July 9, 2020
অনেকেই বলেন এনজিও এবং এনজিও সম্পর্কিত বিষয়আশয় নিয়ে এই উপন্যাস। আসলে কথাটা ভুল। এই উপন্যাসে আমাদের গ্রাম বদলে যাওয়ার পিছনে এনজিওর প্রভাব, গ্রাম্য রাজনীতির কিছু অংশ এসেছে এবং সেটা একটা লেয়ারের নিচে। ইমতিয়ার শামিমের চিঠি যুগের মতো এই বইও মূলত একাকীত্বের মধ্যে দিয়ে দেখা একটা সময়, একটা স্থানের গল্প। এ বই বুঝতে হলে ইমতিয়ার শামিমের লেখা, নব্বই দশকের গ্রামের অবস্থা ইত্যাদি বোঝা জরুরী।

আরেকটা বিষয় হলো এই বইয়ের গল্পের চেয়ে ভাষা শক্তিশালী। ইমতিয়ার শামিমের নিজের একটা ভাষা আছে এবং সেটা কাম্যু, কাফকার মতো পাঠককে একা করে দেয়। এই বইয়ের শেষ তিন পাতায় ইমতিয়ার শামিম যা লিখেছেন, অনেক সময় তিনশো পাতায় তা লেখা যায় না।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,479 reviews563 followers
October 1, 2019
ইমতিয়ার শামীমের প্রথম উপন্যাস 'ডানাকাটা হিমের ভেতর' এর পাণ্ডুলিপি পড়েছিলেন আহমদ ছফা। তখন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা পাঠকপ্রিয়তার মধ্যগগনে। ইমতিয়ার শামীমের গদ্যে এতটাই মজেছিলেন নাকউঁচু ছফা যে রীতিমতো প্রশংসা করে একটি পূর্ণ প্রবন্ধই লিখেছিলেন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায়।

আমি কিন্তু ছফার মতো বিহ্বল হতে পারিনি কারণ আমি ইমতিয়ার শামীমের ম্যাগনাম ওপাস 'আমরা হেঁটেছি যারা' কিংবা 'আমাদের চিঠিযুগ'এর মতো মুগ্ধতার গহীন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার মতো উপন্যাসগুলো আগেই পড়েছি।

এরশাদের শাসনামল শেষ। সদ্য নির্বাচিত হয়েছে বিএনপি তখনকার কথা। একটি গ্রাম। যেখানে একটি বড় দীঘি আছে। কাজ করছে এনজিও এবং এনজিওধাঁচের ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক। আছে বামপন্থী একটি সংগঠন। এই সংগঠনটি চায় গাঁয়ের দীঘিটিতে মাছ ধরবার সুযোগ শুধু জেলেদের থাকবে। দলটি কাজ করতে চায় জেলেদের পক্ষে।

এই গ্রামেই আছে জামাতপন্থী ফতোয়াবাজ কাঠমোল্লা। পাবেন লোভী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকেও। এনজিও চায় দীঘি তারা লিজ নিবে। চেয়ারম্যানের লক্ষ্য দীঘি দখলে রাখা। কাঠমোল্লা ও তার ধর্মান্ধ পুত্রের স্বার্থে আঘাত লাগায় তাদের দাবি এনজিও ও ব্যাংক হটাও। তারা গ্রামীণ রমণীদের নষ্টভ্রষ্ট পথে পরিচালিত করছে। দ্বীনের পথে ফেরানোর মহতী দায়িত্ব নিয়েছে কাঠমোল্লারা।

এই দীঘিকেন্দ্রিক পলিটিক্সের সাথে জড়িত আবীর, পৃথ্বী এবং অনীক। সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে পাওয়া-না পাওয়ার সম্ভাবনাসংক্রান্ত আবেগ এবং কিছু রূঢ় বাস্তবতা।

