কালজয়ী একটি গল্প লেখার স্বপ্নে বিভোর থাকা লেখক হাসান মাহফুজ এক বিকেলে নিজের বাসাতেই পেয়ে গেল দারুণ এক গল্প। ঠিকানা ভুল করে তার দরজায় এসে কড়া নাড়ল এক আগন্তুক। ভুল ঠিকানা নাকি ভুল সময়? ঊনিশশো বিয়াল্লিশ থেকে কাদের সরদারের চিঠি হঠাৎ দুই হাজার বিশে চলে এল। আগান্তুকের সাথে সাধনা ঔষাধালয়ের শ্রী যোগেশ চন্দ্র ঘোষ আর ঢাকার প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হরিমতী বাঈজীর সাথেও দেখা হয়ে গেল হাসান মাহফুজের। রহস্যময়ী এই আগন্তুক কেন পিছু নিয়েছে? আর রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়দৈাড়ের সময়ও বা কিভাবে গেল গেল সে? ভারতের আজমীর থেকে ঢাকার ইসলামপুরের ছোট্ট বাসা। সিপাহী বিদ্রোহের টালমাটাল সময়ের একদল কিশোর আর তরুণ লেখক জামিল–চিরকুটের মাধ্যমে টুকরো টুকরো কবিতার লাইন পাঠিয়ে কেউ কি গুপ্ত সংকেত দেয়ার চেষ্টা করছে? কিসের মধ্যে আছে হাসান মাহফুজ? নিছক ভ্রম নাকি দ্বান্দ্বিক বাস্তবতা? জহির, সালমা এবং হাসান মাহফুজের সাথে ঢাকার অলি-গলির ইতিহাস, রহস্য আর রোমাঞ্চের জগতে আপনাকেও স্বাগতম।
Hasan Enam, a university student, first started writing in a magazine. But gradually his writing changed and he turned his attention to publishing his own books. 'Dhakay Fagun', a dense fiction about the history of Dhaka, makes Hasan Enam a new acquaintance among the readers. However, he came out of these people the next year and wrote the novel 'Jaltaranga'.
The tendency to introspect is evident in his writings. Hasan Enam will throw himself into more debauchery in upcoming projects.
নতুন লেখকের বই। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই উঠিয়ে নিয়েছিলাম। অবাক করা ব্যাপার হল বেশ ভালো লেগেছে একেবারে ভিন্ন প্লটের বইটা। জনপ্রিয় লেখক হওয়ার ধান্দায় থাকা এক লেখকের কাছে হঠাৎ-ই উদ্ভট এক লোক হাজির হয়। লোকটা এসে লেখককে ইতিহাসের গলি ঘুপচিতে টাইম ট্র্যাভেলিং করায়। সত্যিই কি টাইম ট্র্যাভেলিং নাকি নেশার প্রভাব? আর টাইম ট্র্যাভেলিং হলেও কিভাবে?
অনেকটা কল্পবিজ্ঞানের ছাপ আছে বইটাতে। কিন্তু বর্তমানের কল্পবিজ্ঞান বা টাইম ট্র্যাভেলিং উপন্যাসগুলোর মত অযথা থিওরি কপচাঁননি লেখক। এখানেই লেখকের স্বার্থকতা। সুন্দরভাবে সাসপেন্স ধরে রেখে গল্প বলে গিয়েছেন। একটানা পড়ে যেতে পেরেছি। শেষে সুন্দরভাবে রহস্যের ইতিও টানা হয়েছে। কোনো গোঁজামিল বা তাড়াহুড়ো নেই। বর্ণনাভঙ্গি ভালো ছিল। বইটার সাথে ভালো সময় কেটেছে। যাইহোক, বইটা রিকমেন্ড করব পাঠকদের। হ্যাপি রিডিং।
উপন্যাসের প্লট বেশ আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী। লেখকের বর্ণনাশৈলীও চমৎকার কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পটা জমলো না ঠিকমতো। ভালো কিন্তু অসাধারণ নয়।ঘটনা বেশি জটিল হয়ে গেলো শেষে,ব্যাখ্যা মনঃপূত হওয়ার মতো নয়। হাসান ইনাম সম্ভাবনাময় লেখক।তার পরের লেখাটিও আগ্রহ নিয়ে পড়বো। এই বইতে বাতিঘরের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় বানান ভুল নেই বললেই চলে।খুবই স্বস্তিদায়ক ব্যাপার।
ধুর! ভাল্লাগলো না। যতো আশা নিয়ে কিনেছিলাম পড়া শুরুর পর থেকে কী একটা অস্বস্তি যেন খোঁচাচ্ছিল। অই যে হয় না অনেক সময়, খাওয়ার সময় মনে হয় কী যেন একটা ঠিক নেই.. ঠিক নেই... ঠিক জমে নাই। অনেকটা তাই। পড়ার পড় মনে হচ্ছে ওয়েস্ট অফ টাইম। কন্সেপ্ট ভালো। জনৈক লেখকের বাড়ির সামনে এক লোক এসে হাজির হয়, দাবি করে অতীত থেকে এসেছে। এরপর লাগে প্যাচগোজ। পুরানো ঢাকায় টাইম ট্রাভেল করে বেড়ানো ব্লা ব্লা ব্লা 😪 যদিও বই শেষে লেখক সব কিছুর ব্যাখ্যা দিয়েছেন! কিন্তু অই যে মেজাজটাই খিঁচড়ে গেছে! শেষ হবার পর মনে হচ্ছিল হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। অন্যদের কাছে ভাল লাগলে লাগতেও পারে। পড়ে দেখতে পারেন।
২০২০ সালে এসে কোনো আগুন্তক যদি আপনার কাছে এসে দাবি করে, যে সে ১৯৪২ সাল থেকে এসেছে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই ভিরমি খাবেন? তো আমাদের লেখক সাহেবে হাসান মাহফুজেরও একই দশা। একে তো তিনি স্ত্রী বিরহে কাতর, তার উপর কোত্থেকে না জানি এই উটকো ঝামেলা এসে জড়ো হলো। আমাদের সেই আগুন্তক হলো জহির। তার দাবি, সে একজন টাইম ট্রাভেলার। ১৯৪২ এর দিকে সে এই কাদের সরকারের বাড়িতেই লজিং মাস্টার হিসেবে থাকতো। সে কাদের সরকারের সাথে আজমির শরীফে গেলেও এক জরুরি কাজে এখানে চলে আসে, আর আসার কারণেই তৈরি হয় সময় নিয়ে গণ্ডগোল।
গল্পের প্লট পেতে হাসান মাহফুজও জহিরের কাজে আগ্রহ পেতে লাগলো৷ কিন্তু কে জানতো এই আগ্রহই তাকে একটা অন্য দশকে এডভেঞ্চার করিয়ে আনবে? আসলেই কি সেটা ট্রাইম ট্রাভেল ছিল? নাকি অন্যকিছু?
