বিজ্ঞানের সঠিক ইতিহাস নিয়ে আমাদের ধারণা খুবই ঠুনকো। যতটুকু জানি তার মধ্যেও থেকে যায় ভুলের ছড়াছড়ি। অবাঞ্চিত কিংবা অতিরঞ্জিত তথ্যে ভরপুর৷
কথাটি আছে যে, ইতিহাস আমাদের শেখায় যে আমরা ইতিহাস থেকে কিছুই শিখি না। কিন্তু আমাদের এখানে সমস্যা হচ্ছে আমরা ইতিহাস জানিই না। অথবা ইতিহাস জানার সময় আমাদের টোটালি নেই। আজকের আধুনিক জগতে আমরা আধুনিক তরুনরা "বিজ্ঞানী" বলতে কেবল কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন বুঝি। আগেও যে দুনিয়া ছিল; তাদের আগেও যে ইতিহাস রয়েছে সেটা কখনো আমাদের বিবেকে বাজে না।
বিজ্ঞানের ইতিহাস, ধর্ম ও বিজ্ঞান এমনকি ইসলামি বিজ্ঞান ও ধর্মের ইতিহাসও বর্তমানে অ্যাকাডেমিক সাবজেক্ট। পশ্চিমে শত শত রিসার্চার জীবনভর এসবের উপর গবেষণা করেন। এদিকে বাংলাদেশে আমরা এই জায়গায় প্রায় পুরোপুরি অজ্ঞ। দুঃখজনকভাবে নিজেদের ইতিহাসে ইন্টেলেকচুয়াল আউটপুট নিয়েও আমাদের জানাশোনা নেই। আমাদের লিনিয়েজ কোথা থেকে আসছে তা না জানলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব গঠন করবো কিভাবে?
বিবেকের এই তাড়না থেকেই, যাতে এটলিস্ট কিছু ধারণা অর্জন করা যায়। আমরা তরুনরা যাতে এই বিষয়ে একেবারে অজ্ঞ না থেকে যাই, সেই চিন্তা থেকে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। মধ্যযুগীয় মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞান, দর্শন নিয়ে পাঠকদের একটা স্বাদ দিতে এই বই।
প্রতিটি জাতির উন্নতির সাথে সাথে দেখা যায় তারা ধীরে ধীরে বিজ্ঞানে অগ্রগতি লাভ করতে থাকে। অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত মধ্যযুগে কি বিজ্ঞানের কোন কাজই হয় নি? কাজ না হলে কীভাবে হঠাৎ করে এত শত শত বছর পরে বিজ্ঞানের এত অগ্রগতি শুরু হল?! ইউরোপে এই সময়টা অন্ধকার যুগ হলেও তখন ইসলামিক সাইন্সের স্বর্ণযুগ! ইসলামের প্রভাব প্রতাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে ইসলামিক অঞ্চলসমুহে বিজ্ঞানের এক মহাজাগরন শুরু হয়। জাবির ইবনে হাইয়ান, ইবনে তোফায়েল, আব্বাস ইবনে ফিরনাস, ইবনে সিনা, ইবনুল হাইসাম (আল-হাজেন), বদিউজ্জামান আল জাজারির মত বিজ্ঞানী, দার্শনিক, চিকিৎসকরা এই তথাকথিত "অন্ধকার যুগেই" তাদের অসাধারণ সব মেধার দাগ রেখে গিয়েছেন। বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ এই সময়েই গড়ে উঠে এবং শুরু হয় "অনুবাদের সুনামি"। গ্রীক বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির অনুবাদ ব্যাপক আকার ধারণ করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে পরবর্তী সময়ের ইউরোপের অনুবাদকেরা মূল গ্রীক পাণ্ডুলিপি থেকে অনুবাদের চেয়ে আরবি অনুবাদ থেকে অনুবাদ করতেই পছন্দ করত! কারণ ইসলামিক যুগের অনুবাদকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোতে অনুবাদই কেবল করা হত না বরং মূল পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন ভুল সংশোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন নোট যুক্ত করে দিত যা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান! ২৫০ বছরের মধ্যে মুসলিমরা তাদের আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব বই অনুবাদ করে