অন্ধকারাচ্ছান্ন স্মৃতি-বিস্মৃতির অতল গহীনে তলিয়ে যাওয়া এক ভ্রান্তিময় ও রক্তাক্ত উপাখ্যান। মাহাতাব রশীদের লেখা ও আঁকায় ঢাকা কমিক্স থেকে প্রকাশিত এম রেটেড ডার্ক ফিকশন।
আমি গ্রাফিক নভেল বা কমিকস খুব একটা পড়ি না।কিন্তু গুডরিডসের বিশ্বস্ত পাঠকদের ভালো ভালো রিভিউ'র বদৌলতে "অতলান্ত" পড়লাম এবং মুগ্ধ হলাম।কাহিনি, চরিত্রবিন্যাস,উপসংহার -সবই দারুণ। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
রকমারির বিশ্রীচোদা ডেলিভারি সার্ভিসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা উপেক্ষা করে বইটা শেষমেষ আমার হাতে এলো। তবে পুরোপুরি অক্ষত অবস্থায় নয়। বাঁ দিক তুবড়ে শেষ করে দিয়েছে, কারণ আমার অর্ডার করা কয়েকটা হার্ডকভার বইয়ের সাথে মুচড়ে অতলান্তের কপি প্যাক করা হয়েছিলো। যাই হোক, এবার আসি বইয়ের ভেতরে যা আছে সেই প্রসঙ্গে।
যা ভালো লেগেছে:
বাংলাদেশে যে কয়েকটা কমিক বুক পড়ার সুযোগ পেয়েছি, তাদের বেশিভাগের মধ্যে একটা সমস্যা প্রকট। প্রতিটা প্যানেল আলাদা করে দেখতে সুন্দর হলেও একসাথে দেখতে সেগুলো খুবই শক্ত, কাঠখোট্টা। স্টিফ। গল্প এক প্যানেল থেকে আরেক প্যানেলে বয়ে যায় না। প্রতিটা প্যানেল গাটার নদীর বাঁধের মতো কাজ করে। প্যানেলগুলোকে একই ঘটনার চলমান দৃশ্য বলে মনে হয় না। বরং মনে হয় আলাদা আলাদা পোস্টার দেখছি। অতলান্তে এই সমস্যাটা একদমই দেখিনি। সিকোয়েনশিয়াল আর্ট বলেই মনে হয়েছে। এবং গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেল ডিজাইন হয়েছে। নকুল দেবের চোখের ওপর এম্ফেসিস দেওয়ার জন্য একটা আধ-পৃষ্ঠার প্যানেলের ভেতর দু’টো ছোট ছোট প্যানেল ইনসেটে দেওয়া হয়েছে। দুই পৃষ্ঠাজুড়ে যে স্প্রেডগুলো করা হয়েছে, সবগুলোই গল্পের দরকারে। এবং সে কারণে স্প্রেডগুলো প্রচণ্ড ধাক্কা দেয়, উদ্দেশ্য সাধনে সফল হয়। গল্পটা সব মিলিয়ে বেশ জমজমাট ছিলো। প্রধান রহস্যের শুরুটা পরিচিত হলেও ছোটখাটো কিছু ডিটেইল মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছে। তবে লেখার সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে একটা ছিলো ডায়ালগ। এক্সপোজিশন বাদ দিয়ে যে ডায়ালগ ছিলো, সেগুলো পড়তে অত্যন্ত সাবলীল আর ন্যাচারালিস্টিক লেগেছে। আঞ্চলিক উচ্চারণের ব্যবহার আমি বেশ পছন্দ করি, এখানে দেখেও ভালো লাগলো। আর্ট নিয়ে আরও কিছু কথা বলে এই অংশটা শেষ করি। বেশিরভাগ প্যানেলে গাঢ় কালো ব্যাকগ্রাউন্ড গল্পে (আক্ষরিক অর্থেই) অন্ধকার আবহ তৈরি করতে সাহায্য করেছে। সাউন্ড এফেক্টের লেটারিং এবং কিছু ভৌতিক চেহারার ডিজাইন জুনজি ইতোর কাজের কথা মনে পড়িয়ে দেয়। অপার্থিব জগতের দৃশ্যগুলোতে চমৎকার গা ছমছমে ভাব আছে।
যা ভালো লাগেনি:
গল্পের অধিকাংশ এক্সপোজিশন ডায়ালগে হয়েছে, যে কারণে অনেক জায়গায় স্পিচ বেলুন অতিরিক্ত লম্বা হয়ে গিয়েছে। এতে গল্প এবং আঁকা দুইয়েরই ক্ষতি হয়েছে বেশ। হায়দারের মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের ডিজাইন এতো সাদামাটা না হয়ে আরেকটু নজরকাড়া হওয়া দরকার ছিলো। বুঝতে পেরেছি তাকে সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখানোটা জরুরি, কিন্তু একটা সিগনেচার এলিমেন্ট কাজে দিতো খুব। হয়তো একটা ভাঙা চশমা, বা শার্টের বুকে দাগ-কিছু একটা। নকুল দেবের দারুণ ডিজাইনের সামনে তাকে দেখতে অত্যন্ত ফিকে লাগে।
