রহস্য, রোমাঞ্চ, ভয় সেইসাথে অজানাকে জানার তীব্র ইচ্ছা কিংবা নিষিদ্ধ কিছুর প্রতি ঘোর আকর্ষণ জন্মগতভাবেই প্রত্যেকটা মানুষের মাঝেই রয়েছে। সে-ই আকর্ষণগুলো এক মলাটে বন্দি করা হয়েছে ৩৫ জন লেখক ও অনুবাদকের ৩৬টি লেখার মাধ্যমে। সকলের সম্মিলিতি প্রয়াসে গল্পগ্রন্থটি পাঠককে শিহরিত করতে প্রস্তুত। দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকা থ্রিল এক্সপ্রেসের প্রত্যকটি গল্পই যেন একেকটি প্ল্যাটফর্ম। এক টিকিটে এই অসাধারণ রোমাঞ্চকর যাত্রা আর প্লাটফর্মের গল্পগুলো সদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে পাঠকের মনে। শীতের রাত, গ্রীষ্মের অলস দুপুর কিংবা ঝুম বরষায় যে-কোনো সময়ে এই অসাধারণ যাত্রার জন্য চড়ে বসতে পারেন থ্রিল এক্সপ্রেস-এ।
পরিচয় দেওয়ার মতো এখনও কোনো কাজ করা হয়নি। তবে মালিকানা স্বত্বের দরুণ বাংলাদেশের বিভাগীয় ও জেলা শহর রাজশাহীর "সতীর্থ প্রকাশনা" -এর প্রকাশক হিসেবে কাজ করছি। এর বাইরে টুকটাক লেখালেখি করলেও লেখক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের সুযোগ এখনও আসেনি। তবে "সতীর্থ গল্প সংকলন" নামে একটি গল্প সংকলনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছি। যদিও প্রকাশক হিসেবে সম্পূর্ণ নাম "মোঃ তাহমিদুর রহমান" ব্যবহার করি এবং টুকটাক লেখালেখি ও সম্পাদনা বা যে কোনো বইয়ের কোনো স্থানে "তাহমিদ রহমান" ব্যবহার করে থাকি।
Yet, I have not done anything special through which I can be able to introduce myself. As a owner, I am working as "Publisher" in "Satirtho Prokashona" (Satirtho Publication). It is situated in the Rajshashi division. I also write a little bit but yet didn't get an opportunity to introduce myself as a writer. However, I wrote a story in a storybook named "Satirtho Golpo Songkolon". I was also an editor of this book. Though as a owner and publisher I use my original name "Md. Tahmidur Rahman", I use " Tahmid Rahman" for writing and editing purpose.
এক বইতে ৩৬টা গল্প। ১০ দিন ধরে পড়লাম। একেক বেলায় একটা দুইটা করে গল্প। ২জন ছাড়া আর কোন লেখকের লেখাই আগে পড়া ছিল না। কাজেই জিনিসটা আমার জন্য ভালো ছিল। প্রথমে ভেবছিলাম সব গল্পের নাম মনে রাখবো কোনটা কেমন লেগেছে। পড়ে শেষ করে দেখলাম বেশিরভাগ নামই মনে নাই। যেগুলো ভালো লেগেছে তার মধ্যে কয়েকটা গল্প - একটি খুনের