ক্রাইম ডাজ নট পে— কথাটা আমরা কত জায়গায়, কতভাবে দেখি বা শুনি, তাই না? কিন্তু, কথাটা কি সত্যি? যদি সত্যি হয়, তাহলে এত মানুষ অপরাধ করে কেন?
অপরাধ... ক্রাইম মানেই বা আসলে ঠিক কী?
দর্শন আর মনস্তত্ত্বের এইসব গূঢ় প্রশ্ন নিয়ে বই লেখা হলে আমরা পড়ার আগেই হাই তুলব। কিন্তু এগুলোকে নিয়েই যদি লেখা হয় একটি রুদ্ধশ্বাস উপন্যাসিকা? যদি তারই চরিত্রদের মুখ আর মুখোশ ক্রমাগত জায়গা বদল করে আমাদের ভাবায়, অপরাধ জিনিসটা আসলে কী?
হ্যাঁ, আলোচ্য লেখাটি এমনই।
২০০৮ সালে একটি হত্যা এবং একটি নিরুদ্দেশের ঘটনা এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শেষ বছরের কিছু সম্পর্ককে ওলট-পালট করে দেয়। তারপর জীবন এগিয়ে চলে নিজস্ব ছন্দে। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির আবর্তে ঘুরপাক খায় ক'জন মুখ্য চরিত্র।অবশেষে, ২০২০ সালে, তারা আবার আসে সমুদ্রের ধারে এক বাড়িতে— পুনর্মিলনের জন্য, হয়তো বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে।
সন্দেহ, ভয়, মিথ্যে, বিস্মৃতি, লালসা— এ-সবের মধ্য দিয়ে ক্রমশ উদ্ঘাটিত হয় সত্যের বিচিত্র চেহারাটি। কিন্তু...
একাধিক হত্যাকাণ্ড থাকলেও একে প্রথাগত রহস্য কাহিনি বলা অসম্ভব। তার একটা মস্ত বড়ো কারণ হল, এতে সব সূত্র আমাদের সামনে রাখা হয়নি। বরং কথকদের আনরিলায়েবল ন্যারেটর হিসেবে পেশ করে প্রথমেই বোঝানো হয়েছে যে আমরা যা দেখছি, বাস্তব তার তুলনায় অন্যরকম।
এটি নিঃসন্দেহে থ্রিলার— যা একেবারে রুদ্ধশ্বাসে আমাদের ছুটিয়ে নিয়ে গেছে শেষ অবধি। তবে... গল্পটা কি তখনও শেষ হয়েছে? নাকি আরও কিছু না-বলা কথার মতো এর বাকিটা থেকেই গেছে গুপ্ত হয়ে?
তাই শেষ বিচারে একে নোয়া (noir)-ই বলতে হচ্ছে। ধূসর কিছু চরিত্রের ওপর কালোর নানারঙা প্রলেপ পড়েছে। তাদের কার্যকলাপ পড়তে গিয়ে আমরা একইসঙ্গে বিকর্ষিত ও শিহরিত হয়েছি। আর হ্যাঁ, গল্পের শেষে একটা কথা প্রমাণিত হয়েই গেছে।
ক্রাইম ডাজ নট পে!
পিয়া সরকারের লেখনী আর চরিত্রচিত্রণ নিয়ে নতুন কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আলোচ্য বইটিও তাঁর দক্ষতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
প্রকাশক এই বইটিকে বেশ যত্নের সঙ্গে সম্পাদনা করিয়েছেন দেখে স্তম্ভিত হলাম। পূর্বজন্মের কোনো সুকৃতির ফলেই এ-জিনিস দেখার সৌভাগ্য হল আর কি। তবে খেতে পেলে শুতে চাওয়ার মতো করে বলি, এত ছোটো একটি লেখাকে ব্যয়বহুল হার্ডকভার যখন বানানোই হল, তখন ভেতরে ক'টা অলংকরণ দিলে আরও ভালো হত।
হু/হাউ-ডান-ইট নয়, বরং এক টানটান নোয়া আখ্যান পড়তে চাইলে এই বইটি আপন করে নিন। ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।