Jump to ratings and reviews
Rate this book

তারাধূলিপথ

Rate this book
‘তারাধূলিপথ’ এর কবিতাগুলো লেখা হয়েছিল ২০১৭ সাল থেকে ১৮ এর মধ্যে। এরপর টানা ২ বছর পাণ্ডুলিপি ফেলে রাখা, এডিট করা। আমার নিজের লেখা সবচে আর্টিস্টিক কাজ মনে হয় এই পাণ্ডুলিপির কবিতাগুলো।

প্রচ্ছদ: রাজীব দত্ত

46 pages, Hardcover

First published March 1, 2021

63 people want to read

About the author

হাসান রোবায়েতের জন্ম ১৯৮৯ সালে, বগুড়ায়।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
11 (44%)
4 stars
11 (44%)
3 stars
1 (4%)
2 stars
2 (8%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 11 of 11 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews436 followers
May 12, 2022
তিতি, মোনামুনি বন, সান্দ্র ঘণ্টাধ্বনি, ময়াল নদী, ট্যাঞ্জারিনের ফুল, অন্তহীন তৃণখেত, ঘুঘুভরা নক্ষত্রের কণা, তৃণপ্রাণ সন্ধ্যা, ঝিঁঝিঁটের স্নান, কুয়াশামন্দ্র আলো, শাল্মলী হাওয়া, বউলগ্রোথিত ঘ্রাণ, জলপল্লবের ছায়া, সমুদ্রফেনার থেকে উড়ে আসা ঝাঁক ঝাঁক জুঁই, মায়াঞ্জন আর মহুয়ার স্বেদ - তারাধূলিপথে স্বাগতম।
Profile Image for Rifat.
501 reviews328 followers
August 5, 2021
ভাবছি, একদিন তোমার সমস্ত চলে যাওয়াকে মনে হয়, যেন বৃষ্টিশেষে কেউ ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ—

বাড়ি ফেরার পথ! জীবনানন্দ পড়া শুরু করি রূপসী বাংলায় এই বাড়ি ফেরার পথ পেয়েই। চালতা ফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, শিশির, মধুকূপী ঘাস, শটিবন, ডুমুরের গাছ, সন্ধার সুদর্শন আমার কানের কাছে গুনগুন করে বলেছিল- ঐ তো বাড়ির পথ! সন্ধ্যা হয়ে এলো, গুটি গুটি পায়ে এবার ঘরকে চলো। আজ এতগুলো দিন পরে আবার সেই একই অনুভূতি, যেন কেউ আমার জন্য ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ! (✿◕‿◕)
ভাবছি, একদিন দাঁড়ানোর তামাম রাস্তা দেখার শুশ্রুষা থেকে ধীরে ধীরে কোথাও শূন্যে উড়ে যায়, তখন না থাকে একান্নবর্তী বাড়িঘর না ভেড়াদের ছায়া, পৃথিবীর শেষ কোনো ধসে পড়া ডাকঘর থেকে একটা চিঠির ভেসে আসা মমতায় দিন কাটে, সে দিন তিতির ঘুমের মতো থির, মর্মবনের মতো ঘন—

যেখানে, তোমার দূরত্ব শুধু মাপা যায় পাতাঝড়া হাওয়াদের দিয়ে—

শুধু কবিতা বলা যায় না, গদ্য কবিতার বই (নাকি গদ্য লিখতে গিয়ে লেখকের গুণে কবিতায় রূপ নিয়েছে!) প্রতিটি কবিতা শুরু হয়েছে ভাবছি শব্দ দিয়ে। শুধু অনুভূতির কারণে নয়, জীবনানন্দকে টেনেছি আরও একটা কারণে। জীবনানন্দ যেমন তার কবিতায় এনেছেন প্রকৃতির উপমা আর ড্যাশ ব্যবহার করেছেন বারবার তেমনি হাসান রোবায়েতের কবিতাতেও নিজস্ব অনন্য উপমা আর ড্যাশের ব্যবহার (সবসময়ই) দেখা যায়। আহ! কি শব্দচয়ন! প্রকৃতি যেন হাতছানি দিচ্ছে চোখের সামনে- ওকড়ামাঠ, তিতি ফুল, তিতির, রাতের হরিণ, ভেড়ার পাল, হরিতকির ছায়া! শান্ত ভেড়ার চোখে ডুবছে পাখির শিস— ভেড়া আর তিতি এসেছে বারবার। রিসেন্টলি স্তেপের আখ্যান বিদায় গুলসারি পড়েছি, সেখানে স্তেপের বরফশীতল ঠান্ডায় মরে যেতে দেখেছি ভেড়ার পালকে; তাই এখানে বারবার ভেড়ার পালের আবির্ভাবে একটা ঠান্ডা শীতল অনুভূতি হচ্ছিল!

