সম্ভবত ৭-৮ মাস পর শেষ করেছি এই সিরাহ। এর ফাঁকে অনেকগুলো বই শেষ হলেও এটা শেষ হচ্ছিলো না। এছাড়া অনেকটা ইচ্ছা করেই দেরি করা৷ যেই পরিমাণ তথ্য এখানে তা মনে রাখাও একটু কষ্টকর। উপন্যাসের মতো দ্রুত পড়ে গেলে অনেককিছুই বোধগম্য হতো না৷ মনেও থাকতো না অনেক কিছু৷ এত সময় নিয়ে পড়ার পরও অনেক কিছুই হয়তো মনে নেই। দেরি হওয়ার আরেকটি কারণ অলসতা। শেষ করে একটু শান্তি লাগছে। হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনীর আদ্যোপান্ত তুলে আনা অবশ্যই বিশাল পরিসরের কাজ হতো। তবে মুটামুটি একটা ধারণা নেওয়ার জন্য এই সিরাটি আদর্শ মনে হলো। সব জানা এখানে অবশ্যই সম্ভব নয় এবং কিছুই জানা যাবে না এমনও নয়। অনেক কিছুই আগে থেকেই জানা, অনেক নতুন জিনিসও জেনেছি, শিখেছি। এরপরও পরিচিত অংশ পড়তে মোটেও খারাপ লাগেনি। দক্ষ হাতের পোক্ত সম্পাদনার কারণে অবশ্যই পাঠ সুখকর ছিল। খুব বড় ধরনের ভুল পরিলক্ষিত হয়নি, আবার ক্ষুদ্র ভুলও তেমন চোখে পড়েনি। অত্যন্ত যত্নসহকারে এই বইয়ের প্রতিটি কাজ করা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। সংক্ষিপ্ত পরিসরে হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনের নানান ঘটনা পড়তে বেশ ভালো লাগছিলো। অনেকেরই হয়তো নানান ধরনের প্রশ্ন বা সংসয় আসতে পারে অনেক ঘটনা পড়ার সময়। আমারও হচ্ছিল। তবে বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে না থেমেই পড়ে যাওয়া। অবশ্য পড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্পও নেই। সিরাহ যেহেতু অনেক পরে লেখা হয়েছে তাই অনেক অংশই স্বাভাবিকভাবে কিছু জায়গায় হয়তো পরিবর্তন, পরিবর্ধন হয়েছে বা একই ভাবে উঠে আসেনি। সেজন্য সিরাহ পড়া অপ্রয়োজনীয় এমনটা ভাবাও ঠিক না। মহানবী (স) এর জীবনী জানার জন্য সিরাহই ভরসা। এছাড়া, বিভিন্ন হাদিস, বা কুরআনের আয়াত পড়েও তেমন বিস্তারিতভাবে জানা সম্ভব না। অনেকের মনে সংশয় থাকে এগুলো অনেক আগের হওয়ায় তা অবশ্যই গোঁজা মিলে ভরপুর। ১৪০০ বছর খুব একটা বেশি না। খ্রিষ্ট পূর্বের নানান কাহিনীর প্রতি বিশ্বাস থাকলে, নানান নথিপত্র অক্ষত থাকলে মাত্র ১৪০০ বছর আগের বিভিন্ন ইতিহাস জানা অবশ্যই অস্বাভাবিক না। আগেই বলেছি কিছুটা পরিবর্তন হওয়া অবশ্যই স্বাভাবিক। পরিবর্তন হলেও সবটাকেই সমূলে অস্বীকার করা বা অবিশ্বাস করা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। যেটুকু পরিবর্তন হয়েছে, সেটুকুর জন্য কোনটা বিশ্বাস করা উচিত, কোনটা উচিত না সেটা শুধুমাত্র পড়ে যাওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। তাই পড়া চালিয়ে যাওয়াই ভালো।
বদর যুদ্ধ নিয়ে তেমন ধারণা ছিল না। ভাসা ভাসা কিছু জানতাম। সেসবও খুবই কম বলা যায়। তবে এই বই পড়ে অনেক কিছুই জানা গেল। সব জানতে পারিনি হয়তো। এরপরও আপাতত এইটুকুই যথেষ্ট। বিশাল পরিসরে আবার পড়বো। এই বইয়ের দ্বিতীয় পার্ট শুরু করবো। এটাও অবশ্যই ধীরে ধীরেই পড়বো। হয়তো আবারও কয়েকমাস লাগবে বা এরচেয়ে কম দিন।
যারা সংক্ষিপ্ত পরিসরে হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনী সম্পর্কে জানতে চান তারা পরে দেখতে পারেন। চমৎকার সম্পাদনা বিরক্ত করবে না হয়তো।