খেদু মিয়া, ফরেনসিক মেডিসিনের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর| স্কুল শিক্ষক খালেক স্যারের অজানা এক কারনে খাদেমুল ইসলাম থেকে শ্রুতিকটু খেদু মিয়া নাম হয়ে যাওয়া লোকটার জীবনে হঠাৎ ঘটে যায় এক অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা। অপঘাতে মরা মানুষের কথা শুনতে পায় খেদু মিয়া ; যন্ত্রণাদায়ক হলেও অতি জটিল কেসের ময়নাতদন্তে সাহায্য করতে হয় তার | ডাঃ খেদুমিয়ার ক্লাস নিতে হয়ে নিজের মেডিকেলের বাইরে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে | বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে গিয়ে পরিচয় হয় তিথির সাথে। খেদু মিয়ার ক্লাস করে তিথি জানতে পারে মৃতদেহ স্পর্শ করে শারীরিক ও মানসিক আনন্দ লাভের ভয়ংকর এক মানসিক রোগে আক্রান্ত তিথি | মৃতদেহের খোঁজে সে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে কবর থেকে কবরে। তিথিকে সুস্থ করার উপায় খোঁজার এক পর্যায়ে মৃত খালেক স্যারের মাধ্যমে পূর্বপুরুষের ভয়ঙ্কর এক পাপের কথা জানতে পারে খেদু মিয়া; তারা বাড়ির এক ভৃত্যকে পিটিয়ে মেরেছিল ভাত চুরি করে খাবার অপরাধে। পূর্বপুরুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত আর তিথিকে সুস্থ করে তোলার জন্য ভয়ঙ্কর এক ঝুঁকির মুখে নিজেকে ঠেলে দেয় খেদু মিয়া! কিন্তু সবকিছু কি চাইলেই করা যায়?
আমাদের আশেপাশে অনেকসময় এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায় যা বিশ্বাস হতে চাই না। কিন্তু একদম অবিশ্বাসও করা যায় না। কারণ, ঘটছে তো! কিন্তু কীভাবে? বিজ্ঞান দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না তবে ব্যাখ্যাও কি নেই?
প্রত্যেকের জীবনে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ তার নিজের নাম। কিন্তু যদি সে নামই অপ্রিয় হয় তখন? ❝খেদু মিয়া❞ নামটা শুনতে কেমন লাগে? তবে আপনার যেমনই লাগুক না কেউ এই নামধারী ব্যক্তির স্বয়ং নিজের নামে বড়োই অরুচি। হবেই না কেন পিতামাতার প্রদত্ত নাম যখন স্কুল শিক্ষকের বদৌলতে বদলে যায় আর হতে হয় হাসির পাত্র, কারই বা ভালো লাগে! ফরেনসিকের একজন নামকরা প্রফেসর খেদু মিয়া। তবে তিনি এটাও জানেন এই নামের কল্যাণেই আজ এতো নাম-যশ-খ্যাতি প্রাপ্তি। খালেক স্যারের মৃত্যুর পর থেকেই ভিতরের কিছু একটার পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। কিন্তু কী? আজও অজানা! মৃতদের কথা শোনা ও দেখার শুরু তারপর থেকেই। সময়ের সাথে তিনি এখন অভস্ত্য এসবে। কিন্তু কিছু মৃত্যু তার জীবনের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছে...
হাস্যোজ্জ্বল তিথি যে স্বাভাবিক কেউ নয় প্রায়ই মনে হয় খেদু মিয়ার। মেয়েটা যেন কিছু বলতে চায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলে উঠতে পারে না। মেডিকেল থেকে হঠাৎ করেই মৃতদেহের বিভিন্ন অংশের চুরি হওয়া শুরু হয়! ভিতর থেকে কে যেন সাবধানী বাণী শোনায়! জানতে পারেন এক বিরল রোগের শিকার তিথি। হাতে বেশি সময় নেই। আবার পূর্বপুরুষদের অতীতের ভয়ানক এক পাপের কথাও বেরিয়ে আসে। প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে সাথে তিথিকেও বাঁচাতে হবে। ইচ্ছে থাকলেই কি উপায় হয়?
