What do you think?


কী একটা অবস্থা
আমার নাম ইভান। এই বইয়ের প্রধান চরিত্র। তবে আমি যে কী ভয়ংকর ঝামেলার মধ্যে আছি, সেটা এত কম শব্দে এখানে লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। বর্তমানে বাসায় একেবারে মানবেতর জীবন যাপন করছি আমি। একটা ফার্নিচারের গুরুত্ব থাকলেও বাসায় আমার কোনো গুরুত্বই নেই। আমি বাজার-সদাই করে দেই, মেহমান আসলে দোকানে যাই, ডিশের লাইন, ইন্টারনেটের লাইনওয়ালাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি, বিদ্যুতের বিল দেই এবং বাসার প্রতিটি সদস্যের ঝাড়ি খাই। এত কিছুর পরও ‘তুই তো বাসার কোনো কাজ করিস না’ টাইপ অভিযোগ আমার ওপর এসে পড়বে- এটা আমি মেনেই নিয়েছি। কিন্তু এভাবে কি জীবন চলবে ?
একটা মাত্র প্রেমিকা, তারও বিয়ে হতে বসেছে। এখন আমার অ্যাকশনে না গিয়ে উপায় কী!
আমার সব বন্ধুই বিবাহিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় যাওয়া যায় না। মেসির কেন ম্যানচেস্টার সিটিতেই যাওয়া উচিৎ এ নিয়ে যখন আলোচনা জমে ওঠে, ঠিক তখন বিবাহিত বন্ধুর কাছে ফোন আসে। বন্ধু একপাশে সরে গিয়ে ‘আচ্ছা, আচ্ছা’ করে মাথা নেড়ে ফিরে এসে বলে, ‘ভুলেই গিয়েছিলাম এক হালি ডিম কিনতে হবে। যাই রে, পরে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।’
দুর্বিষহ অফিসের পর ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে যে আড্ডা মারব, সে সুযোগও নেই। সব কয়টা হয় শ্বশুরবাড়ি, না হয় শ্বশুর তাদের বাড়ি। এর বাইরেও তো একটা জীবন আছে নাকি? আর এদের সঙ্গে কথা বলাও কঠিন। যদি বলি, ‘মন খারাপ’, বলবে ‘বিয়া কর, মন ভালো হয়ে যাবে।’ আবার যদি বলি, ‘মন ভালো’, বলবে, ‘বিয়া কর, তখন দেখব কেমনে মন ভালো থাকে।’ কী একটা অবস্থা!
একটা মাত্র প্রেমিকা, তারও বিয়ে হতে বসেছে। এখন আমার অ্যাকশনে না গিয়ে উপায় কী!
আমার সব বন্ধুই বিবাহিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় যাওয়া যায় না। মেসির কেন ম্যানচেস্টার সিটিতেই যাওয়া উচিৎ এ নিয়ে যখন আলোচনা জমে ওঠে, ঠিক তখন বিবাহিত বন্ধুর কাছে ফোন আসে। বন্ধু একপাশে সরে গিয়ে ‘আচ্ছা, আচ্ছা’ করে মাথা নেড়ে ফিরে এসে বলে, ‘ভুলেই গিয়েছিলাম এক হালি ডিম কিনতে হবে। যাই রে, পরে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।’
দুর্বিষহ অফিসের পর ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে যে আড্ডা মারব, সে সুযোগও নেই। সব কয়টা হয় শ্বশুরবাড়ি, না হয় শ্বশুর তাদের বাড়ি। এর বাইরেও তো একটা জীবন আছে নাকি? আর এদের সঙ্গে কথা বলাও কঠিন। যদি বলি, ‘মন খারাপ’, বলবে ‘বিয়া কর, মন ভালো হয়ে যাবে।’ আবার যদি বলি, ‘মন ভালো’, বলবে, ‘বিয়া কর, তখন দেখব কেমনে মন ভালো থাকে।’ কী একটা অবস্থা!
- GenresHumor
112 pages, Hardcover
First published April 4, 2021
About the author
আদনান মুকিত
6 books5 followersলিখছেন ছোটবেলা থেকে; ‘আমাদের দেশ বাংলাদেশ’ ধরনের হাতের লেখা লিখতে লিখতে তাঁর লেখালেখি শুরু। তখন কলম-পেনসিলে লিখতেন এক হাতে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ সুযোগ করে দিয়েছে দুই হাতে কি-বোর্ড চালানোর; তাই তিনি এখন লেখেন দুই হাতে। একসময় গল্প, কমিকস আর আইডিয়া লিখে প্রথম আলো র ফান ম্যাগাজিন রস+আলোর পাতা ভরাতেন; এখন প্রথম আলো র ‘একটু থামুন’ পাতায় প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর লেখা কমিকস ‘বাসার ভাই’। মাসিক কিশোর আলোতেও শোভা পায় তাঁর লেখা গল্প, ফিচার ও কমিকস। সবচেয়ে বেশি লিখছেন অবশ্য পরীক্ষার খাতায়; বিভিন্ন পরীক্ষায় সফলভাবে ব্যর্থতার স্বাক্ষর রেখে এখন লিখছেন গল্প-উপন্যাস। ২০২০ সালে বেরিয়েছে তাঁর প্রথম বই ‘ডিগবাজি’। এর পরের বছরই প্রথম উপন্যাস ‘কী একটা অবস্থা’। আদনান মুকিত ‘কিশোর আলো’র সহযোগী সম্পাদক।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 43 reviews
December 10, 2021
৩.৫/৫
"আমার সব বন্ধুই বিবাহিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।..... যদি বলি 'মন খারাপ,' বলবে 'বিয়ে কর,মন ভালো হয়ে যাবে,' যদি বলি 'মন ভালো ' বলবে 'বিয়া কর, তখন দেখব কেমনে মন ভালো থাকে।' কী একটা অবস্থা!"
হ্যাঁ, এই হলো অবস্থা!! হা হা হি হি করে প্রাণ খুলে হাসতে চাইলে এই বইটা আপনার জন্য।
উপন্যাসের প্লট পুরনো, অতি পুরনো। কিন্তু আদনান মুকিতের স্বাদুগদ্য আর রসবোধের গুণে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ আনন্দ নিয়ে বইটি পড়েছি। লেখকের প্রতি একটাই প্রত্যাশা - পরবর্তী বইগুলোর প্লটে যেন অভিনবত্ব থাকে।
(১১ ডিসেম্বর, ২০২১)
"আমার সব বন্ধুই বিবাহিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।..... যদি বলি 'মন খারাপ,' বলবে 'বিয়ে কর,মন ভালো হয়ে যাবে,' যদি বলি 'মন ভালো ' বলবে 'বিয়া কর, তখন দেখব কেমনে মন ভালো থাকে।' কী একটা অবস্থা!"
হ্যাঁ, এই হলো অবস্থা!! হা হা হি হি করে প্রাণ খুলে হাসতে চাইলে এই বইটা আপনার জন্য।
উপন্যাসের প্লট পুরনো, অতি পুরনো। কিন্তু আদনান মুকিতের স্বাদুগদ্য আর রসবোধের গুণে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ আনন্দ নিয়ে বইটি পড়েছি। লেখকের প্রতি একটাই প্রত্যাশা - পরবর্তী বইগুলোর প্লটে যেন অভিনবত্ব থাকে।
(১১ ডিসেম্বর, ২০২১)
May 12, 2021
Rounding up 3.5 stars to 4. This one was laugh out loud material. So full of cliches, but very enjoyable cliches indeed.
March 10, 2023
অ-নে-ক-দি-ন পর একটা হাসির বই পড়লাম। 'দম ফাটানো হাসির জোকস' এর মতো হাসি না হাসা বই না, রীতিমতো অট্টহাসি হাসার মতো বই এই 'কী একটা অবস্থা'!
বইয়ের মূল চরিত্রের নাম ইভান। বাসার সবার ছোট, তবে বয়স এখন ২৮৷ এখনো ব্যাচেলর, তাই ৩৫ হাজার টাকার বেতন নিয়ে সে ভালোই আছে। যদি সে তার বসকে একটুও সহ্য করতে পারে না, তবুও সেখানে অন্তত বাসার মতো খারাপ অবস্থাতে সে নেই।
বাসায় সে একেবারে মানবেতর জীবনযাপন করে। কারণ তার রুমটাই যে বাসার ড্রয়িংরুম! গেস্ট আসুক কি তার বাবা, সবাই তার রুমটাই দখল করে বসে। শুধু কি তাই?
