Jump to ratings and reviews
Rate this book

আয়না

Rate this book
বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের ‘আয়না’ একটি কালজয়ী গ্রন্থ। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণীয় ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্প আবুল মনসুর যে আয়না তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমের মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।… ব্যঙ্গ-দৃষ্টিতে অসাধারণ প্রতিভার প্রয়োজন।… বন্ধু আবুল মনসুরের হাত-সাফাই দেখে বিস্মিত হলুম। ভাষার কান মলে রস সৃষ্টির ক্ষমতা আবুল মনসুরের অসাধারণ।’ এই অসাধারণ সৃষ্টির অবিকৃত এবং সুসম্পাদিত একটি নির্ভরযোগ্য সংস্করণ এই গ্রন্থ। যদিও এটি সব শ্রেণীর অবিস্মরণীয় ‘আয়না’ গ্রন্থের ষষ্ঠদশ মুদ্রণ। সব শ্রেণীর পাঠক এই সুসম্পাদিত গ্রন্থটি পড়ে আনন্দ পাবেন।

সম্পাদকীয় ভূমিকা ছাড়াও এ গ্রন্থের শেষে প্রদত্ত শব্দার্থ কুঞ্চিকা পাঠকের সরাস্বাদনে সহায়ক হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সূচিপত্র

1. মনসুর-জীবনী
2. মনসুর-রচনা
3. মনসুর-সাহিত্য
4. ব্যঙ্গরচনা ও আয়না
5. আয়নার ফ্রেম : নজরুল ইসলাম
6. আবুল কালাম সামসুদ্দীন করকমলেষু
7. হুযুর কেবলা
8. গো-দেওতা-কা দেশ
9. নায়েবে নবী
10. লীডরে-কওম
11. মুজাহেদীন
12. বিদ্রোহী সংঘ
13. ধর্ম-রাজ্য
14. শব্দার্থ ও টীকা
15. পরিশিষ্ট

94 pages, Hardcover

First published January 1, 1935

61 people are currently reading
731 people want to read

About the author

Abul Mansur Ahmed

18 books75 followers
Abul Mansur Ahmed (Bangla: আবুল মনসুর আহমেদ) (1898–1979) was a Bangladeshi politician and journalist. His political career helped him writing political satire. He is the most famous political satirist in Bangla literature.

He was honored with Bangla Academy Award in 1960 and Swadhinota Dibosh Padak (Independence Day Medal) in 1979. Tahmima Anam is his granddaughter.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
135 (44%)
4 stars
109 (35%)
3 stars
37 (12%)
2 stars
11 (3%)
1 star
13 (4%)
Displaying 1 - 30 of 33 reviews
Profile Image for Sumaîya Afrôze Puspîta.
233 reviews301 followers
September 9, 2025
কী সাংঘাতিক আয়রনি করে গেছেন এই লোক! ভাবা যায়, এত বছর আগে একটা মানুষ তার সময়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এসব কথা বলতে পেরেছিলেন? আমরা কী ছাই প্রযুক্তির যুগে আছি এখন, যেখানে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলা যায় না? কেউ স্যাটায়ার বোঝে না! সাথে চৌদ্দশিকের চিন্তা, জনতার জনরোষের ভয় তো আছেই!

অনেকেই নাকি গল্পগুলোর সাথে বর্তমানের খুব একটা মিল খুঁজে পাননি বলে সবকটা গল্পে একসুরের একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু সত্যি বলতে, আনাচে কানাচে এখনও এসব ভয়ংকরভাবে রয়ে গেছে। আমার এলাকায় তো সুন্নি-ওয়াহাবি দ্বন্দ্ব সারাবছর লেগেই আছে। নিজেদের বিভেদে বহিরাগত যে কতটা লাভ করে যাচ্ছে, তা বোঝার মুরোদ এদের হচ্ছে না আজ‌ও।

ধর্ম আর রাজনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করাটা সবচে কঠিন। একটায় নাস্তিক ট্যাগ পাবার, অন্যটায় কয়েক দলের বিরাগভাজন হবার নিশ্চিত আশঙ্কা থাকেই। লেখকের অতি ভদ্র ভাষায় হাসাতে হাসাতে কুৎসিত মূঢ়তার গালে চড় মারার কায়দাটা পছন্দ হয়েছে।
Profile Image for Ësrât .
516 reviews85 followers
June 28, 2020
ছোটবেলায় যখন নতুন ক্লাসে উঠতাম সবার আগে আমার বাংলা বইয়ের গল্পগুলো একবারেই পড়া হয়ে যেত,তারপর বিভিন্ন পরীক্ষা উপলক্ষে বা ক্লাসে যখন টিচার আবার সেগুলো পড়াতেন অন‍্যদের জন্য তা আনকোরা হলেও আমার জন্য প্রতে‍্যকটা গল্পই ছিল অনেকটা পড়া শেষ করে রিভিশন দেওয়ার মত, কিন্তু গল্পগুলো শুনতে পড়তে একটুও বিরক্ত লাগতো না পুরানো হত না, একঘেয়েমিতে হাই ও তুলতাম না,মনে হত এগুলো মায়ের আঁচলের মতোই চির শান্তিদায়িনী.

তো এরকম বই পড়ার ঝোঁক দেখে বাবা প্রায় বলত তোমার অবস্থা না আদু ভাইয়ের মত হয়ে যায় সবই পড়বো কিন্তু দেখা যাবে পরীক্ষা হলে ইতিহাসের জায়গায় ভূগোল আর অঙ্কে গন্ডগোল পাকিয়ে স্কুলের গন্ডি আর তোমার পেরোনো হচ্ছে না,
স্বাভাবিকভাবেই পিতার একমাত্র কন‍্যা সন্তান হওয়ার দরুন তখন চোখ ভরে আসত অভিমানের জলে, চোখের পানি নাকের পানি তে যখন নাকানিচুবানি খাচ্ছি সেই সময় বাবা এনে দিল আদু ভাইয়ের গল্পটা পড়তে,আমার মনে আছে এই গল্পের প্রতিটা লাইন আমার মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে যখন ম‍্যাডাম ক্লাসে এই গল্পটা পড়াচ্ছিলেন আমি আমার পাশের সিটে বসা বন্ধুকে এই গল্প নিয়ে আমার থিসিস খানা শুনাচ্ছিলাম এবং এরকম একটা গল্পের জন্য কেন লেখক নোবেল না হোক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পুরস্কার পাবে না তাই নিয়ে যারপরনাই বিস্ময় প্রকাশ করছিলাম.

তারপর আরো একধাপ যখন উঠলাম পেলাম "রিলিফ ওয়ার্ক"লেখাটা,আরে ব্বাস এই লোক তো দেখি একখান রত্ম বটে!পড়ে একথাটাই মনে হতে লাগলো, কিন্তু সিলেবাসে না থাকায় গল্পখানা আর ম‍্যাডাম পড়াননি,তাতে আমি মুষড়ে পড়লেও সহপাঠী আগেরবারের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে হাফ ছেড়ে খুশিতে বাকবাকুম করছিল😑

তারপর মেঘে অনেক বেলা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যখন নানাবিধ যাঁতাকলের যাতায় আমি অতিষ্ট তখুনি পেলাম হুজুর কেবলা হাতের কাছে,আহ কি জাদুময় সেই লেখা😄

রিডার্স ব্লক কাটাতে স্মরণজিৎ ছিল আমার ঔষধ আর মনসুর সাহেবর আয়নায় সমাজের এই ভন্ডামী, কুসংস্কার গোঁড়ামী কে খুব সুন্দর করে ফুটে উঠতে দেখে মনে হল আরে এটা তো আমার সেই রুপকথার সোনার কাঠি যার স্পর্শে পঙ্কেও পঙ্কজ ফুটে,ঘুমন্ত পুরী থেকে নির্ঝরের ও স্বপ্নভঙ্গ হয়.