তদন্ত, মৃত্যুগন্ধ, দেয়ালেরও কান আছে, নবসৃষ্টির ইতিহাস, ব্যাধিবৃত্ত, গুটি। এতগুলার মধ্যে সব ভালো লাগবে না এটাই স্বাভাবিক। কিছু গল্প পড়ে মনে হয়েছে লেখক চেয়েছে অনেকগুলো ঘটনার সূত্র একসাথে মিলাতে। তাই একের পর এক দৃশ্যের পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু সেগুলো অনেক বেশি খাপছাড়া লেগেছে, যার জন্য গল্পের শেষে সূত্র লেখক হাতে ধরে মিলিয়ে দিলেও পুরো গল্প খাপছাড়াই রয়ে গেছে, উপভোগ্য হয়নি। কয়েকটি গল্পে আবার মনে হয়েছে টুইস্ট আনতে চেয়ে গল্পের আসল প্লটই গভীরতা পায়নি। এছাড়া কয়েকটা গল্প আগের পড়া অনেক গল্পের সাথে একই প্লট বা কোন মুভি বা নাটকের মত মনে হয়েছে। থ্রিল এক্সপ্রেস বইটা সার্বিকভাবে আমার ভালো লেগেছে অনেক গুলো ছোট ছোট লেখা একসাথে পাওয়াতে। প্রিন্টিং মিস্টেক / বানান আরেকটু খেয়াল করলে ভালো হতো।
৩৬টা গল্পের বিশাল সংকলনে সবগুলো গল্প ভালো হবে এটা আশা করা অনুচিত।যেসব গল্পে লেখকরা শুধুমাত্র টুইস্টের ওপর নজর না দিয়ে গল্প বলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন ও নিটোল গল্প লিখেছেন সেই গল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে (মৃত্যুগন্ধ,ও,মূকাভিনয়,গোলাপী অন্তর্বাস,একটি খুনের তদন্ত,নবসৃষ্টির ইতিহাস,ব্যাধিবৃত্ত ইত্যাদি)।মহল ও ইরোনিয়াস গল্প দুটিও অসাধারণ তবে খুন,ধর্ষণ ও কাটাকুটির বীভৎস বর্ণনা সবাই সহ্য করতে পারবে কিনা বলা মুশকিল।"তিন পয়সা" নভেলাতে অল্প জায়গায় অনেক বেশি তথ্য ও ইতিহাসের বর্ণনা থাকায় মূলগল্পের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারিনি।
প্রায় সব গল্পই সুখপাঠ্য। এখন অনেক থ্রিলার লেখক "টুইস্ট" জিনিসটার প্রতি অতিরিক্ত জোর দেন। কিন্তু গল্পের গাঁথুনি ঠিক না রেখে টুইস্ট দিতে গেলে গল্পটি যে দুর্বল হয়ে যায় ও অনেক আগেই টুইস্ট অনুমান করে ফেলা যায় এটা অনেক লেখক বুঝতে চান না।এই সংকলনের কিছু গল্পও এই দোষে দুষ্ট। সব মিলিয়ে ভালো প্রচেষ্টা।
👍 a roller coaster chilling ride ... Each & every story is unique & fabulous.. Murder mystery, revenge thriller, psycho thriller all in one ☝️ bundle...❤️
Thanks to. Salma Siddika, Salman Haque, Bappy Khan, Lutful Kaiser, পলাশ পুরকায়স্থ, Wasee Ahmed Rafi, Kishor Pasha Imon, বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম , তাসনিয়া আহমেদ, & all other writers for their mind blowing stories..