ইভানের মতে একটা ফার্নিচারের গুরুত্ব থাকলেও বাসায় তার কোনো গুরুত্বই নাই। আমি বাজার-সদাই করে দেয়, মেহমান আসলে দোকানে যায়, ডিশের লাইন, ইন্টারনেটের লাইনওয়ালাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, বিদ্যুতের বিল দেই এবং বাসার প্রতিটি সদস্যের ঝাড়ি খায়। এত কিছুর পরও সে ‘তুই তো বাসার কোনো কাজ করিস না’ টাইপ অভিযোগও তার শুনতে হয়। বাড়ির ছোট ছেলে যত বড় হোক না কেন, সে যে সবসময় ছোটই থাকে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ এই ইভান।
আবার তার খাটটাও বেশ চিকন। ড্রয়িং রুম হওয়ায় প্রাইভেসি বলতে কিচ্ছু নেই। বাবা-মা, ভাই-ভাবি হুটহাট তার রুমে ঢুকে যায়, তাদের ফুটফরমাশ ইভানের খাটতে হয়; যেন এই সংসারে আর কোনোভাবেই সে কন্ট্রিবিউট করে না!
আরো ভুগিচুগি ব্যাপার হচ্ছে ইভানের সব বন্ধুই বিবাহিত। বন্ধুদের তুমুল আড্ডার মধ্যে কোনো একজনের বউ ফোন দেয়, তক্ষুণি আসর ভণ্ডুল! সে যদি তাদের বলে, ‘মন খারাপ’, বলবে ‘বিয়া কর, মন ভালো হয়ে যাবে।’ আবার যদি বলে, ‘মন ভালো’, বলবে, ‘বিয়া কর, তখন দেখব কেমনে মন ভালো থাকে।’ কী একটা অবস্থা!
.
.
বইটা একটানে পড়েছি। কারণ এই বই শেষ না করে রাখতে পারছিলাম না। আদনান মুকিতের লেখা সেই রস-আলোর সময় থেকে পড়ি, মজাই লাগতো। তাই যারা রস-আলোর নিয়মিত পাঠক ছিলেন, তাদের আদনান মুকিতের লেখার ধরন বুঝতে না পারার কথা না।
একদম ঝরঝরে লেখা, লেখার মাঝে বিখ্যাত সিনেমা আর বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন এনে কাহিনীটাকে আরো রসালো করে দিয়েছেন।
বইয়ের মূল চরিত্রের নাম ইভান। বাসার সবার ছোট, তবে বয়স এখন ২৮৷ এখনো ব্যাচেলর, তাই ৩৫ হাজার টাকার বেতন নিয়ে সে ভালোই আছে। যদি সে তার বসকে একটুও সহ্য করতে পারে না, তবুও সেখানে অন্তত বাসার মতো খারাপ অবস্থাতে সে নেই।
বাসায় সে একেবারে মানবেতর জীবনযাপন করে। কারণ তার রুমটাই যে বাসার ড্রয়িংরুম! গেস্ট আসুক কি তার বাবা, সবাই তার রুমটাই দখল করে বসে। শুধু কি তাই?
ইভানের মতে একটা ফার্নিচারের গুরুত্ব থাকলেও বাসায় তার কোনো গুরুত্বই নাই। আমি বাজার-সদাই করে দেয়, মেহমান আসলে দোকানে যায়, ডিশের লাইন, ইন্টারনেটের লাইনওয়ালাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, বিদ্যুতের বিল দেই এবং বাসার প্রতিটি সদস্যের ঝাড়ি খায়। এত কিছুর পরও সে ‘তুই তো বাসার কোনো কাজ করিস না’ টাইপ অভিযোগও তার শুনতে হয়। বাড়ির ছোট ছেলে যত বড় হোক না কেন, সে যে সবসময় ছোটই থাকে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ এই ইভান।
আবার তার খাটটাও বেশ চিকন। ড্রয়িং রুম হওয়ায় প্রাইভেসি বলতে কিচ্ছু নেই। বাবা-মা, ভাই-ভাবি হুটহাট তার রুমে ঢুকে যায়, তাদের ফুটফরমাশ ইভানের খাটতে হয়; যেন এই সংসারে আর কোনোভাবেই সে কন্ট্রিবিউট করে না!
আরো ভুগিচুগি ব্যাপার হচ্ছে ইভানের সব বন্ধুই বিবাহিত। বন্ধুদের তুমুল আড্ডার মধ্যে কোনো একজনের বউ ফোন দেয়, তক্ষুণি আসর ভণ্ডুল! সে যদি তাদের বলে, ‘মন খারাপ’, বলবে ‘বিয়া কর, মন ভালো হয়ে যাবে।’ আবার যদি বলে, ‘মন ভালো’, বলবে, ‘বিয়া কর, তখন দেখব কেমনে মন ভালো থাকে।’ কী একটা অবস্থা!
.
.
বইটা একটানে পড়েছি। কারণ এই বই শেষ না করে রাখতে পারছিলাম না। আদনান মুকিতের লেখা সেই রস-আলোর সময় থেকে পড়ি, মজাই লাগতো। তাই যারা রস-আলোর নিয়মিত পাঠক ছিলেন, তাদের আদনান মুকিতের লেখার ধরন বুঝতে না পারার কথা না।
একদম ঝরঝরে লেখা, লেখার মাঝে বিখ্যাত সিনেমা আর বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন এনে কাহিনীটাকে আরো রসালো করে দিয়েছেন।
February 7, 2023
কী একটা অবস্থা! প্রথমবার রিভিউ লেখার পরই ভেনিস হয়ে গেল। আমার সাথে কেন এমন হয়! মেজাজ গরম। দ্বিতীয় বার আবার রিভিউ লেখা লাগতেছে। আগের অনুভূতি মারা গেছে। আসলেই আমি ইভাআআআন।
'আমার সাথেই কেন সবসময় এমন হয়! জীবনটা ত্যানাত্যানা হয়ে গেছে। সবাই আমারে নিয়া মজা লয়। আমি একটা বেকুব!'
মাঝে মাঝে এমন মনে হয় না আমাদের! আসলেই হয়। আমরা সবাই ইভান। বাস্তব জগতে আমাদের সাথে এমনই হয়। বিশেষ করে ইভানের বয়সে তো একটু বেশি হয়।
বইটা পড়ে মনের বিরুদ্ধে হাসতে হয়নি একদম। সস্তা কমেডি মানে অতিরিক্ত ভাড়াঁমি একদম নাই। পড়তে পড়তে মনের অজান্তে হো হো হি হি হা হা করে হেসে ফেলছি। সত্যি গল্পের ইভান বাস্তবে আমাদের প্রতীকী চরিত্র।
অনেক ভাল্লাগছে পড়ে। দ্বিতীয়বার পড়ার মতো বই।
"দেবদাসের জন্য চোখের পানি ফেলার পর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে আমার জন্য দুয়েক ফোঁটা চোখের পানি ফেলতে পারেন।"
মেজাজ গরম। বইটার পাতায় কফি পড়ে দাগ হয়ে গেছে।
আকাইশশশশা তোরে দিয়া কিচ্ছু হইব না। কচু খা বেয়াদব। আকাইইইম্মা শুধু শুধু বই কিনে আর পড়ে বাপের টাকা এবং নিজের সময় নষ্ট করস। নিজের ভবিষ্যত নিয়া চিন্তা নাই। দেবদাসের বাচ্চা। ভালা হইয়া যা।
এই রিভিউ লেখায় মগ্ন হয়ে আমার ভাত পুইড়া গেছে। ইয়া আল্লাহ। বড় ভাই হইয়া এখন ছোট ভাইয়ের বকা শুনতে হইব। আমি প্রস্তুত। জীবনডা তেজপাতা হইয়া গেছে। আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও আসমানে। অসহ্য। কী একটা অবস্থা!
(৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩)
'আমার সাথেই কেন সবসময় এমন হয়! জীবনটা ত্যানাত্যানা হয়ে গেছে। সবাই আমারে নিয়া মজা লয়। আমি একটা বেকুব!'