যাঁরা ইমতিয়ার শামীমের উপরোল্লিখিত মাস্টারপিস দু'খান পড়েছেন, তাঁদের কাছে এই উপন্যাস নেহায়েত ফেলনা কিংবা কিচ্ছু হয়নি মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়!
Profile Image for Israt Zaman Disha.
194 reviews627 followers
May 4, 2017
বইটির কাহিনী মূলত গ্রাম্য রাজনীতি, ফতোয়া, এনজিও, ক্ষমতার লোভ এইসবের মধ্যে আবর্তিত। আমার কাছে বেশ কঠিন মনে হয়েছে। গল্পের মূলটা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু লেখনী বেশ কঠিন মনে হয়েছে।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews159 followers
January 28, 2023
গ্রামের শীতের একটা ঘ্রাণ আছে। এই ঘ্রাণটা খুব সকালে বেশি পাওয়া যায়। মাটির উনুনের পাটখড়ি পোড়া গন্ধ, ভোরের শিশির ভেজা মাটির গন্ধ, আরেকটা কিসের যেনো গন্ধ...বোধহয় শৈশবের বা মায়ার। পরিচিত মুখদের হৈচৈ, নানান আয়োজন, সব মিলে গ্রামের একটা শীতের সকালের সাথে পৃথিবীর আর তাবৎ কোনো সুন্দর বিষয়ের সাথে তুলনা চলেনা। আমার মনে পড়ে গ্রামের বাড়িতে আমার ঘুম ভাঙতো সবার পরে। ঘুমের মাঝে সেইসব কোলাহল, সেইসব শব্দ আমি আজও শুনি। আমার দাদাজান আমাকে টেনে তুলে নিয়ে যেতেন দূরে। কখনও খেজুরের রস খেতে, কখনও আখের গুড় খাওয়াতে। ঘুরে আসার পর চুলার ধারে বসিয়ে দাদীজান এক থালা ভর্তি পিঠা ধরিয়ে দিতেন। আমার দাদা-দাদীজা্নের সাথে সেইসব শীতের সকালও বিদায় নিয়েছে।

ঢাকায় বসে হিম উৎসবে মেতে ওঠাটা কঠিন। এখানকার হিমে দাঁতে দাঁতে বাড়ি খায়না। এখানকার হিম মনে। শীতল হৃদয় সারাবছর। এ হিম কাঁপন ধরায় কলিজায়। এমন শীত গ্রামের মানুষও পেয়েছে কখনও সখনও। নব্বই দশকে একটি দীঘিকে ঘিরে, রাজনীতি, ধর্ম কিংবা এনজিও ওয়ালা দের টানাটানির গল্প শোনাতে শোনাতে গ্রামের পরিবেশ, হায়ারার্কি বদলে যাবার একটা চিত্র এঁকে ফেলেছেন লেখক।

এটা লেখক ইমতিয়ার শামীমের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। আর আমার এই বছর পঠিত প্রথম। আমার এই প্রিয় লেখকের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এটি কিছুটা কম ভালো লেগেছে। কঠিন কঠিন বাক্য আর শব্দের ভীড়ে মূল ঘটনা কি সেটায় খেয়াল রাখতে কষ্ট হচ্ছিলো। লেখক ইমতিয়ার শামীম সত্তর পরবর্তীকাল নিয়ে যেসব লেখা লিখেছেন, নাড়া দিয়েছেন চিত্তে, সেগুলো আসলে শুধু গল্পই নয়। ফ্যাক্ট! তবে কথা আসলে দিনশেষে ওটাই, সরলতাকে কখনও কখনও লোভের হিমবাহতায় জমাট বেঁধে যেতে দেখতে হয়। সত্যকেও মনে হয় গল্প।
আর তারপর সবকিছু গল্প হয়ে যায়...

#bookstagram #bookstagrambd #bookstagrambd🇧🇩 #books #bookish #bookrecommendation #readersofinstagram #bookphotography #bibliophile #bookstagrammer #bookclub #bookreview #bengalibooks #read #reading #bookreviewer #bookblog #bookblogger
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
June 25, 2020
ইমতিয়ার শামীম একটু ভিন্ন ধরণের গল্পবলিয়ে। তিনি তার লেখার ভেতরেই ডেকে আনেন আন্দোলনের জোয়ার। তার লেখা মানেই দেশের উত্তপ্ত করা রাজনীতি, অপনীতি আর ব্যক্তিগত টানাপোড়ন। ডানাকাটা হিমের ভেতরও বইটাও ব্যতিক্রম নয়। একটি দীঘিকে ঘিরে এনজিও, রাজনৈতিক দল ও ধর্মান্ধতার যে নোংরা খেলা সেটা দেখিয়েছেন তিনি। আরও দেখিয়েছেন নারীর ওপর ধর্মান্ধতার বিরূপ প্রভাব, গ্রামবাংলার বুকে এককালের এনজিওর যে ছড়ি ঘোড়ানো আর এসবের কোপানলে সাধারণের মানুষের বলি হওয়ার দৃশ্য।

