শূণ্য ঠিকঠাকমতো বসিয়ে সেটিকে ৮৫ টাকা দিয়ে গুণ করার পর বুঝলাম ঘটনাটি জটিল। কারণ টাকার পরিমাণ হচ্ছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা!!! এতো টাকা কেমন করে হিসাব করা যায়? তারপর দেখলাম হাতের কাছে আছে আমাদের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু বানাতে খরচ হচ্ছ/হবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। তার মানে চার বিলিয়ন ডলারের একটু কম। জানলাম যেদিন হোয়াটসএপ ১৯ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয় সেদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। ভাবা যায়। মাত্র ৫৫ জন লোক মিলে এমন একটা কোম্পানি তৈরি করতে পারে যার বাজার মূল্য হয় ১৯ বিলিয়ন ডলার!
প্রশ্ন হচ্ছে এমন কোম্পানি কেমন করে তৈরি হয়? এটা বোঝার সহজ বুদ্ধি হলো বিলিয়ন ডলার কোম্পানির গল্পগুলো জেনে নেওয়া, তাদের আইডিয়া থেকে বিকাশের পথ পরিক্রমাটা বুঝতে পারা।
এই বই-এ সেই কাজটিই করা হয়েছে, গল্পের ঢঙ্গে। গল্পের সঙ্গে কখনো কখনো উঠে এসেছে গল্প থেকে শেখার অংশও।
উদ্দেশ্য একটাই। এক সময় আমাদেরও যেন অনেক বিলিয়ন ডলারের গল্প তৈরি হয়।
জন্ম চট্টগ্রামে। হাইস্কুলের পড়ালেখাও সেখানেই— সেন্ট মেরিজ, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি ও মুসলিম হাইস্কুল। পরে চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দৈনিক সংবাদের সাপ্তাহিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফিচার পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহচর্য পেয়েছেন বিজ্ঞান লেখক ও বিজ্ঞান কর্মী আ. মু. জহুরুল হক, আবদুল্লাহ আল-মুতী, শরফুদ্দিন কিংবা এ আর খানের। তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ভোরের কাগজে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দৈনিক প্রথম আলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক সাপ্তাহিক ফিচার পাতার সম্পাদনা করেছেন। ২০০৩ সালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সঙ্গে থেকে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। বর্তমানে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক। গণিতের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রোগ্রামিং প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেবো’ নামের প্ল্যাটফর্মটা তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে। গণিত আর বিজ্ঞান নিয়ে লেখার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায়। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোয় যুব কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
স্টার্টআপ মানে একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা। একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ভ্যালু যখন ১ বিলিয়ন ডলার হয়ে যায় তখন সেটাকে বলে ইউনিকর্ন। এই বইয়ের প্রচ্ছদে তাই রয়েছে কাল্পনিক প্রাণী ইউনিকর্নের ছবি৷ কিন্তু এই এক বিলিয়ন ডলার মানে কত টাকা? প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা! তাই বোঝাই যাচ্ছে একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পক্ষে হাজার কোটিতে পৌঁছানো কতটা জটিল ব্যাপার!