নিজস্ব উপমায় আর নিজস্বতায় হাসান রোবায়েতকে অনন্য মনে হয়েছে। হরেক রকমের শব্দ খুঁজে নিয়ে নানাভাবেই কবিতা লেখা যায়। ইদানীং অনেক লাইন পড়ে মনে হয় জবরদস্তি করা হয়েছে শব্দের সাথে, নিতান্ত অনিচ্ছায় শব্দেরা লেপ্টে আছে কাগজে। আর এই বই পড়ে মনে হল এ লেখা জোর করে লেখা যায় নাহ! প্রবল বেগে আপনাতেই ধেয়ে আসে, শুধু কলমের সাথে কাগজের দেখা হওয়ার অপেক্ষা :D

হাসান রোবায়েতের কবিতার বই তারাধূলিপথ, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৬ আর কবিতার সংখ্যা মাত্র ৩৯! অনেক সময় নিয়ে পড়েছি, শুরু করেছিলাম সেই রমজানে। শেষের দিকে এসে মনে হচ্ছিল এত কম পৃষ্ঠা ছাপিয়ে দেয়াটা বড় অন্যায়ের কাজ! ধোঁকা! ঠিক হয়নি..ঠিক হয়নি.. বলতে বলতে শেষ পাতায় পেলাম-
ভাবছি, একদিন, প্রাচীন দুপরের নিচে কয়েকটি ভেড়ার সাথে কথা হবে—নদী পার হয়ে কারা যেন চলে গেল রেলকলোনির দিকে! সেসব জানে না তার অমিত পিয়াল—কোথাও, হয়তো পড়ে আছে পৃথিবীর শেষ সাঁকোটির ছায়া—চাতালের জাম গাছ আমাকে ডাকছে অজস্র পত্রসমেত—

ক্ষমা: এক দীর্ঘ দ্বীপান্তর—

চৈত্রমুখর নোনা হাওয়া, তোমার মলিন গীতে আমাকেও রেখো কোনো সুরে: গভীর কাঠের ভেতর যতদূর সরোদের ছায়া—
ইচ্ছে করেই এটা শেষে দেয়া হয়েছে নাকি কাকতালীয় কে জানে! তবে কবিকে ক্ষমা করা হয়েছে :p


হাসান রোবায়েতকে আমি মোটেও জানতাম না, নামও শুনিনি কারও কাছে :(
গেল রমজানে Asma Akhi আপু আনোখা নদী বইয়ের রিভিউ দিলেন (অনেক অনেক ভালবাসা আপু! <3)। আমি ওদিকে আবার লিস্ট করেছি পরদিন বই অর্ডার করবো। কি জানি কি মনে হলো। দুটো বই বাদ দিয়ে হাসান রোবায়েতের তারাধূলিপথ আর মাধুডাঙাতীরে এড করে দিলাম। ভাগ্যিস, তাই করেছিলাম!! না হলে তো হাসান রোবায়েত আমার কাছে অধরাই থেকে যেতেন!