গদশৈলী আমরা হেঁটেছি যারা, আমাদের চিঠিযুগ যতটা সরল লেগেছিল এই বইয়ে ঠিক ততটাই কঠিন। কাহিনী বরাবরের মতই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। তবে দীর্ঘবাক্যের ব্যবহার, জটিল সব উপমা, আমার জন্য বইটাকে সুখপাঠ্য করে তুলতে পারেনি। কঠিন লেগেছে, তবে বইয়ের কাহিনীর বিষণ্ন আবহ সবথেকে স্ট্রং দিক। আর কাহিনীর চূড়ান্ত পরিণতি মনে দাগ কেটে যেতে বাধ্য।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
527 reviews197 followers
February 3, 2023
আমার এখনের প্রিয় রেখকের নাম করতে গেলে ইমতিয়ার শামীমের নাম সেরা তিনে থাকবে।ওনার বই আহামরি ধরনের মানুষের কথা বলে না। এই বই লেখকের প্রথম বই। কিন্তু বইয়ের ভাষা সহজ এটা বলা যাবে না।এই বই হলো গ্রামের রাজনীতি ,সো কলড মুরব্বি সমাজ,ধর্ম বেচে খাওযা ফতোয়াবাজ আর এনজিও নিয়ে।

কিন্তু আমার জন্য বইয়ের হাইলাইট ছিলো অন্য কিছু। গ্রামের গন্ধ। আমার চেনা পুরোনো গ্রামের গন্ধ।”চেনা থেকে অচেনা হয়ে ‍ওঠে সন্তপ্ত গ্রাম মানুষ ”।এই লাইন আমার হারিয়ে যাওয়া গ্রামের কথা ,সেটার গন্ধ মনে করিয়ে দেয়।
Profile Image for Aditee.
90 reviews21 followers
March 22, 2018
Sucked into a monstrous vortex of undying tears, and guilt.. a shameful, self-loathing hellfire of guilt!
Little did I know.....
little did I know...
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
549 reviews
December 31, 2025
ইমতিয়ার শামীমের ‘আমরা হেঁটেছি যারা’ কিংবা ‘চিঠিযুগ’ যারা আগে পড়েছি এবং মুগ্ধ হতে বাধ্য হয়েছি বলা চলে, তারা যদি একেবারে শুরুতেই লেখকের প্রথম উপন্যাস না পড়ি তবে খুব ভালো লাগবে এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। কারণ, তার পূর্বোল্লিখত বইগুলোতে তিনি নিজের শক্তির যে প্রকাশ দেখিয়েছেন তা এখানে অর্থাৎ তার প্রথম বইয়ে পুরোপুরি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় না।

যদিও বিষয়টা একেবারে স্বাভাবিকই। কোনো লেখকের প্রথম বই-ই যদি তার সবচেয়ে ভালো লেখা হয় তবে জিনিসটাকে ঝামেলার। কেননা, এর পরে তাহলে তার উন্নতি হয়নি বলতে হবে। আরও যেকোনো স্কিল এর মতো লেখালেখিও শেখার বিষয়। ধীরে ধীরে এতে উন্নতি হয়।

