রাজধানীর খিলগাঁয়ের তালতলা এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি ক্ষত-বিক্ষত বীভৎস মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচটি মৃতদেহই নগ্ন! জানা যায়, এই পাঁচজন গত বছর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। কে বা কারা এমন বীভৎসভাবে খুন করেছে, পুলিশ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই নিখোঁজ হয়ে যায় আরো পাঁচজন। তারপর, একইভাবে তাদেরও নগ্ন এবং ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় পরের বছর একই দিনে! কী সম্পর্ক ছিল এই নিহতদের মাঝে? ভিন্ন ভিন্ন বয়সের, ভিন্ন ভিন্ন পেশার এবং ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী এই মানুষগুলোর মাঝে যদি কোন সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ না-ই থেকে থাকে তবে তাদের সবার সাথে খুনির কী সম্পর্ক? আর তাদের সবার দেহে খোঁদাই করে আঁকা ছবিগুলোই বা কী অর্থ বহন করছে? খুনি কি কিছু বলতে চাইছে এই ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে? কী বলতে চাইছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে রহস্যের সমাধান করতেই মাঠে নেমেছে ডিবির জাঁদরেল গোয়েন্দা রায়হান সিদ্দিকী। সে কি পারবে এই রহস্যের জট খুলতে? না কি নিজেই জড়িয়ে পড়বে ধূর্ত প্রতিপক্ষের হেঁয়ালির জালে... আর সেই জাল কেটে সে বেরিয়ে আসতে আসতেই লাশ পড়বে আরো পাঁচজনের?
প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়ুন- তানভীর আহমেদ সৃজনের লেখা পুলিশ প্রসিডিউরাল ও রিভেঞ্জ থ্রিলার 'একটা গল্প শুনবেন?'...
অসাধারণ একটা বই। আমার কাছে প্লটটা দুর্দান্ত লেগেছিল। মার্ডার মিস্ট্রি, সিরিয়াল কিলিং, রিভেঞ্জ থ্রিলার..... বইটা আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে অনেক ভালো লেগেছে। প্লটটা আসলেই বেশ ভালো, এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে মজা পেয়েছি। দুর্দান্ত এবং পারফেক্ট রিভেঞ্জ থ্রিলার বলতে যা বুঝায় সেটাই মনে হয়েছে বইটা পড়ে। লেখকের জন্য শুভকামনা।
Nothing gives a fearful man more courage than another's fear.”― Umberto Eco, The Name of the Rose - "একটা গল্প শুনবেন?" - রায়হান সিদ্দিকী, পুলিশের ডিবি শাখার একজন এসি। তিনি এ পর্যন্ত যে সকল কেস হাতে নিয়েছেন তার সবগুলোই সফলভাবে সমাধান করেছেন। তাই সিআইডির হাত ঘুরে তার কাছে আসে ভয়াবহ এক হত্যাকান্ডের কেস। সেই কেসে জানা যায় ঢাকার এক এলাকায় একসাথে পাঁচজনের লাশ পাওয়া গিয়েছে যাদের ভয়াবহভাবে হত্যা করা হয়েছে। - সেই কেসের তদন্তে জানা যায় এর আগের বছরেও একই দিনে একই ভাবে পাঁচজনের নৃশংস লাশ পাওয়া গিয়েছে। কেসের তদন্ত প্রক্রিয়া আগাতে থাকলে জানা যেতে থাকে আরো কিছু বিস্ময়কর তথ্য। এখন কে বা কারা এই ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং ঘটাচ্ছে আর কেনই বা নির্দিষ্ট দিনে এরকম সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা ঘটছে তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক তানভীর আহমেদ সৃজন এর ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস "একটা গল্প শুনবেন?"। - "একটা গল্প শুনবেন" বইটিকে বেশ বড় কলেবরের সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস বলা যায়। যে টপিকের উপরে পুরো গল্পটি এগিয়েছে তার পটভূমি বেশ বাস্তবিক। কাহিনির প্রয়োজনে এই দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি রিয়েল লাইফ ঘটনার কাল্পনিক পরিণতিও বইতে দেখানো হয়েছে। যদিও পড়তে গিয়ে কিছু জায়গায় মনে হয়েছে কয়েকটা প্লট/সাবপ্লট আরো ছোট করে গুছিয়ে লেখা যেতে পারতো , তাহলে গল্পটা আরো টানটান হতো হয়তো। - "একটা গল্প শুনবেন?" বইয়ের মূল ফোকাসে ছিল এসি রায়হান সিদ্দিকী। এই চরিত্রটিকে পুরো গল্পে কিছুটা স্টেরিওটাইপ লাগলো। তদন্ত কাজের দায়িত্বে থাকা ডিবির বাকি সদস্যরা অবশ্য বেশ ভালোভাবেই মিশে গিয়েছে গল্পের সাথে। গল্পের কাহিনি অনুসারে লেখনশৈলী খারাপ না, কিছু কাকতাল ঘটনা বাদ দিলে প্লটটাও সুন্দরভাবেই সাজানো হয়েছে। - "একটা গল্প শুনবেন?" বইয়ের দামের তুলনায় প্রোডাকশন খারাপ না। প্রচ্ছদটাও চলনসই বলা যায়। তবে পুরো বইতে সম্পাদনার ঘাটতি লক্ষণীয়। বিশেষ করে চন্দ্রবিন্দুর অভাব এবং বিরামচিহ্নের আধিক্য বেশ দৃষ্টিকটু লাগলো। এছাড়াও কয়েক জায়গায় দুইটি শব্দের ভেতর কোন স্পেসিং ই ছিলো না। আশা করছি সামনের সংস্করণে এই ব্যাপারগুলো ঠিক করে ফেলা হবে। - এক কথায়, বর্তমান সময়ের খুবই প্রাসঙ্গিক এক বিষয় নিয়ে সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক এক উপন্যাস হচ্ছে "একটা গল্প শুনবেন?"। কিছু ছোটখাট কাকতাল ঘটনা বাদ দিলে মোটামুটি ভালোই ছিলো পুরো বইটি। যারা বাংলা মৌলিক সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক বই পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য রিকমেন্ড করা থাকলো বইটা।
আগাগোড়া সাদামাটা নিরুত্তাপ একটি থ্রিলার বই। লেখক গল্পের মাঝে একটা মেসেজ দিতে চেয়েছেন। সমাজে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদ গড়ে ওঠার মেসেজ। দুঃখজনকভাবে এই মেসেজটা ছাড়া বইটার ব্যাপার আর ভালো তেমন কিছু বলার মত খুঁজে পাচ্ছি না।