প্যারানরমাল, সাইকোলজি, ফরেনসিক, সায়েন্স, ক্রাইম, মিস্ট্রি, থ্রিলার এর কম্বাইন্ড কম্বো ❝খেদু মিয়া❞। একই সাথে সায়েন্স আর প্যারানরমাল শব্দ দুটি কনফিউজড করে দিয়েছে? তাহলে একটু স্পষ্ট করি। অতিপ্রাকৃতিক বিষয়াবলী আছে বলেই যে লেখক সব কল্পনার উপর ছেড়ে দিয়েছেন এমন না। অনেকসময় দেখা যায় যখন বৈজ্ঞানিক যুক্তি দাঁড় করানো যায় না অতিপ্রাকৃতিক বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাথা নাই এমন না বরং আমরা জানি না এটাই সমস্যা। কিন্তু সব বিষয়েই কিন্তু আবার বিজ্ঞান সাপোর্ট করেছে এমনও না। বিজ্ঞান ও অতিপ্রাকৃতিক দুটোকেই বইয়ে পাশাপাশিই দেখানো হয়েছে।
কাহিনীর প্লট এক প্যারাফিলিক ডিসঅর্ডার বেজড, টেক্সটাইল নেক্রোফিলিয়াক্স। নেক্রোফিলিয়ার কয়েকটা প্রকারের মধ্যে একটা। গুগলে ❝Necrophilia❞ লিখে সার্চ দিলে ডিটেইলসে জানা যাবে। সংক্ষেপে বললে মৃতদেহ স্পর্শ করলে ফিজিক্যাল গেটিফিকেশন হয়। শুরুতে দেখানো হয় খেদু মিয়ার অতীত সাথে বর্তমানের ঘটনাগুলোও। তিথির আগমনে মূল ঘটনার শুরু। খেদু মিয়ার মধ্যে মিসির আলির একধরনের মিল আছে। মৌলিকত্ব অনেকাংশেই কমে গেছে এইজন্য। লিখনশৈলী প্রানবন্ত। মেডিক্যাল টার্মগুলোর বর্ণনা দারুণভাবে করা হয়েছে। বইয়ের কিছু চরিত্র আঁধারেই থেকে গেছে। বিশেষ করে রাসেল। চরিত্রটার আগামাথা কিছুই বুঝিনি। প্যারানরমাল আর সায়েন্টিফিক দু'দিকই খেদু মিয়া যেভাবে ব্যালেন্স করেছে ভালো লেগেছে। বইয়ের সমাপ্তি কাহিনীর সমাপ্তি নয় কারণ পুরোটা কভার করা হয়নি। এককথায় অসমাপ্ত। পরবর্তী বইয়ে বাকিটা খোলসা করা হবে সম্ভবত।
কিছু খটকা আছে। খেদু মিয়া বাসায় যাওয়ার পর তার পরিবারের কারো কথা উল্লেখ নেই কেন? রফিক এতো দ্রুত ওখানে পৌছিয়ে গেল কীভাবে? তিথি কখন বিপদে পড়ে রাসেল কীভাবে বুঝে? আবার উদ্ধার করতেও চলে আসে! তাহলে শেষে কবরস্থানের ঘটনার সময় ছিল না কেন? পরবর্তী বইয়ে প্রশ্নগুলোর জবাব মিলে কিনা দেখার অপেক্ষা এখন।