~৫ আগস্ট, ২০২১
Profile Image for Sultan Ahmed.
31 reviews27 followers
October 23, 2021
হালকা শীতের আমেজ নিয়ে আসা অবহেলিত এই হেমন্তের এক নির্জন সন্ধ্যা রাতে কবিতাগুলো কেমন যেন একটা অনুভূতির সৃষ্টি করছে।


বইয়ের কয়েকটি প্রিয় কবিতাঃ


ভাবছি, একদিন খুব গভীর পানিতে তলিয়ে গেলাম— তারপর, ধীরে, হিম সেই পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছি—চারপাশে নানান লতাগুল্ম, ফুলের ভেতর ঠোঁট ঢুকিয়ে পাখিরা আমাকে দেখছে— একটু নিচেই মাছ—মৃতশরীরের নিচে সাঁতার কাটছে—

সেই অনেক নদীর দূরে কোথাও একটা অশোক গাছ— সেখানে তারারা নিচে নেমে আসে— উড্ডীন তুলাগুলো আমার সাথে সাথে উড়ে যাচ্ছে ঝরা নদীপারের দেশে— কেউ হয়তো আছে যে আমাকে কাঠের গোধূলি দেবে, নদীর মায়াঞ্জন দেবে—

৩৩
ভাবছি, একদিন তোমার সমস্ত চলে যাওয়াকে মনে হয়, যেন বৃষ্টিশেষে কেউ ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ—

৩৯
ভাবছি, একদিন, প্রাচীন দুপরের নিচে কয়েকটি ভেড়ার সাথে কথা হবে—নদী পার হয়ে কারা যেন চলে গেল রেলকলোনির দিকে! সেসব জানে না তার অমিত পিয়াল—কোথাও, হয়তো পড়ে আছে পৃথিবীর শেষ সাঁকোটির ছায়া—চাতালের জাম গাছ আমাকে ডাকছে অজস্র পত্রসমেত—

ক্ষমা: এক দীর্ঘ দ্বীপান্তর—

চৈত্রমুখর নোনা হাওয়া, তোমার মলিন গীতে আমাকেও রেখো কোনো সুরে: গভীর কাঠের ভেতর যতদূর সরোদের ছায়া—
Profile Image for Akash.
446 reviews151 followers
April 6, 2023
"ভাবছি, একদিন তোমার সমস্ত চলে যাওয়াকে মনে হয়, যেন বৃষ্টিশেষে কেউ ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ—"

এমন আরেকটা বই পড়েছিলাম 'নদীর নামের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই' নামে। বইটার ভাষা খুবই সরল এবং গভীর ছিল।

কিন্তু এই বইটার ভাষা দুর্বোধ্য তবে গভীরতার কমতি নেই।

(৬ এপ্রিল, ২০২৩)
Profile Image for তানভীর রুমি.
119 reviews62 followers
April 10, 2021
তারাধূলিপথ পড়তে পড়তে ভাবছিলাম যেন পৌছে গেছি আমার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে গ্রামে ছুটি কাটানো নির্জন দুপুরগুলোতে। প্রায়ই ভাত খেয়ে বেরিয়ে যেতাম, কোনো কাজ ছিল না, মাঠে টই টই করে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া। কাটাওলা বাবলা গাছে ঘুঘু, কলা গাছের বাগান, বিস্তৃর্ণ মাঠ আর আইল ধরে হেঁটে বেড়ানো আমি– হাসান রোবায়েত এর কবিতা আর কবিতায় ব্যবহৃত শব্দ স্মৃতি ধরে নাড়া দিয়ে এসব বের করে আনে। জানলার ধারে বসে শহুরে ক্লান্ত দুপুরে বইটা হাতে নিয়ে বসে থাকি, আর একটা করে কবিতা পড়তে পড়তে সেসব শৈশবে ফিরে যাই।

উনচল্লিশটা কবিতা, সব শুরু হয়েছে ‘ভাবছি’ শব্দ দিয়ে। এই ভাবছি’র পর যে ভাবনা সামনে আসে, সব নির্জন দুপুরে দিঘীর পানির মতো শান্ত যেন, মাঝে মাঝে ঝরা পাতার মুচমুচ করে ভেঙে যাওয়ার শব্দ। সেখান থেকে যেতে ইচ্ছা করে ধুন্দুলবনে, যেখান থেকে দেখা যায় তৃণাবৃত আকাশ আর ফুটে ওঠে তিতিফুল। ধুন্দলবন, তিতিফুল, মোনামুনির পাতা, শঙ্খরোদ, পীতরাজ বাগান, রজনীল হাওয়া— যেসব উপমা লেখেন হাসান রোবায়েত সেসব চোখে না দেখলেও কোথাও যেন ভেসে ওঠে আবছা হয়ে।