অন্যদিকে মাহফুজের লেখা গল্পের সাথে হুবহু মিলে যায় আরেক তরুণের লেখা। মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে মাহফুজ ফেঁসে যায় খুনের দায়ে। কিন্তু খুন হয় কে? . . প্রথমেই আসি এর প্রচ্ছদে। সাধারণত প্রচ্ছদের প্রতি আমার আলাদা কোনো টান থাকে না, তবে এটার প্রচ্ছদটা দারুণ! বইটা পড়ার সময় আদ্দিকালের ঢাকার প্রচুর বর্ণনা পাবেন। ঢাকার ইতিহাসের প্রতি আমার বরাবরই একটু দুর্বলতা আছে। আগে যখন প্রায়ই লালবাগ কেল্লার ওখানে যাওয়া হতো, তখন ভাবতেই কেমন জানি লাগতো যে কোনো এককালে এখান দিয়ে শায়েস্তা খাঁ হেঁটে গেছেন! কীসের সাক্ষী হননি মাহফুজ সাহেব? রেসকোর্স ময়দানের ঘোড়দৌড়, সাধনা ঔষধালয়, সিপাহি বিদ্রোহ- কত কী! ইতিহাসের অনেক রসদ পাবেন এই বইতে৷ বোঝাই যায় লেখক বেশ পড়াশোনা করেই বইটা লিখতে বসেছেন।
রাজনীতি, ইতিহাস, তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, থ্রিল- সবই পাবেন এই বইতে। পাঁচ তারার এক তারা কেটে রাখলাম দুটো কারণে।
১. শুরুর দিকে কাহিনীটা একটু অযথা টানা হচ্ছিল বলে মনে হয়। ২. টাইম ট্রাভেলের ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা করলে ভালো হতো৷
এই দুটো কারণ বাদ দিলে বইটা একদম কুড়মুড়ে! অনেক আগেই পড়া হয়েছিল, রিভিউটা দিতে দেরি হয়ে গেল। এই ফাঁকে বলে দিই, আমার আগে আমার ছোট ভাই আর পরে খালাতো বোন পড়ে ফেলেছে। ছোট ভাই একদমই বই পড়ে না বললেই চলে, কিন্তু তার নাকি এটা ফাটাফাটি লেগেছে! আমার কাজিন সাধারণত ক্লাসিক বই বাদে তেমন কিছু পড়ে না, কিন্তু সেও এইটা পড়ার পর বলেছে যে তার খুব ভালো লেগেছে। তাই বইটা অর্ডার দিয়েই ফেলতে পারেন।
“Cities were always like people, showing their varying personalities to the traveler.” ― Roman Payne - ঢাকায় ফাগুন - হাসান মাহফুজ, পেশায় একজন লেখক। বেশ কিছুদিন যাবৎ পারিবারিকভাবে অশান্তি বিরাজ করায় তিনি একাই ঢাকায় তার বাসায় থাকছেন। হঠাৎ জহির নামের এক অদ্ভুত লোক তার কাছে আসে, ঘটনাক্রমে জানা যায় যে সে টাইম ট্রাভেল করে অতীত থেকে এখানে এসেছে! - প্রথমে জহিরের কথায় বিশ্বাস না করলেও তার কথাগুলো শুনে তা নিয়ে একটি গল্প লিখে ফেলেন হাসান মাহফুজ। এই ঘটনার কিছুদিন পরে আবারো জহিরের সাথে দেখা হয় তার। এবারে হাসান মাহফুজের সাথে শুরু হয় ব্যাখ্যাতীত সব ঘটনা। হাসান মাহফুজ নিজেকে খুঁজে পেতে থাকেন ঢাকার বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন বেশে। এখন মাহফুজ সাহেবের সাথে এসব ব্যাখ্যাতীত ঘটনার আসল রহস্য কি? জহির কি আসলেই টাইম ট্রাভেলার? সব কিছুই কি মাহফুজ সাহেবের ভ্রম নাকি অন্য কিছু? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক হাসান ইনামের লেখা বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত উপন্যাস "ঢাকায় ফাগুন"। - "ঢাকায় ফাগুন" লেখক হাসান ইনামের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। সে হিসেবে গল্পের প্লট বেশ ইউনিক লাগলো। গল্পের মূল পটভূমি হচ্ছে ঢাকা শহর। শুধু পটভূমি হিসেবে নয়, গল্পের কাহিনিতে ঢাকা শহরের বেশ ভালো ভূমিকা রয়েছে। নিজের শহরের উপরে এ ধরণের লেখা আমার জন্য বেশ উপভোগ্য ছিলো। প্রথম লেখা অনুসারে কাহিনি বিন্যাস এবং লেখনশৈলী বেশিরভাগ সময়ই ঠিকঠাক লেগেছে। কিছু জায়গায় অবশ্য বাক্যগঠনে জড়তা লক্ষণীয় ছিলো, সামনের বইগুলোতে এ ব্যাপারে উন্নতি ঘটবে আশা করি লেখকের। - "ঢাকায় ফাগুন" বইটির প্রধান চরিত্র হাসান মাহফুজ হলেও জহির নামের চরিত্রটি সবথেকে বেশি ইন্টারেস্টিং লেগেছে। কাহিনির প্রয়োজনে ঢাকা শহরের কয়েকজন নামকরা চরিত্রও গল্পে এসেছে, যা বইটিকে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। লেখক ঢাকার ইত��হাস নিয়ে যেভাবে গল্প ফেঁদেছেন তা বেশ প্রশংসাযোগ্য। গল্প বেশিরভাগ সময় সায়েন্স ফিকশনের স্বাদ দিলেও শেষ দিকে তা সম্পূর্ণ অন্যদিকে মোড় দেয় যা খুব একটা ভালো লাগেনি। এত চমৎকার এক প্লটের গল্প আরো ধীরেসুস্থে শেষ করা যেতে পারতো বলে মনে হলো। - "ঢাকায় ফাগুন" বইয়ের কারিগরি দিকে দেখলে দাম অনুসারে বইয়ের কাগজ, বাঁধাই বেশ ভালোই। বইয়ের প্রথম অর্ধেকে তেমন বানান ভুল না দেখলেও শেষদিকে বেশকিছু টাইপিং মিস্টেক দেখলাম। বইয়ের প্রচ্ছদ মানানসই, তবে প্রচ্ছদে আরো হাই রেজুলেশনের ছবি ব্যবহার করলে আরো স্পষ্ট ছবি আসতো হয়তোবা। - এক কথায়, ঢাকার পটভূমিতে বেশ ভিন্নধারার একটি বই "ঢাকায় ফাগুন", এন্ডিংয়ের কিছু ব্যাপার বাদ দিলে পড়ার সময় বেশ উপভোগই করেছি বইটি। যারা ঢাকা বিষয়ক ভিন্ন ধরনের, ভিন্ন আবহের বই পড়তে চান তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
খুব সুন্দর আর ভিন্নধর্মী একটা প্লট। টাইম ট্র্যাভেল নিয়ে সায়েন্স ফিকশন ও কম নাই, পুরান ঢাকা নিয়ে গল্প / উপন্যাস ও কম নাই। কিন্তু লেখক দুইয়ে মিলেমিশে অসম্ভব আকর্ষণীয় একটা প্লট তৈরি করেছে। প্রিয় শহরের অলিগলিতে মিশে আছে ইতিহাস। না চাইলে কেউ জানবে না। কিন্তু যার ইচ্ছা আছে সে প্রতিটা ইটের গায়েও ইতিহাসের গন্ধ পেয়ে যাবে। তখন না চাইলেও ইতিহাসের মানুষগুলো অনেক চেনা হয়ে যায়। আর সময় পরিভ্রমণ করে তাদের সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া -কল্পনারও বাইরে। ঢাকার জন্য লেখকের আগ্রহ আর ভালবাসা স্পষ্ট বইতে। কিন্তু তারপরেও বইটা অর্ধেকের পরে আর আমার মনোযোগ ধরে রাখতে পারে নি। বারবার সময়য় বদলাতে গিয়ে কেমন যেন সুতা কেটে গেল, সব কয়টা ঘটনা ঠিকমতো জোড়া লাগলো না। আর ব্যাখ্যাগুলোও শেষ পর্যন্ত জোরালো মনে হয়নি। হয়তো আমার একারই এরকম মনে হয়েছে। তবে লেখকের গল্প বলার ধরণ অনেক ভালো লেগেছে। প্রিয় শহরের ইতিহাসে ঘুরতেও ভালো লেগেছে অনেক। হয়তো এই প্লটে কাহিনী আরো জোরালো আর ব্যাখ্যাগুলো ভালো লাগলে অনেক প্রিয় বইয়ের তালিকায় চলে যেত। হাসান ইনামের আরো বই পড়ার অপেক্ষায় থাকবো।
কিছু জায়গায় একটু বর্ণনা আর শেষে একটু তাড়াহুড়ো না করে অন্যভাবে শেষ করলে আরো উপভোগ্য হত বইটা। প্রথম বই হলেও লেখনশৈলী অনেকটাই পরিণত মনে হলো। বোঝাই যায় লেখক ঢাকা নিয়ে বেশ পড়াশোনা করেছেন। আশা করি পরবর্তী বইতে এগুলো কাটিয়ে পাঠকদের ভালো উপন্যাস উপহার দিবেন।
হাসান মাহফুজ, যিনি একজন লেখক, বর্তমানে দাম্পত্য জীবনে কিছুটা অশান্তির মধ্যে আছেন,এমন সময় তার বাড়িতে উপস্থিত হন জহির নামের এক লোক, যিনি দাবি করেন ১৯৪২ সাল থেকে এসেছেন। এমন একটা উদ্ভট কথা শোনার পরও তিনি জহির কে সহ্য করেন, গল্প শুনে পেয়ে যান তার পরবর্তী উপন্যাসের গল্প। এভাবেই এগোতে থাকে। যেটাকে জহির বাস্তব বলে দাবি করেন সেটা হাসান মাহফুজ গল্প আকারে উপস্থাপন করতে চান। কিন্তু ধীরে ধীরে একসময় তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করেন জহিরকে। টাইম ট্রাভেল করে অতীতের নানা ঘটনার সাক্ষী হন, আগমন ঘটে আরও চরিত্রের, ফেসে যান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। টাইম ট্রাভেল করে ঘুরে বেড়ান প্রাচীন ঢাকার অলিগলি পথ। কিন্তু আসলেই কি টাইম ট্রাভেল? নাকি ভ্রম? পুরোটা একদম জটপাকানো রহস্য । একটা জট খুলতে গিয়ে আরেকটা জট পাকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এলোমেলো নয়, বেশ গোছানো, সাবলীল ভাবে লেখা এবং চমৎকার এক টুইস্টের মাধ্যমে গল্পের শেষ টেনেছেন লেখক । শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সময়টা একদম আটকে ছিলাম। ঢাকার আদিকালের আলিগলির প্রচুর ইতিহাস রয়েছে এখানে। কেমন সহজ ভাবে গল্পে গল্পে ইতিহাস জানিয়ে গেলেন লেখক। শুরু থেকে শেষ পুরোটা উপভোগ করেছি। চমৎকার লেগেছে!
