গুনীন মশাইয়ের এই কিস্তির সবগুলো গল্পই খুব ভালো লেগেছে। বেশ সময় নিয়ে প্রতিদিন একটা একটা করে গল্পগুলো শেষ করেছি। সম্ভবত খুব ভালো লাগার এটাও একটা কারণ। বইটিতে এবার পাবেন পাঁচখানা গল্প। স্বল্পপরিসরে বইটির ব্যাক কভার থেকে সংক্ষিপ্ত পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের।
প্রথম গল্প, কালীলীগুণীন এবং বাঘের থাবা : দেবেন্দ্র জমিদার হলেও হরেক রকম পরীক্ষা নিরীক্ষার পাগলামি রয়েছে তাঁর। একখানা প্রাচীন পুথির সন্ধান পেয়ে দেবেন্দ্র আবিষ্কার করে ফেলল এক রহস্যময় আরক! যে আরকের দুর্নিবার প্রভাবে আমূল পরিবর্তন ঘটে মানব শরীরে। কী সেই পরিবর্তন? হাতকাটা সাধু কেন নিজের পূর্ণশক্তির প্রয়োগ করে ঝাঁপিয়ে পড়ল এই আরকের সন্ধানে?
কালীগুণীন এবং রাহুর গ্রাস : সুন্দরবনের একখানা অখ্যাত গাঁয়ে খননকার্য চালাতে গিয়ে উঠে এল একখানা আস্ত প্রাসাদ! প্রাসাদ, নাকি পুরাকালের কোনও কারাগার? কে বন্দি ছিল সেই অন্ধকূপে? এরপরেই গ্রামে শুরু হয় পরপর ভয়ানক নরমেধের পালা...
আপাই—নরমেধে আহতি আবার: ডাকিনীর বিল গ্রামে হানা দিল এক অতি ভয়ঙ্কর বিপদ! তীক্ষ্ণ, ক্ষুরধার মেধার এই নৃশংস হত্যাকারী সহস্র রকমের ভেক ধরে, ছলে ভুলিয়ে হত্যা করে গাঁয়ের লোকেদের। এক অসামান্য প্রাচীন বিদ্যা, যা আমূল বদলে দিতে পারে পৃথিবীকে। কালীপদ মুখুজ্জে কি পারল দ্বিতীয়বার সেই আপাইয়ের মোকাবেলা করে এই নরমেধকে বন্ধ করতে?
কালীগুণীন এবং বাঘামুডার আতঙ্ক: বাঘের হাতে মানুষের মাথা আর বড় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেই দেহে জন্ম নেয় কারা? আরম্ভ হল সাতখানা গাঁ জুড়ে এক নৃশংস নরবাঘের তান্ডব! সে ছলে বলে কৌশলে আরম্ভ করল নৃশংস নরহত্যা। কালীগুণীন কীভাবে লড়বে এই মানুষ আর বাঘ-মানুষের মধ্যেকার অসম যুদ্ধ?
কালীগুণীন এবং ছিন্নমস্তার পুথি: গণপতি কবিরাজ সুদূর পর্বতের কোনও এক গাঁ-এ সন্ধান পায় এক মহা আশ্চর্য বিদ্যার, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত নড়িয়ে দিতে সক্ষম! কী সেই বিদ্যা? সেই সাত রাজার ধন পুথিকে হস্তগত করতে আক্রমণ করল এক নরপিশাচ। কালীগুণীন কি পারবে সেই অসম্ভব ধূর্ত নররাক্ষসকে নিজের কূটনৈতিক বুদ্ধি দ্বারা পরাস্ত করতে?
এর মধ্যে শেষ দুটি গল্প আমার মতে শ্রেষ্ঠ। বাকিগুলো সচরাচর যেমন হয়। যারা কালীগুণীন পড়ে অভ্যস্ত, আমার মত ফি বছর একবার হলেও পড়েন তাদের জন্য এটা অমৃতস্বরুপ।
This book is a collection of stories featuring Kaali Gunin, an occult practitioner who helps people by defeating homicidal evil spirits. A gunin is someone trained in mystical knowledge and rituals, often called upon in rural Bengal to deal with supernatural threats. This is the third book in the series.