সাতটা গল্প বিশ্বাস করুন এগুলো গল্প নয় এগুলো হলো এক একটা বোম, এযুগে মনসুর সাহেব এগুলো লিখলে নির্ঘাত আমাদের বকধার্মিকরা নাস্তিক আর সরকার রাজরা দেশদ্রোহী বলে কত কত ধারায় চৌদ্দশিকে কতদিনের জন্য কয়েদ করতেন আল্লাহ মালুম 😁
রেটিং: 🌠🌠🌠🌠.৬০
Profile Image for DEHAN.
278 reviews80 followers
June 18, 2020
এ আর কি রিভিউ দিবো?
সিরিয়াস জিনিস নিয়া নাহয় তামাশা করলাম কিন্তু এই তামাশা নিয়ে কি তামাশা করবো ! আবুল মনসুর আহমেদ ধর্ম নিয়ে তামাশার জন্য প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছেন। আয়নার সব কয়টা গল্পই ধর্ম যারা ব্যবসা হিসেবে ধরে নিয়েছেন তাদের চেহারা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews240 followers
April 21, 2017
সাধারণত আমাদের সমাজ কিংবা জাতীয় জীবনের নানা অসঙ্গতির কথা কড়া ভাষায় সমালোচনা করতে গেলে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। সরকার কিংবা এ জাতীয় সমালোচনা করলে কখন যে চৌদ্দ শিকের ভিতরে ঢুকে যাবেন, টের পর্যন্ত পাবেন না।

এ তো গেল সরকারের কথা.. ধর্ম নিয়ে কিছু বলতে চান.. তাহলে সবাই নড়েচড়ে বসবে। পান থেকে চুনটি খসার উপায় নেই। এক দল বলবে - হালায় নাস্তিক, অপরদল বলবে - শালা ধর্মান্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি.. অতএব, সবাইকেই যদি খুশি রেখে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান.. তবে ব্যঙ্গাত্মক রচনার জুড়ি নেই। কঠিন কথা হাসতে হাসতে বলাই যায়, এতে পাপের কিছু নেই। আবুল মনসুর আহমদ এখানেই সফল।

অনেক সময় মনে হবে, লেখকের বুঝি বা বিশেষ কোন ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী/ সম্প্রদায়ের উপর তুমুল রাগ আছে, যার ফলে এ বইয়ের সৃষ্টি। আসলে তা নয়... তাঁর সমস্ত রাগ অজ্ঞতা, কুসংস্কার আর ভন্ডামির বিরুদ্ধে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রের ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়ার মত, তাঁর সরস লেখাগুলো পড়ে হাসতে হাসতে যেমন গড়াগড়ি খাবেন, পরক্ষনেই সে হাসির আড়ালে থাকা কঠিন কথাগুলো ভাবতে বাধ্য হবেন। মনে হবে ঠিকই তো! এমনই তো হচ্ছে আমাদের সমাজে। ( অবশ্য বইটার প্রেক্ষাপট ১৯৩৫ সাল)

বইটা সাতটা ছোটগল্পের সংকলন। হুযুর কেবলা, গো-দেওতা-কা দেশ, নায়েবে নবী, লীডরে কওম, মুজাহেদীন,বিদ্রোহী সংঘ, ধর্ম রাজ্য ইত্যাদি।

মূল বিষয়বস্তু হল ধর্মের নামে ভন্ডামি ( যা পূর্বেও ছিল এখনও আছে) , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সমকালীন রাজনীতি, সুযোগ সন্ধানী মানুষের গল্প, স্বার্থ রক্ষার জন্য মানুষ কি না করতে পারে সেসবের আখ্যান -_-

মোটকথা তখনকার সময়ের একটা ছোটখাটো চিত্র দুই মলাটের মাঝে। আয়নার মাধ্যমে আমরা যেমন আমাদের দেখতে পাই, আবুল মনসুর আহমদের আয়না দিয়ে আমরা সে সমাজের চিত্রই দেখতে পাই। এখানে বইয়ের নামও সার্থক। কিছু কিছু জায়গায় চরিত্রায়ন কিংবা ডায়লগের ক্ষেত্রে লেখক বেশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দু:খকে পরিহাস হিসেবে, তখনকার রাজনীতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ত্রুটি, সে সময়কার বাঙালি সমাজ ও বাঙালি চরিত্র আর তাদের মন-মানসিকতা তুলে ধরেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়।

ভাবতেই অবাক লাগে.. প্রায় একাশি বছর হল বইটা লেখা হয়েছে.. সময় পাল্টেছে কিন্তু আমাদের মানসিকতা কতটুকু পাল্টেছে? বইটা অবশ্যই সে প্রশ্ন রেখে যায়।

আর কি?

স্বয়ং কবি নজরুল যেখানে প্রশংসা করে গেছেন... সেখানে আমার প্রশংসা বানী অত্যুক্তি মনে হতেই পারে। সে চেষ্টা আর না-ই বা করলাম।
#বোঝ_নাই_ব্যাপারটা_? ;)

বই : আয়না
লেখক : আবুল মনসুর আহমদ
জনরা : স্যাটায়ার / ব্যাঙ্গাত্মক
রেটিং : ৫/৫

HaPpY_ReaDing
Profile Image for NaYeeM.
229 reviews66 followers
October 21, 2021
"আয়না" বইটি হল গল্প-সংকলন।
গল্পগুলোতে যে বিষয়গু���ো উঠে এসেছে তা হল::---
**আসল যে কথাটা ধর্মতে বলা আছে তা বিকৃত করে ঈমাম/মাওলানা নিজেদের মতো করে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হাদিস বানানো
**নিজেদের বানানো নীতিবাক্যে/হাদিস নিয়ে এক মাওলানার সাথে অপর মাওলানার মধ্যে সংঘর্ষ/যুদ্ধ বেদে যাওয়া। একজন বলে আমার টা ঠিক, অন্যজন বলে আমার টা ঠিক। কিন্তু দেখা যায় আসলে কেউ ই ঠিক না
**ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা/নিজ কাজ হাসিল করা
**গ্রামের মানুষদের কুসংস্কারে বিশ্বাস

বইটি উনি লিখেছিলেন অনেক যুগ আগে(প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে), তবে উনার গল্পগুলোতে বর্তমান অবস্থার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছিল।
ধর্মে কুসংস্কার আগে ছিল, এখনও আছে।
মাওলানা মাওলানাতে সংঘর্ষ এসব আগে যেনন ছিল, এখনও আছে

আমি তেমন একটা সাধু-ভাষার পাঠক নয়।
অনেক লেখা সাধু ভাষা হলেও পড়ে ভাল লাগে, তবে এটার লেখা কেমন কাটখোট্টা প্রকৃতির লেগেছে। তবে এমন একটা বই পড়া উচিত ছিল, এমন একটা অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে হয়েছে বইটি শেষ করে

তবে আমার মতে এই বইটি আগে/পরে সবার একবার পড়ে দেখা উচিত। এই সাবজেক্টে যত বই পড়িনা কেন, এই বইটিকেই আমি প্রথমে জায়গা দিব। কারণ, এই বইটি একটা ক্লাসিক হয়ে থাকবে সবসময় এবং রস-কষ মিশিয়ে লেখক বেশ সার্থকভাবে ব্যাপারগুলো তুলে ধরতে পেরেছেন বলে মনে করি......
Profile Image for Smita Das.
6 reviews31 followers
October 9, 2015
আবুল মনসুর এযুগে জন্মালে তাঁর নাস্তেক ব্লগার খেতাব পাওয়া কেউ ঠেকাতে পারতোনা
Profile Image for Rifat.
502 reviews327 followers
September 16, 2020
সবকিছু সাইডে রেখে আগে বিড়ি বাবার কথা বলে নিই।কয়েকদিন আগেই একটা ভিডিও দেখলাম। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে সবাই মনের খুশিতে রোগ সারানোর জন্য বিড়ি বাবার স্পেশাল বিড়িতে টান দিচ্ছে। একটা দুইটা নাহ! এক্কেবারে চার-পাঁচটা বিড়ি একসাথে ধরিয়ে টান দিতে দিতে জিগিড়ে বলতে হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এর আবার আলাদা মানেও আছে! লা ইলাহা অর্থ নাকি আমি আমার মধ্যে নাই (আস্তাগফিরুল্লাহ!!) বিড়ি বাবার চিকিৎসাতে সুফল পেয়েছেন এমন একজন মহিলা জানালেন ওনার দুইটা ফুসফুস না থাকা সত্ত্বেও বিড়িতে টান দিয়েই সুস্থভাবে বেঁচে আছেন আর তিন সন্তানের জননী হয়ে আজও সংসার করছেন🐸
এই সময়েও এই অবস্থা!!!!!!

