পৃথিবীর বুকে মানুষ যেদিন প্রথম পদচারণা করে, তা থেকে পেরিয়ে গেছে বহু শতাব্দী। অথচ মানুষের মধ্যে যে আদিম অনুভূতিগুলো- ক্রোধ, হিংসা, লালসা, আজও আছে। সুদূর ভবিষ্যেতও কি এর ব্যত্যয় হবে না? মানুষ যখন গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সি ছুটে বেড়াবে, তখনও কি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালতা তাকে স্পর্শ করতে পারবে না? কল্পবিজ্ঞানের জগৎ থেকে বেরিয়ে রো কি পারবে কঠিন অপ্রিয় বাস্তবের মুখোমুখি হতে? রো আর কুসুর সিলিসের তীরে বসে সূর্যাস্ত উপভোগের স্বপ্ন কি শেষ পর্যন্ত পূরণ হবে? ডায়েরির পাতা থেকে অনাবিষ্কৃত নিশিতা নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে সাধারণ অথচ চমকপ্রদ এ যাত্রায় স্বাগতম!
Mayeesha Farjana is a published author of several science fictions, including "Hello Sci-Fier" & "Manush". She is doing her undergrad in Computer Science & Engineering (CSE) at Rajshahi University of Engineering & Technology (RUET). Her field of interest includes Machine Learning & Artificial Intelligence. In literature, her favourite genre encompasses science fiction, fantasy & thriller. She has received the first prize for National Essay Writing Competition on National Jute Day from former prime minister of Bangladesh.
লেখিকা তার লেখার মাধ্যমে খুব সুন্দর ভাবে বইয়ের কিছু বিশেষ চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলে ধরেছেন। স্বার্থবাদী ফ্রেড এবং জুলুর কর্মকান্ড সত্যি 'পৃ' এর জন্য হতাশা জনক। বইটিতে থাকা রো চরিত্রটি আমাকে তার প্রতি আকর্ষিত করেছে। রো এর বুদ্ধিমত্তা সত্যি আর্কষণীয়। রো এবং কুসুর বন্ধুত্বও আমার বেশি ভালো লেগেছে। রো এবং কুসুর বন্ধুত্বটি একদম স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ এক বন্ধুত্ব।
মহামান্য ফ্রেড 'পৃ' এর ভালোর জন্য একটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করার জন্য রো কে নিশিতা নক্ষত্রপুঞ্জের অনাবিষ্কৃত কলোনিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রো নিশিতা নক্ষত্রপুঞ্জের অনাবিষ্কৃত কলোনিতে গেলে কুসু পৃ তে একা হয়ে যাবে। কুসু রো কে ছাড়া একা কিভাবে এই পৃ তে থাকবে.? রো এর সাথে কুসুর কি আবার দেখা হবে.? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে হ্যালো সাই - ফাইয়ার বইটি।
নীল গ্রহ 'পৃ'-র বুকে বড্ড ব্যাথা! কতরকমের কন্সপাইরেসিতে ঠাসা আমাদের এই গ্রহটা। হাজারো দুরাশার ভীড়েও আমরা স্বপ্ন দেখি, একদিন আমাদের পৃথিবীটা আক্ষরিক অর্থেই কন্সপাইরেসি মুক্ত হবে। আমরা শ্রেণি বৈষম্য মুক্ত একটা সমাজ গড়ব। সে স্বপ্নের উপাখ্যান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আমাদের লেখা গল্পগুলোয়, আমাদের গাওয়া গানগুলোয়, আমাদের পড়া কবিতাগুলোয়। এই বইটিও সে স্বপ্নের কথা বলে, অনাগত ভবিষ্যতের কল্পচিত্রের মাধ্যমে। কন্সপাইরেসির শেকল ভেঙ্গে রো আর কুসু কি পারবে সিলিসের তীরে বসে সূর্যাস্ত দেখার স্বপ্নকে সত্যি করতে?
“একদিন এমন একটি গ্রহ আবিষ্কার হবে, যেখানে রেডিয়াম নেই। সেদিন রো আর কুসু পৃ নামক গ্রহ ছেড়ে সেই অজানা গ্রহে চলে যাবে। সেখানে ডেলিসের স্বচ্ছ কোয়ার্টাজে বানানো বাড়ি থাকবে তাদের, থাকবে ছোট ছোট রো ও কুসু...।” .