এসব বাদ দিলেও, এই উপন্যাস ভালো লাগে পড়তে। পরবর্তীতে যেখানে তার গদ্য আকাশস্পর্শী মানের হয়েছে—এখানেও তার সেই গদ্যের সমমনা পূর্বপুরুষের দেখা মিলে���
Profile Image for Akash Saha.
156 reviews27 followers
June 7, 2021
তারপর সবকিছু গল্প হয়ে যায়.........
অদ্ভুত এক বিষন্নতায় ভরা বইটি। প্রেক্ষাপট নব্বইয়ের দশক, যখন এনজিওগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা বাংলাদেশে,দারিদ্র্যমুক্তির নামে শোষণ করতে থাকে গ্রামের সাধারণ মানুষদের, বাম দলগুলো যখন সাধারণ মানুষের ভালো না চেয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এরকম এক বিষন্ন সময়ের গল্প 'ডানাকাটা হিমের ভিতর'।

উপন্য��সটি শুরু হয় রিক্তামাতার দিঘির দখল নিয়ে, যা একসময় ছিল জেলেদের দখলে। এই দিঘি নিয়ে গ্রামের স্বার্থান্বেষী মহল খেলা শুরু করে, জেলেদের পক্ষে কোর্টের রায় এলেও তারা জেলেদের দিঘি দেয় না। বরং এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করে জেলেদের বিরুদ্ধে। ঘটনাক্রমে এর সাথে জড়িয়ে যায় অনিক, যে ছিল সবসময় একরোখা ও মানবতাবাদী, সে জেলেদের পক্ষ নেয়। সত্যের সাথে থাকার জন্য তার সমগ্র জগৎ একসময় ভেঙ্গে পড়ে। অনিকের ছোটবেলার বন্ধু আবির, প্রথম প্রেম পৃথ্বী, নিজ স্বার্থে অনিককে বলি দেয়,শুধু থেকে যায় অনিকের বোন তিথি।

ইমতিয়ার শামিমের অন্য উপন্যাসগুলোর তুলনায় ডানাকাটা হিমের ভিতর- একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে,ভাষাভংগি সামান্য কঠিন লেগেছে। কিন্তু উপন্যাসের শেষটুকু অসাধারণ।
Profile Image for Dystopian.
436 reviews231 followers
November 27, 2025
ইমতিয়ার শামীম গ্রামীণ জীবন, সামাজিক ক্ষমতার টানাপোড়েন এবং মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বকে খুব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের চরিত্রগুলো জীবন্ত, তাদের আবেগ, আশা‑ভরসা এবং মানসিক সংগ্রাম পাঠককে সহজেই জড়িয়ে ধরে। গ্রামের রাজনীতি, সম্পর্ক এবং আধুনিকতা ও প্রথার মধ্যে টানাপোড়েন এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে গল্পটা পড়তে পড়তে মনে হয় যেন আপনি নিজেও সেখানে আছেন।

গল্পের গতি ধীর, তাই সময় নিয়ে চরিত্র এবং পরিস্থিতির গভীরতায় ঢুকে পড়া যায়। যারা গ্রামের জীবন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের মানসিক যাত্রার সঙ্গে পরিচিত হতে চান, তারা উপন্যাস থেকে অনেক কিছু অনুভব করবেন। শেষ হওয়ার পরও চরিত্র এবং তাদের অনুভূতি দীর্ঘসময় মনে থাকে, যা উপন্যাসটিকে আরও গভীর করে তোলে।
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books142 followers
May 13, 2020
প্রচণ্ড রকম দুর্বোধ্য লেগেছে... ইমতিয়ার শামীমের 'আমরা হেঁটেছি যারা' আর 'আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক' পড়ার পর এই বইটা হতাশ করল... সামনে লেখকের বাকি বইগুলো পড়ার ইচ্ছে রইল।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews118 followers
May 4, 2020
খুব ভালো।
লেখকের লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছি। তবে ভাষা বেশ কঠিন।
Profile Image for Asif Khan Ullash.
145 reviews8 followers
June 24, 2024
ইমতিয়ার শামীম কখনোই হতাশ করেন না এবারেও করেননি।
এন জি ও , গ্রামীণ রাজনীতির উপস্থিতি থাকলেও সেটিকে ব্যাকড্রপে রেখে এটি ইমতিয়ার শামীম এর অন্য প্রায় সব উপন্যাসের মতই হয়ে উঠেছে নিজেকে খোঁজার ও চেনার উপাখ্যান। লেখকের অন্য সকল লেখার মতই এই বইতেও নিঃসঙ্গতার, একাকীত্বের সুর বাজে। সেই সুরের মুগ্ধতাতেই আমরা হেঁটেছি যারা শেষ করবার সাথে সাথেই আবার গোড়া থেকে শুরু করে পুনরায় শেষ করার পরেরদিন আরো একবার পড়েছিলাম!