লেখক মুনির হাসান এ বইতে ভিন্ন আঙ্গিকের ১৩টা স্টার্টআপ নিয়ে কথা বলেছেন। এখানে যেমন ফেসবুকের কথা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বেডিং কোম্পানি ক্যাসপারের কথা। আবার, নেটফ্লিক্সের উত্থানের সাথে সাথে পেপালের কর্মীদের কেন মাফিয়া বলা হয় সে গল্পও বলেছেন। তিনি নতুন করে শুরু হওয়া একটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে ইউনিকর্ন হয়ে উঠে তা শুরু থেকে বর্ণনা করেছেন। তাই পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন সেইসব কোম্পানীর পেছনের লোকদের গল্প পড়ছি। তার নানান ব্যাখ্যা পড়ে বুঝতে পারছিলাম একটা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নেয়ার জন্যে উদ্যোক্তাদের কত ধৈর্য ধরে একটা আইডিয়ার পেছনে কাজ করতে হয়।
যেমন ধরুন ফ্লিপকার্টের কথা, ইন্ডিয়ার এ ই-কমার্স সাইটের নাম আমরা হয়ত সবাই শুনেছি। এই একটি সাইট দাঁড় করানোর জন্যে দুই বন্ধু ওয়েবসাইট বানানো থেকে অর্ডার ডেলিভারি সব নিজেরাই করেছেন৷ তবুও যখন তারা এ ওয়েবসাইট থেকে তেমন রেসপন্স পাচ্ছিলেন না তখন সবাই তাদের পরামর্শ দেয় এসব না করে চাকরি করার জন্যে। কিন্তু সেসময় তারা তাদের সিন্ধান্তে অটল ছিলেন। আর এখন ফ্লিপকার্টের বর্তমান অবস্থা তো আমরা জানিই!
ঈসা ভাইদের গল্পটাও বেশ উৎসাহমূলক। দুই ভাই বাবার পেট্রল স্টেশনে কাজ শুরু করেছিলেন টয়লেট ক্লিনার হিসেবে। তারপর অভারটাইম কাজ করে টাকা জমিয়ে নিজেরাই কিনে ফেলেন একটা পেট্রল স্টেশন। আর তারপর তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, ধৈর্য আর সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে তারা যে সামাজ্য গড়ে তুলেছেন তা এই বইয়ের বর্ণনা থেকেই বোঝা যায়।
আর প্রথম কাহিনী হিসেবে পেপালের কাহিনী তো পুরাই জোস। একটা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে এসেছে এতগুলো লোক যারা প্রত্যেকেই এক এক প্রতিষ্ঠান। এই মাফিয়াদের কথা আর না বলি৷ পরে স্পয়লার এলার্ট হয়ে যাবে। তবে সবচেয়ে বড় চমক আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল সবার শেষে। যখন জানতে পারলাম আমাদের দেশেও রয়েছে এক বিলিয়ন ডলার কোম্পানি! বইতে বর্ণনা করা হয়েছে সেটাও।
এতগুলা কাহিনী পড়ে আমার একটা ব্যাপারই মনে হয়েছে- একটি আইডিয়াকে ব্যবসায় রুপান্তর করা এক জিনিস, আর সেই আইডিয়ার প্রতি বিশ্বাস রেখে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাওয়া আরেক জিনিস। প্রথম ব্যাপারটা আমাদের দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে থাকলেও দ্বিতীয় ব্যাপারটার মধ্যে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। এই বইতে লেখক মুনির হাসান যেমন ১৩জন উদ্যোক্তার কঠিন সময়, উত্থান-পতনের নানান অভিজ্ঞতা বলে গেছেন, তেমনি ব্যাখ্যা করেছেন তাদের সিন্ধান্তের পেছনের কারনগুলো। তাই মনে হয়েছে, এ তথ্যবহুল লিখা তরুণ উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যত পথ পাড়ি দিতে অনেক সাহায্য করবে।