ডা: খাদেমুল ইসলাম, ওরফে খেদু মিয়া ফরেনসিক মেডিসিনের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর। লেখক নিজেও চিকিৎসক। সবকিছু মিলিয়ে অতিপ্রাকৃতিক রহস্য উপন্যাস হিসেবে চমৎকার একটি বই হতে পারত খেদু মিয়া (এমনকি সিরিজ হিসেবেও সম্ভাবনাময়)। কিন্তু বইয়ের কাহিনি সংক্ষেপে কয়েকটা বাক্যের মাধ্যমে প্রায় পুরো গল্পটাই বলে দেয়া এবং বর্ণণাভঙ্গিতে অতিমাত্রায় হুমায়ূনীয় ছাপ থাকায় কিছুটা আশাহত হলাম। খেদু মিয়ার চরিত্রে কখনও মিসির আলি, কখনও কুটু মিয়া আবার কখনও হুমায়ূন আহমেদেরই অন্য কোন চরিত্রের ছাপ। একটানে পড়ে ফেলা গেলেও, ক্লাইমেস্কে এসে হতাশ হতে হয়েছে।
ফরেনসিক মেডিসিন, সেক্সুয়াল পার্ভার্শন, সাইকিয়াট্রিক ডিজঅর্ডার ইত্যাদি বিষয়ের অবতারণায় ভীষণ আগ্রহোদ্দপীক চরিত্র খেদু মিয়া আরো বেশি মৌলিকত্ব দাবী করে। ভবিষ্যতে এই সিরিজের বইয়ের জন্য আগ্রহ সহকারে অপেক্ষায় রইলাম।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্টেন্ট প্রোফেসর খেদু মিয়া। ভদ্রলোকের আসল নাম মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম। শৈশবে স্কুলের খালেক স্যার তাঁর নাম দিয়েছিলেন খেদু মিয়া। তারপর থেকে এই নামটা নিয়েই চলছেন তিনি৷ আগে নিজের এমন হাস্যকর একটা নাম নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও, এখন মানিয়ে নিয়েছেন।
ফরেনসিক স্পেশালিস্ট হিসেবে নিজের মেডিকেল কলেজ ছাড়াও খেদু মিয়াকে ক্লাস নিতে হয় অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টে। এভাবেই তাঁর সাথে উচ্ছল তরুণী তিথির পরিচয়। তিথি মেয়েটা তার খেদু স্যারকে খুব পছন্দ করে। একটা আলাদাই মায়া কাজ করে তার স্যারের জন্য। কিছুদিন যাবৎ তিথি অদ্ভুত কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মৃত মানুষকে স্পর্শ করতে ভালো লাগে তার। লাশকে জড়িয়ে ধরার প্রতি এক ভয়াবহ টান অনুভব করে সে। এই সমস্যাটা সে খেদু মিয়ার সাথে শেয়ার করতে চাইলেও কোন এক অজানা কারণে পারছে না। তিথি কেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বারবার?
এদিকে ছোট বেলা থেকেই খেদু মিয়া বেঁচে আছেন এমন এক সমস্যা নিয়ে, যা আধুনিক বিজ্ঞান মোটেও সমর্থন করে না। আর যেহেতু তিনি নিজে চিকিৎসাজগতের সাথে জড়িত, এখানে এই অতিপ্রাকৃত বিষয়াদির নূন্যতম কোন স্থান নেই। তিনি মৃত মানুষদের উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন নিজের চারপাশে। তাদের কথা শুনতে পান। মাঝেমাঝে দেখতেও পান। অথচ একজন ডাক্তার হিসেবে খেদু মিয়া নিশ্চিত, এটা তাঁর হ্যালুসিনেশন না। তবে কি এটা?
