এই ছোট্ট উপন্যাসটির নাম জানি চাকরির পড়া পড়তে গিয়ে। বাংলা সাহিত্য পড়ার সময় বেশ কিছু বইয়ের নাম আমি টুকে রেখেছিলাম। সুযোগ-সময়মতো পড়ে ফেলব এই ভেবে। অনুপম দিন। নামটাও খুব অনুপম। সৈয়দ হকের লেখনশৈলী, ভাষা এবং শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে পাঠকমাত্রই জানেন। অত্যন্ত সহজ কিন্তু গভীর। অনুপম দিন উপন্যাসটি ছোট, কিন্তু মনস্তাত্ত্বিকভাবে নাড়া দিয়ে যেতে সক্ষম৷ কয়েকটি মাত্র চরিত্র, তাদের গল্পও সীমিত। তবু কোথাও যেন বিষাদ ছুঁয়ে যায়। বীথি, এক নিষ্পাপ কোমল তরুণী। চাচিমার সংসারে থাকে৷ চাচী মরিয়ম তাকে নিজ কন্যার মতো স্নেহ করেন। চাচাতো ভাই আবুর প্রতি বীথির ভালোলাগা কাজ করে। আবুর আচরণ হয়তো স্বাভাবিক, কিন্তু উঠতি বয়েসী দুটো ছেলেমেয়ের স্বাভাবিক আচরণকেও মানু্ষ দেখে বাঁকা চোখে। কিন্তু বীথির মনে আবু থাকলেও আবুর হৃদয়জুড়ে কেবল বিলকিস। এদিকে আবুর বড় ভাই হাশেম অনেকদিন আগে ঘরছাড়া। সেই ঘরছাড়া হাশেম হঠাৎ করে ফিরে আসে। তার আচরণ খাপছাড়া, কথাবার্তা স্বাভাবিক নয়। বীথিকে দেখে তার একধরনের ভাবান্তর ঘটে৷ কিছু আধ্যাত্মিক ক্ষমতাও থাকে তার। হাশেম, বীথি, আবু, বিলকিস এদের মনস্তাত্ত্বিক জগতে টানাপোড়েন চলে৷ অন্তিমটা মর্মান্তিক। কষ্ট দেয়।
সৈয়দ হকের নানা ধরনের লেখা রয়েছে। প্রতি শাখাতেই তাঁর বিচরণ সাবলীল এবং মূল্যবান৷ ক্ষুদ্র এই উপন্যাসটিও সেই মুল্যবান সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
মৃত আমি নতুন করে জন্ম নেওয়ার আশায় এত মানুষের মৃত্যু দেখে অসার হয়ে গেলাম নাকি? না না না না না! জন্ম আমায় নিতেই হবে! উপায়? হ্যা পেয়েছি! হাশেম ভাই বলেছেন! বিরাট ভালবাসা! বিরাট বড় করে ভালোবাসতে হবে! তবেই আসবে আনন্দ!! আনন্দ আনন্দ আনন্দ আনন্দ!!!! মুক্তি মুক্তি মুক্তি মুক্তি!!!! জন্ম জন্ম জন্ম জন্ম!!!!
ভাবনা: মানুষ! দুই হাত! এক হাত!
এক হাতে নিবৃত্তি! দুই হাতে প্রশান্তি!
দুই হাতে আগমন, দুই হাতে হস্তান্তর, দুই হাতে বিদায়!
প্রথম দুই হাতের আগমনে আনন্দ! আঁতুর কেটে দুই হাতে তুলে নিলেন পটিয়সী! আগমনকারীর ক্রন্দন! তা জোগায় আনন্দের পরিপূর্ণতা!
দ্বিতীয় দুই হাত! আগলে নিলাম পরস্পরকে! আপন করে নিলাম! আনন্দ! রয়েছে ক্রন্দনও! তবে এ ক্রন্দন বেদনা ধরায়!
তৃতীয় দুই হাত! আগলে নিয়ে চলে গেল! আর আসবে না ফিরে! কি শোকের মাতম! ক্রন্দন ক্রন্দন ক্রন্দন!
প্রথম দুই হাত—এ জগতের পরিচিত! দ্বিতীয় দুই হাত— এ জগতের পরিচিত! তৃতীয় দুই হাত— এ জগতের? কেউ দেখেছে? দেখেছে —কিন্তু আর ফেরেনি! প্রথম দুই হাতও কি অন্য জগতের অপরিচিত! কেঁদেছিল কেউ ভ্রুণের জগতের!
একদম সাধারন একটা গল্প। তবুও শেষে এসে কেমন একটা রেশ রেখে গেল। অনেকদিন পরও অন্য কোন গল্প পড়তে গিয়ে হয়ত এই রেশটা নাড়া দিয়ে যাবে। এটাই মনে হয় বইটার সৌন্দর্য!