Requesting publisher for thrill express 2 by next year 😊
Highly recommended 👍 Thriller lovers shouldn’t miss this ride 🚇 Happy reading 📖
আমার কাছে সংকলনের সেরা আকর্ষণ ছিলো আলমগীর তৈমূর এর গল্প। অথচ পড়তে গিয়ে দেখি তার আগে পড়া একটা গল্পকেই এখানে নতুন নামে ছাপানো হয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ মৌলিক গল্পই ভয়াবহ বাজে। বিদেশি গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা কয়েকটা গল্প ভালো লেগেছে৷ মৌলিকের মধ্যে কেপি ইমনের ইরোনিয়াস গল্পটা ভালো লেগেছে৷ এছাড়া আর তেমন কিছু পাইনি ভালো লাগার৷
দারুণ গল্প সংকলন এবং প্রচ্ছদটাও চমৎকার । ধীরে ধীরে উপভোগ করে বইটি পড়েছি। সর্বমোট ১৪-১৫ দিনে বইটি পড়া শেষ করেছি। তবে কয়েকটা গল্প বাদে বাকি গল্পগুলো বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে অনুবাদ গল্প কয়েকটা একদম ভালো লাগেনি। সংকলনে যেহেতু ৩৬ টি গল্প রয়েছে , সবগুলি ভালো লাগবে না এটাই স্বাভাবিক। যারা থ্রিলার গল্প সংকলন পড়তে পছন্দ করেন , তাদের অবশ্যই রেকমেন্ড করবো বইটি।
একটা গল্প সংকলনের সব গল্প ভালো লাগবেনা,এ জানা কথা।এটার বেলাতেও ব্যতিক্রম হয়নি। ভালো ভালো কিছু গল্প যেমন পেয়েছি, অখাদ্য কিছু ছিলোনা,তাও না। কিন্তু ভালোর পাল্লা ভারীই বলবো। চেনা জানা লেখকদের গল্পগুলোই ভালো হিসেবে ধরা দিয়েছে। আবার তাহমিদ ভাই যে গল্প লেখেন,জানতাম না। ওনার দুটো গল্পই বেশ লেগেছে। বিশেষ করে ক্লিপ্টোমেনিয়া। তাছাড়াও গুবরে পোকা,একদিন অদিতি,কনভার্স গল্পগুলোও নজর কেড়েছে।
থ্রিল এক্সপ্রেস আমার জন্য অন্য একদিকে সারপ্রাইজ ছিলো। আমি এই বইটি থ্রিলার উপন্যাস ভেবে রেখেছিলাম। 😑
এইসব ছোট গল্প সংকলন পড়ে কোনো লাভ নেই আসলে। আমি মনে করি ছোট গল্প লেখা একটা উপন্যাসের থেকেও বেশি চ্যালেঞ্জিং। আর ছোট গল্প যদি থ্রিলার জনরায় লিখতে চান তাহলে তো কথাই নেই।
আসলে বাংলা সাহিত্যে ছোট গল্প লিখতে পাড়ে/পাড়তো হাতে গোনা কয়েকজন। এখন এই গল্প সংকলন বেড় করার একটা ট্রেন্ড চলছে। হুদাই হালের কিছু লেখক দের নাম ভাঙিয়ে বই বিক্রি করার ধান্দা। বেশিরভাগ গল্পের আগা-মাথা কিছুই হয়না। হুদাই সময় নষ্ট।
এপ্রিল ২০২১ এ সতীর্থ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয় থ্রিলার সংকলন থ্রিল এক্সপ্রেস। ৩৩ টি মৌলিক গল্প ও ৩ টি অনুবাদ আছে এই পেপারব্যাক বইটিতে। প্রত্যেকটি গল্পই বেশ অনবদ্য। ছোট ��েলায় ‘একের ভিতরে অনেক’ টাইপের গাইড বইগুলোতে একটি ক্লাসের সব বইয়ের প্রশ্ন উত্তর দেয়া থাকতো। থ্রিল এক্সপ্রেসটাও ঠিক তেমনই। থ্রিলার জন��ার প্রায় প্রত্যেক ধরনের যেমন তদন্ত, আদিভৌতিক, সাইকোলজিকাল, ক্রাইম, রোমাঞ্চ এইরকম আরো বিভিন্ন ধারার গল্পই স্থান পেয়েছে বইটিতে। ড. জাফর ইকবাল, নাজিম উদ দৌলা, তাসনিয়া আহমেদ, মুর্তজা সাদ, কিশোর পাশা ইমনের মত পাঠক নন্দিত লেখক ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন নবীন প্রবীন লেখকের লেখায় সমৃদ্ধ বইটি। পেপারব্যাক বই হলেও বইটির বাইন্ডিং ও মুদ্রন বেশ চমৎকার। আদনান আহমেদ রিজনের প্রচ্ছদে বইটার স্বরুপ ফুটে উঠেছে বেশ ভালো ভাবেই।