মাঝে মাঝে এমন মনে হয় না আমাদের! আসলেই হয়। আমরা সবাই ইভান। বাস্তব জগতে আমাদের সাথে এমনই হয়। বিশেষ করে ইভানের বয়সে তো একটু বেশি হয়।
বইটা পড়ে মনের বিরুদ্ধে হাসতে হয়নি একদম। সস্তা কমেডি মানে অতিরিক্ত ভাড়াঁমি একদম নাই। পড়তে পড়তে মনের অজান্তে হো হো হি হি হা হা করে হেসে ফেলছি। সত্যি গল্পের ইভান বাস্তবে আমাদের প্রতীকী চরিত্র।
অনেক ভাল্লাগছে পড়ে। দ্বিতীয়বার পড়ার মতো বই।
"দেবদাসের জন্য চোখের পানি ফেলার পর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে আমার জন্য দুয়েক ফোঁটা চোখের পানি ফেলতে পারেন।"
মেজাজ গরম। বইটার পাতায় কফি পড়ে দাগ হয়ে গেছে।
আকাইশশশশা তোরে দিয়া কিচ্ছু হইব না। কচু খা বেয়াদব। আকাইইইম্মা শুধু শুধু বই কিনে আর পড়ে বাপের টাকা এবং নিজের সময় নষ্ট করস। নিজের ভবিষ্যত নিয়া চিন্তা নাই। দেবদাসের বাচ্চা। ভালা হইয়া যা।
এই রিভিউ লেখায় মগ্ন হয়ে আমার ভাত পুইড়া গেছে। ইয়া আল্লাহ। বড় ভাই হইয়া এখন ছোট ভাইয়ের বকা শুনতে হইব। আমি প্রস্তুত। জীবনডা তেজপাতা হইয়া গেছে। আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও আসমানে। অসহ্য। কী একটা অবস্থা!
(৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩)
March 8, 2023
আমি যখন সিগারেটের ধোঁয়া খাই,তখন অন্য কোন কাজ করি না। অন্য কাজ বলতে,মোবাইল গুতানো কিংবা কথা বলা ইত্যাদি। এর একমাত্র কারণ, আমি আমার প্রিয় কাজ গুলো খুব মনযোগের সাথে করতে ভালোবাসি। বন্ধুদের গালি দেয়া,ধুমসে সিগারেট টানা,যখন তখন আর পা,হাত চুলকানো আমার অন্যতম প্রিয় কাজ। সেদিন একটু অভ্যাসের রীতি বদলে নিলাম,সিগারেট খেতে খেতে ইচ্ছে হলো ইন্সটা-টা একটু স্ক্রল করে দেখি।
ইন্সটায় স্ক্রল করতে করতে,হঠাৎ একটা বইয়ের রিভিউ দেখলাম। সাধারণত যে কাজ আমি করি না,সেটায় করলাম,বইয়ের রিভিউ টা পড়লাম। পড়ে,সিদ্ধান্ত নিলাম বইটা নিব,পকেটে টাকা ছিল অল্প। এর মধ্যে বন্ধুকে গোলাপ দেয়ার টাকাটা আলাদা করে রেখে দিতে হবে। রকমারিতে ঢুঁ মেরে দেখে নিলাম,ঐ টাকার মধ্যে পাব কিনা। ভাগ্য ক্লিক কর,আমার হাতে যা আছে,তা দিয়েই বইটা পাওয়া যাবে।
চট করে নিয়ে নিলাম বইটা বাতিঘর থেকে। এরকম হুটহাট করে সহজে বই নিই না,বিশেষ করে রিভিউ পড়ে। তবে আমার কয়েক জন ফেবারিট মানুষ আছে,উনাদের হিসাব অন্য, তারা বললে চোখ বন্ধ করে বই নিতে ও রাজি। মনের মধ্যে একটা খচখচ রয়েই গেল,কেমন হবে বইটা..
তারপর গেলাম গোলাপ কিনতে,গোলাপের দাম তপ্ত লোহার মত,হাত দেয়া যায় না। মন খারাপ করে চলে এলাম,গোলাপ নিলাম না। ভগ্ন মন নিয়েই বন্ধু'র সাথে দেখা করলাম..
এবার কাজের কথায় আসি,সে-ই যে তড়িৎ গতিতে বইটা নিলাম,মনে সন্দেহ নিয়ে,বইটা শেষ করলাম পড়ে। নাম "কী একটা অবস্থা "। লেখক "আদনান মুকিত"।
আমার মনে পড়ে না, শেষ কবে আমি এত হেসেছি;কোন বই পড়ে। ভাইরে ভাই,শুরু থেকে যে হাসানো শুরু করসে লেখক,শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বহাল ছিল সেটা। গল্প যেমন ই হোক,আমি হাসতে পেরেছি। এত হাসছি,আমার স্টুডেন্ট ভয় পেয়ে গেছে! এই যে এত হাসলাম,আমার কাছে এটাই লেখকের সার্থকতা। সবচে বড় কথা হচ্ছে, কোন লেইম কিছু ব্যবহার করেন নি লেখক,একদম সুস্থ বিনোদন।
" বেঁচে থেকে আর লাভ কি " টাইপ চিন্তা যখন মাথায় আসে,ঠিক তখন এই বই নিয়ে যদি কেউ বসে,আমি নিশ্চিত ঐ লোক ভুলে যাবে দুই ঘন্টা আগে নিজের উপর চরম মাত্রার বিরক্ত ছিল।
ও,হ্যাঁ। সেদিন আমার বন্ধুকে আমি গোলাপ দিয়েছিলাম,আমার কাঙ্খিত দামের মধ্যেই ফুল পেয়েছিলাম। আসলে ব্যাপার হচ্ছে, কেউ যখন কিছু মন থেকে চায়,সেটা বোধ হয় আটকে থাকতে দেয় না প্রকৃতি...
ইন্সটায় স্ক্রল করতে করতে,হঠাৎ একটা বইয়ের রিভিউ দেখলাম। সাধারণত যে কাজ আমি করি না,সেটায় করলাম,বইয়ের রিভিউ টা পড়লাম। পড়ে,সিদ্ধান্ত নিলাম বইটা নিব,পকেটে টাকা ছিল অল্প। এর মধ্যে বন্ধুকে গোলাপ দেয়ার টাকাটা আলাদা করে রেখে দিতে হবে। রকমারিতে ঢুঁ মেরে দেখে নিলাম,ঐ টাকার মধ্যে পাব কিনা। ভাগ্য ক্লিক কর,আমার হাতে যা আছে,তা দিয়েই বইটা পাওয়া যাবে।
চট করে নিয়ে নিলাম বইটা বাতিঘর থেকে। এরকম হুটহাট করে সহজে বই নিই না,বিশেষ করে রিভিউ পড়ে। তবে আমার কয়েক জন ফেবারিট মানুষ আছে,উনাদের হিসাব অন্য, তারা বললে চোখ বন্ধ করে বই নিতে ও রাজি। মনের মধ্যে একটা খচখচ রয়েই গেল,কেমন হবে বইটা..
তারপর গেলাম গোলাপ কিনতে,গোলাপের দাম তপ্ত লোহার মত,হাত দেয়া যায় না। মন খারাপ করে চলে এলাম,গোলাপ নিলাম না। ভগ্ন মন নিয়েই বন্ধু'র সাথে দেখা করলাম..