সাদামাটা প্লট, কারেক্টার বিল্ডআপের অভাব, গল্পের বর্ণনায়নে অপরিপক্কতার ছাপ বইয়ের পাঠ অভিজ্ঞতাকে ক্লান্তিকর করে তুলছিল। সংলাপ এবং ঘটনা নির্ভর কাহিনী হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে কিভাবে যেন বইটাকে মেদযুক্ত করে ফেলেছেন লেখক! ফিকশনের মাঝে কিছু সত্য ঘটনার ইমপ্লিমেন্টেশন আর গল্পের সুতোটাকে মিশর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া ছাড়া ভালো লাগার মত আর কোন উপাদান আমি খুঁজে পাইনি। ডিবি অফিসার রায়হানকে জাদরেল, বুদ্ধিমান এবং চৌকস অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ৪০০ পেইজের গোটা বইটাতে একটাবারের জন্য তাকে আউট অফ দা বক্স চিন্তা করতে দেখা যায়নি। সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল এক্কেবারেই গতানুগতিক। এর পাশাপাশি তার সঙ্গী হিসাবে থাকা অন্যান্য গোয়েন্দাদেরকে আরো জড়বুদ্ধির মনে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিবি অফিসের গোয়েন্দা হওয়া সত্ত্বেও, প্রতিটা ক্রাইম সীন দেখে রায়হানের কাছে এক্সপ্লেনেশন চাওয়ার ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর ছিল।
থ্রিলার বইয়ের লেখা হতে হবে এমন, যে লেখক কিছু একটা জানেন যা পাঠক জানে না। বইয়ের শেষে লেখকের সেই গুপ্ত জ্ঞানটা পাঠকের কাছে বিরাট চমক হয়ে আসবে। এই বইতে লেখক সব কিছুরই একটা হিন্টস পাঠককে দিয়ে দিয়েই গল্প এগিয়ে নিয়েছেন। যে কারণে শেষ পর্যন্ত গিয়ে পাঠকের কাছে চমক পাওয়ার মতো তেমন কিছুই ছিল না। যেটুকু চমক দিতে চেয়েছেন লেখক সেটুকুর জন্য তিনি আবার সমকামিতার আশ্রয় নিয়েছেন, খুবই বিরক্ত লেগেছে ব্যাপারটা।
এসব কিছুর পাশাপাশি লেখকের লেখনশৈলী ছিল একেবারেই নীরস। যদিও সেটাকে খারাপ বলা যাবে না। তবুও বইটাতে আসলে আমি এমন কিছুই খুঁজে পাইনি যার জন্য বইটার আমি একটুখানি প্রশংসা করতে পারবো
গত কিছুদিন যাবৎ যে থ্রিলার বই হাতে নিচ্ছি কিংবা ক্রাইম ডকুমেন্টারি দেখছি, সবগুলোই দেখা যাচ্ছে সিরিয়াল কিলার নিয়ে, আর তার পেছনে প্রতিশোধের মোটিভ নিয়ে। এবং সবগুলোতেই দেখা যাচ্ছে ভিলেনের প্রতি একরকম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে গল্প শেষে এসে। তো, নবীন লেখক তানভীর আহমেদ সৃজন এর রিভেঞ্জ থ্রিলার বা ক্রাইম থ্রিলার 'একটা গল্প শুনবেন?' পড়ে শেষ করলাম মাত্রই। যদিও বইটাকে কি ভিত্তিতে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার তকমা দেয়া হচ্ছে আমার ঠিক বোধগম্য হয়নি। প্রথমতঃ বইটি আমি নামের জন্য কিছুটা এড়িয়ে চলছিলাম। কিছু বেশ ভালো ভালো রিভিউ দেখে তুলে না নিয়ে পারলাম কই? বেশ বড়সড় ক্যানভাসে একটা গল্প বলতে চেয়েছেন লেখক। যে কারণে চারশত পৃষ্ঠার বিশাল বইখানায় প্রায়শই ঘটনার মোড় ঘুরতে দেখা গেছে। ধর্ষণ নিয়ে আমাদের দেশের আইন যে কতটা দূর্বল অবস্থানে আছে এটা এদেশের আপামর জনসাধারণ সবাই বোঝেন। এটার সুরাহা কি? এই অনৈতিকতার অকূল পাথারে গিয়ে কেউ সিস্টেমকে চেইঞ্জ করবার স্বপ্ন আর দেখতে পারেন না। অবতারণা করে ফেলেন, একটি ভিজিলান্টিক সুরাহা। এখানেও এই ধর্ষকদের বুকে কাঁপুনি তুলবার মতো একটি গল্প আমাদের উপহার দিয়েছেন লেখক। এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লিখবার জন্য লেখককে সাধুবাদ। তবে আমার নিজস্ব কিছু মতামত আছে বইটার ব্যপারে, এই চারশত পৃষ্ঠার বইটি হয়তো আমি টানা দুদিনে শেষ করেছি লেখকের লেখনীর গুণে আগ্রহ ধরে রাখবার জন্যে, কিন্তু লেখনীতে বেশ অপরিপক্কতার ছাপ চোখে পড়েছে। বিশেষতঃ প্রথম অর্ধেক পর্যন্ত। বাংলাদে���ী প্রায় সকল থ্রিলার লেখকদের মতো একই রাস্তায় হেঁটেছেন লেখক। ছাপ পাওয়া গেছে অগ্রজ বহু থ্রিলার লেখকদের লেখনীর। গল্পের মূল প্রোটাগনিস্ট ডিবির জাঁদরেল গোয়েন্দা ঠিক কতটা জাঁদরেল (!) আমার প্রশ্ন রইলো। ভদ্রলোকের বিশেষ কোনো একশন আমি দেখতে পাইনি অধীনস্থদের কথায় অবাক হওয়া ছাড়া। এমনকি প্রচন্ড অভিয়াস সূত্রগুলো যখন তিনি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, যেটা আমার চোখে পড়ছিলো, বেশ হতাশাযোগ্য বিষয় ছিল সেটা। গল্পের পূর্বকথা অংশের নামগুলোতে চোখ বুলালে গল্পের অর্ধেক যেতে না যেতেই আসলে কাহিনী বোঝা হয়ে যায়। এরপর বাকি বইতে সূত্র খোঁজা, নতুন মোড় আবিষ্কার করে যাওয়া কিছুটা শুধু শুধু সময় নষ্ট লাগছিলো। এত চরিত্র আর এত মোড় পরিবর্তনে আমি নিজেও যে ঘোল খাইনি তা নয়। আর বেশ বড়সড় কিছু প্লঠহোল চোখে পরছিলো কয়েক জায়গায়। টুইস্টগুলো জমেনি একদমই। লিনিয়ার গল্প লিনিয়ার ভাবে ডিল করলেই আরও জমতো। আর এতকিছুর পর, শুধু পরিচয় জানাতেই গল্প শেষ? এটা হয়? এমনকি পুরো এক জায়গা স্কুল আবিষ্কার হলো যেখানে সবাই উপস্থিত, যেখানে ভেতরের র্যাট কে জানা গেলো। কোনো একশনই হলোনা? পুরো কেস তো তাহলে চরমভাবেই ব্যর্থ! এতকিছুর পরও পড়ে যাওয়া গিয়েছে কারণ লেখক শেষ পর্যন্ত গল্প বলে গিয়েছেন সেভাবেই।
আমার দেখবার প্রয়োজন ছিলো শেষতক লেখক আইন নিজে তুলে নেয়ার বিষয়টাকে কিভাবে সমর্থন করেন। সুখের কথা লেখক বেশ কবার উল্লেখ করেছেন যত যা-ই হোক আইনভঙ্গ কোনোভাবেই জাস্টিফাইড হবেনা। যাহোক, এক্সপেক্টেশনের পারদ অনেক ওপরে ছিলো, তাই কিছুটা আশাভঙ্গ যে হয়নি মিথ্যা বলা যাচ্ছেনা। তবে লেখকের থেকে সামনে সুন্দর আরও কাজ পাবো সেই আশা রাখাই যায়।
আমাদের দেশে ধর্ষকদের থেকে ধর্ষিতারাই বেশি কটুক্তি হজম করে, বঞ্চিত হয় সমাজ থেকে, একঘরে হয়ে যাওয়া সহ আরো অন্যান্য সমস্যায় পড়ে। তাদেরকে সমাজ মনে করে কোনো কীট যাদের দূরে সরিয়ে রাখলেই ভালো হবে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তাদের সেবা শুশ্রূষা করার জন্য বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে। আর অন্য দিকে ধর্ষকরা কয়েকদিন পরেই ছাড়া পেয়ে যায় তাদের ক্ষমতার জোরে কিংবা তাদের ক্ষমতার গদিতে বসে থাকা আত্মীয়দের সুপারিশে যেখানে প্রশাসনের শুধু হুকুম পালন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