আর আয়না বইটি আমাদের এই সমাজের প্রতিচ্ছবি। ধর্ম,বিশ্বাস,অজ্ঞতা আর সরলতাকে পুঁজি করে যে ভণ্ডামি কতিপয় মানুষ করে যাচ্ছে তারই চিত্র।

১. হুজুর কেবলা
২. গো-দেওতা কা-দেশ
৩. নায়েবে নবী
৪. লীডরে-কওম
৫. মুজাহেদীন
৬. বিদ্রোহী সংঘ
৭. ধর্ম-রাজ্য

এই ৭ টি গল্প শুধু গল্প নয়, অতি উচ্চমানের স্যাটায়ার!! দুঃখবোধ করতে করতে হাসতে থাকবেন অথবা হাসতে হাসতে দুঃখবোধ করবেন :)
Profile Image for Royhana Akter Rimu.
73 reviews5 followers
October 14, 2020
এই বইটা পড়ে বুঝতে পারলাম আমার আর বোনের হাসির খোরাক একদম আলাদা। এই বইটা পড়ে সে প্রচন্ড হাসছে। আর এদিকে আমার অল্প একটু হাসি পাইছে কি না মনে পড়ছে না। 🙄🙄🙄 সবগুলো গল্পের প্লট এক। একটু বিরক্তও লাগছে এজন্য। যাই হোক লেখকের উচিৎ হয়নি একটা বইয়েই সেম সেম ধারার গল্প ঢুকিয়ে দেওয়া।
Profile Image for Manzila.
167 reviews160 followers
April 12, 2022
শূন্য দিতাম, শুধু "বিদ্রোহী সংঘ" গল্পটা এনজয় করসি তাই এক স্টার। প্রায় সব গল্পের একই কাহিনী বা কোন কাহিনীই নাই। এগুলা wit? satire? or dare I say utter garbage?
what a shame, baby, what a shame
Profile Image for Mostafizur Rahman Shuvo.
9 reviews7 followers
April 8, 2022
বই নিয়ে কথা বলার আগে লেখককে নিয়ে কিছু বলা দরকার। আবুল মনসুর আহমদ শুধু একজন সাহিত্যিক নন, তিনি একজন রাজনীতিবিদও। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বণিজ্যমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এবার আসি বই প্রসঙ্গে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একজন রাজনীতিবিদ যখন লেখক হন, তার লেখায় সেই সময়ের মানুষের জীবন যাপন, সমাজ ব্যবস্থা উঠে আসতে বাধ্য। আর যদি তিনি সুলেখক হন? তাহলে তিনি ক্যানভাসে ছবি আঁকার মত করে বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারেন। কারণ মানুষের সাথে মেশার, মানুষের কথা শোনার, মানুষকে সাথে নিয়ে সমাজ বদলাবার সুযোগ তারাই বেশি পেয়ে থাকেন।
বাংলা সাহিত্যে আবুল মনসুর আহমদের আলাদা একটা খ্যাতি আছে রম্য লেখক হিসেবে। লেখকের 'আয়না' বইটি প্রথম বই হিসেবে প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে। কিন্তু আয়না বইয়ের গল্পগুলো তারও আগে লেখা। ১৯২২-২৯ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকায়। সালগুলো খেয়াল করুন, সময়গুলো ভাবুন। প্রায় ১০০ বছর আগে লেখা গল্পগুলো। খুব একটা আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করা হয়নি। তবে আমার ভুল ভাঙতেও খুব একটা সময় লাগেনি! ৭ গল্পের এই বইয়ের প্রথম গল্প থেকেই আগ্রহ বেড়েছে, যা বই শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সাথেই থেকেছে। গল্পগুলোতে এত চমৎকারভাবে ভন্ডামি, ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সহজ সরল মানুষকে বোকা বানানো, আর এই বোকা মানুষগুলোর নিজেদের বিবেক বা চিন্তা ভাবনা কাজে না লাগানো তুলে ধরেছেন, মুগ্ধ হতেই হয়! আছে তৎকালীন সমাজের সাম্প্রদায়িকতার গল্পও। সেই সাথে লেখকের রম্য রচনায় দখল ভুলে গেলে চলবে না! হাস্যরসের মাধ্যমে এত সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন মানুষকে, সমাজকে, অবাক হতে হয় ভেবে যে গল্পগুলো ১০০ বছর আগের! আমি জানি, আপনিও ঠিক আমার মতই ভাববেন, 'এসব তো আমাদের চারপাশে প্রতিদিনই দেখে চলেছি! তাহলে কি আমরা একটুও বদলাইনি! ১০০ বছর পরেও?'
মুগ্ধ হয়েছি লেখকের লেখনিতে। হাস্যরসের পাশাপাশি লেখক আপনাকে অনেক চিন্তার খোরাকও জুগিয়ে দিবেন।
Profile Image for Shuvo.
84 reviews3 followers
March 1, 2023
বইটার নাম 'আয়না' রাখার কারণ বোধহয় এই যে, বইটিতে বঙ্গদেশের একটা বিশেষ সময়, যখন কথায় কথায় ধর্মের নামে দাঙ্গা চলমান - সেই সময়টার একটা বিচ্ছিন্ন প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাই।

সেইসময়ের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলমান সমাজের চিত্র লেখক বেশ হাস্যরসের ( সিরিয়াস ধরনের হাসি আসে নি যদিও) সাহায্যে উপস্থাপন করেছেন।

'হুজুর কেবলা' গল্পটির পীর সাহেবের চরিত্রটি 'লাল সালু'র মজিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। মুরিদের স্ত্রীকে বিয়ে করার জন্য পীর সাহেবের ছলাকলার আশ্রয়গ্রহণ এবং অন্ধভক্তদের সমর্থন সেই সময়ের একটা বিচ্ছিন্ন স্থিরচিত্র প্রকাশ করে।
সেই সময়ের পিছিয়ে পড়া কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং স্বার্থান্বেষী ধর্মব্যবসায়ীদের কার্যকলাপ ; 'গো দেওতা কা দেশ' এবং 'বিদ্রোহী সংঘ' বাদে সবগুলো গল্প প্রায় এই একইরকম থিমকে কেন্দ্র করে রচিত।

কয়েকদিন সময় নিয়ে পড়েছি বলে হয়তো বিরক্তি লাগে নি। তবে সবগুলো প্রায় একই ধাঁচের, একই থিমের গল্প হওয়ায়, টানা পড়লে বেশ বিরক্ত হতাম নিশ্চয়।