সময় নিয়ে যারা এখন পর্যন্ত কাজ করেছেন তাদের মধ্যে পূর্বের তুলনায় সমসাময়িক লেখকদের লেখা আমার বেশি ভালো লাগে। আগে সময় নিয়ে খেলা করাটাকে শুধুমাত্র সায়েন্স ফিকশনের একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সময় যেখানে সবার, সেখানে সায়েন্স ফিকশনের বাইরে কেন সময়ের ব্যবহার একরকম? এই প্রশ্নের উত্তরে এগিয়ে এসেছে অনেক সমসাময়িক লেখক। যারা সময়কে কেন্দ্র করে লিখেছেন দুর্দান্ত সব গল্প। ঢাকায় ফাগুন বইটি তারই একজন।
গল্পকে আবর্তিত করতে গিয়ে এখানে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সময়কে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, এতগুলো সময়ের রেখাকে একটি বিন্দুতে আনার চেষ্টা করা হয়নি। বরং চেষ্টা করা হয়েছে, প্রত্যেকটি আলাদা সময়কে স্বতন্ত্র করে সেসময়ের গল্প বলবার। এই ব্যাপারটি কীভাবে ঘটেছে? উত্তর দিয়েছে ঔপন্যাসিক নিজেই। ‘প্রথমদিকের বেশ কয়েকটি অধ্যায়কে একদম আলাদা আলাদা ছোটগল্প হিসেবে লেখা হয়েছে। কেউ যদি সেগুলো আলাদাভাবে পড়ে তবে স্বতন্ত্র গল্প হিসেবেই নিতে পারবে। তাই একসাথে করার পর গোলমাল দেখা দেয়নি’।
এটি মুলত একটি নিরীক্ষাধর্মী কাজ। যাতে বেশ কিছু ছোট প্রকৃতির অসঙ্গতি উঠে এলেও গল্প বলার খাতিরে সেগুলোকে গুরুত্ব না দিলেও চলে। কিন্তু গল্পের ন্যারাশন বিভিন্ন সময় পাঠককে বিভ্রান্ত করবে। প্রথমদিকে এই ব্যাপারটি আমার কাছে দুর্বল মনে হলেও ক্রমেই বিচিত্র বৈশিষ্ট্য বলেই ধরা দিয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে তা নিয়ে ভাবলেও কিছুটা বিভ্রান্ত হতে হয়। মুলত একটি বিভ্রান্তি তৈরি করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বইটি।
ঢাকায় ফাগুন নামের বইটি লিখেছেন হাসান ইনাম। তার আগের সামান্য কিছু ফিকশনধর্মী লেখা ঘাটলে দেখা যায়, এরকম লেখা এই প্রথম। কারো প্রথম কিছুর সঙ্গে যুক্ত থাকাটা যে কারো জন্যই বেশ আনন্দের। হয়তোবা সেক্ষেত্রে এই আনন্দের অংশীদার আমি নিজেই।
মুশকিল হলো, ১৯৪২ সালের এক আজমির যাত্রা থেকে ফেরত আসা রহস্যময় চরিত্র কীভাবে হয়ে গল্পের ছোট ছোট বাঁক ঘুরিয়ে দিচ্ছে সেটিই মুল বিষয়। পরিমিতবোধ এবং বাহুল্যতার অভাব সহ বইটির একটি মজার বৈশিষ্ট্য হলো এটি কিছু ক্ষেত্রে কিশোরসুলভ গল্পেও রূপ নেবার চেষ্টা করেছে। চিরায়ত শব্দজট কিংবা অমোঘ অ্যাডভেঞ্চার বইটিকে কিশোরদের বই করে তুললেও পাঠক দেখা যাবে নিজের তৈরি করা চরিত্রের সঙ্গে এক বিকেল কাটানো আধোবাস্তবতার দৃষ্টান্ত। কিন্তু ক্রমেই তা হয়ে উঠবে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্বাক্ষী। এক চরম বাস্তব!
আধোবাস্তবতা এবং বাস্তবতার বিভ্রান্তি নিয়ে তৈরি নীরিক্ষাধর্মী উপন্যাস ঢাকায় ফাগুন। ১৯০ পৃষ্ঠার মাঝারি সাইজের উপন্যাস আপনাকে কোনরকম বিরক্তি ছাড়াই মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। বইটি বের করেছে বাতিঘর প্রকাশনী। তাদের অন্যান্য বইয়ের মতই এটি শক্তিশালী একটি বই তা বলাই যায়।
******************* ****************
Journey to Dhaka: When time is ineffective
Among those who have worked so far about 'time', I like the writing of contemporary writers more than ever before. In the past, playing with time was only considered a feature of science fiction. But where time is for everyone, why use time outside of science fiction? Many contemporary writers have come forward to answer this question. All the great stories were written by those who centred on time. 'Dhakay Fagun' (Fagun in Dhaka) is such a book.
Different historical times have been brought here to revolve the story. Interestingly, however, so many timelines have not been brought to a single point. Rather, attempts have been made to tell the story of that time, each with a different time. How did this happen? The novelist himself answered. ‘The first few chapters are written as very different short stories. If one reads them separately, one can take them as a separate story. So there was no noise after doing it together.
This is basically an experimental work. So that even if there are some inconsistencies of small nature, even if they are not given importance for the sake of telling the story. But the narration of the story will confuse the reader at different times. At first, this seemed weak to me, but gradually it became a strange feature. It is a bit confusing to think about which one is dominant in the centre of the story. The book is basically a small attempt to create an illusion.
Hasan Enam has written a book called Dhakay Fagun (Fagun in Dhaka). He has never written such a thing before. It's a joy to be associated with something first. Maybe in that case I am the partner of this joy.
The problem is how the mysterious character, returning from a journey to Ajmer Sharif Dargah in 1942, turns the story upside down. An interesting feature of the book, including its lack of moderation and redundancy, is that in some cases it has tried to take the form of a teenage story. Even if you make a book of teenagers a book of traditional word puzzle or infallible adventures, the reader will see an example of the surreal reality of spending an afternoon with a character he has created. But gradually it will become an important witness of Dhaka. One extreme real!
Dhakay Fagun (Fagun in Dhaka) is an experimental novel made with the illusion of half-reality and reality. The medium size novel of 190 pages will help you to concentrate without any annoyance. The book was published by Batighar Prakashani. It is a powerful book just like any of their other books.
"এই শহর, জাদুর শহর... প্রাণের শহর—ঢাকারে..." ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা নিয়ে আমি খুবই অবসেসড। কারণ, জন্মস্থান না হলেও তেরোটা বছর ওই শহরের হাওয়া, ধুলোবালি গায়ে মেখে বেড়ে উঠেছি। সেইসব দিন ফেলে এসেছি—তাও বছর তিনেক হলো। আর আমার সেই ফেলে আসা 'বায়ান্ন হাজার তেপ্পান্ন গলির শহর'টার অলি-গলির গল্পকে 'ঢাকায় ফাগুন' উপন্যাসে পেয়েছি এক অন্যরূপে।
"সন্ধ্যা ঝুলে আছে বায়ান্ন হাজার তেপ্পান্ন গলির কাঁধের উপর" ~ একটা গল্পের উপাদান যদি হয় একই সাথে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়— তাহলে প্লটটা কতটা ইউনিক আর ইন্টারেস্টিং হয় তা আর বলতে! এতগুলো বিষয় লেখক যেভাবে টাইম-ট্রাভেলের প্রলেপে জোড়া লাগিয়েছেন তার কোথাও কোনো খটকা তো নেই, বরং কিভাবে সব উপাদান একজায়গায় এনেছেন সেটাই আসলে আমার কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার মনে হয়েছে।
আপাতদৃষ্টিতে "ঢাকায় ফাগুন" একটা উপন্যাস। কিন্তু উপন্যাসের দশটা অধ্যায় যেন দশটা স্বতন্ত্র গল্প। আবার স্বতন্ত্র হয়েও একটা গল্প অন্য গল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জুড়ে গিয়ে একটা গোটা উপন্যাস। শুনতে গোলমেলে লাগছে?