তেমনই ধর্ষনের মতো একটা ঘৃণ্য অপরাধের প্লট নিয়ে বইটা। এই বইয়ের পড়ার সময় পাঠক হঠাৎ কিলারের পক্ষ নিয়ে ফেলবেন অজান্তে। বইয়ে গোয়েন্দা রায়হান সিদ্দিকীকে জাঁদরেল বলা হয়েছে কিন্তু তার কোনো কাঠিন্য বা কোনো ধরণের ভায়োলেন্স পদক্ষেপ চোখে পড়ে নি। অন্যান্য দেশীয় বইয়ে যেমন সাধারণ পুলিশ অফিসার দেখা যায় তেমনই এই চরিত্র। আলাদা ছাপ ফেলে যায় না। কিন্তু এই বইয়ের এন্টাগনিস্ট ভালোই ছাপ ফেলে যাবে পাঠকের মনে।মোটিভটাও শক্ত। বইয়ের খুনের বর্ণনা গুলো দুর্দান্ত ছিলো। এখানে আলাদা করে লেখকের প্রশংসা পাওয়া উচিত।ধর্ষকদের এমন পরিণতিই সবাই চায়।
তাছাড়া বইটার জনরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা হচ্ছে কিন্তু এটাকে রিভেঞ্জ থ্রিলার বা ক্রাইম থ্রিলার বলা যায়। লেখকের লেখনী মোটামুটি লেগেছে। আরো উন্নত লেখনী আশা করেছিলাম। বইটা আরো ছোট করা যেতো চাইলে। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে আর এক বাক্য কয়েক জায়গায় রিপিট হচ্ছিলো। আমি বাতিঘর প্রকাশনীরটা পড়েছি । অজস্র বানান ভুল এই বইয়ে। বর্তমানে এই বই বেনজিন প্রকাশন থেকে বের হয়েছে।
সর্বশেষে বলতে গেলে বলব গল্প সিরিজের বই এখনো ৩ টা বের হয়েছে। এটা প্রথম ছিলো। এটার হাইপে লেখক অন্য দুইটা লিখেছেন। দুইটা বইই আমার কাছে ভালো লাগেনি একেবারে। কেউ যদি নতুন পাঠক হিসেবে থ্রিলার জনরা পড়তে চায় তখন সেটা ভিন্ন কথা। ৩টা বইয়ের মাঝে এই বইটাই ভালো লেগেছে আমার।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ১৪ জানুয়ারি ঢাকার আফতাবনগরে একটা দীঘির পাড়ে পাওয়া গেলো পাঁচটা নগ্ন লাশ। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাদেরকে। থেঁতলে দেয়া হয়েছে যৌনাঙ্গ আর প্রত্যেকটা লাশের বুকের চামড়া কেটে আঁকা হয়েছে অদ্ভুত কিছু সিম্বল। কেসটা নিয়ে ছয় মাস তদন্ত করে যখন সিআইডি ব্যর্থ হলো, ঠিক তখনই কেসটা হ্যান্ডওভার করা হলো ডিবি'র কাছে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খবিরুল ইসলাম খান এই কেসের ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড। কারণ, তাঁর ভাতিজার লাশও শামিল এই লাশের মিছিলে।
ডিবি'র এসি রায়হান সিদ্দিকীর ক্যারিয়ারে আজ পর্যন্ত কোন আনসলভড কেস নেই। তাই ডিসি (ডিবি) রাশেদ মজুমদার এই ভয়াবহ খুনের ঘটনাটার তদন্তভার সঁপলেন তারই ওপরে। এসি রায়হানের অধীনে থাকা তরুণ কিছু অফিসারকে নিয়ে সে শুরু করলো তদন্ত। আর কিছুদূর এগোতেই সামনে এলো স্বনামধন্য আফসানা ফুডস-এর সিইও শাহজাহান সুজা'র নাম। আফতাবনগরে পাওয়া এই পাঁচটা বীভৎস লাশের সাথে কোন না কোনভাবে যে সুজা সাহেব জড়িত, তা এসি রায়হান বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারলো। কিন্তু কংক্রিট কোন এভিডেন্স না থাকায় কিছুই করতে পারলো না।
এসি রায়হান সিদ্দিকী আরো বেশি ধাঁধায় পড়লো যখন বেরিয়ে এলো ঠিক এক বছর আগে একই দিনে ঢাকার খিলগাঁওয়ের তালতলার এক ফ্ল্যাট থেকে ঠিক একইরকম পাঁচটা লাশ পাওয়া গেছিলো। তবে কি কোন বিকৃতমস্তিষ্ক সিরিয়াল কিলারের কাজ এগুলো? এই দশ লাশের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করতে গিয়ে ডিবি আরও অন্ধকার কিছু তথ্য আবিস্কার করলো। এদের সবাই জীবনে কোন না কোন সময় ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলো!
দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটলো একজন মোটিভেশনাল স্পিকারের, যার ইউটিউব চ্যানেলের নাম 'একটা গল্প শুনবেন?'। এসি রায়হানের ফোনে একটা প্রাইভেট নাম্বার থেকে কল আসতে থাকলো, যে শোনাতে লাগলো খুন হওয়া মানুষগুলোর অতীতের অন্ধকার জীবনের গল্প, তাদের কৃতকর্মের গল্প। যে কৃতকর্মের জন্যই এমন বীভৎসভাবে খুন করা হয়েছে ওদেরকে। সাত বছর আগে মিশরে ঘটে যাওয়া একটা ধর্ষণের ঘটনার সাথে অরুণিমা নামটারই বা কি সম্পর্ক? ধীরে ধীরে এসি রায়হানের কাছে আরো জটিল হতে শুরু করলো এই কেসের তদন্ত।
একটা বিপ্লব। ধর্ষকদেরকে এই পৃথিবীতেই নরকের আগুনে পোড়ানোর অঙ্গীকার। আর একজন ভয় পাওয়া ভাই। গল্পের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আরো কিছু গল্প বেরিয়ে এলো যার সমাপ্তি হয়তো প্রকৃতপক্ষে সমাপ্তি না, বরং বৃহৎ কোন কর্মযজ্ঞের শুরু।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অসাধারণ একটা প্লট নির্বাচন করেছেন লেখক তানভীর আহমেদ সৃজন। ধর্ষণের মতো একটা জঘন্য অপরাধের বিচার করতে যখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, তখন আইন হাতে তুলে নিয়ে একজন সাধারণ মানুষ তার নিজের মতো করে এই নিকৃষ্ট অপরাধীদের বিচার করে। 'একটা গল্প শুনবেন?' উপন্যাসের মূল উপজীব্য এটাই। নুসরাত রাফির কথা মনে আছে আপনাদের? যে মাদ্রাসা ছাত্রীকে প্রিন্সিপাল সিরাজের নির্দেশে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী মিলে আগুনে পুড়িয়ে খুন করেছিলো। মনে থাকার কথা আপনাদের। এই কেসটা নিয়ে পুরো দেশ তোলপাড় হয়ে গেছিলো সেই সময়ে। কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে এই ঘটনাটারও একটা কাল্পনিক সমাপ্তি দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে।
ধর্ষকদের প্রকৃত শাস্তি কি হতে পারে, তা লেখক তানভীর আহমেদ সৃজন তাঁর মতো করে তুলে ধরেছেন 'একটা গল্প শুনবেন?-এ। আর বলতে কোন দ্বিধা নেই, শাস্তির ধরণটা ব্যক��তিগতভাবে আমার পছন্দ হয়েছে। বেশ পছন্দ হয়েছে। সত্যিই যদি কেউ এভাবে এই নরকের কীটদেরকে শাস্তি দিতো, ধর্ষকামীরা কেঁপে উঠতো ভয়ে। কখনোই সাহস পেতো না ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধটা করার।
তানভীর আহমেদ সৃজনের গল্প বলার ধরণ বেশ ভালো। নিজের মতো করে গল্প বলে গেছেন তিনি। তবে কিছু জায়গায় অহেতুক টেনে লম্বা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছিলো বইটা পড়ার সময়। অপ্রয়োজনীয় কিছু বর্ণনা এড়িয়ে চলা যেতো বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে 'একটা গল্প শুনবেন?'-এর গাঁথুনি ও ওভারঅল এর সমাপ্তি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে৷ দ্রুতগতির উপন্যাস হওয়ার কারণে একটানা পড়ে শেষ করে ফেলতে পেরেছি তাড়াতাড়িই।