বহুকাল আগে নিজের পূর্বপুরুষের করা এক ভয়াবহ পাপের কথা যখন খেদু মিয়া জানতে পারলেন, রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গেলেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিলেন, যেভাবেই হোক ওই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এদিকে তিথির সমস্যা��াও যেন দিনকেদিন বেড়েই চলেছে। মেয়েটাকে বাঁচানোও জরুরি। সবদিক একসাথে সামলাতে পারবেন তো খেদু মিয়া? কি মনে হয়?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ২০২১ সালের বইমেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় অসীম হিমেলের 'খেদু মিয়া'। ওই সময় রকমারি-তে বইটার কয়েক পেজ পড়ে বেশ আগ্রহ বোধ করি। রিডিং লিস্টেও টুকে নিই। কিন্তু কেনা বা পড়া, কোনটাই হচ্ছিলো না। আর আমার বইপত্র পড়ার বর্তমান যা ভাব, তাতে এটা নিয়ে আর না-ই বলি। যাই হোক, বইঘর অ্যাপের কল্যাণে অবশেষে 'খেদু মিয়া'-এর ই-বুক পড়ার সুযোগ হলো। ছোট পরিসরের একটা সুপারন্যাচারাল উপন্যাস, যার সাথে আমার সময় বেশ ভালোই কেটেছে বলা যায়।
উপন্যাসের মূল চরিত্র খেদু মিয়া পেশায় ডাক্তার হলেও অতিপ্রাকৃত বিষয়াদির সাথে সম্যকভাবে পরিচিত। এই ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। খেদু মিয়ার চরিত্রটাই আসলে আগ্রহ জাগানিয়া। হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি চরিত্রের সাথে খেদু মিয়ার কিছুটা মিল পাওয়া গেলেও, অতিপ্রাকৃত ব্যাপারস্যাপার এক্সপেরিয়েন্স করায় খেদু মিয়ার চরিত্রে এসেছে এক আলাদা স্বতন্ত্র ভাব। লেখক অসীম হিমেল বেশ চমৎকারভাবে পাঠকের সামনে খেদু মিয়াকে উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসের আরেক চরিত্র তিথি, যে এই পুরো কাহিনিটাতে যোগ করেছে আলাদা একটা মাত্রা। চিকিৎসাবিজ্ঞান আর আধিভৌতিক ব্যাপারস্যাপার মিলে 'খেদু মিয়া' উপন্যাসটা হয়ে উঠেছে বেশ উপভোগ্য। আর এর ক্রেডিটের অনেকটা প্রাপ্য তিথি চরিত্রটার। তবে এই উপন্যাসের আরেক চরিত্র রাসেল সম্পর্কে লেখক সেভাবে কোন কিছু খোলাসা করেননি। খোলাসা করাটা দরকার ছিলো বলে মনে হয়েছে আমার। রাসেল বেশ রহস্যময় একটা চরিত্র 'খেদু মিয়া'-তে।
এই উপন্যাসের শেষটা আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। কিছুট বিষাদ অনুভব করেছি। অসীম হিমেলের গল্প বলার ধরণটা সুন্দর। পড়তে কোন কষ্ট হয়নি। তবে উপন্যাসের মাঝে ক্যামনে, করতেছিলো, বললো তিনি ও ভোটকা গন্ধ (বোঁটকা হুওয়ার কথা) এই কথাগুলোর ব্যবহার আমার কাছে কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করলাম। সেটা হলো, উপন্যাসের চরিত্রগুলোর কথোপকথনের কোথাও কোন ইনভার্টেড কমা ব্যবহার করেননি তিনি। জিনিসটা বিরক্তিকর লেগেছে আমার কাছে। আর একটা অসঙ্গতি খেয়াল করেছি। 'খেদু মিয়া' উপন্যাসের এক চরিত্র ডোম সোমেন তিথিকে প্রথমে আপা বলে ডাকলেও পরে তাকে বারবার মাতাজী মাতাজী বলে ডাকতে দেখা গেছে। এসব ভুলভ্রান্তি বাদ দিলে 'খেদু মিয়া' বেশ উপভোগ্য একটা বই। সময়ের সাথে অসীম হিমেলের লেখা আরো পরিপক্বতা লাভ করবে আশা করি।
একটা বিশাল সাইজের বই পড়তে গিয়ে যে ব্লকে পড়ে গেছিলাম, 'খেদু মিয়া' আমাকে সেখান থেকে তুলে এনেছে বলা যায়। বইঘর অ্যাপের এক্সপেরিয়েন্সটাও এবার অনেক বেটার ছিলো। ডার্ক মোড পেয়েছি, সেই সাথে অ্যাপ ক্লোজ করে ওপেন করলে আবারো একই পেজে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে অ্যাপটা। বইঘর অ্যাপ কর্তৃপক্ষকে এই ব্যাপারগুলো আপডেট করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আগ্রহীরা চাইলে 'খেদু মিয়া' পড়ে দেখতে পারেন।
সংযুক্তিঃ ২০২৩-এর বইমেলায় খেদু মিয়া সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি 'ধুম্রজালে খেদু মিয়া' প্রকাশিত হয়েছে। ওটাও পড়ার আশা রাখলাম।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭৫/৫ গুডরিডস রেটিংঃ ৪.৪৩/৫
#Review_of_2023_08
#Review_Khedu_Mia
সমাপ্ত!