কোথায় যেন পড়েছিলাম—'ফিকশন হচ্ছে কালের দর্পণ'। 'ঢাকায় ফাগুন' পড়ার সময় এই কথাটা আমার বারবার মনে হয়েছে।
বর্তমান করোনাকালীন প্রেক্ষাপটে গল্পের শুরু। গল্পগুলো হাসান মাহফুজ নামের একজন লেখকের। শুরুটা সেই লেখকের একাকীত্ব, বিষাদ আর নস্টালজিয়া দিয়ে হলেও জহির নামের অদ্ভুত এক আগন্তুকের উপস্থিতিতে গল্পে ছোঁয়া আসে ইতিহাসের, টাইম-ট্রাভেল রহস্যের আর টানটান উত্তেজনার।
গল্পের সাবলীল বুননে—আজকের উঠতি মধ্যবিত্তের উপস্থাপন, একজন লেখকের চিন্তা-চেতনা-আশা-হতাশা-মানসিক দ্বন্দ, সাংসারিক দ্বৈরথের টানাপোড়েন—দেখি। এই যে বর্তমান বাংলাদেশে আমরা এই জেনারেশন কত আজগুবি সব ব্যাপারের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি—অনলাইন ভিত্তিক যে কত ঘটনা—টুকটাক সেসবের ছাপও এইখানে আছে। এইজন্যই, ফিকশন কালের দর্পণ—কথাটা এনেছি।
শেষ পর্যন্ত পুরো গল্পটা একটানা আনপ্রেডিক্টেবলই। ১৯২ পৃষ্ঠার হলেও একবসায় পড়ে শেষ করার মতো। কী হচ্ছে, ঘটনা কোনদিকে মোড় নিচ্ছে, এরপর কী অপেক্ষা করছে অনুমানের সুযোগ নেই। বিশেষ করে, শেষের টুইস্টটা আনএক্সপেক্টেডই ছিলো। তার আগে হাসান জামিল চরিত্রটার আগমনও গল্পের টুইস্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলো।
বইটা পড়েছিলাম সেই ২২ এর নভেম্বরে। বইটা ভীষণ ভালো লেগেছিলো। প্লট তো আছেই তবে বেশি ভালো লেগেছিলো লেখকের বর্ণনাভঙ্গির জন্য। অনেকে বলেছিলেন লেখক শেষে এসে গুলিয়ে ফেলেছেন। কথা মিথ্যা না। তবে আমি আসলে বইকে জাজ করি লিখনশৈলী দিয়ে। সেটাতে লেখক ১০০ তে ১০০ পাওয়ার মতো। অনেক কিছু লিখবো ভেবেছিলাম কিন্তু এতদিন পরে এসে আলসেমিতে পেয়ে গেছে। আর ১ স্টার কেটেছি ঐ শেষে এসে গুলিয়ে ফেলার জন্য। নাহলে লেখক ৫ তারা ডিজার্ভ করেন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, ৫-১০ বছর পরে উনি একজন সেরা লেখকে পরিণত হবেন।
কাহিনি সংক্ষেপঃ লেখক হাসান মাহফুজ থাকেন ঢাকার ইসলামপুরে। কিছুদিন আগে স্ত্রী সালমার সাথে বেশ বড়সড় মনোমালিন্য হওয়ায় সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। বোঝাই যাচ্ছে, হাসানের মনের অবস্থা বিশেষ সুবিধার না। ঠিক এমনই এক অসুবিধাজনক সময়ে এক বিকেলে তার ইসলামপুরের বাসায় আগমন ঘটলো জহির নামের এক লোকের। অদ্ভুত বেশভূষা আর কথাবার্তা দিয়ে সে হাসানকে বিভ্রান্ত করে ফেললো। জহিরের দাবী, সে এসেছে ১৯৪২ সালের আজমির থেকে - সোজা কথায় অতীত থেকে! অর্থাৎ, সে সময় পরিভ্রমণ করতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই হাসান আগন্তুক জহিরের কথা বিশ্বাস করলো না। কিন্তু সে নিজেই যখন ১৯৪৯ সালের ঢাকায় কিংবদন্তিতুল্য যোগেশ চন্দ্র ঘোষের মুখোমুখি নিজেকে আবিস্কার করলো, তখন আর সময় পরিভ্রমণের ব্যাপারটা বিশ্বাস না করে কোন উপায় রইলো না। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। ইনিই সেই বিখ্যাত সাধনা ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা যোগেশ চন্দ্র ঘোষ। হুট করে ২০২০ থেকে ১৯৪৯ সালে গমন করার ব্যাপারটা পাল্টে দিলো হাসানের চিন্তাধারা।
এখানেই শেষ না। জহিরের সাথে হাসান পাড়ি দিলো ঢাকাই সিনেমায় প্রথম কাজ করা হরিমতি বাঈজির সময়েও। ঢাকার রেসকোর্স মাঠে যখন ঘোড়দৌড় হতো, সেই সময়টারও সাক্ষী হলো সে। আবার নিজের লেখা এক উপন্যাসের চরিত্রদের ভিড়ে মিশে গিয়ে দেখে ফেললো ১৮৫৭ সালের সিপাহীবিদ্রোহের সেই অস্থির সময়। এসব কেন ঘটছে হাসানের সাথে? অর্থ কি এসবের? ভেবেও কোন কূল পেলো না এই বিভ্রান্ত লেখক। পরিস্থিতি আরো জট পাকিয়ে গেলো উঠতি ফেসবুক লেখক জামিলের আগমনে। অবস্থাদৃষ্টে হাসানের মনে হলো, জামিলও সময় পরিভ্রমণের সাথে পরিচিত। আর এসবের পেছনেও যথারীতি জহির নামের লোকটাই হয়তো দায়ী।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার খালা ঘসেটি বেগম মারা গিয়েছিলেন পানিতে ডুবে। মৃত্যুর আগে তিনি রেখে গিয়েছিলেন রহস্যময় এক নকশা। সেই নকশার সাথে সময় পরিভ্রমণের কি সম্পর্ক? আজমির শরীফের পাশের পাহাড়ে বসবাস করা সবুজ আচকান পরিহিত দরবেশই বা কে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জহির আসলে কি চায় হাসানের কাছে? ঢাকার এই সময়ের আর দূর অতীতের অলিতে-গলিতে ঘুরতে ঘুরতে হাসান খুঁজতে লাগলো এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ লেখক হাসান ইনাম বেশ আগে থেকেই লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন। বেশ অনেকগুলো গল্প লিখলেও 'ঢাকায় ফাগুন' তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট তাঁর এই উপন্যাসে। সময় পরিভ্রমণ। বর্তমান সময়ে বসবাস করা একজন মানুষ হঠাৎ করেই মুখোমুখি হয় অতী��� থেকে উঠে আসা একজন জ্বলজ্যান্ত মানুষের সাথে। এরপর সে নিজেও ঘুরে বেড়াতে থাকে অতীতের নানা সময়ে। সঞ্চয় করতে থাকে বিভিন্ন আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। আর সমস্ত অভিজ্ঞতাই অতীতের ঢাকা কেন্দ্রিক। এই সময়ের ইট আর কংক্রিটের ঢাকা এক নিমেষে মুছে গিয়ে যেখানে জেগে ওঠে সুদূর অতীতে ফেলে আসা নবাব-সুবেদারদের দূষণমুক্ত ঢাকা। দেখা হয় বেশ কিছু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সাথে, যাঁদের কথা আমরা শুধু বই-পুস্তকেই পড়েছি।
'ঢাকায় ফাগুন' প্রকাশের ঘোষণা আসার পর থেকেই বইটা পড়ার ব্যাপারে একটা আগ্রহ কাজ করছিলো আমার ভেতরে। বইটা শুরু করার পর যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সেটা হলো হাসান ইনামের গল্প বলার ধরণ। কেউ সামনে বসে চায়ের কাপ হাতে রিল্যাক্সড মোডে গল্পগুজব করলে যেমন অনুভূতি হয়, এই বইটা পড়তে গিয়েও ঠিক তেমনই অনুভূতি হয়েছে আমার। লেখকের লেখার ধরণে মনেই হয়নি এটা তাঁর প্রথম উপন্যাস। একটানা পড়তে গিয়ে কোনরূপ ক্লান্তির দেখা পাইনি। পুরোটাই উপভোগ করেছি।
'ঢাকায় ফাগুন'-এর সমাপ্তিটা আমার কাছে খারাপ লাগেনি, তবে আরো একটু বেটার হতে পারতো বলে মনে হয়েছে আমার। যদিও এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। ছোটখাটো কিছু টাইপিং মিসটেকের দেখা পেয়েছি। যেমন, সাধনা ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী যোগেশ চন্দ্র ঘোষ-কে বেশ কয়েক জায়গায় লেখা হয়েছে শ্রী যোগেশ চন্দ্র বসু। লিখবো, লি���বো না ও লিখি এই শব্দগুলোকে লেখা হয়েছে লেখবো, লেখবো না ও লেখি৷ আশা করি এই ভুলভ্রান্তিগুলো বইটার পরবর্তী এডিশনে ঠিক করে নেয়া হবে।
ডিলান সাহেবের করা প্রচ্ছদটা চমৎকার লেগেছে। আগ্রহীরা চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন 'ঢাকায় ফাগুন'।
ঢাকায় ফাগুন পড়ার সময় হুট করে একটা সিন বারবার আমার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। আর সেটা হলো মার্ভেলের ডক্টর স্ট্রেঞ্জ সিনেমার অ্যানশিয়েন্ট ওয়ানের কথা। Open Your Eye সিকোয়েন্সে এক পর্যায়ে যখন স্ট্রেঞ্জ ওয়ানকে জিজ্ঞেস করে, -What did you just to me? তখন ওয়ান উত্তর দেয়, I pushed your astral form out of your physical form. এরপরের কথোপথন হয় এভাবে, - What's in that tea? Psilocybin? LSD? - It's just tea... with a little honey. - What just happened? - For a moment, you entered the astral dimension. - The what? - A place where the soul exists apart from the body. - Why are you doing this to me? - To show you just how much you don't know. Open your *eye*.