এই উপন্যাসের একটা চরিত্র আছে, লোকমান। সে এসি রায়হান সিদ্দিকীর গাড়ির ড্রাইভার। এই চরিত্রটার মনোজগতের পরিচয় পাওয়ার পর থেকেই চাপা একটা টেনশনে ছিলাম পুরোটা সময় ধরে। সেই সাথে একটা আতঙ্কও কাজ করছিলো। কেন এই ব্যাপারটা পাঠ প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করলাম, আপনারা বইটা পড়তে গেলেই বুঝতে পারবেন। এই ব্যাপারটা বিস্তারিত বোঝাতে গেলে কিঞ্চিৎ স্পয়লার দেয়া হয়ে যাবে।
তানভীর আহমেদ সৃজন এর আগে দুটো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লিখেছেন। 'রু' ও 'প্রজেক্ট পাই'। 'একটা গল্প শুনবেন?' তাঁর তৃতীয় উপন্যাস। আমার মতে তাঁর এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে। বিশেষ করে বানানের দিকে তাঁকে আরো মনোযোগ দিতে হবে। প্রচুর ভুল বানানের দেখা পেয়েছি বইটা পড়তে গিয়ে। বানান ভুলের পরিমাণ ছিলো লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বেশি। যেমন, ফেঁসে যাওয়া-কে ফেসে যাওয়া, হ্যাঁ-কে হ্যা, জমাট বাঁধলো-কে জমাট বাধলো, পার হওয়া-কে পাড় হওয়া, নওগাঁ-কে নওগা, ঘাঁটা-কে ঘাটা, ঝাঁকালো-কে ঝাকালো, ঘুণাক্ষরেও-কে ঘূর্ণাক্ষরেও, সাঁটা-কে সাটা, কাঁটা-কে কাটা, হাড়কাঁপানো-কে হাড়কাপানো। সব লিখলাম না। এসব ভুল আসলে অনেক সময় বিরক্তির উদ্রেক করেছে বইটা পড়তে গিয়ে।
কমা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা লক্ষ্য করেছি। প্রত্যেকবার ডিসি (ডিবি) লিখতে গিয়ে ডিসি, ডিবি লেখাটা অদ্ভুত লেগেছে৷ বাক্যের মাঝে সম্বোধন ছাড়াও স্যার শব্দটার পর অহেতুক কমা ব্যবহার করেছেন লেখক। আরো একটা জিনিস চোখে লেগেছে তা হলো বিস্ময়চিহ্নের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ। এক/দুই বাক্য পরপরই তানভীর আহমেদ সৃজন বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার করেছেন। সেটা প্রয়োজন থাকলেও, না থাকলেও। আবার বেশ কয়েক জায়গায় প্রশ্নবোধক চিহ্নের সাথে সাথে ব্যবহার করেছেন বিস্ময়চিহ্ন। মূলত একটা বাক্যের শেষে পাশাপাশি দুটো যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয় না। ভবিষ্যতে উনি এসব ব্যাপারে সচেতন থাকবেন আশা করি। এসব কারণেই বলেছিলাম লেখকের এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে।
চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন 'একটা গল্প শুনবেন?'। ভুলভ্রান্তিগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে পড়লে ভালো লাগবে আশা করি।
বইটি পড়ে প্রাথমিক রিয়্যাকশন ছিল, "সাবাশ!" আমার মনে হয়েছে লেখক এই গল্পটি লিখে বিশাল একটা কাজ করে ফেলেছেন। এটি তার এক অনবদ্য সৃষ্টি হয়ে থাকবে।
তারপর যে কথাটা মাথায় এলো তা হচ্ছে, "বইটি আন্ডাররেটেড"। চারদিকে এত মৌলিক নিয়ে আলাপ দেখি, এটা নিয়ে কোন আলোচনা হয় না তেমন। :( অথচ বইটি এককথায় দারুণ!
প্লট থেকে শুরু করে স্টোরিটেলিং, টুইস্ট — সবই ছিল ভাল। বিশেষ করে নিহতদের মধ্যেকার যোগসূত্র আবিষ্কৃত হওয়া এবং বইয়ের অর্ধেকের পর থেকেই "এই বুঝি খুনির পরিচয় জেনে গেলাম" টাইপের একটা ব্যাপার ছিল, এগুলো বেশি ভাল লেগেছে।
ছোটখাটো কিছু টাইপিং এরর আর বানান ভুল পরবর্তী সংস্করণে শুধরে নেয়া হবে আশা করি।
যারা একটু দীর্ঘ কলেবরের গল্প পড়তে পছন্দ করেন, আশা করি বইটি তাদের ভাল লাগবে। এছাড়াও যারা মৌলিক পছন্দ করেন, তারাও হতাশ হবেন না বলেই আমার বিশ্বাস।
এমন একটা বই উপহার দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ! আর যিনি আমাকে বইটি সাজেস্ট করেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা!
অসাধারণ প্লট। প্রচুর ক্যারেক্টার এর ছড়াছড়ি থাকলেও সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। ছোট ছোট ঘটনার মধ্যেও দারুন টুইস্ট ছিলো৷ খুনির বলা গল্পটা দারুন লেগেছে.. একটা জঘন্য অপরাধ কিংবা বর্তমান সময়ের সবথেকে সেন্সিটিভ ইস্যুর উপর লেখা অসাধারণ একটা বই।
প্রসঙ্গত এটা লেখকের তৃতীয় উপন্যাস। এর আগে তার “রু” আর “প্রজেক্ট পাই” নামের দুটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী রচিত উপন্যাস থেকে এই উপন্যাসটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি উপন্যাস।
এবার আসি কাজের কথায়। “একটা গল্প শুনবেন” বইটা হাতে পাওয়ার আগ থেকে শুরু করে পড়ে শেষ করার পর পর্যন্ত আমি আমার এই বইয়ের ব্যাপারে সকল অভিব্যাক্তি প্রকাশ করব এক এক করে (আমার সব অন্তর্নিহিত চাপা উত্তেজনা একপাশে রেখে, কারণ এই বইটা পড়া শেষ করে খুব স্বাভাবিক ভাবে এটার রিভিউ দেওয়াটা খুবই অস্বাভাবিক ব্যাপার হবে যে কারো জন্যেই!)
প্রথমত, এই বইটি পড়া শুরু করার পর থেকে আমার এক মুহূর্তের জন্যেও অবসাদ অনুভূত হয়নি বরং প্রথম থেকেই এই গল্পের কম গভীরতা থেকে অধিক গভীরে যাওয়ার ব্যাপারটা দারুণ উপভোগ করেছি। এই গল্পের অনেক শক্তিশালি যেই ব্যাপারটা তা হলো এই গল্পের “ডিটেইলিং”। শুরু থেকেই চুল চেরা বিশ্লেষণ করেও আমি গল্পে একফোটা ডিটেইলিং এর অভাব পাই নি। অনেক জায়গায় প্রথমে খটকা লাগলেও পরবর্তিতে লেখককে সেটা খুব দক্ষতার সাথে কভার করতে দেখেছি। আর অধিক সংখ্যক চরিত্র সমান্তরাল ভাবে বিভিন্ন চলমান ঘটনা থাকার কারণে এই গল্পে “সাস্পেন্স” টা এত বেশি দৃঢ় হয়েছে যে সেটা কেও না পড়ে অনুমান করতেও পারবে না! মুহূর্তে মুহূর্তে ধাক্কা আর সন্দেহের কষাঘাতে ৩৯২ পৃষ্ঠার ( মূল গল্প ) এই বইটা শেষ করার পর আমার অনুভুতিটা আসলে “অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর” হওয়ার মত একটা ব্যাপার হয়েছিলো!