ফেলে! জাবির ইবনে হাইয়ানের নাম প্রায় সবাই জানে। অসংখ্য গুনে গুনান্বিত তিনি একসাথে কেমিস্ট, আলকেমিস্ট, এস্ট্রোনমার, ইঞ্জিনিয়ার, ফিলোসফার, ফার্মাসিস্ট, ফিজিসিস্ট, জিওগ্রাফার!! (আরও আছে 😪) সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড তাঁরই আবিষ্কার! এছাড়াও তাঁর অসাধারণ আবিষ্কারের মধ্যে আছে একুয়া রিজিয়া বা রাজঅম্ল বা অম্লরাজ! যেহেতু তিনি আলকেমিস্ট ছিলেন সেহেতু আলকেমিস্টদের মত একটি স্বভাবজাত চেষ্টা তারও ছিল! সেটি হচ্ছে স্বর্ণ তৈরি (বিজ্ঞানী নিউটনও এই চেষ্টা করেছিলেন!)। আব্বাস ইবনে ফিরনাস হচ্ছেন মানুষের উড়ার যন্ত্র আবিষ্কারের পথিকৃৎ। ৭০ বছর বয়সে নিজের তৈরি উড়োজাহাজে প্রায় ১০ মিনিট উড়েন! তার পরে আরও অনেকে চেষ্টা করেন উড়োজাহাজ তৈরির জন্য, পরবর্তীতে রাইট ব্রাদার্স সফলতার মুখ দেখে। আচ্ছা সেই সময়ে রোবটিক্সের কথা কি ভাবা যায়?! কিন্তু এই অকল্পনীয় কাজটাই করে দেখিয়েছিলেন বদিউজ্জামান ইবনে ইসমাইল আল জাজারি। প্রশ্ন আসতে পারে তখন তো বিদ্যুৎ আবিষ্কার হয় নি! মূলত উনি প্রেশারাইজড পানি ব্যবহার করে অটোমেটেড রোবট তৈরি করেন। তাঁর তৈরি রোবট অজুর পানি ঢেলে দিত এবং মানুষ ওজু করত! বইটিতে এমন অসংখ্য বিজ্ঞানী, দার্শনিক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ারদের নাম উল্লেখ আছে যারা রয়ে গেছে আমাদের কাছে অজ্ঞাত! মূলত অজ্ঞাত হিসেবে আমাদের কাছে উপস্থাপিত করা হয়েছে! যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন ভার্সিটিতে তাদের রেফারেন্সে কাজ করা হয়, সেখানে আমাদের "মুসলমানদের" দেশে এই ইসলামিক সাইন্সের স্বর্ণযুগের তেমন কোন কথাই পাওয়া যায় না আমাদের টেক্সট বইয়ে! টেক্সট বইয়ে না থাকুক, জানার জন্য এবং ইসলামিক সাইন্সের "স্বর্ণযুগ"কে অন্ধকার যুগ বলা থেকে বিরত থাকার জন্য হলেও বইটি পড়া প্রয়োজন! তবে বইটি আরেকটু ভালোভাবে সম্পাদনা করা দরকার ছিল, বিশেষত কিছু জায়গায় তথ্য উল্লেখ করতে গিয়ে সাবলীলতার দিকটায় একটু কম লক্ষ্য করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে, তবে সেটা খুব বড় ব্যাপার ছিল না যেহেতু খুব কম জায়গাতেই এমনটা লেগেছে। বি.দ্র: বইটিতে প্রায় প্রতিটি কথার রেফারেন্স উল্লেখ আছে, তাই কেউ চাইলেই যাচাই করে নিতে পারে। বইয়ের নাম: মুসলিম মস্তিষ্ক, বিজ্ঞানের অনবদ্য গল্প লেখক: Arman Firman মুদ্রিত মূল্য: ২৪০ টাকা পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২০৮
অসাধারণ, শাসরুদ্ধকর, সত্যি অসাধারণ। মাস্ট রিড সব মুসলিমদের জন্য বিশেষ করে যারা হীনম্মন্যতায় ভোগেন। বিস্তারিত প্রচারণা প্রয়োজন বইটার। কথোপকথনের ঢঙে লেখার কারণে মনক্ষুণ্ণ হয়েছিল আমার কিছুটা তবে তেমন সমস্যা হয় নি শেষমেশ। লাভের লাভ কছুটা কমিক রিলিফ এসেছে ডায়লগ আর ক্যারেক্টারের উপস্তিতির কারণে। তবে এত রিসার্চ যে বইয়ের পেছনে সেই বই কথোপকথনের ঢঙে লেখার কারণে এ বইয়ের একাডেমিক ভ্যালু কমে গেল কিনা সেটাও ভাবার বিষত। সব কথা বাদ দিলে, এরকম একটা বই আসলে খুবই জরুরি ছিল। বইয়ের অনেক বিষয় হয়ত অনেকে জানেন তবে পুরো বই পড়ার পর হলফ করে বলা যায় আপনি আবাক হবে, অনেক বেশি অবাক হবেন, সীমার চেয়ে বেশি—ধারণার চেয়ে বেশি অবাক হবেন!