সব মিলিয়ে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। এই গল্পটা শুধু লেখায় হলেও আমি পড়তাম। সাথে অসাধারণ আর্ট যোগ হওয়ায় এক্সেপশনাল হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডের অপেক্ষা রইলাম।
"আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে নক্ষত্রের নিচে!" ~ পঞ্চরোমান্সের পরে ঢাকা কমিক্সের বেস্ট গ্রাফিক নভেল হল অতলান্ত। আমি ঢাকা কমিক্সের বেশ কয়েকটা সিরিজ পড়েছিলাম, কিন্তু আর্ট ওয়ার্ক ভালো হলেও গল্পের প্লট বা গল্প বলার স্টাইল খুবই দূর্বল ছিল। কিন্তু সেইদিক থেকে অতলান্ত পাশ করে গেছে, খুবই এংগেজিং স্টোরি। সেই সাথে দুর্দান্ত আর্ট। মাহাতাবের আর্টওয়ার্ক আগে থেকেই ভালো লাগতো, কিন্তু ওই যে এতো সুন্দর গল্প লিখতে পারে সেটা জানা ছিলনা। সেকেন্ড পার্টের অপেক্ষায়।
"আচ্ছা, কারো মাথায় হাজার লোকের স্মৃতি জমা থাকলে... সে নিজে আসলে কোনজন? আর হাজার জন্মের স্মৃতি সঙ্গে নিয়েও, সে কি সবচেয়ে নিঃসঙ্গ না? কে-ই বা টিকে থাকে হাজার বছর ধরে,তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য? "
কমিক পড়ার বেলায় আমার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি একদমই খালি বলা চলে। ছোটবেলায় চাচা চৌধুরী, বিল্লু, পিংকী, টিনটিন, কিছু মার্ভেল আর ডিসির কমিক, ব্যস। 'অতলান্ত'র আগে আমাদের দেশে লেখা কোন কমিক আমার পড়া হয়নি। সেই হিসেবে একদমই লো এক্সপেক্টেশন রেখে 'অতলান্ত' হাতে নিয়েছি অ্যান্ড গেস হোয়াট? আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি।
দারুণ একটি মিস্টিরিয়াস প্লট, দূর্দান্ত আঁকা সবমিলিয়ে ৫৬ পেজের অতলান্ত আমাকে ফের কমিক পড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে একটাই অভিযোগ অতলান্তের লেখক এবং আঁকিয়ের প্রতি।
বেশ ভালো লাগল। এই বছরে পড়া গ্রাফিক নভেল/কমিক্সগুলোর মধ্যে অন্যতম। রহস্যময় খুন, সিরিয়াল কিলিং আবহ, মেন্টালি ডিস্টার্বড ডিটেক্টিভ, তদন্ত প্রক্রিয়া, সাইকোলজি ও কিছুটা ডার্ক হররের সমন্বয়। আঁকাও দারুণ, যদিও দুয়েক জায়গায় বুঝতে সমস্যা হয়েছে। পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। লেখকের জন্য শুভকামনা।
ডার্ক চকলেট যেমন মজার জিনিস তেমনি ডার্ক হররও মজার। কিন্তু এই দুই জিনিসের টেস্ট সবাই নিতে পারে না। অনেকেই বলে ইয়াক! 🤪
মজা নিয়ে ফেললাম ডার্ক হরর গ্রাফিক নভেল অতলান্ত এর। সাদা-কালোয় দারুণ আর্টওয়ার্ক। ত্যাক্ত-বিরক্ত পুলিশ অফিসার, চোখ উপরানো খুন, রহস্যময় একজনের আগমন যে মানুষের স্মৃতি হাতড়াতে পারে, পারে অন্যের মাথায় নিজের চিন্তা ঢুকিয়ে দিতে।
হালকা একটা ঝলক ছাড়া খুনীর কোন নাম নিশানাই নেই আস্ত বইতে। তবে সে যে দারুণ ইন্টারেস্টিং একটা ক্যারেক্টার হইতে যাইতেছে সেটা বুঝা গেছে। কাহিনীতে কেন জানি নতুনত্বের চমক পেলাম না তবে পড়ে কিন্তু মজা পেয়েছি। ২য় পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম....
