দেড় শ’বছরের মতো আগে ‘শব্দকল্পদ্রুম’ নামে একটি বিখ্যাত অভিধান বেরিয়েছিল। এই ‘শব্দকল্পদ্রুম’ কিন্তু অভিধান নয়। এ বই হল ব্যাকরণের জুজুর ভয় তাড়ানোর বই। অনেকেরই জানা নেই, পড়তে জানলে ব্যাকরণের অনেক মজা। কোথায় মজা, কেমন মজা সেটুকু ধরিয়ে দেবার জন্যই এই বই। শুধু বাংলায় নয়, আরো দু-চারটি ভাষার হেঁশেলঘরের খবরও এখানে মিলবে। সে-সবও কম মজার নয়। মাতৃভাষার জণ্যে বাঙারি শহীদ হয়েছে । শুধু এখানকার বাঙালিই নয়। ভারতের আসাম রাজ্যে বাঙালিরাও । সারা পৃথিবী তাই বাঙালিকে সম্মান করে শ্রদ্ধা জানায়। সেই মাতৃভাষা না জানলে কি কম লজ্জা! বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের পিছনেও তো আমারই। মজার এ বইটি পড়লে মনে হয় বাংলা নির্ভুলভাবে লেখা যাবে।
হায়াৎ মামুদ (জন্ম : ৩ জুন ১৯৩৯) বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান লেখক। তিনি একজন আধুনিক কবি, প্রবন্ধকার , অনুবাদক ও অধ্যাপক । মৃত্যুচিন্তা রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জটিলতা তার বিখ্যাত গ্রন্থ যা ১৯৬০-এর দশকে প্রকাশিত হয়ে সাড়া জাগিয়েছিল । তিনি শিশুদের জন্য অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন । তার অনূদিত মাক্সিম গোর্কি বিরচিত চড়ুইছানা সকলমহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছে ।
ড. হায়াৎ মামুদের জন্ম ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় । তার ছেলেবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে-ই । ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর তারা পশ্চিবঙ্গেই থেকে গিয়েছিলেন । কিন্তু ১৯৫০-এর হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পিতার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন । কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন চাকুরি করেন বাংলা একাডেমিতে । ১৯৭৮ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত দীর্ঘকাল তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যিালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন ।
হাসান আজিজুল হক কে নিয়ে রচিত তার জীবনীগ্রন্থ উন্মোচিত হাসান একটি প্রামাণিক গ্রন্থ । তিনি রুশ ভাষা থেকে বহু গল্প বাংলায় অনুবাদ করেছেন । শিশু-বিশোরদের জন্য জীবনীগ্রন্থ রচনা ছিল তার প্রিয় বিষয় ।
এককালে 'Duolingo' এপ এ জর্মন ভাষা শিখছিলাম (যদিও আর কন্টিনিউ করা হয়নি)। কোর্সটা একদম শুরু থেকে এতোটাই গোছানো ছিলো যে মনে হচ্ছিলো, আমি কোনো ভাষা শিখছি না, বরং কোনো কালচার শিখছি। পড়ানোর ধরন আসলে এমনই হওয়া উচিৎ। গাদা গাদা রুলস মুখস্থ করে কোনো ভাষা আয়ত্ত্ব করে আদৌ তা 'শেখা' হয় কিনা সন্দেহ থেকে যায়।
"শব্দকল্পদ্রুম" হায়াৎ মামুদ এর এমন একটি চেষ্টা। দুই ভাই-বোনের গল্পে গল্পে বাংলা ব্যাকরণ বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। শুধু তাই নয় মাঝে মধ্যে তিঁনি আমাদের শিক্ষার ধরনের ভুল গুলোও আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এমন প্রচেষ্টার সাধুবাদ জানাই। এই বইটা আপনার কোনো না কোনো উপকারে আসবেই। আপনার অজান্তেই আপনার করা অনেক ভুল শুধরিয়ে দেবে এ বই।