তবে উপন্যাসের গল্প কাঠামো, চরিত্র বিশ্লেষণ, ফোরস্যাডোয়িং সবকিছু ছাপিয়ে গেছে লেখনী ও ভাষার ব্যবহার, বিশেষ করে শেষ কয়েক পাতা তো অসাধারণ, শুধু ওই কয়েক পাতা পড়বার জন্যই পুরো বই বারবার গোড়া থেকে শুরু করা যায়। যদিও আমরা হেঁটেছি যারা অথবা চিঠিযুগের মত চুম্বকীয় নয় কিন্তু ভালো। তবে এও মনে রাখতে হবে এটি লেখকের প্রথম উপন্যাস। আমরা হেঁটেছি যারা, চিঠিযুগ আরো পরিণত হবার পরে লেখা।

সবমিলিয়ে সম্পূর্ন একটি উপন্যাস। যদিও কাহিনী খুবই আনফেয়ার কিন্তু চরিত্র সৃষ্টি করেন যিনি পরিণতি দেবার ক্ষমতাও তো তারই!
Profile Image for Shimin Mushsharat.
Author 1 book371 followers
May 19, 2020
(মাইল্ড স্পয়লার অ্যালার্ট)

এটা একটা খুব কঠিন বই। অনেকটুকু পড়েছি দাঁতে দাঁত চেপে। মানুষের অসহ্য চিন্তাধারার বিবরণ পড়াই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। কিছু ক্যারেক্টারকে পিটিয়ে হাড়গোড় ছাতু করে দিতে ইচ্ছা করছিল। এখনও করছে। খুব রেখে রেখে পড়েছি। অনেক ফোরশ্যাডোয়িং ছিল। বুঝতে পারছিলাম কিছু একটা হবে। ইচ্ছা করছিল শেষ না করতে। কিন্তু তাও আমি আশাবাদী প্রাণী। শেষ করেছি। রাগে দুঃখে কী যে করতে ইচ্ছা করছে নিজেই বুঝতে পারছি না। সবকিছু খুব আনফেয়ার।

বইয়ের থিম গ্রামের রাজনীতি, এনজিও আর ফতোয়াবাজদের নিয়ে। আর অবশ্যই মানুষ বিশ্লেষণ। বলে রাখা ভালো, এটা বেশ আগের বই (আমার সমান এই বইয়ের বয়স।) লেখকের যে কয়টা বই পড়লাম এটাই সবচেয়ে কম ভালো লেগেছে। আসলে আমি খুব ডেভাস্টেটেড ফিল করছি বইটা পড়ে। মা একটু আগে বলে গেল, "কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।" এই বইয়ে আমি কোনো আনন্দ খুঁজে পাই নাই। কান্নাও পাচ্ছে না। রাগ লাগছে।
Profile Image for শিফাত মহিউদ্দিন .
114 reviews3 followers
March 10, 2020
আমরা হেঁটেছি যারা আর আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক পড়ার পর ডানাকাটা হিমের ভেতরের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা বেশী ছিল না। কিন্তু সেই প্রত্যাশার পাত্র উপচে দিতে পেরেছেন ইমতিয়ার শামীম। আহমদ ছফা কেন এই বইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন তা এখন বুঝতে পারছি। মাত্র ১১৬ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসের একেকটা প্যারাগ্রাফ যেন নিজেই একটা রচনার সমান, পড়া এবং বোঝা দুটো প্রক্রিয়া একসাথে না মেলাতে পারলে ইমতিয়ার শামীমের এই সৃষ্টিকর্ম উপভোগ করা কঠিন। রাজনৈতিক দল, এনজিও ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর মধ্যকার ত্রিমুখী এক লড়াইকে তিনি যেভাবে উঠিয়ে এনেছেন তা একেবারেই অনন্য এই অনভিজ্ঞ পাঠকের মতে।

