অন্ধকারে ভয় পায় অনেকেই। কিন্তু এই ভয় কি আদোও অন্ধকারের জন্য? চারিদিকে কালো আঁধারের চাদর ঘিরে ধরেছে নাকি সেই আঁধারে লুকিয়ে আছে অজানা কেউ... কোনটা ভয়ের সঞ্চার করে মনে? ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, এক আদিম প্রবৃত্তি। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই এই অনুভূতির বাস মানবমনে। তবে যখন ভয়ে কুঁকড়ে যায় অন্তর... কিন্তু ভয়ের কারণ অজানা তখন?
এডভেঞ্চার প্রিয় দুই বন্ধু রহস্যের টানে পাড়ি দেয় দানিয়ুব নদীর উদ্দেশ্য। নদীর অপার্থিব সৌন্দর্যের মায়ায় কখন যে প্রবেশ করে নদীর গভীরে সে খেয়ালই নেই। ভয়াল সে নদী নিয়ে যায় তাদের জনমানবহীন এলাকায়। আশ্চর্যের বিষয় নেই কোনো প্রাণের স্পন্দন! এমনকি ক্ষুদ্র পোকা বা দিগন্তহীন আকাশে নেই কোনো পক্ষীও... হঠাৎ অজানা আশংকায় মন কেঁপে উঠে! মনে হয় কেউ অবিরাম দেখে চলেছে তাদের... কিন্তু কারা এরা? আদোও কেউ কি আছে নাকি মনের অহেতুক শঙ্কা? উইলো গাছগুলোকে কেমন জানি রহস্যময় মনে হয়। যেন বলতে চাচ্ছে; পালাও, পালিয়ে যাও বহুদূর!!! কিন্তু ক্ষতি যা হবার তা তো হয়েই গেছে। আটকা পড়েছে তারা দ্বীপে। অদৃশ্য শক্তি যেন তাদের ছাড়তে চাচ্ছে না! গভীর রাতে তাবুর চারিপাশে গোলগোল চাকতির মতো চিহ্ন দেখা যায়। মনে কু’ডাক ডেকে উঠে। যেন ঘটতে চলেছে ভয়ানক কিছু! পারবে কি তারা জীবন নিয়ে বের হতে অভিশপ্ত দ্বীপ থেকে?
হররের সাবজনরা হলো কসমিক হরর। অজানার প্রতি ভয়ই মূলত কসমিক হরর। বইয়ের বিষয়বস্তুও এটাই। দুই বন্ধু কাকে বা কাদের ভয় পাচ্ছে, কেন এবিষয়গুলো অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। আরও একটা মজার বিষয় হলো একবারও চরিত্রগুলো নাম বলা হয়নি। দুই বন্ধুর মধ্যে একজনের জবানিতেই ফুটে উঠেছে দানিয়ুবের ভয়াল অভিজ্ঞতা।
একবসায় পড়ার মতো একটা বই। কাহিনী যেমন সংক্ষিপ্ত তেমনি ফাস্ট স্পিডও। একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে দ্বীপে আবার সমাপ্তি মনে কিছু প্রশ্নও রেখে যায়। পারিপার্শ্বিক আলোচনা তেমন করা হয়নি জাস্ট মূল কাহিনীরই আলোচনা করা হয়েছে। অ্যালজারনন ব্ল্যাকউডের লেখনশৈলী ভালো লেগেছে। অতিরিক্ত আলোচনা বর্জিত। অজানার প্রতি ভয় যে ব্যক্তিকে কতটা অসংলগ্ন করে তুলে লেখক তা ফুটিয়ে তুলেছেন ভালোভাবেই। তবে ইতি নিয়ে দ্বিধা ছিল আদোও কি সমাপ্তির সমাপ্তি হয়েছে? সুন্দর বইও অসুন্দর হয়ে যায় যখন অনুবাদ মানসম্মত হয় না। বলতেই হয় সাবলীল সহজ অনুবাদ হয়েছে। বইয়ে বেশ কিছু ইলাস্ট্রেশন আছে তবে অনেকটাই অস্পষ্ট, ঠিক মতো বুঝা যায় না আরকি। ভয় পেতে যাদের ভালো লাগে আশা করা যায় বইটি মন্দ লাগবে না।
ক্রাউন সাইজের পেপারব্যাক ছোট একটা বই। প্রোডাকশন মোটামুটি বলা যায়। পেজের মান ভালো তবে বাঁধাই খুব একটা ভালো না। আঠা গিয়ে কভারের সাথে জোড়া দেওয়া। কিছু পেজ আলগা হয়ে গেছে। প্রচ্ছদ ও নামলিপি মানানসই।
কাহিনী সংক্ষেপ: দুই অভিযাত্রী বন্ধু আর দানিয়ুব নদী।এর আগেও তারা দু'জন অসংখ্যা অভিযানে গিয়েছে।রোমাঞ্চ,আনন্দ,আতংক সবকিছুইছিলো আগের অভিযানগুলোতে।কিন্তু এবারের অভিযান যেন একটু আলাদা।হঠাৎ করেই নদীর স্রোত বেড়ে ঘূর্ণির মতো তৈরী হলো।তবে কি দুই বন্ধু ঝড়ের কবলে পড়লো? কিছুক্ষণপর দুই বন্ধু নিজেদের আবিস্কার করলো মানুষ বা অন্য যেকোন প্রাণীর অস্তিত্ববিহীন এক অদ্ভূত রহস্যময় জায়গায়।চারদিকে পানি আর উইলো গাছে ঘেরা এ যেন এক আদিম পৃথিবী!