এবার কাজের কথায় আসি,সে-ই যে তড়িৎ গতিতে বইটা নিলাম,মনে সন্দেহ নিয়ে,বইটা শেষ করলাম পড়ে। নাম "কী একটা অবস্থা "। লেখক "আদনান মুকিত"।
আমার মনে পড়ে না, শেষ কবে আমি এত হেসেছি;কোন বই পড়ে। ভাইরে ভাই,শুরু থেকে যে হাসানো শুরু করসে লেখক,শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বহাল ছিল সেটা। গল্প যেমন ই হোক,আমি হাসতে পেরেছি। এত হাসছি,আমার স্টুডেন্ট ভয় পেয়ে গেছে! এই যে এত হাসলাম,আমার কাছে এটাই লেখকের সার্থকতা। সবচে বড় কথা হচ্ছে, কোন লেইম কিছু ব্যবহার করেন নি লেখক,একদম সুস্থ বিনোদন।
" বেঁচে থেকে আর লাভ কি " টাইপ চিন্তা যখন মাথায় আসে,ঠিক তখন এই বই নিয়ে যদি কেউ বসে,আমি নিশ্চিত ঐ লোক ভুলে যাবে দুই ঘন্টা আগে নিজের উপর চরম মাত্রার বিরক্ত ছিল।
ও,হ্যাঁ। সেদিন আমার বন্ধুকে আমি গোলাপ দিয়েছিলাম,আমার কাঙ্খিত দামের মধ্যেই ফুল পেয়েছিলাম। আসলে ব্যাপার হচ্ছে, কেউ যখন কিছু মন থেকে চায়,সেটা বোধ হয় আটকে থাকতে দেয় না প্রকৃতি...
August 28, 2024
যে বই প্রাণ খুলে হাসাতে পারে সেগুলোতে শুধু অনুভূতি ব্যক্ত করা যায় রিভিউ না। ক্লাস টু থেকে আদনান মুকিতের লেখার সাথে পরিচিত আমি। শৈশবে অনেক মগজ ধোলাই, রস আলো পড়ে আমার দিন কেটে। সেখানে উনার নাম থাকত সবসময়। গল্পটা একজন ইভানের অথবা বলতে গেলে আমাদের মত যুবকদের যারা পরিবারের ফুটফরমাশ খেটে খেটে বড় হচ্ছি।
এই বই পড়তেও আমার দুবার ফল ধুতে হয়েছে, তিন বার জি বাংলা ও স্টার জলসার চ্যানেল এনে দিতে হয়েছে,মোটর ছাড়তে হয়েছে, জানালা লাগাতে হয়েছে। (সব গুলাই সইত্য কথা কারণ আমরা তিন জন পরিবারে) তাই ইভানের বেহাল দশার সাথে নিজেকে মিলাতে পারছিলাম খুব। অনেক হেসেছি বইটা পড়তে গিয়ে। একেকটা কাজে ইভানের নাকানিচুবানি খাওয়াটা একেবারে পেটে ব্যাথা ধরিয়ে দেয়। যারা প্রাণ খুলে হাসতে চান তাদের জন্য হাইলি রেকোমেন্ডেড।
এই বই পড়তেও আমার দুবার ফল ধুতে হয়েছে, তিন বার জি বাংলা ও স্টার জলসার চ্যানেল এনে দিতে হয়েছে,মোটর ছাড়তে হয়েছে, জানালা লাগাতে হয়েছে। (সব গুলাই সইত্য কথা কারণ আমরা তিন জন পরিবারে) তাই ইভানের বেহাল দশার সাথে নিজেকে মিলাতে পারছিলাম খুব। অনেক হেসেছি বইটা পড়তে গিয়ে। একেকটা কাজে ইভানের নাকানিচুবানি খাওয়াটা একেবারে পেটে ব্যাথা ধরিয়ে দেয়। যারা প্রাণ খুলে হাসতে চান তাদের জন্য হাইলি রেকোমেন্ডেড।
April 24, 2023
যা তা অবস্থা।মাস্ট রিড হিসেবে রেকমেন্ড করলাম!!
রেটিং : ৯/১০
রেটিং : ৯/১০
April 8, 2023
দারুউউউউউন একটা বইই!!
December 4, 2022
ব্যাক্তিগত জীবনে সেন্স অফ হিউমারের ভক্ত হলেও রম্য উপন্যাসের আমি খুব একটা ফ্যান না। অন্তত লোকে যেগুলোকে বলে থাকে। জোর করে হাসানো ভাড়ামো টাইপ উপন্যাস যেমন বিরক্ত লাগে তেমনই ডার্ক হিউমার পড়ে "ওরে" বলার মতিন অত ইন্টেলেকচুয়াল ও আবার আমি না। বিষয়টা তরকারির লবণের মতন, I love humour but just the right amount.
আদনান মুকিতের এই উপন্যাস আমি এই মিলিয়ে তিনবার পড়লাম। কিছু কিছু লাইন এত্ত বেশী রিলেটেবল! মনের অজান্তে বইটা পড়তে পড়তেই হো হো করে হেসে দিসি!
আদনান মুকিতের এই উপন্যাস আমি এই মিলিয়ে তিনবার পড়লাম। কিছু কিছু লাইন এত্ত বেশী রিলেটেবল! মনের অজান্তে বইটা পড়তে পড়তেই হো হো করে হেসে দিসি!
March 12, 2023
বইয়ের মূল চরিত্র ইভান। বাসার ছোট ছেলে। তাকে কেন্দ্র করেই পুরো গল্প। এই গল্পে কোনো জটিলতা নেই, যা আছে তা হাসির খোরাক জোগানোর জন্য যথেষ্ট। পড়ে ভালোই লাগলো। লেখকের প্রথম বই ডিগবাজিও পড়া হয়েছে কদিন আগেই। সেই তুলনায় এটা বেশ ভালোই হয়েছে৷
(আমিও আমার বাসার সবার ছোটো ছেলে৷ ছোট বলে যতো দোষ নন্দ ঘোষের মতো আমার ঘাড়েও বহুবার অন্যরা দোষ চাপিয়ে দিয়েছে। পড়ার সময় হাসতে হাসতে হঠাৎ মনে হচ্ছিলো, "আরেহ! আমারও তো এমন অভিজ্ঞতা আছে! )
(আমিও আমার বাসার সবার ছোটো ছেলে৷ ছোট বলে যতো দোষ নন্দ ঘোষের মতো আমার ঘাড়েও বহুবার অন্যরা দোষ চাপিয়ে দিয়েছে। পড়ার সময় হাসতে হাসতে হঠাৎ মনে হচ্ছিলো, "আরেহ! আমারও তো এমন অভিজ্ঞতা আছে! )
September 26, 2024
আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে এবং নিজের জীবনকে ট্রল করে যেসমস্ত বিষয়সমূহ উত্থাপন করি তারই এক সংকলন এই বই।
February 18, 2023
লেখকের লেখার ধরন অনেক আগে থেকেই পছন্দ। এই বই এর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। এতো সাবলীলভাবে রম্যগল্প লেখার গুণের প্রশংসা করতেই হয়।
April 17, 2021
পছন্দের বইয়ের তালিকায় স্থান পেলো বইটা। চিন্তাও করি নাই শুরু করার আগে এতোটা ভালো লাগবে। এতো চমৎকার সাবলীল বর্ণনায় রম্য গল্প বহুদিন পড়িনি।
June 2, 2025
আদনান মুকিতের গদ্যশৈলীতে জাদু আছে তা হলফ করে বলতেই হয়! কর্পোরেট জীবন কিংবা প্রেমময় জীবনের হতাশার আলিঙ্গন অথবা, অথবা পরিবারের কাছে যথাযথ স্পেস না পাওয়ার দিনগুলি। একেকটা বন্ধুর একেকটা দর্শন পড়ে কখনো হাসালো কখনো ভাবুক দার্শনিক বানালো, কখনোবা চিন্তায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো৷ স্যাটায়ার ধার্মিক বইয়ের মাজে 'কী একটা অবস্থা' ছোট পরিসরের হলেও ইভানের ভাবনা গুলো বেশ বিস্তৃত!
January 19, 2022
গল্পের প্রধান চরিত্র ইভান, যার বয়স ২৮ বেতন ৩৫ (হাজার) তাকে থাকতে হয় বাসার ড্রয়িং রুমে। পুরোপুরি পাবলিক জীবন। বাসায় আব্বা-আম্মা, বড়ভাই-ভাবী, বড়আপু কেউই তাকে বাসার ফার্নিচার থেকে বেশি গুরুত্ব দেন না। বাসার বাজার সদাই করা, মেহমান আসলে দোকানে যাওয়া, ডিশের লাইন, ইন্টারনেট লাইনের লাইনওয়ালাদের নিয়মিত ঝাড়ি দেয়া, বিদ্যুৎ বিল দেয়া ইত্যাদি নানাবিধ কাজ করেও 'তুইতো কোনো কাজই করিস না' শীর্ষক বক্তব্য শোনা ব্যক্তিটির নামই ইভান। এদিকে তার একমাত্র প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, ড্রয়িং রুমে থাকার দরুণ সে কোনো গতি করতে পারছেনা। আপনি নিশ্চয়ই এমন কাওকে চেনেন না যে বিয়ে করে বউ নিয়ে ড্রইংরুমে উঠেছে!