The stories, written in Bengali, are set in the forested, rural areas of Bengal during British colonial times. The backdrop feels apt—those were the days when people still had faith in gunins. The world was so different then, and the spirits and demons Kaali Gunin battles seem to belong to that time more than ours. The evens mentioned in these stories are hard to replicate in modern settings.
That said, even a die-hard fan of such genres would agree that enjoying these stories requires a fair bit of suspension of disbelief. But if you’re able to do that, few of the stories are quite enjoyable.
One thing I particularly liked was how Kaali Gunin often works like a detective. He analyzes clues, investigates situations, and sometimes uses deception and subterfuge to outwit the evil forces. It’s not all about chanting spells—there’s thought and tactics involved, which I found refreshing.
However, I wasn’t entirely on board with everything. As the book progresses, the author starts giving Kaali Gunin increasingly exaggerated magical powers. At times, it becomes too much to digest.
I picked this up after hearing some glowing praise from booktubers, but when I checked Goodreads, I found mixed opinions. In fact, reactions seem quite polarized. From what I gather, there’s been a flood of books recently featuring occult practitioners, and many readers are growing tired of the repetitive storylines and tropes.
It seems like the first book in the series is considered the best by many. I shall give that one a try too. Overall, you can give this one a try only if you like a mix of eerie atmosphere, blood-thirsty evil entities, and some over-the-top magical elements.
কালীগুণীন ত্রাহিমাম পড়লাম। বইটিতে পাঁচটি গল্প আছে ....
প্রথম গল্প বাঘের থাবা - জমিদার দেবেন্দ্র আবিষ্কার করেছেন এক আশ্চর্য ওষুধ, যার প্রভাবে মানবদেহের আমূল পরিবর্তন ঘটে। কি সেই পরিবর্তন এবং কেন ভয়ংকর হাতকাটা সাধু তার খোঁজ করছে? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে কালীগুনীন ও বাঘের থাবা
দ্বিতীয় গল্প রাহুর গ্রাস - সুন্দরবনে মাটির নীচ থেকে উঠে আসা সেই প্রাসাদ থেকে নেমে এল কোন অভিশাপ? সেটি কি আদেও প্রাসাদ না কোনো কারাগার? কে ছিল সেখানে?
তৃতীয় গল্প আপাই - এক নৃশংস আততায়ী নরহত্যার মিছিল চালাচ্ছে ডাকিনীর বিল গ্রামে। এই আততায়ী হল আপাই। কি এই আপাই?.. কালীগুনীন কি পারবে এর হাত থেকে গ্রাম কে রক্ষা করতে?
চতুর্থ গল্প বাঘামুড়ার আতঙ্ক - বাঘ মানুষের ধড় থেকে মুন্ডু বিচ্ছিন্ন করে তাকে হত্যা করলে জন্ম হয় এক নৃশংস হত্যাকারীর। সে অজেয়.. শরীরে তার বাঘের শক্তি.. কালীগুনীন কি পারবে এই নরহত্যা থামাতে?
পঞ্চম গল্প ছিন্নমস্তার পুঁথি - গণপতি কবিরাজ সন্ধান পায় এক আশ্চর্য চিকিৎসাবিদ্যার যা এই জগতের সমস্ত চিকিৎসাবিদ্যার ধারণার অতীত। কি সেই বিদ্যা?... কেন সেটি এত দুষ্প্রাপ্য? দুন্দুভির হাতে কি এবার পরাজয় ঘটবে কালীপদ মুখুজ্জের?