(১৬ এপ্রিল, ২০২৩, রবিবার, রাত ১২ টা ৩ মিনিট; নাটোর)
সাইকোলজি,ফরেনসিক মেডিসিন আর অতিপ্রাকৃত বা ভৌতিক এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে যদি একটি উপন্যাস লেখা হয়,তবে কেমন হয়?ভাবতেই ইন্টারেস্টিং লাগছে,তাই না?এই ইন্টারেস্টিং কাজটি করে দেখিয়েছেন 'খেদু মিয়া' উপন্যাসের লেখক অসীম হিমেল।
উপন্যাস পড়তে গিয়ে প্রথমেই মনে হবে,কে এই খেদু মিয়া?খেদু মিয়া একজন ফরেনসিক মেডিসিনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর।স্কুলের শিক্ষক খালেদ স্যার অদ্ভুত কারণে খাদেমুল ইসলাম থেকে তার নাম বানিয়ে দেন খেদু মিয়া।এরপর হঠাৎ এক অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রভাবে অপঘাতে মারা যাওয়া মানুষের ভাষা বুঝতে শুরু করেন খেদু মিয়া।প্রথমে কয়েকবার ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেও ধীরে ধীরে বিষয়টির সাথে স্বাভাবিক হয়ে যান।এই ঘটনার পর হঠাৎ করেই তার পড়ালেখায় উন্নতি ঘটতে থাকে। ফরেনসিক মেডিসিন বিষয় নিয়ে ডাক্তারি পাশ করেন। চাকরি জীবনে বিভিন্ন জটিল কেসের ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ক্লাস তার নিতে হয় নিজের মেডিকেল কলেজের বাইরে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘটনা প্রবাহে তার পরিচয় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের ছাত্রী তিথির সাথে।একসময় ফরেনসিক ও সাইকোলজি বিষয়ে অভিজ্ঞ খেদু মিয়া বুঝতে পারেন তিথি টেক্টাইল নেক্রোফিলিয়াকক্স নামক রোগে আক্রান্ত!