এহেন ম্যালা মুসিবত ও মানবেতর জীবন কাটানোর গল্প নিয়েই লিখা হয়েছে 'কী একটা অবস্থা'!
রম্য গল্প উপন্যাসে বরাবরই আমার ভরসা কম। সেগুলো বেশিরভাগই '১০১টি সেরা হাসির জোক্স' এর এলাবোরেট ভার্শন ছাড়া আর কিছুই হয়না। তবে ফ্ল্যাপে লেখা অংশ পড়ে আদনান মুকিতের এই বইটা নিব কি নিবনা এই ব্যাপারে এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে নিয়ে ফেললাম অবশেষে। মজার ব্যাপার হলো, বইটা দারুণ উপভোগ করেছি আমি! উলটো গতরাতে শুরু করেছিলাম, আর নামাতে পারিনি।
রিলেটেবল ফান সবচেয়ে বড় ফান আমার কাছে। এই বইটা একটা সাধারণ উপন্যাসের ধাঁচেই লিখা, তাতে লেখক তাঁর মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ফান যোগ করে। বাস্তব জীবনের নানাবিধ সমস্যাগুলো যখন রিলেট করতে পারছিলাম, বইটা তখনই মজা লেগেছে। হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে এমন গ্যারান্টি দিতে পারছিনা, তবে মজা পাবেন। আর আমার কল্পনাশক্তি বরাবরই ভালো, যেকারণে পড়তে পড়তে নাটক আকারে দেখেও ফেলেছি পুরো গল্পটা। লেখককে ধন্যবাদ না দিলেই নয়।
সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটা রম্য উপন্যাস আমি বলবো৷ রেকোমেন্ড করবো যদি আপনি আমার মতো মাঝে মধ্যেই লাইট রিড বই পড়তে পছন্দ করেন।
এহেন ম্যালা মুসিবত ও মানবেতর জীবন কাটানোর গল্প নিয়েই লিখা হয়েছে 'কী একটা অবস্থা'!
রম্য গল্প উপন্যাসে বরাবরই আমার ভরসা কম। সেগুলো বেশিরভাগই '১০১টি সেরা হাসির জোক্স' এর এলাবোরেট ভার্শন ছাড়া আর কিছুই হয়না। তবে ফ্ল্যাপে লেখা অংশ পড়ে আদনান মুকিতের এই বইটা নিব কি নিবনা এই ব্যাপারে এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে নিয়ে ফেললাম অবশেষে। মজার ব্যাপার হলো, বইটা দারুণ উপভোগ করেছি আমি! উলটো গতরাতে শুরু করেছিলাম, আর নামাতে পারিনি।
রিলেটেবল ফান সবচেয়ে বড় ফান আমার কাছে। এই বইটা একটা সাধারণ উপন্যাসের ধাঁচেই লিখা, তাতে লেখক তাঁর মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ফান যোগ করে। বাস্তব জীবনের নানাবিধ সমস্যাগুলো যখন রিলেট করতে পারছিলাম, বইটা তখনই মজা লেগেছে। হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে এমন গ্যারান্টি দিতে পারছিনা, তবে মজা পাবেন। আর আমার কল্পনাশক্তি বরাবরই ভালো, যেকারণে পড়তে পড়তে নাটক আকারে দেখেও ফেলেছি পুরো গল্পটা। লেখককে ধন্যবাদ না দিলেই নয়।
সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটা রম্য উপন্যাস আমি বলবো৷ রেকোমেন্ড করবো যদি আপনি আমার মতো মাঝে মধ্যেই লাইট রিড বই পড়তে পছন্দ করেন।
August 15, 2021
আহা কি চমৎকার একটা বই পড়লাম। "কী একটা অবস্থা" পড়ে আদনান মুকিতের প্রশংসা করতেই হয়। হিউমার ছিল, দৈনন্দিন জীবনের চিত্রগুলো এত সাবলীলভাবে ধরা দিচ্ছিল যেন চোখের সামনেই ইভানকে দেখতে পাচ্ছি। একটা গল্প এভাবে হিউমার আর পরিমিতিবোধ নিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে চমৎকার একটা এন্ডিং দেয়া সোজা কথা না। বইটায় ফান ছিল, হিউমার ছিল, অনুভব করার মত ব্যাপার ছিল! সব মিলিয়ে সুন্দর!
May 8, 2021
২০২০ সালে আদানান মুকিতের ডিগবাজি দিয়েই তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়েছিল। এর আগে আদনান মুকিত কে কিংবা কেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ব্যাথা ছিল না। শুনে অবাক লাগতে পারে! কিন্তু পত্র পত্রিকা যেহেতু একেবারেই এড়িয়ে চলি এবং বাসায় প্রথম আলো রাখা হয় না প্রায় দেড় দশক পেরিয়েছে, সুতরাং, এ অতি স্বাভাবিক সংঘটন। বলা যায় এই বই পড়েই আদনান সাহেবের ফ্যান হয়ে গেলাম। আমার মনে ধারণা জন্মে গেল এই লোক দারুণ কমেডি লিখতে পারেন। এবং আজকের বাজারে যেহেতু নিখাদ হাস্যরস সৃষ্টির বান্দা অতি সীমিত, তাই আমার মনে উজ্জ্বল তারকা হয়ে রইল আদনান মুকিত, দীর্ঘ এক বছর। এরপর খবর পেলাম তার আরও একটি বই আসছে। বুঝুন! কী একটা অবস্থা!
ফ্যানদের একটা ব্যাপার হচ্ছে তারা যেভাবেই হোক প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করবে। আমিও করলাম। প্রচ্ছদ ও চুম্বক অংশ-এর আভাস পেয়ে আটঘাট বেঁধে বসলাম- আবার কিছু মজা পেতে যাচ্ছি। কিন্তু এবার সম্ভবত আমার জন্য ভিন্ন পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন লেখক। হাসির বদলে উপহার দিলেন দীর্ঘশ্বাস। পাতার পর পাতা নিখাদ দীর্ঘশ্বাস।
নাহ, কোনও অর্থেই বইটা খারাপ বলছি না। হয়তো অনেকেই এ বই থেকে হাসিই খুঁজে পাবেন। কিন্তু বইয়ের চরিত্রের বাস্তব সমস্যাগুলো অন্তর থেকে উপলব্ধি করে আমি তার মতোই পৌঁছে গেছি হতাশ স্তরে। অবশ্য আমি আগাগোঁড়াই হতাশা মানুষ, তার জন্য কারও বই পড়ার প্রয়োজন নেই। তবুও, এতটা পরিচিত আবেশ বইয়ে তুলে ধরার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। আমার মতো যাদের জীবনে কিছুই হচ্ছে না, কিংবা হবেও না, তাঁদের জন্য বইটা একটা বোমা! আর যারা দীর্ঘশ্বাস এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মলাটবন্দী অস্বস্তি।
বইয়ের শেষ দিকে আমিও একটু মজা পেয়েছি, মাঝেও টুকি টাকি কিছু বিষয়ে মজা পেয়েছি, কিন্তু সেগুলো কখনই দীর্ঘশ্বাস ছাপিয়ে মাথা তুলতে পারেনি। হয়তো এখানেই লেখকের কৃতিত্ব! তিনি যা করতে চেয়েছেন তাই করতে পেরেছেন। সম্ভবত তিনি লোক হাসাতে চাননি, তাই আমিও খুব বেশি হাসিনি। কিন্তু উপভোগ করেছি বলাই বাহুল্য।
যাই হোক। এ বই পড়বেন কি না পড়বেন তা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছা। নেড়ে ঘেঁটে দেখুন। হয়তো আমার মতোই আপনারও ভাল লাগতে পারে! কিন্তু ভাল না লাগলে সেই দায় লেখক আদনান মুকিত, কিংবা আমার নয়। সে দায় সম্পূর্ণ আপনার।
