'রাজপুত্র ইন্দ্রস্বর রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে, সমতট রাজ্য ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।' এক ভয়ংকর ঘটনার প্রেক্ষিতে সমতট রাজ্যের প্রধান পুরোহিত এমন ভবিষ্যদ্বাণী করে বসলেন।
রাজা চন্দ্রস্বর সেই ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে ইন্দ্রস্বরকে রেখে ছোট রাজপুত্র সত্যস্বরকে ক্ষমতায় বসানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
কিন্তু ইন্দ্রস্বর রাজা চন্দ্রস্বর আর পুরোহিতকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজ ক্ষমতায় আরোহণ করে বসলেন। ক্ষমতায় বসেই সূর্য দেবতার মূর্তিসহ রাজমন্দির ধ্বংস করে পূর্বের রাজধর্ম কে তার দরবারে নিষিদ্ধ করলেন। পুরোহিতের সকল ভবিষ্যতবাণী মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সফলভাবে সমতট শাসন করতে লাগলেন আর সেই সাথে পূর্বের রাজ্যকে দ্বিগুন বর্ধিত করে উন্নতির চরম শিখরে পৌছে দিলেন।
সব কিছু ঠিকঠাক চলছি, কিন্তু হঠাৎ করেই এক কঠিন দুঃসময় নেমে এলো সমতটে। যুদ্ধ বিগ্রহ, দূর্যোগ আর মহামারীর কড়াল গ্রাসে ক্রমাগত বিপর্যস্ত হয়ে উঠলো সমতট। রাজা ইন্দ্রস্বর একে একে তার পরিবার পরিজন হারাতে লাগলো। পঁচিশ বছর পর পুরোহিতের সেই ভভিষ্যতবাণী হঠাৎ করেই যেন জীবন্ত হয়ে উঠতে লাগলো। এক ভয়ংকর অতীত ইন্দ্রস্বরের সামনে এসে পুরোনো হিসেব নিকেশ মিটিয়ে নিতে শুরু করলো।
রাজা ইন্দ্রস্বর কি পারবে নিজের সেই অতীত ইতিহাস মুছে দিয়ে নিজের বিশ্বাস আর রাজ্যকে রক্ষা করতে? নাকি সূর্য দেবতাই তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজমন্দিরে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে?
“The supreme art of war is to subdue the enemy without fighting.”― Sun Tzu, The Art of War - সমতট - ইন্দ্রস্বর, সমতট নামক এক রাজ্যের রাজা। ২৫ বছরেরও উপর ধরে নিপুণ হাতে রাজ্য পরিচালনা করছেন তিনি। কিন্তু গল্পের শুরুতে জানা যায় পার্শ্ববর্তী মগ রাজ্যের উপর্যুপরি আক্রমণে তার রাজ্য পড়ে গিয়েছে বিশাল হুমকির মুখে। তাই তিনি মগ রাজ্যের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
রাজা ইন্দ্রস্বরের সেই সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয় তার দেহরক্ষী কিশোর, মহাসেনাপতি সিদ্বার্থ, হস্তীবাহিনী প্রধান কৈলাস, পদাতিক বাহিনী প্রধান প্রদীপ ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ। শেষ মুহূর্তে এসে তাদের মাঝে এসে হাজির হয় তির্তা নামের এক দারুণ তীরন্দাজ মেয়ে। তির্তা আসার পরে তার নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় একটি তীরন্দাজ বাহিনী। এখন মগরাজ শেতাতুর বিরুদ্ধে রাজা ইন্দ্রস্বরের সমতট বাহিনীর যুদ্ধে কে জয়ী হয় আর তির্তা নামের মেয়েটির আসল রহস্য কী তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক নাজমুল হাসান এর হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার "সমতট"। - সমতট বইয়ের মূল পটভূমি খ্রিস্টপূর্ব কোন এক সময়কালের সমতট রাজ্য। এ ধরনের উপন্যাস হিসেবে প্লটটা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। কিন্তু প্লটের তুলনায় লেখনশৈলী সেই লেভেলের আকর্ষক লাগলো না। এ ধরনের গল্পে যেমন ধরনের শক্তিশালী বর্ণনাভঙ্গির প্রয়োজন ছিল দুঃখজনকভাবে তেমন কিছুই গল্পটায় পেলাম না। - সমতট বইয়ে কাহিনির প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেশ ভালো পরিমাণেই এসেছে। এর ভেতরে সবথেকে ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছিলো যেই চরিত্রটি সেই তির্তার ব্যাকস্টোরি একেবারে আরোপিত লাগলো। বাকি চরিত্রগুলো মোটামুটি ওয়ান ডাইমেনশনালই ছিল। তখনকার আমলের রাজ্য পরিচালনা, ধর্মের প্রভাব, যুদ্ধ, রাজপ্রাসাদকে ঘিরে ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হলেও তেমন আকর্ষক লেখনশৈলীর অভাবে সেগুলো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়নি গল্পে বলে মনে হলো। - সমতট বইয়ের বাহ্যিক প্রোডাকশন বেশ ভালোই বলা যায়। বইয়ের প্রচ্ছদ এবং নামলিপি গল্পের প্লটের সাথে ভালোভাবে খাপ খায়। তবে বইয়ের সম্পাদনা আরো ভালো হতে পারতো, বইতে টাইপো আর প্রিন্টিং মিস্টেক তো বেশ পরিমাণে ছিলোই, মাঝে মধ্যে এক চরিত্রের জায়গায় আরেক চরিত্র এসে নাম পড়ায় বেশ বিরক্তি লাগলো। এছাড়াও এক অধ্যায়ের ভেতরে কয়েকটি ঘটনা ঘটলে একটি ঘটনা থেকে আরেক ঘটনার স্থানান্তরের সময় কোন ধরনের স্পেসিংই দেয়া হয়নি, যার ফলে কাহিনীর পট পরিবর্তন বুঝতে অনেক ক্ষেত্রেই বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। - এক কথায়, বাংলা মৌলিক হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার গল্প হিসেবে ভালো একটা প্রচেষ্টা করা হয়েছিলো "সমতট" নামক বইটিতে। যাদের হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার টাইপ বই পছন্দ তারা হয়তো আমার চেয়ে আরো ভালোভাবে বইটি উপভোগ করতে পারবেন। লেখক তার পরবর্তী বইতে আমাদের আরো ভালোমানের লেখা উপহার দিবেন, এই কামনা করছি।
হাজার বছর আগে 'বাংলাদেশ' নামের কোন ভুখন্ড ছিল না। এমনকি বাংলা নামেরই কোনো অখন্ড রাষ্ট্র ছিল না। তখন বঙ্গ, পুণ্ড্ৰ, গৌড়, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্ৰ এরকম প্ৰায় ১৬টি জনপদে বিভক্ত ছিল। বাংলার বিভিন্ন অংশে অবস্থিত প্ৰাচীন জনপদগুলোর সীমা ও বিস্তৃতি সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। কেননা বিভিন্ন সময়ে এসব জনপদের সীমানা হ্ৰাস অথবা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনই একটি জনপদের নাম 'সমতট। বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালিসহ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অঞ্চল নিয়ে ছিল এর বিস্তৃতি। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এর গোড়াপত্তন হয়। এই জনপদেরও আছে কিছু ইতিহাস, ছিলেন এই জনপদ শাসন করা কিছু রাজা। রাজাদের আমলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের খেলা চলত, ক্ষমতা দখলের জন্য ভিতরে ভিতরে ষড়যন্ত্র চলত। এখনকার প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর মতো তাদের সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য জায়গায় জায়গায় সিসিটিভিও ছিল না। রাজার নিরাপত্তার জন্য AK-47 বা 0.34 বোর পিস্তলও ছিল না। আদিম পন্থায় চলত তাদের রাজকার্য। ঢাল, তলোয়ার, তীর-ধনুকের লক্ষ্যভেদী নিশানা ছিল তাদের অস্ত্র। গুপ্তচর দিয়ে তারা এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যের গোপন খবর সংগ্রহ করতেন। রাজা ইন্দ্রস্বর সমতটের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত। প্রায় দুই যুগ ধরে নিপুণ দক্ষতার সাথে সমতট শাসন করে যাচ্ছেন। অন্যান্য রাজার মতো শোষণনীতি না চালিয়ে রাজ্য এবং প্রজাদের সুখের জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন। প্রজারাও রাজার প্রতি খুশি। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সে সুখে ছেদ ঘটল। পাশের মগ রাজ্যের রাজা শেতাতুর আকস্মিক আক্রমণে সমতট হারিয়েছে তার পূর্বাঞ্চল, হারিয়েছে বিপুল সৈন্যসহ অসংখ্য নিরীহ প্রজাদের প্রাণ। ক্ষয়-ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক। সে ক্ষতি পূরণ করতে আর হারানো সমতটের অংশ ফিরে পেতে রাজা ইন্দ্রস্বর আবার সৈন্য জোগাড় করছেন। চলছে তাদের প্রশিক্ষণ। তিনি জানেন অত্যাচারী মগরাজ শেতাতু আবার আক্রমণ করবে সমতট। রাজ্যের স্বাধীনতা রক্ষা, প্রজাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সেনাসহ সকল উর্ধতন কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছে। যেকোনো মূল্যেই হোক শেতাতুর অত্যাচারী সেনাদের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা যাবেনা। এদিকে সূর্য দেবতা যেন একটু বেশিই রুষ্ট সমতটের উপর। তাই তার সব তাপ যেন ঝেড়ে দিচ্ছেন সমতটের উপর। প্রচন্ড খরতাপে মাঠ-ঘাট সব শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির অভাব দেখা দিচ্ছে, কোথাও এক ফোঁটা বৃষ্টির দেখা নেই। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত রাজা ও তার দেহরক্ষী কিশোর। কেন এত রুষ্ট সূর্য সমতটের উপর? আছে কি এর পেছনে কোন ভয়ংকর অতীত ইতিহাস? না-কি শুধুই প্রকৃতির অন্য এক রূপ? গভীর রাতে রাজা ইন্দ্রস্বর আর কিশোর বেড়িয়েছেন পূর্ব পুরোহিত ত্রাণনের সমাধিস্থলে। তিনি চান না এই সমাধি আর থাকুক এখানে। তাকে ঘিরে আছে এক কালিময় ইতিহাস। রাজা তাই চান না তার কোন অবশিষ্ট আর থাকুক সমতটে। ঠিক এমন সময়েই কিছু আততায়ীর আক্রমণে পড়েন রাজা ইন্দ্রস্বর ও কিশোর। তবে কিশোরের যুদ্ধকৌশল নিপুণ। আততায়ীরা টিকতেই পারেনি তার সামনে। সাথে সঙ্গ দিয়েছে এক বিষ্ময় কন্যা তির্তা। তার তীরের লক্ষ্যভেদী নিশানায় বেশীর ভাগ আততায়ী প্রাণ হারায়। তির্তা জানায়, মগরাজের এক অত্যাচারিত প্রজা ছিল সে। এখন