ধরুন মানব প্রশান্তির ছায়ার আশায় আপনি একটি বট বীজ রোপণ করলেন। এবার কোন দস্যু এসে আপনাকে বেড়ি পরাল আর নিশ্চিন্ত মনে সে জল দিয়ে যেতে লাগল। বৃক্ষ বড় হয়, ছায়াও দেয়। লোক মুখে সে নায়ক বনে গেল আর আপনার কষ্টার্জিত একটি মাত্র বীজ রোপণের ইতিহাস বিলীন করার সকল প্রচেষ্টা করা হল। দেখতে দেখতে জনমনে দস্যুর প্রশংসায় সকলে পঞ্চমুখ হল ফলে আপনার নাম অবাঞ্ছিত হয়ে পরে রইল। কেমন অনুভতি হবে আপনার? বর্তমান সভ্যতার উন্নয়ন ও প্রসারে মুসলিমদের অবদানের সাথে পশ্চিমারা ঠিক একই কাজ করেছে। পুরো অবদানকে শত বছর ধরে উধাও করে দিতে চেয়েছে। যে অবদান অস্বীকারে আধুনিক টেকনোলজি জগতের প্রায় অস্তিত্বই থাকবেনা, শিক্ষা ব্যাবস্থা যেমন ধ্বসে যাবে, চিকিৎসা সেবা উবে যাবে ফলে অন্ধকার জুগের সুচনা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানী ও আলেম, কুরআনে হাফেজ আবার চিকিৎসাবিদ কিংবা আবার দার্শনিক যিনি ফতোয়া দেবারও যোগ্য কেমন ইসলামিক জগত সেটা? সারী সারী নারী স্কলার যারাই আবার আলেম-বিজ্ঞানী তৈরির হাতিয়ার কেমন লাগবে আপনার? হা এলকোহল বা মিউজিকের মত কিছু হারাম আবিস্কারও হয়েছে তবে সামগ্রীক অবদান তুলনায় তা একেবারেই অল্প। গোটা পশ্চিম তখন অন্ধকারে ডুবে আর এদিকে সে মুসলিম বিশ্ব যেন আজকের নাসা, মাইক্রোসফট, এপলকে ছারিয়ে আর অবশ্যই আল্লাহর বিধান স্মরণ রেখেই। তারপর হতে লাগল সূর্যের পতন। বাতিটা ছিনিয়ে নিল পশ্চিম আর এ দিকে আমরা পশ্চিমা হাওয়ায় উড়াল দিতে শিখলাম যেন না হলে উপুড় হয়ে পরে থাকতাম। ইতিহাসকে বদলে দেয়া হল, পাঠ্যপুস্তক থেকে বিলীন করা হল, মিডিয়া এক ধাপ এগিয়ে পশ্চিম পশ্চিম বলে জয়ধ্বনি দিল। তবে কি আমাদের হীনমন্যতা জেগে উঠল? অজ্ঞতার ফল এর চেয়ে ভাল হবে কি? সেই অজ্ঞতায় আলো জ্বালতেই "মুসলিম মস্তিষ্ক" বইটি।
বইটির দু-একটি স্থানে ফিকহি মাসালার ক্ষেত্রে লেখকের ব্যাক্তিগত মতামত লক্ষণীয়। সহি মতটি জানতে আমাদের প্রচেষ্টা কাম্য।
বইয়টিতে উঠে এসেছে মুসলিমদের সোনালী যুগের নানা আবিষ্কার। নানান জায়গায় এই আবিস্��ারগুলো থেকে আমরা এই আধুনিক যুগেও উপকৃত হয়ে আসলেও আবিষ্কারকদের নাম নেওয়া হয় না। সেই নাম না নেওয়া সোনালী যুগের সোনালী মানুষগুলোকে খুজে বের করার প্রচেষ্টার একটি বহিঃপ্রকাশের আরমান ফিরমান এর এই বইটি। বইটিতে উঠে এসেছে মুসলিম বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার, কি থেকে তাদের আবিষ্কারের ইচ্ছা জাগল, কিভাবে মুসলিমরা বিজ্ঞানে পিছিয়ে গেল, নারীদের অবদান ইত্যাদি। আমাদের সমাজে ইসলামবিদ্বেষীরা প্রায়ই মুসলিম বিজ্ঞানিদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তার উত্তর হিসেবে রয়েছে "মুসলিম বিজ্ঞানীদের ধর্মবিশ্বাস কেমন ছিল" গল্পটি। বইয়ের লেখাগুলো গল্পাকারে দেয়া, যা বইয়ে আলাদা একটা সংযোজন বলা যায়। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে লেখাগুলো প্রবন্ধ আকারে দিলে আরো ভাল হতো।
সর্বশেষে বইটাকে একটা মাস্টারপিস বলা যায়। কিছু কিছু বই তৈরি করা হয় ৫ স্টার পাওয়ার জন্য, এটাও তেমন একটা বই। লেখকের কাছ থেকে আরো এরকম বই আশা করছি। কিছু বানান ভুল আছে, পরের এডিশনে তা ঠিক করা হবে আশা করি।
বই - মুসলিম মস্তিষ্ক লেখক - আরমান ফিরমান রেটিং - 🌟🌟🌟🌟🌟