আরেকটু যদি বলি, গল্প শুরু করার পর থেকে শেষ অব্দি মনে হয়েছিলো আমি ৫০ তালা বিল্ডিং থেকে পরতে পরতে ঠিক মাটি স্পর্শ করার ১ ফুট আগে থেমে গেলাম!
লেখক কিভাবে যেন এই গল্পের ভিতর ক্রোধ, রহস্য, হতাশা, আতংক, অভিমান, ভালোবাসা, কমেডি এই সব গুলা ব্যাপারই খুব সুন্দর ভাবে আর দক্ষতার সাথে উপস্থাপন করেছেন। যেখানে যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই। আর বিভিন্ন বিষয়ে রিসার্চ করে তা সাবলীল ভাবে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটাও বেশ প্রশংসনীয় ছিলো।
সব মিলিয়ে এই বইটি আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে আর আমার মত বাকি যারাই পড়বেন সবার কাছে ল��গতেই! আর কোনভাবে যদি এই উপন্যাস থেকে একটা “ওয়েব সিরিজ” বের হয়েই যায় তাইলে তো ব্যাপারটা পুরাই জমে ক্ষীর হয়ে যাবে! লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ, পাঠকদের এত অসাধারণ একটা থ্রিলার/রিভেঞ্জ থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার (যে যাই বলুক না কেনো) উপহার দেওয়ার জন্য। অনেক অনেক শুভকামনা রইলো লেখক তানভীর আহমেদ সৃজন এর জন্য! <3
পরিশেষে এই গল্পের একটা লাইন যেটা আমাকে সব থেকে বেশি টাচ করেছে সেটা দিয়েই শেষ করি, “FORGIVE ME ARUNIMA DI!”
শেষ কবে, এমন কোন থ্রিলার বা রহস্যের বই পড়েছেন যেখানে ভিলেনের প্রেমে পড়েছেন, মনে হচ্ছিল, আরে এমন ভিলেনই তো দরকার? এমনই একটা থ্রিলার, একটা গল্প শুনবেন?
আমাদের আশেপাশে প্রচলিত এমন অনেকই তো ঘটনা ঘটে যা ঘৃণিত, অপরাধীরা পার পেয়ে যায় বিভিন্ন ভাবে, কিন্তু এমন যদি হয় কেউ এইসব নোংরা কীটদের দমনের জন্যে নিজেই নেমে পরেন খুনের জগতে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে।
আমার কাছে এই উপন্যাসটি জাস্ট সুপার্ব লেগেছে৷ ওভাবে বিস্তারিত লিখতে পারছি না। ৪০০ পেইজের একটা বই এতো ফাস্ট পেইসিং হবে ভাবতে পারি নি৷ টানা গত রাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পড়তে পড়তে আজ মধ্যরাতে গিয়ে শেষ হলো৷ হয়তো পরে গুছিয়ে লিখতে পারতাম। কিন্তু পড়া শেষে সবার সাথে অনুভূতি না শেয়ার করে পারলাম না৷
বই : একটা গল্প শুনবেন? লেখক: তানভীর আহমেদ সৃজন প্রকাশনা : বাতিঘর ঘরনা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রকাশকাল : এপ্রিল ২০২১ পৃষ্ঠা:৪০০ মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০
কাহিনি সংক্ষেপ : রাজধানীর খিলগাঁয়ের তালতলা এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি ক্ষত-বিক্ষত বীভৎস মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচটি মৃতদেহই নগ্ন! জানা যায়, এই পাঁচজন গত বছর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। কে বা কারা এমন বীভৎসভাবে খুন করেছে, পুলিশ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই নিখোঁজ হয়ে যায় আরো পাঁচজন। তারপর, একইভাবে তাদেরও নগ্ন এবং ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় পরের বছর একই দিনে! কী সম্পর্ক ছিল এই নিহতদের মাঝে? ভিন্ন ভিন্ন বয়সের, ভিন্ন ভিন্ন পেশার এবং ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী এই মানুষগুলোর মাঝে যদি কোন সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ না-ই থেকে থাকে তবে তাদের সবার সাথে খুনির কী সম্পর্ক? আর তাদের সবার দেহে খোঁদাই করে আঁকা ছবিগুলোই বা কী অর্থ বহন করছে? খুনি কি কিছু বলতে চাইছে এই ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে? কী বলতে চাইছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে রহস্যের সমাধান করতেই মাঠে নেমেছে ডিবির জাঁদরেল গোয়েন্দা রায়হান সিদ্দিকী। সে কি পারবে এই রহস্যের জট খুলতে? না কি নিজেই জড়িয়ে পড়বে ধূর্ত প্রতিপক্ষের হেঁয়ালির জালে... আর সেই জাল কেটে সে বেরিয়ে আসতে আসতেই লাশ পড়বে আরো পাঁচজনের? তানভীর আহমেদ সৃজনের লেখা সাইকোলজিকাল থৃলার 'একটা গল্প শুনবেন?' রহস্য, জেদ, নৃশংসতা আর রক্তের জাল যেখানে বুনেছে ভিন্নমাত্রার এক গল্প।
পাঠ প্রতিক্রিয়া : বলছিলাম 'একটা গল্প শুনবেন?' বইটির কথা। লেখক অসাধারণ একটি প্লট নির্বাচন করেছেন।এইখানে আমাদের দেশের কিছু সত্যিকারের ঘটনার কিছুটা পরিবর্তন করে কাল্পনিক রুপ দেয়া হয়েছে,যা ছিল অসাধারণ। যেসকল ঘটনা আমরা প্রায় ভুলেই যেতে বসেছি সে সকল ঘটনা এই বই মনে করিয়ে দেয়। বইয়ের প্রেক্ষাপট ধর্ষকদের শাস্তি নিয়ে।যেখানে আমাদের দেশ ও দেশের আইন তাদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ সেখানেই এই বইতে দেখানো হয়েছে পর্দার আড়ালে থেকে কিভাবে তাদের শাস্তি দেয়া যায় এবং কিছু দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া যায় যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ভয়ঙ্কর অপরাধ না করে। লেখক তানভীর আহমেদ সৃজনের এটাই আমার প্রথম কোনো বই পড়া।তার গল্প বলার ধরন বেশ ভালো, নিজের মতো করে কাহিনির প্রেক্ষাপটে গল্পকে টেনে নিয়ে গেছেন। আর গল্পের ডিটেইলিং ব্যাপারটা বেশ ভালো লেগেছে,বিরক্তিকর কিছু মনে হয় নি,যা গল্পটাকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।তবে বেশ কিছু জায়গায় প্রথমে কিছুটা অস্বাভাবিক / দৃষ্টিকটু মনে হলেও লেখক পরে সেটা দক্ষতার সাথে বেশ ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বইটির চরিত্র সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও প্রতিটি চরিত্রকেই তিনি খুব শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন গল্পের প্রয়োজনে যা বেশ ভালো লেগেছে। লেখক বলতে গেলে এই দুই মলাটের ভিতর রহস্য,ক্রোধ,হত্যা,আতংক,অভিমান,ভালোবাসা, প্রতিশোধ সব কিছুই সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে বেশ কিছু জায়গায় মনে হয়েছে কাহিনি শুধু বাড়ানোর জন্যই গল্প বলে যাচ্ছেন,যদিও এইসব ছোটখাটো ব্যাপার পরে ঠিকই পুষিয়ে দিয়েছেন। তবে এক কথায় বইটি অসাধারণ লেগেছে।
এবার আসি এই অসাধারণ বইয়ের যে সব জায়গায় কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে সেসব ব্যাপারে। লেখকের কমা এবং বিস্ময় চিহ্নের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা লক্ষ করেছি।ডিবি এবং ডিসি লেখার ক্ষেত্রেও তিনি কিছুটা উলট পালট করেছেন। যদিও এইসব গল্পের কাহিনির জন্য তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।লেখকের এইসব ব্যাপারে কিছুটা নজর দেয়া উচিৎ। আর সবার শেষে একটা কথা বলে রাখি, এই বইটিকে বছরের সেরা থ্রিলার উপন্যাস বলা যায়। মাস্টরিড বইও বলা যায়। আশাকরি লেখক সামনে আরো ভালো কিছু উপহার দিবেন ❣️