আমি ঠিক জানি না এই বইয়ের সব কবিতাই ভাবছি দিয়ে কেন শুরু হয়, শুধু জানি এই ভাবনা থেকে নিজেকে আলাদা রাখা যায় না। মনে হয় মৃত শরীরের নিচে যে মাছের সাঁতার কিংবা তুলোর যে ভেসে বেড়ানো অথবা সন্ধ্যার বেলা চাপকলের যে শব্দ ভাসে, সেসব ভাবনা আমারই। আমার মাথায়ই বেড়ে ওঠে তিতিফুল।

এই কবিতাগুলো টানা পড়া যায় না, টানা পড়লে সহ্য হয়না। ঘোরগ্রস্ত মানুষের মতো নিজের ফেলে আসা শৈশবে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে, ঘুঘুর ডাকশুনে রোদের মধ্যে বাবলা গাছের নিচে ঘুরঘুর করে কিংবা নাম না জানা গুল্মের ঝোপ পেরিয়ে একটু ঘন হয়ে আসা বনে ঘুঘুটাকে খোঁজার সেই দুপুরে উঁকি দিতে ইচ্ছা করে।

*
ভাবছি, একদিন তোমার সমস্ত চলে যাওয়াকে মনে হয়, যেন বৃষ্টিশেষে কেউ ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ—

*
Profile Image for শাহ্‌ পরাণ.
260 reviews74 followers
Read
February 10, 2024
Biochemistry কঠিন লাগতো খুব, এই বই এরচেয়েও কঠিন। Biochemistry অন্তত পড়লে বুঝতাম, নিজের মেধার ঘাটতি বুঝতাম। এই বই পড়ে নিজেকেও বুঝতে পারছি না।
Profile Image for Raisul Islam.
15 reviews
August 9, 2021
ভাবছি, একদিন তোমার সমস্ত চলে যাওয়াকে মনে হয়, যেন বৃষ্টিশেষে কেউ ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ।

বেশ কয়েকবার পড়লাম কবি হাসান রোবায়েতের নতুন বই 'তারাধুলিপথ'।কি একটা বিষণ্নতার পরশ টের পেলাম নিজের মধ্যে। কিছু কিছু লাইন বোধ করি আমাকে নিয়েই লেখা ; কোথাও হয়তো পড়ে আছে পৃথিবীর শেষ সাঁকোটার ছায়া - চাতালের জামগাছ আমাকে ডাকছে অজস্র পত্রসমেত।

সবার থেকে আলাদা ভাবে গদ্য বলার জন্যই কবি পাঠকমহলে বেশ জনপ্রিয়। আশা করি পাঠক এই বইয়ে তার ধাঁচের লেখার সাথে পরিচিত হবে। আর কবির জন্য শুভ কামনা। বাংলা সাহিত্যের একটা জায়গা জুড়ে থাকুক হাসান রোবায়েত।
Profile Image for Rakibul Hasan Sanjer.
15 reviews3 followers
February 17, 2023
'তারাধূলিপথ || হাসান রোবায়েত'

ভাবছি, একদিন তোমার সমস্ত চলে যাওয়াকে মনে হয়, যেন বৃষ্টিশেষে কেউ ফেলে গেছে বাড়ি ফেরার পথ—

কবির এই ভাবনা গুলো মূর্তিমান করে তোলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সময়কে। পথ হারানো সত্তাগুলোর মধ্যে প্রাণসঞ্চার করে। গতানুগতিক কবিতার বৈশিষ্ট্য গুলো ভেঙে ফেলা কবি হাসান রোবায়েত এর নিত্যকার কাজ। নিজের কবিতাকে লালনপালন করে সমৃদ্ধ করে তোলেন বলেই প্রতিটি কবিতা অনন্য।
Profile Image for আরজু শেখ.
26 reviews
February 24, 2023
তারাধূলিপথ পড়ার সময় ছোট ছোট বাক্য গুলো আমাকে থামিয়ে দিত।

যখন কবি লিখেছেন, "একটা অন্ধ-ভেড়া—চারদিকে অজস্র পথ"

আমি দেখলাম তিতির ফুল, ধান মেল আর ধান পারুল, মাধুগাঙে নবমীর পানি, পাশে মেঠো ফুল। এতো সুন্দর সব উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তারাধূলিপথ এ!