কেউ যদি প্রশ্ন করে বসতো, বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্র হিসেবে এইচএসসি পাস করার পর মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান সম্পর্কে আমার জ্ঞান কতটুকু? মাথা চুলকে বড়জোর দুজনের আবিষ্কারের কথা বলতে পারতাম। একজন ইবনু হাইসাম, আরেকজন খাওয়ারিজমি। কেন এই দুজন তারও একটা উদ্ভট ব্যাখ্যা দেয়া যাবে। আগে নাকি বিজ্ঞানীরা ভাবত, মানুষের চোখ থেকে আলো বের হওয়ার কারণে মানুষ দেখতে পায় - কী হাস্যকর একটা চিন্তা - পরে ইবনু হাইসাম এসে সেটা উল্টে দেন। এই লাইনটা পাঠ্যবইয়ে পড়ার পর থেকে কেন জানি আমার মাথায় সেট হয়ে গেছিলো। আর খাওয়ারিজমির নাম মনে থাকার কারণ হলো, আরবি আল-জেবরা থেকে বীজগণিতের নামকরণ করা হয়েছিল, বিষয়টা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল। আরেকটা নাম মনে থাকার সূক্ষ্ম কারণ হলো, আমার প্রাথমিক শিক্ষা যে স্কুলে, সে স্কুল প্রতিষ্ঠার পেছনে খুব মহৎ একটা উদ্দেশ্য ছিল - ধর্ম ও আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বিত শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এজন্য আমাদের মূল বইগুলোর পাশাপাশি আরবি ও খুব স্ট্রং নৈতিক শিক্ষা দান করা হতো [এখন অবশ্য যতদূর জানি, সেগুলো সব পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন মহলের চাপে :(], আর সেই স্কুলের নামটা ছিল - "আল-জাবের ইনস্টিটিউট"! সম্ভবত জাবির ইবনু হাইয়ানের নামে তা নামকরণ করা হয়েছিল।
আরেকটু বড় হয়ে যখন ইসলাম নিয়ে কিছুটা সিরিয়াস হলাম, অন্যান্য সব দিকের মত, বিজ্ঞান নিয়েও মুসলিমদের কাজ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খুব বেশি যুৎ করতে পারলাম না। তবে আমি বুঝতে পারছিলাম যে, মুসলিম হিসেবে তাদের আবিষ্কার নিয়ে আমার অনেক গর্বিত হতে হবে, কিন্তু ঠিক কী কারণে সেটাও আবার খুঁজে পাচ্ছিলাম না! (এর উত্তর পাওয়া যাবে, বইয়ের শুরুতে - লেখকের কথায়)।
আমাদের দেশের একাডেমিয়ার অবস্থা এমনিতেই জঘন্য। তার উপর সেখানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের কাজ নিয়ে আলোচনা থাকবে, এই চিন্তা করাটাই তো একটা পূর্ণমাত্রার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে! সেই দিক থেকে এই বইটা ওপেনিংয়ে নেমেই চার-ছক্কা হাঁকিয়ে একেবারে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছে।
অনেকেই হয়তো বইয়ের দেয়া খুঁটিনাটি তথ্য ও আবিষ্কারের পরিমাণগত আলোচনা দেখে বিষ্মিত হবেন। তবে আমি যে কারণে লেখককে বাহবা দিবো, সেটা হলো - লেখক কথার ফাঁকে ফাঁকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মপন্থাগত মূলনীতি তুলে ধরেছেন। যেমন: সোর্সের বিশুদ্ধতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা, বায়াসনেস এড়ানো, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদি। কেউ হয়তো এতো এতো আবিষ্কারের নাম কিছুদিন পরই ভুলে যাবে, কিন্তু এই স্ট্র্যাজেটিক রুলসগুলো আয়ত্ব করতে পারলে, তা সারাজীবনের পড়াশোনা ও গবেষণার পাথেয় হতে পারে।
অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে, তবে বইয়ে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে - বিজ্ঞানের ইতিহাস - অধ্যায়টা। বিজ্ঞানের আবার ইতিহাস কী? হ্যাঁ বাবা। বিজ্ঞানেরও ইতিহাস আছে, দর্শন আছে। এই ঘুণধরা একাডেমিয়া আপনাকে এসব শেখাবে না। শেখাবে খালি কীভাবে জিপিএ ৫ পেয়ে, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। শেখাবে কীভাবে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ব্যাংকে চাকরি করে ক্যারিয়ারে শাইন করতে হয়।
মুসলিমরা সভ্যতার চূড়ায় উঠল কীভাবে, আবার নেমেই বা গেল কেন? ধর্ম কী মুসলিমদের গতিরোধ করেছিল? এরকম আরো অনেক প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে পিচ্চি বইটাতে।
লেখক যদিও ভূমিকায় উল্লেখ করে দিয়েছেন, এখানে গল্প বলাটা মূল উদ্দেশ্য না, তথ্য পরিবেশনই মূল। তারপরও স্কুল লেভেলের ছেলেদের মুখ দিয়ে এতো এডভান্সড আলোচনা নিয়ে আসাটা আমার একটু অসংগত মনে হয়েছে। সিনান যতই বুদ্ধিমান হোক, হাই ইবনু ইয়াকজানের দর্শন আর লজিক্যাল ফ্যালাসির মত জটিল বিষয় ক্লাস টেনের ছাত্র হয়ে কী সে আলোচনা করার সামর্থ্য রাখে? তবে জানি না বাপু, আজকালকার ছেলেপেলেদের কথা বলা যায় না!