রাজধানীর নবাবপুর এলাকায় পাওয়া গিয়েছে একজোড়া লাশ। লাশ থেকে চোখজোড়া অক���ষিগোলকসহ নিখুঁতভাবে কেটে নেওয়া। এই নিয়ে এধরণের খুন শেষ তিন মাসে চারবার। ঢাকা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের মেধাবী অফিসার ইন্সপেক্টর হায়দার এই কেসের তদন্তে আছে। কিন্তু তিনমাসেও কেসের কোনো অগ্রগতি হয় না, অন্যদিকে রগচটা মেজাজের হায়দার মিডিয়ার সামনে মাথাগরম করার কারণে সবসময় থাকে আলোচিত-সমালোচিত।
নবাবপুরে তদন্তে এসে দেখা মেলে রাস্তায় কবিরাজি ঔষধ বিক্রি করা নকুল দেবের। মানুষের হাত ছুয়ে তার অতীতের স্মৃতি, সমস্যা সব পড়ে নিতে পারে সে। এটা কি তার সত্যিকারের ক্ষমতা নাকি ভাওতাবাজি? হায়দারের সন্দেহ গিয়ে পড়ে এই নকুল দেবের উপরেই। অন্যদিকে নকুল দেব দাবী করে সে সাহায্য করতে পারবে আসল খুনিকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে।
মানুষের মন এক রহস্যময় গুহা। ভিতরে কোন অন্ধকার কত জটিলভাবে বাসা বেঁধে আছে তা বোঝা কষ্টকর। তবে সেসব কিছুই পরিচালিত হয় একটা জিনিস দ্বারাই– স্মৃতি। এক অন্ধকার-আচ্ছন্ন স্মৃতি বিস্মৃতির আড়ালে ঘটে চলেছে একের পর এক ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড, যার রক্তাক্ত উপাখ্যান দেখা যাবে ঢাকা কমিকস থেকে প্রকাশিত মাহতাব রশীদের লেখা ও আঁকা গ্রাফিক নোভেল 'অতলান্ত'এ।
আমার পড়া কমিকসগুলোর মধ্যে 'ঢাকা কমিকস' প্রকাশনীর অনেক কমিকস রয়েছে। বাংলাদেশে ক্রমে সেই কমেডি স্কেচের বাইরে গিয়ে নবীন শিল্পীদের দিয়ে দারুণ দারুণ প্লটের কমিকস আনার ক্ষেত্রে ঢাকা কমিকসের অনেক অবদান রয়েছে। করোনার আগে প্রায় নিয়মিত ঢাকা কমিকসের বইগুলো জোগাড় করতাম। এখন তেমনটা আর করা হয় না। সত্যি বলতে এখন আর তেমন কমিকসই পড়া হয় না।
পরবর্তীতে গুডরিডসে এই 'অতলান্ত' গ্রাফিক নোভেলটার অনেক পজিটিভ রিভিউ দেখে কেনা এই বইটা, তাও প্রায় বছর দুয়েক আগে। তবে প্রচ্ছদের M Rated লেবেল আর ভেতরে একটু বুঝতে কষ্ট হওয়া আর্টওয়ার্ক দেখে বুঝেছিলাম এটা অন্য কমিকসের মতো নয়। তাই আরও সময় নিয়ে পড়ব বলে এটা ফেলে রেখেছিলাম অনেকদিন।
যাইহোক, এরমাঝে অনেকদিন কেটে যায়। মাঝখানে পড়া হয় প্রচুর থ্রিলার বই আর টুকটাক বিদেশি কমিকস, মাঙ্গা। ওগুলা পড়ে ঢাকা কমিকসের কালেকশনগুলার কথা মনে পড়লে কিছু সমস্যা খুব চোখে পড়ে। একটা হলো সেগুলোর প্লট আমাদের দেশের বিবেচনায় নতুন হলেও, সকল বয়সী পাঠক উপযোগী করার নামে শিশুদের টার্গেট করার কারণে সেগুলো খুব অপরিপক্ক হয়ে পড়ে। অন্যদিকে একটা বড় গল্প কমিকস মাধ্যমে ভালোমতো প্রকাশ করাটাও এদেশের পরিস্থিতিতে খুব ঝক্কির হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটা সিরিজ আকারে গেলেও ভালো কন্সিস্টেন্সি থাকে না।
এরমাঝে মাহতাব রশীদের 'অতলান্ত' কতটুকু সফল এবং সম্ভাবনাময়? জেনে নেওয়া যাক। 'অতলান্ত' জনরা বিবেচনায় বলতে গেলে প্যারা সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি থ্রিলার আর কিছুটা সুপার ন্যাচারাল হররের মধ্যে পড়ে। এসব জনরাতে ঢাকা কমিকসে আগেও কাজ হয়েছে, যেমন- মেহেদী হকের সাদি হক সিরিজ কিংবা 'পিশাচ কাহিনি'। তবে সেগুলোর তুলনায় ভিন্নরকম আঙ্গিকে থ্রিলার হিসেবে অতলান্তের গল্প লেখাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। মাহতাব রশীদ সফলভাবেই দারুণ কিছু কনসেপ্টের একটি সম্ভাবনাময় গল্প লিখেছেন, যা কিনা অন্যান্য কমিকসের তুলনায় বেশ ম্যাচিউরডও।
