শখের ফটোগ্রাফি করতে করতে এখন রীতিমত একটা বাংলা পত্রিকার ফিচার ফটোগ্রাফির কাজ করে মুকুল আহমেদ—মুকুল। সেই পত্রিকারই একটা এসাইনমেন্টে গিয়ে হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই এক আততায়ীর আঘাত, আর তার কারণ খুঁজতে গিয়ে নিজের অজান্তেই একটা অদ্ভুত অভিযানে জড়িয়ে গেল মুকু। সাথে (নিতান্ত অনিচ্ছায়) আছেন পত্রিকার সিনিয়র সহকর্মী জামান ভাই। ঠিক কিসের পেছনে তাড়া করছে তা বুঝতে বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেল তাদের। যা ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক জটিল বিষয়টা।
সাংবাদিকের মাথায় ভুল করে আঘাত দিয়ে কাহিনী শুরু। এই ছোট্ট ভুলের জন্যই বড় মূল্য চুকাতে হয় কুখ্যাত এক স্মাগলারকে। মুকুর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম, অ্যাডভেঞ্চার, হাস্যরস, সামান্য মিথ ও ইতিহাস সেইসাথে কিছুটা ফ্যান্টাসি। সবমিলিয়ে বেশ ভালোই লাগল নীলকন্ঠ রহস্য। আঁকাগুলোও দারুণ, একেবারে রঙিন। গ্রাফিক নভেল হিসেবে উপভোগ্য।
আর্টিস্ট নিজেই মেনে নিয়েছেন, যা গল্প দাঁড়িয়েছে তা হলো টিনটিনের কপি! আমার তাতে করে আপত্তি নাই। বাংলাদেশের এক সাংবাদিক, তার কলিগকে নিয়ে জড়িয়ে পড়েন এক রহস্যে। অপরাধী ধাওয়া করতে গিয়ে প্রাচীন এক পৌরাণিক গল্প ফ্যান্টাসির চাদর মেলে ধরে সামনে... কিছুটা এডভেঞ্চার, কিছুটা মিস্ট্রি, ষাট পাতায় বেশ জমজমাট একটা গল্প।
শেষেরদিকের মিথোস আর গল্পের গতি বেশ উপভোগ্য লেগেছে। এভাটার দ্যা লাস্ট এয়ারবেন্ডার-এর লোর মনে পড়ছিল; আর যা দেখান হয়েছে তা-ও কি না মেলানো হয়েছে দেশী মিথের সাথে। আমাদের গ্রাফিল নভেল অঙ্গণে দারুণ একটা মাইলফলক 'নীলকন্ঠ রহস্য'।