র��টিং: ৩.৫/৫
Profile Image for Shahab Mosharraf.
84 reviews5 followers
May 16, 2022
সময়কাল বিবেচনায় খুবই শক্তিশালী স্যাটায়ার! কিন্তু আবুল মনসুরের ফুড কনফারেন্স বইয়েও বিষয়টা লক্ষ্য করেছি, ঘুরে ফিরে একই বস্তুর প্রত্যাবর্তন। কোন এক কারণে মনসুর সাহেব ধর্ম নিয়ে স্যাটায়ারের সময় একটি ধর্মকেই বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া সাহিত্যগুণ বিচারে বইটিতে মনসুর সাহেব নিজের নামের প্রতি যথেষ্ট সুবিচার করেছেন।
Profile Image for Tamanna Ani.
16 reviews52 followers
May 12, 2020
মাস্টারপিস!
কালের স্রোতে এ বই হারিয়ে যাবেনা!
প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে বহুদিন!
বইপ্রেমীদের জন্য মাস্টরিড একটা বই!
Profile Image for অমর্ত্য দাশ.
16 reviews6 followers
April 4, 2023
ধর্মকে পুঁজি করে বাংলার নেতৃস্থানীয় ধর্মগুরুদের ব্যবসা, প্রতিনিয়ত নিজ নিজ স্বার্থোদ্ধারের চেষ্টা; হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যকার সম্প্রদায়গত ভেদাভেদের কারণে চলমান টানাপোড়েন - এসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লেখা 'আয়না' বইয়ের সাতটি গল্পই আজকের দিনেও অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাসঙ্গিক।
Profile Image for Imam Abu Hanifa.
115 reviews26 followers
May 18, 2017
আবুল মনসুর আহমদ রচিত "আয়না" গ্রন্থে মোট সাতটি গল্প স্থান পেয়েছে।

★হুযুর কেবলাঃ গল্পটিতে একজন ভন্ডপীরের ভন্ডামি দেখানো হয়েছে। এমদাদ নামের একজন পীরের মুরিদ হতে গিয়ে ভন্ডামি দেখতে পায়। মজার মজার ভন্ডামি দেখতে গল্পটা পড়তে হবে।

★গো-দেওতা-কা দেশঃ এই গল্পে লেখক হিন্দুদের গোমাতার প্রতি কটাক্ষ করেছেন। লেখক ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে গরুদের দেশে চলে যান। সেখানে কোনো মানুষ নেই। সেখানে গিয়ে গরুদের কাছে অদ্ভুত সব গল্প শোনেন। কি সেই গল্প! সেটা বই পড়েই জানবেন। :-)

★নায়েবে নবীঃ এই গল্পে এক ভন্ড ও সুবিধাভোগী মাওলানার কথা উল্লেখ করেছেন। দুই এলাকার দুই মাওয়ালা সুবিধা ভোগের জন্য নিজেদের মনগড়া মাসয়ালা দেন। মজা পেতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে। ;-)

★এই গল্পটিও মুসলিম সমাজের জাতিগত বিভেদ নিয়ে একটি ব্যাঙ্গ রচনা। হানাফি ও মোহাম্মাদীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, তার ভিতর থেকে একজন সুবিধাবাদী লোকের উথান ইত্যাদি নিয়ে মজাদার মাল-মসলা সহ।

★মুজাহেদীনঃ গ্রামের যুব সম্প্রদায়ের উদ্দোগ্যে যখন সকল মানুষ যখন ভেদাভেদ ভুলে শিক্ষার আলো পাওয়ার আশায় স্কুল খুললো, তখন দুই সুবিধাবাদী ভন্ড মৌলভির কুটবুদ্ধিতে গ্রামে বেধে গেলো তুমুল ঝগড়া। শেষ পর্যন্ত ঝগড়ার ফলাফল কি? স্কুলের কি হলো!!

★ইংরেজ সরকারের উপর বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে দেশ থেকে ইংরেজদের বিতারিত করতে চান লেখক। এমন সময় সন্ধান পেলেন এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। কি করে সেই গোষ্ঠী? তারা সমাজের প্রচলিত প্রথা ভেঙে ফেলতে চায়। কিভাবে??
পড়লে হাসি আটকাতে পারবেন না :-D

★ধর্ম-রাজ্যঃ হিন্দুরা মসজিদের সামনে থেকে বাদ্যযন্ত্র বাজাবে এটা মুসলিম হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। দলে দলে মুসলিমরা এক হয়ে গেলো ধর্ম রক্ষার্থে। হিন্দুরাও পিছপা হবে কেন? তারাও বাদ্যযন্ত্র বাজাবে। ফলে দুই পক্ষের সংঘাত অনিবার্য। কেউ পিছু হটবে না। সবাই চায় ধর্ম যুদ্ধে প্রাণ দিতে। শেষ পর্যন্ত কি হলো! কেন গল্পের নাম "ধর্ম-রাজ্য"!

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ বইটা ক্লাস ৮/৯ এ পড়েছি। অনেকদিন পর আবার পড়লাম। ব্যাঙ্গ রচনা হলেও গল্পের মাঝে সমাজের প্রধান সমস্যাগুলোর প্রতি তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। "আয়না" বইয়ের প্রায় সব গল্পই ১৯২২ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে রচিত এবং 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ধার্মিকতার আবরণে সমকালীন সমাজের যে সব ব্যাধি লেখক দেখেছেন, তারই মুখোস উম্মোচন করেছেন। প্রতিটি গলে্প হাসির খোরাক থাকলেও হাসির পিছনে একটা কষ্ট থেকে যায়। আবুল মনসুর আহমদের ব্যাঙ্গ রচনার প্রতিভা সম্পর্কে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বইয়ের ভূমিকায় বলেন,
'ভাষার কান মলে রস সৃষ্টির ক্ষমতা আবুল মনসুরের অসাধারন। আবুল মনসুরের ব্যাঙ্গের একটা অসাধারন বৈশিষ্ট এই যে, সে ব্যাঙ্গ যখন হাসায়, তখন হয় সে ব্যাঙ। কিন্তু যখন কামড়ায়, তখন সে হয় সাপ; আর সে কামড় গিয়ে যার গায়ে বাজে, তার মুখের ভাব হয় সাপের মুখের ব্যাঙের মতই করুন।'