বইটার কয়েকটা সবকটা গল্পই বেশ ভালো । তারমধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে নিচের কয়েকটি । তিন পয়সা – মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর একটি খুনের তদন্ত – ওয়াসি আহমেদ রাফি প্ল্যান- তাসনিয়া আহমেদ উড়ো চিঠি -মুর্তজা সাদ কনভার্স – আদিন নূর অন্ধকারের এপারে দাড়িয়ে – শাশ্বত অর্ঘ্য
পুরো বইটার মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্প “তিন পয়সার” কাহিনী সংক্ষেপ দিয়ে দিলাম।-
তিন পয়সা – মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর নীলকরদের উপর থিসিস করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শরৎ চলে যায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রামে। ওখানে গিয়ে আশ্রয় নেয় স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টারের বাসায়। হেডমাস্টার যুদ্ধের সময় রাজাকার ছিলেন, তারপরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঘটনা চক্রে শরৎ হেডমাস্টারের ঘরে এক পাকিস্তানি বেলুচ অফিসারের ডায়রি খুজে পায়। ডায়রিতে সেই পাকিস্তানি আর্মি অফিসার তিনটা অত্যাশ্চার্য কয়েন বা পয়সার গল্প লেখে রেখে গেছেন যা তার দাদা উদ্ধার করে এনেছিল ভারতের এক গোপন জায়গা থেকে। সেই পয়সা আবিস্কারের রোমাঞ্চকর বর্ননা তাক লাগানোর মত । মিথ অনুযায়ী যীশুর রক্তে ভেজা পয়সাগুলোর রয়েছে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা। সেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ ঘুরে কিভাবে এই পয়সাগুলো ভারতবর্ষে এসে পৌছালো তারও রোমহর্ষক বর্ননা আছে গল্পটায়। ওই পয়সা তিনটে যার যার হাতে ছিল তারাই সেই পয়সার অতিপ্রাকৃত গুনে অর্জন করেছে সমৃদ্ধি ও অশেষ ক্ষমতা। ডায়রির সুত্র ধরেই পয়সাগুলো একসময় শরৎ এর হাতে এসে পরে। শুরু হয় আরো কিছু নাটকিয় ঘটনা।
বইটি এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে প্রকাশের কয়েক দিনে মধ্যেই এর প্রথম মুদ্রনের সকল কপি শেষ হয়ে যায়। আমার হাতে যে কপিটা আছে সেটা দ্বিতীয় মুদ্রন । এটা হাতে পেতে বেশ কয়েকমাস আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অপেক্ষার ফল মিষ্টিই হয়েছে। থ্রিল এক্সপ্রেসের ২য় সংস্করনের অপেক্ষায় আছি। ব্যাক্তিগত রেটিং ৫/৫