মুনির হাসান স্যার এর লিখা মার্কেটিং বিষয়ক বই ইমোশনাল মার্কেটিং আর গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইটা আমি পড়েছি । তারপর ভাগ্যক্রমে বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ বইটি এর আর্লি রিডার হওয়ার সুযোগ পাই । বাহ! বেশ সুন্দর এক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার।
আমাকে যদি কেউ বলতো প্রথমে বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ বইটির মূলভাব এক লাইনে প্রকাশ কর । যদিও এক লাইনে বলা সম্ভব নয় তবে আমি বলতাম তরুণদের ব্যাবসার সাথে লেগে থেকে স্বপ্ন জয় করার গল্প।
বইয়ের নাম শুনলেই যেন মনে হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার কোম্পানিগুলোর গল্প ।একদম ঠিক! তবে এই কোম্পানিগুলো প্রথম বারেই কি এই মঞ্চে প্রবেশ করেছে ? একদম ই না , এইসব কোম্পানি শূন্য থেকেই শুরু করেছিলো । বই জুড়ে মোট ১২টি কোম্পানির চড়াই উৎরাই পার করে বিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়ার গল্পই লেখক তুলে ধরেছেন। বই পড়ার সময় আমাকে যেই ব্যপারটি একটানা পড়ে যেতে বাধ্য করেছে তা হলো প্রত্যেক গল্পের বিচিত্রতা । প্রত্যেকটি গল্পের যেন আলদা আলাদা অভিজ্ঞতা , অন্যরকম রোমাঞ্চকতা , আর লেখকের সাবলীল উপস্থাপনা করেছে আরও দৃঢ় । ১২টি গল্পের মাঝে কোন গল্পটি আমার প্রিয় সেটা বলা হয়তো বেশ কঠিন হবে তবে আমার কাছে সবথেকে চমকপ্রদ গল্প হলো ক্যাসপারের গল্প । জাজিম বেচেই বিলিয়নার ক্যাসপার । কি আমার মতো অবাক হয়েছেন ? ক্যাসপারের এ সাফল্যের পিছনে কাজ করেছে সাইন্সকে কাজে লাগিয়ে তাদের করা দীর্ঘ আট মাসের মেট্রেস টেস্টিং । মজার ব্যপার তাদের থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো ঠিকি তবে তারা হার না মেনে সাফল্য ও পেয়েছি ঠিকই। বাঁকি টুকু আর বলছি না নয়তো গল্প পড়ার আসল মজা নষ্ট হবে । বইয়ের সব গল্গগুলোর মাঝে হার না মেনে লেগে থাকার এক মস্ত উদাহরণ হলো এয়ারবিএনবি । তারা বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে চেষ্টা করেছে , সফল হয়নি তখন আবার অন্য আইডিয়া নিয়ে চেষ্টা করেছে , প্রথমে এক বিনিয়োগকারী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আবার আবার অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে গিয়েছেন । তাদেরকে এজন্য একজন বিনিয়োগকারী নাম দেয় তেলাপোকা উদ্যোক্তা। তবু তারা হেরে না যেয়ে লেগে থেকে শেষ পর্যন্ত তারা আজ সফলতার শীর্ষে । লেখক সবথেকে বইয়ে সব থেকে বেশি পেজ খরচ করেছেন এই গল্পেই। অন্যদিকে নেটফ্লিক্সের আবার নীতি হলো “ নো রুলস নো রুলস” অর্থাৎ যখন যে কেউ ছুটি নিতে পারবে। পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখছিলাম নেটফ্লিক্সে যদি কাজ করতে পারতাম … তবে নেটফ্লিক্সের শুরুর পথচলাও সহজ ছিলোনা। বইয়ের সবথেকে রসের গল্প হলো ইন্সটাগ্রামের সিইওর গার্লফ্রেন্ডের ছোট্ট পরামর্শে বিলিওনার হওয়ার গল্প । এভাবে লেখক ফেসবুক থেকে হুয়াটসঅ্যাপ , যোহো থেকে স্ল্যাক সবার উথানের গল্প তুলে এনেছেন এই বইয়ে । এতো টেক কোম্পানির ভিড়েও লেখক তুলে নিয়ে এসেছেন ঈসা ভাইদের বিলিয়ন হওয়ার গল্প। আর সবথেকে অনুপ্রেরণামুলক দিকটি যেই গল্পে ফুটে উঠেছে তা হলো আমাদের দেশীয় বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ গ্রামীণফোনের চড়াই উৎরাইয়ের গল্পে।