ধর্ষকের প্রাপ্য কি মৃত্যুদণ্ড?যদি তাই হয়, যন্ত্রণাবিহীনভাবে ধরাধাম ত্যাগ করা কি তাদের সাজে?লেখকের মতে, না।এবং কথাটা তিনি সারা বইয়ে একবারও সরাসরি বলেন নি,কিন্তু সেটা উঠে এসেছে।এবং তা খুব সুন্দরভাবেই করেছেন।ভালো লেগেছে।
সবকিছু শুরু হয় উদ্ধার হওয়া পাঁচটি পুরুষের লাশ দিয়ে। আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একেকজন মানুষের লাশ-তাদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা মানুষ আছেন। যখন সিআইডি ছয় মাসেও কোনো কূলকিনারা করতে পারে না, তখন তদন্ত আসে ডিবি অফিসার রায়হান সিদ্দিকীর হাতে।
তদন্ত যত গভীরে যায়, ততই বেরিয়ে আসে একের পর এক চমকপ্রদ সত্য। খুন হওয়া সবাই একসময় ধর্ষণ করেছে—কখনও অর্থ, কখনও ক্ষমতার জোরে। কিন্তু এদেশের অথর্ব বিচারব্যবস্থা বিচার করতে পারেনি কারোরই।
চরিত্র বিশ্লেষণ:( নাম নিয়ে চরিত্র বিশ্লেষণ করলে অনেকটা স্পয়লার দেওয়া হয়ে যাবে,তাই নাম উহ্য রাখছি।)
বইয়ের সবচেয়ে প্রমিনেন্ট ক্যারেক্টার নিঃসন্দেহে এন্টাগনিস্ট। লেখক খুবই যত্ন করে তার বর্ণনা করেছেন এবং যেহেতু সে খুনী হলেও সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তিদের নয়,বরং সমাজের আবর্জনাদের হত্যা করেছে,তাই পড়তে পড়তে আমারও তার প্রতি রাগের চেয়ে সহানুভূতিই এসেছে বেশি।
প্রোটাগনিস্ট রায়হান সিদ্দিকী তার নৈতিক আর আদর্শিক অবস্থান থেকে নির্ভুল ছিলেন, কিন্তু অপরাধী চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তাকে যথেষ্ট চৌকস মনে হয়নি আমার।
তদন্তের শুরুতে অপরাধী নিজেই অপরাধের কারণ আর সূত্র খুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত তদন্ত অন্য দিকে ঘোরাচ্ছিলেন খোদ প্রোটাগনিস্টও।তবে সম্ভবত লেখক এই ঘোরানোর বিষয়টা ব্যবহার করেছেন টুইস্ট নিয়ে আসার উদ্দেশ্য ।
এন্টাগনিস্ট-প্রোটাগনিস্ট ছাড়াও বইয়ের বাকি যে চরিত্ররা আছে, প্রত্যেকেই ভীষণভাবে জীবন্ত মনে হয়েছে আমার। একেকজন ভিক্টিমের ভয়, আতঙ্ক, হত্যাকাণ্ডের পরে ভিক্টিমের পরিবারের রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ এবং ধর্ষণের শিকার নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি- সবকিছু প্রাণবন্ত করে ফুটে উঠেছে এই বইয়ে।তাই আমার কাছে মনে হয়েছে,এই বইয়ের অন্যতম শক্তির জায়গা ছিল চরিত্রায়ন আর সংলাপ।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:লেখকের গল্প বলার ধরন সহজ, অথচ তীব্র। সংলাপগুলো খুব বাস্তব, মেকি লাগে না।
সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে, লেখক কোনো মুখস্থ ‘শুদ্ধ’ সমাধান দেননি। খুনীকে শেষপর্যন্ত মুক্তি দেয়নি, আবার দোষও দেয়নি। পাঠককেই ভাবতে দিয়েছেন—ন্যায় কি কোর্টরুমে হয়, নাকি কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে? থ্রিলারের ক্ষেত্রে কনফ্লিক্ট রাখাটা আমার পার্সোনালি পছন্দ, কনফ্লিক্ট থাকলে পাঠক বইয়ের ঘটনার সাথে মোরালি কানেক্টেড হতে পারে বলে মনে হয়।
বইয়ের আরেকটা দারুণ ব্যাপার হচ্ছে,বইটা পেজ টার্নার আর দারুণ এনগেজিং,ফলে ৩৯৯ পৃষ্ঠার বই আমার পড়তে লেগেছে মাত্র একরাত। আমার বহুদিন ধরে মনে হয় ব্লক চলছে,এই কারণে এক বসায় কোনো বইই শেষ করতে পারিনা।অনেকদিন পরে সারারাত ধরে পড়ে এটা শেষ করেছিলাম ।
পার্সোনাল রেটিং:৪.৫/৫
This entire review has been hidden because of spoilers.
গল্প তো আমরা কতো ধরনের শুনি। তবে এই বইয়ের গল্পটি একজন খুনির কিংবা একজন ভাইয়ের। ঢাকার রামপুরা এলাকায় পাঁচ জন পুরুষের লাশ পাওয়া যায় যারা কয়েকমাস ধরে নিখোঁজ ছিল , লাশগুলোতে প্রচুর ক্ষত চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। কেসের ইনভেস্টিগেশন করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবির গোয়েন্দা রায়হান সিদ্দিকীকে। কেসের ইনভেস্টিগেশন করার মাধ্যমে ডিবির গোয়েন্দারা জানতে পারেন একই দিনে অর্থাৎ ১৪ই জানুয়ারিতে পূর্বের বছর একইভাবে খুন হয় পাঁচজন পুরুষকে কিন্তু কেন? তবে কি আগামী বছর একই দিনে খুনি আবার পাঁচজনকে খুন করবে? যে দশ জনকে খুন করা হয় তারা সবাই ছিলেন আলাদা পেশার তবে আলাদা পেশার হলেও তাদের মাঝে এক ভয়াবহ মিল ছিল। এই মিল খুঁজতে গিয়ে চোখের সামনে আসে সমাজের ভয়াবহ চিত্র, যা এখনকার সমাজে অহরহ ঘটছে।
লাশগুলোর দেহের নানান জায়গায় হায়ারোগ্লিফ চিহ্ন অঙ্কন করা ছিল যার অর্থ দাঁড়ায় " Forgive me Arunima di"। কে এই অরুনিমা এবং খুনির সাথে তার সম্পর্কই বা কি। তবে এর জন্য রায়হান সিদ্দিকীকে খুব বেশি দূরে যেতে হয়নি খুনি নিজেই তাকে ফোন করে অনেক কিছুর জানান দেয়। খুনি যেন কিছু একটা বলতে চায়। তার খুনের মাধ্যমে সে প্রায়শ্চিত করতে চায়।
যদিও বইটিতে লেখা এটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার তবে আমার কাছে এটি রিভেঞ্জ থ্রিলার লেগেছে অনেকটা। লেখকের লেখার ধরন সুন্দর, খুনের বর্ণনা পড়ে মনে হচ্ছিল আমি নিজের সামনে দেখতে পাচ্ছি সব ঘটনা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রাখতে লেখক সক্ষম। গল্পে অনেক চরিত্রের আগমন ঘটলেও অপ্রয়োজনীয় লাগেনি কোনোটা এবং এইযে এতগুলো চরিত্র এনে পাঠকদের গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করা তাও মন্দ না।
তবে একটা কিন্তু থেকেই যায়। যেমন:
-অরুনিমার সাথে দুর্ঘটনা হওয়ার দিন প্রলয় নিজ চোখে সব দেখেছিল কিন্তু রায়হান সিদ্দিকী ইনভেস্টিগেশন করার সময় এই মানুষটার কথা যেন ভুলেই গেল অথচ সে ছিল ঘটনার মূল সাক্ষ্য। শুধু অরুনিমার পরিবারকে খোঁজার কথা মাথায় ছিল তার। এই ধরনের সূক্ষ্ম তথ্য গুলো আসলে গল্পকে দুর্বল করে দেয় বলে আমি মনে করি যেহেতু গল্পে রায়হান সাহেব খুবই সফল গোয়েন্দা। এটি তার মিস হয়ে যাওয়ার কথা না।
- খুনি নিজের পার্সোনাল রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য যে খুনগুলো করেছে তা ঠিক আছে তবে বাকি জনদের যে খুন করা হলো তাদের অতীত সম্পর্কে সে জানলো বা কি করে? বইয়ের কোথাও এটির উল্লেখ নেই।
- আরাফাত রহমান নামের একজন লোক খুন হয় যেখানে ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে জানা যায় তার বউয়ের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তবে এক পেইজে লেখা তাদের ছেলে ছিল আবার আরেক পেইজে লেখা তাদের মেয়ে ছিল। হয়তো টাইপের সময় এই ভুলটি হয়েছিল।
Excellent. Apart from some minor spelling/printing mistake the book is great. One of the best revenge/murder/Mistry thriller in Bangla. The book will make you fall in love with both Protagonist and antagonist. Highly Recommended. A solid 5 Star from me.