স্বভাবতই গল্পসংকলন থেকে দূরত্ব বজায় রাখি আমি, কেননা বেশিরভাগ গল্পসংকলন-ই আমায় হতাশ করে। তবে সতীর্থ প্রকাশনীর ‘থ্রিল এক্সপ্রেস’ আমার প্রত্যাশার কলস পরিপূর্ণ করতে পেরেছি। কোনো গল্প-ই পানসে মনে হয়নি, প্রতিটা গল্প-ই বেশ উপভোগ করেছি। তবে গুটিকয়েক গল্প ছিল একদম হৃদয়ে গেঁথে রাখার মত। ৩৬ টা গল্প নিয়ে বলতে গেলে বেগ পেতে হবে বিধায় হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নেয়া কয়েকটি গল্পের নাম তুলে ধরছি- ১. তিন পয়সা ( মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর) - তৈমুর স্যারের হাকিনী ইউটিউবে একবার শুনেছিলাম, তার অন্য গল্প পড়া হয়নি। তাই বলতে গেলে এটাই আমার পড়া প্রথম গল্প। সকল প্রত্যাশা ছাপিয়ে এক অসাধারণ গল্প উপহার দিয়েছেন লেখক। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, ধর্মীয় নিদর্শন-সহ ঐতিহাসিক জুডাস কয়েন যা মানবমনকে অলৌকিক শক্তি ও চিন্তা-চেতনায় আচ্ছন্ন করতে সক্ষম–সব মিলিয়ে অনবদ্য কাহিনী। প্রচুর তথ্য জানতে পারেছি, লেখককে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। উপস্থাপনা এবং এণ্ডিং উপভোগ্য ছিল, আমি প্রসন্ন হয়েছি। ২. গোলাম (পলাশ পুরকায়স্থ) -গল্পটা একজন সাধারণ প্রবাসীর, যে নিজ স্ত্রীকে ডাইনি মনে করে! স্ত্রীর জীবনে জড়িয়ে যাওয়া এবং শেষে আসল রহস্য খোলাসা হওয়াটা ছিল টান টান উত্তেজনায় পরিপূর্ণ। বিশেষ করে লেখকের উপস্থাপনা গল্পকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।
৩.আত্মতত্ত্ব (মুশফিক উস সালেহীন) - গল্পটি ছোট, তবে সবচেয়ে বেশি চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে এই গল্পটি আমায়। অসাধারণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, শেষটা ছিল কল্পনাতীত। একরাশ রহস্য শেষ হয়েও নিজেদের জীবন্ত রেখেছে।
৪. ক্লিপ্টোমেনিয়া (তাহমিদুর রহমান) -চিরচেনা প্লট, তবে প্রথম পুরুষে বেশ জীবন্ত করে লেখা হয়েছে যেন। একজন ক্লিপ্টোমিয়ার রোগী, যে অজ্ঞাতসারেই চুরি করে বসে আকর্ষণীয় জিনিসপত্র। পারিবারিক দুঃসম্পর্কের মায়াজাল, সাথে নিজের অসুখ– বেশ অনুভব করেছি।
৫.নবসৃষ্টির ইতিহাস (তাইয়্যেবাহ রহমান) - নিউক্লিয়ার উইপেনের বিধ্বংসী ব্যবহারে পৃথিবী হয়ে গেছে বসবাসের অনুপযোগী। তবে এখনো একদল পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার স্বপ্ন দেখে, তবে তাদের পথের কাঁটা যেন স্বয়ং মানব সভ্যতা। পারবে কি তারা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে? পিওর সাইফাই, সাথে ভবিষ্যতের প্রেডিকশন। টুইস্ট কিংবা টানটান রোমাঞ্চ না থাকলেও শুধু উপস্থাপনা, প্লট এবং লেখনশৈলীর জন্যে একটানে পড়ে যাবেন। শেষটা সুখকর ছিল।
৬.অন্ধকারের এপারে দাঁড়িয়ে (শাশ্বত অর্ঘ্য) -সাধারণ প্লট, তবে উপস্থাপনা অসাধারণ। বেশ সুন্দর এক সামাজিক থ্রিলার, অন্ধকার জগতের কড়াল ছায়া অনবদ্যভাবে ফুটে উঠেছে।