উপন্যাসের প্লট দূর ভবিষ্যতের কোন এক সময়কালে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাফল্য-উৎকর্ষ তখন সর্বোচ্চ শিখরে। রীতিমতো আকাশ ছুঁয়েছে। সেই আকাশ-মহাকাশ ছাপিয়ে সৌরজগতের পৃ নামক একটি গ্রহে মানুষের বসবাস। কিন্তু জীবন এখানে সহজ নয়। বরং সংঘাতময়। জীবনযাত্রার মান, কর্ম পরিবেশ নির্ধারিত হয় বুদ্ধিমত্তার বিচারে। মিমিম স্কেলে বুদ্ধিমত্তার মান-বিচারে নির্ধারণ করা হয় কে হবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, বৈজ্ঞানিক বা শাসক। প্রাচীনকালে এমন হতো না। যে কেউ তার যোগ্যতা, পরিশ্রম বা অর্জিত জ্ঞানের দ্বারা স্বেচ্ছা-উন্নয়ন ঘটাতে পারত; কিন্তু এখন জ্ঞান ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্য বা মিমিম স্কেলেই প্রতিটি ব্যক্তির ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়।
উপন্যাসের কেন্দ্রিয় চরিত্র ‘রো’ এর বিবৃতি থেকে গল্প এগিয়ে যায়। একুশ বছর বয়সী রো তার পুরোটা জীবন বিজ্ঞান একাডেমির সামান্য এক অর্ধগোলাকৃতির ডোমে কাটিয়েছে। শত নিয়ম-কানুন ও প্রতিবন্ধকতার মাঝে বেড়ে ওঠা রো বাকিদের থেকে ভিন্ন এবং অনেকের মতে ভয়ঙ্কর! রহস্যে ঘেরা তার জীবন দ্রুতই জটিলতর হয়ে পড়ে যখন একাডেমির এমডি সাহেব মি. ফ্রেড তাকে প্রজেক্ট রোবাস্টো নামক একটি সুইসাইডাল মিশনে নিযুক্ত করে। যেটার কাজ হল পৃ গ্রহ থেকে প্রায় নয়শ ত্রিশ কোটি আলোকবর্ষ দূরে নিশিতা নক্ষত্রপুঞ্জের অনাবিষ্কৃত একটি কলোনিতে পৌঁছাতে হবে। এর জন্য পাড়ি দিতে হবে মহাবিশ্বের সবচাইতে বড় ব্ল্যাকহোল। অথচ খাতা কলমে যা সফল হওয়া প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু তবুও রো এই মিশনে যেতে রাজি হয়, যেতে বাধ্য হয়। ভাগ্যক্রমে যাত্রাপথের সঙ্গী হিসেবে নিজের সবচাইতে প্রিয় মানুষ, একমাত্র বন্ধু ‘কুসু’কে পেয়ে যায় সে। এরপর শুরু হয় অচেনা-অজানা, বিপদ-সঙ্কটময় এক রোমাঞ্চকর অভিযান। তারপর কী হয়? রো আর কুসু কি পারবে তাদের মিশন সফল করতে? তাদের সামনে ঠিক কী অপেক্ষা করছে? এ সমস্ত প্রশ্ন, ধাঁধা এবং বিভিন্ন জটের উত্তর-সমাধান মিলবে উপন্যাসটিতে। .
ব্যক্তিগতভাবে সায়েন্স ফিকশন জনার আমার খুব পছন্দ। যতটা প্রত্যাশা নিয়ে বইটি পড়া শুরু করেছিলাম, তার দ্বিগুণ আনন্দ পেয়েছি। কাহিনি বিন্যাস, চরিত্রের গাঁথুনি, গল্প বলার ঢং, লেখনশৈলী এক কথায় চমৎকার। শুরু থেকে শেষ অবধি কোথাও থামার সুযোগ হয়নি। গল্প বেশ দ্রুততার সাথে এগিয়েছে। তবে এক মুহূর্তের জন্যও খাপছাড়া লাগেনি, আগ্রহ হারাইনি। গল্পের শেষাংশে থাকা প্লট টুইস্ট বেশ জোরেশোরেই ধাক্কা দিয়েছে। লেখিকা এখানে প্রশংসার দাবিদার।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মোট তিনটি। রো, কুসু এবং মি. ফ্রেড। গল্প বলার ঢং অনুযায়ী রো এর উপর মূল ফোকাস রইলেও বাকি দুজনের চরিত্র প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিকঠাকই ছিল। তবে কুসু’কে আরও একটু বেশি জায়গা দিলে ভালো লাগতো। মেয়েটার অতীত-বর্তমান, তার জীবন সংগ্রাম অনুযায়ী তাকে সেভাবে জায়গা দেয়া হয়নি। এছাড়া অন্যান্য চরিত্র- জুলু, ত্ররা ও তিহা তাদের স্ব-অবস্থানে ঠিকঠাক ছিল। রোবট চরিত্রের মধ্যে টরী, মিটি ও লিয়া বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। মানুষের সাথে রোবটদের তর্ক-বিতর্ক মজা দিয়েছে খুব। সেইসাথে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স চরিত্র ‘সিরো’র কথা। উপন্যাসের বড় একটা অংশজুড়ে তার উপস্থিতি রয়েছে এবং এই চরিত্রটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বইটির আরও একটি বিশেষ দিক না উল্লেখ করলেই নয়। এটি সায়েন্স ফিকশন হলেও সাসপেন্স-থ্রিলার উপন্যাস হিসেবে ভালোভাবেই উতরে যায়। ষড়যন্ত্র, হিংসা, লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনীতি, সমাজ কেন্দ্রিক অসঙ্গতি ইত্যাদি বিষয় অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আবার বইয়ে উল্লেখিত বিজ্ঞান ও সে সম্পর্কিত তথ্যগুলো যথাসম্ভব সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যাদের বিজ্ঞানের সাথে সখ্যতা কম, তারাও আনন্দ সহকারে বইটি পড়তে পারবেন। বুঝতে অসুবিধা হবে না। ভাবতে বেশ আশ্চর্যই লাগে- লেখিকা মায়িশা ফারজানা’র এটি প্রথম বই। অথচ তার লেখনশৈলী অত্যন্ত চমৎকার। কতটা যত্ন নিয়ে উপন্যাসটি তিনি লিখেছেন, তা বইটি পড়ার সময় ধারণা পাওয়া যায়। আগামীতে এ জনারে তিনি আরও লিখবেন, এমনটাই প্রত্যাশা।
যারা সায়েন্স ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ‘হ্যালো সাই-ফাইয়ার’ বইটি সাজেস্ট রইলো। আশা করি ভালো লাগবে। হ্যাপি রিডিং। .
This book is really amazing. I thought that as a very first book, it's really a masterpiece. Ro is a very interesting, cute and intelligent character. Kusu is also a cute character. Fred as a villain did a really great job. Basically he is fond of power. The story is really good. But there is short of back story. As a reader, I love this.