যাই হোক, বিজ্ঞানের সব ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভার্সিটি লাইফে প্রবেশের পূর্বেই রাফান আহমেদের "হোমো স্যাপিয়েন্স" আর এই বইটাকে অবশ্য পাঠ্য করা উচিত, অন্তত সচেতন মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য তো অবশ্যই।
পরিশেষে, যেহেতু একই শহরের বাসিন্দা, কাল্পনিক নামধারী অজ্ঞাত লেখকের সাথে পরিচিত হওয়ার আশা রাখলাম। অবশ্য তার ব্যক্তিগত লুকোচুরি, লেখার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতায় কোনো প্রভাব ফেলেনি। প্রতি অধ্যায়ের শেষে সংযুক্ত রেফারেন্স তালিকাই তার সাক্ষী। বরং সেলিব্রেটিজমের যুগে ব্যক্তির চেয়ে তার কাজকে বড় করে দেখার একটা সুযোগও যেন তৈরি করে দিয়েছেন তিনি!
আমরা বিজ্ঞান শিখি বিজ্ঞান ছড়াই, এটি করতে গিয়ে কারো কোনো তথ্য চুরি করলে তা ধরা পরে। কারন আমরা ইতমধ্যেই অদৃশ্যতার(ইন্টারনেট) যুগে প্রবেশ করেছি। এই ধরনের সময়ের সুবিধা হলো সব কিছু হাতের কাছেই থাকে,সংকট শুধু সদইচ্ছার। যুগে যুগে মানুষের মধ্যে ক্ষমতার রথবদল হয়েছে। যার মধ্যে দিয়ে আঘাতপ্রপ্ত হয়েছে বিজ্ঞান ইতিহাস। ১৫ শতকের কথাই ধরুন, স্পেনে ১০ লক্ষাধিক বই পোড়ানো হয়; ইউরোপের প্রথম এস্ট্রোনমিক্যাল অবজার্ভেটরিকে খ্রিস্টীয়দের ঘন্টা বাজানোর টাওয়ার বানানো হয়। ইতিহাস শিখতে গিয়ে মেনে নিতে হয় ক্ষমতার এই রথবদলকে। ইতিহাস লিখতে গিয়ে অনেকে করে অতিরঞ্জিত, অনেকে দেয় ধামাচাপা। এতে মিশ্রিত হয় নোংড়া দর্শন। মুসলিম মস্তিষ্ক বইটি নিয়ে আলোচনায় যাওয়া যাক।এই বইয়ে গল্পের মতো করে বিজ্ঞানের ইতিহাস বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৩ টি প্রধান চরিত্র। লেখক, তারিক, সিনান। স্কুলে একদিন গ্রুপ ওয়ার্ক এর জন্য সবাইকে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। লেখকদের টিমের ভাগ্যে পড়ে মধ্যযুগের ঘটনা নিয়ে আলোচনার। ঘটনাক্রমে তাদের সাথে পরিচিতি হয় একটা লাইব্রেরিয়ানের, যার ধারনা 'বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্ধ্যকার যুগ নেই'। তারিক, সিনান আর লেখক তার কথা শুনে অবাক হয়। লাইব্রেরিয়ানের দেয়া কিছু বই পড়ে তারা বুঝতে পারে তারা প্রবেশ করেছিল এক সোনালীর যুগ এ। যে সময়কে নিয়ে এইতিহাসিকরা ইতিহাসের পাতায় পাতায় লিখেছেন জাবির ইবনে হাইয়ান, আব্বাস ইবনে ফিরনাস,ইবনুল হাইসাম,ইবনে তোফা���়েলের নাম। অল্প বয়সী কিষোরদের অবাক করে বনু মুসার ট্রান্সলেশন মুভমেন্ট/ অনুবাদের ঝড়, কিভাবে মধ্যুযুগীয়রা বিজ্ঞান আবিষ্কারে মেতে উঠেছিল। কথিত আছে তৎকালীন