কেউ একজন তাদের উপস্থিতি পছন্দ করছেনা।কেউ একজন যেন তাদের দেখছে,কিন্তু ওরা একা নয়।ওরা কারা?ওরা যেন এই পৃথিবীর কেউ নয়!ওরা চায় না দুই বন্ধু এখান থেকে যাক।কিন্তু তারা কারা?কেন চায় না?দুই বন্ধু কি আদৌও আর কোনদিন এখান থেকে মুক্তি পাবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া: পৃথিবীতে ভয় মানুষের আদিম অকৃত্রিম অনুভূতি।এই ভয়ের মাঝে সবচেয়ে আদিম হলো অজানার ভয়। "দ্য উইলোস' পড়ার সময় এমন একটা ভয়ের আবহ তৈরী হবে আপনার চারপাশে।লেখক এমন নিখুঁত ভাবে ভয়ের আবহ সৃষ্টি করেছেন যে,আপনিও তলিয়ে যাবেন।চরিত্রগুলোকে ঘিরে পরিবেশ অথবা উইলোস গাছগুলোর যে বর্ণণা,বাতাসে উইলো গাছের পাতা ঘষার যে শব্দ,নদীর তীব্র স্রোত....প্রতিমুহূর্তে আপনি ভয়ের এই স্বাদ পাবেন।উইলো গাছের একভাবে দাঁড়িয়ে থাকার মাঝেও যে অপেক্ষা থাকতে পারে,ভয় থাকতে পারে,মুক্তির অক্ষম চিৎকার থাকতে পারে সেটা সুস্পষ্টভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন।
ভিন্নভাষার বই যখন অনুবাদ হিসেবে পড়া হয়,তখন অনেকখানি ক্রেডিট চলে যায় অনুবাদকের কাছে।সেটা হোক ভালো বা মন্দ।অনুবাদক মূল লেখাকে একদম সেভাবেই রেখে পাঠকের কাছে পৌছাতে পেরেছেন কিনা এটাই তখন মূল বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠে।সেই হিসেবে লুৎফুর কায়সার ভাই শতভাগ সফল।পুরো বই পড়ার সময় আমি আসল বইয়ের মতোই স্বাদ পেয়েছি।পরিবেশের বর্ণনা,আতংকের আবহ,ভয়ের তীব্রতা সবকিছু একদম নিদারুণ ভাবে ফুটিয়েছেন অনুবাদক।কোথাও কোন খামতি নেই।ঝরঝরে অনুবাদ পড়াকে আনন্দ দিয়েছে।অতিরিক্ত ভাব নেবার জন্য কঠিন শব্দ ব্যবহার এমন কিছুই ছিলোনা।
তবে,বেশ কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি ছিলো।টুকটাক সব বইয়েই কমবেশি থাকে।আশা করি সতীর্থ প্রকাশনা তাদের পরবর্তী মুদ্রণে এই বিষয়টি খেয়াল করবে।"দ্য উইলোস" দিয়ে সতীর্থের প্রথম কোন বই পড়া শুরু হলো আমার।এখনও অনেক বই বাকি আছে।আশা করি,সেই বইগুলোও একই রকম সুখপাঠের অনুভূতি দিবে। আপনারাও যদি অজানা অদ্ভূত ভয়ের দুনিয়াতে হারাতে চান,তাহলে "দ্য উইলোস" আপনাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
কসমিক হরর বই গুলো দারুন লাগে!। এক অজানার ভয়ে গল্পের মূল চরিত্র গুলো তটস্থ থাকে। ভয় আতংক মিলে এক দারুন প্লটের সৃষ্টি হয়।সেই যুগে এই হরর কাহিনী কিভাবে লেখক লিখল তা প���রায় ই ভাবিয়েছে বইটি পড়ার সময়। হরর লাভার দের জন্য মাস্ট রীড।