ফ্যানদের একটা ব্যাপার হচ্ছে তারা যেভাবেই হোক প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করবে। আমিও করলাম। প্রচ্ছদ ও চুম্বক অংশ-এর আভাস পেয়ে আটঘাট বেঁধে বসলাম- আবার কিছু মজা পেতে যাচ্ছি। কিন্তু এবার সম্ভবত আমার জন্য ভিন্ন পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন লেখক। হাসির বদলে উপহার দিলেন দীর্ঘশ্বাস। পাতার পর পাতা নিখাদ দীর্ঘশ্বাস।
নাহ, কোনও অর্থেই বইটা খারাপ বলছি না। হয়তো অনেকেই এ বই থেকে হাসিই খুঁজে পাবেন। কিন্তু বইয়ের চরিত্রের বাস্তব সমস্যাগুলো অন্তর থেকে উপলব্ধি করে আমি তার মতোই পৌঁছে গেছি হতাশ স্তরে। অবশ্য আমি আগাগোঁড়াই হতাশা মানুষ, তার জন্য কারও বই পড়ার প্রয়োজন নেই। তবুও, এতটা পরিচিত আবেশ বইয়ে তুলে ধরার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। আমার মতো যাদের জীবনে কিছুই হচ্ছে না, কিংবা হবেও না, তাঁদের জন্য বইটা একটা বোমা! আর যারা দীর্ঘশ্বাস এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মলাটবন্দী অস্বস্তি।
বইয়ের শেষ দিকে আমিও একটু মজা পেয়েছি, মাঝেও টুকি টাকি কিছু বিষয়ে মজা পেয়েছি, কিন্তু সেগুলো কখনই দীর্ঘশ্বাস ছাপিয়ে মাথা তুলতে পারেনি। হয়তো এখানেই লেখকের কৃতিত্ব! তিনি যা করতে চেয়েছেন তাই করতে পেরেছেন। সম্ভবত তিনি লোক হাসাতে চাননি, তাই আমিও খুব বেশি হাসিনি। কিন্তু উপভোগ করেছি বলাই বাহুল্য।
যাই হোক। এ বই পড়বেন কি না পড়বেন তা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছা। নেড়ে ঘেঁটে দেখুন। হয়তো আমার মতোই আপনারও ভাল লাগতে পারে! কিন্তু ভাল না লাগলে সেই দায় লেখক আদনান মুকিত, কিংবা আমার নয়। সে দায় সম্পূর্ণ আপনার।
December 22, 2021
অনেকদিন পর কোনো বই পড়ে মন খুলে হাসতে পেরেছিলাম🤣।এন্ডিংটা আরেকটু ভালো করা যেত! তাও যা বিনোদন দিয়েছে এই অনেক!
February 2, 2022
ঢাকা শহরের জীবন অনেক নির্মম বলেই হাস্যরসের কমতি হয় না, অন্যান্য জেলায় বাস করতে গিয়ে এর কিছুই পাইনি; সেসব শহর নির্মম না বলেই হাসির কিছু নেই। সবকিছু মিলে আমার অনেক ভালোলেগেছে।
November 18, 2025
ছোট, হাসিখুশি একটা কাহিনী। ভাল্লাগল।
January 22, 2026
যদি হেসে কুটুিকুটি হতে চান, তাহলে বইটা আপনার জন্য...
May 13, 2023
অনেকদিন পর একটি বই পড়ে প্রাণ খুলে হাসলাম। উপন্যাসের প্লট যে খুব অভিনব এমন না, তবে লেখকের সরল লেখনী আর হিউমার এর জন্য বইটি বেশ উপভোগ করেছি। কিছু কিছু জায়গায় একই কথা বারবার বলে, পেজের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এমনটা একটু মনে হলেও বইটি উপভোগ্য, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
হ্যাপি রিডিং 🌻
হ্যাপি রিডিং 🌻
March 24, 2026
আদনান মুকিতের 'কী একটা অবস্থা!' বইটা পড়ার পর আমার নিজেরও এখন ঠিক এই একটাই কথা বারবার বলতে ইচ্ছে করছে, আসলেই কী একটা অবস্থা! সত্যি বলতে, অনেকদিন পর এমন একটা বই পড়লাম যেটা পড়তে গিয়ে গাম্ভীর্য ধরে রাখা একদম অসম্ভব ছিল। বইয়ের প্রধান চরিত্র ইভান যেন আমাদের চারপাশের সেই চেনা মানুষটি, যে পরিবারের সব কাজ করেও দিনশেষে 'অপদার্থ' তকমা নিয়ে বেঁচে থাকে। বাজার করা, মেহমান সামলানো কিংবা ইন্টারনেটের বিল দেওয়া, সব কাজ ইভান একাই সামলায়, অথচ ড্রয়িংরুমের সেই চিলতে বিছানায় তার নিজের এক ফোঁটা প্রাইভেসি নেই। বইটার সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো এর সহজ-সরল হাস্যরস। লেখক জোর করে হাসানোর কোনো চেষ্টা করেননি, বরং আমাদের অতি পরিচিত মধ্যবিত্ত জীবনের করুণ ট্র্যাজেডিগুলোকেই এমন রসিকতার মোড়কে তুলে ধরেছেন যে আপনি হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরিয়ে ফেলবেন। বিশেষ করে ইভানের বন্ধুদের বিয়ের পর 'পাল্টে যাওয়া' আর সব সমস্যার সমাধান হিসেবে সেই ধ্রুপদী বাক্য "বিয়া কর, সব ঠিক হয়া যাবে" শোনার অভিজ্ঞতাগুলো পড়তে গিয়ে বারবার মনে হচ্ছিল, আরে এটা তো একদম আমারই গল্প! যারা অফিসের প্যারা, বাসার ফুটফরমাশ আর জীবনের হাজারো টেনশনের মাঝে একটু প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে চান, তাদের জন্য এই বইটা একদম পারফেক্ট। ইভানের মানবেতর জীবন আর তার সেই তথাকথিত প্রেমিকার বিয়ের টেনশন, সব মিলিয়ে লেখক যেন আমাদের একঘেয়ে যাপিত জীবনটাকে একটা রঙিন আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। একদম ঝরঝরে গদ্য আর সিনেমাটিক সব রেফারেন্সে ভরা এই বইটি শেষ না করে আপনি উঠতে পারবেন না। দিনশেষে দেবদাসের মতো ট্র্যাজেডি পড়ে চোখের পানি ফেলার চেয়ে ইভানের মতো "বেকার-খাটুনি" জীবনের গল্প পড়ে হাসাটা অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক। নিরেট বিনোদন আর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আদনান মুকিতের এই সৃষ্টিটা সত্যিই অসাধারণ।
Read
May 18, 2023বইটি " ইভান " নামের এক চরিত্রকে ঘিরে যে সবসময় কোনো না কোনো ঝামেলার মধ্যে থাকেই বা বলা চলে ঝামেলাই যেন তাকে ঘিরে রাখে! বাসার সবচেয়ে ছোট সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেউ কোনো গুরুত্ব দেয়না! তাকে থাকতে দেয়া হয়েছে বাসার ড্রয়িংরুমে! ডিশের লাইন দেওয়া,ইলেকট্রিক বিল দেওয়া,বাজার সদাই করা থেকে শুরু করে হাবিজাবি এতসব কাজ করার পরেও তাকে শুনতে হয় "তুইতো বাসার কোনো কাজই করিস না"। এদিকে বন্ধুরাও সবকটা বিয়ে করে সংসার নিয়ে ব্যস্ত! প্রাণ খুলে একটু সমস্যার কথা খুলে বলবে সেটা শোনার সময়টুকু পর্যন্ত কারো নেই! এদিকে একমাত্র প্রেমিকা মিতু যারও কিনা বিয়ে হতে চললো! এমতাবস্থায় বাসায় কিভাবে সে বিয়ের কথা বলবে যেখানে তার নিজের কথার কোনো দামই দেয়না কেউ!
পাঠ্য অনুভূতি -
বইটি হালকা গড়নের রম্য উপন্যাস। প্রতি লাইনে লাইনে লেখক হিউমার ঢোকানোর চেষ্টা করেছেন বটে তবে সত্যি বলতে ওগুলো আমার কাছে ওভার মনে হয়েছে! কিংবা কে জানে হয়তবা আমার ভেতরের রস-কষ কমে যাচ্ছে দিনকে দিন!
তারপরও কাহিনীর কথাই যদি ধরি দেখা যাচ্ছিলো ঘুরেফিরে যেন একই জিনিস রিপিট হচ্ছে। শুধু ইভান তার একটার পর একটা সমস্যা। গল্পের কোনো নতুন দিক ই চোখে আসছিলোনা! শুধু হিউমার টাইপ লাইন দিয়েতো আর পেট ভরেনা তাইনা? সবকিছু মিলিয়ে বইটা আমার কাছে ঠিক জমেনি!
পাঠ্য অনুভূতি -
বইটি হালকা গড়নের রম্য উপন্যাস। প্রতি লাইনে লাইনে লেখক হিউমার ঢোকানোর চেষ্টা করেছেন বটে তবে সত্যি বলতে ওগুলো আমার কাছে ওভার মনে হয়েছে! কিংবা কে জানে হয়তবা আমার ভেতরের রস-কষ কমে যাচ্ছে দিনকে দিন!
তারপরও কাহিনীর কথাই যদি ধরি দেখা যাচ্ছিলো ঘুরেফিরে যেন একই জিনিস রিপিট হচ্ছে। শুধু ইভান তার একটার পর একটা সমস্যা। গল্পের কোনো নতুন দিক ই চোখে আসছিলোনা! শুধু হিউমার টাইপ লাইন দিয়েতো আর পেট ভরেনা তাইনা? সবকিছু মিলিয়ে বইটা আমার কাছে ঠিক জমেনি!
Read
February 27, 2025বইঃ কী একটা অবস্থা
লেখকঃ আদনান মুকিত
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা
প্রকাশকঃ বাতিঘর
প্রথম প্রকাশঃ মার্চ,২০২১.
রেটিংঃ ৩/৫.
বইমেলা,২০২৫ থেকে বইটি কেনা হয়েছে। এবার ইচ্ছে ছিলো এমন রাইটারদের বই কিনবো যাদের বই আগে পড়া হয়নি। মূলত, প্রচ্ছদ এবং ফ্ল্যাপের লেখা পড়েই বইটা কিনেছি।। আগে পড়িনি এমন রাইটারদের বই কিনলে প্রথমেই মনে আতংক কাজ করে আদৌ বইটা ভালো হবে তো! নয়তো সময় এবং টাকা দুইটাই নষ্ট। লাকিলি, বইটা পড়ে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। লেখার ভঙ্গিটা মজার। পড়তে পড়তে হেসেছি অনেক।
গল্পের প্রধান চরিত্র ইভান। তার বয়স ২৮ এবং সে আইটি ফার্মে ৩৫ হাজার টাকা স্যালারি পেলেও সে ড্রইংরুমে থাকে। ইভানের ভাষ্যমতে, বাসায় একটা ফার্ণিচারের গুরুত্ব থাকলেও তার কোনো গুরুত্ব নেই। পরিবারের কেউ তাকে সিরিয়াসভাবে নেয় না। ইভান নিজেও কোনো কাজ ঠিকঠাক করতে পারে না। কোনো না কোনো ঝামেলা করবেই। যেমন; গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিন ভুলে যায় সবসময়, বাসা থেকে যতো আগেই বের হোক না কেন অফিসে ৫ দিনের মধ্যে ৪ দিনই লেট করে। একবার তো ইলেকট্রিক মিস্ত্রী আনতে বলা হলে সে থাই-মিস্ত্রী নিয়ে আসে। আরো অনেক মজার কান্ড নিয়ে ইভানের জীবন। গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিনে ছবি গিফট দিতে গিয়ে দেখে, আরেক মেয়ের ছবি নিয়ে চলে এসেছে!
লেখকঃ আদনান মুকিত
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা
প্রকাশকঃ বাতিঘর
প্রথম প্রকাশঃ মার্চ,২০২১.
রেটিংঃ ৩/৫.
বইমেলা,২০২৫ থেকে বইটি কেনা হয়েছে। এবার ইচ্ছে ছিলো এমন রাইটারদের বই কিনবো যাদের বই আগে পড়া হয়নি। মূলত, প্রচ্ছদ এবং ফ্ল্যাপের লেখা পড়েই বইটা কিনেছি।। আগে পড়িনি এমন রাইটারদের বই কিনলে প্রথমেই মনে আতংক কাজ করে আদৌ বইটা ভালো হবে তো! নয়তো সময় এবং টাকা দুইটাই নষ্ট। লাকিলি, বইটা পড়ে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। লেখার ভঙ্গিটা মজার। পড়তে পড়তে হেসেছি অনেক।
গল্পের প্রধান চরিত্র ইভান। তার বয়স ২৮ এবং সে আইটি ফার্মে ৩৫ হাজার টাকা স্যালারি পেলেও সে ড্রইংরুমে থাকে। ইভানের ভাষ্যমতে, বাসায় একটা ফার্ণিচারের গুরুত্ব থাকলেও তার কোনো গুরুত্ব নেই। পরিবারের কেউ তাকে সিরিয়াসভাবে নেয় না। ইভান নিজেও কোনো কাজ ঠিকঠাক করতে পারে না। কোনো না কোনো ঝামেলা করবেই। যেমন; গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিন ভুলে যায় সবসময়, বাসা থেকে যতো আগেই বের হোক না কেন অফিসে ৫ দিনের মধ্যে ৪ দিনই লেট করে। একবার তো ইলেকট্রিক মিস্ত্রী আনতে বলা হলে সে থাই-মিস্ত্রী নিয়ে আসে। আরো অনেক মজার কান্ড নিয়ে ইভানের জীবন। গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিনে ছবি গিফট দিতে গিয়ে দেখে, আরেক মেয়ের ছবি নিয়ে চলে এসেছে!
May 5, 2022
ড্রইংরুমের কোণার খাটে শুয়ে জীবন কাটানো এক মানুষের জীবনে ঠিক কি কি ভয় ,রাগ আর অভিমান কাজ করতে পারে সেসব তথ্য পেয়ে যাবেন আপনি এই বইতে। ইভান নামক আইটি ফার্মের চাকুরে ছেলেটির জীবন জুড়ে শুধুই বাজে কপালের খেলা। অথচ ঘটনাগুলো যেভাবে ঘটে সেগুলো দেখলে ঠিক যেমন আপনি হাসতে হাসতে লুটোপাটি খাবেন ঠিক তেমনই বিষম এক রাগ হবে আপনার ইভানের উপরে। এমনকী পড়তে পড়তে 'বাবা রে বাবা, এমন কেউ করে?', ' কি বোকাপাঠা ছেলে মাইরি।' , 'বোঝো, শালার কপালটাই খারাপ' - এমন কিছু কথা বলতে বলতে মাঝে মধ্যেই লাফিয়ে উঠতে পারেন। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি। বিয়ের চাপ আছে এমন গার্ল ফ্রেন্ডকে জন্মদিনে অনেক লোকের মাঝে সম্পূর্ণ অন্য একজন মেয়ের আঁকা ছবি দিয়ে ফেলেছেন কি ভুল করে কখনো? দেননি? তাহলে আপনি সত্যিই বুঝতে পারবেন না 'কী একটা অবস্থা' ইভানের জীবনে।
তাই পড়ুন। হাসুন। আর ইভানের মত ভাবুন কি হচ্ছে রে বাবা চারপাশে।
পড়ার শেষে ভালবাসতে বাধ্য হবেনই লেখককে শুধুমাত্র তার লেখার মুন্সিয়ানার জন্য ।
তাই পড়ুন। হাসুন। আর ইভানের মত ভাবুন কি হচ্ছে রে বাবা চারপাশে।
পড়ার শেষে ভালবাসতে বাধ্য হবেনই লেখককে শুধুমাত্র তার লেখার মুন্সিয়ানার জন্য ।
August 2, 2021
রসিকতা বিষয়টার উৎপত্তি-ই নির্মমতা থেকে। কেউ যদি আপনার সামনে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে যায়, আপনি হাসবেন না। কিন্তু যেই মাত্র কেউ কলার ছিলকায় আছাড় খেয়ে পড়বে, আপনি হেসে ফেলবেন।
এই গল্পটা ইভানের। বেচারা ড্রয়িংরুমে থাকে। সারাদিন বাবার খবর দেখা আর মায়ের জি-বাংলা দেখার যন্ত্রণায় সে অস্থির। পুরো বাসার সব কাজের দায়িত্ব পড়ে তার ঘাড়ে। আর কিছু একটা ঝামেলা হয়ে গেলেই শুনতে হয়, কিচ্ছু পারিস না! কী একটা অবস্থা!