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে,টেক্টাইল নেক্রফিলিয়াকক্স আসলে কি ধরণের রোগ?মূলত এটি একটি প্যারাফিলিক ডিসঅর্ডার,যাকে নেক্রোফিলিয়া বা নেক্রোফিলিজম বলে।আর এই রোগের কয়েকটা প্রকারের একটা হল টেক্টাইল নেক্রোফিলিয়াক্স যার মানে কোনো মৃতদেহকে টাচ বা স্পর্শ করে ফিজিক্যাল গেটিফিকেশন বা শারীরিক আনন্দ লাভ করা। প্রাচীন মিশরীয় যুগে এবং পরবর্তীতে আরো কিছু ক্ষেত্রে এটার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রাচীন নাবিক,ডোম ও পারভার্টেড খুনিদের কয়েকজনের এরকম ইতিহাস রয়েছে। বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গেছে, পারভার্টেড খুনিদের জেনেটিক কোডের সমস্যা থাকে,তাদের জিন নরমাল এর চেয়ে আলাদা।এসব ডিসঅর্ডারের মানুষ দিন দিন ডেসপারেট হয়ে যায়,অনেক সময় মৃতদেহের জন্য এরা খুন করতেও পিছপা হয় না।আবার,অনেকে মৃতদেহ নিয়ে প্রেতসাধনা বা কালোজাদুবিদ্যা চর্চা করে। বাইরে থেকে তাদের দেখতে সাধারণ মানুষের মতো হলেও তারা সুযোগ পেলেই তার লালসার শিকার করে। অনেক সময় এরা অমরত্ব লাভ করতে চায় এবং এর জন্য মানুষ খুন করতে হলেও সেটাই করে। তো,তিথি এমনই এক ভয়ঙ্কর জটিল রোগে আক্রান্ত।ধীরে ধীরে তার অবস্থা আরো অবনতির দিকে যেতে থাকে।
আসলে,আমাদের যাপিত জীবনের বুকপকেটে আমরা সবাই-ই একটা রঙিন খাম সযত্নে লুকিয়ে রাখি। এই খামগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকে আমাদের প্রত্যেকের স্বপ্ন, অনুভূতি বা ভালো লাগার বিষয়গুলো।আবার তার মধ্যে থাকে কিছু বাজে অভিপ্রায়।জানি কাজটা ঠিক হবে না,তারপরও কোনো এক অদৃশ্য শক্তি কাজটি করতে উৎসাহ যোগায়।বিজ্ঞানের চোখে সেটি জেনেটিক সমস্যা আবার কারো চোখে খারাপ জিনের(ভূত-প্রেত জাতীয়) আছর।তিথির জীবনে টেক্সটাইল নেক্রোফিলিয়াক্স দ্রুত প্রভাব ফেলতে শুরু করে।সে নিজে বুঝতে পারে সে ভুল করছে তবুও এক অদৃশ্য শক্তি তাকে মৃতদেহের কাছে টেনে নিয়ে যায়।কিন্তু,তিথি তো বাঁচতে চায়,সে সাধারণ জীবনে ফিরে আসতে চায়।এ যেন একই দেহে দুইটা মানুষ,দুইটা জীবন।একজন স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে চায়,আরেকজন চায় মৃতদেহ!তিথি এই জীবনকে মানতে পারে না আবার ছেড়েও দিতে পারে না।একটা সময় পরিবারও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।তিথি ঢাকার এক কবরস্থান থেকে আরেক কবরস্থানে মৃতদেহকে কাছে পাবার জন্য ঘুরে বেড়াতে থাকে।একটা মাত্র মানুষ তিথিকে সুস্থ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।সেই মানুষটি খেদু মিয়া।সাইকোলজি বিষয়ে তার ইন্টারেস্টের কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক খেদু মিয়া তিথিকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে।তিথিকে সুস্থ করার উপায় খোঁজার এক পর্যায়ে মৃত(!) খালেক স্যারের মাধ্যমে জানতে পারেন তা��ের পূর্বপুরুষের এক ভয়ঙ্কর পাপের কথা।কি ছিল সেই পাপ?আর খেদু মিয়া কি পারবেন তিথিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে?জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে 'খেদু মিয়া' উপন্যাসটি।