দূর্দান্ত,সেরা!!! রেইপ নিয়ে পড়া সেরা থ্রিলার বলা যায় এটাকে। মজার ব্যাপার হলো ঠিক কে যে ভিলেন আর কে যে নায়ক সেটাই বড় প্রশ্ন। লাস্টের টুইস্টটা বেশ আকর্ষনীয় ছিলো। আরো বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
“একটা গল্প শুনবেন”.... এই গল্প এক কালো অন্ধকারময় বিভীষিকার গল্প। এই গল্প সেইসব নরপিশাচদের যারা সমাজটাকে খুবলে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাগিচার শুভ্র ফুলগুলোর রক্তাক্ত হয়ে ওঠার গল্প এটা। এই গল্প এক রোগের, এক কঠিন রোগের, যে রোগ আজকের নয় বহু আগে থেকেই এই রোগ সমাজ থেকে নিংড়ে নিচ্ছে সমস্ত কোমলতা, লাবণ্যময় মুখগুলো সাদা ফ্যাকাসে করে তুলছে, জন্ম দিচ্ছে গগনবিদারী আর্তনাদ, বুকফাটা যন্ত্রণা আর স্বজন হারানোর কান্না। উল্লাসে মত্ত পিশাচগুলো চুষে নিচ্ছে সব রক্ত, পড়ে থাকছে প্রাণহীন নিথর সব দেহ। সর্বপরি এই গল্প এক ভয় পেয়ে যাওয়া ভাইয়ের। এক ভয় পেয়ে যাওয়া ভাইয়ের প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠার গল্প। হ্যাঁ, এটা প্রতিশোধেরই গল্প বটে, এই প্রতিশোধ আমার আপনার সকলের। এই গল্প জেগে ওঠার গল্প। এক বিপ্লবের গল্প....
ওপার বাংলার তরুণ লেখক তানভীর আহমেদ সৃজনের‘একটা গল্প শুনবেন’উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট একটা সিরিয়াস বিষয়কে কেন্দ্র করে। যা আমাদের একবার হলেও ভাবতে বাধ্য করবে,“যা হয়ে চলেছে তা ঠিক হচ্ছে না, ঘন আঁধারে সমজটা তলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।”সেই বরাবরের মতোই সমাজের উচ্চবিত্তের পায়ের তলায় আইন জুবুথুবু হয়ে কাঁপছে। ক্ষমতার বলে, প্রশাসনিক সুযোগের ব্যবহার করে অট্টহাসি হেসে একটার পর একটা ফুল ছিঁড়ে দিব্বি সব গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছে। এ আর নতুন কী! এই রোগ শুধু সমাজের উঁচু শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর বিস্তার সর্বত্র। এমত অবস্থায় কাউকে তো সমাজ সংস্কারে হাত লাগাতে হয়। যেখানে আইনের হাত পৌঁছাতে পারে না যেখানে এই সংস্কারকেরা ছুটে যায় আর উপড়ে ফেলে সব রক্তবীজের ঝাড়দের।
এবার একটু কাহিনীতে আসা যাক, রাজধানীর খিলগাঁয়ের তালতলা এলাকায় একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি ক্ষত-বিক্ষত বীভৎস মৃতদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। পাঁচটি মৃতদেহই নগ্ন! জানা যায়, এই পাঁচজন গত বছর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। কে বা কারা এমন বীভৎসভাবে খুন করেছে, পুলিশ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই নিখোঁজ হয়ে যায় আরো পাঁচজন। তারপর, একইভাবে তাদেরও নগ্ন এবং ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় পরের বছরের ঠিক একই দিনে।
কী সম্পর্ক ছিলো এই নিহতদের মাঝে? ভিন্ন ভিন্ন বয়সের, ভিন্ন ভিন্ন পেশার এবং ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী এই মানুষগুলোর মাঝে যদি কোনো সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ না-ই থাকে, তবে তাদের সবার সঙ্গে খুনির কী সম্পর্ক? আর তাদের সবার দেহে খোদাই করে আঁকা ছবিগুলোই বা কী অর্থ বহন করছে? খুনি কি কিছু বলতে চাইছে এই ছবিগুলোর মধ্যে দিয়ে? কী বলতে চাইছে?? এই সব প্রশ্নের উত্তর ��ুঁজে বের করে রহস্যের সমাধান করতেই মাঠে নেমেছে ডিবির জাঁদরেল গোয়েন্দা রায়হান সিদ্দিকী। সে কি পারবে এই রহস্যের জট খুলতে? না কি নিজেই জড়িয়ে পড়বে ধূর্ত প্রতিপক্ষের হেঁয়ালির জালে... আর সেই জাল কেটে বেরিয়ে আসতে আসতেই লাশ পড়বে আরও পাঁচজনের!!
-এর চেয়ে বেশি জানতে হলে বইটা অবশ্যই পড়তে হবে। “একটি গল্প শুনবেন”- শুধুমাত্র একটা সাইকোলজি থ্রিলার নয়, এটি আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে বোঝা���ে, যদি আপনার বিবেক সজাগ হয়ে ওঠে, কোথাও যদি আপনার মনে সামান্যতম নাড়া দিয়ে থাকে, যদি আপনিও দাঁত কিড়মিড় করে ওঠেন; তাহলে বুঝতে হবে আপনিও একজন ভয় পেয়ে যাওয়া ভাই আর আপনিও চাইবেন এই বিপ্লবের মশাল হাতে তুলে নিতে।।......