ইউরোপের এক শাসক শারলামেইন আল জাজরীরকে খলিফা হারুন একটি ওয়াটার ক্লক গিফ্ট করেছিলেন, তা দেখে যাদু ভেবে বসে ছিলেন তিনি। এ থেকে বোঝা যায় ইউরোপের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের তৎকালীন ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ ছিল। একদিকে গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমি বীজগণিতে, গ্রীকদের থেকে পাওয়া জ্যামিতির একটা বড় অংশ, আল বাত্তানী থেকে পাওয়া ক্রিকোণমিতি আমাদের গণিতকে সমৃদ্ধ করেছে। যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান থাকে মধ্যযুগীয় মুসলিমদের।জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে ছিলো না। আয়িশা রা. এর কথাই ধরি, শিক্ষকতা, রাজনীতি, চিকিৎসা নিয়ে ধারনা রাখতেন। এক্ষেত্রে বইয়ের একটা লাইন আমি কোট করি "প্রথমে যেটা ক্লিয়ার করা প্রয়োজন, শারীরিক ভিন্নতার জন্য নারী পুরুষের মাঝেই ইসলাম অনেক পার্থক্য করে, কিন্তু জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই। এখানে সবার সমান দায়িত্ব"। ফাতিমা আর ফিহরি, মারইয়াম জিনয়ানি, মারইয়াম আল আস্তরলাবি, রুফাইদা আল আসলামিয়্যাহ্ এনাদের কেউ মেডিসিন কেউ রসায়ন নিয়ে গবেষনা করেছেন। নারীদের শিক্ষার ব্যাপারে ফিলোসফার ইবনে রুশদ বলেছিলে,"বিভিন্ন জায়গায় মুসলিমদের দুর্বলতা ও দরিদ্রতার মূল কারণ নারীদের শিক্ষা হতে বঞ্চিত করা। কেননা মা শিক্ষিত না হলে সন্তান শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে"। যেখানে খলিফার স্ত্রী ও দাসীরা থাকে তাকে বলে হারেম। চরম গাণিতিক দক্ষতা দিয়ে রাজ্যের হিসাব সংকলন করা তাদের কাজ ছিল। তাই একে স্ট্যাটিস্টিক্স সেন্টার বলা হতো। এবার আসি আলকেমিদের হিসাবনিকাশে। অনেকেই এটিকে অপবিজ্ঞান ভাবে, তার কারন কোনোভাবে ঘসামাজা করে সোনা তৈরী করা একটা অবৈজ্ঞানিক কাজ বটে। তবে এ ধারনা ভুল। জাবির ইবনে হাইয়ান নিজে একজন আলকেমিস্ট হয়েও এমন ধারনাকে সমর্থন করতেন না। তার কাজগুলো পাওয়া যায় সাইন্টিফিক মেথড ফলো করে করা কাজ। তৎকালীন সময়ে প্রচলিত কাজগুলির অন্যতম হলো চুরি হওয়া থেকে বাচাতে আবিষ্কার গোপন রাখা। কারন তখনকার সময়ে এখনকার মতো সারা পৃথিবীর সাথে মানুষ কানেক্টেড ছিল না। ফলে এক প্রান্তে কি হচ্ছে অপর প্রন্তে তা বোঝা যায় না। বইয়ের অনুবাদ করে মূলবইয়ের লেখকে আলাদা করে দেয়ার মতো রীতি ছিল সারা পৃথিবীতে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে মুসলিমদের সভ্যতায় যখন ট্রান্সলেশন মুভমেন্ট চলছিলো। অনুবাদকরা মূল বইয়ের মধ্যে যেসব ভুল পেতেন তা সংশোধন করতেন। তবে এসব মূল বইয়ের সাথে মেলালে তাতে আকাশপাতাল অমিল পাওয়া যায়। এ থেকে বোঝা যায় তৎকালীন ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য কতটা এগিয়ে ছিল।