শুধু গল্প লিখলেই তো হবে না। মাত্র ৫৬ পেজের একটা কমিকসে তা যথাযথভাবে দেখাতে পারাটাও কঠিন ব্যাপার। এইক্ষেত্রেও এক্সিকিউশনে দারুণ কাজ দেখিয়েছেন তিনি। খুব ডিটেইলে না হলেও মোটামুটি ভালোভাবেই গল্পের প্রতিটি বিষয়, চরিত্রকে উপস্থাপন করা হয়েছে, এক্ষেত্রে কোনোটাই আন্ডার ডেভেলপড লাগে নি। সংলাপের উপর নির্ভর করে কম পরিসরে হলেও গল্পটা বলার ক্ষেত্রে লেখক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
চরিত্রায়নের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মূল তিনটি চরিত্র হায়দার, নকুল দেব আর অ্যান্টাগনিস্টের চরিত্র গঠন ভালো হয়েছে খুব। অন্যদিকে পার্শ্বচরিত্রগুলোর গঠনও ঠিকঠাক ছিল। তবে সবচেয়ে বেশী ভালো হয়েছে চরিত্রগুলোর সংলাপ। এমন বাস্তবসম্মত Raw আর চরিত্র উপযোগী সংলাপ দেশীয় কমিকসে আগে এতো ভালোভাবে পেয়েছি কিনা মনে পড়ে না।
আর্টওয়ার্কের ক্ষেত্রে বলতে গেলে বলব আমার ভালো লেগেছে। যদিও আমি কোনো কমিকবোদ্ধা নয়, আঁকাআঁকির ব্যাপারে কোনো জ্ঞান নেই আমার। তারপরও ব্যক্তিগত অভিমত হলো, দারুণ কাজ করেছেন মাহতাব রশীদ। প্রথম যখন এটা পড়তে নিয়েছিলাম তখন ঝাপসা, ডার্ক, কানেক্টেড সব প্যানেলওয়ালা এই আর্টওয়ার্ক আমার ভালো লাগে নি। তবে রিসেন্টলি জুনজি ইতোর কাজের সাথে পরিচয় ঘটেছে বলে কিনা জানি না, আমি সেইধরণের ফ্লেভার অতলান্তের আর্টওয়ার্কে পেয়েছি, যা অবশ্যই ভালো লেগেছে।গল্পের নানা ঘটনায়, চরিত্রগুলোর নানা কাজেকর্মে, পার্শ্বচরিত্রগুলোর গঠনে লেখক খুব সুন্দর করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু রিলেটেবল জিনিসপাতি রেখেছেন, যা একে করে তুলেছে আরও উপভোগ্য।
সেইসাথে অল্প পেজে, প্যানেলে বেশী করে গল্প বলার ক্ষেত্রে লেখক বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অবশ্য এটার জন্য কমিকসটা অনেক বেশি সংলাপ নির্ভর হয়ে পড়েছিল। ফলে ডায়লগ বাবলের সংখ্যা ছিল অনেক, যা কিছু ক্ষেত্রে আর্টওয়ার্কের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেইসাথে ডায়লগ বাবল একই ধরণের গতানুগতিক ফ্রন্টের হওয়ার একটু দৃষ্টিকটুও লেগেছে। সবমিলিয়ে 'অতলান্ত' এখন পর্যন্ত আমার পড়া বাংলায় সবচেয়ে ম্যাচিউরড গল্পের কমিকস। আশা করি আগামী পর্বে যথাযথভাবে গল্পের যবনিকাপাত হবে। বেশী বেশী পর্ব বের করে গল্পের ফ্লো আর মান নষ্ট না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
'অতলান্ত' ঢাকা কমিক্সের সেরা গ্রাফিক নভেলগুলোর একটা। ঢাকা কমিক্সের কমিক/গ্রাফিক নভেলের অনেকগুলোতেই চমৎকার আর্টওয়ার্ক দেখেছি, কিন্তু গল্লের দুর্বলতার কারণে শেষপর্যন্ত সবকিছু পানসে হয়ে যায়। অতলান্তের ক্ষেত্রে আর্টওয়ার্ক আর স্টোরিটেলিং, দুটোই অসাধারণ। ডিটেইলিং এত নিখুঁত, কিছু কিছু জায়গায় চমকে যেতে হয়। নোয়ার এলিমেন্টের ছোঁয়া পেয়েছি অনেক ক্ষেত্রেই। থ্রিলার, ডার্ক ফ্যান্টাসি, হরর - সবকিছুর পার্ফেক্ট ব্লেন্ডিং লক্ষণীয়। মাত্র ৫৪ পৃষ্ঠার একটা গ্রাফিক নভেল, অথচ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আতঙ্ক জাগানো ঘূর্ণিঝড়ের মতো গতিশীল।
গল্প কোনদিকে বাঁক নেবে, প্রথম অংশ পড়ে বোঝা কঠিন। অনেক কিছুই অস্পষ্ট থেকে গেছে। তবে এই বইটাকে শুধুমাত্র আর্টওয়ার্কের মাধ্যমে দুর্দান্ত আবহ সৃষ্টির কারণেই পাচঁ তারা দিয়ে দেয়া যায়। জীবনানন্দ দাশের প্রিয় একটি কবিতা দিয়ে শুরু করায় তারা আরও একটা বাড়ানো গেলে খুশি হতাম!