বইটির রচনাশৈলি লেখকের অন্যান্য লেখা থেকে জটিল বিধায় শুরুতে অনেক সময় লাগতে পারে মন বসাতে। আমার প্রায় এক মাস সময় লেগেছে প্রথম ত্রিশ পৃষ্ঠায় দাঁত বসাতে। তবে এই বই পড়ার পর ইমতিয়ার শামীমের প্রতি আমাকে এখন বায়াসড হয়ে যেতে হচ্ছে। শেষ করছি ঠাকুরমার ঝুলিতে আমার সবচাইতে প্রিয় গল্পের একটার অনন্য বিনির্মাণের কথা টেনে যেটা লেখক উপন্যাসের একেবারে শেষপ্রান্তে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করেছেন।

গল্প বলি, গল্প শোনো। এই গল্প নীলকমল আর লালকমলের। দানব এগল্পে মানব হয়ে আমাদের লজ্জা দিয়েছিল। তোমার কি জানা আছে এ দানব আসলে প্রাগার্য মানুষ, পূর্বপুরুষ আমার? নীলকমল সেই দানব যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল আমাদের বৃক্ষচারী নিষাদ পূর্বসূরীদের সাথে। একবার ভাব সেই স্বাধীনতাকামী নিষাদদের কথা,- বনবনানী আর নদীনালায় ভরা এই বঙ্গদেশ তাদের নিজের প্রাকৃতিক রহস্য দিয়ে রক্ষা করেছিল আর্য অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে। তাতে করে লাভ হল এই, আর্যরা বলে বেড়াতে লাগল এই দেশ হল পাণ্ডববর্জিত। আর আমরা হলাম বৃক্ষচারী দানব কিংবা রাক্ষসখোক্কস। তারপর নীলকমল চলে গেল আর্যদের দলে, আর্যরা বল পেল, শক্তি পেল, জ্ঞান পেল, দুধেল রাজকন্যে পেল রাজ্যসহ। তুমি অবশ্য এই বলে সান্ত্বনা পেতে পার নীলকমল হল পরিবর্তনশীলতার প্রতীক। অথবা কালের মহানায়ক, আন্তর্জাতিক মানুষ। কোন সুদূরের পার থেকে আসা মানুষদেরও এই বঙ্গদেশে আপন করে নেয়ার জন্যে সে নিজের মাকে হত্যা করেছিল আর্যসন্তান লালকমলের সঙ্গে মিলে। কী অদ্ভুত ঘটনা দেখ- আর্যরা দাবি করে তাদের শরীরে বিশুদ্ধ নীল রক্ত বয�� গভীর সমুদ্দুরের জলের মত, অথচ এই আর্য সন্তানের নাম কি না লালকমল! আর লালরক্তের প্রাগার্য মানুষটার নাম কি না নীলকমল! বিগত জন্মে লালকমল ছিল লক্ষ্মী মানুষ-রাণীর ছেলে কুসুম; আর নীলকমল ছিল রাক্ষসী-রাণীর ছেলে অজিত। লোহার প্রাণ অজিত সব সয়েছে, সোনার প্রাণ কুসুম ভেঙে পড়েছে। বিজয়ের আনন্দে উল্লসিত আর্য রচিত উপকথার বদ্বীপে এখন বসবাস করি আমরা নীলকমলেরা। নিজেদের সেই নিষাদ, প্রাগার্য পূর্বসূরীদের ভাবি রাক্ষস কিংবা দানব।