ইভানের এই ড্রয়িংরুম যাপন নিয়েই 'কী একটা অবস্থা'র গল্প। খুব সাধারণ একজন মানুষের অতিসাধারণ গল্প। জীবনের হাসি-কান্না যে গল্পে এক সুতোয় মিলে গেছে।
এই গল্পটা ইভানের। বেচারা ড্রয়িংরুমে থাকে। সারাদিন বাবার খবর দেখা আর মায়ের জি-বাংলা দেখার যন্ত্রণায় সে অস্থির। পুরো বাসার সব কাজের দায়িত্ব পড়ে তার ঘাড়ে। আর কিছু একটা ঝামেলা হয়ে গেলেই শুনতে হয়, কিচ্ছু পারিস না! কী একটা অবস্থা!
ইভানের এই ড্রয়িংরুম যাপন নিয়েই 'কী একটা অবস্থা'র গল্প। খুব সাধারণ একজন মানুষের অতিসাধারণ গল্প। জীবনের হাসি-কান্না যে গল্পে এক সুতোয় মিলে গেছে।
July 4, 2025
বর্তমান সময়ে ভালো "রম্য" জনরার বইয়ের দারুণ অভাব বোধ করি। হুমায়ুন আহমেদ এর পর বাংলা সাহিত্যে এই জনরায় কেউ এখনো খুব একটা ভালো কাজ দেখাতে পারে নি৷
বিপদ ঘটে রম্য করতে গিয়ে অনেক বেশি ক্লিশে আর লেইম করে ফেলা৷
"কী একটা অবস্থা" বইটিও যে ক্লিশে না, এমন দাবী করার উপায় নেই, কিন্তু বর্ডার লাইন কখনো অতিক্রম করে লেইম হয়ে যায় নি৷ জায়গায় জায়গায় বইটি হাসিয়েছেও। গুড ফিলিংস মেইনটেইন করেছে পুরোটা সময়।
One Time Reading হিসেবে ভালো বলা যায়! 🤍
বিপদ ঘটে রম্য করতে গিয়ে অনেক বেশি ক্লিশে আর লেইম করে ফেলা৷
"কী একটা অবস্থা" বইটিও যে ক্লিশে না, এমন দাবী করার উপায় নেই, কিন্তু বর্ডার লাইন কখনো অতিক্রম করে লেইম হয়ে যায় নি৷ জায়গায় জায়গায় বইটি হাসিয়েছেও। গুড ফিলিংস মেইনটেইন করেছে পুরোটা সময়।
One Time Reading হিসেবে ভালো বলা যায়! 🤍
February 7, 2023
ইভায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ান!
এই "ইভানের" জীবনের গল্প দিয়েই লেখা - কী একটা অবস্থা। আইটি ফার্মের চাকুরে ছেলেটির জীবন জুড়ে শুধুই কপালের দুঃখের খেলা। তাকে থাকতে হয় বাসার ড্রয়িং রুমে। বাসায় আব্বা-আম্মা, বড়ভাই-ভাবী, বড়আপু কেউই তাকে বাসার ফার্নিচার থেকে বেশি গুরুত্ব দেন না। বাসার বাজার সদাই করা, মেহমান আসলে দোকানে যাওয়া, ডিশের লাইন, ইন্টারনেট লাইনের লাইনওয়ালাদের নিয়মিত ঝাড়ি দেয়া, বিদ্যুৎ বিল দেয়া ইত্যাদি নানাবিধ কাজ করেও 'তুইতো কোনো কাজই করিস না' বক্তব্য শোনা ব্যক্তিটির নামই ইভান। এদিকে তার একমাত্র প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, ড্রয়িং রুমে থাকার দরুণ সে কোনো কিছু করতে পারছেনা। এখন তার হাতে করার মতোন উপায় কি?
প্রতিটি ঘটনাই যেভাবে ঘটে সেগুলো মারাত্মক হাস্যরসাত্মকবোধ । লেখকের গল্প বলার ক্ষেত্রে বেশ ভালো হিউমার ছিল । দৈনন্দিন জীবনের চিত্রগুলো এত সাবলীলভাবে ধরা দিচ্ছিল যেন চোখের সামনেই ইভানকে দেখতে পাচ্ছি। একটা গল্প এভাবে হিউমার আর পরিমিতিবোধ নিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে চমৎকার একটা এন্ডিং দেয়া সোজা কথা না।
বইটি বেশ হাল্কা মেজাজের, এক বসাতেই শেষ করার মতোন। গল্পের গতিও বেশ তবে উপন্যাস এর দু একটি জায়গায় একটু জোর করে রম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে যেমন একজায়গায় উবার বাইক রাইডারদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বলা হয়েছে তবে সেটা এক দুই লাইনে না প্রায় দুই পেইজের মতোন! এরকম জায়গা গুলো বই ক্ষেত্রে গতিটা খানিক কমিয়ে দিলেও পরবর্তীতে লেখক আবার তার লেখার গতি ধরে ফেলেন।
লেখার সাথে নিজের জীবনের ব্যাপকভাবে মিল পাবেন। (নিজেকে ইভান ও ভাবতে পারেন পড়তে পড়তে আমার মতোন :'p)।
এই "ইভানের" জীবনের গল্প দিয়েই লেখা - কী একটা অবস্থা। আইটি ফার্মের চাকুরে ছেলেটির জীবন জুড়ে শুধুই কপালের দুঃখের খেলা। তাকে থাকতে হয় বাসার ড্রয়িং রুমে। বাসায় আব্বা-আম্মা, বড়ভাই-ভাবী, বড়আপু কেউই তাকে বাসার ফার্নিচার থেকে বেশি গুরুত্ব দেন না। বাসার বাজার সদাই করা, মেহমান আসলে দোকানে যাওয়া, ডিশের লাইন, ইন্টারনেট লাইনের লাইনওয়ালাদের নিয়মিত ঝাড়ি দেয়া, বিদ্যুৎ বিল দেয়া ইত্যাদি নানাবিধ কাজ করেও 'তুইতো কোনো কাজই করিস না' বক্তব্য শোনা ব্যক্তিটির নামই ইভান। এদিকে তার একমাত্র প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, ড্রয়িং রুমে থাকার দরুণ সে কোনো কিছু করতে পারছেনা। এখন তার হাতে করার মতোন উপায় কি?
প্রতিটি ঘটনাই যেভাবে ঘটে সেগুলো মারাত্মক হাস্যরসাত্মকবোধ । লেখকের গল্প বলার ক্ষেত্রে বেশ ভালো হিউমার ছিল । দৈনন্দিন জীবনের চিত্রগুলো এত সাবলীলভাবে ধরা দিচ্ছিল যেন চোখের সামনেই ইভানকে দেখতে পাচ্ছি। একটা গল্প এভাবে হিউমার আর পরিমিতিবোধ নিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে চমৎকার একটা এন্ডিং দেয়া সোজা কথা না।
বইটি বেশ হাল্কা মেজাজের, এক বসাতেই শেষ করার মতোন। গল্পের গতিও বেশ তবে উপন্যাস এর দু একটি জায়গায় একটু জোর করে রম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে যেমন একজায়গায় উবার বাইক রাইডারদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বলা হয়েছে তবে সেটা এক দুই লাইনে না প্রায় দুই পেইজের মতোন! এরকম জায়গা গুলো বই ক্ষেত্রে গতিটা খানিক কমিয়ে দিলেও পরবর্তীতে লেখক আবার তার লেখার গতি ধরে ফেলেন।
লেখার সাথে নিজের জীবনের ব্যাপকভাবে মিল পাবেন। (নিজেকে ইভান ও ভাবতে পারেন পড়তে পড়তে আমার মতোন :'p)।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 30 of 43 reviews






