দুর্দান্ত! গ্রাফিক নভেল/কমিক পড়া হয় না, কারণ পড়ার তালিকায় যেগুলো আছে, ওসবের হার্ড���পি নাই। বের হবার পর থেকেই অতলান্ত পড়ার ইচ্ছা ছিল। তাই উপহার পাবার সুযোগ পেতে অতলান্তের নাম নিতে দ্বিতীয়বার ভাবি নাই। আর্টওয়ার্ক- খালি চোখে দারুণ লেগেছে। এ বিষয়ে বোদ্ধা নই বলে মন্তব্যেরও সুযোগ নেই। গল্প- দারুণ। গ্রিপিং। প্লটটা ভালো লেগেছে।
সলিড ৪.৫। শুধু আমার চোয়ালটা ঝুলিয়ে দিলেই পাঁচতারা দিতে কার্পণ্য বোধ হতো না!
Loved the effort. This kinda things are new in Bangladesh and I also loved the way Mahatab executed the entire things. there are few minor issues with story telling but artwork and presentation is top notch. <3 I want more and more <3
মাহাতাব রশীদের দুর্দান্ত আঁকা এবং সেই সাথে অভিনব এক কাহিনীর অসাধারণ কম্বিনেশন পেলাম বইটাতে। বেশ ভালো লেগেছে। সংলাপ নির্বাচনেও বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া গেছে। আগামী খণ্ডের অপেক্ষায় রইলাম।
দুর্জয় আর পঞ্চ রোমাঞ্চ পড়েছি ঢাকা কমিক্সের, এছাড়াও অনেক ছোট ছোট কমিক পড়া হয়েছে। তবে এইবছরই বেরোনো 'অতলান্ত', যেটা Mahatab Rashid লিখেছেন, আমাকে , মুগ্ধ করে দিয়েছে। ঢাকা শহরের অন্ধকার গলিতে ফুডপান্ডার ডেলিভারীম্যানের পিছু নিয়ে কামরুপ-কামাখ্যা-ফেরত ঔষধবিক্রেতার দেখা পাওয়া যায়, তার মাঝে রগচটা পুলিশ অফিসার হায়দার মূল চরিত্র হয়ে শুরু করে গল্প।
জমকালো সব চরিত্রে ভরা অতলান্তের কাহিনী আদৌ ঢাকায় আর থাকে না, এক লাফে মানুষের মনের অতলে, অন্ধকার দুঃস্বপ্নের জগতে ঢুকে পড়ে। আর এখানেই আমার পড়া আর সব গ্রাফিক নভেলের চেয়ে আলাদা খেল দেখিয়েছে বইটা। এর আগে কখনো এমন ডার্ক-এম্বিয়েন্ট আঁকা দেখিনি বাংলাদেশি কমিকে। আর মাহাতাব তো কেবল শহরের ছবিই আঁকেননি (সেটুকুও দারুণ হয়েছে- খুনী লোকাল বাস আর পোস্টারে ঢাকা অলিগলি মিলে ঢাকার নিখাঁদ ছবি ফুটেছে), এঁকেছেন আবার মানুষের চিন্তার ভেতরটাও!