রকমারি লিংকঃ https://www.rokomari.com/book/15369
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
209 reviews25 followers
March 23, 2020
" আদুভাইর কবরে খোদাই করা মার্বেল পাথরের টেবলেটে লেখা রয়েছে : Here sleeps Adu Mia who was promoted from Class VII to Class VIII "— কালজয়ী ছোটগল্প 'আদু ভাই' এর শেষ অংশবিশেষ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর— বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়— শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়— প্রমুখের সাহিত্যরস ধারণ করার আগেই ছোটবেলায় 'আদুভাই' গল্পটি মনে গভীর ছাপ ফেলে দিয়েছিল৷ এই অসাধারণ ছোটগল্পের রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ৷ ব্যাঙ্গাত্মক গল্প/কবিতার মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাবের মুখোশ-উন্মোচনে যার প্রতিভার সাক্ষর অতি উজ্জ্বল৷
_
'আয়না' সাতটি ব্যাঙ্গ-গল্পের সংকলন৷ ধর্মের নামে ভন্ডামি, রেষারেষি, বিভেদ— সংঘাত এবং ধার্মিকতার আড়ালের সমাজের অন্ধকার দিক ব্যঙ্গরস আর পরিহাসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে অধিকাংশ গল্পে৷ 'হুযুর কেবলা' গল্প ভণ্ড-পীরের ধর্ম ব্যবসার জীবন্ত চিত্র৷ অন্ধ ভক্তদের সাহায্য গ্রাম্য মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্ম-বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে প্রতারিত সমাজের বাস্তব রূপায়ণ৷ 'গো-দেওতা-কা দেশ' গল্পে তিনি ধর্মান্ধতায় বন্দী হিন্দুদের গো-হত্যা রোধকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গাকে বিদ্রুপের ভঙ্গিতে তুলে ধরেছন৷ 'মুজাহেদিন' গল্পে স্বার্থপর মোল্লা-মৌলবিরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মাযহাবী-কোন্দল সৃষ্টি করে নিরীহ মানুষের মাঝে আত্নকলহের বীভৎস চিত্র৷ 'নায়েবী নবী' খেলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ধর্ম-ব্যবসায়ী মৌলবিদের আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক চিত্র৷ 'বিদ্রোহী সংঘ' ইংরেজদের প্রথার বিরুদ্ধে ভণ্ড— নামেমাত্র বিদ্রোহী সংঘের পশ্চাৎদেশে কটাক্ষের কঠিন পদাঘাত৷ 'লীডরে কওম' অশিক্ষিত মানুষের মাযহাবী বিদ্বেষকে পুঁজি করে নিজেকে উঁচুস্তরে প্রতিষ্ঠিত করার বাস্তবমুখী গল্প৷ 'ধর্মরাজ্য' গল্পে হিন্দু-মুসলমানদের অতি ধার্মিকতার মনভাবের ফলশ্রুতিতে সংঘাত এবং উভয় সম্প্রদায়ের অধঃপতনের আলেখ্য৷
_
আবুল মনসুর আহমদ 'আয়না'(১৯৩৫) গল্পগ্রন্থে সমকালীন সমাজের বর্ণনা তুলে ধরলেও আমাদের বর্তমান সমাজেও একই চিত্র প্রকটভাবে লক্ষনীয়৷ এখনো ধর্মান্ধদের বিদ্রোহ সংঘাতে আমাদের ধর্মভেদে জাতি বিভক্তের রেখাচিত্র সুস্পষ্ট৷ সেই ধর্মান্ধদের অতি ধার্মিকতাকে পুঁজি করে ভণ্ড ধর্ম ব্যবসায়ী নিজেরদের লোভনীয় স্বার্থ উদ্ধার করে চলছে৷ তথাকথিত ধর্ম রক্ষার্থের দাঙ্গায় নির্মমভাবে প্রাণ হারাচ্ছে হাজারো মানুষ৷ এই আধুনিক সমাজে মানবতার বিবেক বিকলাঙ্গ৷
Profile Image for Mojaffor Hossain.
57 reviews19 followers
May 31, 2021
আবুল মনসুর আহমদের ‘আয়না’ গল্পগ্রন্থটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। সেই অর্থে গ্রন্থটির ৮৬ বছর বয়স হলো। কিন্তু গ্রন্থে স্থান পাওয়া গল্পগুলোর বয়স আরও কিছুটা বেশি—আমরা জানি গত শতকের বিশ দশকের শেষ দিকে লেখা। যে কারণে আমরা আজ গল্পগুলোর রচনাকালের ৯০ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে সমবেত হয়েছি। একটি গ্রন্থের রচনাকালের এতটা বছর পর সমবেত হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাককে পারে: হতে পারে গ্রন্থটি ক্লাসিকের মর্জাদা পেয়েছে, অথবা স্বকাল অতিক্রম করে সমকালে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উছেঠে কিংবা গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, বা এর সাহিত্যিক গুণাবলী ও নির্মিতির দিকটি আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
আয়না গল্পগ্রন্থের ক্ষেত্রে এর সবকটিই অংশত বা সম্পূর্ণরূপে সত্য হিসেবে খাটে।
বিষয়টি একটু বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
আয়না গল্পগ্রন্থটিকে আমরা বাংলাদেশের ক্লাসিক সাহিত্য হিসেবে ভাবতে পারি। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে, বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ স্বাধীনতার সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভাজনের মধ্য দিয়ে। ত্রিশের দশক কিংবা তারও কিছুটা আগে থেকেই আমরা জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে, রাজনৈতিক প্রশ্নে, শিল্পসাহিত্য প্রশ্নে একটু একটু করে দাঁড়াতে শুরু করেছিলাম। সাহিত্যের একটা বিরাট অংশ তখন রচিত হয় সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে। ১৯৩৫ সালে, যে বছর গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, জার্মান কমিনটার্নের বিশ্ববরেণ্য নেতা ডিমিট্রিয়ফ সমাজ পরিবর্তনে সাহিত্যিকদের কাছে আবেদন করেছিলেন, ‘এই সংগ্রামে ব্যবহার করার জন্য গল্প-কবিতা-উপন্যাসের শিল্পিতমোড়কে আমাদের একটি ধারাল অস্ত্র দিন।’ অনুরূপ বায়বীয় ঘোষণা আমাদের এখানেও বেজেছিল। সময়ের সেই ডাকে আমাদের লেখকরা নড়েচড়ে বসেছেন। পঞ্চাশের পর যখন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা ভবিতব্য হয়ে ওঠে তখন আমাদের লেখকরা বাংলা সাহিত্যের পুরোনো গদ্যরীতি বা বিন্যাসরীতি বাতিল করে নতুন করে ভাষা ও বর্ণনাশৈলী নির্মাণ করতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের স্বকীয় সাহিত্যের চেহারা তখন থেকেই প্রকাশ্য হতে শুরু করে। কিন্তু তার ভিত্তিমূল গ্রন্থিত হয়েছে তারও আগে। ত্রিশের দশকের আগপিছ থেকেই।
এ পযায়ের গুরুত্বপূর্ণ লেখক আবুল মনসুর আহমদ। ১৯৩৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু না হলেও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট ও সাহিত্যিক-ঐতিহ্য বিবেচনায় ‘আয়না’ গল্পগ্রন্থকেই আমরা বাংলাদেশ পর্বের অন্যতম প্রথম গল্পগ্রন্থ বলতে পারি। কারণ এই গল্পগ্রন্থের যে মেজাজ তা সমন্বিত বাংলা সাহিত্যের গতি-প্রকৃতির সঙ্গে মেলে না। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’, তারাশঙ্করের ‘প্রেম ও প্রয়োজন’ প্রকাশিত হয় একই বছর। বিভূতিভূষণের গল্পগ্রন্থ যাত্রাবাদল প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে। এর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত দিয়ে বাংলা ছোটগল্পের যাত্রা শুরু হয়ে আবুল মনসুর আহমদের আগে-পরে আরও অনেক খ্যাতিমান লেখক দুর্দান্ত সব ছোটগল্প লিখেছেন, কিন্তু এদের কেউ আবুল মনসুর আহমদের মতো ব্যঙ্গ-রসাত্মকভাবে মুসলমান সমাজের দোষ-ত্রুটি এবং তথাকথিত পীর-হুজুরদের কপটতা ও ভন্ডামি তুলে ধরেননি। এখানে আমি স্মরণ করতে চাই আবুল ফজলের ‘চৌচির’ উপন্যাসটির কথা। পাশাপাশি ১৯২৭ সালে ‘জয়’-গল্পে তিনি ধর্মের বাড়াবাড়ি থেকে মারাত্মক পরিণতির কথা তুলে ধরেন। এই গল্পে আমরা দেখি, বুকের উপরে হাত রেখে নামাজ পড়ায় সিরাজের বিয়ে ভেঙে যায়। স্বকালে মুসলমান গল্পকারদের মধ্যে কাজী আবদুল ওদুদকে এ পযায়ে স্মরণ করা প্রয়োজন মনে করছি।
কিন্তু যে ক্ষুরধার গদ্য ও গতি নিয়ে আসেন আবুল মনসুর আহমদ তা আজও অনন্য। সাহিত্যকে তিনি সমাজ বদলে অস্ত্র করে তোলেন। তাঁর ভাষার সরলীকরণের সঙ্গে যোগ হয় আধুনিক চেতনা ও বিশ্ববোধ। সবমিলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদি চেতনা-সমৃদ্ধ সাহিত্যের যে ঐতিহ্য তার একটা শক্ত ভিত গাঁথা আবুল মনসুর আহমদের ছোটগল্পে।
গ্রন্থটি অবশ্যই স্বকাল অতিক্রম করে সমকালে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমি ব্যক্তিজীবন থেকে সেটা নানাভাবে উপলব্ধি করেছি। আমার বেড়ে ওঠা মেহেরপুর জেলার একটি গ্রামে। সেখানে আহলে হাদিস ও হানাফির মধ্যে কোন্দলের ঘটনা প্রায় নিত্যদিনের। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলতে আমরা বুঝি এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষের শ্রদ্ধাবোধ। কিন্তু এখানে অন্যধর্মের কোনো মানুষ না থাকলেও সম্প্রীতিবোধের ঘাটতি আছে মুসলমানদের মধ্যেই দুটি ভিন্ন মাজহাবের কারণে। আমি নিজে দেখেছি অকারণে আমাদের বাড়ির দুপাশে দুটি মসজিদ—হানাফি-আহলে হাদিসের অনুসারিরা কেউ কারও মসজিদে নামাজ পড়ে না। একসঙ্গে আযান দেয় না। এমনকী পারত পক্ষে বিয়েও হয় না এই দুই পরিবারের মধ্যে। আবুল মনসুর আহমদের গল্পের তথাকথিত ভণ্ড-পীর এবং মৌলানাদেরও আমাদের এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে অচেনা নয়। ১৯২০ এবং ৩০-এর সময়কার বাংলার মুসলমানদের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত উন্নয়ন ঘটলেও বোধের জাগরণ ঘটেনি বরং ক্ষেত্রবিশেষ আরও অবনতি ঘটেছে। আমরা যে আজ আরও পিছিয়ে গেছি তার প্রমাণ আবুল মনসুর আহমদ যে সময়ে দাঁড়িয়ে গল্পগুলো লিখতে ও প্রকাশ করতে পেরেছেন সেই সময়ের মতো উদার সময়ে আমরা নেই। এখন ধর্মীয় ভণ্ডামি নিয়ে লিখলে এবং যে সম্পাদক প্রকাশ করবেন—দুজনের জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে। আমি নিজে ২০০৭ সালে আবুল মনসুর আহমদের চেয়ে মৃদুস্বরের গল্প লিখে ছাত্রশিবিরের রোষানলে পড়েছি। ২০১৩ সালে চাঁদে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চেহারা দেখা গেছে রাত ১২টার পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সদরসহ আশপাশের এলাকার মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর শতশত বিশ্বাসী মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। এই ঘটনা নিয়ে ব্যঙ্গ করায় আমাদের অনেক লেখক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। অন্ধ গোড়ামি থেকে উত্তরণ ঘটেনি পাশের দেশ ভারতেও। আবুল মনসুর আহমদ ‘গো-দেওতা-কা দেশ’ নামে যে গল্পটি সেই সময় লিখেছেন আজ সেটি ভারতে বসে কোনো লেখককে লিখতে হলে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে লিখতে হবে। বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনো দেশের সরকারই এসব ক্ষেত্রে লেখকের পক্ষে সুস্পষ্ট কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। ফলে আজ বৈশ্বিক সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেই ‘আয়না’ গল্পগ্রন্থটি পাঠ ও পযালোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
গ্রন্থটির অন্তুর্ভুক্ত গল্পগুলোর শিল্প ও নির্মিতি নিয়ে দুয়েকটি কথা বলে আলোচনা শেষ করতে চাই। আবুল মনসুর আহমদের গদ্যভাষার অন্যতম শক্তি হিউমর এবং উইটের ব্যবহারে। বাংলাদেশের কোনো লেখক এই শিল্পে তাঁকে অতিক্রম করতে পারেননি। আমি আবদুশ শাকুরের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তার উইট অতিমাত্রায় ইনলেকচুয়াল, সাধারণ পাঠকের জন্য নয় সেসব। আবুল মনসুর আহমদ সব ধরনের পাঠকের জন্য লিখেছেন।
আবুল মনসুরের আগে-পরে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, পরশুরাম, সুকুমার রায়, শিবরাম চক্রবর্তী, সৈয়দ মুজতবা আলী, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রম্যগল্প লিখেছেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই অসাধারণ শ্রষ্টা। তাঁদের উইট নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল, রসালো ও তীক্ষ্ন। কৌতুক রূপ ও রঙ্গরস সেখানে উপভোগ্য এবং অনেক বেশি শিল্পীত। তবে তাঁদের থেকে আবুল মনসুর আহমদ কিছুটা আলাদা হয়েছেন সরল ও প্রত্যক্ষ বয়ানে। তিনি শ্লেষের ভেতর দিয়ে নির্দিষ্ট করে মুসলমান সমাজের অন্ধবিশ্বাসে আঘাত করে আরও বেশি মর্মভেদ করেছেন। কৌতুকটা সেখানে আর শেষ পযন্ত মুখ্য থাকেনি। অর্থাৎ হিউমর এবং উইট শেষ পযন্ত জাতিগত বা সমষ্টিক প্যাথোজে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ সময় তার ক্ষোভ এবং হাস্যরসের স্থূলরুচির ভারসাম্য তিনি চমৎকারভাবে রক্ষা করেছেন। ফলে পাঠকের জন্য সবসময় উপভোগ্য থাকে না, কারণ পাঠক নিজেই অনেক সময় লক্ষ্যে পরিণত হন।
গল্পের বয়ানে খুব বেশি অভিনবত্ব না থাকলেও ন্যারেটিভের কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। আমরা দেখি ‘গো-দেওতা-কা-দেশ’ গল্পে তিনি প্যারাবলের মতো গরুকে চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। গল্পের এই অংশটি যদি স্বপ্নে না ঘটে বাস্তবের অংশ হতো তাহলে চমৎকার আধুনিক পরাবাস্তব গল্প হয়ে উঠত। কিন্তু শ্লেষধর্মী রম্যগল্প হিসেবে শেষ পযন্ত দাঁড়িয়ে গেছে।
Profile Image for A. M. Faisal.
76 reviews20 followers
September 20, 2019
১৯২২-১৯২৯ সালে বসে লেখা বইটিতে এই ভাষায়, এমন সুচারুরূপে ব্যঙ্গরচনা সত্যিই অভাবিত। ১৯৩৫ সালে বইরূপে প্রকাশিত। সক্রিয় রাজনীতিবিদ, আইন ব্যবসায়ী আবুল মনসুর আহমেদ সাহেব যেভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বশীল-ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, তা আশ্চর্যজনক। নেতাগোত্রীয়দের অসাড়তা, স্বার্থপরতা আর জনগণের নির্বুদ্ধিতা তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন অসামান্য কিছু রূপক দিয়ে। তারই সাথে লেখকের সুপরিমিত রসবোধ ও ভাষার ব্যবহার অনন্য। তৎকালীন বাংলার ব্যঙ্গরচনার অন্যতম ঝান্ডাধারী ময়মনসিংহের এ নে���ার, লেখকের।
হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বের শূন্যতা, এর সুদূরপ্রসারী ভয়াবহ ফল (গো দেওতা কা দেশ, ধর্মরাজ্য), মাযহাবের নামে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, এতে করে সমগ্র জাতির ক্ষয়সাধন (মুজাহেদিন, লিভরে কওম), ধর্মের নামে ব্যবসার নির্লজ্জ আস্ফালন (নায়েবে নবী, লিডরে কওম), সাধারণের বিদ্রোহের নামে বৃথা ও নিস্ফল তুর্কী নাচন (বিদ্রোহী সংঘ), সুফিজমের নামে পীর-আউলিয়াদের ধোঁকাবাজি ও বেলেল্লাপনা (হুজুর কেবলা) - এসব নিয়েই 'আয়না'। কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছেন এর 'আয়নার ফ্রেম' নামের ভূমিকায়ঃ
"আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে"