এখন আসি এই বইটির আমার ভালোলাগার আরও কিছু কারণ এবং চিরাচরিত নিয়মের বাইরে ব্যতিক্রম কিছু দিক নিয়ে । বইটিতে লেখক সাবলীল ভাষায় গল্পগুলো তার মতো করে বলছেন এবং তার সাথে তাদের গ্রোথের গ্রাফ সংযুক্ত করেছেন তা যেন আমাকে কোম্পানির বেড়ে উঠা পুরা চোখের সামনে ভাসাচ্ছিলো । প্রত্যেক গল্প থেকে কি কি শেখার আছে আমাদের তা লেখক তাও উল্লেখ করেছেন। কারণ ভুমিকাতে লেখক লিখেছেন তার আসল চাওয়া বাংলাদেশে এমন বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ গড়ে উঠুক । তবে আমি পাঠক হিসেবে এই বই পড়ার পর মনে হয়েছে যদি কারো মোটিভেশন শেষ হয়ে আসে তবে এই বইটি তাকে পূর্ণ উদ্যমে ফিরিয়ে আনতেও হবে বেশ কার্যকরী হবে ।
স্টার্টআপ নিয়ে যাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, তাদের জন্য হয়ত ঠিকাছে। তবে যারা কিছুটা হলেও জানেন। এই যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সম্পর্কে। তাদের জন্য বোরিং লাগতে পারে।
কারণ, এখন ভুরি ভুরি কেস স্টাডি আরো ডিটেইলসে ইউটিউব এ প��ওয়া যায়। বিভিন্ন ভ্লগ আরো উন্নতমানের কন্টেন্ট বানায়।
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন কি নিয়ে লিখা! বিলিয়ন টাকা হলেও হতো গুনতে পারতাম কিন্তু এগুলো তো বিলিয়ন ডলারের গল্প! মুনির স্যারের মত আমিও ডলার গুনতে শুরু করলাম। আগে বই অর্ডার দিয়ে তারপর ডলারের হিসাব করতে বসে পড়েছিলাম। যদিও পরবর্তীতে দেখলাম বইতে সহজ ভাষায় তা দেয়া আছে। কিছু কিছু বই আছে যেগুলো আপনাকে গল্প শোনাবেও সাথে বুঝতে, শিখতে ও চিন্তা করতেও সাহায্য করবে। আপনি যদি নিচক গল্প প্রেমিকও হোন তাহলে গল্প যেমন নিতে পারবেন সাথে ফ্রি নোটও পেয়ে যাবেন। যাইহোক, মূলত বইটিতে ১৩ টি ভিন্নধর্মী স্টার্টআপ সর্ম্পকে বলা হয়েছে। যাদের মার্কেট ভেল্যু বিলিয়ন ডলারেও উপরে! প্রত্যেক টি গল্পই আপনাকে নতুন নতুন কিছু বুঝতে , ভাবতে শিখাবে। প্রত্যেকটি গল্পেরই রয়েছে ভিন্নতা। আপনি যদি ভেবে থাকেন , বিলিওনিয়ার প্রতিষ্ঠান শুরু করতে অনেক অনেক অর্থের প্রয়োজন তাহলে বইটা পড়লে আপনার ভুলটা ভাঙ্গবে। অর্থের প্রয়োজন হবে সেটা ঠিক , তবে সবচেয়ে বড় হচ্ছে আত্নবিশ্বাস ,মনোবল, কাজ করার ইচ্ছা। শুধু পরিকল্পনাই করে গেলেন আর মাঠে নামলেন না, তাহলে ফলাফল শূণ্যই থাকবে। সমস্যা থেকেই প্রয়োজনীয়তার সৃষ্টি হবে। বইয়ের শেষাংশে "পাচঁ মাসেই কোটিপতি" গল্প থেকে বুঝতে পারবেন সমস্যা থেকে সমাধানের উপায় বের করার রহস্য। বইটিতে পেপাল , ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, গ্রামীণফোন, এয়ারবিএনবির সব আরো সাতটি স্টার্টআপ নিয়ে লিখা। পেপালে যারা কাজ করতো তাদেরকে কেন পেপাল মাফিয়া বলা হত । পেপাল মাফিয়ার গল্প আমি বইয়ের