যাহোক, এখন ঢাকায় ফাগুন বইয়ে এই অ্যাস্ট্রাল প্রোজেকশন নিয়ে কেন লিখলাম তা আপাতত তোলা থাক। তবে গল্পের প্রধান আকর্ষণ শুধু যে এটাই—তা কিন্তু না। ভয় পাবেন না, স্পয়লার দিচ্ছি না। কারণ লেখক এই প্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করেছেন নিজের মতো করে। তার সাথে যুক্ত করেছেন আরও নানান রহস্যময় কাহিনি। অন্তত এসব দিক বিবেচনা করে হলেও এই দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলা বইটি পড়া উচিত। ঢাকার ঐতিহ্য, ইতিহাস আর নানান সূত্রপাতে জর্জরিত উপন্যাসটি লেখক সহজবোধ্য লিখনপদ্ধতি ও দারুণ বর্ণনাভঙ্গি সংযুক্ত করে লিখেছেন আপন দুত্যিতে। কিছু জায়গার ত্রুটি ব্যতীত বইটি হাতে নিলে রাখার ইচ্ছা হয়তো হবে না।
কাহিনিটি আবর্তিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্রকে ঘিরে। তবে মূল চরিত্রে আছেন, উত্তমপুরুষে বর্ণনায় পুরো গল্প বলা হাসান মাহফুজ। পেশায় তিনি একজন লেখক। সাথে তার স্ত্রী সালমা, জহির নামের একজন রহস্যময় লোক, এবং জামিল নামে এক তরুণ লেখক। সব চরিত্র যে আপ টু মার্ক বিবেচনায় উর্ত্তীণ হয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে যাদের প্রায়োরিটি দিয়েছেন লেখক, তারা ঠিকই হয়েছেন। এছাড়া বেশ কিছু অগোছালো জিনিস ছিল উপন্যাসে। গল্পের ভেতরেও যে গল্প থাকে তা অজানা নয় কারও। সাবপ্লটের বিষয়টা বাদ দিয়ে বলছি। কয়েকটি লেখা রয়েছে পত্রিকায় ছাপানোর মতো করে, সেগুলোর উদ্দেশ্য যদি একান্ত সূত্র সমাধানের কারণ হয়—তবুও কিছুটা খাপছাড়া লেগেছে। এমনকি ট্রিবিউট হিসেবে দেওয়া কবিতার অর্থ উদ্ধার—ঢাকার পরিচয় দেওয়া ব্যতীত মূল কাহিনির সাথে সামঞ্জস্যতা আছে বলে মনে হয়নি। এছাড়া টাইম ট্রাভেল উল্লেখিত কিছু তথ্য একেবারেই গড়পড়তা। যদিও সেটা একপ্রকার চোখে ধুলো দেওয়া। এমনকি সাবপ্লটের ব্যবহারও যথোপযুক্ত লাগেনি। বিশেষ করে রেসকোর্স ময়দানের সিকোয়েন্সটা। শুধুমাত্র ঢাকার আবহ ধরে রাখতে যে এর অবতারণা; তা বাদ দিয়ে মূল প্রেক্ষাপটের সাথে সংযুক্তি আরেকটু জোরদার হলে বিষয়টা আরও উপভোগ্য হতো।
ঢাকা, ঢাকার নানান সময়, মুগ্ধকর সেইসব বর্ণনা এবং টাইম ট্রাভেলের কনসেপ্ট মিলিয়ে ঢাকায় ফাগুন বইটি উপভোগ্য। কাহিনির স্বার্থে রেফারেন্স হিসেবে যেসব চরিত্রকে গল্পে ঠাঁই দিয়েছেন, তাদের ব্যবহারও ঠিকঠাক। কিন্তু গল্পের সমাপ্তি আরেকটু রয়েশয়ে করলে বোধ হয় ভালো হতো। এমনকি চাইলে বইয়ের বাহ্যিক কিছু অংশ লেখক বাদও দিয়ে দিতে পারতেন। সম্পাদকের কাঁচির নিচ দিয়ে গেলে ঠিকঠাক হয়ে যেত হয়তো। অযাচিত কিছু বিষয় মেদ জমিয়েছে গল্পের লেয়ারে। তবে, এতটুকু আলোচনা বা সমালোচনা যা-ই বলুন, করতে পেরেছি লেখক সেইসব রসদ রেখেছেন বলে। বইটি দুই লাইন কিংবা এক প্যারায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে শেষ করার মতো না। আলোচনার করার টপিক অনেক। এমনকি বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের মিশ্রণটাও ভালো লেগেছে। অর্থাৎ লেখকের দর্শন এদিকে পোক্ত। শুরুর জার্নিটা লেখকের সুন্দর। কাহিনি বিল্ডাপ, চরিত্রায়ন বা সমাপ্তিতে কমতি থাকলেও লেখা দিয়ে সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন। প্লট অনুযায়ী যা যথার্থ। আর এটাই একজন মৌলিক লেখকের বড়ো অর্জন।
বইয়ে ভুলের পরিমাণ রয়েছে। কিছু নামের অদলবদল, বানানে কিছু সমস্যা। বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ১৯১ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য ২২০ টাকা। জানি না এখন দাম বেড়েছে কি না। আমার হাতে ২১ সালের কপি।
ঢাকার অলিগলিতে নস্টালজিয়া হতে চাইলে ঢাকায় ফাগুন আপনার অপেক্ষায় থাকবে, সাথে পথ দেখানোর জন্য কালজয়ী গল্প লেখার স্বপ্নে বিভোর লেখক হাসান মাহফুজ তো আছেনই। কারণ গল্পটা একান্তই তার, আর আপনাকে তিসি সঙ্গী হিসেবে পেলে আততায়ী ভেবে যে দূরে ঠেলে দিবেন না—এটুকু অন্তত সত্য। কারণ ওই চরিত্র স্বয়ং লেখকেরই প্রতিরূপ।
গল্পের প্লট বেশ ভালো এবং ইউনিক। লেখক বইটির পিছনে গবেষণায় বা তথ্য সংগ্রহে যথেস্ট শ্রম দিয়েছেন। বই পড়ার সময় বইয়ের পিছনের চিন্তার ছাপটুকু দেখা যায়।
তবে গল্প অনেকক্ষেত্রে কনফিউজিং। পাঠককে আকৃষ্ট করে রাখার মত ইলেমেন্ট কম লেখার মাঝে। পুরো লেখাটা আরো well managed এবং well edited হতে পারতো। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তার পরিমাণ লেখার মাঝে কমিয়ে, লেখায় স্পষ্টতা বাড়ানো উচিত।
ইদানীং বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত অনেক লেখকের প্রথম বই পড়ে হতাশ হতে হচ্ছে। খুবই কাঁচা হাতের Immature লেখার ধরণ৷ গল্প ভালো হলেও, লেখনীর কারণে গল্প পড়া যাচ্ছে না - এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। "ঢাকায় ফাগুন" বইয়ে এই সমস্যায় পড়তে হয় নি। তুলনামূলক বেশ ভালো। হাসান ইনামকে সম্ভাবনাময় লেখক হিসেবে আমি দেখছি।
বইটা শুরুর দিকে বেশ সাদামাটা ঠেকেছিল। চরিত্রগুলোর প্রতি অজান্তেই বিরক্তি চেপেছিল মনে। তবে মাঝে এসে আসল রোমাঞ্চের প্রারম্ভ ঘটে আর হারিয়ে যেতে থাকি জাদুর শহর ঢাকার ইতিহাসের আনাচে-কানাচে! প্রথমেই বইটার সবচেয়ে ভালো দিকটা হলো গল্পের ছলে চিরচেনা ঢাকার অতীত অধ্যায়গুলো পাঠকের সামনে উপস্থাপন। ঢাকার ইতিহাস নিয়ে ভাববার ফুরসত আসেনি জীবনে, তবে বইটা যেন মনে ঢাকার ইতিহাস নিয়ে আগ্রহের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করল। অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম।
গল্পের প্রোটাগনিস্ট হাসান মাহফুজের জীবনে নিজেকে টাইম ট্রাভেলার দাবি করা জহিরের আগমন ঘটলে একের পর এক অসংগতি শুরু হয়। প্রায়শই নিজেকে তিনি অতীতের সময়কালে আবিষ্কার করেন। অতীতের ঢাকার প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অবস্থা, ব্যক্তিবর্গ এবং খুটিনাটি রহস্যের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেন মাহফুজ। সেই সাথে যুক্ত হয় একের পর এক রহস্য। গল্পের শেষটা অপ্রত্যাশিত ঠেকেছে, শেষটা ব্যক্তিগতভাবে ভালোই লেগেছে বৈকি!