মুসলিম মস্তিষ্ক বইয়ে লেখক একটি থ্রিল দেয়ার চেষ্টা করেছেন৷ তিন বন্ধুর বাস্তব ধর্মী আলাপের মধ্য দিয়ে লেখক বুঝিয়েছেন মধ্যযুগীয় পরিস্থিতি।
🔷গাছতলায় এক বুড়ো বসে আছে। গাছে ঝুলছে একটা ব্ল্যাকবোর্ড। বুড়োকে ঘিরে বসে আছে কয়েকজন কলেজপড়ুয়া ছাত্র। একসময় বুড়ো চক হাতে নিলেন। ব্ল্যাকবোর্ডে কয়েকটা নাম আর সাল লেখলেন। অ্যারিস্টটল (৩৮৩-৩২২ BC), আর্কিমিডিস (২৮৭-২১২ BC), জোহানেস গুটেনবার্গ (১৪০০-১৪৬৮ AD)।
এরপর বসলেন। বলতে শুরু করলেন, 'আচ্ছা! তোমাদের কি মনে হয় এই মাঝখানের প্রায় ১৭০০ বছর বিজ্ঞান নিয়ে কোনো কাজই হয়নি? বিজ্ঞান কেন, যেন পুরো মানবজাতিই থমকে গিয়েছিলো!? মনে হয়না এরকম?' সবাই না-বোধক মাথা নাড়লো।
বুড়ো হাসলেন। বললেন, 'এই মধ্যখানের সময়টাকে বলা হয় বিজ্ঞানের অন্ধকার যুগ। কিন্তু আসলেই কি বিজ্ঞানের অন্ধকার যুগ ছিলো? নাকি স্বর্ণযুগ ছিলো? এটা কি জানো? তখন ইউরোপে চলছিলো অন্ধকার, আর মুসলিম বিশ্বে চলছিলো বিজ্ঞান, দর্শন আর নিত্যনতুন আবিষ্কারের মহোৎসব? তোমরা কয়জন মুসলিম বিজ্ঞানীর নাম বলতে পারো?' একজন বললো, 'জাবির ইবনে হাইয়ান, ইবনুন নাফিস, আর... আর...!'
'আচ্ছা, বলতে হবেনা। থামো। আমিই বলছি।' এরপর বুড়োর মুখ থেকে পরপর চারজন মুসলিম বিজ্ঞানীর অমর আবিষ্কার বুলেটের গতিতে বেরিয়ে এলো। বুড়ো একে একে বলে গেলেন ইবনুল হাইসাম, জাফর মুহাম্মাদ ইবনে মুসা, আহমাদ ইবনে মুসা, আল হাসান ইবনে মুসা'র নাম, পরিচয়, তাঁদের আবিষ্কার। শেষের তিনজন বানু মুসা নামে পরিচিত। যাদের বাবা মুসা ইবনে শাকির একজন দস্যু ছিলেন। কিন্তু নিজের যৌবনের কীর্তি ফেলে হয়ে উঠেন একজন জ্যোতির্বিদ।... চলতে থাকলো বুড়োর মুখের বয়ান। ছাত্ররা অবাক হয়ে শুনতে থাকলো।
একসময় যারযার বাসায় চলে গেলো। বুড়োর চোখের কোনে জল এলো এদের জানার এই দুর্দশা দেখে।
🔴পরদিন আবার তারা এলো। এবার বুড়ো তাদেরকে দিলেন দর্শনের পাঠ। শুরু করলেন ইবনে তোফায়েল আন্দালুসিকে দিয়ে। তাঁর লেখা 'Hayy Ibn Yaqzan' , যার ইংরেজি অনুবাদ করলে অর্থ হয় 'Alive Son of Awaken', আর ল্যাটিন না Philosophus Autodidactus। গল্পটি শোনার পড় একটি ছেলে লাফিয়ে উঠলো। বললো, 'আরে! এটাতো আমি অনেক আগে পড়েছি। কিন্তু লেখকের নাম জানতাম না।' এরপর বুড়ো সেই গল্পের গভীর দার্শনিকতা ব্যাখ্যা করলেন। সবার চক্ষু চড়কগাছ!