প্রথমেই পাবেন। প্রথম দিকের পেপালের ৫০ উদ্যোক্তাদের মধ্যে এখন প্রায় অনেকেই গড়ে তুলেছেন বিলিয়ম ডলারের প্রতিষ্ঠান। লিংকডইন, ইউটিউব, টেসলা, নিউরালিংক, ওপন এআই ইত্যাদি আরো বিলিওনিয়ার প্রতিষ্ঠান গুলো পেপাল মাফিয়াদেরই করা। কিন্তু এগুলো সব সাফল্যের কথা। সাফল্যের জন্য করতে হয়েছিলো তাদের কঠোর পরিশ্রম । সবগুলো গল্পই ভালো লেগেছে। তবে কিছু গল্প বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। যেমন: এয়ারবিএনবির গল্প যাদের কে বলা হয়েছে তেলাপোকাঁ উদ্যোক্তা । শুনতে হাসসো কর হলেও পড়লেই বুঝতে পারবেন কেন বলা হয়েছি। তারা তাদের ফান্ড জোগার জন্য যখন ১৫ কাছে গেল তাদের মধ্যে থেকে ৮ জনই কোন পাত্তা দিলো না আর বাকি ৭ জন থেকেও কোন পজেটিভ কিছু পায় নি। তাও কি তারা বসে ছিলো? না , তবুও তারা তাদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। এয়ারবিএনবি থেকে যা শিক্ষা নিতে পারেন, তার মধ্যে প্রথম হলো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নিতে হলে আপনাকে হতে হবে ধৈয্যশীল হবে হবে, হাল ধরার মানসিকতা থাকলে হবে, গ্রহকের চাহিদা বুঝতে হবে , প্রচুর শেখার আগ্রহ থাকতে হবে, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থার মত মার্কেটিং প্ল্যান করতে হবে। প্রতিষ্ঠান যে পযার্য়েই থাকুন না কেন তাকে এগিয়ে নিতে A/B টেস্ট করতে হবে, কাস্টমার সার্ভিস এর মান উন্নত করতে হবে ও কোন কিছুকে লুকিয়ে না রেখে বরং তা নিজ অবস্থা থেকে বণর্ণা করতে হবে। যা এয়ারবিএনবিরা প্রতিনিয়তই করেছিলো। সমস্যা থেকেই সৃষ্টি হয় উদ্যোগের। তারই একটি বড় উদারহণ হচ্ছে গ্রামীণফোন। যা বর্তমান ভ্যলু প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। জনাব ইকবাল কাদির এর হাত ধরেই এসেছে আজকেই গ্রামীণফোন । তবে তার জন্য তার যাত্রাটাও ওতোটা সুখোকর ছিল না। যে সময়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা মিটানোই সম্ভব হয়নি ,সে সময় তিনি উদ্যোগ নেন সাশ্রয়ীভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে । এছাড়াও বইতে আলোচনা করা হয়েছে কিভাবে ডিভিডি থেকে আজকের প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারের নেটফিক্স , ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম , zoho মত আরো প্রতিষ্ঠানের গল্প । সেগুলো সম্পর্কে নাই বললাম, সেগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন। বইটি সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে প্রত্যেকটি গল্পের শেখে একটা শিখনফল দেয়া যা আপনাকে সহজে মনে রাখতে এবং নোটের মত কাজ করবে। আর বই ছিলো নিতান্তই সহজ ভাষায়। সর্বোপরি অসাধারণ একটি বই ,যদি বইটির সাধারণ পড়ার মত নয় , জানার মতো করেই পড়বেন। তাহলেই উপকৃত হবেন।