তবে গল্পের অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো চরিত্রায়ন। চরিত্রগুলো একমাত্রিক এবং প্রতিটি ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া অসংগতিপূর্ণ। ফলে, অনেকস্থানেই বিরক্তি জেঁকেছিল মনে। তবুও খুঁতখুঁতে পাঠক না হলে, নিঃসন্দেহে 'ঢাকায় ফাগুন' আপনার জন্যে। লেখককে ধন্যবাদ ঢাকার ইতিহাসের মিশেল ঘটিয়ে এতো সুন্দর একটা থ্রিলার পাঠকদের উপহার দেয়ার জন্যে। (সিক্যুয়াল আসতে পারে)
মাঝেমধ্যে প্রচ্ছদ দেখে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হলে যে ঠকতে হয় না, তার প্রমাণ এই 'ঢাকায় ফাগুন'। বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ দেখেই হুট করে অর্ডার দিয়ে বসি। এখন তৃপ্তির ঢেকুর তুলে শেষ করলাম 💜
একদিকে পুলিশ, আরেকিদকে জহির। মাথার ভেতর ঘষেটি বেগম, চোখের সামনে কবিতার লাইন। নাহ, এভাবে বসে থাকলে হবেনা। এইসবের শেষ খুঁজতে হবে। এভাবে বাঁচা যায়না।
ঠিক তাই! এইসবের শেষ খুঁজতে হলে আপনাকে "ভ্রমের" মধ্যে দিয়ে হলেও ঢাকা ভ্রমণে বেরুতে হবে।
মাঝারি জনপ্রিয়তার লেখক হাসান মাহফুজের কালজয়ী লেখক হয়ে ওঠার একটা স্বপ্ন আছে। আর সেই স্বপ্নের সুত্র ধরেই পুরান ঢাকায় ঘটতে শুরু করে নানান ঘটনা। সাধনা ঔষধালয়ে শ্রী যোগেষ চন্দ্র ঘোষের সামনে বসে সন্দেশ খাওয়া থেকে শুরু করে রেসকোর্সের ময়দানের মেহফুজ বেগ। অদ্ভুত দ্বন্দে পড়ে যায় হাসান মাহফুজ।
হাসান ইনাম এর লেখা "ঢাকায় ফাগুন" বইটা পড়ে চমৎকৃত হলাম। কটমটে বৈজ্ঞানিক থিওরি না কপচে, স্রেফ কিসসা বলার ঢঙে যে ১৮৫৭ সাল থেকে ভ্রমণ করিয়ে আবার ২০২০ এ ফেরত আনা যায়, ব্যাপারটা বেশ আনন্দদায়ক। মনে হচ্ছিল চোখের সামনের সবকিছু দেখতে পাচ্ছি। কাল মাঝরাতে পড়ার সময়েও মনে হচ্ছিল, এই বুঝি জহির এলো আজমির থেকে কাদের সরকারের চিঠি নিয়ে। তবে গল্পে জামিলের ইন্ট্রোডাকশন, রেসকোর্সে রেসের বিবরণ ইত্যাদি জায়গার বর্ণনাগুলো আরেকটু সংক্ষেপিত আর অর্থবহ করা যেত। ক্ষেত্র বিশেষে এসব ব্যাপার মনযোগে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। শেষটা আরেকটু নাটকীয় হবে বলে আশা করছিলাম। ঠিক সেরকমটা হয়নি দেখে কিছুটা মন খারাপ হয়েছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা গল্প। একটানে পড়ে ফেলা যায়। বই পড়তে পড়তে একটা রোমাঞ্চকর অনুভূতির স্বাদ পাবেন পাঠক। ম্যাজিক রিয়েলিজম নিয়ে বেশ ভালো একটা কাজ। লেখকের জন্য শুভকামনা।
বই: ঢাকায় ফাগুন লেখক: হাসান ইনাম প্রকাশনি: বাতিঘর প্রচ্ছদ: ডিলান
পাঠক, মূল রিভিউতে যাবার আগে লেখক সম্পর্কে দুই লাইন লিখছি। চাইলে প্রথম প্যারা জাম্প করে মূল রিভিউতে যেতে পারেন।
লেখকের ব্যাপারে প্রথম শুনি এক বন্ধুর কাছে। আমি থ্রিলার পড়ি এবং বাতিঘরের বই সম্পর্কে ধারণা রাখি এটা জানার পরে বন্ধুবর জানায় তার এক বন্ধু আছে যার বই বাতিঘর থেকে বেরিয়েছে। নাম হলো হাসান ইনাম। আমি চিনি কি না? জানালাম নতুন রাইটার মে বি, চিনি না। জবাবে সে বলল, বাতিঘর থেকে এটা তার প্রথম বই হলেও ঢাকা শহর নিয়ে তার আরও কিছু বই রয়েছে।
লেখকের বিষয়টা এই কারণেই বললাম, কারণ পুরো উপন্যাস জুড়ে লেখক ঢাকা শহরের অলিগলির ইতিহাস নিয়ে তার জানাশোনার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
স্পয়লার এলার্ট:
উপন্যাসটাকে কোনো সুনির্দিষ্ট জনরায় ফেলা ঠিক হবে না। একে উপন্যাস হিসেবে পড়াই ভালো।
শুরু টাইম ট্রাভেল নিয়ে খানিকটা আলাপ করা হলেও পাঠক বইটা পড়ার পরে বুঝবেন আসলে টাইম ট্রাভেলের কথাটা মার্কেটিংয়ের জন্যই ব্যবহার করা৷ কাজেই কেউ বইটাকে টাইম ট্রাভেল নিয়ে লেখা সায়েন্স ফিকশন ভেবে কিনে, পড়ে হতাশ হলে তার দায় লেখক/প্রকাশকের।
শুরুতেই সমালোচনা করলাম কারণ আমি এই বিষয়টা নিয়ে বিরক্ত। উপন্যাসের চরিত্র টাইম ট্রাভেল করছে ঠিকই কিন্তু কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। শেষ পর্যন্ত বইটাকে ম্যাজিক রিয়েলিজম ধরে নিয়ে পড়ে শেষ করেছি।
বইটা পড়ার সময়ে পাঠকের মনে হতে পারে উপন্যাসের আদলে সুনিপুণ দক্ষতায় লেখক আসলে ঢাকার অলিগলির ইতিহাস জানাচ্ছেন। এক্ষেত্রে লেখক অবশ্যই লেটার মার্ক পাবেন।
লেখক বইটায় যথেষ্ট রহস্য সৃষ্টি করতে পেরেছেন। তবে পাঁড় থ্রিলার ভক্ত হলে রহস্যগুলো এলোমেলো লাগবে। লেখক শেষে যেই ব্যখ্যাগুলো দিয়েছেন দুই তিন পাতায় সেটা প্লটের সাথে মানানসই হলেও এলোমেলো রহস্যগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট মনে হয়নি। বিষয়টা অনেকটা এমন "তেপান্তরের মাঠে ব্যাখ্যাতীত অনেক কিছুই ঘটে কারণ এসব অলৌকিক ব্যাপার"।
তবে, লেখকের লেখনি স্মুথ। পাকা হাতের লেখা বলেই মনে হয়েছে।
আর বইয়ের প্রচ্ছদ একেবারে যাচ্ছেতাই রকমের দুর্দান্ত। সুন্দর, সতেজ, স্নিগ্ধ একটা প্রচ্ছদ। উপন্যাসের সাথে একেবারে মানানসই। চোখ জুড়িয়ে যাবার মতো।
নতুন কোনো লেখকের বই পড়াটা কিঞ্চিৎ রিস্কি মনে হলেও 'ঢাকায় ফাগুন' নামটা চোখে পড়ার সাথে সাথেই বইটা ভালো লেগে যায় আমার। নামটা সুন্দর, পাশাপাশি প্রচ্ছদটাও। আশার কথা হচ্ছে বইটা আমাকে একফোঁটা�� নিরাশ করেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত , "গা ছমছম, কি হয় কি হয়" একটা অনুভূতি নিয়ে বইটা শেষ করেছি। হুমায়ুন আহমেদের কৃষ্ণপক্ষ থেকে শুরু করে নেটফ্লিক্সের ডার্ক সিরিজ কিংবা নোলানের ইনসেপশনের রেফারেন্স থেকে শুরু করে ইতিহাসে সমৃদ্ধ ঢাকার নানা তথ্য সবকিছুতে পরিপূর্ণ ছিলো বইটি৷ নবাব সিরাজউদ্দৌলা, যোগেশচন্দ্রবসু,ইমাম আবু হানিফাসহ অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তির রকমারি কাহিনীতে কখন যে বইটির সূর্য অস্তমিত হয়েছে তেমন করে টেরই পাইনি! 'টাইম ট্রাভেলের জনরায় এত চমৎকার একটা বাংলা বই পড়ছি 'এই ভাবনাটা বইটা পড়ার অনেকটা সময়জুড়ে ছিলো। মনে হচ্ছিলো এইবুঝি কাহিনীটা বিরক্তিতে মোড় নেয়! কিন্তু হাসান ইনামের সাবলীল বর্ণনায় মনে হচ্ছিলো বই নয়, আমি একটা সিনেমা দেখছি! অসম্ভব সুন্দর প্লটে চরিত্রগুলোর সমন্বয়সাধন ছিলো অমায়িক। একেরপর এক চরিত্রের আগমনে মনে হচ্ছিলো ডিএনএ-তে ক্রমানুযায়ী নাইট্রোজেন বেস যুক্ত হচ্ছে! তবুও যদি প্রিয় চরিত্রকে বাছাই করতে হয় তবে অনায়াসে আমার ভোট চলে যাবে সালমার জন্য৷ স্নেহ,রাগ,অভিমান,দুঃখ, মায়া, ভালোবাসা সবকিছুতে মিলেমিশে অন্যবদ্য এক চরিত্র সালমা। আর পুরো বইটা? অনেকদিন পর মায়ের রান্না খাওয়ার পর তৃপ্তিতে ঢেকুর চলে আসে না? টাইম ট্রাভেল, কুফরী, তন্ত্রসাধনা সবমিলিয়ে ঢাকায় ফাগুন বইটা ঐরকম একটা ভরাট অনুভূতি দেয়। তবে তবে তবে বেশকিছু বানান ভুল রয়েছে বইটায় যা পড়ার সময় ভালোরকমের বিরক্তির উদ্রেক করে!
দারুন ভাবে আগাচ্ছিলেন লেখক। কিন্তু শেষে গিয়ে কি দিয়ে কি লিখলেন কিছুই বুঝিনি। বেশ কষ্ট করেই শেষ করতে হয়েছে শেষ অংশ টুকু। তবে লেখকের যথেষ্ট পটেনশিয়ালিটি আছে। লেখার ধরন,বিষয়বস্তু ও ভিন্ন, ইউনিক। এই বইটার শেষ অংশ টুকু যদি ঠিক থাকতো তবে একটা মাস্টারপিস হতো এটাও।
আপনি কি টাইম ট্রাভেল বিশ্বাস করেন? করেন না? ঠিকই আছে। বিজ্ঞান যার ব্যাখ্যা দিতে পারে নি, তা বিশ্বাস করা নিতান্তই মূর্খতা। আবার করেনও? কেন করেন? টাইম ট্রাভেল বলে আদৌ কিছু আছে? কি, কনফিউজড হয়ে যাচ্ছেন? বিশ্বাস করবেন কি করবেন না, বুঝতে পারছেন না? বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের দোলাচলে সব ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে। এই তো?