দিতীয় খন্ডের অপেক্ষায় আছি। দুই খন্ডে খুব উপাদেয় একটা কাজ, 'অতলান্ত'।
পড়া শেষে একটা কথাই মাথায় ঘুরতেছে "দুর্দান্ত"। এতো চমৎকার করে "মাহাতাব রশীদ" আঁকছেন, রীতিমতো মুগ্ধ আমি এবং এতো চমৎকার প্লট হবে আমি নিজেও ভাবিনি। পঞ্চরোমাঞ্চ ব্যতিত বাংলাদেশে এমন সুন্দর গ্রাফিক নভেল আর দেখিনি। পরিশেষে সবাইকে পড়ার আহ্বান রইলো।
অতলান্ত'র জন্য অপেক্ষার প্রহর ফুরিয়েছে আজ। আজকে হাতে পেয়েই সবার আগে শেষ করেছি এই গ্রাফিক নভেলটা। আমার কমিক কিংবা গ্রাফিক নভেল বরাবরই ভালো লাগে। ঢাকা কমিক্স থেকে দুর্দান্ত কিছু কমিক কিনেছিলাম বেশ আগে। কিন্তু অমুক তমুক ধার নিতে নিতে আর নাই। অতলান্তের সবচাইতে স্ট্রং পার্ট হলো স্টোরি টেলিং আর গল্প! আমি মাহাতাবের কাজের ফ্যান সবসময়ই। ওর কাজ করা দেখার সৌভাগ্যও হয়েছে ইয়ার্কিতে থাকতে। এত সুন্দর স্টোরি টেলিং আর আঁকা! আমি দেখে তাজ্জব বনে গেছি। গল্পটা শেষ হয়নি এটায়, সিক্যুয়েল আসবে সামনে। খুবই ইন্টারেস্টিং একটা গল্প। ঢাকা কমিক্সে আমার মনে হয় স্ট্রং গল্পের অভাব। মাহাতাব সেটাও পূরণ করে ফেললো এবার। দারুণ একটা গ্রাফিক নভেলের জন্য ধন্যবাদ!
প্রায়ান্ধকার গলিপথে উঁকি মারে বিপদ, আর সেই বিপদকেই অগোচরে গ্রাস করে আরও বড় কোনও আতঙ্ক -এভাবেই শুরু হয় অতলান্ত। আর তারপর? এক বদরাগী পুলিশ, ভণ্ড ফকির, সাইকোলজি এক্সপার্ট, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি, সাংবাদিক হয়ে নানা আঙ্গিকে একধারা কাহিনীর বিস্তার। কেমন লেগেছে? এক কথায় ভাল। বেশ ভাল।
বইয়ের কাগজ থেকে ছাপা, প্রচ্ছদ, মলাটের পুরুত্ত, টাইটেল লেমিনেশন, দাম, সবই যৌক্তিক। আর্টওয়ার্ক বেশ ভাল। তবে দু একটি প্যানেলে মনে হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেলিং-এ আরও কিছু কাজ করা যেতে পারতো। তবে সেটা ইচ্ছাকৃত ভাবেও কম রাখা হয়ে থাকতে পারে, নির্দিষ্ট চরিত্রগুলোকে ফোকাসে রাখতে। ডায়লগ-এর ক্ষেত্রে সামান্য আপত্তি তুলব। কাছাকাছি উচ্চারণ ব্যবহার করা হয়েছে সবার মুখেই। এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম সাইকোলজিস্ট, আর সাংবাদিক। বাকিরা হালের কথ্য ভাষা ধরে রেখেছে। এক্ষেত্রে অন্তত পুলিশের মুখে সম্পূর্ণ শুদ্ধ ভাষারীতি থাকলে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভাল লাগত আরেকটু বেশি। খুঁত অনুসন্ধান করে এটুকুই পাওয়া গেল। বাকিটা সম্পূর্ণ লা-জবাব। দু'পাতা জোড়া দৃশ্যপট, একশন আর গতির এফেক্ট, মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতাকে আঙ্গিক করে আঁকা প্যানেলগুলো, সাদা-কালো সিন ঝট করে বিপরীতে চলে যাওয়ার ব্যাপারটা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আনঅর্থোডক্স প্যানেলিং, ক্যারেক্টারাইজেশন, সবকিছুই মারমার কাটকাট। প্রচ্ছদে দুর্দান্ত কালারিং থাকলেও ভেতরের রঙহীনতা আশাহত করেনি। তার কারণ, গল্পের আবেশ সম্পূর্ণ ধারণ করতে পেরেছে বর্ণহীনতা।
দেশীয় যে ক'টি সামান্য কমিক্স বই পড়ার সুযোগ হয়েছে, তার মধ্যে ঘটনার উপস্থাপন, অঙ্কনশৈলী, প্রোডাকশন সব মিলিয়ে অতলান্তকে আমার অন্যতম সেরা মনে হয়েছে। মাহাতাব রশীদ ভাল কাজ করেছেন, এবং তিনি আরও ভাল কাজ করার ক্ষমতা রাখেন। আগামী সংখ্যায় আরও চমৎকার কিছু পাব কোনও সন্দেহ নেই। আপাতত অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি।