ইউনিকর্ন হচ্ছে সেইসব কোম্পানি যাদের মার্কেট ভ্যালুয়েশন ১ বিলিয়ন ডলার। Aileen Lee ২০১৩ সালে যখন ইউনিকর্ন হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো মার্ক করেন তখন সারাবিশ্বে ৪০টির মতো ইউনিকর্ন ছিলো।১ বিলিয়ন ডলার বা ৮ হাজার ৫০০ কোটি কি পরিমাণ টাকা তা বুঝানোর জন্য লেখক পদ্মা সেতুর সাথে সেই টাকার তুলনা করছেন। পদ্মা সেতুতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা বা ৪ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম। কিন্তু এখনকার সময় ডেকাকর্ন কোম্পানি অর্থ্যাত যাদের ভ্যালুয়েশন ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তারা ২-৪ টা পদ্মা সেতু পকেটে নিয়ে বসে আছে মনে হবে। কিন্তু এসব কি এতোই সোজা? আমার উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ আবার না। লুংগির সঠিক মার্কেটিং করে যদি ২-১ বছরে কোটি টাকার ব্যাবসা করা যায় তাহলে তো সোজা মনে হতেই পারে। পাঁচ মাসে মিলিওনারের গল্প কিন্তু আছে। আবার ২-১ বছরে বিলিয়ন ডলার ইউনিকর্ন বানিয়ে ফেলেছেন এমন উদাহরনও আছে। কিন্তু এদের ভিতরের গল্পটা কি আমরা জানি? এরা কি বসে বসেই বানিয়ে ফেলেছেন মনের মতো শিং ওয়ালা ইউনিকর্ন? না, কারন অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে আইডিয়া এক্সিকিউশান করতে গিয়ে। কয়েকটা আইডিয়া হয়তো ফেইল করেছে, হয়তো অনেকগুলোর মধ্যে একটা কাজ করছে। ফান্ডিং জোগার করতে করতে জুতা ক্ষয় হয়েছে। মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ঠিক রাখা, গ্রোথ সহ টিম মেম্বারদের ক্যাচাল, এইসব ইউনিকর্নদের উথান-পতনের ব্যাপারে আমরা কজন জানি? টেসলার তো মার্কেটিং টিমই নাই, তারা মার্কেরটিং এ একপয়সাও খরচ করে না। তাহলে তাদের হিডেন টেকনিক কি? গার্লফ্রেন্ডের পরামর্শেই বা কিভাবে বয়ফ্রেন্ড ইউনিকর্ন দাড় করায়? যেসব স্টার্টআপগুলো ইউনিকর্নে পরিনত হয়েছে তাদের কেউ কেউ আইডিয়া নিয়ে বেশি সময় দিয়েছেন। কারন Idea May Worth Billions. আবার কেউ কেউ তার আশেপাশের প্রব্লেম সল্ভ করার জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু শুরু করেছেন যা কিনা পরবর্তিতে ইউনিকর্নে পরিবর্তন হয়েছে। কেউ কেউ শিখে মাঠে নেমেছেন আবার অন্যরা করতে করতে শিখেছেন। কিন্তু সবাই শিখেছেন। হাল ছাড়তে ছাড়তে ধরে ফেলেছেন। সময়ে সঠিক ডিসিশন নিয়েছেন। টেসলা কিভাবে এলন কে ধনকুবের বানালো? পেপাল মাফিয়ারা কেন বিলিওয়নার? ডিভিডি ভাড়া দেয়া থেকে কিভাবে ২২০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি কিভাবে হয় এবং যেটি কিনা বিশ্বের সেরা এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি? আমাদের ইকবাল কাদির স্যারের গল্পটা কজন জানেন? জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ বইটি। বইটি আমার ভালো লেগেছে। বইটি খুব সহজ ভাষায় লিখা যার কারনে যেকারো পড়তে অসুবিধা হওয়ার কথা না। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে ইউনিকর্নগুলোর গ্রোথ বুঝা যায় সহজেই। তাই এই বই পড়লে নতুন Entrepreneur রা অনেক টেকনিক সম্পর্কে জানতে পারবে এবং যারা ব্যাবসা করতে ইচ্ছুক না তাদের মনেও একটা বাসনা তৈরি হবে স্টার্টআপ তৈরির এটা আমার বিশ্বাস। আমাদের দেশে তৈরি হোক হেক্টাকর্ন ডলার স্টার্টআপ😍 হ্যাপি রিডিং।😃