আর তারই সাথে মনসুরের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাঃ
"ভাষার কান মলে রস সৃষ্টির ক্ষমতা আবুল মনসুরের অসাধারণ। এ যেন পাকা ওস্তাদী হাত।"
Profile Image for Md. Mahmudul Hasan.
36 reviews
January 2, 2020
পৃথিবীতে অসাধারণ বলে কোন জিনিস নেই। যা আছে তাহলো সাধারণ। মানুষ অনেক সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ নামে নামকরণ করে থাকে নানা কারণে। আমার সংসার জীবন, সমাজ জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতি বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকে নানা ধরণের অসঙ্গতি। স্বাধীনতার আগে এই অসঙ্গতির মাত্রা ছিল অনেক বেশি। সেই নানা ধরণের অসঙ্গতি নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে আবুল মনসুর আহমদ লিখলেন আয়না। আয়না যেমন মানুষের বিপরীত চিত্র দেখা যায়। বাম হাতকে ডান হাত এবং ডান হাতকে বাম হাত। তেমনি এই বইয়ের মাধ্যমে এমন কিছু পাব যেগুলো প্রচলিত সমাজে ভাল বলে প্রচলিত থাকলেও সেটা যে খারাপ তারই এক ব্যঙ্গাত্মক রুপ আয়না।
Profile Image for উৎসর্গ রায়.
8 reviews2 followers
August 20, 2017
আবুল মনসুর আহমদ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। শুধু, এইটকু বলতে পারি, আজকের দিনে আমার যাঁরা সহযাত্রী-সহপাঠী, তাঁরা দয়া করে এই মানুষটিকে চিনে রাখুন। পড়ুন। অন্যদের পড়তে বলুন। আয়না বইখানা কয়েকটি গল্পের সংকলন। বেশিরভাগ গল্পই, যেমন, হুযুর কেবলা, গো-দেওতা কা দেশ ইত্যাদি আগেই ছাড়াছাড়াভাবে পড়া ছিল। এক মলাটবদ্ধ সবগুলি গল্পই অবশ্যপাঠ্য মনে করি। বিশেষত, আজকের বাংলাদেশে এই সাম্পরদায়িক পুনর্জাগরণের যুগে সেগুলো যেন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। বইটি সকলকে পড়তে অনুরোধ করি। শুভকামনা।
Profile Image for Zahidul Choyan.
82 reviews20 followers
October 16, 2018
অসাধারণ বলিলে কম বলা হয়। এমন গল্প লেখা কেবল তখনই সম্ভব ছিলো, এখন আর নয়। সমালোচনার জবানেরও একটা পরিস্ফুট সুন্দর রূপ আছে, তা এমন গল্পকতক থেকে সত্যই প্রমাণিত হয়। বর্তমান বাংলা ভাষায় স্যাটায়ার লেখক আশংকাজনক ভাবে কমে গিয়াছে। এরূপ হওয়ার যথেষ্ট কারণও রইয়াছে বইকি। সাহস করে সত্য কথা বলার বুকের পাটা খুব কম ইনসানেরই রয়েছে এখন। এছাড়া তখন তো সমালোচনা হলেই ক্রসফায়ার কিংবা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়া পড়ার এরূপ আশংকা ছিলোনা।
Profile Image for Ahasan Kabir.
1 review
February 25, 2015
৪৫৫
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Sazzad H. Sakib.
31 reviews2 followers
April 1, 2025
কথায় কথায় আমরা বলি নিজের চেহারা আগে আয়নায় দেখ! এখানে মনে হয় আবুল মনসুর আহমেদ সাহেব ধর্ম ব্যবসায়ী ও অপ-রাজনীতিবিদদের পরোক্ষভাবে বলেছেন মানুষরে জ্ঞান-ফতোয়া ও উন্নয়নের বাণী শোনানোর আগে নিজের চেহারা আগে আয়নায় দেখ— এ ধরনের প্রেক্ষাপট চিন্তা করে এই গল্পের বইয়ের নাম আয়না রেখেছেন। যাইহোক এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা।