সে যাই হোক। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাপকাঠি দূরে রেখে একটা প্রশ্ন করি। ধরেন, আপনার সামনে এমন কেউ আছে যাকে আপনি চেনেন না। কোনোদিন দেখেননি। একটা চিঠি নিয়ে এলো আপনার কাছে। যেই চিঠির মাথামুন্ডু কিছুই বুঝছেন না। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছেন। এমন সময় জানতে পারলেন, যিনি আপনার সামনে আছে তিনি এই সময়ের মানুষ না। অনেক আগের সময় থেকে বর্তমান পৃথিবীতে এসেছেন। এই ধরুন ৭২ বছর আগের এক সময় পেরিয়ে এক লাফে আপনার সামনে উপস্থিত। কেমন লাগবে আপনার? ভূত ভেবে মূর্ছা যাবেন? না-কি বিশ্বাস করবেন, তিনি সত্যি টাইম ট্রাভেল করে আপনার সামনে উপস্থিত।
এমনই এক ঘটনা ঘটেছে একজন লেখক হাসান মাহফুজের সাথে। জীবনে এক টানাপোড়েন চলছে তার। করোনাকালীন সময় লকডাউনে বিপর্যস্ত দেশ। তার মধ্যে স্ত্রী সালমার সাথে ঝামেলা। বউ রাগ করে চলে গেছে। কোথায় গেছে ঠিক জানা নেই। একটি খাম এসেছে। বউ ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে ভেবে খোলার সাহস হচ্ছে না। এমন সময় উটকো এক ঝামেলা! লোকটার দাবি সে অতীত থেকে ভুল করে ভুল সময়ে এসেছে। বিশ্বাস হতে চায় না। আবার বিশ্বাস না করেও উপায় নেই। লেখক হিসেবে গল্পের খোঁজে, নতুন প্লটের খোঁজে সব শোনার পর কিছু বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কেমন লাগবে? আবার যদি সেই টাইম ট্রাভেল-এর অংশ হতে হয়?
এরই সাথে ঢাকার অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো। পিছনের ইতিহাস, সিপাহী বিদ্রোহ, পলাশীর যুদ্ধ, ঘষেটি বেগম, ঢাকার প্রথম চলচিত্রে অভিনয় করা হরমতি বাঈজি, সাধনা ঔষধালয়ের শ্রী যোগেশ চন্দ্র ঘোষ, চিরকুটে পাওয়া ছোট্ট ছোট্ট কবিতার লাইন - যেখানে উঠে এসেছে পুরো ঢাকার চিত্র। এসবের মাঝে হাসান জামিল কিংবা হাসান মাহফুজের ভূমিকা কী? অতীত থেকে আসা সেই আগন্তুক-ই বা পিছু ছাড়ছে না কেন? সালমা কী করবে? স্বামীর এমন উদ্ভট আচরণ বিশ্বাস করবে? না-কি হেসে উড়িয়ে দেবে? টাইম ট্রাভেল কি আদৌ হয়? সত্যি সত্যি কি অতীতে যাওয়া যায়? অতীতে যাওয়া গেলে ভবিষ্যতে কেন নয়? ঢাকার অলিগলি, ইতিহাস, রহস্য শেষে কী এমন সামনে আসবে? এর শেষ কোথায়?
একটি নিরীক্ষাধর্মী অসাধারণ বই পড়ে শেষ করলাম। চোখের সামনে যেন অতীতের ঢাকা আর বর্তমান ঢাকার এক মেলবন্ধনে মুগ্ধ ছিলাম। এক্ষেত্রে লেখককে কৃতিত্ব দিতে হয়। দুর্দান্ত বর্ণনায় ফুটিয়ে তুলেছেন অন্যতম প্রাচীন নগরী ঢাকার চিত্র। লেখকের সাবলীল লেখায় মুগ্ধ হয়েছি। প্রথম বই হিসেবে বেশ পরিণত লেখার সাথেই পরিচয় হয়েছে। মেদহীন, ইতিহাসের অসাধারণ বর্ণনা, সাথে ছোটোখাটো গল্পে গতি এগিয়েছে বেশ। মাঝে মাঝে বিরক্ত লেগেছে। যেন অপ্রাসঙ্গিক অনেক কথায় হাসান মাহফুজের মতো আমারও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। পরক্ষণেই মনে হয়েছে, এর দরকার ছিল।
গত কয়েকমাসে অনেক নতুন লেখকের বই পড়েছি। কারো প্রথম, কিংবা দ্বিতীয়! অনেকের লেখায় বিরক্ত হয়েছি। গল্প বলার ধরনে হতাশ হয়েছি। এদিকে লেখক সফল। এমন কোনো বাক্য নেই, যেখানে বিরক্ত লেগেছে। বরং পরিণত লেখনীতে মনে হয়েছে অনেক দূর যাবেন এই লেখক। এক দুইটা বানান ভুল, কিংবা বেশ কিছু প্রিন্টিং মিসটেক নজরে এসেছে। যদিও তা গল্পের গতিতে বাঁধা হতে পারেনি। অসাধারণ বইটার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। এছাড়াও শুভকামনা, আগামীর জন্য।
বই : ঢাকায় ফাগুন লেখক : Hasan Enam প্রকাশনী : বাতিঘর প্রকাশকাল : এপ্রিল ২০২১ পৃষ্ঠা : ১৯১ মুদ্রিত মূল্য : ২২০
#SKB_BookReview 📚
This entire review has been hidden because of spoilers.
গল্পের প্লট খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার কাছে।১৯৪২ সাল থেকে কাদের সরদারের চিঠি নিয়ে এক লোক আসে গল্পকথক এর কাছে ২০২০ সালে।এখান থেকে গল্প শুরু হয়ে শেষ হয় ঢাকা শহরের নানা গলির অজানা ইতিহাস ঘুরে।লেখক টাইম ট্রেভল করে ঘুরে আসেন সাধনা ঔষধালয় থেকে।আবার দেখা করে আসেন সিপাহী বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে লেখা নিজের উপন্যাসের চরিত্রের সাথে।পুরো বইতে লেখক-পাঠকের জন্য চমক ধরে রেখেছিল।যে বিভ্রান্তি নিয়ে এত দৌড়াদৌড়ির ছিল বই জুড়ে তার সমাধান ভালো লাগেনি।কিন্তু,ভালো একটা সময় কেটেছে বইয়ের সাথে।
মূল চরিত্র হাসান মাহফুজ। ২০২০ এর এক বিকেলে তার বাসায় আগমন ঘটে বিচিত্র পোশাক পরা যুবকের, দাবি সে নাকি ১৯৪২ সাল থেকে এসেছে। আর দশজন সুস্থ ব্যক্তির মতো– যুবককে পাগল জ্ঞান করে তাড়িয়ে দিল না অবশ্য মাহফুজ। সে লেখক মানুষ। গল্প উড়ে উড়ে বাসায় ঢুকে পড়লে যে পূজা করতে হয়, এই কমনসেন্স তার আছে। আর এরপর থেকেই টাইম ট্রাভেলের মতো অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকলো মাহফুজের সাথে। ঘুরে বেড়াতে লাগলো সে প্রাচীন ঢাকার অলিতে গলিতে।
নিয়ন্ত্রিত বিক্ষেপ থেকে রহস্য বের করা খুবই সহজ, যদি আপনি প্যাটার্নটা ধরতে পারেন। কিন্তু প্যাটার্ন শিকারে বেরোনোর পূর্বশর্ত হলো সঠিক পরিমাণ কৌতুহল অনুভব করা।
আমি ব্যক্তিগতভাবে রহস্য উদ্ধারের তেমন একটা আগ্রহ পাইনি। লেখনী কিংবা চরিত্র কোনোটাই তেমন টানেনি। তারপরেও চেষ্টা করিনি এমন না। তবে লেখক যেভাবে রহস্য ফেঁদেছেন তাতে করে পাঠক কখনোই ‘বিগ পিকচার’ আঁচ করতে পারবে না। কারণ, পর্যাপ্ত ক্লু দেয়া ছিল না। রহস্যোপন্যাস পড়ার সময় আমি গেস করতে পছন্দ করি। এ ব্যাপারটা ‘ঢাকায় ফাগুনে’ মিস করেছি।
চরিত্রদের কথোপকথন কেমন কৃত্রিম কৃত্রিম ঠেকছিল প্রথম দিকে। অবশ্য খুব খেয়াল না করলে বুঝতে পারবেন না। লেখকের স্ত্রীর চরিত্র সালমার আচরণ মাঝে মাঝে বেখাপ্পা ছিল। মনে হয়েছে, বইয়ের একটা লেয়ার মিস করে গেছি বোধহয়। নাহলে সালমার মতো মাহফুজ চরিত্রেরও কিছু অসংলগ্নতা আছে। শেষ পর্যন্ত যার ভালো কোনো ব্যাখ্যা পাইনি।
বইটাকে আরবান ফ্যান্টাসি-থ্রিলার জনরায় ফেলা যায়। ঢাকা কেন্দ্রিক মজার মজার কিছু ইতিহাস থাকলেও হিস্টোরিকাল ফিকশন তকমা লাগানো সম্ভব না।
ফিনিশিং আমার কাছে হাস্যকর লেগেছে। লেখকের প্রথম বই হলেও যথেষ্ট ভালো। এক বসাতেই শেষ করেছি। আমার মনঃপুত হয়নি এই যা।
সোজা বাংলায়, আমার টাইপের বই না।
(দেখলেন? বললাম সোজা বাংলা, ঢুকিয়ে দিলাম ইংরেজি :-P )