🔵এতক্ষণ যে কাল্পনিক গল্পটি পড়লেন, সেটির ভাবনা এসেছে আরমান ফিরমান ভাইয়ের 'মুসলিম মস্তিষ্ক' বইটির রিভিউ লিখতে গিয়ে। কিভাবে শুরু করা যায়, সেটা চিন্তা করতে গিয়েই এই কাল্পনিক বুড়ো আর কলেজপড়ুয়া ছাত্রদের আগমন ঘটানো। মূলত বইটি পড়ে আমি অভিভূত হয়েছি এই কারণে যে, অন্ধকার যুগ বলে যেই কথাটা ইউরোপীয় বয়ানে আমাদের মস্তিষ্কে গেঁথে দেয়া হয়েছে; আদৌ সেরকম কিছুর অস্তিত্বই নেই। ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাপদ্ধতির জনক হাসান ইবনুল হাইসাম যে যুগে এসে বৈপ্লবিক কাজ সাধন করেন, সেই যুগ কিভাবে অন্ধকার হয়? সেই যুগ তো স্বর্ণালী যুগ। যে যুগে আব্বাস ইবনে ফিরনাস দশ মিনিট ধরে আকাশে উড়েন, আর উড়োজাহাজ আবিষ্কারের পথিকৃৎ হিসেবে থাকেন, সেই যুগ কিভাবে অন্ধকার যুগ হয়? যে যুগে বদিউজ্জামান আল জাজারি ইতিহাসের প্রথম রোবট তৈরি করেন, সেই যুগকে অন্ধকার যুগ বলে চালিয়ে দেয়া একটি অবৈধ কাজ নয় কি?
🟢'মুসলিম মস্তিষ্ক' বইটির বিশেষ দিক বেশ কয়েকটি আছে। প্রথমত এখানে কাঠখোট্টা নিরসভাবে কোনো বর্ণনা দেয়া হয়নি। তারিক, সিনান আর কথক হিসেবে লেখক নিজে; এই তিনজনের মাধ্যমে গল্প আকারে সাজানো হয়েছে একেকটি অধ্যায়। গল্পের প্রয়োজনে আনা হয়েছে আরো কয়েকটি পার্শ্বচরিত্র। যার ফলে বোরিং লাগেনি মোটেও। যেসব বই আমি দুইবার পড়েছি, এই বইটি অন্যতম। বইয়ের রেফারেন্সগুলো চমৎকার। ইউরোপীয় ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিকদের বয়ানে মুসলিমদের কৃতিত্ব বর্ণনা করা হয়েছে অধিকাংশ জায়গায়। মুসলিম বৈজ্ঞানিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকটিও পরিষ্কার করা হয়েছে। মোটকথা, লেখকের যথাসাধ্য পরিশ্রম, আর সম্পাদকের কাজে বইটি হয়ে উঠেছে অতুলনীয়। বাংলা ভাষায় হয়তো এটি সূচনা। কিন্তু এধরণের কাজ আরো হবে ইনশাআল্লাহ্। আর সেটা অবশ্যই বৃহৎ পরিসরে।
🔳বইয়ের অধ্যায়গুলোর মধ্যে যে অধ্যায়গুলো সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেগুলো হলো: অনুবাদের সুনামি, মেকানিক্যাল মাইন্ড:মধ্যযুগে রোবটিক্স, সার্জারির স্যার, বিজ্ঞানে আলিমগণ, বিবর্তনবাদ ও মুসলিম বিজ্ঞানীগন, নারী, সেটা জিবারিশ, বিজ্ঞানের ইতিহাস, ইবনুন নাফিস।
তিনবন্ধু , তারিক, সিনান আর আরমান । খুঁজতে বেরিয়েছিল অন্ধকার যুগের বোরিং ইতিহাস । কিন্তু খুঁজে বের করলো আস্ত সোনার খনি ।
তিনবন্ধুর গল্প-কথোপকথনের মধ্য দিয়ে লেখক আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন ইবনুন নাফিস , আল খাওয়ারেজমি, আব্বাস ইবনে ফিরনাস , আল জাজারি ,ইবনে হাইসাম, আল কিন্দি , আল বিরুনি , জাবির ইবনে হাইয়ান সহ আরো অনেক বিজ্ঞানীদের সাথে । এদের সবার মাঝে একটা জিনিস কমন। এরা মুসলিম। মুসলিম বিজ্ঞানী ।
বিজ্ঞানের এই গ্লোবালি চলমান স্বর্ণযুগে এসে বাংলাদেশী মুসলিমদের এই বই বিজ্ঞান চর্চায় আলাদা এক অনুপ্রেরণা দিবে । বইটি সবার পড়া উচিৎ ।
এ প্রজন্মের কাছে আব্বাস ইবনে ফিরনাস, বান মুসা ব্রাদার্স কিংবা বদিউজ্জামান আল জাজারি ইত্যাদি কিছু অজানা নাম মাত্র। কিন্তু দাবী ছিল- যে মহত্ত্ব নিয়ে নিউটন-আইনস্টাইনের নাম নেওয়া হয় সে বা তারও বেশি মহত্ত্ব নিয়ে এদের স্বরণ করা। আমাদের আপন বাপদাদাদের না চিনে আমরা বসে আছি পশ্চিমের বাপদাদাদের দিকে চেয়ে! বইটি আমাদের সেই মধ্যযুগীয় লিজেন্ড বাপদাদাদের কীর্তি নিয়ে গল্পাকারে লেখা।