ত্রাহিমাম বইটি এবার মিলিয়ে মিশিয়ে লিখেছেন লেখক। প্রথম গল্পটি বেশ ভালো.. তুলনায় দ্বিতীয় ও চতুর্থ গল্পটি চলনসই লেগেছে। শেষ গল্পটি পরে মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি শেষ করেছেন লেখক তাও সেটি একটা অন্য স্বাদ এনেছে এবং আমার মতে এখনও অবদি শ্রেষ্ঠ গল্প হল আপাই ... লেখক খুব সুন্দর ভাবে গল্পের উপস্থাপনা করেছেন, পড়তে পড়তে মনে ভয় ধরে যায়। তবে তিনি আছেন - "ব্রাহ্মণ... নাম কালীপদ মুখুজ্জে... নিবাস রায়দিঘরা".... এই কথাগুলি যথেষ্ট মানুষকে আশ্বস্ত করার জন্য। মোটের ওপর ভালই লেগেছে বইটি। বইটি একবার পড়ার মতো না বারবার সেটা নির্ভর করবে পাঠকের ওপর
কালীগুণীনের কাহিনীগুলো যতই আজগুবি হোক, পড়া শেষে সবসময়ই একটা ভালোলাগা কাজ করে। পৌরাণিক গল্পগাঁথা, রহস্য, গোয়েন্দাগিরি, গ্রামীণ বনজঙ্গলের ঝিমধরা পরিবেশ আর ভয়াবহ সব রাক্ষস পিশাচের সাথে কালীর টক্কর সবমিলিয়ে দেখা যায় গল্পগুলো আদৌ তেমন খারাপ হয়না। থার্ড পার্ট কালীগুণীন ত্রাহিমামও তাই বেশি খারাপ লাগেনি। তবে হ্যাঁ, নাটুকে সিন অনেক ছিলো বই জুড়ে। ভিলেন ভার্সাস হিরো এভেঞ্জার্স আর থানোসের মত ফেসঅফ, কপাকপ টপাটপ মানুষের লাশ পড়তে থাকা আর হেঁয়ালি ছড়ার কচকচানিও ছিলো প্রচুর। প্রিভিয়াস দুটো বইয়ের মতো নিহতদের/লাশের বীভৎস বর্ণনা কিছুটা কম ছিলো অবশ্য।
'আপাই-নরমেধে আহুতি আবার' ভালো লেগেছে। বড় গল্প। নারী তান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে মারা যায় আর বহু বছর পর আপাই হিসেবে জেগে উঠে গাঁ কে গাঁ জুড়ে শুরু করে তান্ডব! কাহিনীতে কিছু টুইস্ট এন্ড টার্ণ আছে। কালীগুণীন এবং বাঘের থাবাও খারাপ না। এন্ডিং বেটার। দেহবদল ও পাথরের মূর্তিতে প্রাণদানের বিদ্যাকে ঘিরে গল্প আবর্তিত হয়। কালীগুণীন ও রাহুর গ্রাস বেশ ফাস্ট এগিয়েছে। পুরাণের রাহুকে কেন্দ্র করে গল্পের কাহিনী।
কালীগুণীন ও বাঘামুড়ার আতঙ্ক প্রমিসিং স্টার্ট করলেও এন্ডিংটা নাটুকে লেগেছে! ছিন্নমস্তার পুঁথির ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। শেষটা সবচেয়ে বেশি নাটুকে এই গল্পেরই। আর প্রচুর হেঁয়ালি ছড়ার ব্যবহার মাঝে মাঝে বিরক্তি ধরিয়ে ফেলবে। এক উন্মাদ কবিরাজ ও তাঁর অতীতের দূর্ঘটনা নিয়ে লেখা গল্পটি।
রেটিং ৪/��। এবং অন্যান্য বইগুলোর মতই এই বইয়েও কালীগুণীনের হঠাৎ এন্ট্রি ও ট্রেডমার্ক পাঞ্চলাইন দিয়ে আসর মাতিয়ে দিয়েছেন সৌমিক দে!