মোটামুটি একটা ঘোরের মাঝেই আমি আরো পড়তে থাকি। কবি যখন বললেন, "পুরনো কবরখানার হাওয়া" আমি আরো মোহঘোরে পড়ি। আর আনমনে আবৃত্তি করি, " মন্থর পাতার উপর কাঁপতে কাঁপতে একটা পাখির মরণ উড়ে যাচ্ছে কোথাও"

যখন পড়লাম, "শান্ত ভেড়ার চোখে ডুবছে পাখির শিস—" মনে হলো, এত সুন্দর বাক্য দিয়ে কবিতাটি কি বুঝাতে চাইলেন তা ঠিকঠাক না বোঝা পর্যন্ত গগনের সমস্ত কুয়াশা রহস্য হয়ে আমাকে, আমার চোখের ঘুম কে জড়িয়ে রাখবে বিধবা বউয়ের গায়ে লেপ্টে থাকা ঘামে ভেজা সফেন ধানের মত।

যখন পড়লাম," পানির নিচে মাছেদের কথোপকথন ভেসে আসে বুদবুদ হয়ে—" ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো, এমন উপমা কজন দিতে পারে?

তারাধলিপথ পড়তে পড়তে নিজ মনে প্রশ্ন চলে আসলো, কখনো স্বচক্ষে ফুল ফুটতে দেখেছেন? দেখলে হয়তো বুঝতেন কেন হাসান রুবায়েত বলেছেন, "বিচ্ছুরণের ভঙ্গিতে ফুটে ওঠে ফুল—"

তারাধুলিপথ এত সুন্দর একটা বই যেখানে কবি কি ভাবছেন তা বিভিন্ন চমকপ্রদ উপমায় সাজিয়ে লেখা হয়েছে। সেই 'তারাধূলিপথ' পড়ে আর কোন কিছু করার ইচ্ছা না থাকলেও দূর থেকে হলেও দুচোখে "শ্যামল গা" দেখতে ইচ্ছা করছে। যেখানে— "ঝরা পাতা তুলোর হাওয়ায় ওড়ে।" যেখানে— "চোখের রহম তার বাবলা গাছের ঢেউ।" যেখানে— অনেক কালের মেঘ কাঁপছে হাওয়ায়" আর "রাইপথ দেখা যায়" যেখানে— "বিস্তীর্ণ পপির মাঠে দীর্ঘ ঘুমের পর চোখ কচলাচ্ছে তিতি।"

'তারাধুলিপথ' অনেক দিন পর্যন্ত মনে রাখার মতো বই। একটু "রুহ-ছোঁয়া বিটপীর আলোছায়াময় বনে—" হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জাগার মাত্রই আবার এক দফা পড়ার মতো বই। তারাধুলিপথ এমন একটা বই যা পড়ার পর উপলব্ধি হলো, "ক্ষমা— এক দীর্ঘ দ্বীপান্তর!"

১৮-২-২৩
মাসদাইর, নারায়ণগঞ্জ।
Profile Image for Zubayer Kamal.
84 reviews20 followers
April 30, 2023
তারাধূলিপথ হাসান রোবায়েতের লেখা একটা আড়ালের কবিতার বই

আড়ালের কবিতার বই বলার কারণ হাসান রোবায়েত যে ধরণের কবিতা লেখেন, সেই কবিতার টোন ধরলে এটা বেশ আড়ালের গল্প বলার মত। প্রতিটি কবিতা শুরু হচ্ছে 'ভাবছি...' শব্দটি দিয়ে। যেন আমাদের জীবনে কোটি কোটি বার মনে হওয়া 'ভাবছি...' থেকে আর কোনদিন না হওয়া কাজগুলো, অনুভূতিগুলো কিংবা সবকিছু ফিরে ফিরে এসেছে কবিতায়।

হাসান রোবায়েতের কবিতাগুলো শক্তিশালী।
Displaying 1 - 11 of 11 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.