আমি অতীতে যেতে চাই। মাঝে মাঝে তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয় আমার। অতীতকে ভুলে যাওয়ার কথা বলে অনেকে কিন্তু আমার অতীতের সেই ছোট্টবেলা আমার অনেক পছন্দের। সেই ছোট্টবেলার দিনগুলো ফিরে পাওয়া যায় না জানি তবুও মাঝে মাঝে মনে হয় টাইম ট্রাভেল বলে যদি কিছু থাকতো আমি চলে যেতাম যখন তখন অতীত কিংবা ভবিষ্যতে।
কিন্তু আল্লাহ মানুষকে এই ক্ষমতা দেননি। বিজ্ঞান এখনো কিছু কিছু বিষয়ে অসহায়। যেখানে মানুষ এখনো সময়েরই অনেক নিগুঢ় তথ্য জানতে পারেনি সেখানে সময়ের যাত্রা তো অসম্ভব বিষয়। বিজ্ঞান এখনো তাই টাইম ট্রাভেলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। কারণ এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় মানুষের পক্ষে। তবে আমরা নাটক সিনেমায় এসব দেখে দেখে কল্পনা করতেই পারি একসময় পৃথিবীতে এমন বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ঘটবে যখন আসলেই টাইম ট্রাভেল বলে কিছু হয়তোবা থাকতে পারে।
হাসান মাহফুজ বেচারা একাকী পুরান ঢাকার এক গলিতে বসবাস করে। স্ত্রী সালমা তাঁকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে এটাই তাঁর ধারণা। কারণ সে তাঁর ঘরে সালমার একটা চিঠি পেয়েছে। চিঠি খুলে অবশ্য দেখেনি তবে তাঁর ধারণা ডিভোর্স লেটার এটা। কারণ সালমা ঝগড়াঝাঁটি করে বাসা থেকে বেরিয়েছে। লেখক মানুষ সারাদিন লেখার প্লট খুঁজে বেড়ায় যে তাঁর পক্ষে একাকী ঘরের কাজকর্ম সামলে লেখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাড়ার মুদি দোকানদার একটা কাজের লোক দেবে বলেছে।
এমনিতেই বউ চলে গেছে বেচারা মাহফুজ শোকে কাতর। তার উপর হঠাৎ করেই এক উদ্ভট লোক এসে হাজির কাদের সর্দারের খোঁজে হাজির। মাহফুজ প্রথমে হকচকিয়ে গেল, কাদের সর্দার আবার কে! লোকটা নিজেও যেন ঢাকার বর্তমান চেহারা দেখে অবাক। আশেপাশে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। মাহফুজ লোকটাকে সোফায় বসতে দিয়ে লোকটাকে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করতে গিয়ে এমন সব কথা শুনলো তাতে মাহফুজের চোখ কপালে ওঠার দশা।
লোকটা তাঁর নাম বললো জহির। সে নাকি ১৯৪২ সাল থেকে এসেছে! গিয়েছিল আজমীর শরীফ কাদের সর্দারের সাথে। একটা চিঠি নিয়ে এই একমাস পর ঢাকায় এলো! এ্যাঁ এই ব্যাটা বলে কী! পাগল নাকি মাথা খারাপ এর নাকি ইচ্ছাকৃত রসিকতা শুরু করেছে সে। মাহফুজ আছে ২০২০ সালে করোনার সময়ে। সবখানেই লকডাউন চলছে। যেখানে পৃথিবীর মানুষ মরছে নির্বিচারে সেখানে এই ব্যাটা এসেছে রসিকতা করতে! কিন্তু না লোকটার চোখমুখে কিন্তু রসিকতার ছাপ নেই। তাহলে হচ্ছেটা কী এসব!
জহির নামের লোকটা নিজেও ঘাবড়ে গেছে যখন শুনলো সে ৭৮ বছর পরের সময়ে চলে এসেছে। এবার উপায়! সে ফিরবে কীভাবে এখান থেকে! মাহফুজ তখন লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো সবকিছুই কিন্তু লোকটা যা কাহিনী শোনালো হয়তো কারোরই বিশ্বাস হবে না। তারপর পরদিন লোকটা চলে গেল হঠাৎ করেই।
মাহফুজের বউ সালমা ফিরে এসেছে। এবং যে চিঠিটা মাহফুজ ডিভোর্স লেটার ভেবেছে ওটা আসলে অভিমানী চিঠি। মাহফুজ ইতিমধ্যেই ওই লোকটাকে নিয়ে গল্প লিখে ফেলেছে। সালমা কিছুটা বিশ্বাস করেছে আবার করেনি। এরমধ্যে আবার জহিরের আগমন! এবার মাহফুজকে সে নিয়ে গেল টাইম ট্রাভেলের মধ্যে। মাহফুজ দেখে এলো আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বিখ্যাত যোগেশ চন্দ্র এবং ঢাকার বিখ্যাত এক বাঈজি হরীমতীকে! মানে এসব আদৌ কী সত্যি! মাহফুজ ঘোরের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। এই জহির আসলে কে? সত্যিই কী সে টাইম ট্রাভেল করতে পারে? নাকি সবটাই লেখক মস্তিষ্কের কল্পনা? নাকি জহির কোনো প্রতারক? কিন্তু মাহফুজ নিজের চোখে সবটা দেখে এসেছে। স্বপ্ন কী এত সুক্ষ্মভাবে ঘটে?
শুধু এটাই নয় এর সাথে মাহফুজ মুখোমুখি হয়েছিল নিজের লেখা বইয়ের চরিত্রদের সামনে। আবার হয়েছে রেসকোর্সের ঘোড়ার জকি। এগুলো কী সব জহিরের কারসাজি? কোনো একটা খেলা কী খেলছে সে? এই খেলায় জড়িয়ে গেছে আরেকজন তরুণ লেখক হাসান জামিল! জামিলের ভাষ্যমতে তাঁর সাথেও সেইম একই ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে কিন্তু একটু অন্যভাবে। আচ্ছা জহির একসাথে দুটো মানুষকে কীভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারে?
হুম মাহফুজের নামের সাথে বেশ মিল। ঢাকার অলিতে গলিতে কত যে অজানা ইতিহাস লুকিয়ে আছে, এই বই যেন কালের সাক্ষী দেবে। নাকি আছে আরো কোনো জটিল রহস্য? লেখক হাসান মাহফুজ বলে চলেছেন "ঢাকায় ফাগুন" এর গল্প।
"ঢাকায় ফাগুন" বইয়ের নামটা বেশ পছন্দ হয়েছে শুরুতেই বলি। এই বইটা বেরিয়েছে কয়েক বছর আগে তবে আমি মাত্র পড়লাম এবং এককথায় বলি আসলেই দারুন লেখনী। লেখক হাসান ইনামের এই বইটি নিয়ে বইয়ের গ্ৰুপগুলোতে বেশ আলোচনা দেখেছি যে বেশ ইন্টারেস্টিং প্লটে এই বইয়ের গল্প এগিয়েছে।
তবে হাসান ইনাম সম্পর্কে উৎচ্ছাসিত প্রশংসা শুনেছি আমার হাসবেন্ডের কাছে। মূলত সেই বললো যে এই বইটা দারুন। এবং বইটা পড়েই সে বলেছিল এই লেখক লম্বা রেসের ঘোড়া, অনেকদূর এগিয়ে যাবেন লেখালিখিতে। এবং আমি গোগ্ৰাসে এই বইটা শেষ করেছি দুপুরে শুরু করে একদম রাতের মধ্যে। অনেকদিন পর কোনো বই এমন আগ্ৰহ নিয়ে রাত জেগে পড়লাম।
লেখকের গল্প বলার স্টাইল চমৎকার। এবং কে বলবে এটা ছিলো তাঁর প্রথম বই! এমন ইন্টারেস্টিং প্লট চিন্তা করে একটা সিরিজ আকারে গল্প এগিয়ে নেয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে শেষটা সবার মতো আমারও ভালো লাগলো না। মনে অনেক প্রশ্ন জমে আছে তাই আর তর সইছে না আমি এই সিরিজের দ্বিতীয় বই নিয়ে বসে পড়বো আজকেই। জানতে হবে অনেক প্রশ্নের উত্তর। কৌতুহল বাড়ানোর মতো লেখা। এবং আমি আসলে ঠিক কাকে ভিলেন বলবো কাকে হিরো বলবো কনফিউজড। তখন হাসবেন্ড মিটিমিটি হেসে বললো সব প্রশ্নের উত্তর দ্বিতীয় বইয়ে আছে।
আমার কাছে সব মিলিয়ে দারুন লেগেছে ঢাকার অলিতে গলিতে এই যাত্রা। লেখক ঢাকা নিয়ে অনেক ইতিহাসের গল্প বলেছেন ফাঁকে ফাঁকে জেনে চমৎকৃত হলাম। বাতিঘরের প্রোডাকশন যেমন প্রচ্ছদটাও দারুন ভিন্টেজ লুক দিয়েছে বইকে। যাই হোক আমি প্রথম বইয়ে সন্তুষ্ট। দ্বিতীয় বই শুরু করি এবার।
🌿 বইয়ের নাম: "ঢাকায় ফাগুন" 🌿 লেখক: হাসান ইনাম 🌿 প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনা 🌿 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৪/৫