পরিশেষে, কোনো গল্প-ই আমায় হতাশ করেনি। তবে উপরোক্ত গল্পগুলো ছিল অসম্ভব প্রিয়। মানসম্মত এক গল্পসংকলন পড়লাম।
“সুবর্ন এক্সপ্রেস”-এ চড়েছেন নাকি? নামে এক্সপ্রেস হলেও আমাদের ট্রেন কিছু স্টেশন কাটায় চটচট আর কিছু স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে মিনিট দশেক বা তারও বেশি। আবার ঘোষণা না দিয়েই মিনিট ত্রিশও কাটিয়ে দেয় ঠায় দাঁড়িয়ে ক্রসিং-এর অপেক্ষায়। সতীর্থ প্রকাশনার “থ্রিল এক্সপ্রেস” বাস্তবিক-ই আমাদের দেশীয় এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো। কয়েকটা গল্প চট চট করে শেষ হয়ে যায় তো কয়েকটা গল্প আগায় ধীর লয়ে।
৩৬ টা গল্পের অনেকগুলোই মনে ধরার মতো। কিন্তু আমি শুধু বেশ ভালো লাগা গল্পগুলোর কথাই বলব এখানে।
রফিকুল ইসলামের “ব্যাধিবৃত্ত” গল্পে ব্যাধি খুঁজে হয়রান হয়ে শেষমেষ যেই খাবি খেতে হয়েছে তা অনবদ্য। "মৃত্যুগন্ধ" গল্পে মৃত্যু আসন্ন এমন মানুষদের গা থেকে উদ্ভট গন্ধ পায় তৃণা “স্বপ্নদাগ” গল্পে সন্তানসম্ভবা রুহি ঘরে এক মেয়েকে দেখা শুরু করে, যাকে আর কেউ দেখে না। “ইরোনিয়াস” গল্পে মনোস্তাত্ত্বিক সমস্যা প্লটের অপরিহার্য উপাদান হলেও গল্পটার প্রাণ গল্পজুড়ে থাকা “error”।
কিছু গল্প বুঝতে গল্পটা একবারের বেশি পড়া লাগে আর এরপরেও মনে হয় “আসলে এটাই কি বোঝাতে চেয়েছে লেখক?!” বিমুগ্ধ রক্তিমের “এক নেড়িকুকুর অথবা মাউন্টেন ডিউ খুঁজে পাবার গল্প” আর সাখাওয়াত হোসেনের “মহল” ঠিক এমনই দু’টো চমৎকার গল্প। “মহল”-এ নতুন দম্পতি আযীম-ইলা নতুন বাসায় উঠেই আটকা পড়ে। মুক্তি হয়তো পাবে তারা কিন্তু দু’টো অপশনের একটা বেছে নিতে হবে-খাদ্য নাকি মাংস? মাউন্টেন ডিউ আসক্ত কালাম যখন পুরো মহল্লায় মাউন্টেন ডিউ খুঁজে পাচ্ছিল না তখন অদ্ভুতভাবে এলাকার এক কুকুরের মুখে সে কথা শুনতে পায়, “মালিক, আরেকটু সামনে একটা অদ্ভুত গলি আছে। অদ্ভুত। সেখানে পাবেন ঐটা।ঐটা।”
জাদুবাস্তবতা নিয়ে গল্প “মুকাভিনয়”; “আমরা যা দেখাই আপনিও কি তাই দেখেন?”- জাদুকর আর তাঁর সহযোগী ঋ জাদু দেখিয়ে দর্শকের ���েতর নাড়িয়ে কিংবা গুঁড়িয়ে দেবে। গল্পটা পড়ার কয়েকদিন বাদেই গল্পলেখক তানভীর ফুয়াদ রুমি আত্মহত্যা করলেন। অদ্ভুত বিষণ্ণতা ছেঁকে ধরেছিল আমাকে, “কত আবর্জনা নির্লজ্জের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে চারপাশে, এমন সৃষ্টিশীল মানুষদের তবে কেন চলে যেতে হয় অবেলায় এভাবে?!” “আত্মত্তত্ব” আমাকে যেভাবে টাসকি খাইয়ে দিলো তাতে এই গল্পটা অনেকদিন ঘুরপাক খাবে আমার মাথায়। মুশফিক উস সালেহীন-এর লেখনীতে এই গল্পটা পড়ার সময় আপনি ভাবতে থাকবেন, “গাঁজা-টাজা খেয়ে লেখছে নাকি!” কিন্তু জানেন কি? গাঁজা খেয়েই গল্প লিখতে হবে এমন নয়, গল্পও কিন্তু গাঁজার নেশার মতো ঘোর লাগিয়ে দেয়। “আত্মতত্ত্ব” পড়ে এমন মনে হয় নাকি বলবেন তো?