সমতটের রাজার সেবা করতে চায়। হঠাৎ করে আগমন করা তীরন্দাজ এই তির্তা আসলে কে? রাজধানীর ভিতরের সমতট রাজার উপর হামলা চালানোর মতো দুঃসাহস দেখালো কারা? কেই বা তাদের পাঠালো? রাজ্যের ভিতরে কি চলছে কোন গোপন ষড়যন্ত্র? গুপ্তচরের মাধ্যমে খবর এল মগরাজ শেতাতু তার বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে সমতটের দিকে এগিয়ে আসছে। তির্তার মাধ্যমে গড়া নতুন তীরন্দাজ বাহিনী সহ বাকি অশ্ববাহিনী, হস্তিবাহিনী, পদাতিক বাহিনী নিয়ে মহাসেনাপতি সিদ্ধার্থের পরামর্শে রাজা ইন্দ্রস্বর যুদ্ধের জন্য রওনা দিলেন কান্তারপুর প্রান্তে। সেখানেই মগবাহিনীকে রুখে দেয়ার পরিকল্পনা করলেন। এদিকে সমতট সেনাপতি কৈলাসও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরেকভাবে। মগবাহিনীকে প্রতিহত করা ছাড়াও নিজে ষড়যন্ত্র এঁকেছেন খোদ রাজাকে হত্যার। এজন্য বেশ কিছু সৈন্যও জোগাড় করেছেন। রাজ্য দখলের নেশায় বুদ এক অত্যাচারী রাজা হলেন শেতাতু। বিভিন্ন রাজ্য অতর্কিতে হামলা চালিয়ে, প্রজাদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে, রাজ্যে ভীতি সৃষ্টি করে কোনরকম বাঁধা ছাড়াই রাজ্য দখল করে নেন সে। এবারও তার পরিকল্পনা একই। সমতটের রাজধানীতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে, রক্তের বন্যা ভাসিয়ে দখল করবেন সমতট। মহাসেনাপতি দ্রাক্ষাকে নিয়ে এসব পরিকল্পনাই করছেন তিনি। কিন্তু তিনি জানেন না এবারের সমতট বাহিনী আগের মতো না। খবর পেলেন আগেই কান্তারপুর প্রান্তে সমতট রাজা ও তার বাহিনী অপেক্ষা করছে তার জন্য। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল মগরাজ ও মহাসেনাপতি দ্রাক্ষার। সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন এসেছে এমন একটা হাল! প্রতিপক্ষকে কখনোই দুর্বল ভাবতে নেই। এ কথা ভুলে গিয়েছিলেন ক্ষমতালোভী শেতাতু। ফলে তার উশৃঙ্খল, অপ্রশিক্ষিত বাহিনী যুদ্ধের শুরু থেকেই সমতট বাহিনীর কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিল। আর শেষ হাসি হেসেছিল সমতটই। কিছুদিনের মাঝেই মগ বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে তারা। এক্ষেত্রে অবশ্য তির্তার নিয়োগ দেয়া গুপ্তচর নীলের অবদানও কম নয়। যুদ্ধ জয়ে যেমন প্রাপ্তির পরিমাণ ছিলো অনেক তেমনি হারাতে হয়েছেও অনেক কিছু। কথায় বলে না, "We've won, but at what cost?" ঠিক তেমনি প্রকাশ পেয়েছে কিছু কঠিন সত্য। হারাতে হয়েছে প্রিয়জনকে। বহু বছর আগে দেয়া পুরোহিতের ভবিষ্যদ্বাণীকে আবারও মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে সমতটে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনেন রাজা ইন্দ্রস্বর। চালাতে কি পেরেছিলেন সমতটকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে? না-কি সেই ভবিষ্যদ্বাণী বারবার পিছু নিয়েছে? পঞ্চাশোর্ধ রাজা ইন্দ্রস্বরের পরবর্তী রাজা কে হবেন তা কি নির্ধারণ হয়েছিল? রেখে যেতে পেরেছিলেন কোন বংশধর? পঁচিশ বছর আগে রাজ্য সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে কি আছে কোন ভয়ংকর অতীত? আছে কি শত দগদগে ঘা? #পাঠ_প্রতিক্রিয়া: ভালো দিক: ঐতিহাসিক ঘরনার যেকোন লেখা পড়তে আমি বেশ থ্রিল অনুভব করি। ইতিহাসের সাথে থ্রিল মিশ্রিত আছে এমন বই দেখলেই পড়তে ইচ্ছা করে। লেখকের পড়া প্রথম বই এটি আমার। প্রাচীন বাংলার জনপদ 'সমতট' নিয়ে লেখা এই উপন্যাসে তখনকার মানুষের জীবনযাত্রাকে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। রাজার আমলের রাজাদের যুদ্ধকৌশল, নীতি, ষড়যন্ত্র, প্রেম, ভালোবাসা সবকিছুই সুন্দরভাবে ফুটিয়েছেন। কান্তারপুর প্রান্তরের সমতট আর মগ বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষের যে বর্ণনা দিয়েছেন পড়ার সময় মনে হয়েছে চোখের সামনে দেখছি। হাজার বছর আগের প্রাচীন বাংলার একটা চিত্র ভেসে উঠেছে উপন্যাসে। যেহেতু প্রাচীন যুগের কথা বলেছেন সেহেতু কিছু কুসংস্কারের কথাও লিখেছেন। তবে গল্পের খাতিরে এটা গ্রহণযোগ্য। খারাপ দিক: বানান ভুল ছিল, টাইপোও চোখে পড়েছে বেশ। রাজার সম্বোধনেও বেশ কিছু ভুল ধরা পড়েছে। যেমন: কান্তারপুরকে কোথাও 'কান্তরপুর' লিখেছেন, মগরাজা শেতাতুর পরিবর্তে মগরাজা 'ইন্দ্রস্বর' লিখেছেন। এমন বেশকিছু ভুল চোখে পড়েছে। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে বিষয়গুলো শুধরে দেওয়া হবে। উপন্যাসের কিছু চরিত্রের ব্যাপারে ইতি টানেননি। আমার কাছে মনে হয়েছে তাদের সম্পর্কে আরও কিছু জানানো যেত। #প্রচ্ছদ: প্রচ্ছদ বেশ আকর্ষণীয়। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ১৫৮ পৃষ্ঠার বইটির আকারও আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।
ইতিহাসের শিলালিপি থেকে হারিয়ে যাওয়া এক কালের কথা। স্থান - বঙ্গের অন্যতম জনপদ - সমতট মগ আক্রমণের প্রাক্কালে সঙ্গবদ্ধ এক অভিশপ্ত রাজকাহিনী। । অনেক কষ্টে বইটি শেষ করতে পারলাম। কিন্তু হজম হল না। প্লট দুর্দান্ত লাগলেও, এমন ঐতিহাসিক(এবং জায়গা মতে কাল্পনিক। শেষে এসে অতিপ্রাকৃত এর টুইস্ট ও চলে এল দেখলাম। মাল্টিপল জনরার বই বটে!) কাহিনীটি রীতিমত হত্যা করা হয়েছে মুদ্রণ ও বানান প্রমাদ দ্বারা। বাক্য গঠন, সংলাপ, ক্রিয়াপদ, ভাববাচ্চ্য, বচন সবাই সাদা পাতায়, কালো হরফে - হা-ডু-ডু খেলছে, মনে হলো পাঠ করে। এই লেখাটি কি আগে ইংরজিতে লিখে পরে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে বাংলা করা হয়েছে? নাকি এটা অন্য বাংলা হরফের অন্য কোন উপভাষায় লেখা সেটা আমার মত অধম পাঠক বুঝতে পারে নি। । অন্তর্জালের ফেসবুকও, এর থেকে উত্তম রচনা পেয়ে যাবেন। চরিত্রগুলি সাদা-কালো একমাত্রিক, কিন্তু উপরের বিপর্যয়গুলির তুলনায় এটা তবুও সহ্য করা যায় হয়ত। তাই এটা নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়েও আটকে যেতে হচ্ছে।
যদি বাঁধাই ও ছাপার মত, এই বাকি বিষয়গুলি তেও (ঝকঝকে) মনোযোগ দেওয়া যেত, তাহলে হয়ত বাকি ৪টে তারাও দিয়ে ফেলতাম।