ঢাকার আফতাবনগরের দীঘির পাড় থেকে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি নগ্ন মৃতদেহ। পাঁচটি মৃতদেহই বীভৎস কর অবস্থায় পাওয়া যায়,খুনি যেন হিংস্র পশুর রূপ নিয়ে ছিলো খুন করার সময়! প্রতিটি লাশের বুকের চামরা কেটে লেখা হয়েছে অদ্ভুত কিছু সাংকেতিক চিহ্ন, থেঁতলে দেওয়া হয়েছে যৌনাঙ্গ! এই জটিল কেস দিয়েই গল্পের শুরু।
এই ভয়াবহ খুনের ঘটনার তদন্ত ভার পরলো ডিবির এসি রায়হান সিদ্দিকীর উপর। রায়হানো দেরি না করে তার টিমকে নিয়ে তদন্তে নেমে পরে। রায়হান আর তার টিম দ্রুত এগোতে থাকে কেসটা নিয়ে আর প্রথমেই যেই নামটা সামনে আসে সেটা হচ্ছে আফসানা ফুডস এর সিইও শাহজাহান সুজা। করা নজরদারিতে রাখার পরও শাহজাহান সুজার বিরুদ্ধে কোন এভিডেন্স বের করতে পারেনি এসি রায়হান আর তার টিম মেম্বাররা। গল্পের মোড় আরো বেশি ঘুরে যায় যখন তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঠিক একই দিনে একই ভাবে আরো পাঁচজনকে খুন করা হয়েছিল একবছর আগে। পাঁচ লাশের তদন্তের যায়গায় ডিবি অফিসার এখন দশ লাশের তদন্তে নামে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে জানতে পারে খুন হওয়া দশজনই ধর্ষনের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ছিল কিন্তু আশ্চর্য জনক ভাবে কাওকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হয়নি!
ডিবির অফিসাররা যখন এই ভয়াবহ আর জটিল খুনের গোলক ধাঁধায় বন্দি তখনি আবির্ভাব ঘটে এক মোটিভেশনাল স্পিকারের যার ইউটিউব চ্যানেলের নাম *একটা গল্প শুনবেন?* তারপর আস্তে আস্তে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ধাঁধার সমাধান পেতে থাকে এসি রায়হান সিদ্দিকী। রায়হানের চরিত্রটা এবার অনেক দুর্বল দেখানো হয়েছে। যেকোন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার মতোই কাজকারবার দেখা গেছে তার, জাঁদরেল অফিসারের টাইটেলে এবার তাকে বেশি মানায়নি।
৩৬৭ পৃষ্ঠার এই বড় বইটা পড়ার সময় একবারও মনে হয়নি যে বইটা টেনে লম্বা করা হয়েছে বা বাড়তি কথা বলে পৃষ্ঠা বাড়ানো হয়েছে। সত্যি বলতে পড়ার সময়/পর একটা ঘোরে ছিলাম। ধর্ষনের কাহিনী সবসময়ই আমার কাছে কষ্টের। এটা ভয় নাকি মানুষের এই জিনিসগুলো এতো সহজে মানিয়ে নেওয়ার হতাশা,জানিনা তবে আমি সব সময়ই এই ধরনের উপন্যাস, গল্প বা সত্যি ঘটনা এরিয়ে যাই। বইটা পড়ার পর এক ধরনের মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। কষ্টের সাথে তৃপ্তি ও পেয়েছি। মাঝে মাঝে আমাদের মনের কথা কেউ জেনে ঠিক সেই ভাবেই কাজটা করে দিলে যেরকম তৃপ্তি পাওয়া যায় ঠিক সেই তৃপ্তিটাই পেয়েছি বইটা পড়ে। সত্যিকার জীবনে যদি কেউ এভাবে এই জঘন্য অপরাধের শাস্তি দিত তাহলে মন্দ হতো না। বইটা নিয়ে আরও অনেক কিছু লেখার আছে কিন্তু এতটাই ঘোরের মধ্যে আছি যে আর কিছু লেখতেও ইচ্ছা করছে না। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম একটা টপিক নিয়ে এতো সুন্দর করে লেখার জন্য।
পাবলিক রিভিউ অনেক কিছুই ধরায় দেয় না আমি বলব তিন তারার উপরে আর দেওয়া যাবে না কারন এই যে ১ -বইয়ের টুইস্ট এ সামাজিক মেসেজ দেওয়া ২ -সামাজিক মেসেজে ভিলেন নয় পুলিশের লোক নিজেই অনেকটা জড়িত ৩ -বইয়ে অনেক বেশি চরিত্র এবং সিকুয়েন্স কিছুটা প্রবলেম করেছে । ৪- ৪০০ পেজের বইতে রায়হান আর তার হোমরা চোমরা নিয়েই বেশি কাহিনী ৫- গতি ছিল বলা গেলেও এই গতি শুধু আলাপচারিতার গতি, কাহিনী রহস্য তেমন ভালো ছিল না । যাইহোক , পাবলিক রিভিউ সত্যতা তুলে ধরতে চায় না বলে আমি নিজেই সেগুলো বলে দিলাম ।
এখন আসি আপনাকে রিকমেন্ড করব কি করব না? সেটাই তো জানতে চাচ্ছেন
যদি বলি তাহলে বলব এই -
১ - এ বই রিকমেন্ড করব তাদেরকে যাদের ভিলেন নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই মানে হুদা একজন ভালো ভিলেন চায়
২- বলতে গেলে এ বইয়ে ভিলেন নাই
৩ - টুইস্টে ঢং খুব বেশি তাই এ পয়েন্ট গুলোর বিবেচনা করলে বইটা পড়া না পড়া আপনার দায়িত্বে থাকবে ।
খুবই দ্রুতগতির একটি থ্রিলার, এক বসায় পড়ে ফেলার মত। কিছু বই থাকে পড়া শেষ করার পরেও অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত তার রেষ থেকে যায়। একটা গল্প শুনবেনও তাই। বইটি শেষ করার পর থেকে এখনও মাথায় কেবল প্রলয়ই ঘুরছে! উপন্যাসটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। কিছু কিছু জায়গায় যখনই মনে হচ্ছিল যে গল্প বুঝি একটু ঝিমিয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই আচমকা গল্পের মোড় ঘুরে যাচ্ছিল এবং সেই সাথে গল্পের গতিও আগের চাইতে আরও বেড়ে যাচ্ছিল। তবে একটি বিষয় একটু অদ্ভুত লেগেছে। রায়হান সিদ্দিকী ডিপার্টমেন্টের বেস্ট অফিসার, তার মত শার্প পুলিশ অফিসার বাংলাদেশ পুলিশে কমই আছে, এবং সেটার প্রমাণ গল্প শুরুর আগে বইতেও আমরা পেয়েছি। কিন্তু এখানে সে কিছুতেই সুবিধা করে উঠতে পারছিল না! এটা কি এই ধরনের কেস ডিবির কাছে একদম নতুন এই কারণেই? যা-ই হোক, পাঠযাত্রা খুবই উপভোগ্য ছিল। Highly recommended!
৪/৫ ⭐ কেমন হতো যদি বাস্তবেও এমন কয়েকটা প্রলয়ের দেখা দিত? আমার ধারণা তাহলে নিঃসন্দেহে এই সেনসিটিভ ব্যাপার গুলোর সমাধান খুব শীঘ্রই পাওয়া যেত। আফসোস বাস্তবতা খুব কঠিন!! গল্পটা খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন লেখক কাহিনীটা ভালো লেগেছে 😊
পুরোটা সময় গল্পের মাঝে ধরে রেখেছে লেখক। সবচেয়ে ভয় লেগেছিল ফারিয়ার কাহিনি নিয়ে, ওর সাথে ঘটনা কিভাবে বর্ণনা দেয় লেখক এটা ভেবেই কেঁপে উঠেছি কয়েকবার। লেখক সুন্দর ভাবেই সেটা তুলে ধরেছিল। শেষ টা একেবারেই অনুমান করতে পারিনি। টাইপিং মিস্টেক এত ছিল যে কী বলবো। যার জন্য রেটিং কম দিতে হচ্ছে।
সিরিজের প্রথম বইটা যতটুকু বাজে মনে হয়েছে, এটা ততটুকুই ভালো লেগেছে। তবে অপ্রাসঙ্গিক কথা অনেক বইয়ে। আরো অল্প পেইজের হতে পারতো। ওভারঅল রিভেঞ্জ সাইকো থ্রিলার হিসেবে ভালোই, খারাপ না।