আমরা হয়ত অনেকেই জানি না, জনপ্রিয় লেখক আরিফ আজাদের তৃতীয় আরেকটি বই এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ‘জবাব’। তবে এখানে শুধু আরিফ আজাদের লেখা নয়, বইটিতে বাংলাদেশের প্রথিতযশা যে কয়েকজন লেখক ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয়মূলক কিছু প্রশ্নের জবাব এবং ইসলামের সত্যতা নিয়ে লিখেছেন, তাদের লেখাও আছেন। তাঁরা হচ্ছেন: . ডা. শামসুল আরেফিন শক্তি, মুশফিকুর রহমান মিনার, রাফান আহমেদ, শিহাব আহমেদ তুহিন, আরিফুল ইসলাম, জাকারিয়া মাসুদ, মহিউদ্দিন রূপম, মুরসালিন নিলয়-সহ প্রমুখ।সম্পাদনা করেছেন: মুফতি তারেকুজ্জামান, মুফতি আবুল হাসানাত কাসিম, উস্তায আব্দুল্লাহ মাহমুদ, জাকিয়া সিদ্দীকি।
আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা - লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ।
১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।
আমাদের অনেকের প্রিয় আরিফ আজাদ সহ ড. শামসুল আরেফিন শক্তি, মোহাম্মদ মুসফিকুর রহমান মিনার সহ আরো অনেক এর সম্মিলিত লেখা এই বইটি মূলত ইসলাম বিদ্ধেষী তথাকথিত মুক্তমনা নাস্তিকদের প্রশ্নের নামে কিছু কু প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এই বইটিতে দেয়া হয়েছে, এমনকি তাদের প্রশ্নে আমাদের অনেক দুর্বল মুসলিমদের মনে নানা রকম আজে বাজে চিন্তার উদ্রেগ হয় সেই সকল চিন্তার ও প্রশ্নের জবাব কোরআন হাদিস থেকে প্রমান সহ বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বুঝিয়ে দেয় হয়েছে, এই বইতে কিছু কিছু জায়গায় অনেক সায়েন্টিফিক টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে যেটা অনেকের কাছে কিছুটা দুর্বোদ্ধ মনে হতে পারে, এছারা সম্পুর্ণ বইটি খুবই সাবলিল ও সহজ ভাষায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি মনে করি নাস্তিকদের প্রশ্নবানের জবাবের জন্য একবার হলেও সকলের পড়া উচিৎ।
না*স্তিক মুক্তমনা ভাইয়েরা ইসলামের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে যেসব অবৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন প্রশ্ন উৎক্ষেপণ করে, তারই বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিকুক্ত উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে এ বইটিতে।
সাধারণ মুসলিমদের মনের প্রশ্নগুলো দুর হবে বইটি পড়লে, ইন শা আল্লাহ্।
বইটিতে যেহেতু একটু আধটু বিজ্ঞানের ভাষায় লেখা, তাই যার মোটেও এ সম্মন্ধে জ্ঞান নেই তাদের মাঝে মাঝে বুঝতে একটু কষ্ট হতে পরে।
বইটি মূলত আমাদের সেইসব ভাইদের প্রশ্নের উত্তর যারা প্রশ্ন করার নামে কুপ্রশ্ন করে। পৃথিবীর সকল যুক্তি ও বিজ্ঞান একাকার করে বোঝালেও যারা বুঝতে চায় না, তাদেরকে বোঝানোর সামান্য চেষ্টার নামই " জবাব "
বইটি পড়লাম, আর্টিকেলগুলো বেশ গুছানো সমসাময়িক প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে। বেশ রেফারেন্স দিয়ে লেখা। তবে বইটি আমার কাছে অসম্পূর্ণ মনে হলো। বইটিতে প্রাসঙ্গিক অনেকগুলো ছবি নেই। জানি না, আমাদের সংস্করণেই মিসিং কিনা। তবে বেশ কিছু সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে লিখা সংগ্রহ করা হয়েছে তরুণদের থেকে। তবে এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের থেকেই লিখা হলে বেশ পরিষ্কার হতো। বিশেষ করে নাসেখ ও মানসুখ। তাইবাহ একাডেমীতে কোর্স করেছিলাম, ওখানকার লিখাটি আমার কাছে এ বিষয়ে বেশ গুছানো ও তথ্যসমৃদ্ধ মনে হয়েছে। আসলে পুরনো প্রজন্ম লিখছে না বলেই, নতুন প্রজন্মকে লিখতে হচ্ছে।