১৯৩৫ সালে মনসুর সাহেবের এই বইটা প্রকাশ হয়। কাজী নজরুল ইসলাম নাকি এই বইয়ের প্রশংসা করেছিলেন। তারমানে বুঝতে হবে এখানে বিশেষকিছু লিপিবদ্ধ আছে। এই বইয়ে গল্পের সংখ্যা সাতটি। বিশেষ করে সবগুলো ব্যঙ্গাত্মক। মনসুর সাহেব তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এই গল্পগুলো লিখেছেন। তৎকালীন সময়ে সমাজের মধ্যে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে একপ্রকার কোণঠাসা করে ফেলা হতো। মোল্লাদের ভিত্তিহীন মনগড়া ফতোয়া, ধর্মের নামে অনৈতিক কাজকর্ম, দেশে চলা হামেশা হিন্দু-মুসলিম দা*ঙ্গা, গ্রামের সহজসরল ধর্মে বিশ্বাস করা মানুষদের তথাকথিত মোল্লা কর্তৃপক্ষ ধাপ্পাবাজি এই সাতটি গল্পের মূল বিষয়বস্তু।
আবুল মনসুর আহমেদ গল্পগুলো খুব হাস্যরসাত্মকের আদলে। পড়লে মনে হবে কৌতুক পড়ছেন কিন্তু লেখার ভিতর গভীর মেসেজ রয়েছে। প্রায় ৯০ বছর পূর্বে লিখিত এই গল্পগুলো বর্তমানের সাথে রিলেট করতে পারবেন। মনে হবে তখনকার মানুষগুলা চেঞ্জ হয়ছে, কিন্তু নীতি চেঞ্জ হয়নি। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো মনসুর সাহেব গল্পগুলোতে প্রচুর আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন। যার ফলে গল্পগুলো মারাত্মক উচ্চতা পেয়েছে। আমি জানি না তিনি কেন আরবি ফারসি শব্দ ইউজ করেছেন। প্রথমত তিনি প্রগতিশীল মানুষ ছিলেন। গল্পের প্লটকে রসাত্মক করে তুলতে বিদেশি শব্দের ইউজ করেছেন নাকি তৎকালীন সময়ে মুসলিম অভিজাতদের চর্চিত ভাষা উর্দুর কারণে অভ্যাসগতভাবে এরকম করা তা নিশ্চিত নই। তবে এটা আবুল মনসুর আহমেদ গবেষকরা ভালো বলতে পারবেন।

যাইহোক, এই বই প্রথম চান্সে যারা পড়বে তারা মনে করবে ইসলাম ধর্মকে ছোট করা হয়ছে। কিন্তু আসলে তা না, এখানে মূলত মুসলমানদের নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যাগুলার জবাব দেয়া হয়ছে।

বি: দ্র —আমি নিশ্চিত, আবুল মনসুর আহমেদের পুত্র মাহমুদ আনাম এই বইটা পাঠ করছেন। কিন্তু কিছু শিক্ষা নেয়নি। আবুল মনসুর আহমেদ সাহেব লেখক ও মানুষ হিসেবে অসাধারণ হলেও বাপ হিসেবে ব্যর্থ।