এতো ভালো কিছু আশাই করিনি। মনে হচ্ছিলো এলান মুরের কোনো হরর গ্রাফিক নভেল পড়ছি। কিছু জায়গায় অ্যাকশন বুঝা কষ্টকর। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর দারুন গল্পের জন্য মাহাতাব রশীদের অভিনন্দন প্রাপ্য। পরের খণ্ডের প্রত্যাশায়।
অতলান্ত মানে কি? - গভীর কতটা গভীর? - যতটা গভীরে আপনি যেতে পারবেন না বা না পাবেন সেটা পরিমাপের জন্য কোন স্কেল।
'অতলান্ত' গ্রাফিক নভেল ঠিক সেই গভীরতাকে সঙ্গে করেই এগিয়ে চলেছে। ঘটনার শুরু হয় নবাবপুরের জোড়া খুন দিয়ে। যে দুজন খুন হয়েছে তাদের নিয়ে সমাজের বিশেষ মাথাব্যথা থাকার কথা নয় কিন্তু সমাজের যেই শ্রেণির মানুষই খুন হোক পুলিশের দায়িত্ব থাকে সবসময় সেই খুনের রহস্য সমাধান করার। এবার কেসের দায়িত্ব পড়লো ডিএমপির হায়দারের উপরে কেসের যিনি কিনা প্রচন্ড রগচটা মেজাজের। আর তার রগচটা মেজাজই একসময় কাল হয়ে দাঁড়ায় কেসের জন্য।
প্রথমে বলে রাখি গ্রাফিক নভেল পড়া হয়েছে খুব কম। হাতের কর গুনলে হয়ত একটা দুইটা হবে। অতলান্ত এর আগে গ্রাফিক নভেল লাস্ট পড়েছিলাম নাবিল মুহতাসিমের সসেমিরা। সসেমিরা বেশ ভালো লেগেছিল যদিও মূল উপন্যাস পড়া হয়নি আমি গ্রাফিক নভেলটাই পড়েছি। অতলান্ত সেই তুলনায় বেশ ছোটই বলা চলে। তবে ঐযে বলেনা,"ছোট মরিচে ঝাল বেশি" এটাই ঠিক তাই। গ্রাফিক নভেল এর কাভার থেকে শুরু করে ভেতরের কমিক্স আর্ট সবই দুর্দান্ত। আর মাহাতাব রশীদকে যারা চেনেন তাদের কাছে হয়ত তাকে নতুনভাবে পরিচয় করে দেওয়া লাগবেনা।
অতলান্তকে আমি যদি তিনটা অংশে ভাগ করি তাহলে মাঝের অংশটা একটু এলোমেলো লেগেছে আমার কাছে। তবে শেষদিকে আসতে আসতে সেই এলোমেলো ভাব আর্টিস্ট গুছিয়ে এনেছেন। এবং সবথেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে ভিলেন কে প্রথম দুই অংশে কোনোভাবেই রিভিল করতে দেয়া হয়নি। একদম শেষ পর্যায়ে এসে যখন একটা বেলচা হাতে ভিলেনের প্রবেশ হয় ওটা খুব অবাক করার মত ছিল (যারা পড়বেন তারা শেষদিকে আগে না দেখার সাজেশন থাকলো)। এবং শেষদিকে এসে খুনির এইযে এসব খুনের যে সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা সেটাও যুক্তিসংগত। তাই সেই দিক বিবেচনায় নিলে এটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের কাতারে ফেলা যাবে। সব মিলিয়ে অতলান্ত সবদিকে থেকে দুর্দান্ত ছিল।
তবে অতলান্তের কাহিনী এখনো শেষ হয়নি এটা নাকি আগামী খন্ডে শেষ হবে তবে এই আগামী খন্ড কবে বাজারে আসবে জানা নেই। ততদিনে অতলান্ত আমার স্মৃতির অতলে তলিয়ে না গেলেই হয়। সেজন্য মাহাতাব রশীদ ভাইকে বলব পরবর্তী খন্ড দ্রুত আনতে।
বই: অতলান্ত কাহিনী ও আর্টিস্ট: মাহাতাব রশীদ প্রকাশনী: ঢাকা কমিক্স পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬ মুদ্রিত মূল্য: ১৫০
পঞ্চ রোমাঞ্চ পড়লে বোঝা যায় ভালো একটা গল্পের ইম্প্যাক্ট একটা গ্রাফিক নোভেলে কেমন হতে পারে।অতলান্তে শেষের অংশটুকু গোজামিল লাগলো। শুরুটা ভালো। শেষের দিকে প্যানেল গুলোও একটু কেমন যেন অগোছালো। ইচ্ছাকৃতই হয়তো। কিন্তু আমার চোখের আরাম হলোনা। আর এ গল্প গুলোকে কি ডার্ক বলা যায়? ডার্ক গ্রাফিক নোভেলের ক্রাইটেরিয়া কি? কালো রঙের ব্যবহারের আধিক্য? ওয়াচম্যান বা কিলিং জোক আমার কাছে ডার্ক,ক্যারেক্টার গুলো কনফ্লিক্টিং।