এক বইতে ৩৬টা গল্প। ১০ দিন ধরে পড়লাম। একেক বেলায় একটা দুইটা করে গল্প। ২জন ছাড়া আর কোন লেখকের লেখাই আগে পড়া ছিল না। কাজেই জিনিসটা আমার জন্য ভালো ছিল। প্রথমে ভেবছিলাম সব গল্পের নাম মনে রাখবো কোনটা কেমন লেগেছে। পড়ে শেষ করে দেখলাম বেশিরভাগ নামই মনে নাই। যেগুলো ভালো লেগেছে তার মধ্যে কয়েকটা গল্প - একটি খুনের তদন্ত, মৃত্যুগন্ধ, দেয়ালেরও কান আছে, নবসৃষ্টির ইতিহাস, ব্যাধিবৃত্ত, গুটি। এতগুলার মধ্যে সব ভালো লাগবে না এটাই স্বাভাবিক। কিছু গল্প পড়ে মনে হয়েছে লেখক চেয়েছে অনেকগুলো ঘটনার সূত্র একসাথে মিলাতে। তাই একের পর এক দৃশ্যের পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু সেগুলো অনেক বেশি খাপছাড়া লেগেছে, যার জন্য গল্পের শেষে সূত্র লেখক হাতে ধরে মিলিয়ে দিলেও পুরো গল্প খাপছাড়াই রয়ে গেছে, উপভোগ্য হয়নি। কয়েকটি গল্পে আবার মনে হয়েছে টুইস্ট আনতে চেয়ে গল্পের আসল প্লটই গভীরতা পায়নি। এছাড়া কয়েকটা গল্প আগের পড়া অনেক গল্পের সাথে একই প্লট বা কোন মুভি বা নাটকের মত মনে হয়েছে। থ্রিল এক্সপ্রেস বইটা সার্বিকভাবে আমার ভালো লেগেছে অনেক গুলো ছোট ছোট লেখা একসাথে পাওয়াতে। প্রিন্টিং মিস্টেক / বানান আরেকটু খেয়াল করলে ভালো হতো।
সম্পাদকীয়,সূচিপত্র সবকিছু বাদ দিয়ে মোট ৩৯৮ পৃষ্ঠার একটা বই,অথচ পড়তে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি লাগবে না,বিরক্ত হবেন না।বরং একটা গল্পের পর অন্য আরেকটা গল্পের মাঝে ডুবে যাবেন,যেমন সমুদ্রতীরে নতুন ঢেউ এলে ডুবে যায় ক্ষণিক আগের শুকনো বালুকাবেলা।
৩৫ জন লেখক এবং অনুবাদকের লেখা সর্বমোট ৩৬ টি গল্প রয়েছে।একটা দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর রোলারকোস্টার রাইডের মতোই অনুভূতি পাবেন বইটি পড়া শেষে।কখনো ভয়,কখনো রহস্য,কখনো আবার ছেলেবেলায় নানী/দাদীর কোলে শুয়ে গল্প শোনার মতো অনুভূতি!
জাফর ইকবাল স্যারের গল্প দিয়ে বইটির ভেতর প্রবেশ করবেন তারপর কখন হারিয়ে যাবেন কে জানে! বইটির প্রচ্ছদও এমন আকর্ষণ জাগানো যে একবার হাতে নিতে মন চাইবেই। আর বইটির বাঁধাই,কাগজের মান সবকিছু এত ভালো যে পড়তে অসুবিধা হবার কথা নয়। তাহলে আর দেরী কিসের? একটি অসাধারণ যাত্রার জন্য চড়ে বসুন "থ্রিল এক্সপ্রেস"-এ।