রিভিউ: সাজ্জাদ হোছাইন সাকিব
Profile Image for Rocky Rahman.
106 reviews9 followers
February 23, 2024
১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই গল্পগ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন আবুল মনসুর আহমদের ভাষার রসের কথা। এখানে সাতটি গল্প স্থান পেয়েছে এবং সবগুলো গল্পই ব্যঙ্গধর্মী লেখা যা ধর্মকে নয়তো তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রচনা করা হয়েছে।
সবগুলো গল্পই ব্যঙ্গধর্মী লেখা, যা পড়ে আপনার হাস্যকর মনে হবে এবং একই সাথে মনে দুঃখবোধও জাগ্রত হবে। লেখাগুলো যেহেতু প্রায় একশ বছর আগের পেক্ষাপটে রচিত, তাই বর্তমান সময়ে আপনার কাছে এর গুরুত্ব কমই মনে হতে পারে। কিন্তু তৎকালীন সমাজে এইসব ছিলো নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, খেলাফত আন্দোলন, হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদ, হানাফি-মোহাম্মদী সমস্যা সহ আরও অনেক কিছু।
যদিও গল্পগুলো পড়তে আপনার কিছুটা বেগ পেতে হবে কারন এখানে অনেক আরবি এবং ফার্সি শব্দের ব্যবহার রয়েছে।
.
"হুজুর কেবলা" নামক গল্পে একজন পীরকে এবং মূল চরিত্র এমদাদকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগোতে থাকে, এমদাদ অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে পীরের কাছে শিষ্য হয়ে পীরকেই কেনো সবার সামনে মারতে গেলো তা এটি পাঠে জানা যায়।
"গো-দেওতা-কা দেশ" নামক গল্পে হিন্দুদের গোরক্ষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি স্বপ্নজগত তৈরি করা হয় যেখানে সকল মানুষ মারা যায় শুধু গরু বেঁচে থাকে, এবং গরুর দুধ আহার হিসেবে গ্রহন করার মতো কেও না থাকায় দুধে পুরো পৃথিবী প্রায় ডুবতে শুরু করে।
"বিদ্রোহী সংঘ" নামক গল্পে স্বরাজ আন্দোলনের সময় যে নামধারী বিদ্রোহী দেখা দিয়েছিলো তাদের ব্যঙ্গ করা হয়।
"লীডরে কওম" নামক গল্পে কিভাবে ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতিবিদ তৈরি হয় তা দেখানো হয়েছে।
"ধর্ম রাজ্য" গল্পে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাতে পারে তা দেখানো হয় স্যাটায়ারের সর্বাত্মক ব্যবহারে। ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার কাছে সর্বাধিক ভালো লেগেছে।
প্রতিটি গল্পই যেমন ব্যঙ্গধর্মী, তেমন প্রতিটি গল্পই হতাশাবোধও তৈরি করবে অন্তরে।
Profile Image for Shihabul Bashar  Robi.
52 reviews2 followers
November 26, 2023
স্যাটায়ার খুবই কঠিন জিনিস।
এর উপর আমাদের উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সাব্জেক্ট ম্যাটার লইয়া আলোচনা করাই যেখানে অনেকাংশে দুঃসাহসিক ব্যাপার, সেখানে এই ধরনের একটা বই লেখার জন্য লেখকের অনেক বাহবা প্রাপ্য।
আর আবুল মনসুর আহমদ অত্যন্ত সুলেখক। যেসব বিষয় সমাজের সবাইকে পীড়া দেয়, যেমন, এই যে ধর্মের নামে প্রচলিত হরেকরকমের ভণ্ডামি, কিন্তু এ ব্যাপারে যথাযথ পরিমাণে দুশ্চিন্তার বাণী উঠে আসে না,যে কারণে প্রতিকারের বদলে পাল্টাপাল্টি ভুল ধারণা ছড়ানোর প্রতিযোগ চলে আসছে যা এমনকি এই বর্তমান সময়েও দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রচলিত, সেসব বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি লেখক, শিক্ষক তথা বুদ্ধিজীবীদেরই কর্তব্য। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এবং সাহিত্যমান বিবেচনা করলে (অবশ্যই সেই মান বিবেচনা করতে যাওয়া জ্ঞানের বিচারে আমার মতো অতিআণুবীক্ষণিক জীবের পক্ষে দুঃসাহস, শুধু হয়তো বলার জন্যই বলা) আবুল মনসুর আহমদ এর একটি ক্লাসিক "আয়না"।
Profile Image for Nahidur Rahman.
25 reviews5 followers
April 21, 2020
তৎকালীন সময়ে গোঁড়া ধার্মিকদের কাজকারবার গুলোকে ব্যঙ্গ করে লেখা কিছু গল্পের সংকলন 'আয়না।' হাস্যরসের মাধ্যমে সজোরে ঝাঁকি দিয়ে আমাদের দেখায় গোঁড়ামির অসারতা। লেখক মুসলিম বলেই মুসলিম মোল্লাদের কথা বেশিরভাগ গল্পে। মোল্লাইজম সেই যুগে যেমন ভয়ঙ্কর ছিলো, এই যুগে এসেও কিঞ্চিৎ কমে নি। তাই এই বইটা এখনও সগৌরবে মোল্লাগিরির বিপক্ষে যুদ্ধ করে চলছে।

আবুল মনসুর আহমদ নিজেও একসময় গোঁড়া ছিলেন। কট্টর মোহাম্মদী পরিবারের সন্তান। নিজেও তুর্কি টুপি মাথায় দিয়ে তর্কে যেতেন। কিন্তু পরে ময়মনসিংহের দুজন মৌলভির সংস্পর্শে এসে বদলে যান।

এরপর থেকে তিনি হয়ে যান গোঁড়ামির সমালোচক। একসময় 'লীগ এগেইনস্ট মোল্লাইজম' নামে একটি সংগঠনও করেছিলেন!
উনি কিন্তু আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বন্ধু মানুষ। কবি নিজেও আবুল মনসুর আহমদের প্রশংসা করতেন।

যাহোক, পড়ুন। উদার হোন। সহনশীল হোন।
16 reviews
October 28, 2021
Ayna (Mirror) is a brilliant collection of seven short stories by Abul Mansur Ahmed. I was first introduced to him through his political book "Amar Dekha Rajnitir Ponchash Bochor". Then "Food Conference", a political, social satire. I enjoyed these two books, then Ayna, amazing. Ayna is a complete satire of Muslim and Hindu society of early twentieth century of India, Bangladesh, more precisely the bengali spoken zone, Calcutta and Dhaka. Use of wrong interpretation of religious texts to attain unethical benefits by corrupted peoples or communities is the main theme of all seven short stories. These will not only deliver the humours, a blunt indication to the opportunists, who are at large even now, hundred years from these stories.
Profile Image for Motiur   Rahman.
21 reviews4 followers
August 24, 2025
Former UN Secretary-General Kofi Annan once said that "The problem is never the faith. It is the faithful, and how we behave towards each other."

বইটি পড়ে কফি আনানের এই উক্তিটি আবার মনে পরলো কারণ যখন থেকেই মানুষ ধর্মকে আবিষ্কার করেছে ঠিক তখন থেকেই খল, ধূর্ত, অসুস্থ মনের মানুষজন একে নিজ নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে... AI এর এইযুগে এসেও দেশে দেশে ধর্মান্ধতা আবার নতুন করে বাড়ছে। মনেহয় যেন কিছু ক্ষেত্রে আমারা সবাই উল্টোদিকে হাঁটছি ।

বইটি সেইসময়ের এইরকম ধর্মান্ধ সমাজের কিছু প্রতিচ্ছবি, কিছু চিন্তার খোরাক, কিছু সত্য দর্শন করানোর "আয়না" হিসেবে কাজ করেছে... বইয়ের কিছু গল্প আসলেই চুম্বকের মতন টেনে ধরলেও কয়েকটি গল্পে অতিরিক্ত না-জানা শব্দচয়ন বেশি হয়ে যাওয়ায় খানিকটা খেই হারাতে পারেন। তবে সর্বোপরি এটি একটি সুখপাঠ্য।
Profile Image for JM Imran.
7 reviews
January 18, 2022
আয়নার অধিকাংশ গল্পে আবুল মনসুর আহমদ বাঙালি মুসলমান সমাজের ভেতরের কথা বলেছেন। সমাজে সংস্কার চেয়েছেন, সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর গল্পে; অত্যন্ত সরস ভঙ্গিতে। যদিও আরবি-ফারসি শব্দবহুল হওয়ায় একটু বিদঘুটে লেগেছে, সেটা কেটেছে বইয়ের শেষে শব্দার্থ ও টীকাতে। রেটিং: ৫/৫ (রম্য রচনা হিসেবে)

Edit Your Review
Displaying 1 - 30 of 33 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.