বাংলা গ্রাফিক নোভেল গুলো আকারে বড় হচ্ছে এটা একটা ভালো দিক, চব্বিশ পাতার গল্পের বদলে ছাপ্পান্ন বা ততোধিক পাতার বই আরো অনেক বেশি এনগেজিং।
ঢাকা কমিক্স এর জন্মলগ্ন থেকেই আমি এর নিয়মিত পাঠক। বাংলা মূল কাহিনীর সাথে একেবারে আশেপাশের পরিচিত পরিবেশে চরিত্রদের বিচরণ অনেক ভালো লাগে। শুরুর দিকে সিকে জাকি চরিত্রটির ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম, সিকে জাকি আর আগায়নি দেখে বেশ হতাশ হয়েছিলাম। অতলান্ত পড়ে আরেকটি প্রমিসিং সিরিজ এর আভাস পাচ্ছি। পছন্দ হয়েছে আর্ট ওয়ার্ক এর আলো ছায়ার খেল। গল্পের ডার্ক ইনভেস্টিগেটিভ স্টাইলও বেশ ভালো লেগেছে। কয়েক যায়গায় আকা থেকে একশন ধরতে অসুবিধা হয়েছে যদিও, তবে সেটা সামান্যই। সামনের খন্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
'অতলান্ত'- আমার পড়া প্রথম গ্রাফিক নভেল। এইক্ষেত্রে শুধুমাত্র লেখনী দিয়ে পাঠকের মনোজগতে অধিষ্ঠ হওয়া যায় না, চিত্রকর্মের মাধ্যমে পাঠকের সামনে দৃশ্যপটটাও তুলে ধরতে হয়। আর তার সাথে যদি থাকে দুর্দান্ত কাহিনীর মিশেল তাহলে তো কথাই নেই।
অতলান্ত তেমনি একটি গ্রাফিক নভেল।
পরপর তিনটি খুন হলো বিচিত্র উপায়ে। তাদের মধ্যে যেমন হুজুর আছে, তেমনি আছে গুণ্ডা বদমাশ। তবে খুনের ধরন একই - চোখ দুটি উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। শূণ্য অক্ষিকোটর লাশের আবহ ভয়াবহ করেছে। তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে ইনস্পেক্টর হায়দারকে - বদমেজাজি বলে যার খ্যাতি আছে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে তার মত চৌকস ইনস্পেক্টর পাওয়া দুস্কর। তিনি হিমশিম খাচ্ছেন খুনির সন্ধান বের করতে। তার সাথে আছে তার সাইকোলজিস্ট বন্ধু। এক পর্যায়ে তাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে নকুল দেব, যে কিনা রাস্তায় রাস্তায় তার কামাক্ষার গুরুর থেকে প্রাপ্ত ফর্মুলানুযায়ী ঔষধ বিক্রি করে। তবে তার কিছু অত্যাশ্চার্য ক্ষমতা আছে, যা এক সময় হায়দার বুজরুকি ভেবে স্বভাভসুলভ মেজাজ গরম করে ফেললেও পরবর্তীতে তার সত্যতা পাওয়া যায় এবং তদন্তেও গূঢ় ভূমিকা রাখে। এমন খুনের ধরন নতুন হলেও ১৯৫১ সালে পশ্চিমবঙ্গের চুঁচুড়ায় অনেকটা একই ধরনের খুন হয়েছিল। এর সাথে বর্তমান খুনির কি কোনো সাদৃশ্য আছে?
🛑🛑 স্পয়লার অ্যালার্ট
অসাধারন ভাবে মনোযোগ আটকে রেখেছিল গ্রাফিক নভেলটি। তবে একটা প্রশ্ন- ইদুরের মতো স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসলে জাতিস্মর কিভাবে হয়? জাতিস্মর তো সে, যে কিনা পূর্বজন্মের স্মৃতি স্মরণ করতে পারে , আর ইদুরের স্মৃতি বয়ে আনা তো বংশানুক্রমিক। এ দুটোর মাঝে মিল কি তা বুঝতে পারিনি। 🛑🛑
সবশেষে এটিকে দুর্দান্ত বলা ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। অনেক পাঠকের মতামত ঢাকা কমিক্সের অন্যতম সেরা কাজ এ��া। তবে তাদের অন্য কাজগুলোর সাথে পরিচয় না থাকায় এ মন্তব্যের গূঢ়তত্ব অনুধাবন আমি করতে পারছি না। অপেক্ষায় থাকলাম পরবর্তী খণ্ডের জন্য।