লেখক 'খেদু মিয়া' উপন্যাসে সাইকোলজি,ফরেনসিক মেডিসিন আর অতিপ্রাকৃত বিষয়ের অসাধারণ এক সমন্বয় ঘটিয়েছেন।যা উপন্যাসটি পড়ার সময় পাঠককে এক অন্যরকম ঘোরের মধ্যে রাখবে।পাঠক চিত্তে হাজারো প্রশ্ন জাগিয়ে তুলবে।হয়তো প্রশ্নগুলোর উত্তর যখন পাঠক পাবেন তখন পাঠকের চোখের কোণে একটুখানি হলেও জলের সঞ্চার হবে...🙂 পরিশেষে বলবো,যারা অতিপ্রাকৃত বা সাইকোলজিক্যাল বিষয়ে ইন্টারেস্টেড তারা অবশ্যই 'খেদু মিয়া' উপন্যাসটি পড়ে দেখতে পারেন।
বই :- খেদু মিয়া লেখক :- অসীম হিমেল প্রচ্ছদ :- মাসুম রহমান প্রকাশনা :- অন্যপ্রকাশ প্রকাশকাল :- বইমেলা ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ১২০ মুদ্রিত মূল্য :- ২৮০ টাকা
অবশেষে পড়ে শেষ করলাম দীর্ঘ প্রত্যাশিত বই খেদু মিয়া। বইটা ১ দিনেই ২ বসায় পড়া শেষ করেছি। বইটা পড়ার সময় হুমায়ন আহমেদ লেখা স্মরণ করছিলাম। খেদু মিয়া বইটা মন বেশ ফুরফুরে করে দিয়েছে।
খেদু মিয়া ফরেনসিক এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর যার ভালো নাম খাদেম আলী । স্কুল শিক্ষক খালেক স্যার এই অদ্ভুত নামকরণ করেন। খেদু মিয়া নামকরণের পর থেকে তার বেশ চেঞ্জ হয় জীবনে পড়াশোনায় বেশ অগ্রগতি হয়। আবার এই নামের জন্য অনেকেই তার সাথে ঠাট্টা করতো। খেদু মিয়া মাঝেমধ্যে মেডিকেল কলেজের বাহিরে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেন। এই সুবাদে ভয়ংকর মানসিক রোগে আক্রান্ত তিথির সাথে পরিচয় হয়। তিথিকে সুস্থ করতে যখন খেদু মিয়া অস্থির তখন স্বপ্নে খালেক স্যারের মাধ্যমে তার পূর্ব পুরুষের ভয়ংকর পাপ সম্পর্কে জানতে পারেন। খেদু মিয়া মৃত ব্যক্তিদের দেখতে পারে ব্যাপারটা খুব উপভোগ করেছি। খেদু মিয়া ও তিথির শেষ পরিণতি কি হয় জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। সাইকোলজি ও প্যারা সাইকোলজির সংমিশ্রণে বইটি পড়ার সময় আশাকরি সকলের ভাল সময় কাটবে। লেখক বইয়ের কিছু চরিত্র খুব ধোয়াশা করে রেখেছেন যা গল্পের কাহিনির মোর ঘুরিয়ে দিতে পারতেন। পরর্বতী বই দুইটাও সংগ্রহে আছে আশাকরি পড়ার সময় খেদু মিয়াকে আরও ভালো ভাবে অনুধাবন করতে পারবো । সকলের জন্য খেদু মিয়া পড়ার রেকমেন্ড রইলো।
একি!মাত্র দুইটা রেটিং এতো সুন্দর একটা বইয়ের! এই বইটা আরো অনেক অনেক পাঠকপ্রিয়তার দাবীদার। পুরো গল্পটাই ভাল্লাগছে নির্মেদ ঝরঝরে বর্ণনার কারণে।তবে লেখায় হালকা হুমায়ুনীয় ধাচ থাকলেও গল্পের সাথে মানায় গেছে। তবে সমাপ্তিটা ভাল্লাগে নাই।জানি না লেখক এই লিখাটা পড়বেন কিনা কিন্তু পড়ে থাকলে প্লিজ এইটার সিরিজ বানাবেন।তিথির মৃত্যুটা মারাত্নক বিরক্ত লাগছে।এটা করা ঠিক হয় নাই🙂অন্য সিরিজে কিছু একটা করে বাচায় তুলেন। তারপর খেদু মিয়ার সাথে বিয়ে দিয়ে দুইজনরে একসাথে রহস্য সমাধানে নামায় দেন🙂নাইলে মনের ভিতরে খচখচ করতে থাকবে🙂। শুভ কামনা লেখকের জন্য।ধন্যবাদ
This entire review has been hidden because of spoilers.