হেনরি বিন্সকে যারা চেনে, তারা জানে সে সূর্যোদয় দেখেনি। ওকে যারা ভালবাসে, তারা চেয়েছিল কখনো এমন হোক। একটা ভোরের জন্মের সাক্ষী হোক হেনরি। আমি ২য় দলে। সিরিজের ১ম বই, থ্রিঃএএম পড়ে অবাক হয়েছি, এটা কেমন থ্রিলার ! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার পর থ্রিঃটেন এএম পড়েছি। হেনরিকে ভালবাসি তখন থেকে। ২য় বইটা পড়বার সময় মায়া হয়েছিল ওর জন্যে, ঠিক এ কথাটাই ভেবে; কখনো সূর্যোদয় দেখবেনা হেনরি। অবশ্য হেনরিকে ভালবাসার জন্যে দায়ী হল... ভালবাসার কথা এত সহজে বলা যায়! দেখি, এত এত লোকের কাছে তার নাম প্রকাশ করার সাহস করতে পারি কি না।
হেনরি’র সূর্যোদয় দেখার অক্ষেপ ঘুঁচে গেল সিরিজের ৩য় বই “থিঃটোয়োন্টিওয়ান এএম” এ। হ্যাঁ সূর্যের মুখোমুখি দাঁড়ালো সে। প্রশ্ন আসতে পারে, “থ্রিঃএএম থেকে ফোরঃএএম যে লোকটা জেগে থাকে, সে সূর্যোদয় দেখবে কেমন করে! ওই সময়ে তো সূর্য ওঠেনা।” বিশ্বাস করেন, ওই সময়েই সে সূর্য দেখেছে। কিভাবে দেখেছে, সেটা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে অথবা মাথা খাটাতে হবে একটু। না, এটাই আসল টুইস্ট না। তবে যে টুইস্ট এসছে গল্পের শেষে সেটার চান্স ফিফটি-ফিফটি। খুশি হতে পারেন আবার বেজায় চটে যেতে পারেন। আমার কি মনে হয়েছে? বলছি শেষ করে।
এই বইয়ের গল্পটা, সিরিজের অন্য সবগুলোর থেকে আলাদা। নতুন একটা মাত্রা যোগ হল সিরিজে। পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে সিরিজ, লেখক, অনুবাদক, চরিত্র। এখন গল্প যে কোনদিকেই নেয়া যাক, পাঠক পড়বেই। এটাই করেছেন নিক পিরোগ এবং পাঠক তাতে আপত্তিও করেনি বিশেষ। যখন আপনার ভালবাসার চরিত্র আপনাকে নতুন ধরণের গল্পের সন্ধান দিচ্ছে, আপত্তি করবেন কেন!
তবে গল্পের শেষটা নিয়ে কথা আছে, বলছি শেষ করে। হেনরি, ল্যাসি আর ওপিকের জার্নিটা ভীষণ উপাদেয়; গল্প জুড়ে। “কেবিন” টা পেয়ে যাওয়াতে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিলাম কিন্তু সেই মনখারাপ স্থায়ী হলোনা, ভুল পথে আসার খবর পেয়ে :) যাক, সহজসাধ্য হলোনা ব্যাপারটা। হেনরিকে ভালবাসার মতো উপাদান ভরপুর ছিল আগের বইগুলোর মতো এখানেও এবং যার জন্যে হেনরিকে ভালবাসি... এই যে, আবার এলো প্রসঙ্গটা। এবার বোধহয় জানাতেই হবে তার নাম। হুম।
হেনরিকে আমি ভালবাসি, “ল্যাসি”র জন্যে। ল্যাসি আর হেনরি’র কথপোকথন আমাকে খুব, খুউব টানে। আগে যুক্তি খুঁজতাম, হেন কথা তেন কথা ল্যাসি বলতে পারেনা। এখন আর ধার ধারিনা ওসবের। ভাল লাগছে তো, সেটাই বড় কথা। এই ভাললাগা চলুক অবিরাম :) ল্যাসির নতুন বান্ধবীর রিলেশানশিপ স্ট্যাটাস কমপ্লিকেটেড থেকে সহজ-সরল হোক ;) সালমানের অনুবাদের মতোই সহজ-সরল।
সালমান হক পুরনো কেউ না। কি বয়সে, কি উপস্থিতিতে। খুব বেশিদিন তো হলোনা ওর প্রথম অনুবাদের! গত মেলাতেই বোধহয় থ্রিঃএএম এসছিল। কিন্তু ভাল অনুবাদের বেলায় বয়েস আর অভিজ্ঞতা যে সবার জন্যে অন্তরায় নয়; সালমান তার প্রমাণ। কি ভীষণ সাবলীল অনুবাদ করে সে! তাকে দেখে ঈর্ষা হয়। পিচ্চি এক ছেলে, কি দূর্দান্ত লেখনী তার। তোমার জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা রইলো সালমান। অনুবাদের এই মানটাও যদি ধরে রাখো, তাতেই দেশের লোক পরিতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবে আরও অনেক দিন। জীবনে ঢেঁকুরের দরকার আছে।
স্ট্র্যাটেজির পেছনের স্ট্র্যাটেজি?
---------------------
আই এ্যাম হেনরি বিন্স, আই হ্যাভ হেনরি বিন্স।
হেনরি বিন্সের নামেই তার রোগটার নাম। দিনে ২৩ ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকবে আর ১ ঘন্টা জেগে থাকবে হেনরি বিন্স রোগী। এমন অদ্ভূৎ রোগের চার্ম দিয়ে সিরিজ শুরু আর যখন রোগটার কারণের ইঙ্গিত থাকবে পরবর্তী বইয়ে; বইটা লুফে নেবে সিরিজ প্রেমীরা। ২য় বইতে ইঙ্গিতটা ছিল, ৩য় বইয়ে “হেনরি বিন্সের” কারণ জানা যাবে। ইঙ্গিতটা এখন ঠিক শুদ্ধ মনে হচ্ছেনা, খানিকটা প্রতারিতই মনে হল নিজেকে।
“ওটা পড়লেই এটার উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন” কথাটা সত্য। কিন্তু আমি বলতে চাই,
“ওটা নিয়ে একটা আস্ত গপ্পো না ফেঁদে, এটাতে ওই গপ্পের মূল ব্যাপারটা জুড়ে দিতে পারতেন পিরোগ সাহেব”।
থ্রিঃটেন এএম এর পাঠ-প্রতিক্রিয়ায় প্রেডিক্ট করেছিলাম, ৩য় বইটার বিক্রি সবচাইতে বেশি হবে। প্রকাশনী আর পিরোগ সাহেবও তেমনই ভেবেছিলেন বোধহয় আর তাই ব্যাবসাটাকে ৩য় বইয়ের থেকে টেনে ৩য় এবং ৪র্থ বইয়ে নিয়ে গেলেন। নিজেকে একটু প্রতারিত মনে হয়েছে সেজন্যেই :(
তবে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ভাই অর্থাৎ বাতিঘর প্রকাশনীকে কৃতজ্ঞতা জানাই। ৩য় বইটা যদি ৪র্থ বইয়ের সঙ্গে এক মলাটে না বেরতো; তাহলে প্রতারণার অনুভূতি আরও জোরালো হতো।