এরকম উপলদ্ধি হওয়ার পর পাঁচ তারা না দিয়ে আর কোন উপায় রইলো না। ছোটবেলার একটা বিশ্বাসকে ইমতিয়ার শামীম যেন ভেঙেচুড়ে দিলেন, তারপরেও কেন জানি এক অদ্ভুত স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করছি।
Profile Image for Heisenberg .
47 reviews1 follower
May 29, 2019
ইমতিয়ার শামীমের লেখনীর প্রতি আমার পক্ষপাত থাকবে মনে হচ্ছে।
Profile Image for Nakib Hasan.
54 reviews1 follower
July 16, 2023
ভালো লাগে নাই। একঘেয়ে বর্ণনা। মন্থর গতি।
Profile Image for Wazedur Rahman Wazed.
Author 2 books22 followers
November 27, 2019
ডানাকাটা হিমের ভেতর বইটিতে ইমতিয়ার শামীম ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রামীণ জীবনে এনজিও নামক শোষণের এক সামাজিক কারখানাকে। যে কারখানায় সমাজের উন্নয়নের সচিত্র প্রতিবেদন দেখিয়ে ক্ষমতাশীল একদল শুধু সমাজই নয়, বরং সমাজের মানুষগুলোকেও কুক্ষিগত করে রাখে। এমনকি গ্রামের একমাত্র দীঘি, যার জন্য দু'বেলা পেট পুরে খেতে পায় জেলেরা- সেটিও নিজেদের আয়ত্ত্বে নিয়ে নিতে চায়। তাই, সেই সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় স্বপ্নবাজ একদল বামপন্থী তরুণ যুবকের দল। তারা স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে আবারো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখেছে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার। সেই তরুণদের সাথে নিজেদের সর্বস্বটা উজাড় করে দাঁড়ায় জেলের দলও। তাদের কাছে আদিম সেই মাছ ধরার নেশা ও পেশা দুই-ই এখনো অপরিবর্তনীয়।

কিন্তু দীঘির অপর পাড়ে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঁড় হিসেবে দাঁড়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মাওলানা রমিজ কিংবা হাশেম প্রামাণিকের মতো চাটুকারের দল। তাদের কাছে যেন নিজের স্বার্থে ধর্ম বিক্রি করাও জায়েজ। অথচ নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করা সেই সামাজিক প্রতিষ্ঠান এনজিওতে নিজেদের ঘরের নারীর পদার্পণ মুশরিকের শামিল। আর এর মধ্যে ভালোবাসার মোহে আবিষ্ট হয়ে অন্যের অধিকার নিজের কাঁধে তুলে নেয়ার ফলস্বরূপ অনীকদের মতো বিভ্রান্ত যুবকরা কেবল গরাদের শিক ভেদ করে আসা সূর্যের আলোয় নিজেকে খোঁজে। এভাবেই ইমতিয়ার শামীমের সব কথা তারপর সব গল্প হয়ে যায়...

পূর্ণাঙ্গ রিভিউ লিংকটি এখানে পাবেন - https://roar.media/bangla/main/book-m...
Profile Image for Fahad Jewel.
33 reviews14 followers
March 30, 2020
আমার পড়া লেখকের প্রথম বই এটি। শুনেছি, এই বইটার পান্ডুলিপি পড়ে আহমদ ছফা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। কেন করেছিলেন, সেটা ধরতে আমার বেশ সময় লেগেছে। প্রথম দিকে বইটাতে মনোযোগ দিতে পারছিলাম না মোটেও, কারণ ইমতিয়ার শামীমের গদ্যধারার সাথে পরিচিত নই। গদ্য কাব্যিকতার নতুন এক রূপ ধরা পড়েছে এখানে। সেই সাথে অনেক গুলো কথা রয়েছে যা ভাবনার জগতে আলোড়ন তুলতে সক্ষম। অনেক জায়গায় ছোট ছোট সরল বাক্যগুলো কী দারুণ কাব্যিক একটা ছায়া পেয়েছে ইমতিয়ার শামীমের হাতে। এনজিও, স্থানীয় রাজনীতি আর সমাজের কিছু মানুষদের মনোজগৎ বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে। চেষ্টা করা সমাজ বিশ্লেষণেরও। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত বইটাতে ভালো লাগা রাখতে বাধ্য করবে আশা করি।
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books228 followers
February 8, 2020
ইমতিয়ার শামিমের মূল শক্তির জায়গা কাহিনী নয় বরং তার গদ্য। "আমরা হেঁটেছি যারা" ও "আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিক ঝিক" পড়ার পর এই বইটা জুইত লাগার কথাও না। লাগেওনি।
Profile Image for Jihad.
5 reviews
March 7, 2024
লেখক আপনার লেখায় মুগ্ধ। সব বই পড়ার অপেক্ষায়।
Displaying 1 - 23 of 23 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.